Skip to main content

Posts

তিনটি কবিতা ।। তৃষিতা মিত্র

তিনটি কবিতা ।। তৃষিতা মিত্র শাওন অঝোর ঘনঘোর বর্ষা  রুমঝুম রিমঝিম দিন কারা যেন ভরে তুলেছে  জলের বিছেহার সন্ধে কলস নদী উত্তাল ইলিশ মাছের ঘ্রাণ  নদী ছাপিয়ে তরঙ্গ লহর তুলে পৌঁছে যায় এ ঘরে সে ঘরে  মাটিতে বনে বজরায় সাগরে বারিধারায় উল্লসিত বৃক্ষরাজি সবুজের শ্যামল সমারোহ আর দিকে দিকে নবপত্রের হরষগীতি দগ্ধ গ্রীষ্ম প্রখর গ্রীষ্ম রুক্ষ্ম গ্রীষ্ম  তোমার তর্পণ হোক বরষা সলিলে খ্যাপা বাউলের উন্মত্ত তারের সুর  স্রোত ঢেউ মিলেমিশে কী যে মোহ নিষিদ্ধ প্রলুব্ধকর ইশারা ছড়ায় ভেসে চলে জলে স্মৃতি খেয়াতরী ঠিক যেন বর্ণবিলাসী রামধনু।  মুস্তাং এই কি সেই মুনল্যান্ড?  বহু প্রতীক্ষিত চাঁদের পাহাড়? কে সাজাচ্ছে আমাদের সঙ্গে  অবিরত এই জলের আলপনা?  এই কি সেই কালীগণ্ডকী?  আহা কী অপূর্ব সুদৃশ্য পাহাড়!  আহা কী সুন্দর আগুনরঙা পাহাড়!  মাটি মেশানো ঝুর...

কবিতা ।। বৈশাখের বিকেলবেলা ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস )

বৈশাখের বিকেলবেলা  অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস ) বৈশাখের বিকেল বেলা আজ অনেকদিন পর ; একটু হাঁটতে বেরিয়েছি...... দক্ষিণের কোমল বাতাস প্রবাহিত নরম শস্য শ্যামলা পাট ভরা ক্ষেত। পুকুরের টলমল জলে                হাঁসেদের জলকেলি। বধূরা কাজের শেষে  ঘরে ফেরে, শুকনো পথঘাট  চারিপাশে - সূর্যটা কখন যেন পশ্চিমের বুকে                              রাঙা হয়ে ওঠে।   একটু এগিয়ে............ হলুদ লাল পাতাবাহারি চলে পাছে পাছে অসংখ্য বেগুনি জারুলের মেলা গাছের ডালে ডালে পাখিদের খেলা। কোকিলের কন্ঠ তখনও - "কুহু কুহু"...... গোলাপি সবুজ শিরীশের দল  বাতাসের তালে দোল খায় .......... বটবৃক্ষের ঝুড়ি গুলি নড়ে এদিক ওদিক,                  গরুগুলি বসি তার তলে। ...

তিনটি কবিতা ।। বিনিময় দাস

তিনটি কবিতা ।। বিনিময় দাস ভোর  হবে বেদনার কাজ একটাই             মনের পাতা জুড়ে বসা, আর স্মৃতির দুয়ার থেকে              অশ্রুকে তুলে নিয়ে আসা ৷ আমিও সমান যোগ্যতায় থাকি বহাল, আসার সাথে সাথেই                       বেদনাকে ঝেড়ে  ফেলি, প্রত্যাশারা আবিষ্কার করে নতুন পথ----- তার মানে ভোর হবে,                   মুছে যাবে আঁধারের কালি ৷ হৃদয় বলে --------- জীবন সংগ্রামে কখনো হেরো না, আজীবন অবিচ্ছিন্ন পথ চলার                আমি দিয়ে যাবো প্রেরণ ৷   কৰ্মোদ্দেশ্য দিবসে সেই কাজ করা‍ চাই-----              যাতে রা‍ত্ৰি‍ কাটে সুখে, ...

