Skip to main content

Posts

দু'টি কবিতা ।। ইন্দ্রজিৎ নন্দী

দু'টি কবিতা ।। ইন্দ্রজিৎ নন্দী 'মৃগাঙ্ক' নামে ডাকো এই শহর একবার যাকে হারিয়ে ফেলে  মেঘেদের দূরতর  প্রান্তে, লোকালট্রেন চেপে আসে কুমড়োফুলরঙা কলেজছাত্রী, সঙ্গে মনখারাপও হাওয়া দিলে ঝালমুড়ি কিংবা ন্যাপথলিনের গন্ধে যুবতী অভিমান বাড়ে, তুমি শহরের যে প্রান্তে থাকো সেই অনুপম অগোছালো শহরের পিঁয়াজ কাটা মাঝ-বরাবর আমি থাকি! দুটো অর্জুনপাতার যেটুকু স্পেস,যেটুকু ফাঁকি আমাদের তারও কম, তুমি সিটে বসে বরং, আমি ক্লান্ত রাস্তা ফিরি বাদবাকি। ধরো,দূরে কোথাও হরতাল হলো, ট্রেন যাবার রাস্তা বন্ধ, চাক্কা জ্যাম। স্নিগ্ধতায় বললে : নেমো না !  দূরে প্ল্যাটফর্ম, সঙ্গে থাকো -গল্প করো বরং; সেই থেকেই বন্ধু হলাম , পাশাপাশি দুটো শহর যেমনটা হয়; চাষীদের কমে আসে ধানক্ষেত, পাতাদের কথা বলার সময় ! কথা শোনার সময় কমে এলে তুমি একবার সন্ধ্যা কে 'নির্বন্ধ' নামে ডাকো দেখবে পাখি ফিরছে , সূর্য ডুবছে, আর উইন্ডোসিটে এসে বসেছে মন খারাপও..  তোমায় কাছে ডেকে বলবে :                                     আমায় 'মৃগাঙ্ক' নামে ডাকো...

কবিতা ।। নিকোটিন রাত ও কোন এক মহাপুরুষের শরীর ।। নিমাই জানা

নিকোটিন রাত ও  কোন এক মহাপুরুষের শরীর নিমাই জানা তথাগত শরীরের ওপর হর্ষধ্বনি ওঠা মৃতপ্রায় দরজার কাছে গেলে দরজাটি আরো লবণাক্ত হয়ে পড়ে বাবা বৈরাগ্য চিহ্ন মাথায় রেখে আজীবন পাথরের থালাকে হব্যিষান্নের গুঁড়ো দিয়ে ঠোঁটের ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছে নিরামিষ নিকোটিন  , আমরাও খাই মায়ের গলিত হাড়গোড়ের সাদা রসালো দুধ , মেন্ডেলিফ কোনদিন ভুল করেও একটি ধাতুকল্পের  তলপেট বিষ রচনা করেন না ফোবিয়া দ্রাক্ষা শূণ্য আপেল বৃক্ষ হলেই রসায়ন বমি উগরে চলি ইপিকাক খাওয়ার আগে , ফার্মেসীর ভেতর থাকা নীল আবহবিকারের পাঞ্জাবি মানুষেরা বৃত্তাকার শক্তিবর্ধক টনিকের ফাইভ এম এল খাচ্ছে  , শিখরের মানুষেরা নীল রঙের ভৌতিক পিচ্ছিল হয়ে ঈশ্বর মগ্ন হন স্তনবৃন্ত চাষাবাদে অসংখ্য মানুষের সঞ্চারপথ গড়ে দেয়  ডান কপাটিকা একাই নিরন্তর জেগে থাকে অনিদ্রা ও অনির্বাণ ঈশ্বরের নামে আবসলুট 3g কোন কফিশপের নাম নয় ধ্রুবতারার সাংখ্যমান খুঁজে চলেছে দৈর্ঘ্যহীন আয়তক্ষেত্রের ডান বাহু , জ্যামিতিক হয়ে যাওয়ার আগেই পিথাগোরাস আমাকে বাবা হওয়ার ধারালো শুক্রাণুর লেজগুলো উপহার দিয়ে গেছে মূর্ধন্য চিহ্নটি কসাইখানার মতো ============...

