Skip to main content

Posts

দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ।। বিপ্লব গোস্বামী

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক।উনবিংশ শতকের  ভারতীয় রক্ষণশীল সমাজের গোঁড়ামিকে তোয়াক্কা না করে  চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত হয়ে নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। তিনি যে শুধু  দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক তা নয়।তিনি ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রী অর্জনকারী দুজনের মধ‍্যে একজন।         কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জন্ম ১৮৬১ সালে বিহারের ভাগলপুরে।তাঁর পৈর্তৃক বাসস্থান বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের চাঁদসি গ্ৰামে।তাঁর পিতা ব্রজকিশোর বসু ছিলেন পেশায় একজন শিক্ষক।তিনি বিহারের ভাগলপুর  বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।তিনি চাকুরী সূত্রে ভাগলপুরে থাকতেন।সেখানেই কাদম্বিনীর জন্ম।          কাদম্বিনীর বাবা ব্রজকিশোর ছিলেন নারীশিক্ষা আন্দোলনের সমর্থক।তিনি ও অভয়চরণ মল্লিক ভাগলপুরে মহিলাদের অধিকারের জন‍্য আন্দোলন করেছেন।তারা ভগলপুরে নারীদের অধিকার আদায়ের জন‍্য মহিলা সমিতি স্থাপন করেছিলেন।তিনি চেয়েছিলেন নিজের মেয়েকে পড়িয়ে উচ্ছ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন ।এই স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাদম্...

কবিতা ।। চাইছি তোমায় স্বাধীনতা ।। মহুয়া বসু সিনহা

অকাল রক্তস্রোতের শুকিয়ে  যাওয়া  দাগ বুকে, পত্পত্ করে উড়ছে একটি  স্বাধীন  পতাকা । তবুও, লঙ্কাক্ষেতের জ্বালাধরা দুটো হাত চকখড়ির স্বপ্ন  হাতড়ায়, ইঁটভাটার  পিচ্ছিল  কাদায় অলিখিত  রয়ে যায় গোল্লাছুটের স্বাধীনতা । পুরুষালি  রঙীন ঠোঁটদুটোর আকাশ  ছড়ানো  রামধনু ইচ্ছে ;ঘরের আয়না-গারদে বন্দী। সহবাস বন্দী রমণীয় শরীরে লেখা হয় না, "না"এর প্রতিশ্রুতি। নরখাদকের খাবলে নগ্ন ক্ষতগুলো আজও খুঁজে ফেরে দ্রৌপদীর বস্ত্র। হাতের নিঃসঙ্গ শিরা উপশিরায় ;একটু উষ্ণতার খোঁজ । কোন  এক স্বাধীন  দেশে গরাদবন্দী শব্দেরা, আজও তোমায় খুঁজে ফেরে "স্বাধীনতা ।"

কবিতা || অধীনতামূলক || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

পরাধীনতার সংজ্ঞা লেখার জন্য করোনাদগ্ধ শিশুমুখ দেখি ভেসে ওঠে জলবন্দি মানুষের অসহায় জীবন বেহুলার ভেলা রাস্তায় পা দিলেই ওরা বলে, এ তোমার নয়, সাবধান! খাঁচার পাখির কাছে শিখেছি স্বাধীনতার মানে আকাশ মানে মুক্তি বাতাস মানে সম্পদ সবুজ মানে প্রাণ জল মানে উদারতা আগুন মানে উদাত্ত বিবেক পাখি হতে চেয়ে শিখি ভাষার কৌশল ওরা বলে স্বপ্ন দেখা বারণ তবু মন মানে না স্বাধীনতার স্বপ্নে অজস্র ফাঁকি ফায়ারিং স্কোয়াডের ঝাঁঝরা দেহ খেরোর খাতার রক্ষাকবচ যাদের স্বেচ্ছাচারের লাইসেন্স দেয় সেইসব রাক্ষসের খিদে এখনো তো লুটে চলে খাদ্য জল সঞ্জীবনী সুখ অধীনতামূলক মিত্রতার কূটনীতি অজস্র ক্রীতদাস তৈরির কারখানা অনুমতি ছাড়া শ্বাস কাশ নিদ্রা মৈথুন সব বন্দি কিছু ধারার শিকলে দুশ্ছেদ্য শিকল ================= জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২ কথা : ৭০০১৪৫৬৭২১/৯৭৩২২৩৭৬০৮ ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com  