তিনটি কবিতা ।। উৎপলেন্দু পাল

তিনটি কবিতা ।। উৎপলেন্দু পাল  ১)  ভাঙনপর্ব  এখন শুধুই ভাঙন চলছে  খড়ের কাঠামোকে ভেঙেচুড়ে  তৈরি হচ্ছে সব ফরমায়েসী মূর্ত্তি  নগদ কড়ি দিয়ে কিনে নেবার শর্তে ,  মাটির প্রলেপ গলে গিয়ে  বেরিয়ে পড়েছে উলঙ্গ অস্তিত্ব  কেনাবেচা তবুও চলছে দিনরাত  অদৃশ‍্য কোনো ক্ষমতার অঙ্গুলী হেলনে ,  ভেঙে যাচ্ছে পুরাতন আদর্শ  আনুগত‍্য বিশ্বাসের মিথ ভেঙে  শুরু হয়েছে এক নব নির্মানপর্ব  ভাঙাচোড়া রাষ্ট্র ব‍্যবস্থার সমাধিতে ,  আমূল ভেঙে যাচ্ছে চরাচর নিজেকেও ভেঙে নিচ্ছেন ঈশ্বর  অঙ্গপ্রত‍্যঙ্গে ছেনি হাতুড়ির আঘাতে  নতুন রূপে নিজেকে গড়ে তুলবেন বলে ।  ২)  মনছবি  কাল সকালের দিকে  ঘাসের উপর লেগেছিল কিছু রক্তের দাগ  দুপুর পর্যন্ত তাকে মাড়িয়ে গেছে  কতো চেনাঅচেনা ঘামগন্ধী মানুষের পা  সন্ধ‍্যের ঠিক আগে কে যেন  একটা সাদ...

তিনটি কবিতা ।। নিশা তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। নিশা তালুকদার  বৃষ্টিভেজা মুক্তি  এমন তো হয় না রোজ,   সকাল সকাল বৃষ্টি  কেউ তো নেয় না খোঁজ   মরে গেছি, না বেঁচে আছি। দমকা হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে যায়   মন খারাপের চিন্তা গুলো,  ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা  আমার সারা শরীর ছুঁলো। মাথার চুল তখন বেঁধে রাখা যায় না,  ছটফট করে মন  কারো নিষেধ শুনতে চায় না।  খুলে দিয়ে খোপা  বৃষ্টির তালে নাচি, জীবনটা আমার  আমি নতুন করে বাঁচি। প্রেমিকা হিসেবে আমি               প্রেমিকা হিসেবে আমি বড়ই স্বার্থপর ভালোবাসায় ডুবে থাকতে চাইবো।  কোন নারীর দিকে তুমি তাকাও         তা আমার সহ্যের বাইরে। প্রেমিকা হিসেবে আমি অনেক লোভী  একগুচ্ছ বায়না নিয়ে হাজির হব। আমার চাওয়া শেষ হবেনা কোনদিনও        ...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

 তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ব...

গুচ্ছকবিতা ।। রকিবুল ইসলাম

কখনো তুমি তুমি কখনো বরষার অবারিত বারি, আবার কখনো তুমি প্রচন্ড দাবদাহে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিদাহ খরা। কখনো তুমি কনকনে শীতের হিমবহতা, আবার কখনো তুমি বসন্তের মিষ্টি হাওয়া।  কখনো তুমি পড়ন্ত বিকেলের গোধূলী লগন, তেজস্বী রবির বিদায়বেলা। আবার কখনো তুমি দিবাভাগের অন্তিম মূহুর্তের রক্তিম গগণ,পাখিদের নীড়ে ফেরার সন্ধিক্ষণ, রাতের নীল আকাশে তারা'দের অসারিবদ্ধ বিচরণ। কখনো তুমি জোনাকির আলো,তুমি দৃষ্টির পিদিম,  তুমি আলেয়ার আলো। তুমি রঙিন জ্যোৎস্নার ঝলমলে আলোকসজ্জা, সেই তুমিই আবার অমাবস্যার ঘণ,গাঢ় নিম  রজনীর ঘোর আঁধার,এক রাশ হতাশা আর হৃদয়ের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত দুঃখের নিষাণ। কখনো তুমি আত্মার ব্যাকুলতা,কখনো আবার আশার ভেলা। কখনো সেই তুমিই স্বপ্ন সারথী,তোমাতেই প্রত্যাশার শুরু,তোমাতেই তা সারা। কখনো তুমি তটিনী সঙ্গমে উন্মুখ প্রবল ঝর্ণাধারা, আবার কখনো সাগরে মিলনের জন্য স্বীয় সত্ত্বাকে বিলিনকল্পে ব্যস্ত স্রোতধারা।  তুমি কখনো আমার আশার আলো,কখনো রাজ্যের হতাশা। কখনো তোমাতে আমি...

