Skip to main content

Posts

মেঘের সাথে খেলা ।। মাসুদ রানা

মেঘের সাথে খেলা মাসুদ রানা  বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব রূপ, সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য। তবে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের বর্ষাকাল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উৎসব। চারদিকে সবুজে মোড়ানো মাঠ, নদী-নালা, খাল-বিল, গাছপালা আর কালো-সাদা মেঘের আনাগোনায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। কখনো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, আবার কখনো সাদা তুলোর মতো মেঘ নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়। সেই দৃশ্য দেখলেই আজও আমার শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে মেঘের সঙ্গে খেলার সেই আনন্দময় সময়, যা আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে। আমাদের ছোট্ট গ্রামটি ছিল সবুজে ঘেরা। চারদিকে ধানের ক্ষেত, পাটের জমি, বাঁশঝাড়, কাঁঠাল গাছ, আমগাছ, জামগাছ, শিশুগাছ আর নারকেল গাছের সারি। বর্ষাকাল এলেই গ্রামের রূপ যেন একেবারে বদলে যেত। মাঠঘাট পানিতে ভরে যেত, খাল-বিলে টইটম্বুর পানি, নদীতে স্রোতের শব্দ, আর আকাশজুড়ে মেঘের বিশাল রাজত্ব। সকালবেলা সূর্যের আলো ফুটলেও হঠাৎ করেই কালো মেঘ এসে আকাশ ঢেকে ফেলত। তারপর শুরু হতো ঝুম বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির...

গুচ্ছকবিতা ।। ডাঃ মোহাম্মদ নাঈম

গুচ্ছ কবিতা ।। ডাঃ মোহাম্মদ নাঈম ১. সবুজ বনের দ্বীপ                   মাল্লা তোরা হাল ধরিতে জলদি করে আয় দূর দ্বীপের ঐ নিশান দেখা যায। চার দিকে তার জলে ঘেরা, মাঝখানেতে বন  ঐ খানেতে মানুষের বাস, বলছে আমার মন। মাল্লা তোরা দেখ না সবাই চোখ খানি আজ মেলে সৈকতে কত মানব শিশু বালি নিয়ে খেলে। কোমল পানিতে ভিজিয়ে পা, ছেড়ে খোপার চুল  কত ললনা সেথায় বানায় শামুকের মালা, দুল। মাল্লা তোরা শুন সকলে হাওয়ায় পেতে কান পুবালী বায়ু বয়ে আনছে ঝাউ বনেরই গান। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ছড়ায় আলো দ্বীপে নজরকারা ফুল ফুটেছে দ্বীপের কেয়া ঝোপে। শত পাখির ডাকাডাকিতে আলোড়িত চারপাশ বনের ভেতর জন্ম নিয়েছে কচি নরম ঘাস । মাল্লা তোরা জলদি চল সবুজ বনের দ্বীপে হঠাৎ করে সাগরবক্ষ উঠেছে এখন ফেঁপে এর পরতে পেল তারা ...

তিনটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর

বিবেকানন্দ নস্কর বৃষ্টি রতি    ঝাপসা কাঁচে দৃষ্টির স্থবিরতা  মুছে দাও চেনা মুখচ্ছবি  ঝরে পড়ে স্মৃতির এলিজি। আদুল স্নানে মগ্ন শরীর  ঢেউ মাখে নদী  পুরুষ বুঝি ভাঙন বিশ্বাসী। পুরানো বিকেল ফিরে ফিরে আসে  পিঠের সমিধে শুধু অন্ধকার  রাত্রি কড়া নাড়ে। এইভাবে বন্দী যাপন  মেঘলা মনের কোণায় খেলা করে কেউ  সে বুঝি বৃষ্টি রতি। সেই রাত সেই বৃষ্টি  সেই রাত সেই বৃষ্টি  নিকষ সে ক্ষণ ঝরে পড়ে স্মৃতি পটে  কার ভিজে মন । জানালা খোলাই ছিল  বাড়ালে দু হাত  স্মৃতি মাখা এলো মেলো  বৃষ্টির রাত । রাতের আড়ালে ঢাকা  অজস্র মুখ  স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা খুব চেনা সুখ। সেই রাত সেই বৃষ্টি  মুখ তেতো স্বাদ  জীবনের জটে বাঁধা  অঝোর বিষাদ । আষাঢ় পুরুষ      কদমের পাতা মেঘ রঙ মাখা  আষাঢ় পুরুষ বাড়ালো হাত  বর্ষা বাসর জুড়ে অভিমানী রাত। জলকেলি বীজ ছড়াতে ছড়াতে  কৃষাণীর শরীর ক্ষেতভূমি  মানচিত্রে ভেসে ওঠে আষাঢ় পিতৃত্ব।