অধিনায়ক হে... ।। জগবন্ধু হালদার

  আজব হুন্ডি কোনো অদৃশ্য ইশারায় টিকি ধরে টেনে লাইনে ফ্যালে রোজ দুর্যোগে টাল সামলানো দায় কে রাখে হেরো দেইজির খোঁজ । প্রতিবেশী হাঁকে, হাসেও সঠিক মাপে লাগাম, লাটাই হাতে মাতব্বর ঘোরে দুয়ারে রেশন অঢেল সুখ-এক লাফে , স্বার্থক স্বাধীনতা -- পঁচাত্তরে ! ঋণ বাড়ে, সাঁঙোড় যাচ্ছে ডুবে জানি  খিদে আর জেদে অহর্নিশ ঘেমে তড়পা ধরেই তবু প্রাণপণ টানি নইলে গোহারা এই হুড়োহুড়ি গেমে । জীবন দু'বেলা পোড়া লঙ্কা দিয়ে মেড়ে কালের নামতা শেখায় অনটনে ঠুকে তবু  ত্যালতেলে বাঁকা পথ ছেড়ে  পা রাখি সোজা, মেটে রাস্তার বুকে । পেশির পাওয়ারে পিলে নিত্য চমকায়, দেশের গব্বে তবু মাটি মেখে দেহে হাভাতের পাল পাঁজরা চেপে গায়-- জনগণমন অধিনায়ক হে ।। ------------------ 

কবিতা ।। স্বাধীনতার স্বাদ ।। নীলমাধব প্রামাণিক

  স্বাধীনতা কে কতোটা পাবেন ভাগে তার ঠিক করে দেন উদাত্ত সরকার । ঠিক করে দেন স্বাধীনতার মানে তবুও আগস্ট উন্মাদনা জাগায় মনে প্রাণে । উদযাপনের কুচকাওয়াজে যখন মাতে দেশ অনেক যাপন ছন্দ হারায় অবদান বিদ্বেষ । জনমনে দেশাত্মবোধ চাগাড় দিয়ে ওঠে স্বাধীনতার মাপকাঠিতে স্বেচ্ছাচারি ছোটে । সবাই কি পায় স্বাধীনতার স্বাদ এ মুলুকের অনেকে যায় তালিকা থেকে বাদ । যদিও স্বাধীন ভেবেই খুঁজি স্বাধীনতার সুখ লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে আছে বিষন্নতার মুখ । উপনিবেশিক মনন ছেয়ে রয়েছে চারপাশে স্বাধীনতা ধাক্কা খেয়ে হাসে । তাদের লোলুপ হাতের নিপুণ কারুকাজ দেখছে চেয়ে বিপন্ন সমাজ ।   =======০০০======   নীলমাধব প্রামাণিক মাধবনগর, ডাক -পূর্ব চাঁদপুর, মন্দির বাজার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পিন -743336 পশ্চিমবঙ্গ, ভারত মোবাইল +হোয়াটসআপ -8345992776  

কবিতা ।। বীরাঙ্গনা ।। সোমা চক্রবর্তী

  যুদ্ধের ডাক এসেছিল। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার শিকল টেনে নিয়ে গেছে তোমাকে। আমি আছি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে ধানের ক্ষেতের পাশে, জোনাক-জ্বলা রাতে টিমটিমে প্রদীপ জ্বলা এক স্তব্ধ জনপদে। তোমার মা এখানে খোলা উঠোনে বসে আকাশ আর বাতাস জুড়ে  তার অনুভূতির চাদর বিছিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে বলে- " ও বৌমা, কেন যুদ্ধ করে ওরা?" এখানে যুদ্ধের দামামা এসে পৌঁছায় না। বাতাসে পোড়া বারুদের ভারী গন্ধ নেই। এখানকার বাতাস জুড়ে ভাত সেদ্ধ হবার গন্ধ। আর গভীর রাতে দমকা হাওয়ায় হয়তো বা বেলফুলের গন্ধ অথবা হাস্নুহানা... সেই যখন এমনই কোনো গভীর রাতে তুমি আমার চুলে সাজিয়ে দিতে গোলাপ! সুরভিত স্বপ্নের মাধুরীর ভিতর আমি অনুভব করতাম ইন্দ্রিয়াতীত আকিঞ্চন তোমার! আজও তেমনি আকিঞ্চনের রাত! তেমনি আমার বুকের মধ্যে.... তুমি নয়। তোমার শৈশব। তোমার স্বপ্ন... আমার হৃদয় জুড়ে। সে তার ছোট ছোট মুঠিতে চেপে ধরে আমার আঁচল। আমার বুকের থেকে সে টেনে নেয় মমতা। আমার কোলে একরাশ জুঁইফুলে গড়া যেন তোমার স্বপ্ন। তার ঠাকুমা বলে, সে তোমার মতো। আর কাকা বলে, "কক্ষনো নয়, আমার মতো।" আর আমার 'তুলসীমালা' সই- সে চুপি চুপি...

