- নারী -
স্বপন চক্রবর্তী
আজ নারী দিবসের ক্ষণে
মাকে বেশী মনে পড়ে,
সন্ধ্যাবেলায় তুলসীতলায়
আলোকদিয়াটি করে।
শ্বশ্রূমাকেও মনে পড়ে সাথে,
করুণাসিক্ত মুরতি,
তাঁদের চরণ-রেণু তুলি মাথে,
করি ছন্দের আরতি।
নারী সততই পরম ধন্যা
কাব্যের প্রতি ছত্রে,
আজকের নারী অগ্রগণ্যা
বিশ্বে সর্বক্ষেত্রে।
তবুও নারীর প্রধান লক্ষ্য
হবে পুরুষের সমকক্ষ,
তাহলেই বুঝি প্রাপ্তি মোক্ষ,
হয়তো কথাটি রুক্ষ।
কিন্তু বোঝে না স্নেহশীলা ছায়া
সে অদম্য আধিপত্য,
কখনো জননী,কখনো বা জায়া,
সে-ই পুরুষের বিত্ত।
প্রকৃত অর্থে রমাই শক্তি
পুরুষ তাহার শাখা,
রমার ছায়ায় লভে সে মুক্তি,
রমাই জীবনরেখা।
নারীকে পুরুষ দেয় আশ্লেষ,
বদলে লভে সে প্রাণ,
নারীই সহন করে যত ক্লেশ,
অনুপম অবদান।
পুরুষ ভরায় উপাদানে ঘর,
বামারাই করে সৃষ্টি,
পুরুষটি যদি গ্রীষ্ম প্রখর,
বামাটি তাহলে বৃষ্টি।
মায়ার বাঁধনে শর্বরী বাঁধা,
তাই সে ত' মায়াবতী,
এমন কোনোই শব্দের সুধা
লভে নি পুরুষ জাতি।
প্রমদাটি যেন ঠিক গণপতি
ঘোরে সে মায়ের পাশে,
তথাপি তাহার অসীম তৃপ্তি,
হৃদি ভরে উল্লাসে।
আর পুরুষটি বুঝি কার্তিক সম
পাক দিয়ে ধরণীরে,
হাহুতাশ করে - অন্তর মম
ফিরিতে চাহে না নীড়ে।
আধেক মানবী আধেক সে দেবী,
কাব্যেতে অম্লান,
পুরুষ জীবনে ললনাই কবি,
গাহে জীবনের জয়গান।
নারীই জননী দেবী বসুমতী,
নারীই সৃষ্টি প্রকৃতি,
নারীই নরের জীবনের দ্যুতি,
নারীই শক্তি ধৃতি।
তাই নারীর বিহনে পুরুষ শূন্য,
নারীই নরের ভূষণ,
নারীর পরশে পুরুষ ধন্য,
নাহিকো নারীরে পেষণ।
নারীই জননী, নারীই ভগিনী,
নারীই যে প্রিয়তমা,
ধরিত্রী সম ধৈর্য্যে নারী
চিরকালই নিরুপমা।
নারীর দু'চোখে ভোরের শিশির,
মমতা মাখানো হাসি,
ক্লান্ত পুরুষ খুঁজে পায় নীড়,
বলে - নারীকেই ভালোবাসি।
রণসাজে নারী বীরাঙ্গনা,
প্রমাণিত ইতিহাসে,
আলো হয়ে নারী কিরণদাত্রী,
আঁধার রাতের আকাশে।
নারী সংসারে স্নিগ্ধ ছায়া,
কর্মে অটল কায়া,
উন্নত শিরে করে সংগ্রাম ,
চির প্রোজ্জ্বল দিয়া।
নারী জীবনের পদ্য-ছন্দ,
কখনও সুরের তান,
সৃষ্টির মূলে মিশে আছে
তার হৃদয়ের জয়গান।
বিশ্বের পথে প্রগতির রথে
নারীই অগ্রগামী,
নারীর ত্যাগ তথা মহিমাতে
পৃথিবী হয়েছে দামী।
নম্র চরণে আলতা মাখানো,
হৃদয়ে অতল স্নেহ,
নারীর তুলনা নারীই কেবল
নয় অন্যেরা কেহ।
নারী চিরকাল দীপশিখা হয়ে
দেখায় পুরুষে দিয়া,
হে নারী, তোমারে এ বিশ্ব দিবসে
কুর্নিশ করে হিয়া।
তবে নারীরা বহু দোষেও দুষ্ট
দু একটি কথা বলি,
আপন স্বার্থ রক্ষার তরে
নীতির জলাঞ্জলি।
নারী ভ্রুণটির হত্যার পিছে
নারীই সবার আগে,
কন্যার চেয়ে পুত্রই শ্রেয়,
পুত্রের বর মাগে।
লক্ষ্মীপূজায় যে নারী ব্যস্ত
গরদের শাড়ি পরণে,
সেই নারীই কুচক্রী হায়
ঘরের লক্ষ্মী নির্যাতনে।
কন্যা হলে একের অধিক,
নারীই নিন্দা করে,
নারীই নারীর পরম শত্রু
বাহিরে এবং ঘরে।
বিবাহিতা যদি সন্তানহীনা,
আরেক নারীর রোষ,
সব দোষ ঐ কন্যের বুঝি
দ্বিধাহীন আক্রোশ।
অনেক সময় বিপরীতও ঘটে,
শ্বশ্রূ নির্যাতিতা,
তার পিছনেও নারী রয় বটে,
নয় কেহ কারো মিতা।
মানসিকতায় পিছিয়ে আছে
আজও অগণিত নারী,
তবে সে জন্য পুরুষেরা দায়ী,
এ কথা মানতে নারি।
তবুও বলবো কবির ভাষায়
যা "চির কল্যাণকর,
আধেক সৃষ্টি করিয়াছে নারী ,
আর অর্ধেক নর।"
————————
মাতৃ কুটীর, শিবাণী পীঠ লেন, শিবাণী পীঠ মন্দিরের সন্নিকটে, ভট্টাচার্য্য পাড়া, ওয়ার্ড নং - ৫ , বারুইপুর, ২৪ পরগণা (দক্ষিণ), কলকাতা-৭০০১৪৪.

Comments
Post a Comment