গুচ্ছকবিতা ।। সুশান্ত সেন ১. এখন বসস্ত কালের ক্ষুব্ধ সময় যখন চৌকাঠে এসে দাড়ালো তখন পৌষলি বাতাস বিদায় নেব নেব করছে। আবাহন ও বিসর্জন এক সঙ্গে পাখির পাখায় উড়তে উড়তে একবার কোটরে ঢুকছে আবার একটু পরেই কিসের তাড়নায় কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে। বসে বসে তাই দেখছি। ২. ছায়াছবি জীবনের ছবি দেখি না। ছায়াছবি দেখি বাতানুকুল ঘরে বসে পপকর্ন খেতে খেতে। জীবনের ছবি ভিড় ট্রেনে উঠে দু ঘণ্টার যাত্রা শেষ করে এই মাত্র বাসার দরজায় কড়া নাড়ছে। গৃহ কাজে সকালে সময়ে না আসলে গৃহকর্ত্রীর মুখ ভার। ৩ দেশের মাটি দেশের মাটিকে ভালোবাসলে তাকে ত্যাগ করে চলে যাওয়া যায় ! সত্যি মাটির ঘ্রাণ পেলে ! তাকে কি ? তবু কাজ ও জীবন ধারণ বাধা মানে না। যেতে যেতে কেবল পিছন ফিরে চাওয়া কিছুদিন। পরে সে নেই সে নেই। ============ সুশান্ত সেন ৩২বি, শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...