মিথ্যে বসত আবদুস সালাম একটা বোমা যেমন নিমেষে বদলে দিয়েছিল হিরো সীমার মানচিত্র । সরাসরিভাবে সরকারি আ্যকাউন্ট থেকে নাকি টাকা উধাও। তিনি নাকি টাকা তশ্রুপ করেছেন। তেমনি নবীন বাবুর তিরিশ বছরের চাকরি জীবনের সব সুনাম যেন ধুলায় মিশে গিয়েছে।সবার মুখে তুবড়ি র মতো ফুটে চলেছে একথা সেকথা ।উথাল পাথাল ঝড়। সারা শরীর বেয়ে নেমে আসছে ঘাম। মাথা ঝিমঝিম করছে। ভরা শীতের দিনে যখন সবাই দুটো করে সোয়েটার পড়তে চাইছে তখন নবীন বাবুর এক নাগাড়ে ঘেমে চলেছেন। চোখ মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। " দীর্ঘ বিশ বছর যাদের সাথে ঘর করলাম।যারা আমার সব সময়ের ঝড়ঝঞ্ঝা র সঙ্গী, তাদের মুখে এই কথা । তাহলে কি ওদের সাথে মিথ্যের দেওয়াল সাজিয়ে বসত গড়লাম ।" কিছুতেই বুঝে আনতে পারছিলেন না নবীন বাবুর। মনে হচ্ছিল মাটি ফাঁক হয়ে গেলে এক্ষুনি ঢুকে পড়বেন। কয়েক জন সহকর্মী আর গ্রামের কিছু লোকদের জড়ো করে চলছে তার শ্রাদ্ধ পর্ব। বসেছে বিচার সভা। লোকের মুখে তো আর লাগাম নেই ।যে নেতারা এতদিন ধারে কাছে আসতে পারতো না তারা আজ সুযোগ পেয়ে গেছে। বিভিন্ন জন ছুঁড়...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...