কবিতা ।। ভ্রমণকথা ।। দীপঙ্কর সরকার

ভ্রমণকথা    দীপঙ্কর সরকার প্রতিটি ভ্রমণকথা এঁকে বেঁকে যায় আলপথ জুড়ে আলোর ঠিকানা , বাতাসে ভাসমান রেখা দিগন্ত বরাবর ‌‌ আলগোছে ছুঁয়ে যায় রোদের কিনারা , ঘুমন্ত এ্যালবাম থেকে খসে পড়ে স্মৃতিচিহ্ন , টুপটাপ শিশির পতন যেন । বিরহে যাতনা থাকে তারও চেয়ে সূচিমুখে ফুটে ওঠে অলীক কল্পনা , কেবা কারা কোন পথে হেঁটে গেছে কতকাল প্রতিটি ভ্রমণকথায় লেখা থাকে স্মৃতিমেদুর সেই বিশদ বর্ণনা । =============== দীপঙ্কর সরকার কাঁঠাল পুলি (সিংহের হাটের কাছে) চাকদহ নদীয়া ৭৪১২২২

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা তোমাকে দিয়ে যাবো তোমাকে দিয়ে যাবো এই সম্পদ সমূহ নদী ও মাটি ,অরণ্য যাপনের শিহরণ যৌবনের বিধূর আত্মা রক্ত সত্রে  পাওয়া ইচ্ছাপূরণের অলীক বেদনা সংযোগে সম্পর্কে সম্পূৰ্ণ আলোছায়ার খেলায় যা সমর্পন তোমাকে দিয়ে যাবো কল্পনার শিবলিঙ্গকে সুখ দুঃখ নিরাময়ে যা চিরকাল অবতল আগুন মহৎ এবং বিচিত্র এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় ... আর বেপরোয়া ভিখিরির মতো শেষ কপর্দক তুমিও ঠিক আমার মতোই বুঝবে সেদিন আসলে কোনো দুঃখ ই ব্যক্তিগত নয় ... প্রতীয়মান খরিশ আর পদ্মপাতার কি কি মিল আছে আমি জানি না তবু মাঝে মাঝেই ছলনার খাতিরে ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে নিয়ে যায় জয়পুরের জঙ্গলে,বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বর্ডারে মাইথন জলাধার,সেখানে জলপিপির নাচ আর ঘূর্ণি বাতাস একজন যুবকের মনে যে ব্যাকুলতার জন্ম দেয় তা সারাজীবন গবেষনার বিষয় যে কোনও কবিতার শব্দে ছন্দে উপমায় কিংবা দুটি লাইনের মাঝখানে  এরকমভাবে কোন ও  সুচিত্রা সেন কিংবা জুলিয়া রবার্টস মিশে আছেন বরং বলা ভালো শুয়ে আছেন সৃষ্টির বিষণ্ন ইতিহাসে চিরকাল এবং নিয়ত মর্মর গাথায় তা প্রতিয়মান. ...  

কবিতা ।। পুতুলকথা ।। হামিদুল ইসলাম

পুতুলকথা হামিদুল ইসলাম                     খেলার পুতুল এখনো হাতে হাতে খেলে  খেলাঘরে আঁকা নীরব যাপন    ।। উচ্ছিষ্ট দিন  বন্ধুত্ব পোড়ে মনের গভীরে এখনো খেলে পুতুল। অদূরে ছায়া ছায়া নির্জন দুপুর     ।। আমরা রামগড়ুরের ছানা  পুতুলের সাথে করি ঘর  মানুষের ইচ্ছেগুলো ধীরে ধীরে পুতুল হয়ে যায়  আমরা হয়ে উঠি পুতুল মানব। কখনো হয়ে উঠি মানব পুতুল     ।। মানুষ কমবেশি এখনো নাবালক  প্রতিদিন মান্দাসে ভাসে  প্রতিদিন কষ্টের সাগর পাড়ি দেয় ঘাম নুন জলে ভেজা দুচোখের তারায়     ।। আঁধারে জমে ওঠে সোহাগী রাত  পুতুল হয়ে ওঠে স্বপ্ন বিন্দাস। স্নানঘরে ভেজা ভেজা মেঘ    ।। কথা বলে না পুতুল  পুতুল এখন বেআব্রু রাতের সহবাস  পড়ে থাকে অনশ্বর পুতুল। অনশ্বর পুতুলকথা। জীবনকথা   ।। অকথাঘরে এখনো জন্ম নেয় হাজার হাজার অনশ্বর পুতুল    ।। __________________________________________ হামিদুল ইসলাম গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর।  ______________...

