Skip to main content

Posts

কবিতা ।। জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক

জেগে ওঠে সুমিত মোদক  বাউলের গলা টিপে ধরলে  লালন সাঁই সমাধি মধ্যে কাঁদে; কাঁদে বাংলা ভাষা, মাটির সুর… মানুষ পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ভবিষ্যতের; ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে  সর্বহারা চোখ; মাটির প্রতিমার মুণ্ড কেটে নিলে চুপ করে থাকে দখিনা বাতাস, প্রীতি ও বুদ্ধি; হারিয়ে যায় জন্ম ভিটে; দিন দুপুরে নাবালিকা তুলে নিয়ে যায় নেকড়ের দল; সনাতনী শরীর নিয়ে উল্লাসে মাতে; ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকে  গোটা এক জাতি, মানচিত্র; ঠাকুর শিল্পীর  রক্তাক্ত মৃত দেহের উপর উৎসব  শুরু হলে জেগে ওঠে  কর্ণসুবর্ণের শশাঙ্ক, গৌড়ের মাটি।

গল্প ।। রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র

রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা সঙ্গীতা মহাপাত্র ​ অরুণাভ যখন এই ধুলোবালির ধূসর শহরে পা রাখল, তখন মানুষের জীবন ছিল একদম একঘেয়ে। এই শহরের আকাশ থেকে কেবল কালো জল ঝরত, আর মানুষের মন ছিল পাথরের মতো শক্ত। কেউ কারোর দিকে তাকিয়ে হাসত না, এমনকি শিশুদের চোখের মণিগুলোও ছিল বর্ণহীন। অরুণাভের কাঁধে থাকতো একটা পুরনো চামড়ার ঝোলা, যার ভেতর সে বয়ে বেড়াত অদ্ভুত কিছু কাঁচের গুলি। ​একদিন ভর দুপুরে শহরের চৌমাথায় দাঁড়িয়ে অরুণাভ তার ঝোলা থেকে একটা উজ্জ্বল লাল রঙের গুলি বের করে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে মেঘের বুক চিরে টুপটুপ করে ঝরে পড়তে লাগল লাল রঙের বৃষ্টি। শহরবাসী অবাক হয়ে দেখল, সেই বৃষ্টি যেখানেই পড়ছে, সেখানেই প্রাণের ছোঁয়া লাগছে। শুকনো কংক্রিটের ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসছে রক্তজবা, আর মানুষের ধূসর জামাকাপড়গুলো হয়ে উঠছে টকটকে লাল। ​শহরের শাসকরা ভয় পেয়ে গেল। তারা শান্তিভঙ্গের দায়ে অরুণাভকে বন্দী করল। তাদের দাবি, "আমাদের এই নিয়মমাফিক ধূসর জীবনে রঙের কোনো জায়গা নেই। রং মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তোলে, আর আবেগ মানুষকে নিয়ন্ত্রণহীন করে।" অরুণাভ হাসল। সে বলল, "আবেগহীন মানুষ তো যন্ত্রের সমান। যন্ত্র দিয়...

কবিতা ।। ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি

ভালো থাক  জয়শ্রী ব্যানার্জি  ভালো থাক 'আমি '                      আয়নাতে, ভালো থাক তুই                     আমার সাথে। ভালো থাক ইচ্ছা                  গোপোনেতে ভালো থাক স্মৃতি                     গল্পতে  ভালো থাক ফুল                         বসন্তে, ভালো থাক ঝরাপাতা                         হেমন্তে ভালো থাক পাখি                       মুক্তিতে। ভালো থাক পাহাড় নদী                          একলাতে , ভালো থাক রোদ্দুর                            বারান্দাতে, ভ...

আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী

আধ ডজন ছড়া স্বপনকুমার পাহাড়ী গেইশা এক যে আছিল তোকিয়োবাসিনী গেইশা ওর কথা কিছু বলবো এখন ভাইসাব। তাকিয়েছো কি মরলে তুমি ভাবছো বুঝি কী দুষ্টুমি খদ্দের পেতে দস্তুরটি যে এইসা! গার্লফ্রেণ্ড গার্লফ্রেন্ড ভাড়া করে ঘোরে বইমেলাতে।  মাঝে মাঝে চুমোচুমি দর্শকে খেলাতে। জমে গেছে শ্যাম-রাই হুড়োহুড়ি ক্যামেরায় খবরটা নানা জনে ফোটোসহ গেলাতে। হোঁৎকা এক যে ছিল হোঁৎকা। গায়ের গন্ধ বোঁটকা। খেয়ালবশে বাঘের যশে লাগিয়ে দিলে কোঁৎকা! বাউন এক যে ছিল পৈতেধারী বাউন পরনে তার সদা্ই ছিল গাউন।  দেখতে পুরো সার্কাসেরই ক্লাউন। নামটি আবার ছিল অ্যাবস্ট্রাক্ট নাউন। সাগা শাদী তো হোলো না ফের তাই হনু সাঙা। বর তো জোয়ান মরদ হোলোইবা নাগা। নাগা তো মনিষ বটে  বুদ্ধিও আছে ঘটে গোয়ার সী-বীচে তাই লিখছি সাগা।। কল বয়  কল গার্ল আছে তবে কল বয় নাই কি?  আছে আছে, ফিজ দিলে, এক্ষুনি চাই কি? --------------------------- Swapankumar Pahari Vill.: Dakshin Paikbar, P.O.: Dakshin Dauki, P.S.: Junput Coastal, Dist.: Purba Medinipur,

কবিতা ।। অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু

অতিপ্রাকৃত  শাহ মতিন টিপু নীরব নিশ্চল সরোবর শান্ত জল তার  মৌন মাছরাঙা, ঝুপ করে পানকৌড়ি  নামতেই জীবন্ত হয়ে উঠলো মৃতপুরী জলের অতলে লুকোনো প্রাণসম্ভার  হেসে উঠলো যেন, অতিপ্রাকৃত এক  নগরীকে ফিরে গেলাম আমি। সেখানে  তুমিই আমার কাঙ্ক্ষিত জলদেবী আমার সব আত্মসমর্পণ বিসর্জন  বিপণন সন্তরণের অনুরণন

কবিতা ।। নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল

নৈকট্য রহিত ঘোষাল  আমি এখন বেসিনে হাত ধুয়ে নিচ্ছি অত্যন্ত অশালীন ভাষায়,  বেরোনোর সময় আমরা এতটা কাছাকাছি এসে পড়লাম যে চোখ এড়ানো গেল না, সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, কতক্ষণ আমি কথা না বলে আছি  এবং যা আমাকে এতটা নোংরা করে ফেলেছে, সে আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করল, আমি মনে মনে ভাবলাম ঠিক যতদিন আমি প্রয়োজনীয়তা ও বিলাসিতার মধ্যে তফাত করতে পারিনি।  সে আমাকে আবার জিজ্ঞাসা করল,  এবার আমার হাত ধরে,  তারপর সে আমার সঙ্গে এই ভার ভাগ করে নিতে চাইল। ================== রহিত ঘোষাল বাঁশদ্রোণী সোনালী পার্ক কলকাতা ৭০

ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর

ভঙ্গুর তূয়া নূর এক পলকা বাতাসে কতো সহজে জমানো বিশ্বাস ভেঙে যায় কাঁচের চূঁড়ির মতো। ডোমিনোর মতো নূয়ে পড়ে সারি বাঁধা। এতো ভঙ্গুর! শেকড় উপড়ানো গাছ ঘুর্ণি বাতাসে পালকের মতো ভাসে। অসত্য যেনো অবিনাশী, ভাঙেনা কিছুতে— মাটি গেড়ে থাকে ভারী পাথরের মতো। এ যেন সাগর পাড়ের বালকের বালি দিয়ে গড়া পুরনো নগর, ভেঙে দেয় কেউ পরম অবহেলায়। তারপর অভিমানী কান্না থেমে গেলে নিজ চোখে দেখে নেয় আলো ঝরা ভোর বানায় বালক আবার নতুন করে তার স্বপ্নের বালির শহর। ============ তূয়া নূর 11513 centaur way  Lehigh Acres  FL 33971 USA

