Skip to main content

Posts

কবিতা ।। এই মন ভালো নেই দিনে ।। সুপ্রভাত মেট্যা

এই মন ভাল নেই দিনে সুপ্রভাত মেট্যা  এই মন ভাল নেই দিনে  কোথাও কোনও রৌদ্র ফুটলে ভয় হয়!  মনে হয়, ওই বুঝি মেঘ এসে ঢেকে দিল চৈতন্য আমাদের!  আমাদের হারিয়ে যাওয়া বোধ থেকে  এই বুঝি জন্ম নিল রাক্ষুসে অন্ধকার।  সচেতন পাতা,  গাছের শাখায় শাখায় হাওয়ায় নত হয়ে, ঝুঁকে পড়লে,  দোষ তুমি কাকে দেবে বলো? এই প্রভাত, জ্ঞানের শিকড়ে বড় মাটির অভাব জানি।  জানি কিছু উর্বর মস্তিষ্কে এখনও গোবরের প্রলেপ দেওয়া আদিসারের অন্ধ কিছু বই লেখা আছে।  তোমাকে বলি শোন, অ্যাই ছেলে,  যদি আলো হতে চাও, তবে অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে  ঝুপড়ির ত্রিপল খাটানো রাতের নীচে যে সংসার পাতা আছে সেইখানে যাও।  ভাল একটা মন লুকিয়ে দেখবে সেইখানে কোনও কবির  ঘাম ও অশ্রুর ছায়ায় চুপ হয়ে আছে। ============ কবির নাম :- সুপ্রভাত মেট্যা  গ্রাম :- বলরামপুর  পোষ্ট :- জয় বলরামপুর  থানা :- তমলুক  জেলা :-পূর্ব মেদিনীপুর  পিন:- ৭২১১৩৭

কবিতা ।। জোছনা আলোর স্বপ্ন ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

জোছনা আলোর স্বপ্ন  তুষার ভট্টাচাৰ্য  যারা বেঁচে আছে হলুদ কাঁসার থালার মতন জোছনা আলার স্বপ্ন বুনে চোখে, তারা কোনওদিন খড়কুটোর মতন ভেসে যাবে না নদীর বান বন্যায় জলস্রোতে পলিমাটির ঘ্রাণ নিয়ে তারা নতুন ঘর বাঁধবেই  ; তাদের নিকোনো মাটির উঠোনজুড়ে রুপোলি রোদ্দুরে ভিজে খেলা করবে ভোরের দোয়েল, শালিক l ========== তুষার ভট্টাচাৰ্য ডাকঘর : কাশিমবাজার l বহরমপুর l জেলা : মুর্শিদাবাদ l

কবিতা ।। নিঃস্ব হবো ।। লালন চাঁদ

নিঃস্ব হবো  লালন চাঁদ তোমার জন্যে আজও স্বপ্ন কুড়োই  রোদ্দুর কুড়োই  বুকের ভেতর সাজিয়ে রাখি থৈ থৈ শীত  তুমি এলে পৌষমেলায় যাবো  নলেন গুঁড়ের মিষ্টি কিনবো  গোটা মেলাটাই কিনে নেবো তোমার জন্যে  তুমি এলে না  মেলা ভেঙে গেলো  নলেন গুঁড়ের মিষ্টি খাওয়া হলো না  মেলাটাও কেনা হলো না  ভাবতে ভাবতে আমি নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে যাই  আর মেলায় যাবো না  একাকী থাকবো  তোমার জন্যে পুড়ে পুড়ে ছাই হবো সারা জীবন  ---------------------------------------- লালন চাঁদ গ্রাম + পোস্ট = কুমারগঞ্জ।  জেলা = দক্ষিণ দিনাজপুর। -------------------------------------

কবিতা ।। ভালোলাগা  ।। আজিজ উন নেসা 

ভালোলাগা  আজিজ উন নেসা  অচকিতে আঙ্গুল ছুঁয়ে যায়  পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির হাতে.... মনে চাপা ভয় মিশ্রিত উচ্ছ্বাস চল্কে ওঠে, চোখে মুখে তরঙ্গ খেলে যায়!  জলধারা মাটির তলদেশ আর বয়ে যেতে না পেরে  শত উচ্ছ্বাসে আছড়ে পড়ে পাহাড়িয়া ঝর্না!  চোখে চোখে কিছুক্ষণের চাওয়া চায়ি... ক্ষণিকের ঘটনা আজ ও স্মৃতির পাতায়   স্নিগ্ধ কোমল স্পর্শ দিয়ে যায়, জ্বলে ওঠে এক সুগন্ধ মোমবাতি! ============== আজিজ উন নেসা ৯ সার্কাস রেঞ্জ, বেকবাগান, কোলকাতা-১৯ 