কবিতা ।। চিরায়ু কার্বন ।। সুবীর ঘোষ

চিরায়ু কার্বন সুবীর ঘোষ   এ-শহরে আর কোনো কীর্তনিয়া নেই, তা কী জানো ? লাঞ্ছিত চীবর ওঠে দুর্বিনীত ধীবরের জালে,   এ-সময় সকলেই অতিজীবিত তারার কাছে মুখাপেক্ষী থাকে, ভোররাতে পাখিদেরও এলার্ম ঘড়িতে নামে ঘুম । পার্থেনিয়ামের নাগাল পেরিয়ে অনূঢ়া ধুঁদুল ঝোলে আজও , আমাদের স্বপ্ন ভাতে ছাই ফেলে রাজপথ ধার ঘেঁষে শিল্পায়ন । পেট্রোল কী অত দাহ্য যত জ্বলে পুরুষরুধির ? দাবানল বন জ্বালে ; এ-শোনিত সমাজ জ্বালায় ।   সেপ্টেম্বর মাস এলে এ-পৃথিবীতে দম্ভেরা নতজানু হয় , বৎসর বৎসর যায়—হাইড্র্যান্ট ভরে ওঠে মানবশোনিতে, লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে থাকে চোরাশিকারির মারা বিষমাখা তির, উত্তরসূরির হাতে ন্যস্ত হয় বাতিল উইল আর চিরায়ু কার্বন ।   তবু এই দাদনের দেশগাঁয়ে ভাদ্রের সতেরো আসে ঠিক , আমি তার এক ফাঁকে জন্মকুক্ষিগুহামুখ থেকে উঁকি মেরে দেখে নিই এ-সংসার কতখানি বাসযোগ্য হল , আস্ফালনের পৃথিবীতে আপাদমস্তক জীব একটাই—কেঁচো—           ...

কবিতা ।। পলাশ-আগুন ।। সুমিত মোদক

পলাশ-আগুন  সুমিত মোদক এবার পলাশ বনে আগুন জ্বালাবে কে ! আগুন-পলাশ … এবার কে খবর দেবে পলাশ বনে কুঁড়ি ধরেছে , ঝোরার জল শব্দ তুলছে … শব্দ তুলছে মাদল … কে খবর দেবে ! আমি তো এখন বসন্ত-গান বাঁধছি ; আমি তো এখন একতারায় সুর তুলছি ; অথচ , আমি আমার মধ্যে নেই , তোমার মধ্যে নেই ; তুমিও … এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলছি আমরা , আমাদের প্রজন্ম … জানা নেই ; হয় তো এখন কোনও এক আদিবাসী রমণী  বাড়ির মাটির দেওয়াল জুড়ে  ছবি এঁকে চলেছে মনের আনন্দে ; বসন্ত এসেছে যে … হয় তো কোনও এক আদিবাসী পুরুষ তির-ধনুক ঠিক করে রাখছে  শাল-পলাশের জঙ্গলে শিকারে বার হবে বলে ; কারণ , বসন্ত এসেছে যে … তুমি এখন জঙ্গলমহল থেকে অনেকটা দূরে ; আটপৌরে মানুষের কাছ থেকেও … আমি কিন্তু , পলাশ নেবো কুড়িয়ে ; হাঁটবো রাঙা ধুলো উড়িয়ে ; মাদল , ডাক পাঠাবে জানি ; মহুল , ঘ্রাণ ছড়াবে জানি ; এবার পলাশ বনে আগুন জ্বালাবো আমি ; পলাশ-আগুন … ===================== Sumit Modak , " Sonajhuri " , Po : Dighir Par Bazar , Falta , 24 Pgs (s) , pin : 743503 , W.B , India

