Skip to main content

Posts

কবিতা: উদয় সাহা

২০১৯ বনাম বিক্ষিপ্ত বর্ণমালা  ক কথায় আর কাজ হয়না।কথার কথাই সার 'মার... মার ' বলে ধেয়ে আসে চিৎকার। ট কোন টাকা আকাশী, কোন টাকা কমলা হাতে নিয়ে দেখেছি টাকা নাকি কালোও হয় কথাই শুধু শুনেছি  র রাস্তার কলে স্নান করি। স্নানের জলে আয়রন ফেল করেও পাশ করে যাই কিসের শালা বায়রন !  ফ কাটমানি, অবরোধ ---আড়চোখে ফূর্তি এই দলে ঠাঁই পেল আজকাল মূর্তি। প পয়সা দিলে অর্ধাঙ্গী রুখে দাঁড়ালে মর্দাঙ্গি!  চ রোগটা এখন বেশ ক্রিটিক্যাল। চিকিৎসা নয় সোজা সমাধান হাতের মুঠোয় ---হাতের কাছেই ওঝা। শ শহর সাজে, দেশ সাজে, যখন সাজে ফুটপাথ একই বৃন্তে দুটি কুসুম সবার জন্য ডিম ভাত। ব বৃদ্ধ দুজন প্রাণ হারায় দায়ী কোন ব্রোকারস্ বিশ্বকাপে হার মেনেছি। আমরা এখন চোকার্স। ম একটা মানুষ অনেক মুখ গেরুয়া, লাল, সবুজ সুখ... স সমস্যার মাত্রা অনেক, হয়না সহজ নিরসন লৌহ প্রতাপ ঠুনকো রঙ ; অস্ত্র এখন অনশন। জ জলের তোড়ে সব ভেসে যায় জলের এমন ক্যালি স্বপ্ন ছিল বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, ঘুরব রোজভ্যালি আ ...

নিবন্ধ: শেফালী সর

   কেমন আছেন আমার দেশের মানুষ        আমি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের একজন সাধারণ নাগরিক ও পশ্চিম বঙ্গের অধিবাসী। দীর্ঘ পরাধীনতার নাগপাশ থেকে ভারত মুক্ত ১৯৪৭সালের ১৫ই আগষ্ট। একদিকে সাম্প্রদায়িকতা অন্যদিকে ক্ষমতা লিপ্সা অখন্ড ভারতবর্ষের স্বাধীনতার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো।আর তাই অখন্ড ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরে পেলাম খন্ডিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা। শুরুতেই সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের শিকার হলাম,যার যন্ত্রণা আজ ও বহন করতে হচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের।     স্বাধীন ভারতবর্ষের রাষ্ট্র পরি চালনায় দিকনির্দেশনার জন্য যে লিখিত সংবিধান গৃহীত হলো, সেই সংবিধানে শিক্ষার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভূক্তি হল না। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাই টালমাটাল অবস্থা। এই বিষয়ে নানান সমীক্ষা নানান পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়েছে। তবুও সঠিক নিশানা পায়নি দেশের মানুষ। এতো গেল শিক্ষার কথা।        হঠাৎ এক সময়ে দেখা গেল দেশের কিছু মানুষ দলবদ্ধ হিংসায় উন্মত্ত হয়ে উঠছে। পঞ্চায়েতি শাসন ব্যবস্থা ও তার থেকে উৎপন্ন নূতন গণ নেতৃত্ব ই আমাদের এই রাজ্যে দলবদ্ধ হিংসার প্রকা...

মুক্তগদ্যঃ সত্যম ভট্টাচার্য

             সব স্বাধীনতা এক হয় না                              আগষ্ট মাস।সারাদিন প্রচন্ড রোদের পর বিকেল থেকেই আকাশের মুখ গোমড়া হয়ে এসেছিলো। আর এখন অঝোরে ঝরছে।কদিন ধরে এমনটাই হয়ে চলেছে।মাঝে তো কদিন আবার দিনরাত একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়েই চললো। আমাদের নীচু শহরের অনেক জায়গায় জল উঠে এলো। তার মধ্যে দিয়েই চললো আমাদের দৈনন্দিনের অফিসে যাতায়াত।ছুটি বাঁচাতেই হবে যে কোনভাবে।আর যাদের হাতের অন্ন খেয়ে আমাদের দিন কাটে,তারাও কিন্তু এলেন ,প্রায় নিয়মিতই। মাঝে হয়তো একদিন নীচু এলাকায় নদীর জল উঠে আসাতে আসতে পারেননি,কিন্তু প্রতিদিনই প্রায় এসেছেন।মাঝে মাঝে মনে হয় কি সেই জিনিস যা কোনরূপ লিখিত চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয়েও এই তথাকথিত অশিক্ষিত মানুষগুলিকে নিয়ে আসে প্রতিদিন নিজের নিজের কর্মস্থলে।উত্তর কি শুধু একটাই-অভাব?না তার সাথে কোথাও মিশে আছে একটু হলেও দায়িত্ববোধ।না কি এরা ডরায় সেই অমোঘ মুখঝামটাকে বা কাজ চলে যাবার ভয়কে। একদিন ইচ্ছে হলেও বিশ্রাম নিতে পারে না এরা,পারে না কোন নির্...