ছড়া ।। সেই ছড়াটা ।। বদ্রীনাথ পাল

সেই ছড়াটা বদ্রীনাথ পাল  একটা ছড়া মিষ্টি বড়ো যেন মধু মাখা  যায় না যে ভাই কোনোমতেই লুকিয়ে তাকে রাখা, রাখি যেথায় তাকে - মৌমাছিরা ঠিক খুঁজে নেয় বারেবারেই ডাকে। সেই ছড়াটা দুষ্টু বড়ো করে ভাঙা গড়া হাসে হাসায় কাঁদিয়ে ছাড়ে যেন রসের ঘড়া, দুঃখ ও শোক ভুলে - যাবেই যাবে নাও যদি ভাই তাকেই কোলে তুলে ! সেই ছড়াটা তরল যেন ঠিক ঝর্ণা ধারা গড়িয়ে পড়ে জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের কিরণ পারা ! পরশটি তার পেলে- সব পেয়েছির দেশটি যেন হাতের কাছেই মেলে। ==================   বদ্রীনাথ পাল  বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া,

কবিতা ।। অভিরুচি ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

অভিরুচি তীর্থঙ্কর সুমিত  জমানো কত কথা ক্রমশঃ শেষ হয়ে আসছে নীল রং কালো হতে হতে মিলিয়ে যাচ্ছে কোনো অজানা দেশে ব্যর্থতার শৈশব পরিপাক্ক যৌবন ফেলে এখন একাকী অন্ধকারে নিজেকে বদলাতে চায় তোমার সব চাওয়া ---- উদাসীনতার বিকেল আজ যাত্রা পথে শুধু রঙ বদলে যায় বদলে যায় নিজেকে চেনার অভিরুচি। ============== তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু, হুগলী  

সুশান্ত সেনের ৩টি কবিতা

১  বিশ্বাস তোমাকে বিশ্বাস করে সব কিছু ছেড়ে এসে দেখি তুমি দূর পাহাড়ের কুয়াশা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছো। তখন বিশ্বাস এর মর্যাদা রেখে দূর পাহাড়ের কাছে চলে এসে দেখি এখানেও পুরোদমে দল বদল চলছে। একজন বলে উঠলেন -  রাজনীতি ছাড়া মানুষ হয় না। তাই চাণক্যের  - কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র খুলে বসলাম এদিকে পড়তে গিয়ে দেখি বইটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা। তাই নর নরৌ নরাঃ শিখতে বসলাম। ২  এখন সুপারি গাছের ফাঁকে ঝুমকো ঝুমকো আলো  নীল আকাশে এক পশলা বৃষ্টি একটু বাতাস একটু ধুলো ওড়া নিয়ে হাইওয়ের ধারে দাঁড়াবার পর, সামনে দেখি ধুলো উড়িয়ে  চারটে মোটর সাইকেল আসছে  সামনে একটা এইচ ইউ ভি। অবতরণ করলেন দশাসই কর্মকর্তা  ল্যাংচা খাবার জন্য ল্যাংচা কুটিরের সামনে পাশে বন্দুকধারী দেহরক্ষী। মনে একটু কিন্তু কিন্তু নিয়ে  ল্যাংচা খাবার পর সিঙ্গারা খাবো কী না ভাবছি, এমন সময় পুটে কাধে হাত রেখে বলল- কি রকম দেখছেন সমাজ ব্যবস্থা ! ঝুমকো আলো, এক পশলা বৃষ্টি ধুলোর ভেতর সেঁধিয়ে গেল।  ৩  সূচিপত্র সকাল হয় দিন শুরু সূচিপত্র পড়ি,  নাম নেই নিরাশায় কেটে যায় বেলা। আবার লিখি আবা...

সুনন্দ মন্ডলের দুটি ছড়া

 সুনন্দ মন্ডলের দুটি ছড়া সবুরে রোদ ফুরোল সন্ধ্যে হল নামল আঁধার রাত। গপ্প গাথায় জমবে আসর কাটবে ভূতের সাথ। বেরিয়ে কেউ আসবে কি এই গল্পের খাঁজে? থাক না মোড়া শীতের কাঁথায় হরেকরকম সাজে। তোমার খুশি রাত জড়ানো মধুর আলাপ গুড়ে। একটুখানি বিরতি থাক মেওয়া ফলুক সবুরে।          ২  লক্ষ্মী প্যাঁচা চাষীর জমা ফসল এল  ঘরের কোণে মেলা। শীতের দুপুর নেই চড়ুই লক্ষ্মী প্যাঁচার খেলা। রাত ফুরোলে ভিজবে মাটি শিশিরে ডুববে পা। তোমার সাথেই বাঁধবে জুটি মাটির ভাঁড়ে চা! আলতো ছোঁয়া হিমেল হাওয়া  তোমার পায়ে আলতা! রঙিন হোক নতুন সকাল সঙ্গে আচার চালতা। লক্ষ্মী প্যাঁচার পায়ে পায়ে আসুক বাড়ি ধন। ফসল বেচে সোনা পাওয়া স্বপ্ন উলট পুরান। ============ কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম

গল্প ।। ব্যাঘ্ররূপী মনুষ্যভূত ।। সমীর কুমার দত্ত

  ব্যাঘ্ররূপী মনুষ্যভূত সমীর কুমার দত্ত                 জমিদার রায়বাহাদুর কন্দর্পনারায়ণের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে শরিকি সংঘর্ষের ফলে তাঁর সম্পত্তি ভগ্নদশাগ্রস্ত ভূতুড়ে সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে মামলার রায়ের দিন গুনছিলো। সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হ‌ওয়ার পর মামলাটির নিস্পত্তি হলে পাঁচ শরিকের মধ্যে নিজ নিজ অংশে রিমডেলিং,মেরামতি ইত্যাদির কাজ শুরু হলো। এমনিতেই বহুদিন  পড়ে থাকা জমিদারের নিস্তব্ধ নিঝুম বৃহৎ অট্টালিকা প্রাসাদকুক্কুটের নিরন্তর বকবকম যেন প্রাসাদটিকে রহস্যাবৃত করে তুলেছে। মেরামতির সময় ভৌতিক উপদ্রব শুরু হলো। তারা যতবার স্ব স্ব অংশের প্লাস্টার করে, পরের দিন এসে দেখে, সেই প্লাস্টার খসে পড়ে গেছে ব্যাঘ্রের থাবার চাপে। ভৌতিক উপদ্রব বলছি এইজন্য যে প্রত্যেক শরিকের দেওয়ালেই ওই এক‌ই নিদর্শন দেখা গেছে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন রাজমিস্ত্রি কাজ করছে। আর দেওয়ালে সিংহের পদচিহ্ন পড়া তো সম্ভব নয়। সম্ভব শুধু মেঝেতে। তদুপরি দু -তিন দিন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। কাজ বন্ধ হবার উপক্রম হলো। বাঘের অগুনতি পায়ের দাগ, যার ফলে প্লাস্টার খসে খসে পড...

অণুগল্প ।। শ্বেত পদ্ম ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

  শ্বেত পদ্ম  অঞ্জনা  গোড়িয়া সাউ     টিং টং রিংটা বেজে উঠল । পুষ্পিতা  এই কলটার অপেক্ষায় উৎসুক হয়ে ছিল।  "অপেক্ষা করো । আমি আসছি ।" নির্দ্বিতায় বলে, ফোনটা কেটে দিল। পুষ্পিতা আয়নার সামনে আর একবার  ভালো করে তাকাল। লাল শাড়ি ম্যাচিং ব্লাউজ আর ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক। ঠিক ঠাক লাগছে তো ?মনে মনে বলল।আয়নার অপ্রান্ত থেকে কেউ বলে উঠল , কলঙ্কিনী বধূ হতে চাও ? নাকি রাধিকা ? পুষ্পিতা একদম ভয় পেল না । তীব্র কন্ঠে বলল ,"আমি ওর বউ " হতে চলেছি। কোন অন্যায় করছি না । ছবিটা অদৃশ্য হয়ে গেল । পুষ্পিতার মাথার সিঁদুরটা আলতো করে ঢেকে দিল চুলে । হাতে  একটা স্ট্রাইলিস্ট নোয়া , এঁয়োস্ত্রীর  চিহ্ন। সকল বন্ধন মায়া মমতা মুক্ত  করে আজ সে যাবেই অয়নের কাছে । দীর্ঘ ১৫ বছর বন্দী সংসারের খাঁচায় । ওড়বার খুব ইচ্ছে সামনের  আকাশটাতে ,শিকল বাঁধা পাখি  । নিজের ইচ্ছা গুলিকে দমিয়ে রেখে ছিল এত দিন । একদিন বাজার করতে গিয়েই  আলাপ হয় অয়নের সঙ্গে । দুব্যাগ বাজার নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল ওর গায়ে। অয়নই হাতটা ধরে   তুলে ছিল । রান্নাকরা ,বাজার করা শ্বশুর...

কবিতা ।। বর্ষবরণ ।। দীনেশ সরকার

  বর্ষবরণ দীনেশ সরকার   পুরানো দিনের কালিমা কলুষ থাক সব পিছে পড়ে মনের কোণেতে বেদনার ডালি রাখবো না আর ভ'রে।   দুঃখ-আঘাত যত জমা আছে আছে যত শোক-তাপ বর্ষ শেষের বিদায় লগ্নে ধুয়ে-মুছে হোক সাফ।   ধর্মের নামে হানাহানি যত রক্তের হোলি খেলা শেষ হয়ে যাক বর্ষশেষের   শেষ প্রহরের বেলায়।   এসো-এসো-এসো, নতুন বছর তোমারে বরণ করি নতুন ঊষার নবীন কিরণে জীবনের গান ধরি।   বন্ধুর পথ হোক মসৃণ বিচ্ছেদ যাক দূরে নতুন বছরে এসো সবে আজ গাই গান একসুরে।   নতুন বছর সবার হৃদয়ে দাও ভরে ভালোবাসা নবীন আলোকে নবউচ্ছ্বাসে জাগাও নতুন আশা।   ************************** দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর---- ৭২১৩০৬  