কবিতা ।। রাত ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

রাত নিরঞ্জন মণ্ডল আকাশ ভরা তারার মাঝে একলা চাঁদের মায়া তার গায়েতে জড়িয়ে আছে কোন পরানের ছায়া! এই মাটিতে আকাশ মুখো তাকিয়ে থাকা গাছ নাড়িয়ে পাতা পতপতিয়ে করছে বুঝি আঁচ। তিরতিরে জল নদীর বুকে তাই কি জাগে ঢেউ? ভাবুক হত গহিন রাতে দেখত যদি কেউ। চাঁদের মায়া ঘাসের বুকে জোছনা হয়ে ঝরে খুশির খবর ছড়িয়ে গেলে দিক ভোলানো চরে নিশার ডাকের মতোই ডেকে রাত জাগানো পাখি নিঝুম গাঁয়ের কপাল ছুঁয়ে পরায় হাতে রাখি। সেই পরশে ঘুম ছুটিয়ে মুখর হলে  গাঁও দাঁড় ছপছপ উঠবে দুলে সুর ঝরানো নাও। সুরের তালে শিমুল ডালে খসবে কিছু পাতা মধুর ভারে পাতার আড়ে নড়বে সফেদ মাথা মহুল ফুলের ; শাল পিয়ালের বুকেতে ধুকপুক দুকান পেতে শোনার পরে কাঠবেড়ালির সুখ ছড়িয়ে দিয়ে নরম হাওয়ায় তাকিয়ে আকাশ পানে চনমনিয়ে লেজ নাচাবে কোন সে গোপন টানে! ঘটলে এসব দিগরেখাতে খুলবে আকাশ দোর আলতা আবির ছড়িয়ে দিয়ে উঠবে হেসে ভোর। ------------------------------------ নিরঞ্জন মণ্ডল রাজারহাট/উত্তর24 পরগণা/কোলকাতা-700135।

গল্প ।। ভ্যাসেকটমি ।। চন্দন মিত্র

ভ্যাসেকটমি চন্দন মিত্র নতুন জায়গায় সহজে ঘুম আসার কথা নয়, তার উপর এত বড়ো দায়িত্ব ! নীলেশ কিছুতেই দুচোখের পাতা এক করতে পারে না। অথচ তার সঙ্গীদের প্রায় বেহুঁশ দশা। তাঁদের ঘুমের ভঙ্গিমা ও নাসিকাবাদন শুনলে সহজেই অনুমান করা যায়, দ্রব্যগুণ তাঁদের এক নিরুদবিগ্ন জগতে পৌঁছে দিয়েছে। নীলেশের তিনজন সঙ্গী তার তুলনায় যথেষ্ট বয়স্ক, অভিজ্ঞ ও বটে। ফলে গান অনুযায়ী তাল দিতে তাঁদের জুড়ি মেলা ভার।      নীলেশ, তার চাকরি জীবনে এই প্রথম এমন গুরুতর দায়িত্ব পেয়েছে। ফলত কদিন যাবৎ সে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করেছে মনে মনে। কিন্তু প্রয়োজনীয় লটবহর নিয়ে এখানে আসার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তার মনের যাবতীয় রোমাঞ্চ উবে গেছে। সেই শূন্যস্থানের দখল নিয়েছে একরাশ অভূতপূর্ব উদবেগ। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও স্নিকার পরিহিত, গলায় কুকুরের চেনের মতো মোটা সোনার হার ঝোলানো এক প্রৌঢ় এসে সন্ধ্যাবেলায় যা ফিরিস্তি দিয়ে গেছেন, তাতেই ঘর থেকে যাবতীয় স্বস্তি বিদায় নিয়েছে। নীলেশ তখন কাগজপত্রের বান্ডিল নিয়ে বসেছিল। প্রৌঢ় তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, আরে ভাই আপনি তো একেবারে ছেলেমানুষ। সম্ভবত প্রথমবার ...

