Skip to main content

Posts

স্বরূপা রায়ের অণুগল্প

প্রতিশ্রুতি "কিরে শম্ভু, কেমন আছিস?" শম্ভুর পিঠে হাত চাপড়ে বললো অতুল। শম্ভু সবজি সাজাচ্ছিল বস্তা পেতে। হাত জোড় করে বললো, "এই তো দাদা, ভালো আছি।"  "ব্যবসা কেমন চলছে?" "ভালোমন্দ মিলিয়ে খারাপ চলছে না।" "দুইবেলা খেতে পাচ্ছিস?" "হ্যাঁ হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাটা তো এখনো ছোট। মায়ের দুধই খায়। তাই আমার আর বউয়ের হয়ে যায়।" "শোন, তুই আমাদের দলের দাদাকে তো চিনিস। উনি খুবই ভালো মানুষ। আগেরবার অল্প ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। এবার জিতলে আমাদের সবার অনেক সাহায্য হবে। আগামী রবিবার আমাদের মাঠে উনি একটা সভা করবেন। তুই তোর বউ-বাচ্চা নিয়ে আসবি। দুপুরে ভালো খেতেও দেবে।" "তাই নাকি?" "হ্যাঁ আসিস কিন্তু। তোদের মুখ দাদা দেখে রাখলে তবেই ভবিষ্যতে সাহায্য হবে।" "আচ্ছা দাদা, যাবো।" আট মাস পরে, শম্ভু বৃষ্টির মধ্যে ছুটতে ছুটতে এসে হাজির হলো পার্টি অফিসে। অতুল ও ওদের দলের দাদা উপস্থিত। ওই দলই এখন শাসক। "দাদা, আমার বাচ্চাটার খুব অসুখ করেছে। অনেক টাকা লাগবে সুস্থ করতে। কিছু সাহায্য করুন। নাহলে...

রীতা রায়ের রম্যরচনা

টুকিটাকি (ভোটপূর্ব কথোপকথন )              ******** ********* ********* *********       --- কী হে, দাস না কী? কতদিন বাদে দেখা, সেই যে তোমার গোপন কথাটা হয়েছিল বেফাঁস!    --- ওই এক বদোভ্যাস! যোগ বিয়োগে হিসেব খাল্লাস।    --- আজকাল করছো কী শুনি? কীভাবে কাটছে বারমাস?    --- বড় কিছু খাস নয়। করছি বুদ্ধির(( চাষ। ফসল উঠছে ভালোই, তরতাজা.. দানাদার। বেমাশুল কারবার। বাজারদর পাচ্ছি না, হচ্ছি জেরবার। মিটছে না মনের আশ, তবু করছি চাষ। জমা ফসলে লেগে যায় ঘূণ।    --- করছোটা কী শুনি, ভাগ না গুণ?    --- তেল নুন কেনা ছাড়া বাকিটা পান থেকে খসে চূণ। আর কাড়ছে রাতের ঘুম।    --- কবিতা-টবিতা, লিখছো.. না কী?    --- ওই টুকি-টাকি, অন্যের লেখা থেকে আর কী!    --- তা বেশ, বেশ। ধরা পড়ার ভয় নাই। কার ঘাড়ে কে বা খায়। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। রসদ চাই, বুঝলে ভায়া?    --- ঠেকে ঠেকে বাজছে বাঁয়া। কায়ার চেয়ে লম্বা ছায়া। নাই কারো...

রম্যরচনা : অনিরুদ্ধ সুব্রত

বাঙালির ভোট-সিন্ড্রোম -------------------------------- দিন শেষে অফিস-ক্লান্ত মধ্য চল্লিশের বাবা, বাস ট্রেনের ধকল সামলে সবে ঘরে ফিরেছেন।ক্লাস থ্রির ছেলে কাছে এসে বলল, বাবা আমরা কি টিএমসি না বিজেপি  ? প্রশ্ন শুনে বাবা পড়লেন আকাশ থেকে । মা ছেলেকে টেনে সরিয়ে নিয়ে গেলেন পড়ার ঘরে, বকাবকি করলেন না-বোঝা বিষয়ে কথা বলার জন্য । বাবা থ হয়ে বসে থাকলেন সোফায় । পরে স্ত্রীর কাছে শুনে বুঝতে পারলেন, ওটা আসলে পুল-কারের ড্রাইভার-আঙ্কেল ছেলের কাছে জানতে চেয়েছিল।             ধরুন ভদ্রলোকের নাম রতনবাবু , তো তিনি ব্যস্ত অফিস আওয়ারে সম পর্যায়ের কোলিগদের কাছে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক বার শুনেছেন, 'গ্রাম থেকে তো আসেন, তা ওদিকের ভাব ক্যামন এবার ? ক'টা পাবে ভাবছেন ?' নিরীহ নিপাট লোকটা মৃদু হেসে, না জানা ,না বোঝার ভানে পেরিয়ে যেতে চান উৎসাহী চোখ গুলোর প্রত্যাশা ।           দু'একদিন বাদে বাদেই অফিস ফেরতা পথে স্টেশনের কাছের মুদির দোকানে যেতেই হয় । ঘর সংসারের এটা ওটা নেবার ফাঁকে দোকান মালিক সামান্য অভিব্যক্তির শৈল্পিক কারুভঙ্গি করে বলেই ফে...