গল্প ।। সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

  সে আমার ছোট বোন   সঙ্ঘমিত্রা দাস  রিমলি ঝিমলি ওরা দুটি বোন। দুই বছরের ছোট বড়। অন্য আর পাঁচটা বোনেদের মতো সম্পর্ক ওদের নয়। দুজন একেবারে আলাদা। রিমলি পড়াশোনা, গান বাজনা সবদিকে খুব ভালো। বোন ঝিমলির মন সাজগোজ, বন্ধুদের সাথে আড্ডা হইহুল্লোড় আর ঘোরাঘুরিতে। একই ঘরে দুজনে একসাথে থাকলেও মনের থেকে অনেক দূরে। রিমলি ঝিমলির সব কাজে ক্ষুত ধরে, কারণে অকারণে বকা খাওয়ায় মা বাবার কাছে। কোন জিনিষ খুঁজে না পেলেই বোনের ঘাড়ে দোষ চাপায়। ওর অগোছালো ভুলো মনের জন্য ঝিমলি বকাও খায় খুব। তবে এতে ঝিমলি মন খারাপ করে না। ও হেসে খেলে হইহুল্লোড় করেই কাটিয়ে দেয়।  সন্ধ্যে থেকেই রিমলি চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করেছে। ও ক্যালকুলেটর খুঁজে পাচ্ছে না। ওর ধারণা বোন নিজের টা হারিয়ে একই রকম দেখতে হওয়ায় ওরটা নিয়ে নিয়েছে। প্রথমে ঝগড়া তারপর হাতাহাতি। বোনের চুলের মুঠি টেনে চড় মেরে ওর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর কেড়ে নেবার চেষ্টা করে। ঝিমলিও মানতে নারাজ। সে দিদির ক্যালকুলেটর দেখেই নি নাকি! ওটা ওরই। কিন্তু ঝিমলির হারানোর অভ্যাসের কারণে ওদের মা ও ওর কথা বিশ্বাস করতে চাইছে না। রিমলি তো ছোট্ট একটা পেন্সিলের ...

কবিতা ।। পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ

পণ্ডশ্রম  লালন চাঁদ মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে  খসে পড়ে ঝরাপাতা  ইচ্ছেগুলো আজও ঠিক তরতাজা নদী। সাঁঝের মফস্বলে ওরা তুলে আনে চাঁদ  ঘরে রুটি নেই  গোগ্রাসে গেলে পোড়া পোড়া চাঁদ  আজও কতো ব্যথা  কতো কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে গরিবের ঈশ্বর। চারদিকে পরিবর্তন  মন্ত্রী আসেন মন্ত্রী চলে যান  গরিবের সেই তালি দেয়া ছেঁড়া জামা  পরিবর্তন নেই। রাত্রি নামে  পরিযায়ীরা ফিরে আসে ঘরে  বাবা ফিরে আসে  মা রাস্তায় গণধর্ষিতা। ভারতবর্ষ খুন। এইতো সুখে আছে মানুষ  একটু সুখের জন্যে দিনরাত গতর বিকানো  আজ সবই পণ্ডশ্রম। ------------------------------ লালন চাঁদ গ্রাম + পোস্ট = কুমারগঞ্জ। জেলা = দক্ষিণ দিনাজপুর।

ছড়া ।। ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান

ঘাসের ডগায় হীরক কণা বদরুল বোরহান ঘাসের ডগায়, শিশির ফোঁটায় সূর্য-হীরক কণা, কিন্তু সেটা দেখতে পারে বলো তো কয়'জনা? লাউয়ের মাচায়, হাঁড়িচাচায় কী যে খুঁজে বেড়ায়? কলমিলতার ঝোঁপের ভেতর মা ডাহুকীর ডেরায়? দীঘির জলে ব্যাঙরা লাফায় শাপলা ফুলে ফুলে, পানকৌড়ি তার পালক ঝরায় ডুবসাঁতারের ভুলে।           ----------

শিক্ষা কি ধর্ম দেখে দেওয়া হবে?—একটি বিপজ্জনক প্রশ্ন ।। বাসিরা খাতুন

শিক্ষা কি ধর্ম দেখে দেওয়া হবে?—একটি বিপজ্জনক প্রশ্ন বাসিরা খাতুন সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের একটি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ বা কিছু ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এই ঘটনা আমাদের সামনে আরও গভীর ও উদ্বেগজনক একটি প্রশ্ন তুলে ধরেছে ভারতে কি এখন শিক্ষার অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে বিচার হবে? যে ছাত্রছাত্রীরা সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে শুধু একটি কারণেই তারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী। প্রশ্ন হল, একটি রাষ্ট্রে যেখানে সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ম কীভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে? ভারতের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে, রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। শিক্ষা কোনো দান নয়, এটি নাগরিকের অধিকার। একজন ছাত্র যদি যোগ্যতা, পরিশ্রম এবং নিয়ম মেনে একটি আসন পেয়ে থাকে, তাহলে তার ধর্ম পরিচয় সেই অর্জনকে বাতিল করার কারণ হতে পারে না। তাহলে মেধ...