কবিতা ।। খাঁটি গরুর-দুধ ।। মাথুর দাস

খাঁটি গরুর দুধ মাথুর দাস ঘোষের অনেক মোষ ছিল আর একটি গরু কালো, জার্সি গরুর খাই-খরচায় অনেক খরচাপাতি ; খদ্দের তার ছিলই অনেক ব্যবসা ছিলই ভালো, কিন্তু সবাই চায় গরু-দুধ এবং হয় যেন তা খাঁটি । মোষের দেওয়া অনেক দুধ, যাবেই কি সব ফেলা ? দই ছানা আর পনির এবং মিষ্টি দোকান কিছু, তাতেও বাড়তি দুধ নিয়ে তার চিন্তা যে নেয় পিছু ; 'মোষ'-কে 'গরু' বানাতে ঘোষ করলো শুরু খেলা । এক লিটারে তিন লিটার জল কিছু গুঁড়ো সাবান, মিশিয়ে কিছু অ্যারারুট আর চিনি ও গোলা চক দেখতে থাকে ল্যাক্টোমিটার ডুবছে কত তক ; 'খাঁটি গরুর দুধ'-এ তুষ্ট তার খদ্দের ভগবান । ********* ********************** মাথুর দাস, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান *******************************

কবিতা ।। চুপকথা ।। শ্রীমন্ত সেন

চুপকথা শ্রীমন্ত সেন   জমানো অক্ষরগুলি ছটফট করে বুকে শুধু কিছু কথকতা বাকি রয়ে গেল বলে, গোধূলির ম্লান রঙে কী যে ছায়া ভাসে দুখে, শেষ আলোটুকু বুঝি আজকেও যায় চলে।   সারা রাত যাবে আজও নিদ্রাহীন অবসাদে, সারা রাত থমধরা একরাশ শুধু কালো, জীবন খণ্ডিত হয় অকরুণ অপবাদে, নৈঋতের অভিমানে ঝুলে থাকে ম্লান আলো।   জলছাপে-জলছাপে কায়াহীন অপলাপে ডুকরিয়ে কেঁদে ফেরা হাহাকার সব জানে, যতটুকু মায়া ছিল গহীন সত্যের মাপে চুপি-চুপি কী যে বলে উতল হাওয়ার কানে।   এভাবেই দিনরাত একাকার ভাবঘোরে, এভাবেই চুপকথা কাঁদে উদয়ের দোরে।    ====================== Srimanta Sen, 29/A/1, Bhagirathi Lane, P.O.- Mahesh, Dist.- Hooghly, PIN- 712 202

কবিতা ।। ব্যর্থ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

ব্যর্থ তীর্থঙ্কর সুমিত আমাদের ছোটো নদী বড় হলো কবে ভালোবাসা ঘিরে ধরে চোরা স্রোতটাকে এই নিয়ে হুল্লোড় টানা খুশি বুকেতে কবে নদী বড় হলো কে জানে সেটাকে। কিছু কথা জমা আছে পাথরের গায়ে কিছু কথা জমিয়েছি বাকলের ছালে বাকি কথা ভেসে গেছে চোরাস্রোত নদী কথা কিছু বাকি আছে নদী স্রোত কালে। বন্ধুরা আজও দূরে শীলালিপি ছোঁয় আঙুলের স্পর্শে কাটা ঘুড়ি উড়ে যায় তোমাদেরই কাছে আজ মিনতি করি বন্ধুরা এসো কাছে স্বপ্নেরা ক্ষীর খায়। মনে আছে জমা মেঘ বৃষ্টিরা আসবে ভালোবাসা দূরে যাবে কথাতে ভাসবে।  ========= তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়া  হুগলী  ৭১২১৩৯

ছড়া ।। বউ এসেছে দুয়ারে ।। মনোরঞ্জন মিদ্দে

বউ এসেছে দুয়ারে মনোরঞ্জন মিদ্দে            দেখতে দেখতে সময় গেল বয়স হলো ষাট, কুড়ি থেকেই বিয়ে করার ইচ্ছে জমজমাট । কিন্তু কোথায় পণের টাকা অভাবী দিনরাত, না ছিল মোর কানা কড়ি বিষয় জমিজিরাত । মা বলতো, ওরে খোকা শেখনা লেখাপড়া, অকালে তোর বোনটা এবং  বাবাও গেল মারা । এখন আর কিচ্ছুটি নেই সম্বল ভিটে বাড়ি, মন দিয়ে শেখ লেখাপড়া কেন করিস আড়ি ? কিন্তু সেদিন নিইনি কানে দুঃখী মায়ের কথা, এখন ষাটে হেঁসেলে বসে বক্ষ ভাসে ব্যাথায় । হঠাৎ সেদিন বলছে সবাই শুনেছ দাদা খবর, দুয়ারে সরকার বউ দেবে গো হেতু হলেই জবর । ঘুম আসেনি গোটা নিশি উঠেছি কাক ভোরে, শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে দেখি বউ এসেছে দ্বারে । ---------------------