নিবন্ধ : অনিরুদ্ধ সুব্রত

গুজব এবং গণপ্রহার  বন্ধ করার দায়বদ্ধতা সকলের  ----------------------------------------------------------------------- পাড়ায় পাড়ায় বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের 'কিডনি কেটে নিয়ে যাচ্ছে' অথবা হিন্দিভাষী অপরিচিত যুবক 'জঙ্গি' অথবা বস্তা কাঁধে ময়লা পোশাক লোক 'ছেলেধরা'। না এর একটিও সত্যি নয়, নিছক সন্দেহ। অতএব শুধুমাত্র ঐ সন্দেহটুকু কখনও মুখে মুখে, কখনও সোস্যালমিডিয়া মারফত ছড়িয়ে দাও । এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গতিশীল বিষয় হলো গুজব । মুহূর্তে সহস্র হাজারে পৌঁছে যেতে যেতে সুতীব্র একটা সক্রিয়তা কিড়মিড় করে ধেয়ে আসে ঘটনার উৎসে। তার পর যা ঘটে তাকে তাণ্ডবলীলা বললেও কম বলা হবে।           ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি এই রাজ্যেও ডাইন-ডাইনি প্রসঙ্গ এখনও খেয়াল করলে শোনা যায় । কিছুটা অস্বাভাবিক-দর্শন সঙ্গতিহীন দরিদ্র মলিন পোশাক বা মানসিক ভারসাম্যের বিন্দুমাত্র অসংলগ্নতা থাকলেই উপযুক্ত ভূমি রচিত । বহুকাল থেকে প্রাকৃতিক, সামাজিক এমনকি ব্যক্তিগত পারিবারিক যে কোনও উদ্ভূত সমস্যার জন্য এই জাতীয় নিরীহের উপর 'অলক্ষ্যণ' মূলক তকমা সেটে অত্যাচার হয়ে আসছে...

কবিতা: পবিত্র কুমার ভক্তা

       লড়াই আদিম অন্ধকারে গায়ের চামড়া অবান্তর রিপু মাথা চাড়া দেয়, অস্ত্বিত্বের ফ্যাগোসাইটোসিস গ্যাংলিয়ন সমাজে, মর্সিয়া রচি সংবৎসর। স্নায়ুশৈথিল্য শিরদাঁড়া অভয়ারন্য খোঁজে অন্ধকার পথে শাড়ি উড়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে বিদ্রোহী যুবক নেশা করে লাশকাটাঘরে ঘাড় গুঁজে। গাছের গায়ে শ্যাওলা জমেছে, মিথ্যা মনেতে আরও একবার জেগে ওঠা দরকার বন্দেমাতরম ধ্বনিতে...   ............................. .................. প্রেরকঃ পবিত্র কুমার ভক্তা গ্রাম- পাটনা ,  পোঃ - অজয়া ,  থানাঃ- খেজুরী , জেলাঃ- পূর্ব মেদিনীপুর ,  পিন- ৭২১৪৩০ সম্পাদিত পত্রিকাঃ    "অক্ষর বিতান ' , " কমিউনিকেশন ' ' খেজুরীর মুখ ' [ সহ সম্পাদক] মোঃ ৯৭৩৪৪২৫৭০২ [whatsapp] 

কবিতা: সুমিত মোদক

আকাশ কুসুম সম্প্রীতির সুর [ ধর্মের জাঁতায় শিশুর সৎকার , কবর খুঁড়লেন মা নিজেই । -- আন্দন বাজার পত্রিকা , ২৯ মে ২০০৬  ] এখানে আমি বেশ আছি      ভাল আছি  সুখে আছি     শান্তিতে আছি ... জানি না,  এখন আমি কোথায় আছি  !  হিন্দুর স্বর্গে ! নাকি মুসলমানের বেহেস্তে !  এখানে হাজার হাজার সূর্য  হাজার হাজার নক্ষত্র     ধূমকেতু  এক মহাজাগতিক সংসার ... এখানে কোনো ধর্ম নেই     জাত নেই  নেই বর্ণ       বিদ্বেষ ... # ওখানে তুই কেমন আছিস , ভাই  ! আমাদের পূর্বপুরুষের হিন্দু ভারতবর্ষে !  আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে সম্প্রীতির দেশে  ! কেমন আছে আমার হিন্দু বাবা  মুসলমান মা ! কেমন আছে তোদের সমাজ      সভ্যতা  পরিবর্তনের গান ...  # সেই গানে ভেসে ছিল আমাদের বাবা-মা ; ভালবেসে বিয়ে করে ছিল ভিন্ন ধর্মের দুটি মানুষ ; মেনে নিতে পারেনি দুটি পরিবার  # দুটি সমাজ  ওদের পরিজন ! ওদের সংসারে...