কবিতা ।। প্রকাশিত কবিতা ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

প্রকাশিত  কবিতা আশীষ  কুমার  বিশ্বাস একটা কবিতা তাঁর ভালো লাগা, মন্দ লাগা। তারপর প্রিন্টিং প্রেস অচেনা প্রচ্ছদ তাঁর জন্ম, লিটিল ম্যাগজিন। একটা যুদ্ধ জয়  প্রকাশিত কবিতা বার বার তাঁর ওপর চোখ বোলানো। মনে কবি হওয়ার শখ জাগে  রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুল, সুকান্ত মনের গভীরে সুপ্ত বাসনা। আবার কলম-কাগজ, নির্জনে চিন্তা ভাবনার গোড়ায় শিকড় গজানো। অক্ষরে অক্ষরে, শব্দে শব্দে নতুন লাইন। আরো একটা কবিতার জন্ম । ঠিক এই ভাবেই -- আরো একটা কিংবা অন্য ভাবে আরো একটা।

ছড়া ।। নতুন বছর ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

নতুন বছর  রঞ্জন কুমার মণ্ডল নতুন বছর নতুন বছর  এসো নতুন সুরে  দুঃখ কষ্ট মনের গ্লানি  দাও সরিয়ে দূরে। নতুন বছর নতুন বছর  শান্তি আসুক ফিরে  মন খুশিতে ভরা থাকুক  কষ্টেরা যাক সরে। নতুন বছর নতুন বছর  দাও নতুন আলো ঘুচবে দ্বন্দ্ব সব ভেদাভেদ  মন্দ চিন্তা গুলো। নতুন বছর নতুন বছর  দাও শুভ সন্দেশ হিংসা বিভেদ সরে যাবে থাকবে সুখ রেশ। নতুন বছর নতুন বছর  তোমার আগমনে  বিবেকবোধ ভালোবাসায় থাকবো সবার সনে। নতুন বছর নতুন বছর  সময় চলুক হেসে  সারা বছর মন ভালো থাক সবারে ভালোবেসে। ================== রঞ্জন কুমার মণ্ডল  সারাঙ্গাবাদ, ভায়া -বজবজ  দক্ষিণ ২৪পরগণা। পিন-৭০০১৩৭.

অণুগল্প ।। কমোড ।। অরিজিৎ মল্লিক

  কমোড অরিজিৎ মল্লিক সেদিন একটা বিখ্যাত শপিং মলে গেছি পুজোর বাজার করতে। এমনিতে মাসের গ্রসারি ওখান থেকেই করি যবে উদ্বোধন হয়েছে তাই স্টাফরা বেশির ভাগই চেনা। ব্র্যান্ডেড জিন্স দেখতে গিয়েই পেট টা কামড়ে উঠলো,আজ খুব ভোগাচ্ছে। টয়লেট গিয়ে দেখি তিনটেই বুকড, নক করাও অশোভন কিন্তু বেগ যখন আবেগকে ছাড়ালো তখন করলাম নক নক!! পরপর দুটো দরজাই খুলে বেরিয়ে আসলো দুজন পরিচিত সেলসবয়, মাথা নিচু করে চলে গেলো হন্তদন্ত হয়ে। ভেতরে যেতেই বুঝলাম, জলের বিন্দুমাত্র প্রমান নেই , দুর্গন্ধহীন! তবে কি ওরা শুধুই বসতে আসে কমোডে! একটু জিরোতে! তাই তো! একটাও টুল দেখিনি উঁচুদরের মলটায়। ----------------- অরিজিৎ মল্লিক  বর্ধমান,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

কবিতা ।। হিংসুক ।। সেখ মোসলেম আলি

  হিংসুক  সেখ মোসলেম আলি  খামখেয়ালী, বেহিসাবি এটাই আমার স্বভাব। ঠোকে শিখেছি জীবনে মোর চৈতন্যের অভাব।। অবচেতনে, খুব যতনে ঠকাচ্ছে আমায় লোকে। মূর্ছিত সব, ছেড়ে ছুড়ে রব কাঁদছে আমার শোকে।। আমি তো বেশ দিব্যি আছি নেই কোনো ঝঞ্ঝাট। ওদের বুকে ঝিঁন ধরেছে তাই করে উটকাট।। হিসাব করে লাভ কি হবে? তুমিও চেষ্টা করো। পরিশ্রম আর বুদ্ধিবলে সঠিক পথটি ধরো।। ============== Adress: Sk Moslem Ali  Vill.- Jagadishpur,  P.O.- Naul,  P.S.- Shyampur, Dist.- Howrah  Pin code - 711312