ছড়া ।। শীত বুড়িটা ।। রিয়াদ হায়দার

শীত বুড়িটা রিয়াদ হায়দার ভোরের বেলা গাছের পাতায় শিশির ঝরে টুপ, ঘুমিয়ে তখন গ্ৰাম ও শহর একেবারেই চুপ ! ঘুমটা ভেঙে আমি যখন বারান্দাতে হাঁটি, হিমের পরশ গায়ে মেখে ভিজতে থাকে মাটি ! আবছা আলোয় রবির ছোঁয়ায় নতুন সকাল আসে, চারিদিকে পাখির কুজন তখন কানে ভাসে !   প্রথম ট্রেনের সাইরেনটা যেই না বেজে ওঠে, সাত সকালে কতো মানুষ তখন কাজে ছোটে ! শীতের ছোঁয়ায় নতুন সকাল কুয়াশার মেঘ ঢাকে, কচিকাঁচা লেপের তলায় আদর মেখে থাকে ! এমনি করেই শীত বুড়িটা যখন আসে ঘুরে, পিঠেপুলি চড়ুইভাতি মন চলে যায় দূরে ! ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, রিয়াদ হায়দার বসন্তপুর, পোস্ট - চাঁদনগর থানা - ডায়মন্ড হারবার জেলা - দঃ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

কবিতা ।। ইঁদুরকল ।। প্রতীক মিত্র

ইঁদুরকল প্রতীক মিত্র গুগল ঘেঁটে জানলাম, বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ইঁদুর বেশ ওপরের দিকে। কলে তাই সে ধরা দেয় না। খাবারে বৈচিত্র্য, স্বাদ সব চেষ্টা করে দেখেছি। হয় সে সেই খাবার খায় না নয়তো খেয়ে পালায়। আর আমি তাকে বোকা ভেবে ধরেই নিয়েছিলাম  বাগে আনতে পারবো। বিষে কাজ হয়নি। দরজা-জানলা বন্ধ করে কাজ হয়নি। তাই ইঁদুর কল। লোকজন বলেছিল, এই সব আজকাল আর চলে না। ইঁদুর তাহলে সত্যিই ধূর্ত। ইঁদুরও আধুনিক। আর আমি কিস্তিমাতের কথা ভাবছিলাম। আচ্ছা, তাহলে যারা আমাকে  বা আমার মতন আরো অনেককে হেলায় বোকা বানাবে বলে কিস্তিমাত দেবে বলে চেয়ারে বাহারে রঙ করে সিংহাসন বানাচ্ছে, ঘুঁটি সাজাচ্ছে নিজের মতন করে; কলে ফাঁদ পাতছে লোভনীয়... তারা কি জানে আমার আমাদের সম্ভাবনার কথা? প্রয়োজনে আমরাও চমক দিতে পারি। বোকা বানাতে পারি তাদের অতিচালাকিপনাকে। ভাগ্যিস গুগলে ইঁদুরের কথাই বলা হয়েছে! =========== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235,হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। স্বপ্নসন্ধানী ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী

স্বপ্নসন্ধানী   সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ঘোরতর গৃহী আমি শুধু অমৃতকুম্ভের সন্ধানে আজন্ম সন্ন্যাসী হতে চেয়েছি। ছাপাখানার গলি কাগজের গন্ধ ওড়া বাদামী পাতার পাঁচালী। এক অনামী রোদ্দুরের অমলকান্তি  প্রতি বই উৎসবের সহযাত্রী আমি সামান্য সঞ্চয় নিয়ে স্বপ্ন কিনে অনি। ঘোরতর গৃহী আমি ফকিরের ঝোলা কাঁধে স্বপ্ন সন্ধানী বইমেলার সামান্য পুস্তকপ্রেমী। ------------------------------------------------------ সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। জয়ন্তী গাজীপুর হাওড়া।