মুক্তভাবনা: আবদুস সালাম

 ট্র‍্যাজিক   নায়ক : সুভাষচন্দ্র বসু       দ্বিখণ্ডিত হয়ে স্বাধীন হলো ভারত । ফিরে এলেন না আমাদের যৌবনের প্রতীক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু।বিমান দুর্ঘটনায়  মৃত্যু কাহিনী দেশময় চাউর হলেও আজও তা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য।বিমান দুর্ঘটনার কাহিনী তে এতো বেশী ছিদ্র যে অলীক কথকথার জল সহজেই‌ সেখানে ঢুকে  পড়ছে।      এত বড়ো মাপের একজন  নেতার মৃত্যু কাহিনীর তথ্য প্রমাণ  এতো বেশি অকিঞ্চিৎকর যে পরস্পর বিরোধী স্বাক্ষ‍্য এবং গোপনীয়তার চেষ্টা নানা রকম সন্দেহের উদ্রেক করে । জাপানের রনকেজী মন্দিরে অবস্থিত ছাই কাহিনী ও আমাদের মনে বিশ্বাসের তত্ত্ব উপস্থিত করতে পারে না।    বিশ্ববরেণ্য সর্বভারতীয় নেতার প্রতি আমাদের আবেগ, আমাদের আবেগের  উচ্ছলতা স্বাভাবিক ভাবেই উথলে ওঠে।তিনি ছিলেন  একাধারে কবি গুরুর স্নেহ ধন‍্য,চিত্তরঞ্জন দাশের পুত্র তুল‍্য এবং স্বামী বিবেকানন্দের উত্তরসূরী।উচ্ছল তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক সুভাষচন্দ্র  বাঙালি জাতিকে সাহস ও তারুণ্যের দীক্ষা দিয়েছেন।ভীরু বাক‍্যবাগীশ বাঙালি জাতি একজন উচ্চ শিক্ষিত, প্র...

কবিতা: নাসির ওয়াদেন

             কথা শুধু শব্দ নয়                              ১ দেশভক্তিকে একবার প্রশ্ন করেছিলাম কোন উত্তর আসেনি উত্তর আসার কথাও নয় কেননা উত্তর দেওয়ার লোকই তো দেশে নেই যারা দেশরক্ষার নামে আছে তারা পাহারাদারমাত্র আড়ালে আবডালে লুঠের রাজত্ব চলছে মিথ্যে দোষ দিয়ে লাভ কী ভাস্কর পণ্ডিতদের মিথ্যের গাড়ি চড়ে বেশি দূর যাওয়া যায় না ফিনিক্স পাখির ডানার ভেতর জনরোষ জমা আছে                         ২ হতাশা আর গ্লানি নিয়ে সূর্য ঢলে পড়লে প্রত্যাশার আকাশে চাঁদ  দেখা যায় চাঁদকে ভালবাসার ক্ষেত্রভৃমি নির্মাণে নাসা পারেনি ইসরো করে দেখাচ্ছে কেরোসিন,পেট্রোলের দাম বাড়লে ফড়েদের লাভ যারা লাভ খেতে খেতে রাঘব বোয়াল হয়েছে শীতল চোখে অপেক্ষা করছে তাদের শ্রীঘর                          ৩ অসহিষ্ণুতা আর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যখনই বাড়ে লোভের গতিবেগ হারে তখন...

কবিতা ।। সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

     সেই সংবাদ চারপাশে এবং ঘরের মধ্যে সময় পুড়ছে, বৃত্তের মধ্যে পুড়ছে মানুষ।  চেতনার গভীর থেকে উঠে আসছে ঘৃণাময় ধোঁয়া, ধোঁয়া ছুঁয়েছে বৃত্ত-বদ্ধ বিন্দুর হৃদয়,  তবু বিস্ফোরণে কাঁপেনি ঘন বসবাস। নির্লিপ্ত চোখের পাতা ছিঁড়ে নেমে এসেছে অভিমানী জল, শুধু বধ্যভূমির স্মৃতি কেরোসিন কুপির মতো টিম্ টিম্ জ্বলে সারারাত। এই তো সময়। সমস্ত কাঠিন্যের মধ্যে নির্মিত মানুষ, পারঙ্গম নারীকে এক সূত্রে বেঁধে নেবার। এখন সম্মোহনে পোড়ার থেকে ফিরে যেতে হবে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি, কারণ নিবিড় শোষনের জ্যামিতিক আচার বদলে গেছে অভিনব কায়দায়। এই তো সময়।  সেই সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে, সমূহ পাথর থেকে শরীরে শরীরে...         *=*= *=* SUDIPTA BANDYOPADHYAY. 7P/1, RAM ROAD, SARSUNA, KOLKATA-700061. PH-9432222463. """""""""""""""""""""""""""