কবিতা ।। ভাঙা কবিতায় , ভাঙা গানে ।। অর্ণব সামন্ত

ভাঙা কবিতায় , ভাঙা গানে অর্ণব সামন্ত  উর্জা ভ্যাবাচ্যাকা পোস্টমডার্ন অসুখ দিকে দিকে  আঁধারেই বেশ বেঁচে গ্যাছে আলোর যত বংশধর  ভাঙা আমি ভাঙা তুমি দৌড়চ্ছে , উড়ছে , সাঁতরাচ্ছে অথইয়ে  পূর্ণ হবার সাধ ঝরে গেছে চোরাবালি চোরাস্রোত বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে  ইল্যুশন হ্যালুসিনেশন চমকাচ্ছে স্বচ্ছ স্থির দৃষ্টি অন্তর্হিত  নির্মাণ ভেবে ধ্বংসকে আহ্বান , ভাঙনের সুর চতুর্দিকে এইভাবে ইচ্ছাপূর্তির অণু পরমাণু কোনোদিন কি অবয়ব পাবে ? বিবর্তনে ডেকে আনবে শেষমেষ সফল ঝংকার পোস্টমডার্ন অসুখে ভুগে ভুগে পেয়ে যাবে নতুনতর পথ   পথেরও দাবী থাকে পথিকের কাছে যে পাথেয় সুব্রতাসম্ভব  নক্ষত্র হতে হতে মৃত্যুর পরে হেঁটে গেছে সুপারনোভায় নীহারিকা অন্তরীণ দৃষ্টিতে দোদুল্যমানতাই জীবনের স্থির অধ্যায়  সমস্ত জঞ্জাল সরিয়ে কি খুঁজছে ভাঙা চাঁদ ভাঙা সূর্য ভাঙা কবিতায় ভাঙা গানে ছড়াচ্ছে জীবনের ভাঙা ভাঙা মানে !                                                 ...

কবিতা ।। সূর্য উনুন ।। সুকান্ত মণ্ডল

সূর্য উনুন  সুকান্ত মণ্ডল  যে নদী হারিয়ে গেছে অসম্ভবের নিচু কোলাহলে তার ছায়া মুছি হৃদয়ের আলে  পথ ও পতঙ্গের উড়ে যাওয়ার মতো অদৃশ্য গহ্বরে চেতনার অর্জিত  অধিকার ফেলে ফেলে..... একাকিত্ব উপভোগ করি নীল ছবি ভাসে ডোবে  পিছু হটা আমি  যেটুকু আমি মুছে যাই দিগন্ত বলয়ে  সূর্য উনুন জ্বলে।

বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্বাস উদ্দিন

বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন শেখ আব্বাস উদ্দিন  দুর্ভিক্ষের আলোয় শুকনো জীবন, মাঝে জোনাকির আলো বিরতি চিহ্নের ঘুমের মধ্যে উচ্ছেদ চলছে  শ্বাস-প্রশ্বাসহীন আমাদের জীবনে বোধনের গান গাইছে না কেউ। অবসন্ন সন্ধ্যায় বাগানের ঈশান কোণের  ২৩ বসন্ত পেরিয়ে আসা আতাফলের গাছটার ফাঁক দিয়ে  তাকিয়ে দেখি নিরন্ন বালিকার মুখের মত দ্বাদশীর চাঁদ। চোখে তার নোনা জলে। মনে হয় ভাতের আশায় চেয়ে রয়েছে  পীড়িত পৃথিবীর দিকে  দুশ্চিন্তার কালো ছাপ সারা অঙ্গে। বাগানের ২৩ বসন্তের গাছটিও নধর যুবতীর মত নয়  শীর্ণ চেহারা তার ডালে ডালে কিছু ফল ঝুলে আছে  অপুষ্টিতে ভোগা শিশু কন্যার মত ..! গণতন্ত্রের মিথ্যা গাছ বসানোর যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাদেশিক সরকার  ক্ষমতা দখলের কারসাজি ছাড়া তাকে আর কি বলা যায় তাকে। আমার বিশ্বাসের গা ঘেঁষে গড়ে তুলছে মন্দির  আর রাষ্ট্র গিলে নিচ্ছি আমাদের নিস্পাপ আবেগ  বুঝতে পারিনা রাষ্ট্রের মতো এত মজবুত একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে ভূলে যায় বিবেকের সংজ্ঞা। কিভাবে বিভেদ বিছিয়ে রাখে পথে ঘাটে।