ছড়া ।। হারিয়ে গেছে ।। বদ্রীনাথ পাল

হারিয়ে গেছে বদ্রীনাথ পাল   একটা ছিলো বিশাল দিঘি, টলটলে তার জল- ঢেউয়ের দোলায় সেই জলেতে দুলতো শতদল। আম জাম আর কাঁঠাল গাছের একটা ছিলো বন, পাখ-পাখালি সেই বনেতে খেলতো অনুক্ষণ। ঠিক পাশেতেই একটা ছিলো সবুজ ভরা মাঠ, চলতো খেলা সেই মাঠেতে, বসতো সেথায় হাট। গাঁয়ের শেষে একটা ছিলো মাটির কুঁড়ে ঘর, গান গাইতো সেই কুঁড়েতে বাউল দিগম্বর হারিয়ে গেছে এখন সেসব, গ্ৰামটিও আর নাই, দিন বদলের ডাক শুনে সে বিদায় নিলো ভাই। নেই চেনা পথ, নেই বাদাবন, নেই সে মানুষ আর- কান পাতলেই শুনতে যে পাই কেবল হাহাকার। ----------------------------------------------------------------------------------        বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোষ্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া,৭২৩১২১, ফোন-৮১৫৯০৭৬৫৪৮, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত ----------------------------------------------------------------------------------

কবিতা ।। ফাগুন মানে... ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

ফাগুন মানে... রঞ্জন কুমার মণ্ডল ফাগুন মানে,গাছের শাখায় হাসে কচিপাতা মৃদু মলয় হয়ে মধুময়,কয় বসন্তের  কথা। ফাগুন মানে, রঙিন ফুলে মধুর হাসি ঝরে  ফুল বাগিচায় প্রাণোচ্ছ্বাস বসন্তপ্রেম ফেরে। ফাগুন মানে,জাগে লাবণ‍্য কিংশুক চলে দুলে  রক্ত রাগের খেলা চলে  অশোক ছাতিম ফুলে। ফাগুন মানে, হলুদ আভায় মাতে রাধাচূড়া বকুল গন্ধের মদিরতায় জেগে ওঠে পাড়া। ফাগুন মানে, রঙিন ডানায় প্রজাপতির ওড়া লাল হাসিতে  কষ্ণচূড়া সত‍্যি নজর কাড়া। ফাগুন মানে,শিমুল পলাশ প্রেমের আগুনজ্বালে  ফাল্গুনী প্রেম উজাড় করে মন বিনিময় চলে। ফাগুন মানে,কোকিল ডাকে কুহু কুহু তানে  প্রকৃতি মা বদলায় রঙ  প্রশান্তি আনে মনে। ফাগুন মানে,পুষ্পে পুষ্পে চলে অলির নৃত‍্য আম মুকুলের সুগন্ধি বাস ভরিয়ে দেয় চিত্ত।n ফাগুন মানে,হোলি উৎসব হর্ষে আবীর খেলা নৃত‍্যে,হাস‍্যে,লাস‍্যে মেতে দোল দিয়ে যায় দোলা। ফাগুন মানে,ফাগের রাগে মন যে মাতোয়ারা  মন ফাগুনে ঝরে আগুন মেতে ওঠে প্রেমিকেরা। =========== রঞ্জন কুমার মণ্ডল সারাঙ্গাবাদ,মহেশতলা,দঃ২৪ পরগণা পিন -৭০০১৩৭. পশ্চিমবঙ্গ।  ফোন নং- +91 8240249978