উন্নতির মানে ।। গোপা ঘোষ

  উন্নতির মানে গোপা ঘোষ  গ্রামের নাম কেতুগ্রাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত কারেন্ট এলে উৎসব হত। রাস্তায় কাদা, স্কুলে একটা কম্পিউটার তাও বন্ধ। সেই গ্রামের ছেলে রাতুল। বাবা ভ্যান চালায়। রাতুল শহরে গিয়ে কোডিং শিখেছিল। চাকরি পেয়েছিল বেঙ্গালুরুতে। করোনার সময় বাড়ি ফিরল। দেখল গ্রাম সেই আগের মতোই। বাচ্চারা ফোনে ক্লাস করতে পারে না, নেট নেই। দিদারা ইউপিআই বোঝে না। রাতুল ঠিক করল, চাকরি ছাড়বে। সবাই বলল, "পাগল হয়েছিস?" সে পঞ্চায়েতের একটা ঘর ভাড়া নিল। নাম দিল "ডিজিটাল পাঠশালা"। নিজের জমানো টাকা আর ক্রাউডফান্ডিং করে ৫টা ল্যাপটপ, একটা প্রজেক্টর আর সোলার প্যানেল বসাল। জিওর টাওয়ারকে অনুরোধ করে গ্রামে একটা বুস্টার বসল। প্রথম দিন ৩ জন এল। মাসে তিনজন থেকে হল তিরিশ।  বুড়ো কাকারা এল ইউপিআই শিখতে। "বাবা, বাজারে QR স্ক্যান করলে ঠকে যাব না তো?"  মেয়েরা এল অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ শিখতে।  স্কুলের মাস্টারমশাই এলেন ইউটিউব থেকে ক্লাসের ভিডিও ডাউনলোড করতে। দুই বছরে ছবিটা বদলেছে।   গ্রামের হাতের কাজ এখন Etsy তে বিক্রি হয়। কৃষকরা অ্যাপে আবহাওয়ার খবর নেয়। পঞ্চায়েতের সব কাজ এখন অনলাইন। টাকা মারার সু...

কবিতাগুচ্ছ ।। নীল ডায়েরি

নীল ডায়েরির কবিতা  রণক্ষেত্রের চিঠি বারুদের গন্ধে আজ বসন্তের হাওয়া ভারী, হাতে বন্দুক, আর পকেটে তোমার দেওয়া শেষ চিঠি। পরম মমতায় বেঁচে থাকা কতটুকু আর জানি? শুধু জানি—দূর দিগন্তে তুমি ভালো আছো, এটাই বড় ফাঁকি। এখানে আকাশ নীল নয়, এখানে আকাশ ধোঁয়ায় ঢাকা, প্রতিটা পদক্ষেপে মরণের সাথে লুকোচুরি খেলা। ভালোবাসা আজ বিলাসিতা, বেঁচে থাকাটা অভ্যাস, তোমার চোখের ছবিটা বুলেটের চেয়েও বেশি দাহ্য। যদি ফিরি, তবে চিনে নিও ক্ষতবিক্ষত এই দেহ, যদি না ফিরি, বুঝো—দেশপ্রেমই ছিল আমার গহ। শিরদাঁড়া সোজা রেখেছি আগুনের শিখায়, তোমায় ভালোবেসেই বেঁচে আছি, আবার তোমায় ভালোবাসার অপেক্ষায়। তুমি কি শুনছো? গুলির আওয়াজেও তোমার নাম বাজে, এই যুদ্ধ শেষে শুধু জানি, শান্তি মানে তুমিই আমার কাছে। পৃথিবীটা ধ্বংস হোক, ছাই হয়ে যাক মিথ্যে অহংকার, আমার প্রেম বেঁচে থাকবে, এই ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে বারবার। বৃষ্টির শহর ও বিচ্ছেদ বৃষ্টির শহরে আজ একলা আমি, সাথে এক কাপ বিষাদ, জানলার কাঁচে তোমার আঙুলের দাগ, মুছে গেছে অনেক আগেই। মানুষ বলে সব নাকি ভুলে যেতে হয় সময়ের স্রোতে, আমি আজও সেই পুরনো ট্রামে খুঁজে বেড়াই তোমায় প্রতি রাতে। তোমার চোখের জল আর আ...