অণুগল্প ।। ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার

ভাগের বাবা দীনেশ সরকার                   সুশীলবাবু   তার সংসারটাকে ধরে রাখতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত সংসারটা ভেঙেই গেল। তিন ছেলেকে তিনি এও বলেছিলেন, 'যতদিন আমরা জীবিত আছি তোরা একসঙ্গে থাক। আমাদের মরার পর তোরা যে যার মতো সংসার করিস।' তাও শেষ রক্ষা হ'ল না। মনের দিক থেকে তিন ছেলে অনেকদিনই আলাদা হয়ে গিয়েছিল। শুধু হেঁসেলটাই জোড়া ছিল, সেটাও এবার ভেঙে গেল। অথচ সামান্য প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে সুশীলবাবু কী কষ্টটাই না করেছেন। তিন ছেলে, দুই মেয়েকে শিক্ষিত করেছেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তারসঙ্গে সমানতালে কষ্ট করেছেন তার সহধর্মিনী সুলোচনাদেবী। তিন ছেলেই এখন স্বাবলম্বী। বড় ছেলে ব্যাবসা করে, বাকি দুই ছেলে চাকরি করে। তিন ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। বড় বউমা একটু কম শিক্ষি্তা, বাকি বউমারা উচ্চ শিক্ষিতা। ভক্তি-শ্রদ্ধা তারা যেটুকু পেয়েছেন তা ওই বড় বউমার কাছ থেকে, কম শিক্ষিতা কিনা। শ্বশুর-শাশুড়িকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা উচ্চ শিক্ষিতা বউমাদের অভিধানে নেই।           ...

বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান

বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি  পাভেল আমান যেকোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। উৎসব মানেই প্রতিমুহূর্তে জুড়ে যায় একে অপরের সাথে আত্মিকতার মেলবন্ধন।আত্মীয়-পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে উঠে পিঠে, পুলি, পায়েস দিয়ে রসনাতৃপ্তি এবং ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির স্নান শেষে ধানের থেতে খড়ের বুড়ি মা-র ঘরে আগুন দিয়ে গ্রাম জুড়ে আট থেকে আশির শরীর উষ্ণ করার ছবি।পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। এভাবেই পৌষ সংক্রান্তি ঘিরে বাঙালি মানুষে নানান স্মৃতি বারে বারে উঁকি দিয়ে থাকে। আজ পৌষ সংক্রান্তি। উৎসবপ্রিয় ভোজনরসিক বাঙালির বারো- মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে আরও এক পার্বণ হলো পৌষ-সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তিকে 'মকর সংক্রান্তি' বা 'উত্তরায়ণ সংক্রান্তি'ও বলা হয়। । এই পার্বণের অর্থ হলো পিঠে পুলির উৎসব।  পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশেষ একটি দিন...

গল্প ।। শাপগ্রস্ত কূপ ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

শাপগ্রস্ত কূপ মনোরঞ্জন ঘোষাল অদ্রিজা ছিল একজন সমাজকর্মী, যিনি তার পারিবারিক ম্যানশন 'আশ্রয়' সংস্কার করার জন্য গ্রামে ফিরেছিলেন। ম্যানশনটির কেন্দ্রে ছিল একটি পুরোনো, শ্যাওলা-ধরা পাথরের কূপ, যা বহু বছর ধরে শুকনো। এই কূপটি সম্পর্কে গ্রামে একটি পুরোনো জনশ্রুতি প্রচলিত ছিল। স্থানীয়রা বলত, এটি ছিল 'অশ্রু-শোষণকারী কূপ'। কথিত আছে, অতীতে এই ম্যানশনের জমিদার বংশের মহিলারা তাদের সব দুঃখ এই কূপে এসে কাঁদতেন, আর কূপটি সেই দুঃখের জল শুষে নিয়েছিল। লোককথা ছিল: যে এই কূপের জল স্পর্শ করে, তার ভেতরের সব দুঃখ কূপটি শুষে নেয়। কিন্তু বিনিময়ে, কূপটি তার ভেতরে অন্য কারও, অনেক পুরোনো, জমাট বাঁধা দুঃখ ভরে দেয়। কূপটির পাথরের দেওয়ালে একটি অস্পষ্ট লতানো নকশা খোদাই করা ছিল, যা দেখতে অনেকটা কান্নার জলধারা বা উল্টো দিকে প্রবাহিত নদীর মতো। একদিন রাতে, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে কূপটি প্রায় ভরে গেল। সেই জলের রং ছিল অস্বাভাবিকভাবে গাঢ়, প্রায় কালো, এবং জল থেকে এক তীব্র, লোনা গন্ধ আসছিল। অদ্রিজা কৌতূহলবশত কূপের কাছে গেলেন এবং হাত দিয়ে সেই কালো জল স্পর্শ করলেন। জল ছিল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ, যেন সেই জলের ভেতর...