ছোটগল্প ।। জল চলে না উজানে ।। সৌমেন দেবনাথ

জল চলে না উজানে সৌমেন দেবনাথ   প্রবাদ আছে, গাঙে গাঙে দেখা হয় তো বোনে বোনে দেখা হয় না। চোখের দেখা না হলেও মনের দেখা হয় ছাড়া কি! বুলি আর দুলির দেখা হওয়া অসম্ভব কোনো ব্যাপার না, তবুও তারা একে অপরের সাথে দেখা করে না। দুই বোনের মধ্যে কিভাবে দূরত্ব সৃষ্টি হলো সেটা আগে বলি। বুলির স্বামী কোটিপতি, ব্যবসায়ী কিন্তু রঙে একেবারে মরা। বুলি আর দশটা মেয়ের মত না হওয়ায় কালো স্বামীকে অনায়াসে গ্রহণ করতে বাঁধেনি। বিবাহের আগে দুলি বিবাহে বাঁধা দিয়েছিলো। বুলি বলেছিলো, সুন্দরের মধ্যে সুখ থাকে না। আর জীবনও সৌন্দর্যসর্বস্ব নয়। বিবাহ হয়ে গেলো। দুই পরিবারের মাঝে সুন্দর সম্পর্ক হলো। দেবব্রতর সাথে বুলির বোঝাপড়া ভালো। একদিন দেবব্রত বললো, দুলি বড় বেশী সৌন্দর্যপ্রেমী। সৌন্দর্যই সত্য। বুলি বললো, সত্যই সুন্দর। সত্য চিরস্থায়ী। সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়। শারীরিক সৌন্দর্যের একদিন শেষ আছে। সুন্দর ও সাদা চামড়াকে নয়, সুন্দর ও সাদা মনকে ভালোবাসতে হয়। দুলি কি মনে সুন্দর? ওর কত রূপের অহংকার!  বছর যেতেই দেবব্রত আর বুলির কোলজুড়ে কৃষ্ণকালো পুত্রধন এলো। দুলি নাক বাঁকালো। কালোকে দুলি বড় ঘৃণা করে। দ্বীপকে কোলে নিয়ে দুলি বললো, বাব...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর

    রঙ বিবেকানন্দ নস্কর    আদুল স্রোতের টান  আঙুল রঙিন  চোখের পাতায় কৃষ্ণচূড়া  আদিবাসী মেয়ে বাজালো ফাগুন বীণ। বাসন্তিকা এমন বেআব্রু  আনমনা দক্ষিনা কোথায় যায় আবির বাতাস ঘ্রাণ  বিরহ বৃথা দায় । রঙ বিন্দু,স্বেদ বিন্দু  কিশোরী যুবতী হোক আদি প্রেম আদি ভাষা  রক্তাভ হাতের নখ । =============== বিবেকানন্দ নস্কর  সম্পাদক -ছন্দের ঘ্রাণ পত্রিকা  সন্তোষ পুর  পোঃ চাঁদ পালা  ফলতা  দ:২৪ পরগনা 

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

রঙ || নীল ডায়েরি

  দুটি কবিতা  নীল ডায়েরি  সময়ের জলছবি শহরের পিচগলা দুপুরে আজ ভীষণ একাকীত্ব, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া একমুঠো রোদ্দুর— যেন কোনো প্রাচীন লিপির অস্পষ্ট পাঠোদ্ধার। সবুজ সংকেত আসতেই তারা মিলিয়ে যায়, ঠিক যেমন আমাদের শৈশব ভিড় করে স্মৃতির স্টেশনে। আমি আজও খুঁজি সেই হারানো ডাকবাক্স, যেখানে চিঠিরা অপেক্ষার হলুদ রঙ মেখে বসে থাকে। অথচ এখন শুধু ইমেলের ইনবক্সে ডিজিটাল নীরবতা— হৃদয়ের মানচিত্রে জমা হচ্ছে কেবলি ধূসর বালুচর। সময় তো নদী নয়, সময় আসলে এক আয়না, যেখানে আমরা প্রতিদিন অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠি। মায়া ও মৃত্তিকা মাটির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আদিম এক ঘ্রাণ, সেখানে শিকড় চেনে তার নিজস্ব ঠিকানার হদিস। আমরাও তো বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছি আকাশে, অথচ পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ ছাড়া সবটাই অলীক। কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটে ওঠে, তখন মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই আসলে এক আশ্চর্য শিল্প। বুকের বাঁদিকে আজ এক অদ্ভুত জোনাকির আলো, হয়তো কোনো প্রিয় মানুষের ফিরে আসার পদধ্বনি। পাখিদের ডানায় লেগে থাকা বাতাসের গান শুনে— বিকেলের বিষণ্ণতা মুছে যায় চেনা কোনো সুরের টানে। জীবন মানে তো কেবল ফুরিয়ে যাওয়া নয়, জীবন মা...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...