আবদুস সালামের কবিতা

আমাদের কোনো নিজস্ব তা নেই           (এক)      উদ্বেগের কুয়াশায় লেপ্টে আছে আমন্ত্রণ ক্লান্ত ক্লান্ত ভালো বাসা ছড়ানো সর্বত্র কামুক বাজনা বেজে ওঠে গরুর রাজত্বে গণতন্ত্র উল্লাসে মাতে অন্তপ্রাণ ভোটারদের সম্ভ্রম খোয়া যায় আমরা আমাদের ধর্ষক নির্বাচন করি  পালন করি ভোটোৎসব বিষন্নকাল প্রতিশ্রুতির  আকাশে ডানা মেলে             (দুই) আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধ করি নির্বোধ পাড়ায় রক্তহীন চোখ দ‍্যাখে আস্ফালন হাহাকার ছায়া ফ‍্যালে ,বাগদী পাড়ায় রোডশোতে নেমে পড়েছে সিনেমা সুন্দরীরদল স্বপ্ন ঈশ্বরীরা পা মিলিয়েছে সাথে( মুদের সুঁথে) রক্তাক্ত হয় চৈতন‍্যের বাগান ফিরে ফিরে আসে ভোট পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়, রাস্তায় পড়ে থাকে লাশ মিটিং মিছিলে পাড়া মহল্লা কাঁপে রোদন বিলাসী মা আমার শৃগালের সাধু উচ্চারণ শেখায়, সম্মোহিত হই নস্ট ফুলের মালা গেঁথে  সাজায় নেতাজীমূর্তি  যেদিকে তাকায় ঝুলে আছে বিষ্ময়সূচক চিহ্ন আমরা ভোট দিই আমাদের কোন নিজস্বতা নেই @@@ আবদুস সালাম  প্রয়াস ...

অমিতাভ দাসের কবিতা

গণতন্ত্রের গাড়ি ভোট অফিসার হয়ে বাড়ি থেকে বেরোবার সময় বাবা বুবুনকে কথা দিয়েছিল ফেরার সময় নতুন গাড়ি নিয়ে আসবে আর বুবুন খেলবে সারাটাদিন ধরে। রাতে শোয়ার সময় ফোনে কি সব বলছিল মা, বুবুন বোঝেনি ঠিক,শুধু শিখে নিয়েছিল স্পর্শকাতর,বুথদখল নতুন এইসব শব্দ। রাতে স্বপ্নে বুবুন দেখল একটা লাল টকটকে গাড়ি,তাতে ড্রাইভারের সিটে বসে সে বাবা মাকে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে অনেক অনেক দূর।গাড়িতে আবার লাগানো রয়েছে একটা সাইরেন। পরদিন বেলার দিকে খবর আসে বাবা একটু তাড়াতাড়ি ফিরবে,ফিরবে মর্গ ঘুরে,বুকের ঠিক যেদিকে বুবুন থাকত,সেখানে কারা যেন দু দুটো ফুঁটো করে দিয়েছে  বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসবের নেশায়। সাইরেনের শব্দে ছুট্টে দরজায় যায় বুবুন,দেখে তার বাবা ফিরেছে,সাথে গাড়ি এনেছে,কাঁচ ঢাকা গণতন্ত্রের গাড়ি!! ======================= অমিতাভ দাস 40/এ বাকসাড়া রোড,বাকসাড়া,হাওড়া - 711110

সুতপা পূততুণ্ডর কবিতা

ভোট বড় বালাই মন্ত্রীরা আজ বেস্ত বেশি উদ্বোধন আর শিলান্যাসে! পরিসেবা কোথাও নেই, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে ভাসে! ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি সব জনতার পাওনা, মিটলে ভোট সেই নেতাদের টিক্কি ছোঁয়া যায় না! বছর ঘোরে শিলান্যাসে পাথরের গায়ে ঘাস গজায়! উবে যাওয়া প্রতিশ্রুতি কর্পূরকেও হার মানায়। বোতামের গায়ে লেগে থাকে নেতা মন্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস ভোট মিটলে পরে থাকে রক্তাক্ত গণতান্ত্রিক লাশ। ইছাপুর উত্তর২৪পরগনা Sent from OPPO Mail

টুম্পা মিত্র সরকারের ছড়া

কাকাতুয়ার ছড়া . ভোট এসেছে ভোট— বলছে রামুর ছেলে, বন্ধ দোকানপাট... কাজ না হলে চলে ? . একটা ছেলে গেলো  হেসে  প্যাঁচার বাড়ি, প্যাঁচার মুখটা দেখো... রাগলে কেমন হাঁড়ি ! . দস্যি মেয়ের নাচ পড়শি দেখে চেয়ে, মেয়ের তো হুঁশ নেই, আসছে সবাই ধেয়ে ৷ . সোনা বাবুর পড়া— টেবিল জুড়ে বই, নিঝুম নীরব পাড়া, সোনা গেলেন কই ? . কাকাতুয়ার ছড়া... লাগছে মিঠে ভারি ভোট ফুরোলে দেখি মন্ত্রীরা দেন পাড়ি ৷ ————————————————————— টুম্পা মিত্র সরকার পূর্ব বর্ধমান