অণুগল্পঃ সোমনাথ বেনিয়া

খোলা খাঁচা "আজ ফিরতে রাত হবে। অনেকগুলো পতাকা সেলাই করতে হবে। কালকে স্বাধীনতা দিবস। এক্সট্রা ইনকাম হবে। মালিকের কাছে কিছু না-হয় চেয়ে নেবো। মেয়েটার দুধ কিনতে হবে" - এই সব ভেবে দর্জি অনিল তাড়াতাড়ি হাত চালাতে লাগলো। অবশেষে কাজ শেষ করে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ‍্যে বাড়ি ফিরছে অনিল। হঠাৎ হ‌ইহ‌ই ...গেল-গেল ...ধর-ধর শব্দে ভিড় জমে গেল। রক্তে ভেসে যাচ্ছে অনিলের শরীর। কিছু লোক অনিলকে চাপা দেওয়া লরিটার পিছনে দৌড়ে গেল বটে, কিন্তু ধরতে না পেরে ফিরে আসছে। অনিলের গোঙানি বাড়ছে, বাড়ছে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের সংখ‍্যা।        এমন সময় দুম-দুম, ফট-ফট শব্দে আকাশ কেঁপে উঠছে। বৃষ্টি ধরে এসেছে। আলোকিত আকাশ ঘোষণা করল স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের ভূমিকা। তাহলে রাত বারোটা বেজে গেল। ততক্ষণে অনিলের দেহে শেষ নীরবতা বিরাজ করছে। বোঝা গেল অনিল এখন স্বাধীন। সে অন্নক্লিষ্ট, দুর্দশাগ্রস্থ, অবক্ষয়ের সমাজ-দেশ ছেড়ে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে সবকিছু ভালোর দেশের দিকে র‌ওনা দিয়েছে ... ==================================   সোমনাথ বেনিয়া ঠিকানা - ১৪৮, সারদা পল্লি বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা...

কবিতাঃ উত্তমকুমার পুরকাইত

একটা বুলেট ধেয়ে এলো    একটা বুলেট ধেয়ে এলো আমার টেবিলে  তারপর তোমার ক্ষত-বিক্ষত মুখ!  অরুনেশদা, মনে আছে সাতচল্লিশের কথা,  মনে আছে সাতাত্তর, কিংবা দু'হাজার সাত?  সিঙ্গুরের জমি থেকে হটে যাচ্ছে টাটাদের রথ।  তবু এই সতেরোয় কেন আসে ভাঙড়?  হাঙরের ছদ্মবেশে;  আর মোরো না অরুনেশদা  সব ঝান্ডা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে লাশঘরে  ওঠো,  একা একা হাঁটো  এখনও ধু-ধু করছে গুয়েভারার মুখ  এখনও ধু-ধু করছে গান্ধীজির বুক। *************&****************   উত্তমকুমার পুরকাইত শঙ্করপুর, পোস্ট- প্রাণবল্লভপুর, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-৭৪৩৩৯৫ মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ-৯৫৯৩১৩২৭৬৫

কবিতাঃ প্রণব কুমার চক্রবর্তী

        স্বাধীনতার চাওয়া পাওয়া                                          তোমাকে দিয়েছি অশ্রুমাখা নদী              শুকিয়ে যাওয়া ছিহ্ন স্বপ্ন -হার ,              আমার কাছে আর তো কিছুই নেই              চাইলে তোমায় কি দেবো বলো আর ?              স্বাধীনতার স্বপ্ন-অাঁকা ছবি              দেশপ্রেমের অমূল্য উপহার ,              মুখোসধারী নেতাদের ভারে              অাজ সেসব করছে হাহাকার !              চেয়েছিনু রৌদ্রমাখা দিন              জ্যোছনা মাখা নীল আকাশী রাত              পেলাম...