তিনটি কবিতা ।। উৎপল হালদার

তিনটি কবিতা ।। উৎপল হালদার       রাই মোহন বাঁশীর সুরে সতত ডাকিছে মোরে --- সুখ-চঞ্চল পুলক রচি স্বপনের ঘোরে।           আঁখিতে জাগিয়ে তৃষ্ণা            ছলনার ছল করে ----           চঞ্চল হৃদয় নিয়ে            খেলিছ খেলার ঘরে।  তরুণ মূরতি হায় গোপন হৃদয়পুরে--- পান করি মধুলিকা মোহন মুরলী সুরে।                 কারা যেন গান গায়           বিচলিত প্রণ- মন----           নন্দিত নূতন সুরে           প্রেম মুখর স্পন্দন।  মরম বীণার তারে তুলিছ নীরব তান-- চিত্ত-চকোর যে মত্ত তুমি তারে দাও প্রাণ।     ...

তিনটি কবিতা ।। দিলীপ কুমার (অভিমন্যু )

বৃক্ষরোপন ও বিশ্বষণায়ন বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধের মূল হাতিয়ার বৃক্ষরোপণ, একটি গাছ রোপন করে গাছের কাছে কৃতজ্ঞ থাকো সকল জনগণ। গাছ আমাদের সকলের কাছে কত উপকারী সে কথা আজ গেছে সকলে ভুলে, কৃতঘ্ন হয়ে তাই বৃক্ষছেদন করছে অবিরত সকলে। কারনে অকারনে যেভাবে হচ্ছে অনবরত বৃক্ষচ্ছেদন, বৃক্ষছেদন  রোধ না করলে অনাগত দিনে অবশ্যম্ভী বিশ্ব উষ্ণায়ন। অতিরিক্ত বৃক্ষছেদনে একদিন ভরবে পাপের ঘড়া,  সেদিন পৃথিবী  হবে ধ্বংস , হবে ধু ধু  মরুভূমির চড়া। বিশ্ব উষ্ণায়ন  শূল হয়ে যেদিন করবে পৃথিবীর উপর করাঘাত, পৃথিবীর সবুজ হবে ধ্বংস,সেদিন বুঝতে পারবে প্রকৃতির প্রতিঘাত। বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে বাঁচতে তাই এসো সবাই, বৃক্ষছেদন বন্ধ করে নতুন নতুন বন গড়াই।                             ------             পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম    ধর্ম নিয়ে জাতি নিয়ে এত মারামারি এত হানাহানি কেন করছ  সবাই? আমরা মানুষ মনুষ্যত্বই হল আমাদের ধর্মের পরিচয়।  আমি হিন্...

তিনটি কবিতা ।। নুর ই আল সাহাত চৌধুরী

পূর্ণিমার রাত আজ পূর্ণিমার সন্ধ্যায় উঠেছে পূর্ব আকাশে গোলগাল চাঁদ, উঠানের মাঝে চাঁদের আলো যেন করছে ছড়িয়ে রূপের হাহাত। সন্ধ্যায় আমার লেখার টেবিলে আড্ডায় কেটে গেল কিছুটা সময়, ততক্ষণে সেই রূপালী চাঁদটি মাথার উপরে এসে উদয়। চাঁদের আলোয় চিকমিক করে দূরের ওই নারকেল গাছের পাতা, সবুজ গাছেরা আলোয় হাসছে খুলে যেন এক রূপকথার খাতা। আহা, এই চাঁদের আলোর বাহার এমন তো আগে দেখিনি কখনো, জীবনানন্দ আর বিশ্বকবিও তাই এই রূপে মুগ্ধ হয়েছিলেন এখনো। পূর্ণিমার ঐ রাতের মায়ায় চাঁদের মুখে মিষ্টি হাসি, মনটা আমার কেড়ে নিল যেন বাজিয়ে রূপের মোহন বাঁশি। গভীর রাতে চারিদিক নিঝুম সবাই যেন ঘুমে চুপচাপ, দূর থেকে শুধু কুকুরের দলে কেউ একজন দিল জোরে ডাক...