জয়ীতা চ্যাটার্জীর কবিতা

স্বৈরতন্ত্র নিজেরই ভেতরে রেখেছ যাকে তুমি,  বয়ে যাও মোট ভার,বয়ে যাও বুকের অলিগলি।  সেও রেখেছে বরাবর এক হাতে লোভ, আর ত্রাস রেখেছে আরেক হাতে,  তোমার ওপরে তার যত লাফালাফি, রাগের তুফান ছুটিয়ে মাঝ রাতে।  নিছক ঘরোয়া এক ভয়, হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে  দগদগে কপালের দাগে।  স্মৃতি মাত্রই দুর্বল, সম্প্রিতি কে কবে দেখেছে স্বৈরতন্ত্রের আগে।।  ------------------------------------------ Jayeeta Chatterjee Add: 22/4 R.N.T.P Bye lane Shyamnagar north 24 parganas

শুভঙ্কর দাসের কবিতা

অযুত পদধ্বনি ওঠে সূর্য যেখান থেকে ওঠে সেখান থেকে একটি কালো মাথা এগিয়ে আসে যার হাতের রেখায় কোনো অস্ত্র নেই যার পায়ের তলায় কোনো নরম কার্পেট নেই যার মুখে পড়ে না মঞ্চের হাজার কৃত্রিম আলো তাকে জেগে থাকতে হয় অসুখে,খরায়,বন্যায় অথবা যুদ্ধের দামামায় সে হেঁটে গেলে ধানখেত,সে হাত বাড়ালেই সিংহাসন টলে,সে মরে গেলে বাতাসে ছাই ওড়ে কাঁটাতার ছাড়িয়ে তার শরীরে রক্ত-মাংস ছাড়া শুধু আঁকা আছে চাকা যেটা ঘুরে, অবিরাম ঘুরে বলে,এ পৃথিবীটা জয় করার মতো সুন্দর,ভালোবাসার মতো নরম,সন্ন্যাস হওয়ার মতো ত্যাগ আর মূর্তি বানানোর মতো অহংকার জন্মায় সেই চাকা যত জোরে ছোটে আর কিছু নয়,মহাসংগীত অযুত পদধ্বনি শুধু ওঠে       ------------------------------------------ শুভঙ্কর দাস হলদিয়া পূর্ব মেদিনীপুর ৭২১৬০২ ফোন -৯৭৩২৬২৫২৮৯         

সুমিত দেবনাথের কবিতা

জবাব দিন ********** আমার মায়ের কী দোষ ছিল? বলো না আচ্ছা আপনি বলুন না? ছেলে জন্ম দেওয়া নিজের মুখে রক্ত তুলে, ছেলের মুখে দুধ তুলতে আমার মা তো কোনোদিন কিপটেমি করেনি!! কোনোদিন ভাবেনি, বড়ো করে কি হবে? কী হবে পড়িয়ে? শুধু ভেবেছে ছেলে বড় হবে.. মানুষ হবে? কি তাই না, বলুন না? সান্ত্বনা দেবেন না। আশ্বস্ত করবেন না। একদম না। শুধু উত্তর দিন। আমি উত্তর চাই.. জবাব চাই। আপনাদের মুখ থেকে শুনতে চাই.. আর কতদিন আমার মাকে এইভাবে কোলহারা.. হতে হবে?? আর কতদিন তাকে নিরুপায় হয়ে স‌ইতে হবে উঠতি বয়সের তার বুকের বাছার অসহ্য মৃত্যুযন্ত্রণা। আরে জবাব দিন। মাথা নামিয় রাখবেন না। আমার বাবা যখন সেবার ভোটের দাঙ্গায় মারা গেল .. এই আপনারাই তো এসেছিলেন? তাই না? বলেছিলেন না এসব নাকি আর আপনারা.. হতে দেবেন না। আপনাদেরকে ভোট দিতে.. বলেছিলেন। কিন্তু ক‌ই ? ভোট দিলাম এই তো আপনাদেরকে না না। আপনারা না তো। ওরা তো কালু,ভলু .. আপনারা কারা? হবেন হয়তো শালু গালু। দিয়েছিল সদ্য বিধবা আমার মা ভোটটা সেই কালুদের‌ই। এই এতটুকু আশায় যে, এরা হয়তো...... তার সদ্য পিতৃহারা ... ...

সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

।।ভোট রঙ্গ।। ভোটের আমি  ভোটের তুমি ভোট দিয়ে যায় চেনা। কে জনগন কি জনধন সব আজ যায় কেনা। কোথায় কাজ কেবল সাজ নকল বুঁদির রম্য গড়। মরুক চাষি লাশ হোক বাসি পুড়ুক খোড়ো গোলা,ঘর। ভোটের বালাই পালাই পালাই ইভিএম-এই প্রাণের টান। ভোটের আগে কি অনুরাগে প্রার্থী মুখেই করছে দান। ভোটের রণ কামড় মরণ লক্ষ্য কিন্তু জনগন। উড়ছে টাকা বুকনি ফাঁকা মনটা তবু উচাটন।। ******************* Sudipta Bandyopadhyay. 7P/ 1, Ram Road, Sarsuna, Kolkata - 700061 . Ph. 9432222463.