আমার চোখে স্বাধীনতা দিবস ।। দীপঙ্কর বেরা

অন্য দিনের তুলনায় এই দিনে আমি একটা নিজস্ব মাত্রা পাই। স্কুল জীবনে এই দিনে আমি প্রথম প্রার্থনা হলে সবার সামনে 'চিত্ত যেথা ভয় উচ্চ যেথা শির' আবৃত্তি করার সুযোগ পাই। সেদিন স্বাধীনতা কি অতটা বুঝতে না পারলেও বুকে একটা আলাদা অনুভূতি টের পাই। স্কুলে আমার কিছুটা হলেও মর্যাদা বেড়ে যায়। বাড়িতেও আমি একটা নিজস্ব খুঁজে পাই। এ তো গেল সেদিনকার স্বাধীন অনুভূতি।           আমাদের মত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার যোগাড়ে যেখানে সারাদিন কেটে যায় সেখানে কি স্বাধীনতা, কোথায় স্বাধীনতা, কেন স্বাধীনতা এসব ভাবার অবকাশ থাকে না। দু চার দানা খাওয়ার পেলেই টান টান হয়ে যেখানে হোক শোয়া আর ঘুম। ব্যাস, আর কিছু চাই না। তার মাঝে আমি দেখেছি বাবা মা দাদা দিদি পাড়া প্রতিবেশী সবার কাছে আমি আমার সীমানায় যা চেয়েছি পেয়েছি, যা দিতে চেয়েছি তাও পেরেছি, যা অর্জন করার মত হওয়া উচিত তাও হয়েছি। সেই তো আমার স্বাধীনতা।      যদি নিজের ইচ্ছে, নিজের চাহিদার মাপকাঠি তৈরি করতে পারি তাহলে কোন কিছুই পাওয়া দেওয়া বা ভাগ করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হয় না।      কিন্তু আমরা ক...

কবিতা ।। স্বাধীনতা মানে ।। দেবশ্রী সরকার বিশ্বাস

  স্বাধীনতা মানে শুধুই এলোমেলো হওয়ায় তিরঙ্গার ওড়াউড়ি নয়! বন্দেমাতরম ধ্বনি তুলে কথার ফুলঝুরিতে, কান ফাটানো কারতালির গুঞ্জন তোলা নয়! খাঁচায় বন্দি পাখিটার আকাশে ডানা মেলার- মুক্তির স্বাদই স্বাধীনতা, এক দল কিশোরের জলকেলির উন্মাদনা, পাথচলতি গাঁয়ের বধূর ঘমটার ফাঁকে- এক পলক স্বাধীনতা! রক্তের দাগ নেই যে মাটিতে তার গন্ধই স্বাধীনতা! মুক্ত বাতাসে বুক ভরা শ্বাস সব রং মিশে এক যেখানে, স্বচ্ছ-সাদার ভুবন সেখানে সেই পথে নির্ভয়ে চলা! বালক বেশে আঙ্গুল তুলে বলা - 'রাজা তোর কাপড় কোথায়?' প্রশ্নটাই স্বাধীনতা! গালির মোড়ে বসা ভিখারিটার গরম ভাতের স্বপ্নের- বাস্তব রূপই স্বাধীনতা! আশিক্ষার আঙিনায়, 'সহজ পাঠ' ই স্বাধীনতা! স্বাধীনতা শুধু একটা শব্দ নয়,  স্বাধীন মনের দরজা খোলাই স্বাধীনতা! স্বাধীনতা হল নতুন দিনের স্বপ্নবীজ বপন, মেঘমুক্ত আকাশে - বন্দেমাতরম ধ্বনি আর তিরঙ্গা পতাকার তলে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই- তুমি -আমি -সকলে, স্বাধীনতার সেই- সূর্যরাঙা সকালে। ====০০====

কবিতা ।। একটা গোটা দেশ ।। সুমিত মোদক

  যে মেয়েটা আবর্জনার স্তুপ ঘেঁটে বার করে নেয় ভাঙাচোরা জিনিস-পত্তর টুকরো টুকরো পলিথিন ; সেই মেয়েটা সকাল হলে হাঁটা দেয়  টিকে থাকা পথে ; সূর্য তখন রেঙে ওঠে আকাশ জুড়ে ; ঘুমের ঘোর তখনও দুচোখ জুড়ে , দুচোখে বাঁচার স্বপ্ন ; লালচে হয়ে পড়া চুলের দুটো বিনুনি  জামায় তেল চিটচিটে গন্ধ  কাঁধে ফেলা চটের বস্তা ; সেই মেয়ে হেঁটে যায় রাজপথ ধরে ; সে পথে প্রভাত ফেরিতে বেরিয়েছে  তার বয়সি স্কুল পড়ুয়া ; হাতে তাদের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা  কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান – " ও আমার দেশের মাটি  তোমার পরে ঠেকাই মাথা …" মেয়েটা থমকে দাঁড়াল ; দেখতে চাইল – তার দেশ , তার মাটি , তার স্বাধীনতা , সে কি দেখল জানি না ; কি বুঝলো জানি না ; কেবল আমি দেখলাম – একটা গোটা দেশ মেয়েটার মধ্যে  এক ভারতবর্ষ  ।