রক্তনালা ।। সরজিৎ মণ্ডল

রক্তনালা  সরজিৎ মণ্ডল নালা উপচে রক্ত বয়ছে কেন?   তা নিয়ে সক্কালবেলায় ঘটে গেল এক রক্তারক্তি কাণ্ড। দুই ভাইয়ের মধ্যে।  রক্ত সম্পর্কের ভাই। অথচ, যা ঘটল, তা দেখে মুরগিগুলো পর্যন্ত খাঁচা ছেড়ে পালাল। রোজ পাঁচ-দশটা না, একেবারে চল্লিশ-পঞ্চাশটার গলা কাটা হচ্ছে!   ফলে, সরু নালা ভেঙে রক্ত দাদার ঘরে ঢুকে যাচ্ছে বেশ কয়েকদিন। আর তাতেই, মোরগ লড়াই শুরু হয়ে গেল। পরে লাঠালাঠি, ফাটাফাটি ও মারপিট! এরই মাঝখানে, ছোট কখন মুরগি কাটার দা-টা দা-র গলায় বসিয়ে দিল! ব্যস, নালির রক্ত দোকানের ওই নালাকে, আরও বেশি উপচে দিল!

তিনটি কবিতা ।। অজিত কুমার সিংহ

তিনটি কবিতা ।। অজিত কুমার সিংহ বর্ষণ মুখর সন্ধ্যা বর্ষণ মুখর সন্ধ্যায় আমার বাড়ির আঙিনায়  বৃষ্টি পড়ে রিমঝিম সুরে ; টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ে  নুপুরের সুরে। মন আমার আনন্দে নাচে বৃষ্টির সুরে। গগণে ঘণ্টা বাজে মেঘের  ঘর্ষণে আর ঝিলিক দিচ্ছে বিদ্যুতের। বৃষ্টির আগুন বৈশাখের দাবদাহে হঠাৎ বৃষ্টি নামে মুষলধারে,  বৃষ্টি তো নয় আগুনের স্ফুলিঙ্গ আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে মরছে মানুষ  মরছে কীটপতঙ্গ  ভস্ম করছে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ... ছায়া ও কায়া সেদিন অমাবস্যার রাতে  দাঁড়িয়েছিলাম গুলিস্তানের ফুটপাতে  ল্যাম্প পোস্টের নীচে আমার দীর্ঘ ছায়া জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে  রাস্তার ওপারে গিয়েছিল চলে কয়েকটি গাড়ি জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে  চলে গেল ফার্ম গেইটের  দিকে আমার ছায়ার উপর দিয়ে  যখন লোডশেডিং হলো  আমার ছায়াটা উধাও হয়ে গেল...  