অমিয়কুমার সেনগুপ্ত ।।। কবিতা

এরই নাম রাষ্ট্র মহারণ্যে সিংহ মৃত । পাতি এক নপুংসক বাঘ অরণ্য ছারখার করে দাপিয়ে বেড়ায় । সে-ই তো নিজেকে ভাবে রাজা! তার যারা সন্তান-সন্ততি অন্য সব পশুদের নিপীড়ন করে । ফলে, অন্য সব পশু প্রাণভয়ে জনপদে নেমেই এসেছে । জনপদ এই রাষ্ট্র নয় । অরণ্যই রাষ্ট্রের বিস্তার । সেখানে মানুষ নেই, খোলসের মতন খানিক  বিষাক্ত লবণ পড়ে আছে । মানুষ তা ছুঁতে গিয়ে জীবন হারায়  মৃত ওই সিংহের কবরে কতিপয় পশ্যাধম নাচানাচি করে । সময় হারিয়ে যায় জিঘাংসার চাপে। মুখে কারও কথা নেই । সবাই নির্বাক । এরই নাম রাষ্ট্র,  এই কবরের অতল গহ্বরে জীবিত মানুষ সব চাপা থাকে, কেউই তার জেহাদ করে না। =============================== অমিয়কুমার সেনগুপ্ত,  হুচুকপাড়া বাই লেন, পুরুলিয়া 723101. M: 9434009741.

মুক্ত ভাবনাঃ ইতিকা বিশ্বাস

"আমার দেশের সম্পর্কে আমার কথা" ..................................................................... আমি আমার দেশ ভারতবর্ষকে খুব ভালোবাসি। ভালোবাসি প্রত্যেকটি মানুষকে। তবে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি আমার ভারতবর্ষের মানুষ অসহায় এবং শত দুঃখ কষ্ট ভোগ করে চলেছে দিনের পর দিন। খুব আঘাত করে আমার হৃদয়কে আমি মেনে নিতে পারিনা এই অবস্থাকে। আমি প্রত্যেকের জন্য সবসময়ই প্রার্থনা করি হে ঠাকুর সবাই যেন খুব ভালো থাকে হাসি খুশি থাকে। নতুন সূর্যোদয়ের মতো যেন নির্মল হোক দেশ। সন্ত্রাসের কালো ছায়া বিলুপ্ত হয়ে যাক চিরতরে। মানুষ স্বাধীন ভাবে বাঁচার সুযোগ যেন পায় এটা কামনা করি। ভালোবাসি ভিষন ভাবে আমার দেশকে। যখন ফুটপাতে শিশুরা ক্ষুধার জ্বালায় যন্ত্রণা অনুভব করে এবং অন্যের কাছে খাবারের দাবি করে দুহাত বাড়িয়ে অসফল হয়, তখন সেই করুন দৃষ্টি আমাকে ভিষন ভাবে উদ্বেগ করে তোলে। তখন মনে হয় ফুটপাতে পড়ে থাকা সকলকে নিজের কাছে আশ্রয় দিই অন্ন তুলে দিই তিনবেলা, কিন্তু কি ভাবে আমারতো তেমন অবস্থা নয়। এই ভেবে আবার দু-পা পিছে আসতে হয়। কি করবো সাধ আছে তবে সাধ্য নেই।      ক্ষুদ্র শিশুর কান্না অ...

সজল কুমার টিকাদারের কবিতা

হবি শপ থেকে  হবি শপ থেকে পাখিরা ডানা ঝাপটায় আকাশ ভেঙে ধরে আনার প্রথম প্রথম ক'দিন। মুখ ভারকরে অনশন করে তারপর বাঁচার জন্য দানা খায়। ওদের মধ্যে কেউ কেউ ঠিক  ওদের মত নয়। তারা সারা বছর শিক কাটার চেষ্টা করে আর আগস্টে হাতে হাতে  ত্রিরঞ্জিত পতাকা দেখলে  ক্ষেপে ওঠে! চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে প্রশ্ন করে--  'বলো, আমাদের স্বাধীনতা কেন কাড়লে?' --------------------------------------------------------------- সজল কুমার টিকাদার আরামবাগ,হুগলি পিন-৭১২৬০১ ফোন-৯৭৩২৮১৫৩৯৯.

সবিতা বিশ্বাসের কবিতা

স্বাধীনতার গান বিলের ধারে কলমী লতা ফুল ফুটিয়ে হাসে সাঁতার কেটে জল পিঁপিঁরা ভেলার মতো ভাসে বাতাস ছোটে মাতন ওঠে জলের কলতান সবাই ওরা আজ শোনালো স্বাধীনতার গান পথের পাশে লাজুক হেসে লজ্জাবতী লতা ফিসফিসিয়ে গুনগুনিয়ে কইছে কত কথা ফুটলো কলি জুটলো অলি খুশির ঐক্যতান গলা মিলিয়ে গাইলো ওরা স্বাধীনতার গান দৃপ্ত পায়ে ক্ষিপ্ত বেগে জয়ের অভিযান ওই চলেছে মাতঙ্গিনী আঁকড়ে অভিমান প্রাণ দেবোতো মান দেবোনা যতই আঘাত হান বুলেট বুকে গাইলো মেয়ে স্বাধীনতার গান মাঝির মুখে চাষীর বুকে ভালবাসার ঢেউ দেশ মায়েরে রাখবো ভালো দেবোনা ব‍্যথা কেউ ব্রিটিশদের দূর হঠাতে লক্ষ বলিদান উঁচিয়ে মাথা গাইলো সবাই স্বাধীনতার গান।                   ---------------   সবিতা বিশ্বাস প্রযত্নে-- লঙ্কেশ্বর বিশ্বাস গ্রাম ও পোস্ট -- মাজদিয়া ( বিশ্বাস পাড়া) (শুভক্ষণ লজের পাশে) জেলা--- নদীয়া। পিন-- ৭৪১৫০৭ ফোন--- ৮৯০০৭৩৯৭৮৮ ধন্যবাদ।