কবিতা ।। স্বদেশ আর ওরা ।। প্রতীক মিত্র

  দেশ বললে তথ্য আর মানচিত্রে হাজির ভুগোলের পাঠ স্বদেশ বললে হৃদস্পন্দনে সে বেজে ওঠে অনর্গল; আবেগের ভিত সেখানে গভীরে হারায় ক্রমে আত্মিকতার টানে অকারণেই চোখ ছলছল। পতাকা তুলেই যেসব নেতাদের শেষ ঠাঁটবাট তাদের প্রতি ক্ষোভ বদহজমের মত ওঠে জমে। তারপর মন বলে, ওরা তো নুড়ি-কাঁকড় মাত্র নদী আছে নদীর মত,মর্জিতে চলাই তার সম্বল... একটু রোষে উঠলে ফুঁষে ওরা পড়বে ছিটকে যত্রতত্র। ওরা শুধু জানে ভোট বেচে থাকে প্রতিশ্রুতির নামে, স্বদেশ ওদের কাছে একটু ফাঁকি,আধটু প্রতীকি,বাকিটা কোলাহল। যদি আমায় দেশ বলো, তথ্য আর মানচিত্র  নিয়ে হাজির ভুগোলের পাঠ; স্বদেশ বললে হৃদস্পন্দনে সে বেজে ওঠে অনর্গল।    =====০০০====== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235,পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। স্বাধীনতা আনলেন যাঁরা ।। গোবিন্দ মোদক

  স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা দেশের মাটির বুকে,  বাতাস যেখানে মুক্ত উদার নিজের দুঃখে-সুখে।  স্বাধীনতা মানে নই পরাধীন, নেই শৃঙ্খল-বেড়ি,  স্বাধীন দেশের নাগরিক সব, সবকিছু আমাদেরই।  এই স্বাধীনতা এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে,  যার জন্য প্রাণ দিয়েছেন --- বিপ্লবী শয়ে-শয়ে।  নেতাজি সুভাষ, মহাত্মা গান্ধী, মাতঙ্গিনী হাজরা,  পতাকা বয়ে যাঁর বুক হয় বিদেশী গুলিতে ঝাঁঝরা।  সূর্য সেন, কানাইলাল, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী,  দেশের জন্য জীবন দিলেন তাঁদেরকে মনে রাখি।  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল-দীনেশ,  দেশের এঁরা সুসন্তান, আত্মদান অনিঃশেষ।  অরবিন্দ, লাল বাল পাল, বাঘাযতীন, রাসবিহারী,  জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেন শত প্রণাম তাঁরই।  মনে থাকুক তাঁদের প্রতি --- হাজারো সম্মান,  স্বাধীনতা আনতে যাঁরা দিলেন তাঁদের প্রাণ। ===============================   গোবিন্দ মোদক।  সম্পাদক: কথা কোলাজ সাহিত্য পত্রিকা।  রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, ডাকসূচক - 741103

কবিতা ।। সেই স্বাধীনতা ।। কান্তিলাল দাস

   নরম খুশির দৃশ্য আসে না যেকথা লিখতে গেলে প্রতিটি বছর ব্যথা জমে বুকে স্বাধীনতা দিন এলে । তেরঙা পতাকা তুলছি আকাশে যদিও এদিন ভাই উচ্ছ্বাসে ভরা প্রাণের স্ফূর্তি দেখি কোনোখানে নাই। বাজে বিউগল, কামানের তোপ, ট্যাবলো, মিছিল যায় স্বাধীনতা থাকে শতহাত দূরে সীমাহীন লজ্জায়। মালা-দীপে-ধূপে সেজে ওঠে যত শহীদের স্মৃতি বেদি ভারতমাতার জয়ধ্বনি ওঠে আবেগে গগণভেদি। যান্ত্রিকতায় চলে সব রীতি হৃদয়ের ছোঁয়া কই স্বাধীনতা যেন সকরুণ বলে, আমি তো এসব নই ! গেছে ইংরেজ, শাসক বদল হয়েছে তো বারবার শোষণের কল রয়েছে সচল দেখি আজও চারধার। রয়েছে গরীব সেই তিমিরেই সবার জোটে না ভাত রাজনীতি আর ধর্মের ফাঁদে জোটে নব উৎপাত। শিক্ষিত যত কর্মহীনের পড়ে যে দীর্ঘশ্বাস যৌবন যায় চুরি হয়ে চুপি কথা ওঠে ফিসফাস। অন্ন তোলে যে সকলের মুখে সে-কৃষক থাকে দীন উচিত মূল্য পায় না ফসলে দারিদ্র্য সীমাহীন। আত্মবিনাশ ঘটায় কৃষক ঋণে, ক্ষোভে, অবসাদে স্বাধীনতা-স্বাদ পায় না কৃষক কেন কোন অপরাধে ! ধুঁকছে অনেকে কৃষকের মতো আয়ের স্থিরতা নেই কলকারখানা, চায়ের বাগানে কাজহারা সে দলেই। মহার্ঘ হয় জিনিসের দাম মুনাফায় কিছু লোক শোষণের কলে ফেলেছে মানুষে যেন বা ভয়াল জোঁক ...