কুনাল গোস্বামীর কবিতা

 প্রতারক......    ঘড়িতে তখন ১.৪৫,বৈশাখের প্রখর তাপে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে তখন আগুন জ্বলছে নিখিলেশের।  কিছুক্ষণ আগে ব্যস্ত যানযট উপেক্ষা করে উন্নয়নের পদযাত্রায় সামিল হয়েছিল সে। এখন আবার কোত্থেকে একটা শবদেহ বহন করা গাড়ি হুস্ করে বেড়িয়ে গেল নিখিলেশের পাশ দিয়ে,  নীলাঞ্জনা তাকে ছেড়ে চলে গেছে আজ প্রায় পাঁচ বছর  তার প্রতারণার আগুন আর তাকে নিয়ে লেখা কবিতা গুলো সে এখনো ধারালো অস্ত্রের মতো সাথে নিয়ে ঘোরে  যদি কখনও দ্যাখা পায় কোনো যুগলের  সে তাদের মুখে ছুঁড়ে মারে দেশে এখন মহা উৎসব পালন করা হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের ব্যানার জুড়ে শুধুই অভিনেতাদের ছবি  তারই নিচে নিখিলেশ সাদা কাগজে লেখে - "আজ সে ক্ষুদার্থ, আর তার সঙ্গ দেয় জিভ বের করা এক নিরীহ কুকুর!" নীলাঞ্জনা' এখন আর নেইকো কোনো ভেদাভেদ  তোমার নামের সাথে "প্রতারক" শব্দটা আমি জুড়ে দিয়েছি আজ আমারও আঙুলের ডগায় এক ফোঁটা রক্তের ছাপ আর বুকে প্রজ্জ্বলিত প্রতিহিংসার আগুন। ---------------------------------------------------------------------     কুনাল গ...

বিশ্বজিৎ সাহুর কবিতা

                               ভূততন্ত্র                             'গণ' শব্দ শুনলেই কেন কী জানি ধর্ষকের মানে পাই              অথবা কোনো সংক্রামক ব্যাধি , খুনী                    নতুবা আত্মহনন কথন । রাগ হয় নিজস্ব আভিধানিক দ্বন্দ্বে ! লাটিম হাতে খেলতে খেলতে বড় হওয়া ছেলেটা                অ নৈতিক বক্তৃতার জৌলুসে ---             চোখের  সামনে তৈরী বন্দুকবাজ ! 'তন্ত্রে'র বিভূতি মতদানের শাস্ত্রীয় স্থিতধী ছেড়ে শস্ত্র । আহা মিছে কথা নয় --- রূপকথার গল্প শুনেছি ঢের , তারও ঢের রাক্ষস দেখি রোজ              তারা রক্তের গন্ধ নাকে শুভ্রপোশাকে সেজে                    মানুষের ...

বি.কে.স্বপনের কবিতা

ভেবে-চিন্তে ভোটটা দিও --- ---------------------------- ''রাজনীতিটা রাজার নীতি" বলতো সবাই আগে, এসব কথা শুনলে এখন বড্ড হাসি লাগে। লড়ছে ভোটে আসামীরা জেল খাটারও পরে, মাইক হাতে দিচ্ছে ভাষণ অতি উচ্চ স্বরে। ওরা নাকি দেশের জন্য দিতে পারে জানও, রাস্তা-ঘাটে শুনি কতো ওদের গুণ-গানও। ওদের হয়ে গান গাওয়াটা কতো হনুর ব্রত, চামচাগিরি করতে তারা বহায় জন-স্রোতও। ঘোর কলিকাল চলছে এখন বলছে সবাই মিথ্যে, মন্ত্রী তাদের হতেই হবে তাই তো হবে জিততে। দিকনা ভাষণ যতই ভালো সবাই ষড়যন্ত্রী, দেশসেবা তো মুখের কথা চায় যে হতে মন্ত্রী। চা-ওয়ালা আর হাওয়াই চটি আলোচনার শীর্ষে, ওরাই ভাবী প্রধানমন্ত্রী মুখে মুখে ফিরছে। থাকলে পায়ে হাওয়াই চটি পট-পটা-পট শব্দে, যায় যে বলা,  "বিয়াল্লিশে চাই বিয়াল্লিশ! --- সব দে।" উনি আবার ঘর-বিবাগী যদিও স্বঘোষিত, তবু আমরা তাঁর কথাতেই উঠি এবং বসি তো! ভিন্ দেশি এক 'ভিঞ্চি' এসে দিচ্ছেন কতো ডায়লগ, সত্যি-মিথ্যে না ভেবে তা খুশি কতো ভাইলোগ। এমনি করেই আসবে যাবে প্রতিটা নির্বাচন, ভেবে-চিন্তে ভোটটা দিয়ে দাও ওদের নির্বাসন। 'গণতন্ত্রে ব...

পারমিতা ভট্টাচার্যের কবিতা

গণতন্ত্র __________ সাপের মত আঁকাবাঁকা করে  চলেছে একটা লাইন স্কুল এর দিকে, দূর থেকে দেখলেই লাগে পোষমানা বিষদন্তএর থেকে বিষ হয়ত হয়েছে ফিকে। খেয়ালি মত্ততায় মগ্ন আজ জীবনতন্ত্র তারই দস্তখত পড়ে শুধু ভোট যন্ত্রে, সাপের মতো আঁকাবাঁকা একটা লাইন যদিও তার পাঁচ পা দেখতে পাওয়া যায়না। পাঁচ পা দেখালেই আবার একটা ক্ষতবিক্ষত দেহ, আর,অভিভাবকহীন একটা পরিবার পাওনা। তার চেয়ে ভালো পোষ মেনে থাকা, হলেও সামাজিক দৃষ্টিপাত বাঁকা প্রাণটা তো তবু বাঁচে। তাই গৃহপালিত হওয়ার অজুহাতই আজ গণতন্ত্রের মুখে সাজে।। ঠিকানা _______ পারমিতা ভট্টাচার্য পদ্মপুকুর,তারকেশ্বর কলেজ রোড তারকেশ্বর,ওয়ার্ড নও_____১০ পিন কোড__৭১২৪১০