ছড়া ।। কবিতা বিভ্রাট।। শান্তনু আচার্য

কবিতা বিভ্রাট   শান্তনু   আচার্য   লিখতে হবে কবিতা আমায় হঠাৎ হলো শখ ; লিখতে বসে শুধুই দেখি কমছে হাতের নখ । ভেবেছিলাম আসবে মাথায় শব্দ যত মিলিয়ে ; দেখছি এখন লেখার আগেই যাচ্ছে সব গুলিয়ে । উল্টে পাল্টে পড়লাম আমি কত কবিতার বই ; অনেক করেও নিরেট মাথায় ছন্দ আসছে কই ? খাতার পাতা ভরে লিখি হিজিবিজি সব শব্দ ; নিজের ভাষাই করেছে আজ বেজায় আমায় জব্দ । ভাবলাম কানে গুঁজে পেন, কখনো পেনসিল চিবিয়ে ; কখনো বা ঘোর সন্ধ্যেতে ঘরের আলো নিভিয়ে । এদিক ওদিক সেদিক থেকে খুঁজছি খালি ছন্দ ; অনেক পরে হতাশ হয়ে করলাম খাতা বন্ধ । এ জীবনে হলোনা আর আমার কবি হওয়া ; কবিতা লেখা কঠিন বেজায় , নয়রে   হাতের মোয়া । ....................................................... ঠিকানা : Dr. Santanu Acharya Flat no. 1C, AA 11/13, Deshbandhu nagar, Baguiati,  Kolkata 700059. .........................................................

নিবন্ধ ।। বন্ধুত্ব ।। তীর্থ মণ্ডল

বন্ধুত্ব তীর্থ মণ্ডল বন্ধুত্ব বা Friendship  এই শব্দটা এক সুন্দর ভাব প্রকাশ করে। বন্ধুত্ব সব সময় যে একই বয়স বা বয়সী কারো সাথেই হতে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।আট থেকে আশি যেকোন বয়সের সাথেই হতে পারে। বন্ধুত্বের জন‍্য কোন বয়সের সীমা নেই। আশি বছরের বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার সাথে কুড়ি বছরের বেশি বা তার থেকে কম বয়সী কোন  যুবক বা যুবতীর বা ছেলে মেয়ের মধ্যেও হতে পারে। বন্ধুত্ব স্বামী-স্ত্রীর, বাবা-মা, কাকা-  কাকী,মামা-মামী, বন্ধু-বান্ধবী, বা কোন পরিচিত,পরিচিতার মধ্যে বা হয়তো কর্মস্থলের কোন সহকর্মীর  সাথেও হতে পারে। কিন্তু ভালো বন্ধুত্ব হল জীবনের সর্বোত্তম সম্পদ, যেখানে সম্পর্কের কোন বাধা নেই, কোন চাহিদা নেই, যেখানে দুই ব্যক্তির মধ্যে মনের মিল, চিন্তা ভাবনার মিল হলেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।পরস্পর সুখ দুঃখের কথা আদান প‍্রদান বা জীবনের বিভিন্ন সমস‍্যা সমাধানের মত বিনিময় বা এ  নিয়ে আলোচনা করে মনের কষ্ট বা গ্লানি লাঘব করা, দূর করা। বন্ধুত্ব হল বিপদে আপদে বন্ধুর পাশে থেকে তার হাত শক্ত করে তার মনে সাহস দেওয়া,ভরসা দেওয়া,তাকে সবরকম ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এই বন্ধুত্ব বি...

কবিতা ।। দাসত্ব ।। বিবেকানন্দ নস্কর

দাসত্ব বিবেকানন্দ নস্কর কাঁচের টেবিলে ভেসে ওঠে মুখ মদ্যপ রাত্রি মাতালের সন্ধানে ডিনারে তোমার সান্নিধ্য। জীবনের খোলসে লেখা ছিল দাসত্ব  মৃত্যুর শিকলে বাঁধা  দাসপ্রথা এখনো লুকানো আছে। কাঁচের মতো জীবন ,ভেঙে কুচি কুচি কে কে ধরা দিল, কারা বা হারালো তিমির রাত্রি জানে সব। অন্ধকারেই খুঁজেছি রমনীর ঘ্রাণ পরকীয়া পাপে জীর্ণ রাত্রি দাসত্ব দিয়েছে তবু অনেক অনেক ভালোবাসা।