পঁচাত্তরতম স্বাধীনতা দিবস।। মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় রায়

  হে স্বাধীনতা দিবস । তোমারে সেলাম । দিনে দিনে কেটে গেলো ৭৪ টা বছর । যতবার স্বাধীনতার মানে খুঁজতে চেয়েছি ঠিক তত অধিক বার আগুনের লেলিহান শিখা প্রান্তরে প্রান্তরে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। মা যে স্বাধীনতায় বসবাস করতো সেখানে সবটুকু ছিল দেওয়ার পালা । সকাল হতো ভিজে চুলে সিঁদুর লেপে কর্তব্যের উনুনে জ্বেলে দেওয়া আগুন । সেই আগুনে ছেলে মেয়ে স্বামীর মহোময় রগরগে একটা স্বাধীনতা দিবস রচিত হতো। ঠিক তখনই মায়ের গর্ভে যন্ত্রণায় কঁ কিয়ে উঠতো ভাঙাচোরা স্বাধীনতা র কবিতা। পঁচাত্তরে পতাকার রং একটু বেশি রঙিন । শিরীষ কাগজে না লিখে অনুকবিতা লেখা হচ্ছে ব্লটিং পেপারে। দূর হতে ভেসে আস ছে স্বা ধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে কে বাঁচিতে চায় । --------------- 

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। মহাজিস মণ্ডল

আজ চারপাশে অন্ধকারের ভিড় রক্তাক্ত করে দেয় সমস্ত বুকের স্বপ্ন তবুও জেগে থাকে অনন্ত মহিমায় আমার স্বদেশ আমার জন্মভূমি। রাতদিন চতুর্দিকে এখনও বাজে সাইরেন তাই শপথের অঙ্গীকারে সাজিয়ে রাখে আলোর প্রদীপ এবং স্বদেশের গান স্বাধীনতা যে আমাদের জন্মগত এবং স্বপ্নগত।                           -------০------- মহাজিস মণ্ডল সবুজলেন, নবপল্লী(১২ ফুট), ২২ বিঘা রোড, জোকা, কলকাতা-৭০০১০৪

কবিতা ।। কোনো এক স্বাধীন সকাল ।। ইউসুফ মোল্লা

আজ নাকি কোনো স্বাধীনতার সকাল হয়েছে!  কই সূর্যটা একবারও বলে উঠলো না তো,  আমি আজ মুক্ত হলাম তোমাদের থেকে।  ওইতো রাস্তার সাফাইকর্মীটা আজও এসেছে,  কই; তার তো আজকে ঘুরতে যাওয়ার কথা।  পরিবারের ছোট্ট সদস্যটার সাথে আজ সকালে– সেই পাহাড়ের কোলে ঘাস আর পাথর নিয়ে খেলার কথা।  কাল থেকে ফুল তুলে সে ফুল মালা গেঁথে,  আজও বেচতে এলো যে মেয়েটি তার জীবনেও কি স্বাধীনতার সকাল ছিল না?  মৌমিতা নামে এক শিল্পী স্বাধীনতার পতাকা আঁকছিল।  কোনো এক শব্দে হাতটা কেঁপে উঠল,  ঢেউ খেলানো পতাকাটি আর দুলছিলো না।  বাইরে সদ্য গুলি হওয়া দেহ থেকে এখনও রক্ত ঝরছে...  মৌমিতার চোখের একফোঁটা জলে পতাকাটি মুছে গেলো!                                   ------------ 

কবিতা ।। ভিজে পটকা ।। অনিরুদ্ধ সুব্রত

তবুও পাতি চ্যানেলের চির-নবিশ সাংবাদিক-মন তোতলামি রেখে ছুঁড়েই যায় ছ্যাবলা প্রশ্ন মালা, দেখে শুনে সমস্ত ভোল বদল অথচ জানে--- প্রেম তো কোনও আঞ্চলিক বা জাতীয় দল নয়, না জিতলে তার কিস্যু না কিন্তু রাজনীতির আপাত রেপ্লিকা বলে ভুল হয়,  জীবনের যা কিছু--- দীর্ঘমেয়াদি বর্ধিত মুদ্রাস্ফীতি থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের গ্যারান্টিহীন দৌড়, তাই নিয়ে সন্ধ্যের ধ্যাতরানো টক-শো না মারালে ভালো লাগে, এক দুপুরের যুক্তি অথবা অশালীন উক্তি--এটুকু পেলেই সার সার ওবি-ভ্যান মুহূর্তে ভিড়ে যায়, ছুঁচো মুখ কুঁচো প্রশ্ন এই হৃদয়--- দেখে শুনে যা সহজেই বুঝে যাওয়া যায় বার বার স্ব-মৈথুনের মতো তাই-ই, বরফের মতো ঠান্ডা রাত্রির স্নায়ুতে আঘাত করাতে থাকে।                       =======০০০=======                                      --- অনিরুদ্ধ সুব্রত                       ...