কবিতা ।। মানবেশ মিদ্দার

ভাগ করবোই মানবেশ মিদ্দার ভাগ ছিলো না! ভাগ ছিলো না! ভাগ ছিলো না! ভাগ ছিলো না,   'এক পৃথিবী সবুজ মোড়া মাটি।' ভাগ ছিলো না,   'কোথাও ধূসর পাহাড় ছবি আঁকা।' ভাগ ছিলো না,  'কোথাও সুনীল আকাশ ডোবা সাগর।' ভাগ ছিলো না,   'বন, ঝর্ণা, নদী আঁকা বাঁকা।' ভাগ ছিলো না,   'কোন্ পশুটা ভাগ করেছে বন?' ভাগ ছিলো না,   'কোন্ তিমিটা ভাগ করেছে সাগর?' ভাগ ছিলো না,   'কোন্ তারাটা ভাগ করেছে আকাশ?' ভাগ ছিলো না,   'গরম দিনে দখিন হাওয়ার আদর।' ভাগ ছিলো না,   'গাছ-গাছালি এক বনানীর ঘরে।' ভাগ ছিলো না,   'কোটি তারা এক আকাশের তলে।' ভাগ ছিলো না,   'আষাঢ় মেঘে বৃষ্টি বাদল ঝরে।' ভাগ ছিলো না,   'মানব শিশু এক পৃথিবীর কোলে।' ভাগ ছিলো না,   'বেশ তো ছিলো এক পৃথিবী প্রাণ।' ভাগ ছিলো না,   'একটা মানুষ দুটো মানুষ হলো।' ভাগ ছিলো না,   'এক পৃথিবীর একটা হৃদয় জুড়ে,' ভাগ ছিলো না,   'উঠলো পাঁচিল রক্ত বয়ে গেলো।' হাজার শিশু মানুষ হলো হৃদয় উঠল...

কবিতাঃ সুজাতা মিশ্র (সুজান মিঠি)

  বন্দে মাতরম ছুটতে ছুটতে দোকানে এলো বুলি, হাঁপাতে হাঁপাতে  বললো, "উ লালুদাদা, এক কিলো সাদিনতা দাও দিকিন মুর বুন ভাইগুলান খাচ্ছেক, আমু চাইলম,তো বলে 'যা, কিনে লিয়ে আয়।' দাও তো মুকে, খাই বেসটি করে।" লালু দেখলো, অনেকদিন পর সুযোগখান পেয়েছে সে, বলে, "উটা তো দুকানে পাওয়া যায় লা কিনা, চল মুর  সাথে, লিয়ে আসবি। আর গুরমা গরম খাবি।" স্বাধীনতার স্বাদ পেতে বুলি লালুর পিছন পিছন গিয়ে  ঠেকলো গ্রামের শেষ প্রান্তের ভাঙা মন্দিরে, লালুর শক্ত দুটো হাত বুলিকে টু ফ্যা করতে দিল না।  রক্ত আর কান্না কাদার সঙ্গে মিশে বয়ে যেতে লাগলো  সারা শরীর জুড়ে তার। লালু স্বাধীনতা খায়িয়ে চলে গেল। সন্ধেবেলায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল বাপমায়ে, আর  তারপর উদুম মার। নিস্তেজ শরীরটা উল্টে পড়লো  খড়ের বিছানায়। দিনদশেক বাদে যখন বুলি ঘর থেকে বেরোয়, পথে লালুর সাথে দেখা, "এ বুলি, বল কেনে, সাদিনতা কেমন খেতে? আর খাবি লাকি?" একদিন দুদিন তিনদিন রোজ রোজ প্রতিদিন তাকে সাদিনতা খাওয়ার প্রস্তাব দেয় লালু। আর তারপর কেটে গেল এক বছর। ফিরে এলো আবার সেই দিন। স্বাধীন...