তিনটি কবিতা ।। সমীর কুমার দত্ত

সমীর কুমার দত্ত ১ শ্রাবণ -বালিকা মেঘের দেশে ঘর বেঁধেছে, শ্রাবণ নারী এলো নেমে। নীল শাড়িতে জল নূপুর, বাজে তাহার মিষ্টি প্রেমে। কাজল চোখে কান্না তার, চায় সে ছুঁতে সবুজ বন, বুকের ভেতর গোপন ব্যথা, ভিজিয়ে দেয়  আপন মন। বিজলি তার আলোর সখা, বাদল হাওয়া ডাক পিওন। ধরণী আজ মাতাল সুখে,  ছুঁয়ে শ্রাবণ - মন কেমন।   ২ পাখির চোখে দেখা                    যদি হতাম ডানায় ওড়া চিল, মেঘের দেশে পাততাম আমার ঘর। সীমানা ছাড়িয়ে হাজার মাইল, ছুঁয়ে আসতাম অচিন-সাগর চর। কোন দুর পাহাড়ের চূড়ায় জমে বরফ, কোন অরণ্যে ফোটে নাম না জানা ফুল; নদীর বাঁকে বাঁকে কতশত জনপদ, সবকিছুই  বৃত্তান্ত দিতাম তুলে নিঁখুত নির্ভুল। মেঘের চিঠি আর বাতাসের গান, কুড়িয়ে আনতাম  ডানার ভাঁজে ভাঁজে। মানুষের কোলাহল ছেড়ে পেতাম  নব প্রাণ, ফিরতাম নীড়ে শুধু গোধূলির সাঁঝে। সবুজ পাতার ওপারে লুকিয়ে থাকে গল্প, মাটির গন্ধ মাখা মুক্ত হাওয়ার ডাক— ফিরে এসে শোনাতাম তার খুব অল্প, যা ছুঁয়ে যায় রোজ আকাশের সীমানায়  থাকা কোন কাক। ৩ আ মরি বাংলা ভাষা শব্দে গাঁথি আমি বঙ্গ...

পরিসংখ্যান দিবস ।। পাভেল আমান

পরিসংখ্যান দিবস  পাভেল আমান   পরিসংখ্যান বা রাশি বিজ্ঞান, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় স্ট্যাটিসটিক্স। এটি এক ধরনের গাণিতিক বিজ্ঞান যা মূলত বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিবেশন নিয়ে কাজ করে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই পরিসংখ্যান বিদ্যাটা এখনো সেভাবে জনপ্রিয় না হয়ে উঠলেও দেশের অর্থ সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। দিনকে দিন বিজ্ঞান প্রযুক্তি কম্পিউটার ইন্টারনেট ও সর্বশেষ এআইয়ের যুগে স্ট্যাটিসটিক্সের বহুমুখী প্রয়োগ ও কার্যকরিতা দেশবাসীর কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।পরিসংখ্যানের ব্যবহার রয়েছে বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান সমেত আরও অন্যান্য শাখায়। প্রতিদিনের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিষয়টিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে "স্ট্যাটিসটিক্স ডে" বা পরিসংখ্যান দিবস পালন করা হয়।ভারতীয় পরিসংখ্যানের জনক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ২৯ জুন পালন করা হয় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। ১৮৯৩ সালের ২৯ জুন তাঁর জন্ম হয়। প্রশান্তচন্দ্র ছিলেন একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং পরিসংখ্যানবিদ । ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তাঁর ভূমি...

তিনটি কবিতা ।। বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র

তিনটি কবিতা ।। বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র  ভরা শ্রাবণে           ভরা শ্রাবণে নদী উঠেছে ফুলে  প্রত্যন্ত গ্রামের নেই যোগাযোগ, বাঁধা আছে নৌকা নদী কুলে  সইতে হবে ওদের যত দুর্ভোগ । নৌকায় সব দিয়েছে তুলে   নেইকো তবু ওদের ভয়,  ঢেউয়ে নৌকা চলে হেলে দুলে   মাঝি ভায়া পারাপারে করবে জয় । সবার আশা ওপারে যাবে  বিপদকে তবু ও সামনে এনে, যেতেই হবে ওদের এই ভাবে   অভয় বাণী আছে মাঝি মনে  ।      মানবিকতা মানবিকতা শ্রেষ্ঠ ধর্ম   বলে গেছেন সব মনীষী,  বিধাতা দিয়েছেন করে কর্ম  দ্বেষ,হিংসা,নয় কভু ঈর্ষা ঈর্ষী । কপাল গুণে ভিখারী হয়ে দিনের আয় দিনে খায়,  ধর্ম, আনুগত্য , কর্মে আনে বয়ে  অবলা জীবকে বিধাতা চেনায় ।  রাতের খাবার খেয়ে কিছু   প্রভুভক্ত কে দেয় ডাক ,  'এসেছিস বুঝি পিছু পিছু  খেয়ে তুই এখানেই থাক ।'       অজ্ঞাত           সৃষ্টি ভরা রহস্য জটিলতায়  অনন্তকাল জুড়ে প্রতিভাত, সৃষ্টিধর নিখুঁত গরিমা ...

