গুচ্ছকবিতা ।। সুশান্ত সেন ১. এখন বসস্ত কালের ক্ষুব্ধ সময় যখন চৌকাঠে এসে দাড়ালো তখন পৌষলি বাতাস বিদায় নেব নেব করছে। আবাহন ও বিসর্জন এক সঙ্গে পাখির পাখায় উড়তে উড়তে একবার কোটরে ঢুকছে আবার একটু পরেই কিসের তাড়নায় কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে। বসে বসে তাই দেখছি। ২. ছায়াছবি জীবনের ছবি দেখি না। ছায়াছবি দেখি বাতানুকুল ঘরে বসে পপকর্ন খেতে খেতে। জীবনের ছবি ভিড় ট্রেনে উঠে দু ঘণ্টার যাত্রা শেষ করে এই মাত্র বাসার দরজায় কড়া নাড়ছে। গৃহ কাজে সকালে সময়ে না আসলে গৃহকর্ত্রীর মুখ ভার। ৩ দেশের মাটি দেশের মাটিকে ভালোবাসলে তাকে ত্যাগ করে চলে যাওয়া যায় ! সত্যি মাটির ঘ্রাণ পেলে ! তাকে কি ? তবু কাজ ও জীবন ধারণ বাধা মানে না। যেতে যেতে কেবল পিছন ফিরে চাওয়া কিছুদিন। পরে সে নেই সে নেই। ============ সুশান্ত সেন ৩২বি, শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...