Skip to main content

Posts

হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী

প্রবন্ধ  হালখাতা — বাঙালিয়ানা  শ্যামল হুদাতী   ‌‌ সম্রাট আকবরের বাংলা সন প্রবর্তনের পর তৎকালীন ভারতবর্ষে হালখাতার প্রচলন শুরু হয়।মূলত হালখাতা উৎসব উদযাপন করা হতো রাজাদের খাজনা প্রদানের 'পুণ্যাহ' অনুষ্ঠানের রীতি ধরে।'পুণ্যাহ' উৎসব হারিয়ে গেলেও হালখাতা চলছে এখনও পর্যন্ত। নববর্ষের সাথে  'হালখাতা' শব্দটি অঙ্গাভঙ্গি ভাবে জড়িত। হাল শব্দের অর্থ লাঙ্গল। আবার কৃষকের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে নববর্ষ। মোঘল সম্রাটরা কৃষি পণ্যের খাজনা নিতেন হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে ।অসময়ে খাজনা দেওয়ার যন্ত্রনা থেকে কৃষককে মুক্তি দিতে সম্রাট আকবর ফসলি সন চালু করেন। এই ফসলি সনই বঙ্গাব্দ হল কালক্রমে। জমিদারের ঘরে খাজনা পৌঁছে দিতেন  কৃষকরা। সেই সময় ঋণের ভার লাঘব করার রীতিও ছিল। অনেক সময় কৃষকদের ঝড় জলে তাদের ফসল নষ্ট হতো ।সেই ক্ষেত্রে কৃষকদের ঋণ মুকুব হতো।  আবার সঠিক সময় কর জমা দিলে জমিদাররা নজরানা পেতেন। সেই সময় জমিদার বাড়িগুলোতে সাজো সাজো রব দেখা যেত। আবার  এটাও শোনা যায় যে হিজরি সন থেকে বঙ্গাব্দের প্রচলন ।সেই হিজরিসন আবার হযরত মোহাম্মদের ম...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য

বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুষার ভট্টাচার্য  আধুনিক এই ডিজিটাল যুগেও বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বিক্রিত বই হচ্ছে বাংলা পঞ্জিকা। নতুন বঙ্গাব্দ বছর শুরু হবার আগে থেকেই হাটে বাজারে বইয়ের দোকান, মুদিখানার দোকানে বাংলা পঞ্জিকা বিক্রি হয় হট কেকের মতো। দোকান পাটের বাইনব রে জনবহুল বাস স্ট্যান্ড, ট্রেনেও অনেক হকার বন্ধু বিক্রি করেন নতুন বছরের বাংলা পঞ্জিকা। এই বাংলা পঞ্জিকা এখনও কলকাতার বই পাড়া কলেজ স্ট্রিটের সবচেয়ে বেস্ট সেলার। বাংলা সালের বা বঙ্গাব্দের পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করেই নতুন পাঁজি বা পঞ্জিকা ছাপা শুরু হয় আজ থেকে প্রায়২০৬ বছর আগে। ১৮১৮খ্রিস্টাব্দ নাগাদ প্রথম বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পঞ্জিকা ছাপা শুরু হয়। এরপরে ১৮৩৫খিস্টাব্দে কলকাতার দীনবন্ধু প্রেসের পঞ্জিকা বাংলার ১২ মাসের শুভাশুভ দিনক্ষণের তালিকা ভাষায় সংগৃহীত করে প্রকাশ করে। সেই সময়ে ১বৈশাখে নতুন পাঁজি কিনে বাড়িতে পাঠ করার জন্য পাঁজিতেই নির্দেশ দেওয়া থাকত এরকমভাবে - "শুনিবেক শুদ্ধ চিত্তে শুদ্ধান্বিত মনে পূর্ণ পাত্র সম্মুখে বেষ্টিত বন্ধুগণ ফলপুষ্প হস্তে করি পঞ্জিকা শ্রবণ শ্রবণেতে সবার আয়ু বৃদ্ধি হয় নৃপ নাম শ্রবণেতে রাজপীড়া ...

হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী

হালখাতা চন্দ্রমা মুখার্জী             নববর্ষ – এই একটা শব্দ শুনলেই আমাদের মনে চলে আসে পয়লা বৈশাখ আর তাকে নিয়ে ছোটবেলার একরাশ স্মৃতি। পয়লা বৈশাখকে যখন ১লা বৈশাখ লেখা হয়, আমরা মজা করে বলি যে, বৈশাখ একলা এসেছে। আবার এই পয়লা বৈশাখেই বাঙালি ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে লক্ষ্মী – গণেশের পুজো করে। সারাদিন যেন বাঙালির উৎসব চলে। বাড়িতে – বাড়িতে পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে খাঁটি বাঙালি কায়দায় ভুরিভোজ, আর দোকানে – দোকানে হয় হালখাতা উৎসব।           ছোটবেলায় নতুন জামা পরে বাবার সাথে দোকানে হালখাতা করতে যাওয়ার আলাদা আনন্দ ছিল। দোকানে গেলেই ঠাণ্ডা শরবত দেওয়া হতো। আর বাড়ি ফেরা হতো বাক্সভর্তি মিষ্টি আর ক্যালেন্ডার নিয়ে। কতগুলো ক্যালেন্ডার হল, কোনটায় কোন ঠাকুরের ছবি আর বাক্স থেকে কে কোন মিষ্টি খাবে তাই নিয়ে ছোটদের মধ্যে উৎসাহের সীমা থাকতো না।           এইরকম পয়লা বৈশাখের আনন্দের গল্প একবার এক অবাঙালি বন্ধুকে করেছিলাম। হালখাতার কথা শুনে সে জিজ্ঞাসা করেছিল – হ...

নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র

  নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা অভীক চন্দ্র   নববর্ষ এলেই আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত আত্মিক জাগরণ ঘটে। এই জাগরণ সাধারণত ঘুম ভাঙার আগেই শুরু হয়। মানে, অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে চোখ না খুলেই ঠিক করে ফেলি, "এই বছর আমি সম্পূর্ণ বদলে যাব!" যেন গত বছরটা ছিল একেবারে পরীক্ষামূলক খসড়া, আর এবার আমরা ফাইনাল ড্রাফট লিখতে বসেছি। ট্র্যাজেডিটা এখানেই। খসড়া বদলাই ঠিকই, লেখকটা একই থেকে যায়। নববর্ষের প্রথম সকালটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিন আমরা নিজেদের সামনে এমন সব প্রতিজ্ঞা করি, যা শুনলে প্রাচীন যুগের তাবড় তাবড় লোকেরাও চমকে উঠতেন। আমি নিজেও প্রতি বছর একগাদা প্রতিজ্ঞা করি। ভোরে উঠব, নিয়মিত ব্যায়াম করব, প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বই পড়ব, মোবাইল কম ব্যবহার করব, সময়মতো সব কাজ শেষ করব… ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এমন এক জীবনযাত্রার পরিকল্পনা করি, যা বাস্তবে পালন করলে আমি হয়তো 'মানুষ' থেকে সরাসরি 'মহামানব' হয়ে যেতাম। কিন্তু সমস্যাটা হল, এই মহামানব হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আমি নিজেই। নববর্ষের প্রথম দিন ভোর পাঁচটায় অ্যালার্ম বেজে ওঠে। আমি চোখ আধখোলা রেখে ভাবি, "এই তো নতুন জীবন শুরু!" অ্যালার্ম...

নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক

নববর্ষের সেকাল একাল মিতা ভৌমিক মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক সব জীর্ণ স্মৃতির ভার, তবুও মন থেকে মোছে না কিছু জমে থাকা হাহাকার। কিছু হাহাকারে থাকে পুরোনোকে ফিরে পাবার আকুলতা। যেমন প্রতি বছর বৈশাখের প্রথম দিনে হাহাকার জাগে পঞ্জিকার ডানার ওপর নববর্ষের রোদ ঝলসানো ভোরের। পুরোনো দিনগুলো উঁকি দিয়ে যায় স্মৃতির জানলা ধরে। প্রতিবছর ক্যালেন্ডার বদলায়,সময় এগিয়ে যায়, আমরা ধীরে ধীরে যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হয়ে উঠি। তবু কোথাও যেনো হৃদয়ের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকে শৈশবের নববর্ষরা ,রঙিন স্মৃতির ক্যানভাস জুড়ে। সেকালের নববর্ষ মানেই ছিলো ভোরের আলো ফুটতেই নতুন জামা পড়ে ঠাকুরঘরের পূজোতে চন্দন-ধূপের সুঘ্রাণ। "গাছে গাছে ফুল ফুটেছে, নববর্ষের ডাক এসেছে তুমি আমার বন্ধু হও, নববর্ষের কার্ড লও" বাবার এনে দেওয়া নববর্ষের কার্ডগুলোতে এই কবিতার ছড়া লিখে দাদুর হাত ধরে বিলি করতে বেরোতাম বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি।পরিবর্তে নিজের সংগ্রহেও জমা হতো বহু নববর্ষের কার্ডের সম্ভার। ক্যালেন্ডারের পাতায় গণেশঠাকুরের মূর্তি আর লাল খেরোর খাতার গন্ধে ম ম করতো পাড়ার দোকানগুলো। মিষ্টির বাক্স আর বগলদাবা করে কিছু...

নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত

  নববর্ষের নবতম আশা  সমীর কুমার দত্ত  পয়লা বৈশাখের পূর্ব রাত কলকাতা -হাওড়ার প্রখ্যাত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী নকুল চন্দ্র নাগের বেশ কয়েকটি শাখার তোড়জোড় চলছে পরের দিন পয়লা বৈশাখের ভোরে দক্ষিণেশ্বরে ভব তারিণী মায়ের মন্দিরে হালখাতার পূজো দেওয়ার। বাড়ির গিন্নি, কর্তা সহ উঠতি ছেলেমেয়েদের সকলেরই সাজসাজ রব। এ প্রথা চলে আসছে বহুদিন ধরে। এবারের‌ও তার ব্যতিক্রম নেই  বরং উন্মাদনা এবার একটু বেশি। কারণ এবার পরিবারের এক  অষ্টাদশী যুবতী কন্যা  উচ্চ মাধ্যমিকে দশম  স্থানাধিকারিণী উচ্চশিক্ষার্থে অর্থাৎ জি.আর.ই ক্র্যাক করে  আমেরিকার উদ্দেশ্যে  যাত্রা করছে এই পয়লা বৈশাখে রাতের ফ্লাইটে। শুভ দিন নি:সন্দেহে। নকুল চন্দ্রের পাঁচ সন্তানের কনিষ্ঠ সন্তান সোমনাথের জ্যেষ্ঠ কন্যা সুলক্ষণা নাগ খুব‌ই মেধাবী ও ব‌ইপোকা ।  লরেটো  স্কুলের আই.এস. সি পরীক্ষায় দশম স্থানাধিকারিণী ছাত্রীটি বংশের গৌরব। আই. সি. এস. ই পরীক্ষাতেও সে দশম স্থান অধিকার করে। নকুল চন্দ্রের পাঁচ সন্তানদের মধ্যে সোমনাথ‌ই কলেজ পাশ। বাকিরা কেউ মাধ্যমিক, কেউ উচ্চ মাধ্যমিক ...

দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার

  দুই আকাশ, এক নববর্ষ রাজদীপ মজুমদার নববর্ষ মানেই নতুন খাতা, নতুন জামা, আর পুরোনো মন খারাপের বিসর্জন। কিন্তু সব কি বিসর্জন দিয়ে নতুনের জন্য এগিয়ে যাওয়া যায়? পথ চলার জন্য তাই যা কিছু ইতিহাস থাকে, সেটা ওই সময়ের জন্য ভুলে যাওয়াটাই ভালো। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখার গভীরে যে অনুভূতিটা বারবার ধরা পড়ে, তা যেন এই নববর্ষের সাথেই মিলে যায় ; “মানুষের জীবনে পথই বড় কথা, সেই পথেই তার দেখা, তার হারানো, তার পাওয়া।” এই কথাটুকু মনে রেখেই বলা যায়, নববর্ষ মানে শুধু নতুনকে বরণ নয়, বরং পথের নতুন শুরু। যেখানে পুরোনো স্মৃতি মুছে যায় না, শুধু একটু দূরে সরে দাঁড়ায়। যেমন এই নববর্ষকে যদি গ্রাম আর শহরের চোখ দিয়ে দেখি, তাহলে বোঝা যায়—একই দিন, কিন্তু উদযাপনের ধরন যেন দুই ভিন্ন গ্রহের গল্প! গ্রামে নববর্ষের সকাল মানে চারিদিকে ব্যাস্ততা।গ্রামে নববর্ষের সকাল মানে চারিদিকে ব্যস্ততা। মোরগের ডাক যেন অ্যালার্ম ক্লকের কাজ করে, আর বাতাসে মিশে থাকে কাঁচা মাটির গন্ধ। ভোরবেলা উঠেই কাকিমারা উঠোনে জল আর গোবর ছিটিয়ে পরিষ্কার করে, অন্যদিকে বাড়ির ছোট মেয়েরা আলপনা আঁকতে ব্যস্ত থাকে। সেখানে কোনো “Pinterest idea” নেই,...

আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব

আমার সন্ন্যাস  অংশুদেব  দরিদ্র হলেও ধর্ম চর্চার স্বাধীন পরিবেশে বড়ো হয়েছি। অন্ধভাবে মেনে নিতে শিখিনি, কেউ বলেওনি। আমাকে আমার মতো হয়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করেছে আমার মা ও বাবা । তাঁদের অর্থ, সামর্থ্য, শিক্ষা সেই পর্যায়ে ছিল না বলেই আমার এগিয়ে যাওয়া বা প্রতিষ্ঠা এতটা পিছিয়ে। তবে ক্রমোন্নয়নে আমি বিশ্বাসী । জন্মান্তর মানে পুনর্জন্ম যাকে বলে মানি না ।আমি মনে করি আমি আমার বংশধারায় ও শিক্ষা -সংস্কার ধারায় বার বার জন্ম নেবো , যতক্ষণ না মিশন পুরণ হচ্ছে। তারপর ক্ষয় কিম্বা নতুন ধারায় বয়ে যাব ।          আজ আমার জীবনের একটা গতির গল্প বলব । আমি একটা অতিদরিদ্র, অশিক্ষিত পরিবারের সন্তান। আমার মায়ের ধরম বাবা ছিলেন এক মুসলমান। ধরম ছেলে ছিল কাওরা সম্প্রদায় ভুক্ত । বাবাও ছিলেন পূজা পার্বণ বিরোধী। অথচ হিন্দু ধর্মীয় পূজা পার্বণ যা বাড়িতে হতো, বাবা বাজারে সেরা জিনিসটা কিনতেন সামর্থ্য মতো। মাও তাই । বাবা সময় সুযোগ পেলে সব ধর্মের পবিত্র প্রতিষ্ঠান দেখাতে নিয়ে যেতেন । বলতেন, আগে মানুষকে ভালোবাসতে হবে, তারপর ধর্ম। বাবার সঙ্গে তাঁর সহকর্ম...

পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ

  পয়লা থেকে একলা হওয়া সুকান্ত ঘোষ মোবাইলের এলার্মের আওয়াজটা বিকট শব্দ করে বেজে উঠতেই রণজয় ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে। অভ্যস্ত হাতে এলার্মটা বন্ধ করতে যেতেই ফোনের নোটিফিকেশনে চোখ আটকে যায়। শুভ পয়লা বৈশাখের ঢেউ আছড়ে পড়েছে মেসেঞ্জারে। রণজয়ের মনটা খোলা জানলা পেরিয়ে একলাফে চলে যায় অনেকগুলো বছর আগের এক সকালে। বাবার রেডিওতে প্রাত্যহিকি চলছে, মা কলতলায় বাসন মাজছে আর ছোট বোন মিনু তার প্রিয় নীল স্কার্টটা পরে বাড়ির রোয়াকে তার বন্ধুদের সাথে এক্কাদোক্কা খেলছে।  আজ রণজয়ের বেশ ফুরফুরে লাগছে। পয়লা বৈশাখ মানেই দুপুরে মাংস- ভাত। রণজয়ের বাবা সামান্য বেতনের একজন সরকারি কর্মচারী। তবু রণজয়ের পয়লা বৈশাখের দুপুরের মেনুতে  মাংস-ভাত বাধা ছিল। তারপর দুপরে একটু ঘুমিয়ে বিকালে বাবার সাথে দোকানে দোকানে ঘুরে হালখাতা সারা ও জিভের সেবা করা। রণজয়ের কাছে জিভ সেবাই, শিব সেবা। তাই সারা বছর ধরে ও এই দিনের অপেক্ষায় থাকে। আজও সেই জন্য রণজয়ের মেজাজ খুব ফুরফুরে। হটাৎ একটা বিকট শব্দ ও কিছু মানুষের কান্নায় রণজয়ের চিন্তার জট ছিঁড়ে যায়। আর তখনই চোখে পড়ে মিনুর নীল স্কার্টটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে, রাস্তায় পড়ে রয়েছে মি...

পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা

  পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি সারাবান তহুরা মৌমিতা পহেলা বৈশাখের সকালটা ছিল অন্যরকম। চারদিকে উৎসবের আমেজ, লাল-সাদা রঙের ঢেউ আর মানুষের মুখে আনন্দের উচ্ছ্বাস— সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল পুরো শহর যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে প্রকৃতিও যেন অন্যরকম স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে, আর মানুষের মনেও থাকে এক নতুন সূচনার আশা। এই বিশেষ দিনটি আমি সবসময় পরিবারের সাথে কাটাতে ভালোবাসি। তাই এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। আগের রাতেই আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম—কোথায় ঘুরতে যাব, কী পোশাক পরব, আর কী কী খাবার সঙ্গে নেব। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ঘুম ভাঙল। চারপাশে উৎসবের আবহ, দূর থেকে ভেসে আসছিল বৈশাখী গানের সুর। এমন সকালে ঘুমিয়ে থাকা যায় না। কিছুক্ষণ পরেই আমার এক কাজিন আপু ডাক দিয়ে উঠলেন, "এই তোরা সবাই কোথায়? আজকে কিন্তু ঘুরতে যাব, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে!" আপুটি চাকরি করেন, তাই সবসময় সময় পান না। কিন্তু ছুটি পেলেই আমাদের নিয়ে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তার এই আগ্রহ আমাদের সবার মধ্যেই আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। আমরা সবাই দ্রুত প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। সকালের গোসল সেরে একে একে সাজগোজ করতে লাগল...

বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত

  বাংলা নববর্ষ  পার্থপ্রতিম দত্ত বাংলা নববর্ষ তার নিজস্বতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। ইংরেজি নববর্ষ যেমন জাঁকজমক ও আড়ম্বর এর সাথে পালিত হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হয়ত তেমন হয় না। কারণ পয়লা জানুয়ারি সারা বিশ্বে উচ্ছাসের সঙ্গে উদযাপিত হয়। তবু বাংলা নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমুজ্জ্বল। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, দোকানে দোকানে হালখাতার উদ্বোধন, দুপুরে ভূরিভোজ, নতুন বাঙালী পোশাকে সজ্জিত হওয়া, সন্ধ্যায় নানা অনুষ্ঠানে নববর্ষ কে বরন ও স্মরণ করা, এসবই বাংলা নববর্ষের বৈশিষ্ট্য। নববর্ষ উপলক্ষে নতুন বই প্রকাশ, পত্রিকা প্রকাশ বিক্রয় মূল্যের উপর বিশেষ ছাড়, বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে। নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ জুয়েলারী ও অন্যান্য দোকান থেকে পয়লা বৈশাখের আমন্ত্রণ পত্র পাওয়া। সেখানে গিয়ে মিষ্টি, উপহার ও বাংলা ক্যালেন্ডার গ্রহণ করা। এখন বেশ কিছু বাঙালী বাঙালীয়ানার ব্যাপারে উদাসীন। তারা সন্তানদের বাংলা মাধ্যমে পড়াতে চান না, ছড়ার বদলে Rhymes শেখান। বাংলা ভাষার প্রতি এই অবহেলা কাম্য নয়। মাতৃভাষা ই মাতৃদুগ্ধের মত মানুষের মানবিক পুষ্টি ঘটায়। অন্যান্য ভাষাকে যোগ্য সম্...

স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর্তী

  স্মৃতির পাতায় পয়লা   দেবশ্রী চক্রবর্তী    নববর্ষ আদ্যপান্ত বাঙালিয়ানার মোড়কে জড়ানো সযত্নে লালিত একটি শব্দ। শারদীয়ার যেমন আগমনী হয় তেমনি নববর্ষের প্রতীক্ষা একপ্রকার আগমনীর মতোই। পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের আলাপন আর সেই বিশেষ দিনকে মনের মতো করে আপ্যায়ন করার প্রস্তুতি কদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়।  আমাদের শৈশব কৈশোর অন্তত তার সাক্ষ্য দিতে পারে। নববর্ষ শুধু বৈশাখের প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আগে পরে কিছুদিনের মিলিত উদযাপন হল নববর্ষ। ছোটবেলার কিছু স্মৃতি আজও জীবন্ত যা আজ নাগালের বাইরে তবে চির অমলিন যেমন চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকালে বাড়ির ছেলেরা থালায় কাঁচা আম খই আর ছাই নিয়ে বাড়ির বাইরে কোথাও গিয়ে আমটা দা দিয়ে কেটে দুভাগ করতো। এর অর্থ  শত্রুকে হারানো অর্থাৎ পুরোনো শত্রুতা মানঅভিমান বিষাদ সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নতুন বছরকে আপ্যায়ন করা। শুধু তাই নয় সেদিন স্নানের পর সকলকে নিয়ম করে নিমপাতা জোয়ান গুড় কাঁচা হলুদ একসাথে নিয়ে খেতে হত। এসব নিয়মকে কখনো বেড়াজাল মনে হয়নি বরং পুরোপুরি উপভোগ করতাম। সেদিন পাচন খাওয়ার রীতি আজও অনেক বাড়িতেই আছে সব মিলিয়ে প্রাণের আরাম খুঁজে ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা ।। রাতের আকাশে ।। ইমরান খান রাজ