তিনটি কবিতা ।। বিজিত মন্ডল

  তিনটি কবিতা ।। বিজিত মন্ডল মেঘের ছবি  আকাশ গায়ে ওই ফুটেছে  শরৎ মেঘের ছবি, সাদা মেঘের জমাট ভিড়ে  আটক সোনার রবি। আসছে পুজো ধরা তোলে  স্বস্তি পেয়ে মানুষ,  হাঁপ ছেড়ে সব আনন্দেতে  ওড়ায় খুশির ফানুস। জলে ভেজা কাদামাটির ছেড়ে পচা গন্ধ, জেগে ওঠে সবুজ ঢেউয়ে  খুশিরই আনন্দ। শরৎ বৃষ্টির ধোঁয়াশা গ্রাম মাঠের ওপার থেকে, ভেসে আসে পুজোর ধ্বনি  দুঃখ পিছিয়ে রেখে। বনানী রাও ওঠে জেগে  নতুন পুজোর টানে, শরৎ এলে দূগ্গি ঠাকুর ভাসে সবার প্রাণে। সহজ উপায় মাধ্যমিকে তিন বিষয়ে  লেটার পেল রামু, রেজাল্ট দেখেই চুমু খেলো তারই কাকা দামু। খবর পেয়ে দাদুর মনে  বয়ে খুশির প্লাবন, প্রাইজ দেবে আকাশের চাঁদ  বলেই ফেলেন তখন। রামু বলে চাঁদ উপহার, দেবে কেমন করে? দাদু বলেন সুতোয় বাঁধা  ঘুড়ি দিয়ে ধরে! বলল রামু মিছে ভাবনা  ফেলে শোনো দাদু, ঘুমেই ধরো স্বপ্নেতে চাঁদ  সহজ উপায় চাঁদু।    আমি বন্ধু কুঠারে সান দিচ্ছ কেন ও কাঠুরে ভাই? আমি যে গাছ বন্ধু তোমায় দেখে তো ভয় পাই। আমার অক্সিজেনেই বাঁচো তোমরা মানব দল, আমাদের ফুল-ফল তোমাদের বাড়...

তিনটি কবিতা ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য

 তিনটি কবিতা ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য   গতি গতি বা চলাচল আশার আলো নিয়ে আসে , অফিস যাওয়ার পথে , দীর্ঘ যানজটের শেষে, দূরে লাল বাতির কাছে কোন গাড়ি যখন আগে চলে , শ্রমিকের মনে আশা জাগে আজ লেট হবে না সে ।    টেবিল 'টেবিল' শব্দটি আমাদের মনে নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলে , ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে একটি চেয়ারের সামনে রাখা টেবিল একজন শিক্ষকের ছবি তুলে ধরে , বাড়ির বৈঠকখানার টেবিলটা আমাদের অনেক স্মরণীয় ঘটনা দেয় মনে করিয়ে ।  যুদ্ধ ইতিহাসে বারবার যুদ্ধ হয়েছে , মহাভারতে ১৮ দিনের যুদ্ধে প্রভু শ্রীকৃষ্ণ নিজেই , উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে , যুদ্ধে এক পক্ষের ভুল ধারণা থাকে তারাই শক্তিশালী সবচেয়ে , কিন্তু শেষ পর্যন্ত , শীঘ্রই বা পরে , তাদের সাম্রাজ্য যায় অদৃশ্য হয়ে ।