কবিতা ।। খেলা রঙ্গ ।। সমর কৃষ্ণ মন্ডল

  খেলা রঙ্গ সমর কৃষ্ণ মন্ডল রঙ্গ রসের বঙ্গে যত, কথাকলির মেলা--- কথায় কথায় বলছে সবাই জমবে এবার খেলা। হরেক খেলা হচ্ছে হেথায় জমে সবই ক্ষীর-- ফেরেপবাজির কলকাটিতে হচ্ছে শত বীর। বীরের ঠেলায় যায় যে পরাণ, দিনে রাতে ভাই আমরা সবাই প্রাণ বাঁচাতে কেবল খাবি খাই। দামের চোটে বাঁচার রসদ হচ্ছে কুলিন সব বিদ্রোহীরা তোলে আওয়াজ বাকিরা নীরব। গরিবের তো সরকার আছে, ধনীর আছে পেশা মাঝের মানুষ মুখ বুজিয়ে কেবল করে গোঁসা। গোলেমালে তাল মিলিয়ে হচ্ছে অনেক মানী রাজনীতির এই খেলা দেখে মনে প্রমাদ গুনি। মন্দ মানুষ পায় না সাজা, ভালো মানুষ জেলে মিথ্যে মামলায় জেল খাটে কেউ, অর্থবানরা বেলে। শিক্ষিত সব স্বপ্ন দেখে , চাকরি হবে ভালো--- পরীক্ষাতে লিখল বটে, রেজাল্ট ভানিস হলো। কারা-ই বা সব চাকরি পেল, কারা দেখলো খাতা-- সাদা খাতায় কেল্লাফতে, বুঝি না তার মাথা। হরেক খেলা হচ্ছে বটে, খেলার মজা কই -- খেলা-রঙ্গের ধন্দে পড়ে, সবই তা-থৈ-থৈ। ==============  

কবিতা।। মায়াজন্ম ।। নজর উল ইসলাম

  মায়াজন্ম নজর উল ইসলাম পেয়েছি জীবন পাহারায় আছি বুকের মনঘরে  স্বপ্নডানায় ওড়া এক পবিত্রতায় ঝুঁকে সংসার আমার  আঁচল বিছিয়ে পৃথিবীর খোলা নাটকের মঞ্চে দাঁড়িয়েছি কত সুর কত ঘেরাটোপ একা একা সামলে হরিণ সভ্যতায় ছায়ার মত বুক পেতে নতজানু শুধু পাওয়া না পাওয়ার কাছে ছোটবেলাকার রঙ এখন অকেজো নির্ভার কী বুঝি না মায়া সন্ধ্যের কামিনী গন্ধ ভরা তেবাসি অশ্রু দাগে বিষন্ন মগ্ন ছায়ার অনিবার্য সুতোয় যেন ঝুলছে বাঁশির সূর্যাস্তে নিভন্ত মহাজ্যোতি হারিয়ে বেয়াদব গম্ভীর মেঘমুখ আলো দিশার অন্ধকারে হারিয়ে ঠুনকো পেঁচার অনুক্ত বিদায়গ্রস্ত জাল বিবর্তনে ফলিত জয়োল্লাসের দিন শেষ, অছন্দে ছন্দ কাঁদছে কাঁপা বিরহ পোড়ামাটির স্বাক্ষরে পরাজিত মন অ-সংষ্কৃতির কদর্য বেমালুম পালিত স্পর্ধায় প্রতি মনভূমি রেখাচিত্রে অন্তহীন বিনির্মাণে স্থিত আমরা তো আরোগ্যে সান্ধ্যভাষার মুখচ্ছবি জোছনায় প্রতীক ছুঁই, পরিসর বাঁধি বিস্তর অবিনশ্বর কারও সঙ্গে যে জড়িয়ে ক্ষতচিহ্নে ইচ্ছেডানা সাজিয়ে বাস্তবতায় সেতুবন্ধন স্বপ্ন-আঁকা কত আলো নির্ভার... ============ নজর উল ইসলাম  পশ্চিম বিবিপুর, বেগমপুর, বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণ...

কবিতা ।। রক্তের স্বাদ ।। বিপ্লব নসিপুরী

  রক্তের স্বাদ বিপ্লব নসিপুরী কিছু কথা, যা সর্বদা নোংরা মনের ঘরে  ভনভন করত কুৎসিত মাছির মতো।  অগভীর মনের গভীরে পুঞ্জীভূত কথাগুচ্ছ ব্যক্ত করেছিলাম বহুদিনের আধুনিক বাহুল্যবর্জিত  অকাজের জিনিসের ভীড়ে ঠাসা কুয়োর মুখে, কালো শ্যাওলার আস্তরণে মোড়া অগভীর  কুয়োর জমাট অন্ধকারে, ধিকধিক করে  জ্বলছিল প্রাণের আলো মৃদু,অতি ক্ষীণ।  একেবারে নিশ্চুপ, নির্বাক, পরাজিত সেনার  মতো শুনেছিল বহিরজগতচ্যূত একটা কুনোব্যাঙ, দীর্ঘদেহী কোমল মতি সর্প আর একদল মশা, যারা ছিল রক্ত স্বাদ হতে একেবারে বঞ্চিত।  কুয়োটা আজ শূন্য, নির্বাপিত আলোকবিন্দু, জীবহীন জড়ের আধার আঁধারে পরিপূর্ণ।  কোমলতার খোলস ছেড়ে সর্পের আগ্রাসী  আস্ফালন, বাতাসের উদর ক্রমশ ভারী আরও  ভারী হয়ে উঠছে, পান করে বিষের বাষ্প।  সাবধান খুব সাবধান,বুভুক্ষু সর্পটা পেয়েছে  রক্তের স্বাদ,রক্তিম শোণিত ধারার স্বাদ। মিটবে না অসীম ক্ষুধা হবে রক্তশূণ্য ধরা। ============= কলমে বিপ্লব নসিপুরী  গ্রাম+পোস্ট শীতলগ্রাম জেলা বীরভূম  পিন-৭৩১২৩৭ 