শৈশব ।। রিয়াদ হায়দার

শৈশব  রিয়াদ হায়দার  পিঠের উপর মস্ত বোঝা পড়ছে ছেলে পাততাড়ি, বর্ণমালা শিখছে এখন তাতেই শিশুর ব্যাগ ভারী ! বুট জুতো আর ড্রেসের সাথে ঝুলছে গলায় টাই, দুপুর বেলার জন্য আবার টিফিন বাক্স চাই ! সঙ্গে যাবে ব্যাজ রুমাল আর জলের বড় জার, ছোট্ট শিশুর শৈশবটা হচ্ছে যে জেরবার ! চু-কিত-কিত গোল্লাছুটের সময় এখন কই ? সকাল থেকে রাত অবধি পড়তে থাকুক বই ! সব বাবা-মা'র স্বপ্ন এখন তাদের ছেলেই পয়লা, ছেলের জন্য সারাটা দিন হোকনা জীবন কয়লা ! ছেলে আমার মানুষ হবে চাইছে সবাই বারবার, ছোট্ট শিশুর শৈশবটা হচ্ছে যে ছারকার... ,,,,,,,,,, রিয়াদ হায়দার  প্রযত্নে - আশাদীপ চুড়িদার সেন্টার,সরিষা আশ্রম মোড়  পোস্ট - সরিষা, থানা - পারুলিয়া কোষ্টাল  দঃ২৪ পরগনা পিন কোড - 743368

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

কবিতা ।। এই দাদর স্টেশন ।। সেখ নাসিবুল আলি

এই দাদর স্টেশন সেখ নাসিবুল আলি   এই দাদর স্টেশন সবই মানায় কমলা লেবুর খোসা—পপিতার বীজ অরাপাভের টুকরো লাল পিঁপড়ে হেডফোন চুরির  সাত ঝামেলায় মারাঠি পুলিশের লাঠি চার্জ : বাঙালী শ্রমিকের প্রতি এই দাদর স্টেশন সবই মানায়  সুড়ঙ্গের ফাটলের মতো পরকিয়ার প্রেম ভিক্ষা করতে আসা লোকটা  ফেঁসে গেছে খ্রীষ্টান নারীর সাত বাংলোর  ভেতরে বেওয়ারিশ কবেকার মৃত শিশুকন্যার যোনি চাটে লোমবিহীন পাগলা কুকুর । এদিকে শুকানো রক্তের দাগ রাতচেরাপাখি চঞ্চু ঠোকরায় ================= সেখ নাসিবুল আলি গ্ৰাম  গোপালপুর পোঃ খাড়রাথানা ইন্দাস জেলা বাঁকুড়া পিন নম্বর ৭২২২০৫  

মানরক্ষে ।। অরবিন্দ পুরকাইত

  মানরক্ষে অরবিন্দ পুরকাইত ভক্তজনে মনে মনে দেয় যে কত গালি সামনে এনে সাজিয়ে কি নেয় কেড়ে কেউ থালি! দিলাম এমন জয়ধ্বনি জেতার আগে জিতে কেমন বিড়ম্বনায় ফেলে! কাটব কীসের ফিতে! কত কথাই বলে ফেলি খুব বড় মুখ করে  খাড়া করে যতেক শত্রু পরে এবং ঘরে। এমন করলে মান কি থাকে একটা কিছু করো রাঘববোয়াল নাই বা পার, চুনোপুঁটি ধরো। পরের শাস্তি ভীষণ কঠিন, আছে তার উপরে  ঘরের শাস্তি, নেহাত কি কম! কে শব্দ টুঁ করে? নজরকাড়া ছাড়ো যা হোক সেটাই বা কম কীসে ব্যর্থতাটা ঢাকুক কিছু মিলুক খানিক দিশে। ==========