কবিতা ।। আত্মশুদ্ধির বয়ান ।। শান্তনু গুড়িয়া

    দেশ আমায় কী দিয়েছে আর আমি দিয়েছি কী, দেশের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের দিকে তুলেছি কি? দেশ আমায় বানিয়েছে ডাক্তার, শিক্ষক অথবা ইঞ্জিনিয়ার| দুঃখের কথা ও কাহিনি  বলবো কী আর! মানবিক মুখ হারিয়েছে ডাক্তার, ব্রেন ড্রেন হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী হয়েছে আজ মানুষ গড়ার কারিগর... দেশসেবার নামে জার্সি বদল, ঘুষের বিনিময়ে কার্যোদ্ধার --- নৈতিক চরিত্র বিসর্জনে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার| অর্থনীতি পড়ছে ভেঙে --- তালিয়া, সমাজটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে --- তালিয়া, দেশটা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, তাতেও তালিয়া আমরা আরো জোরে তালি দিতে থাকি আমরা এসেছিই  তালি দিতে!

কবিতা ।। আমাদের কথাগুলো ।। সঞ্জীব সেন

    এখন ক্রোধের সময় নয় তবুও বলতে পারি না, প্রতিবাদের ভাষা অনেক রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা তবুও বলতে পারি না এখনও কেন এত রক্ত গণতন্ত্র চলছে, নিজের কথা বলতেই পারো প্রকাশ্যে তবুও বলতে পারি না কেন আমৃত্যু জেলবন্দি কবি? আজ যদি আমি ভারত হতাম আর ভারতমাতা বুকে এসে দাঁড়াত আমার তবে কি লজ্জায়  জিভ কাটতেন! তবুও বলতে চাই স্বাধীনতা তোমায় সেলাম ।   ================= সঞ্জীব সেন পানিহাটি গৌরাঙ্গ ঘাট রোঢ পোস্ট পানিহাটি কলকাতা114

ছড়া ।। স্বাধীনতা ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

আমজনতার খাদ‍্য খাবার    লুটছে দেশের জননেতা বিপ্লবীরা কি চেয়েছিল     দেশের এমন স্বাধীনতা! ভাঙছে সমাজ, মাতৃভূমি   মন ভাঙছে, ভাঙছে দেশ কর্মহীনে  ধুঁকছে  যুবক    স্বাধীনতার এ কোন বেশ! বঞ্চিত  আজ আমজনতা   আন্দোলনে কৃষক সমাজ লুটেরা আজ বেজায় খুশি    স্বাধীনতার এ কোন সাজ! জাত-পাতের দ্বন্দ্ব আজও      আজও মানুষ  যাযাবরে আজ এ কেমন স্বাধীনতা!  ব‍্যাখ‍্যা কি কেউ দিতে পারে? ভর্তুকি, ঋণ শিল্প হবে    হাতিয়ে  ফেরার  শিল্পপতি  স্বাধীনতার এক  নতুন রূপ!          ধর্ম  নিয়েই  মাতামাতি। অনাহারে  আজও মানুষ              স্বাধীনতার  পঁচাত্তরে ভাষণ,তোষণ দেশনায়কের    আমরা স্বাধীন,কেমন করে! সমাজ জীবন নয় নিরাপদ       ভয় সন্ত্রাস, রোজ বিপদে নীরবেতে  স্বজন পোষণ   স্বাধীনতা! আজ নতুন স্বাদে! বাজারে আগুণ,জ্বলছে এ দেশ        ধুঁকছে  রোজই আমজনতা অর্থনীতি  বিকিয়ে...

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। আশিস ভৌমিক

  জমির ওপর লাঙল চালাই ফসল ফলাই হেথা কেড়ে নেবার হিম্মত দেখাস্ এমন বুকের পাটা ? চাষীর স্বাধীনতা । আমার দেশ, আমার মা, আমার জন্মভিটা উচ্ছেদের ভয় দেখাও কোন্ আবাগির বেটা ? নাগরিক স্বাধীনতা । ধর্ম আমার যা হোক্, তা হোক্,খাই রুচিতে আসে যেটা সেটার ওপর নজরদারি মানতে হবে সেটা ? খাওয়ার স্বাধীনতা । আমার মায়ের মিষ্টি ভাষা প্রথম শেখা বুলি  সেটার ওপর দখলদারি কোন্ বাপের বেটা ? ভাষার স্বাধীনতা । জঙ্গলে মুই জন্ম নিছি ক্ষুধা মিটায় এই বনটা এর অধিকার মোর আছে, তুই বলার কেটা ? বাঁচার স্বাধীনতা । সমালোচনা শুনতে বুঝি নেই বুকের পাটা  ? লাগাম টানিস্ মুখে আমার শুনতে চাসনি যেটা বলার স্বাধীনতা । -----------------  Name-Ashis Bhowmick Vill.+P.O-Brindabonchak Dist.-Purba Medinipore Pin-721641