অষ্টপদ মালিক ।। কবিতা

জন্মদিনের উপহার জন্মদিনে তোমাকে কি দেবো ভেবে ভেবে বড়ো অস্থির হয়ে পড়েছি । একখানা বই দেবো ? নিজের মনে ভাঙাগড়া খেলা চলে বই তোমার কি কাজে লাগবে ! তুমি তো নিরক্ষর । তোমার পাংশু মুখের দিকে তাকিয়ে আমিও কম কষ্ট পাইনা ! কোথায় তোমার গা-ঢাকা বস্ত্র কোথায় তোমার ক্ষুধা নিবারণের অন্ন। আজও খোলা আকাশের বারান্দা তোমার ঘর । আর অপেক্ষার পালা গুনবো না আজ পনেরো ই আগষ্ট ,তোমার জন্মদিন তোমার দুঃখের সাগর ভালোবাসার মাটি দিয়ে ভরিয়ে দেবো নতজানু হয়ে শপথ নিলাম । ======================            অষ্টপদ মালিক    পাঁচারুল, হাওড়া- ৭১১২২৫     মোবাইল: 6295321758

স্বরূপা রায়ের কবিতা

স্বাধীনতা যে দেশে আজও হাজার হাজার পেট অভুক্ত থেকে যায়, যে দেশে আজও বেশিরভাগ মানুষ পথে রাত কাটাতে বাধ্য হয়, যে দেশে আজও কন্যাশিশুর জন্মের আগে ভ্রূণহত্যা হয়, যে দেশে আজও বাবা-মা ছোট ছেলেকে অভাবে কাজে পাঠায়,  যে দেশে আজও পুরুষকে অর্থ জোগানের মেশিন ভাবা হয়, যে দেশে আজও গায়ের কালো রঙ দিয়ে মানুষের বিচার হয়, যে দেশে আজও ধর্ষণের পর ধর্ষককে না, ধর্ষিতাকে দোষী মানা হয়, যে দেশে আজও পণ নামক অপরাধের জন্য বধূহত্যা হয়, যে দেশে আজও একজন নারী সম্পূর্ণ রূপে নিরাপদ নয়, যে দেশে আজও সন্তান বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, যে দেশে আজও অন্নদাতা কৃষককে আত্মহত্যা করতে হয়, যে দেশে আজও প্রাপ্য চাকরির জন্য অনশনে বসতে হয়, যে দেশে আজও রাজনৈতিক লড়াইয়ে ভাইয়েভাইয়ে খুন হয়, যে দেশে মনুষ্যত্বের ঊর্ধ্বে ধর্ম এবং জাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেই দেশে ৭৩ বছরের স্বাধীনতা পালন করা কী মানায়? ================================== নামঃ স্বরূপা রায় ঠিকানাঃ উত্তর ভারতনগর, ১০, বটুকেশ্বর দত্ত সরণি, পো- রবীন্দ্র সরণি, জেলা- দার্জিলিং, শিলিগুড়ি-৭৩৪০০৬ ফোন নংঃ ৮৬৩৭৫২৮৯২৫ হোয়াটস্যা...

'পাখী'র কবিতা

স্বাধীন ভারতের মেয়ে ভালো থাকিস ও মেয়ে তুই দুঃখ কেন করিস পৃথিবীর সমস্ত সুখ তোর হাতেই ধরিস। লাগবে না তোর চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক, মুখে কোনো প্রসাধন মাথায় গুজে নিস কিছু লাল জবা বেনারসির হবে না প্রয়োজন। রাস্তার পাশে ইটের উপর শুয়ে, পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে যে মানুষটি তার দিকে চেয়ে দেখ মশার সাথেও তার হয়েছে মিতালী, কারো সাথে নেই কোনো সংঘাত। বিড়াল ছানা দুটির সাথে করে নে তুই সুখ ভাগ জোছনাকে গায়ে মেখে সোহাগী হ আঁধার আঁধারেই পড়ে থাক। মালা বদল করিস সেই ছেলেটির সাথে যাকে পছন্দ করেছে বাবা মা জেনে রাখিস গুরুজনের আশীর্বাদের কোনো বিকল্প হয় না। জুঁই-চামেলীর হাসি ছড়িয়ে শশুর শাশুড়িকে ভালো রাখিস, ভালো থাকিস ===========================           পাখী             11-8-19

কবিতাঃ সম্পা পাল

জন্মভূমি পৃথিবীর সব দেশ সুন্দর পৃথিবীর সব মানুষ ভালো শত্রু বলে কাউকেই মনে হয় না পৃথিবীর সব নদীতেই নামতে ইচ্ছে  হয় সব পাহাড় থেকেই সমতল ভালো লাগে তবে দিনের শেষে আমার দেশেটাই শুধু ঘরে ফিরতে বলে। আর মরণ চিন্তা এলে শুধু গঙ্গাকেই মনে পড়ে....... এটাই কি জন্মভূমি ? =================== সম্পা পাল, শিলিগুড়ি

