এস এম মঈনুল হক
পাত্র-পাত্রীরা
যামিনী – নায়িকা, এক সময় গৃহকর্মী, পরে নারী অধিকারকর্মী
রুদ্র – বিত্তবান পরিবারের ছেলে, খল চরিত্র
রুদ্রের মা – গৃহিণী
রুদ্রের বাবা – ব্যবসায়ী
বন্ধু সাংবাদিক – যামিনীর সহকারী
পুলিশ অফিসার
চিকিৎসক
অন্যান্য চরিত্র – প্রতিবেশী, সমাজকর্মী, ইত্যাদি
দৃশ্য ১: গৃহস্থের বাড়ি, রান্নাঘর
(যামিনী থালা ধুচ্ছে। রুদ্র পিছন থেকে এসে চুপিচুপি কথা বলে।)
রুদ্র: (সঙ্কেতমূলক ভঙ্গিতে) তুই তো খুব চুপচাপ… এই নীরবতা ভাঙতে মন চায় না?
যামিনী: (আতঙ্কিত, মাথা নিচু করে) দয়া করে স্যার, আমি শুধু আমার কাজটা করতে এসেছি।
রুদ্র: (চোখে হিংস্রতা) কাজের বাইরেও অনেক কিছু শেখা দরকার…
(আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে যামিনীর আর্তনাদ শোনা যায়।)
দৃশ্য ২: অন্ধকার গলি, ভোর
(যামিনী কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে যাচ্ছে। থেমে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায়।)
যামিনী: (স্বগতোক্তি) আমি থেমে যাব না। এই অপমানের পিছু আমি আর ফিরবো না। আমাকে নতুন করে জন্ম নিতে হবে।
দৃশ্য ৩: তিন বছর পর, "আলোকিতা" অফিস
(রুচিসম্পন্ন ঘর, নামপ্লেট: "ডাঃ যামিনী সেন")
বন্ধু সাংবাদিক: তুমি বদলে গেছো যামিনী। এখন তো অনুপ্রেরণা তুমি!
যামিনী: (নির্ভার মুখে) আমি বদলাইনি, আমায় বদলানো হয়েছে। এখন আমি অন্য নারীদেরও শেখাতে চাই—আমরা শুধু ভোগের বস্তু নই।
দৃশ্য ৪: সেই পুরনো বাড়িতে অনুষ্ঠান
(রুদ্রের পরিবার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে যামিনীর দিকে)
রুদ্রের মা: তুমি… সেই কাজের মেয়ে?
যামিনী: (হেসে) হ্যাঁ, কাজ করতাম, এখন কাজ দিই।
রুদ্র: (চোখে ভয়) তো… তুমি এখানে কী করতে এসেছো?
যামিনী: (চোখে কঠিন দৃষ্টি) যা বাকি ছিল, সেটুকু শেষ করতে।
দৃশ্য ৫: হাসপাতাল, রাত
(রুদ্র চিৎকার করছে, শরীর কাঁপছে। চিকিৎসক পুলিশকে ব্যাখ্যা দিচ্ছে)
চিকিৎসক: আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু… সে চিরতরে পুরুষত্ব হারিয়েছে।
পুলিশ: দোষীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
দৃশ্য ৬: সংবাদমাধ্যমের সামনে যামিনী
সাংবাদিক: আপনি কী বলবেন এই ঘটনায়?
যামিনী: আমি কিছু করিনি। সময়ই বিচার করেছে। আমি শুধু সময়কে পথ দেখিয়েছি।
নারী মানেই নিঃসহায় নয়। আমি যামিনী—অন্ধকারের মেয়ে নই, আমি আলো আনি।
(শেষ)
.................................
এস এম মঈনুল হক, গ্রাম: ফুলসহরী, ডাক: রমনা সেখদিঘী, মুর্শিদাবাদ।

Comments
Post a Comment