কবিতা ।। স্বাদহীন-স্বাধীনতা ।। শুভাশিস দাশ

      হয়নি আজো দেশের সবার অন্ন বাসস্থান। শিক্ষা স্বাস্থ্য টলমলে আজ ওষ্ঠাগত প্রাণ । দেখতে দেখতে বয়স হলো দেশের স্বাধীনতার। কেউ দিলোনা যাপন নিয়ে ভাষণ নিশ্চয়তার। স্বাদহীন এই স্বাধীনতায় লালকেল্লা  সাজবে। মনের ভিতর সত্যিকারের খুশির সে বীণ বাজবে ?   ----------------- শুভাশিস দাশ দিনহাটা

অণুগল্প ।। আমি একটুকরো ভারত ।। সোমা মজুমদার

সেদিন ছিলো পনেরোই অগাস্ট,  আমার কাছে তখন পনেরো অগাস্ট মানে একটা চকোলেট চকোলেট দিন,  সারাদিন অনেক খেলাধূলা করা সকালে প্রভাত ফেরী নাচ গান, আর বিকেলে খেলা জিতে অনেক পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরা।  সেদিন ও এক পনেরো অগাস্টের বিকেল, আমি অনেক গুলো পুরস্কার চকোলেট দু'হাতে বুকের কাছে চেপে ধরে বাড়ি ফিরছি, হঠাৎ দেখলাম রাস্তার একপাশে সবুজ ঘাসের উপর চেপ্টা হয়ে ফুলা পাটা রোদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বসে হাঁপাচ্ছেন  আমাদের প্রতিবেশী ফুলন পিসি। পাশে একটা কলসি ভর্তি জল, সম্ভবত আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী থেকে কলসি দিয়ে জল তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন,  এই ফুলন পিসিকে  আমি খুব ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি ,  বেচারির বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মারা যান,  বাবার বাড়িতে এসে উঠেছেন ভাইয়ের সংসারে। অসুস্থ মহিলা, বাঁ পাটি ফুলা,  ব্যথায় ভালো করে হাঁটতে পারেন না, তবুও সারাদিন কতো রকমের কাজই না করতে হয়।  রাস্তার পাশে বসে এভাবে হাঁপাতে দেখে  আমি পাশে গিয়ে জিগ্যেস করলাম, কী হয়েছে তোমার পিসি?  উনি প্রথমে কোন উত্তর দিলেন না, আবার বললাম কী হয়েছে তোমার?  এবার হাঁপাতে হাঁপাতে বলে...

ছড়া ।। স্বাধীনতা ।। অমরেশ বিশ্বাস

ছোট্ট মেয়ে বাসন মাজে আকাশ পানে চায় ভাবে কোথায় স্বাধীনতা থাকে সে কোন গাঁয়। মাইক বাজে পথের মোড়ে কানে আসে ভেসে কেউ পরাধীন নই করি বাস আমরা স্বাধীন দেশে। সবুজ সাদা আর গেরুয়া রঙ মেখেছে মুখে স্বাধীনতা বাস করে ওই ছোট্ট মেয়ের বুকে। বন্দেমাতরম জয় হিন্দ ধ্বনি আসে ভেসে বাসন মাজে আর সে ভাবে আছি স্বাধীন দেশে।

ছোটগল্প ।। স্বাধীনতার গান ।। পারিজাত ব্যানার্জী

  হৃদয়কৃষ্ণ মাথা নাড়েন আনমনে। নাহ, বড্ড গোলমেলে হয়ে গেছে আজকের এই সময়কালটাই। তাল মিলিয়ে হেঁটে চলা তাঁর মতো প্রায় একশোর কোঠায় দাঁড়ানো বৃদ্ধের পক্ষে তাই হয়ে উঠেছে নিতান্তই কঠিন। কোনও কিছুতেই কোনও মানে খুঁজে পাওয়া আজ ভিত্তিহীন। অথচ যখন দাদার হাত ধরে প্রথমবারের জন্য তিনি হাজির হয়েছিলেন পাড়ার নবারুণদাদের স্বদেশী আন্দোলনের বক্তৃতা মঞ্চে, স্পষ্ট মনে আছে কি বলেছিলেন নবারুণদার স্ত্রী ও নারী নিকেতন গোষ্ঠীর তৎকালীন কর্ণধার সবলা দেবী তাঁর চিবুকখানি ধরে, "কৃষ্ণ, তোমাকেই কিন্তু মহাভারতের মতো এই সমস্ত লড়াই,যুদ্ধ, আয়োজনের মানে, উদ্দেশ্য, তাৎপর্য খুঁজে বার করে তাদের দিতে হবে যথাযথ সম্মান। তুমিই যে আগামীর প্রতিনিধি, আমাদের সব কাজ তো আসলে তোমাদের উন্নয়নের আশাতেই। এই তরণীর তোমরাই যে হলধর!"      ভোম্বল পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢোকে। দশ বছর বয়সী এই নাতিটির মুখের আদল অনেকটা হৃদয়কৃষ্ণের নিজের ছেলেবেলার মতোই। তা তাঁর চোখের ভুল না মনের দোষ, তা অবশ্য ঠিক ঠাহর করতে পারেন না তিনি আর। বাবার মোবাইল ফোনে খুটখুট করতে করতে দাদুর পাশে এসেই বসে পড়ে ভোম্বল। হৃদয়কৃষ্ণ মাথায় হাত রাখেন তার। "আজ স্কুলে যাসনি?এখনও ...