কবিতা ।। তুমি যাও কোথায় ।। রণেশ রায়

তুমি যাও কোথায়  রণেশ রায়  যুবকের দৃষ্টিপথ খুলে যায় তরুণীর ইশারায়, উজ্জ্বল আকাশ খেলা করে নীলিমায়। ধূসর বনানী সবুজ আজ, শীতের বিদায় পেঁচা জেগে ঘুমায়, আগুন পাখি প্রহরায় । আমের মুকুলের মত তুমি ঝরে যাও বৈশাখী ঝঞ্ঝায়, বাতাসের ডানায় নীড় ছেড়ে পাখি  উড়ে যায়। রাতের ঘুম তোমাকে জড়িয়ে ধরে শীতল উষ্ণতায়, স্বপ্নের মায়াজালে তোমার চেতনা কোথায় হারায় !  কোথায় চলে যাও তুমি,কার  মাঝে?  শিকড়ে শিকড়ে মাটির গহবরে----  না কোকিলের গানে আকাশে গেছ উড়ে । কার কথা ভাব তুমি আজ, কিসে আছ মজে? ফসলের মাঠে সোনালী দুপুরে ফসল ফলে, তুমি অপেক্ষায় হেমন্তের সন্ধ্যায় গোলা ভরা ফসলে। ওদিকে বিষাদ নামে সন্ধ্যার শিশির ভেজা ঘাসে পাখি ঘরে ফেরে, গৃহস্ত তাকে খাচায় বন্দী করে নিজ বাসে ।

গল্প ।। প্রেমের ঘাটতি ।। শ্যামল হুদাতী

প্রেমের ঘাটতি  শ্যামল হুদাতী টানা দুইঘন্টা ঝগড়া চলল অরুণাভ আর বর্ণালীর মধ্যে। এইতো কদিন আগে দশ বছরের বিবাহ বার্ষিকী পালন করল ঘটা করে। কখন যে ওদের মধ্যে কি হয় কে জানে? - "বর্ণালী চলো আমার ডির্ভোস নেওয়ার প্লান করি। এইসব ঝগড়া ঝামেলা আর ভালো লাগছে না। আমি সত্যিই ক্লান্ত।" এক নিঃশ্বাসে অরুনাভ কথাগুলো বলতে কোন কষ্ট হল না। - "আমি নিজেও অনেকবার ভেবেছি - আর পারা যাচ্ছে না," বর্ণালী বলল। কাল এই ব্যাপারে ফ্যামিলির সাবাইকে জানাবো। ঘুমন্ত বাচ্চার দিকে তাকিয়ে ওরা শান্ত হল। বিয়ের আগে তিনমাস ভালোই প্রেম করেছে দু'জন। বিয়ের পরেও ভালোই স্বাভাবিক ছিল। মেয়েটা হওয়ার পর থেকে  দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।  অফিস থেকে ফিরলে অরুনাভর মেজাজ থাকে তুঙ্গে। বর্ণালী প্রথমে চুপ থাকলেও সারাদিনে মেয়ের পেছনে ঘোরে, ঘরের কাজ সামলে মেজাজও সপ্তম আকাশে৷ সব চাহিদা ঠিকঠাক পূরণ করলেও দুজনের মধ্যে প্রায় কথা কাটাকাটি, ঝগড়া, ঝামেলা লেগেই থাকে৷ এমন না যে কেউ অন্য কারো প্রতি আসক্ত তাও নিজেদের মধ্যে কোন টানই যেন আর চোখে পড়ে না। প্রেমের ঘাটতি চরমে। এইটা ধীরে ধীরেই হয়েছে, একদিনে নয়।  দুইজনের রুম ও আলাদা হয়ে গেলো। ত...