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

রথের মেলা ।। দীপঙ্কর বৈদ্য

রথের মেলা দীপঙ্কর বৈদ্য ঢাকের কাঠি পড়ল মাটি মুড়ি-মুড়কি চিনি, হরেক রকম খেলনা প্রথম রথের মেলায় কিনি। তাতাই টানে আপন মনে চলছে রথের চাকা, হাতে সবার রঙের বাহার খুকুর হাসি আঁকা। পিঁপড়ে চাটুক মিষ্টি খাটুক জিলিপি যে কড়া, ভিড়ের মাঝে কাঁসর বাজে পাড়ায় পাড়ায় সাড়া। বাঁশির সুরে মনটা দূরে হারিয়ে যেতে চায়, সন্ধে নামে সবুজ গ্রামে প্রদীপ জ্বলে তায়। খেলনা হাতে ফিরব রাতে চল্ রে এবার বাড়ি, মেঘের দেশে চাঁদের হেসে চলল মেঘের গাড়ি। =============== নাম - দীপঙ্কর বৈদ্য গ্রাম - চম্পাহাটি (হালদার পাড়া) পোঃ - চম্পাহাটি থানা - বারুইপুর জেলা - দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সূচক - ৭৪৩৩৩০

তিনটি কবিতা ।। দিশা দাস

 তিনটি কবিতা ।। দিশা দাস ১. বিচ্ছেদ বিচ্ছেদ?           সে কি কেবলই দুটি দেহের মধ্যে নয়? আচ্ছা, মনের বিচ্ছেদ কি অতই সহজে হয়? তোমার কি ধারণা এখন আর তারে পরে না মনে...? আরে, মনে পড়লেই কি বলে বেড়ানো যায় জনে জনে? সে যে আমার একান্তই ব্যক্তিগত... যা একসময় ছিল সুখ.... এখন হয়েছে দুঃখে পরিণত... রাত জাগাটা সে ধরিয়েছিল আমায়, সে ছেড়ে গেলেও রাত জাগাটা ছেড়ে যায়নি.... হাজার মানুষের ভিড়ে তারে খুঁজেছি বারবার, বুঝলাম সে আমায় হারালেও আমি তারে হারায়নি... সে এখনও বিরাজ করে আমার সেই না লেখা কবিতায় তার ভালোবাসা এখনও রয়েছে সেই শুকনো কাঠগোলাপের প্রত্যেকটি পাতায়.... এখনও, যেন রাস্তা পার হওয়ার সময় আমার হাত তার স্পর্শ অনুভব করে.... জমে থাকা তার স্মৃতিগুলোতেই বারবার বেঁচে উঠে আবারও যাই মরে... তাই তো প্রতিনিয়ত বলি,          "যদি সত্যিকারের ভালোবাসা হয়   তবে, মনের বিচ্ছেদ কখনোই সম্ভব নয়" কারণ,            "প্রিয় যবে দূরে চলে যায়                সে যে আরও প্র...

কবিতাগুচ্ছ ।। রকিবুল ইসলাম

কবিতাগুচ্ছ ।। রকিবুল ইসলাম   মানুষ! অকস্মাৎ কোন দৈব দুর্বিপাকে খড়কুঁটো হয় যখন আশা।  বাণে তখন যায় গো ভেসে সাধের নিবাস খানা। পশু,পাখি,মনুষ্য জীব আজ সকলে দিক হারা। খাবে কি!থাকবে কোথায়? হতবিহবল মনন! ভ্রান্ত চিন্তাধারা। সসীম সাহস তবু অসীম আশায় বাঁচার মিছিলের ধারা, টিকবে কি!?অতি যতনে গড়া সাধের নিবাস খানা।  উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠায় কাল হয় পার নির্ঘুম নিশি যেপে, এই এলো বাণ, সকলে বুঝি যাবে এবার ভেসে। দূর গগনে অপলক নয়নে রয়েছে চেয়ে সম্বল হারা, বইবে কখন?আসবে নেমে খোদার অপার রহমের ধারা! গগনবিদারী চিৎকার আর থর কম্পনে প্রকম্পিত সারা ধরা, তবুও ভাই নিশ্চল, নিশ্চুপ!ঠাঁই দাঁড়িয়ে (অ)মানুষের দলেরা। ঘর গেছে,ফসল গেছে,সম্পদ গেছে আজ ভেসে! তথাপি তাদের রয় গো শ্বাস,বাঁচে প্রবল আশে। প্রকান্ড কোন মেঘের খন্ড ঢাকে যখন সব আলো, রবির কিরণে দূরীভূত হয় তমসা,হারায় নিকেশ কালো। আসুন সবে সমবেত হই, দাঁড়াই! সব বানভাসীদের পাশে, হোক দূর,মুছে যাক জরা, প্রণয় মমতার পরশে। মানুষের মত দেখতে হলেই মানুষ কি কয় তারে?  মানুষ তো সে!মানুষের তরে যে প্রাণ হরে।     "যুদ্ধ নয়!শান্তি চাই!" চারিদিকে আজি বা...