সুজাতা মিশ্র(সুজান মিঠি)র কবিতা

ভোট-বাজার --আমুর ঘরে কারা জ্যান আগুন লাগায়ে গ্যাছে --হ হ শুনসি শুনসি। পাবি পাবি পাঁচ হাজার --ও বাবা, ও বাবা, কবেন থ্যাকে আমুর জর ইয়েছে --ই রাম, এ বুড্ডি কে লিয়ে যা তো, উ ডাক্তার বাজার। আরে শুন, তুদের ই ঘর গুলান সব পাকা হবেক আলো পাবিক জল পাবিক আর পাবিক ভাত, শুধু চুপিচুপি গ্যায়ে মারবি ছাপ, ব্যাস আর কুচু চিন্তা নাই ঘুমাইয়ে ঘুমাইয়ে কাটাইবি মেয়ে বউ লিয়ে রাত। --আমুর বউ ম্যেয়ে লিয়ে গাছতলায় প্যরে থাকি তু বুলেছিলি ভোট দিলে দিবি পাঁচ হাজার… --কি বুললি ব্যাটা হাভাতে! কুবে বুলেছি ইসব! উ দ্যাক, ও দিকে তুর  ম্যায়ের লাগি আছে শরিল-বাজার।             -------------

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া

হুলোরাজ সুখে ছিল হুলো মেনি চারখানা ছানা একজন কুঁড়ে অতি কেজো তিনখানা। ভাই বোন রোজগার করে যাই আনত কুঁড়ে ভাই তার থেকে বেশিটাই টানত। মা বাবা বকে ঝকে          পাঠালেই বাইরে ছেলে ঠিক ঘুমোবার খুঁজে নেয় ঠাঁই রে। খেয়ে দেয়ে ঘুম দিয়ে ছোট্ট দেহটা ক্ষীণ মোটা থেকে মোটাতর হয়ে চলে দিন দিন। রোজগেরে ভাইবোন চোর বলে পরিচয় গেরস্ত দেয় হুড়ো খিল দেয় দরজায়। লাঠি হাতে করে তাড়া গাল দেয় ছোঁড়ে ঢিল ছিঁচকেমি সোজা নয় বড় হ্যাপা মুশকিল। ইঁদুরও তো কতবার থাবা থেকে ফস্কায় তার পিছু নিয়ে ধরা কী জ্বালা কী যে দায়! তার চেয়ে কুঁড়ে ভাই আছে তোফা বেশ তো ঘাড়ে বসে খেয়ে নেতা চালাবে সে দেশ তো!   ================ Sriparna Bandyopadhyay, Flat 3, Jagadish Apartment, 26 J. K. Chatterjee Road, Sodepur, Kolkata 700110 Mobile: 9007511457, 9331084639. Email: sriparna405@gmail.com প্রিয় নিরাশাহরণ, নতুন করে গদ্য পেরে উঠলাম না। এই ছড়াটি মনে হয় জুতসই হবে। শুভেচ্ছা  শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

নিসর্গ নির্যাসের কবিতা

      টোপ এক সামিয়ানার নীচে শত সারি পাত পড়ে জ্বলজ্বলে চোখে- পেট ভরা তৃপ্তি এক সাথে হাত চলে। সম্প্রীতি বা মিড্-ডে মিল না। ওরা শিকার। নানা রঙ- নানা তাঁবু। একই জমায়েত। ভোট হয়- সভা জমে ভুখা নিয়ে রাজনীতি ছকে।  ====================

সৌরভ ঘোষের কবিতা

একমুখী যুদ্ধ নুন আর চুন মিলে মিশে সাদাকার ফুটফাট শব্দ নিরাশ,  ক্লিন্ন হাহাকার... জড়ি পাড় রাত,ঝলমলে জামদানী পশমের সোয়েটারে মশা,লাল আম-আদমি...    যাপনের ক্ষেত, চাষির হাতে বে-হাল, ভুল করে কেটে ফেলে কুমির আনার খাল... বৃংহতি শালিকের ঠোঁটে জঙ্গী বিমান, লাইট হাউস ফাঁকা ফেলে রক্ষীর তীর্থ ভ্রমণ। গল্প ছাই অনু হয়ে বাতাসে উড়ছে,  ঢিলেমিতে প্রতিদিন প্রতিবাদ মরছে... নিজের নগরী নিজেই জিতেছে রাজা ক্যানেস্তারা পেটো,বিয়োগে মেলাও হাতে রাখো দুটো মজা। কানাকানি একেবারে নয়  বজায় থাকুক ট্রাডিশন কোটি কোটি ধৃত - রাষ্ট্র বাঁচুক...  জন্ম নিক শয়তান ...  সুদর্শন চক্র ছদ্দবেশে মেঘারোহী, খনিতে একমুখী যুদ্ধরীতি ...     ==================== Sourav Ghosh মুন্সিরহাট, হাওড়া