কবিতা ।। সুভাষ ।। অভিষেক ঘোষ

  বিশ্বাসে তাঁর হলফনামা রক্তে লেখা অঙ্গীকার, চলবে কদম, নিষেধ থামা কঠিন পথ সে স্বাধীনতার । তাকাও, দেখবে তর্জনী উঁচু অশ্বপৃষ্ঠে দেশ-প্রেমিক, মেনে নেওয়া মানে, মাথা নীচু সুভাষ চেনালো ঠিক-বেঠিক । ভুলোমনা জাতি লড়াই ভুলেছে সংগ্রাম আজ, চালু ফিকির ! দিশেহারা দেশ জিগির তুলেছে, ফিরুন স্বদেশে সুভাষ বীর ! ====================  Abhisek Ghosh. Swinhoe Lane,  Kasba, Kolkata - 42.

কবিতা ।। পঁচাত্তরে পা, তবুও... ।। লক্ষণ চন্দ্র নস্কর

    স্বপ্নের হাত ধরে হে স্বাধীনতা তুমি এসেছিলে নীরবে ব্যর্থতা, গ্লানি আর সংকীর্ণ স্বার্থের গন্ডিতে বাঁধা হলো তোমার পথ তাই অজান্তে তুমি ঘুমিয়ে গেলে কফিন বাক্সে । তোমার জন্যে যারা পথে পথে ঘর বেঁধেছিল তারা আজ বিপন্ন তবুও ফিকে স্বাধীনতার বোল ঘুরে ফিরে আসে দুয়ারে দুয়ারে সাহস হয়নি বলতে তোমার দুর্দশার কথা । শক্ত হাতের বাঁধন কখন যেন আলগা হতে হতে মিশেছে বন্দিদশায় হাজারো স্লোগানে পাল্টে গেছে  তোমার প্রকৃত স্বরূপ আমাদের ভালো-মন্দ এখন রঙীন সানগ্লাসে । একমুঠো সাদা ভাত মাথার উপর সামান্য আশ্রয় আর লজ্জা নিবারনের মোটা বস্ত্র জোগাতে ফুটফুটে হাসি মুখগুলো হারিয়ে গেছে ধোঁয়াশার উলঙ্গ রাজনীতিতে । বর্ণপরিচয়ের জ্ঞান -- দারিদ্রতা আর অবহেলার কঠিন জালে জর্জরিত জীবনদায়ী ঔষধে বিষ খাদ্যে মিশেছে ভেজাল আর কেলেঙ্কারিতে ভরে গেছে দেশ ঋণের দায়ে ঝরে গেছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ হয়তো তুমি কোনোদিন মুখ তুলে দেখবেনা তবুও কঠিন পাথরে বুক বেঁধে ওরা পথ চলবে আবহমান কাল ধরে ।

অন্যরকম একটা ভাবনা ।। সমীর হালদার

    অন্যরকম   একটা   ভাবনা   ক্রমশ   মনের   মধ্যে   ডানা   মেলতে   চাইছে । ভীষণভাবে   অন্যরকম   অন্যরকম । অন্যরকম   আবহ  .... অন্যরকম   একটা   আচ্ছন্নতা । বহুদিনের   জমানো   আবেগ , অনুভূতি গুলি   ক্রমশ   পিছু   হটতে   হটতে ফিকে   হয়ে   আসছে , একটু   একটু   করে । একটু   একটু   করে   ফিকে   হয়ে   আসছে অহংকারদীপ্ত   সোনালী   ঐতিহ্যের   সুস্পষ্ট   প্রতিচ্ছবিগুলি । কারণটা   ঠিক   স্পষ্ট   নয় ।   যেমন   স্পষ্ট   নয় , কেন   এই   অসহায়তার   দিবারাত্রি ! কেন   এই   বিভেদের   আলোছায়া ! বিভেদের   আলোছায়া   আজ   প্রতি   মুহূর্তে   আমাদের   অস্তিত্বকে   বিদ্রুপ   করে ! আকাশে   বাতাসে   ভেসে   আসে অসহায়   নিপীড়িত   মানুষের   হাহাকার , বুভুক্ষ   মানুষের   চিৎকার ।   আজ   অন্ধক...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

চন্দন মিত্রর কবিতা

    পুনর্নবা         আমাকে ঝাঁকাও যদি ঝরাব টুপটাপ  লাল নীল গোলাপি সবুজ হলুদ বেগুনি সাদা অ আ ক খ অনিঃশেষ উন্মূল হব না কখনও  এ মাটিতে হাজার বছর আমি  শিকড় চারিয়ে আছি কাটো যদি গজাব আবার ... =============== চন্দন মিত্র ভগবান পুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা 

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...