কবিতা ।। জলদেবতা ।। রহিত ঘোষাল

  জলদেবতা  রহিত ঘোষাল আমাদের সম্পর্ক ঠুনকো রাতের মতো নয় দূরে যে লাল সংকেত আলোর কোলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মোহনায়  তাকে কী বলবে ঠিক করেছ কিছু  সেখানে অসীমে যাওয়ার পথ ডুবন্ত নৌকার চন্দ্রিমা                          বহমান ছায়া কাঁটাগাছ যদি জানতে চায় কী বলবে ঠিক করেছ কিছু   সাতরং সূর্যকাচ পাপবোধ লুঠ করে তারা আমাদের মতো হাঁটুজলের সাক্ষ্য দেবে না তারা দুর্গম ভালবাসতে জানেই না তাদের কী বলবে ঠিক করেছ কিছু  =============

ছড়া।। দুলের মেয়ে সৌদামিনী ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

  দুলের মেয়ে সৌদামিনী        প্রবোধ কুমার মৃধা             মাঝ নদী বরাবর জেলে ডিঙি বেয়ে।             হাল ধরে দাঁড়িয়ে সে দুলেদের মেয়ে।             নাম তার সৌদামিনী নিটোল গঠন।             চকিত নয়নে চায় কাজল বরণ।             কোমরে জড়ায়ে নিয়ে ডোরাকাটা শাড়ি।             রোদে-জলে বারোমাস স্রোতে দেয় পাড়ি।             দুটি ভাই নেপা-গোপা দিদির দোসর।             জলে জাল তোলা ফেলা করে দিনভর।             ঘরেতে পঙ্গু বাপ শুয়ে বিছানায়।             মরণের দিন গো‌নে কাঁদে যাতনায়।             সারাবেলা কাজ নিয়ে তাদের জননী।             মুখ বুজে টেনে চলে সংসারের ঘানি।             সকল...

অণুগল্প ।। বাহন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাহন মানস কুমার সেনগুপ্ত বহুদিন আগে তৎকালীন বর্ধমান ‌জেলার মেমারি ষ্টেশনে নেমে অনেক দূরবর্তী গুলটে নামে এক গ্রামে পৌঁছেছিলাম । বাসযাত্রা, ছৈ লাগানো তিন চাকার ভ্যান রিক্সা অবশেষে গরুর গাড়িতে দীর্ঘ যাত্রাশেষে পৌঁছন   গেল সেই গ্রামে। উপলক্ষ্য বন্ধুর ভাইয়ের বিয়ে। গ্রামে গিয়ে আমার মত খাস শহুরে লোকের বিয়ে দেখার অনাবিল আনন্দের অনুষঙ্গে মিশে ছিল অনেক ঘটনা। বরযাত্রী গেলাম  গ্রামের অন্ধকার মেঠো পথে গরুর গাড়িতে। বউভাতের দিন গ্রামের প্রান্তসীমায় বন্ধুর বাড়িতে আরও কয়েকজন মিলে মাদুর পেতে সংলগ্ন পুকুর ঘাটে চলছিল চা সহযোগে বৈকালিক আডডা। হঠাৎ    দেখা গেল অনেক দূরে গ্রামের মেঠোপথ ধরে ধূলো উড়িয়ে কিছু একটা ছুটে আসছে। কাছে আসতে বোঝা গেল ঘোড়সওয়ার হয়ে কেউ একজন আসছেন এদিকেই। বাড়ির কাছে আসতে আমার বন্ধুটি এগিয়ে গেল ঘোড়সওয়ারী ভদ্রলোককে অভ্যর্থনা করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যেতে। কাছ থেকে দেখলাম সযত্নে লালিত চকচকে ঘোড়াটিকে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা ঘোড়াটিকে দেখতে তখন গ্রামের মানুষের ভীড়। আমার কাছে সে এক বিস্ময়। বন্ধু আবার বাইরে এসে আডডায় যোগ দিয়ে জানাল ভদ্রলোক কনের মামা ।...

