নীল ডায়েরির গুচ্ছকবিতা চন্দ্রপলাশের গোপনপত্র তোমার পদধ্বনি এলেই পলাশগাছের ডালে জ্বলে ওঠে রক্তচাঁদের শিখা। হৃদয়বাগানের প্রতিটি শিরায় তুমি লিখে দাও স্বপ্নলিপির সোনালি আঁচড়। বৃষ্টিধ্বনি ছুঁয়ে যায় তোমার নীরবতার বারান্দা, যেখানে আমার অশ্রু জমে আছে কাচের শিশিতে। তোমার ছোঁয়া মানেই ভাঙা ঘড়ির কাঁটা আবার বেজে ওঠে সময়ের সুরে। আমার বুকের ভেতর এক অদৃশ্য নদী বয়, যার তীরে তীরে কেবল তোমার নামের নুড়ি। তুমি আসো—আর ভোরের কণ্ঠে শালিকেরা গেয়ে ওঠে গোপনপত্রের গান। এ শহরের অজানা সব রাস্তা আমাকে নিয়ে যায় তোমার দরজার সামনে। যেখানে দরজার কপাট খুললেই আকাশ হেলে পড়ে আমার কাঁধে। গোধূলিবিন্দুর আশ্রয় গোধূলির লালিমায় তোমার ছায়া মিশে যায় ধানের শিষের স্বপ্নে। হাওয়াগুলো কানে কানে বলে— তুমি আমার হারানো মন্ত্রফুল। দিগন্তের প্রান্তে পাখিদের উড়ান যেন তোমার হাসির খসড়া আকাশে লেখা। আমার প্রতিটি শ্বাসে লুকানো থাকে তোমার অজানা ছোঁয়ার তৃষ্ণা। বৃষ্টির সঙ্গীতে ভিজে যায় গলিপথ, যেখানে প্রথম তোমার হাত ধরেছিলাম। সেই মুহূর্ত যেন সময়ের তালাবদ্ধ কুঠুরি, যেখানে আমি আজও বন্দী। তুমি দূরে গেলে শহর হয়ে ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...