দেবপ্রসাদ মুখার্জীর কবিতা

ভোট পরব উদিন আমাদে গাঁয়ে হৈ হৈ পরব সিনামার ইস্টার আইছিল ভোট মাগত্যে আমাদে কাছে সাদা ফটফট্যা জামা , কপালে লাল টিক লিয়ে এলেক গোটা গাঁটা ঘুরলেক চালখুলা মটরে চাপেএ  আমার ব্যাটাটা বললেক  মা দ্যাখ দ্যাখ ই লোকটা সিদিন গুন্ডাগুলার কাছে মার খায়েও কমন পিটালেক ভিলেনটাকে , দুয়ারে দুয়ারে দাঁড়ায়ে ভোট মাগছিল ইস্টার বাবু  তারপর থেকয়ে আর আসেনাই কত কুড়ি দিন কাট্যে গেল উদিন থিক্যে ভোট পরব হল্য , ইস্টার ভোটে জিতলঅ , আমাদে জুয়ান ছিলাগুলা লাল মদ খায়ে রং মাখ্যে নাচলঅ , ঘরে ঘরে বাতাসা দিলঅ কদিন পরে সবাই ভুলয়ে গেল ভোটের পরব  শুধু ভুলিনাই মুই বাবলু সরেনের ভাতারখাগী মা দুলি সরেন , আমার কলের ব্যাটাট ভোট পরবের দিনেএ গুলি খায়ে মরেছিলঅ কুনু পাটি করতক নাই তাও মরেএ গেল ব্যাটাট ভোট পরবের দিনেএ ।

কান্তিলাল দাসের কবিতা

আমজনতা গেছেই বুঝে         চাইছে সবাই দেশের ভালো দশের ভালো করতে ভোটটি এলেই ভোটবাবুরা চলেন ভোটার ধরতে ! 'ও-দল বড় সাম্প্রদায়িক দাদা ওদের ভোটটি নয় আমরা হলাম আগমার্কা দাদা জানেন সে নিশ্চয় !' 'ওরা দাদা কী চোর কী চোর চিহ্নে ওদের দিলেই ছাপ জিতলে পরে সরকারি সব টাকা জানেন করবে গাপ !' 'ওদের দেখুন কি বিধায়ক কি সাংসদে গুছোচ্ছে কেমন ছিল কেমন হলো পাবলিকে সব কুঁচোচ্ছে !' যাচ্ছে চলে ভদ্রভাষা ইতর ভাষার আমদানি চক্ষুচড়ক আমজনতার হালে কী কেউ পাই পানি ! নেতার যত উস্কানিতে পাড়ায় পাড়ায় বিভেদ জোর আনবে ভালো বদল কে যে খুঁজতে হবে কম কে চোর ! গণতন্ত্র কাঁপছে ভয়ে কে দেবে আজ ঠাঁই আমায় যুদ্ধ চলে ছলে বলে রায় করা চাই ঠিক আদায় ! আমজনতা গেছেই বুঝে পাঁচটি বছর শুষবে যে ভোট দিয়ে তো আনব তাকে গদির পরে ফুঁসবে যে ! ................... কান্তিলাল দাস বেলতলা লেন (সাধুখাঁ মাঠ) ডাক : সিঙ্গুর জেলা : হুগলি

অসীম মাহাতর আঞ্চলিক কবিতা

    'পচার '                    বলি হেঁ গো নেপালের মাই  ঠিক তুখন কটা বইলব, তবে হঁ মাথার উপরে সূজ্জি ঠাকুর ছিল বইসে । হামি মাঠে কাম করইতে ছিলি  তদের গাঁয়ে হুর হুর গাড়ি ঢুইকলঅ , আর মাথায়-মুখে বাঁধা ছিল কাপড় দমে জোর জোর চেঁচাঁতে ছিল  বইলছে ধূর হাঁটাও-জিন্দাবাদ । কদাল ছাইড়ে ঘরের দিকে দিলি ছুঁইটে  বউ ছানাপুনাকে লুকাতে । ভাগ্যিস ভগবানের দয়ায় হামাদের দিকে,  যায় নাই বাছা । গেলে মনে হয় মইরেই যাথি গো । দূর বোকা হাড়াম, অরা অন্য কেউ লয়  তবে কারা বইঠল - ভোট মাঁইগতে অ্যাইসে ছিল  আমি ভাবলি পেছুরদিন ঘুইরে অ্যাইল । হরি হে তবেই বলে  টুকু লেখাপড়া শিখবি, ইস্কুল যাবি ।                 ----

অমিত পাটোয়ারীর কবিতা

      ভোট এরপর সবকিছু নিশ্চুপ হয়ে যাবে শঙ্খ লাগা অজগর দুটো কোলকাতার রাস্তাঘাটে ছুটবে বাধাবন্ধনহীন। ওদের পেটের মধ্যে ধরা যাক , শেষের দিকের কোনো জানালায় বসে আমরা লিফলেট নিয়ে বানাবো এরোপ্লেন। এরপর ময়দানে নিজস্ব তাঁবু টাঙিয়ে সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে পুলিশের তাড়া খাবো কেননা আমাদের ভুলে যাবার পারমিট নেই। মাঝরাতে পাড়ার মেয়েটাকে খালপাড়ে নগ্ন পাওয়া গেলে মুখ বুজে অপেক্ষা করবো। শেষদফা এবং ফলাফল বেরিয়ে গেলে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই! বেশ কিছু শ্মশানচুল্লি আগাম ফাঁকা রাখবো বেশ কিছু তুলো , ধুপ , সাদা ফুল... আমাদের কাকা , জ্যাঠা , ভেড়া পিসি , বিল্টু... সবাইকে নিয়ে চলে যাবো একটি নিবিড় নির্বাচনহীন স্যাংচুয়ারিতে। আমরা বনভোজন করবো ততদিন , যতদিন না ভারতবর্ষে শীতকাল আসে।