রাতের আকাশে  ইমরান খান রাজ  রাতের আকাশেও এক নীরব মায়া উড়ে যায় কেউ দেখতে পায়, আর কেউ পায় না।  যারা দেখতে পায়, তাঁরা ছুঁতে চায়  কিন্তু সবাই তো ছুঁতে পারে না।  রাতের আকাশেও উড়ে যায় মেঘ আর বকপক্ষী  একটি শুধু ভেসে বেড়ায় সীমাহীন পথে,  আরেকটি উড়ে চলে গন্তব্যে, প্রিয়জনের নিকটে।  ================  ইমরান খান রাজ   সাতভিটা, নারিশা, দোহার-ঢাকা ১৩৩২।

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

ছড়া ।। ভোর হয়েছে খুকুমণি ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

ভোর হয়েছে খুকুমণি  বিদ্যুৎ মিশ্র  ভোর হয়েছে খুকুমণি জাগলো সারা পাড়া  ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে হাসছে দ্যাখো তারা। মৌমাছিরা ভিড় জমিয়ে করছে খেলা এসে  তুমিও ঠিক মিশে যেও ফুল পরীদের দেশে।  দেখবে কেমন সোনালী রোদ ঝরছে পাহাড় বনে  শীতল বাতাস লাগবে গায়ে খুশির পরশ মনে।  ভোরের পাখি তখন থেকে করছে ডাকাডাকি  এবার যদি না ওঠো সব থাকবে পড়ে বাকি।  ভিড় জমেছে গাঁয়ের হাটে দেখতে যাবে যদি  পথের মাঝে মিলবে দেখা ছোট্ট একটা নদী।  সোনালী রোদ নদীর জলে করছে কেমন খেলা  উপচে ওঠে ঢেউগুলো তার ছুঁড়লে নাকি ঢেলা।  আঁকাবাঁকা মেঠো পথে থাকবে শিশির ঝরে  এমন সময় কেমন করে থাকবে তুমি ঘরে। ============= বিদ্যুৎ মিশ্র  কাশীপুর, পুরুলিয়া।

কবিতা ।। সাইফুল ইসলাম

  বিয়োগফল শূণ্য সাইফুল ইসলাম  অর্ধশতক নাঙাপায়ে হেঁটে বহু পথ শূন্য রহিল হিসাবখানি পুরিল না মনোরথ। উত্তাল সিন্ধু আঘাতে আঘাতে জীর্ণ করেছে তরী আপন করি তপ্তবালু উটের লাগাম ধরি। রক্তে রাঙা চরণ দুটি কন্টক দংশনে সকল বাধা অনায়াসে লঙ্ঘি দৃঢ় পণে। বসতবাটি সকল ছাড়ি হয়েছি যাযাবর কেবা পুত্র,কেবা কন্যা সকল করেছি পর। লক্ষ্য শুধু সামনে পানে ছিনিয়ে আনি জয় পর্বতসম সংকল্প মোর হৃদয় অকুতোভয়। উত্তর -দক্ষিণ এক করেছি স্বর্ণ আকর আশে ভাগ্য বিরুপ তাই বলে কী সবই জলে ভাসে। সারাজীবন যোগের অঙ্কে হিসাব টেনে এসে শেষের পাতায় বিযোগ করি শূণ্য পেলাম শেষে। -----------------------------------------------------------------     বর্দ্ধনপাড়া,বীরভূম।

খোলাকথা ।। টান ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

টান মনোরঞ্জন ঘোষাল মহাকর্ষ সব কিছুই টানে। আর তড়িৎ বা চুম্বকের দুটি বিপরীত মেরু পরস্পরকে টানে। এই টান তোমার নগন‍্য মনে হয়। দুটি বিপরীত লিঙ্গের জীবের কাছে। তবে অবশ‍্য তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ আমার চোখের সামনে ঘটে গেল। আমার ঘরে আমাদের সঙ্গে কটা পশু পাখির বাস আছে। তাদের মধ‍্যে কটা মোরগ মুরগি রয়েছে। একটা মজার ব‍্যাপার হল, এক সঙ্গে একাধিক মুরগি একটু কামড়া কামড়ি করে থাকলেও। এক সঙ্গে একাধিক মোরগ কখনোই থাকতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে তারা মারপিট শুরু করবে। এবং আমৃত‍্যু পর্যন্ত চলবে সেই মারামারি। একজন অপরের থেকে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ দ্বন্দ থামে না।  ঝামেলা শুরু হল আমার ঐ খানে। এইবার তিনটি মুরগি হলে কী হবে, সঙ্গে জন্ম নিল দুটি মোরগ। তারা যখন ছোট ছিল পশু জন্তুদের মত দুই ভাইয়ে মিলে লড়াই লড়াই খেলা খেলতো। তবে সে খুব বেশি সময়ের জন‍্য নয়।  যখন বড় হল। মানে প্রাপ্ত বয়স্ক। তখন ওদের সেই ভাই ভাই সম্পর্ক কেমন যেন শত্রুতাতে পরিণত হল। তা দেখে আমি তাদের আলাদা রাখার ব‍্যবস্থা নিলাম। একটি মোরগ আর তার সঙ্গে মুরগি তিনটিকে রেখে দিলাম  নীচের খোঁয়াড়ে। আর শুধু একটি মোরগকে রে...

