"নোনাজলের নীরবতা" কাবেরী সুন্দরবনের ভোর মানেই পাতার ফাঁকে সূর্যের প্রথম আলো, দূরে বক–পাখির ডানা মেলা আর নদীর ওপর জমে থাকা কুয়াশার আস্তে আস্তে গলে যাওয়া। এই ভোর যেন প্রতিদিন একই থাকে— ওখানকার মানুষের চোখে তাই মনে হয়। প্রকৃতির রং বদলায় প্রতিটি ঋতুতে, কিন্তু জঙ্গল আর নদীকে ঘিরে যাদের জীবন বাঁধা, তাদের কাছে—এই ভোর যেন প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষার ডাক নিয়ে আসা। মলয়ার প্রতিদিনের ভোর এই ভাবেই শুরু হয়। পাশের ঘরে ছেলে রুদ্র আর মেয়ে মৌরী ঘুমিয়ে। স্বামী বলরাম নদীতে গেছেন রাতেই। জোয়ার নেমে যাওয়ার আগে জাল ফেলতে হয়, না হলে মাছের দেখা পাওয়া যায় না। দরিদ্র ঘরে এক ফোঁটা আয় হলেও সেটুকুর জন্য প্রাণপণ লড়াই করতে হয়। মলয়া উনুনে হাঁড়ি বসিয়ে বাতাসে চুল উড়তে দেখে ভাবে—জীবনটা কেমন যেন শুধু দৌড়। কেউ তাকে দৌড়াতে বলেছে এমন নয়, কিন্তু হাড়ে হাড়ে সে টের পায়, থেমে গেলে সব ভেঙে পড়বে। যেন থামা মানেই ডুবে যাওয়া শ্বাস নেওয়ার মতো যেন পরিশ্রম করাটাও বাধ্যতামূলক। --- ভোরের পর নদীর ধারে যাওয়ার পথটা মলয়ার চেনা। ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে টিপটিপ শিশির পড়ছে। পথ জুড়ে শেয়ালের পায়ের দাগ, কোথাও হরিণের খোঁচা মাটি। স...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...