কোয়েলী ঘোষের কবিতা

ভোটযুদ্ধ সভ্যতার নিচে জমছে অন্ধকার আর ভয় জানি না এ যুদ্ধে কার জিৎ ,কার হবে জয় । হাওয়ায় হাওয়ায় খবর ওড়ে মিডিয়ায় ভোট যুদ্ধ আসে ,নিরীহের জীবন চলে যায় । অস্ত্র -শস্ত্র মজুত তাক করা বন্দুকের নল শক্তিমানের আছে দলবল আর বাহুবল । অ্যাসিডের জ্বালায় গলা বুক জ্বলে যায় শান্তিপূর্ণ ভোট , শুধু খবর বলে যায় --- দরজা জানলা এঁটে তাই ঘুমিয়েছে পাড়া ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে থাকে জাগে না আর তারা । দুর্দিন তবু বসে থাকে সুদিনের আশায় নির্ভয় কলম জাগে ভবিষ্যৎ ভাবনায় ।

মানবেশ মিদ্দার কবিতা

ভোট নিয়ে যা 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়' মাটির মানুষ কৃষক ভাই, চাষের কাজে টাকা চাই? ইঁটের পাকা বাড়ি পাবে, ছবি চীনে ভোটটা দেবে, ঋণ মুকুব, কৃষক ভাতা, সবই পাবে জুতো, ছাতা। দুখের দিন দেখবে কেমন ধুয়ে মুছে যায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' লেবার মানুষ শ্রমিক ভাই স্বাস্থ্য বীমা তোমার চাই? কারখানার বন্ধ তালা ভোটের পরেই হবে খোলা, হিসেব নতুন, বেতন পাবে পুজোয় ডবল বোনাস দেবে। আমরা থাকি মাটির কাছে, মাটি ভোলা যায়? 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' দেশের যত টাকার খনি, গরীব মেরে মালিক ধনী। জীবন বিমায় চিটিং বাজি, জেলে যাবে সকল পাজি, ভোটের ভোগে নকুল দানা, মিলতে পারে মিষ্টি ছানা, সুখের দিন নয়তো দূরে, বেলা বয়ে যায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার যায়।' সবার জন্য চাকরি আছে, এক্কেবারে ঘরের কাছে, অভাব কিছু থাকবে না আর সবাই পাবে সঠিক বিচার, জল আলো বাতাস দেবো, শুধু কেবল ভোটটা নেবো, আর তোমাদের কি চাই বলো, আমরা অপেক্ষায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' চপের দোকান, চায়ের দোকান, করতে আছে লোনের যোগান, নাচের, গান...

চন্দন মিত্রর কবিতা

উলু-খাগড়ার ছড়া উলু এবং খাগড়া দুটি ভাই মানিকজোড়ের মতন ঘোরে ফেরে --- এমন মিল তুলনা যার নাই গাঁয়ের সবাই বলেন কণ্ঠ ছেড়ে হঠাৎ হল ভীষণ যুদ্ধ শুরু রাজায় রাজায় রাজ্য জয়ের লড়াই যোদ্ধা ছোটে বক্ষ দুরু দুরু জিতব আমরা করল মুখে বড়াই উলু এবং খাগড়া কৌতূহলে দেখতে গেল লড়াই মাঠের ধারে রাজার সেপাই যুদ্ধ জেতার ছলে কোপ বসাল দুইটি ভায়ের ঘাড়ে ... ===================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সূচক --- ৭৪৩৩৩১ চলভাষ --- ৯৩৩২৩৫৮৭৪৭   

সজল কুমার টিকাদারের কবিতা

ভোট চারিদিকে থম থম।শুধু ভারী বুটের আওয়াজ। দারিদ্র্য অধ্যুষিত। ছোট ছোট মাটির বাড়িরা প্রাণহীন। পোষ্যটা সকাল থেকে আম গাছটায়  শুকনো মুখে বাঁধা। রাজনৈতিক উত্তেজনায় গতকাল খুন--এক; রক্তের দাগ এখনও! নিতান্ত সাধারণ।খেটে খাওয়া। কিন্তু আগুন কি এই সব মানে? চারিদিকে তুমুল উত্তেজনা তখন বিন্নি ধানের খই... সকাল ঠেলে বেরিয়ে এসেছিল হতভাগা এই তপ্ত দুপুরের মাঝখানে। খুট করে একটা শব্দ। বুকে তিন ইঞ্চি গর্ত,  রক্ত... গতকাল ভোট ছিল এইখানে। ----------------------------------------------------------- সজল কুমার টিকাদার আরামবাগ,হুগলি পিন-৭১২৬০১. ফোন-৯৭৩২৮১৫৩৯৯.