কবিতা ।। মেহেদি হাসান

ভুল ছন্দ তুমি আমার জীবনের বিভীষিকাময় অন্ধকার তুমি আমার হৃদয়ের বিক্ষত হওয়া তলোয়ার। তুমি আমার অশ্রুসিক্ত আঁখির বেদনা মুছনের জল; সেই তুমিই আবার, কান্না ঝরার লুকায়িত গোপন স্থল। তুমি আমার হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকা বেদনা তুমি আমার যাপিত জীবনের নিংড়ানো যন্ত্রণা। তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া সুখের গড়িয়ে পড়া আকাশ; সেই তুমিই আবার,শোকের দাবানলে মিলিত তপ্ত বাতাস। তুমি আমার গান গাওয়া পাখির সুর হারানো তাল তুমি আমার বিচিত্র জীবনের মধু হয়ে আসা মাখাল। তুমি আমার ছিদ্র হওয়া দেহের রক্ত দেওয়া প্রাণ; সেই তুমিই আবার,আত্মা হারানোর নোংরা পঁচা ঘ্রাণ। তুমি আমার বর্ষাকালের স্থল ডুবানো বর্ষণ তুমি আমার ইংরেজি মাসের চৌঠা বছরের ঘর্ষণ। তুমি আমার হঠাৎ উদিত হওয়া ভালো লাগার সেই চন্দ্র; না,না! তুমিই আমার গুপ্ত হৃদয়ে,মিশে থাকা ভুল ছন্দ। =======০০০====== ঠিকানা- জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া,উপজেলা-আশুগঞ্জ, গ্রাম-তারুয়া। জাতীয়তা: বাংলাদেশি মোবা: ০১৭২৪০৫৮৭০০ সহযোগিতা কাম্য এই সংখ্যার সমস্ত লেখা একত্রিত করে একটি সুসজ্জিত ইবুক তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি সংগ্রহ করতে আগ্রহী হন তাহলে ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ নম্বরে ন্যুনতম ১০ টাকা google pay, phon...

কবিতা ।। রান-মেশিন ।। আনন্দ বক্সী

রান-মেশিন আনন্দ বক্সী  গৃহবধূ মাতা তাঁর কোহলি সরোজ  পিতা প্রেম রাখতেন যাঁর সব খোঁজ, বড় দাদা-দিদি যাঁর ভাবনা-বিকাশ  শিশুকাল থেকে পায় প্রতিভা প্রকাশ।  যাঁর ব্যাটে মজে আজ গোটা ধরাধাম  দিল্লিতে বাস তাঁর 'চিকু' ডাকনাম।  মজা দেন খেলে তিনি রাত হোক দিন  মাঠে নেমে হয়ে যান রানের মেশিন।  এ যুগের তিনি এক সেরা ব্যাটধারী  বিরাট কোহলি ভাই নামটা যে তাঁরই। তিন বছরেই নেয় ব্যাট হাতে তুলে  বাবার বোলিংয়ে সে খেলে প্রাণ খুলে। পিতার নয়ন তাকে চিনলো খুঁটিয়ে  প্রতিভা রয়েছে তাঁর মধ্যে লুকিয়ে। মানুষ করতে তাঁকে মনের মতন  সেই মতো পিতা তাঁর নিলেন যতন।  দিল্লির অ্যাকাডেমি হলো যে ঠিকানা  সুপ্ত প্রতিভা তাঁর মেলে দিলো ডানা। রাজকুমারের কাছে নিলেন তালিম বের করে আনলো সে ভিতরের ক্রিম।  পরিপূর্ণতা পেল ক্রিকেট জীবন  বড়ো খেলোয়াড়রূপে চিনলো ভুবন।  দিল্লির হয়ে তিনি অপরূপ খেলে  ঘরোয়া ক্রিকেটে দেন জোর সাড়া ফেলে। প্রয়াত হলেন পিতা বেশ তাড়াতাড়ি  আর্থিক সংকট দেখা দিলো ভারি।  তাঁর কাঁধে এসে গেল পরিবার ভার  ক্রিকেটের প...

কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার

শমনচিহ্ন দীপঙ্কর সরকার  আমার ও তো ভয় হয় আঁতকে উঠি  শিয়রে শমনচিহ্ন এড়াই কী করে!  মৃত্যু অমোঘ জানি দুয়ারে এলে কী দিয়ে আপ্যায়ন জানি না সবিশেষ।  কেউ কি শিখিয়ে দেবে শেখাবে পাবে সে যথাযথ নগদ পারিশ্রমিক।  আমাকে বিশ্বাস কি ভরসা কোথায় সে এক প্রশ্ন বটে তা ভেবে আমিও অধীর।  আসলে তুমিও জানোনা, জানো না  তোমরাও, জানে এক সাবিত্রী যে কিনা  ফিরিয়েছিল সত্যবানের প্রাণ। একা সেই  জানে দুয়ারে মৃত্যু এলে কীভাবে আপ্যায়ন।  ================ দীপঙ্কর সরকার  কাঁঠাল পুলি  (সিংহের হাটের কাছে)  চাকদহ  নদীয়া  ৭৪১২২২

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা ।। রাতের আকাশে ।। ইমরান খান রাজ

রাতের আকাশে  ইমরান খান রাজ  রাতের আকাশেও এক নীরব মায়া উড়ে যায় কেউ দেখতে পায়, আর কেউ পায় না।  যারা দেখতে পায়, তাঁরা ছুঁতে চায়  কিন্তু সবাই তো ছুঁতে পারে না।  রাতের আকাশেও উড়ে যায় মেঘ আর বকপক্ষী  একটি শুধু ভেসে বেড়ায় সীমাহীন পথে,  আরেকটি উড়ে চলে গন্তব্যে, প্রিয়জনের নিকটে।  ================  ইমরান খান রাজ   সাতভিটা, নারিশা, দোহার-ঢাকা ১৩৩২।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছড়া ।। ভোর হয়েছে খুকুমণি ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

ভোর হয়েছে খুকুমণি  বিদ্যুৎ মিশ্র  ভোর হয়েছে খুকুমণি জাগলো সারা পাড়া  ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে হাসছে দ্যাখো তারা। মৌমাছিরা ভিড় জমিয়ে করছে খেলা এসে  তুমিও ঠিক মিশে যেও ফুল পরীদের দেশে।  দেখবে কেমন সোনালী রোদ ঝরছে পাহাড় বনে  শীতল বাতাস লাগবে গায়ে খুশির পরশ মনে।  ভোরের পাখি তখন থেকে করছে ডাকাডাকি  এবার যদি না ওঠো সব থাকবে পড়ে বাকি।  ভিড় জমেছে গাঁয়ের হাটে দেখতে যাবে যদি  পথের মাঝে মিলবে দেখা ছোট্ট একটা নদী।  সোনালী রোদ নদীর জলে করছে কেমন খেলা  উপচে ওঠে ঢেউগুলো তার ছুঁড়লে নাকি ঢেলা।  আঁকাবাঁকা মেঠো পথে থাকবে শিশির ঝরে  এমন সময় কেমন করে থাকবে তুমি ঘরে। ============= বিদ্যুৎ মিশ্র  কাশীপুর, পুরুলিয়া।

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। সাইফুল ইসলাম

  বিয়োগফল শূণ্য সাইফুল ইসলাম  অর্ধশতক নাঙাপায়ে হেঁটে বহু পথ শূন্য রহিল হিসাবখানি পুরিল না মনোরথ। উত্তাল সিন্ধু আঘাতে আঘাতে জীর্ণ করেছে তরী আপন করি তপ্তবালু উটের লাগাম ধরি। রক্তে রাঙা চরণ দুটি কন্টক দংশনে সকল বাধা অনায়াসে লঙ্ঘি দৃঢ় পণে। বসতবাটি সকল ছাড়ি হয়েছি যাযাবর কেবা পুত্র,কেবা কন্যা সকল করেছি পর। লক্ষ্য শুধু সামনে পানে ছিনিয়ে আনি জয় পর্বতসম সংকল্প মোর হৃদয় অকুতোভয়। উত্তর -দক্ষিণ এক করেছি স্বর্ণ আকর আশে ভাগ্য বিরুপ তাই বলে কী সবই জলে ভাসে। সারাজীবন যোগের অঙ্কে হিসাব টেনে এসে শেষের পাতায় বিযোগ করি শূণ্য পেলাম শেষে। -----------------------------------------------------------------     বর্দ্ধনপাড়া,বীরভূম।