তিনটি কবিতা ।। তৃষিতা মিত্র শাওন অঝোর ঘনঘোর বর্ষা রুমঝুম রিমঝিম দিন কারা যেন ভরে তুলেছে জলের বিছেহার সন্ধে কলস নদী উত্তাল ইলিশ মাছের ঘ্রাণ নদী ছাপিয়ে তরঙ্গ লহর তুলে পৌঁছে যায় এ ঘরে সে ঘরে মাটিতে বনে বজরায় সাগরে বারিধারায় উল্লসিত বৃক্ষরাজি সবুজের শ্যামল সমারোহ আর দিকে দিকে নবপত্রের হরষগীতি দগ্ধ গ্রীষ্ম প্রখর গ্রীষ্ম রুক্ষ্ম গ্রীষ্ম তোমার তর্পণ হোক বরষা সলিলে খ্যাপা বাউলের উন্মত্ত তারের সুর স্রোত ঢেউ মিলেমিশে কী যে মোহ নিষিদ্ধ প্রলুব্ধকর ইশারা ছড়ায় ভেসে চলে জলে স্মৃতি খেয়াতরী ঠিক যেন বর্ণবিলাসী রামধনু। মুস্তাং এই কি সেই মুনল্যান্ড? বহু প্রতীক্ষিত চাঁদের পাহাড়? কে সাজাচ্ছে আমাদের সঙ্গে অবিরত এই জলের আলপনা? এই কি সেই কালীগণ্ডকী? আহা কী অপূর্ব সুদৃশ্য পাহাড়! আহা কী সুন্দর আগুনরঙা পাহাড়! মাটি মেশানো ঝুর...
ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ==================== ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