মোনালিসা পাহাড়ীর আঞ্চলিক কবিতা

ভোট ভোট আইনে দিকে দিকে মিটিং মিছিল হয়, নেতামনে লম্বা চওড়া কত্ত কথা কয়। তুমার আমার সামনে দাঁড়ায় দুহাত জোড় করি, ভিখারি যমন ভিখ মাগে হাতে বাটি ধরি। তুমানেবিত গলি গেল, দিদিল সব ভোট, কত আশার স্বপ্ন দেখল হই কি এক জোট। দুঃখের দিন ঘুঁচি যাবে ঠকবনি আর মোটে, নতুন নেতা রাখবে কথা জিতনে এবার ভোটে। তারপর ত ভোট হিগেলা, জিতলা বি সৌ নেতা, বিশাল বড় পদ বি পাইলা হইলা কেউকেটা। বড় বড় গাড়ি চড়লা উড়িই রাস্তার ধুলা, মোন্নাকে আর চিনলানি ত , সব যেন ভুলভুলা। তুমানে রইল অন্ধকারে তাকে আলো দিকি, সে অখন চোখ রাঙায়টে অতীত ভুলিকি। অমনু সব বেইমানিয়ে ভরিচে গোটা দেশটা, কে জানে বাবু, কবে যে হবে, এ নৈরাজ্যের শেষটা!! ================================= মোনালিসা পাহাড়ী প্রযত্নে- চন্দন দাস মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭২১৪৫১ ফোন- 9635269527

সায়ন তরফদারের কবিতা

যারা ভোট দেয় আধার কার্ড নিজেকে চেনায় ভোটার কার্ড অধিকার কে নির্বাচন চেনায় শাসক। পাঁচটি বছর কেটে গেল আবার হবে নির্বাচন আসবে এবার কে? মুঘল নাকি অশোক? আবার হবে যুদ্ধ, মরবে হাজার মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে                   দাঁড়িয়ে মানুষ আবার ভোট দেবে। মিথ্যে প্রতিশ্রুতিকে সত্যি ভেবে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে                    মানুষ আবার বোকা হবে। ============================= SAYAN TARAFDAR (সায়ন তরফদার) Phone:- 9123079092                                           

দুলাল সুরের কবিতা

বন্ধুত্ব জিন্দাবাদ            বিবেক ও বরকতের সখ্যতা ভীষণ একই পাড়ায় থাকে একই আত্মার অভিন্ন হৃদয় গা শুদ্ধু লোক জানে। ভোটের বাদ্যি বাজলে পরে নেতাদের মনভোলানো প্রতিশ্রুতি'তে লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ, তর্কযুদ্ধে ওদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। বেকার আর থাকবে না কেউ নাম লেখাও প্রার্থীর সমর্থনে ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে নিশ্চিত তুমি চাকরী পাবে সর্বাগ্রে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কমবে মূল্য ঘরে ঘরে বিজলীবাতির জ্বলবে আলো ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাটে চলবে মোটরগাড়ি মানবের হিতার্থে নতুন সরকার সদা থাকবে প্রহরারত। ছলাকলা ও প্রলোভনের রণকৌশলে   বিবেক-বরকতের বিভেদ পৌছায় চরমে জেতানর জন্য জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করে ভিন্ন দলে নাম লিখিয়ে খাটে প্রার্থীর সমর্থনে । ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে, নেতারা সব নতুন সরকার গড়ে প্রতিশ্রুতি'র চাকরীর আশায় ওঁরা নেতাদের দোরে দোরে ঘোরে দিন যায়, বছর যায়, ক্রোধ, হতাশা গ্রাস করে চাকুরী তো দূর অস্ত, নেতারা ওদের চিনতে নাহি পারে । আশাহত হয়ে দুই বন্ধু ফের আসে কাছাকাছি নেতারা...

পল্লব দাসের কবিতা

ভোটার সময় এলো আর গেল কথাই দিয়েছে সবাই লোকারণ্য কমলে সব কথা হাওয়ায় । সামনে এসে গড়িয়ে পড়লে সান্ত্বনা দিয়ে খবর হয়েছে খাস কাজের কাজ হয় নি শহরজুড়ে ঝুলছে সব মাথা কাটা লাশ । সব বড় বড় কথা গণতান্ত্রিক অধিকার এসবে কিছু হবে না শুধু তৈরি হবে নতুন নতুন ভোটার ।                                

তপন কুমার মাজির কবিতা

   প্রতিবাদী কণ্ঠের বিষম ঘায়ে উপর ওয়ালার আস্কারায় গুণ্ডারা এসেছে প্রকাশ্য পথে, দস্তুরমতো সুরক্ষিত করা হয়েছে তাদেরকে অন্ধকার জগতে ! ভোট নামক লোকদেখানো একটি ব্যবস্থায় জনগণকে  বানানো হয়েছে বোকাযন্ত্র, প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো গড়ের মাঠে গড়াগড়ি খাবে  গণতন্ত্র...! অতীতে যেমন কেঁদেছিল সে অসহায়ে ভবিষ্যতেও কাঁদবে তেমনই, বুক চিতিয়ে করবে চিৎকার-- খবর নেওয়ার সময় হয়তো হবে না কারোরই ! গোবর-গনেশরা নাচবে-গাইবে  হবে মাতোয়ারা-- কালের কাকাতুয়ারা কোরাসে সুর মিলিয়ে  হবে আত্মহারা ! হাততালি দেবে দু'মুখো দোঁহারী, হাতকাটা ঠুঁটোরা বলবে বলিহারি... এমনিভাবেই আমাদেরকে মুখে কুলুপ দিয়ে দেখতে হবে  আরোও কতদিন  ঠিক জানে না এই মন, তবে নাকে দড়ি দিয়ে অন্ধকারবাসীকে একদিন  টেনে আনবেই আনবে প্রকাশ্য রাস্তায়,  সচেতন জনগণ  ক্ষমতার গর্বে গর্বিত মুকুটকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে, চাবুকরূপ প্রতিবাদী কণ্ঠের বিষম ঘায়ে...! ----------------------------------------------------- তপন কুমার মাজি কোর্টমোড়, আসানসোল ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