অণুগল্প ।। নীরব সম্পর্ক ।। মিঠুন মুখার্জী

নীরব সম্পর্ক  মিঠুন মুখার্জী  পিকনিক স্পটে এসে চমকে উঠল বিতান। ভদ্রেশ্বরের এই আমবাগানে ওদের পাশের স্পটেই কে ও! শর্মিলি না? পা স্থির হয়ে গিয়েছে বিতানের। তিন বছর আগের সব ঘটনা মনে পড়ে গেল। বিয়ের রাতে বাবা-মার মুখে চুনকালি মাখিয়ে টোটো চালক অমলের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিল সে। কি লজ্জায় পড়তে হয়েছিল সবাইকে সেদিন। পাত্রপক্ষ যখন সব জানতে পেরেছিল তখন লজ্জায় মাথা নত হয়েছিল বিতানের বাবার। বাবাকে পাত্রের পিতা বলেছিলেন ---- " আপনাদের জন্য আমার পরিবারের মান-সম্মান একেবারে মাটিতে মিশে গেল। পাড়ার ও আত্মীয় স্বজনের সামনে মুখ দেখাব কি করে? আমি আপনাদের পরিবারের সকলের নামে থানায় মানহানির মামলা করব।" লজ্জায় কষ্টে সেই যে বিতানের বাবার স্ট্রোক হয়ে একপাশ প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিল আজও কোনো উন্নতি তার হয় নি। শর্মিলির কোনো খোঁজ তারা নেন নি । বিতানের মা সেদিন বলেছিলেন --- " আজ থেকে শর্মিলি আমাদের কাছে মৃত। বাড়ির কেউ যদি ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে কিম্বা কথা বলে তাহলে সে আমার মরা মুখ দেখবে।" মা-কে হারানোর ভয়ে কেউই তার কোনো খোঁজ রাখে নি। বিতানদের বাড়ি থেকে অমলের বাড়ি সাত-আট কিলোমিটা...

গুচ্ছ কবিতা || নীল ডায়েরি

গুচ্ছকবিতা ।। নীল ডায়েরি  বসন্তের শেষ খেয়া শহরের অলিগলিতে যখন হঠাৎ বসন্ত আসে, আমি তখন তোমায় খুঁজি পুরোনো কোনো অভ্যাসে। প্রিয়তমা, তোমার হাতে হাত রেখে হাঁটা সেই পথ, আজ যেন এক থমকে যাওয়া স্মৃতির জীর্ণ রথ। প্রেমিকা মানে তো কেবল আবির মাখা কোনো দিন নয়, বিরহবেলায় একলা ঘরে জমে থাকা অন্তহীন ভয়। বিষণ্ণতা যখন মেঘের মতো আমার আকাশ ঢেকে দেয়, তোমার একটু ছোঁয়াই তখন বৃষ্টির মতো মুক্তি দেয়। মরণ তো একদিন আসবেই কোনো এক নিঝুম রাতে, তবুও যেন একবিন্দু প্রেম বেঁচে থাকে আমাদের সাথে। ভালোবাসার সহজপাঠ তুমি আমার সেই প্রিয়তমা, যাকে বলা হয়নি সব কথা, বুকের ভেতর যত ছিল আনন্দ আর যত ছিল ব্যথা। বসন্তের কোকিল ডাকে নিরালা ওই বকুল তলায়, আমি শুধু তোমায় খুঁজি আমার নিঃসঙ্গতার বেলায়। যুদ্ধ কি মেটাতে পারে কোনোদিন মনের শূন্যতা? নাকি বাড়ায় শুধু জমে থাকা হাজারো নীরবতা। প্রেম তো আসলে এক অমোঘ আর মায়াবী মরণ, যেখানে নিঃস্ব হওয়াটাই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ বরণ। এক ফোঁটা চোখের জলে যদি ধুয়ে যায় সব অভিমান, তবেই বুঝব সার্থক হয়েছে আমাদের এই প্রেমের গান।   ডায়েরির শেষ পাতা প্রিয়তমা, তোমার হাসিতে এক অদ্ভুত মায়া ছিল মাখা, যেখানে আমার সারা ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ ।। বাসুদেব সরকার

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ  বাসুদেব সরকার  শ্রমিক তারা শ্রম বেচে জীবন চালায় যারা  করছে কর্ম  কাজ করা হলো যে  শ্রমিকধর্ম।  শ্রমিক খাটে কলকারখানা ও  অফিস-মাঠে  মজুরি কম শ্রমিক করে তবু  কায়িকশ্রম  প্রতি দিবসে  শ্রমিক করে কাজ নেইকো বসে  ঝরছে ঘাম পায় না শ্রমিকেরা শ্রমের দাম  মালিকপক্ষ  শ্রমিকের মজুরি ঠকানো লক্ষ্য  মে দিবসের ডাকে সকলে আজ  জেগেছে ফের  =============== ◾বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক  চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ। 

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