সঙ্ঘমিত্রা দাস
নারী অধিকার, মম্মান ও মর্যাদার কথা যখন ওঠে তখন সবার প্রথমে মনে আসে নারী শিক্ষার কথা। আর সেই শিক্ষা যদি হয় পুরুষের সাথে সমানতালে কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে।
"তোমরা পারবেনা, এটা ছেলেদের কাজ"
এই কথাকেই তো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে। দিয়েছেও অনেকে। এখন যুদ্ধ বিমানে এমনকি সাবমেরিনেও মেয়েরা আধিপত্য বিস্তার করেছে। আজ এসব কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই যার নাম মনে এলো তিনি বাঙলা তথা বাঙালী , পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা কারিগরি বিদ্যার (মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ইলা ঘোষ। ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষের ফরিদপুরে , অধুনা বাংলাদেশে তার জন্ম। বিয়ের পূর্বে তিনি ছিলেন ইলা মজুমদার। বাবা ম্যাজিস্ট্রেট , সেই সূত্রে ১৯৪৫ সালে কোলকাতায় আসেন। প্রাইভেটে মাধ্যমিক পাশ করেন। রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। ভর্তি হন আশুতোষ কলেজে। ১৯৪৭ সালে প্রবেশিক পরীক্ষার মাধ্যমে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সুযোগ লাভ করেন। এখানে তিনি ভীষণ ভালো ফল করেন।
ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। যদিও ভারতীয় ও ইংরেজ মিলে তখন আটশোরও বেশি ছাত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে। প্রথমদিকে বেশ অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে মানিয়ে নেন। ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে পড়াশোনা। তাদের সাথে আড্ডা, ক্রিকেটে উৎসাহিত করা, গল্প, ঠাট্টায় বন্ধুত্ব হয়ে যায়। শুনতে যতটা সহজ মনে হয় ততোটা সহজ অবশ্য ছিল না তার পথ । অনেকেরই ধারণা ছিল মাঝপথে পড়া ছাড়বেন তিনি। কিন্তু ১৯৫১ সালে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ইতিহাসে প্রথম মহিলা স্নাতক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়। এরপর বিদেশ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ভারতে ফিরে এসে দেরাদুনে অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি তে ভারী অস্ত্র তেরীর কাজে যোগ দেন। এরপর দিল্লি পলিটেকনিক কলেজে চাকরি করেন। বিয়ের পর পাকাপাকি কোলকাতায় চলে আসেন। ১৯৫৫ সালে গড়িয়াহাটের উইমেন পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষার পদে নিযুক্ত হন। এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজ। তাকে বাংলাদেশের উইমেন পলিটেকনিক কলেজ গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হলে অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে কেমব্রিজে এক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগদান করেন। সারা জীবনের অভিজ্ঞতায় কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের কেমনভাবে সরিয়ে রাখা হয়। তাদের উন্নতির পথে বাঁধা প্রদান করা হয় সেসব কথা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন তিনি। শিবপুরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন তার পেশাগত জীবনে বারবার লিঙ্গ বৈসম্য ও পক্ষপাতের সম্মুখীন হয়েছেন। যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও অনেকক্ষেত্রে তুচ্ছ অজুহাতে যোগ্য জায়গা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি মনে করেন সমাজের মানসিকতা বদলাতে সময় লাগবে। তবু তিনি এগিয়ে গেছেন নজির তৈরি করেছেন মেয়েদের জন্য যারা সত্যিকারে প্রগতির ধ্বজা বহন করতে প্রস্তুত। ২০১৯ সালে তিনি মারা যান। তবে মানুষের মনে জীবিত থেকে যাবেন তার কাজের মাধ্যমে।
------------
তথ্যসূত্রঃ wikipedia
Ila ghosh, 51ME the first women engineer from Bengal Engineering College( pdf )
বরণীয় বিজ্ঞানী পঁচাত্তর ভারতীয় নারি (বই)

Comments
Post a Comment