কবিতা: তরুনার্ক লাহা

        স্বাধীনতা  অত্যাচারে অত্যাচারে জর্জরিত  সবার দেহ রইল না কেউ চুপ করে আর করল সবাই যে বিদ্রোহ । ফাঁসির দড়ি পরল গলায় শহিদ হলো আরো কত গুলিতে বুক ঝাঁঝরা হলো মরল মানুষ শত শত। গান্ধী এলো,এলো সুভাষ  এলো বিনয় দিনেশ বাদল এলো সূর্য কল্পনারা বাজল স্বাধীনতার মাদল। রক্ত লেখায় লেখা হলো স্বাধীনতার এই ইতিহাস  স্বাধীন হলাম,কেউ তো আবার খেলল কত বিভেদের তাস। স্বাধীনতার মন্থনে হায় উঠল অমৃত উঠল যে বিষ পেলাম আমরা স্বাধীনতা  তবু ব্যাথা পাই অহর্নিশ। এখন মনে প্রশ্ন জাগে সত্যি কি ভাই আমরা স্বাধীন দেশের মধ্যে নেই কি গরিব  সবার মুঠোর মধ্যে সুদিন? দুঃখ মনে থাকবে না আর আমরা স্বাধীন মুক্ত এবার স্বাধীন সবাই যদি থাকে অন্ন বস্ত্র শিক্ষা সবার।                *** তরুনার্ক লাহা বেলিয়াতোড় বাঁকুড়া

সুমন নস্করের ছড়া

         মহান ভারত আমরা সবাই ভারত বাসি এ দেশ মোদের গর্ব, জন্মভূমি এ দেশটাকে করব না কেউ খর্ব৷ পরস্পরে বাসব ভাল দেখব সবার হাসি, সব ব্যবধান ঘুঁচিয়ে বলো আমরা ভারত বাসি৷                        ৷৷২৷৷ আমরা সবাই ভারত বাসি এ দেশ মোদের মা, জন্মভূমি মায়ের রূপের নেইকো তুলনা৷ মাথায় যে তার তুষার রাশি ঘোমটাখানি টানা, পা ধোয়াতে ঢেউয়ের রাশির একটুও নেই মানা৷                        ৷৷৩৷৷ আমরা সবাই ভারত বাসি এক দেহ মন প্রাণে, সবাই সবার বাসব ভাল এক মিলনের গানে৷ ভারত আমার মহান ভারত আসুক মহা যোগ, সংহতি আর বিশ্ব দ্বারে সবার সেরা হোক৷ ============================== সুমন নস্কর ৷৷ বনসুন্দরিয়া ৷৷ দক্ষিণ২৪ পরগনা

কবিতাঃ সুপ্রীতি বর্মন

হৃতগৌরব স্বাধীনতা যবে দুটো ভাতের জন্য যৌবন খোয়াতে, গলদঘর্ম পরিশ্রম মজদুর ইঁট বোঝাই,  রাস্তা ঘাটে ধূলায় পরিত্যক্ত উচ্ছিষ্ট সখ স্বাদ আহ্লাদ  পরের বাড়ি দাসত্ব ঝি খেটে,  পচে গলে যা হোক দেনা পাওনা জীবন নিতে হবে না আর, বলবি আমরা স্বাধীন।। অর্থনৈতিক চাপের বোঝা মরনসংকোচনের মতন  আপাদমস্তক টাকার গদির তলায় দমচাপা দীর্ঘশ্বাস কালঘাম ছোটে বিষাক্ত দুধ কলায় পোষা কালসাপ  পাশবালিশের কোলে ঘাপটি ঘুমে  ছুঁতে চায় স্বপ্ন,  ঐ বিশাল আকাশকে হাতের মুঠোয় পেতে অভীষ্ট লক্ষ্যের উপর রাখবে হাত নির্দ্বিদ্ধায় সেদিন বলবি আমরা স্বাধীন।। যবে মনুষ্যত্বের দর কড়ির দর থেকে হবে বেশি  লাখ গুনে মনন চিন্তন সব মাপকাঠি যাবে ডিঙিয়ে কড়ির দরে বাছবিচার তাকে রেখে কিংবা উচিত ও নৈব নৈব চ এর বাটখারায়, বসাবে না প্রতিজনকে  সেদিন বন্ধ হবে কেনাবেচা।  বিক্রীত হবে না আজন্মলালিত মূল্যবোধ অপমানে মাথা হেঁট দেওয়ালে পিঠ ঠিকে কানাকড়ির বহ্নিশিখার অটুট আস্ফালনে মধ্যবিত্ত টানাপোড়েন জীবন পকেটে দশ টাকা,  চোখের সমুদ্রে বানভাসি উচ্ছাস লাখ টা...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,