কবিতা ।। মা, বড্ড ভয় করছে ।। অশোক দাশ

মা, বড্ড ভয় করছে অশোক দাশ মা বড্ড ভয় করছে  একা একা পথ চলতে  রাস্তায় ওত পেতে থাকে যত                            হায়নার দল। মা, বড্ড ভয় করছে  সূর্যটা ডুবে গেলে আঁধার ঘনায় নিস্তব্ধ নিঝুম রাতে  ঘুম আসে না  ঘরের চারপাশে কারা যেন দাপিয়ে বেড়ায়।  ওরা হিংস্র জানোয়ার  দিদিটাকে ওরা খুবলে -খুবলে  পাশবিক অত্যাচার করে মেরে ফেললো, মা, দিদিটা এখনও বিচার পেল না  কোনদিন কি ও বিচার পাবে না ! সত্য কি উদঘাটন হবে না !! অপরাধী কি সাজা পাবেনা!!! মা জানে, মায়ের বুক কাঁপে  তবুও সস্নেহে মেয়ের পিঠে হাত রেখে প্রত্যয়ের সুরে কন্ প্রতিটি ক্রিয়ার যেমন বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে  তেমনি প্রতিবাদ প্রতিরোধও আছে  গন আন্দোলন গন জাগরণই পারে অধিকার ছিনিয়ে নিতে  বিচার আদায় করতে।  রাজপথ আলপথে ঘটবে জনবিস্ফোরণ  বাজবে যুদ্ধের দামামা। তমসার আঁধার চিরে ভোরের সূর্যোদয়  এক ফালি রোদ্দুরে ভাসবে জগত সংসার।  অশোক দাশ ভোজান, রসপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।  মোবাইল নম্ব...

কবিতা।। যৌবনের ডাক - গোপাল চন্দ্র মন্ডল

  যৌবনের ডাক গোপাল চন্দ্র মন্ডল               বসন্তে কোকিল কুহু কুহু ডাকে  সুষমা বিছানায় শুয়ে প্রেমের ছবিআঁকে । এ কোকিল ডেকে দেয় যৌবনের ডাক  মনো বীনা বেজে ওঠে বাজায় ঢাক।  অষ্টাদশী নারীর কি যে যৌবন যন্ত্রনা  যার জ্বালা সেই বোঝে পায়না সে শান্তনা।  সুষমা একমাত্র বোঝে তার কি যে জ্বালা   পরিণীতা হয় তার চেয়ে বেশী ঝালাপালা। সুষমা পরিণীতা দুজনে বেশ বন্ধু  কথা দিয়ে কথা নেয় সে যে দীনবন্ধু। সুষমা পরিণীতা দীনবন্ধু যায় স্কুলে প্রেমের গল্প করে পড়া যায় ভুলে। দুই ফুল এক মালি লাগে তাদের দ্বন্দ্ব       কে কাকে বেশি ভালোবাসে বাড়ায় ছন্দ। এযে প্রেমের মহিমা বোঝা বড়ো দায়  কে যে কাকে ল্যাং মারবে শুধু ভয় পায়। ভালোবাসা ছাড়া আর জীবনে কি আছে  প্রেম যদি ব্যর্থ হয় জীবন একেবারে মিছে। ----------------------------------------------------------    গ্রাম =   উত্তর বালুপাড়া।     পোস্ট =গোপালগঞ্জ।     জেলা =দক্ষিণ দিনাজপুর।      পিন   =৭৩৩১৪১  ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

ছোটগল্প ।। গিরগিটি ।। উত্তম চক্রবর্তী

গিরগিটি উত্তম চক্রবর্তী লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল আমার । কোথায় দেখেছি কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই সে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যায় বড় রাস্তার দিকে । আমি গলির ভিতরে যেতে যেতে চিন্তা করছিলাম কে এই লোকটা , ওকে আগে আমি কোথায় যেন দেখেছি । সন্তু ওর বাড়ির দরজাতেই দাঁড়িয়েছিল । আমি এখন ওর বাড়িতেই যাচ্ছি নোট আনতে । সন্তুকে দেখে আমি ওকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,    'হ্যাঁরে সন্তু , এইমাত্র যে লোকটা এই গলি দিয়ে বের হল , ওই যে ওই যে পিছনটা দেখা যাচ্ছে রে , ওই লোকটা কে রে , চিনিস ? কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি মনে হচ্ছে , কিন্তু মনে পড়ছে না । ' সন্তু ঘাড় উঁচু করে দেখে বলল , 'আরে ও তো আমার ছোটো মামা জগাই মণ্ডল। কাল রাতে এসেছে । তোদের কৃষ্ণ নগরের লোক । ওখানেই থাকে । নীল দলের খুব বড় একজন লিডার মানুষ । তুই হয়ত মামাকে কোন মিটিং মিছিলে দেখে থাকবি । '  আমি চুপ করে ভাবতে থাকলাম, হবে হয়ত । আমার বাড়ি কৃষ্ণ নগরে দর্জি পাড়া অঞ্চলে। কিন্তু আমি কলকাতায় মেস বাড়িতে থেকে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস সি করছি। মাসে একবার কৃষ্ণ নগরে বাড়িতে যাই। হয়ত ওনাকে দেখেছি কোথাও। সন্তুর ব...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...