কবিতা ।। পৃথিবীবাসী ।। করবী দাস

পৃথিবীবাসী করবী দাস আমরা সেদিন হারিয়ে গিয়েছিলাম, বার বার হেরে গিয়েছি। বলতে চেয়েছি মনের কথাগুলোকে, প্রার্থনা করেছি একটা হৃদয়ের প্রতি অপর হৃদয়ের সৎ হৃদয় বৃত্তি। না, বন্ধু হিসেবে নয়, প্রেমিক হিসাবে নয়, একজন নাগরিক হিসাবে, একজন পৃথিবীবাসী হিসাবে। আমরা এক পৃথিবীতে বাস করি, সেই সূত্রে আমরা একটা বড় পরিবারের মানুষ একে অপরের আত্মীয়। তখন কীসে তোমার দ্বিধা? সুযোগ পেলে অস্ত্রের ধারালো তীক্ষ্ম দিকটা এগিয়ে দাও আমার দিকে, এভাবে কেন আমাকে হারিয়ে দাও নিজের কাছে, আমি তো বার বার তোমাকে মানুষ ভাবতে চাই, তাই ছুটে আসি হৃদয় নিয়ে, মন নিয়ে, সততা নিয়ে। আমরা একে অপরের আত্মীয়, কোনো সন্ত্রাসী নই। আমি অপেক্ষা করে আছি সেই ফেলে আসা সভ্যতার সুদূর অতীত কাল থেকে, মানবতা নিয়ে দাঁড়িয়ে। আমি তুমি আমরা সবাই মিলে সেই বীজ বপন করব পৃথিবীর বুকে। আমাদের সন্তানেরা হবে পূজারী, আর আমরা তার পথপ্রদর্শক। কী শান্তি! সে শান্তি তুমি চাও না? মারণ অস্ত্রের দামামা রেখে হাত বাড়াও, আমরা হৃদয় অস্ত্রকে বুকে গিঁথে নিই পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্বাস হোক আমাদের নাগরিক নীতি; বেঁচে থাকার, বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র কৌশল। ============...

তিনটি কবিতা ।। আবিদ হাসান

তিনটি কবিতা ।। আবিদ হাসান অবগুণ্ঠিত বিরহ পলকের অন্তিম চাহিবার লাগিয়া, শতাব্দীর প্রহরের পাড়ি জমাতে হয়। এর মাঝে চূর্ণতার ঝড়ে কতই না সাধিত প্রেম দিশা ভুলিয়া যায়। জীবন তার হাতছানি দেয়, তবে বিরহের গান পলকের লাগি পিছু টলে না। ওহে, তোমার সনে মোর সখ্যতা কি তব আজন্মকাল, নাকি এ কোনো প্রতিঘাতের দোলাচল, যার বহমানতা মোর জীবন-তরীর পবন পানে। নব্যতা হতে ঘ্রাণে মোহিত কভু, বিষাদ অনলের সাজে শানিত, লহমায় যা বিবর্ণ রঙিন, যার পাড়ি পৌঢ় বিজ্ঞ অপর পানে। ইহার স্পর্শতা কখন যে মোর সজীবতার চাঞ্চল্যতাকে ব্যস্ততার ডোরে করাঘাত করিয়া প্রাণ-নাদকে আপনার তরে বশীভূত করিয়া রেখার ছোপে লোপাইয়াছে যাহা, অজান্তে ক্ষণের গতিময়তা রুখিয়াছে। এ কেমন ও দিবা-ভাবনা, রজনী-যাতনা, যাহা নিদ্রালোকের সুরকে মায়ায় লুটিয়াছে। রুপার কাঠির জাদুর ছোঁয়া, যাহা নিতান্ত হারিয়াছে, তাহার পরশ বুলি করিয়াছে আড়ি। সখারা নিলামে বসিয়াছে বচসা রচিতে লাগি, ওহে— হয়তোবা দিবায় জ্যোৎস্না খেলিছে, তবে তাহা যে মোর দিবসকাল মনোরথ। আঁখির পানে পলক ফেলিয়া, যাহার বারি ঝরিয়া যায় অঝরে, দৃষ্টির অগোচরে। হৃদয় লাগি শোণিতের...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

বছরের বাছাই

মাসের বাছাই