শেষ ট্রেন ।। শম্পা সামন্ত

  শেষ ট্রেন শম্পা সামন্ত বেশি কথা মনে থাকে না কাল কী বলেছি আজ তাই ভুল করে সব কথা ভুলে যাই এত কথা এত প্রতিশ্রুত রঙিন লেফাফা যেন যুদ্ধের আগে ঢাক বাজে দুন্দুভি কী নিয়ে এত হৈ চৈ পাটিপে টিপে মহা সমুদ্রে প্রবেশ করছি আর ভুলে যাচ্ছি যুদ্ধের কারণ কথা কথায় কথা বাড়ার আগেই তোমাদের লাস্ট স্টেশন ছপে মিয়াও

আপাতত একা আছি ।। শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা

আপাতত একা আছি শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা সমস্ত রাত লন্ঠন উঁচু করে ধরে সীমাপুরীর গোল চক্করে দাঁড়িয়ে ছিলাম দিনকাল যা পড়েছে বলা যায় না কখন কি হয় তোমার তো আবার কোন ঠিকঠিকানা নেই হয়ত হুট করে না বলে না কয়ে একা একা চলে এলে দুশো একাশী দিলশাদ গার্ডেন কেন্দ্রীয় সচিবালয়, তিন শো পঁচাত্তর দিলশাদ গার্ডেন নেহরু প্লেস নয় শো একাত্তর আনন্দ বিহার রোহিণী অবণ্তিকা একে একে সব এল আবার ফিরেও গেল মাঝে মধ্যে কিছু বাহারি মুদ্রিকা সহ বেশ কিছু ছোট গাড়ি সব গাড়ি এল গেল শেষ রাত অবধি তুমি এলে না যে রাতে শব্দ পোকাগুলোকে মুক্তি দিয়ে শুয়ে পরি সে দিন বেদনাময় গাড়ি হাতুড়ির ঘায়ে ঘুম ভাঙ্গায় ছড়িয়ে দিয়ে যায় স্বজন হারানো হাহাকার হাল্কা আলোয় পা দোলাতে দোলাতে দেওয়াল ঘড়ি বলে শুয়ে পর অনেক রাত বাকি বিষন্ন ভয় জড়িয়ে ধরে সমস্ত শরীরে কাঁটা দেয় মনে হয় পৃথিবীতে একা বেঁচে আছি ======================================== আর দেখা হয়নি   শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা হাত পেতে অঙ্গীকারের ছলে জীবন চাইলে যেন ছেড়ে দিই তোমার শৈল শহর, দিলাম আজও অছ্যুত তোমার মাটি আর আকাশ। ...

তিনটি কবিতা ।। আশাদ আলী

গুচ্ছকবিতা ।। আশাদ আলী ১. মহাজীবনের গান জীবনের এই অনন্ত পথ চলিয়াছে কোন্ পানে, নিভৃত হিয়ার গোপন বেদনা কেবা তাহা আজ জানে। নিশি অবসান হলে পর যবে জাগে নব প্রভাত-আলোক, ধরণীর বুকে মুছিয়া যায় যত নিখিল মনের শোক। ক্ষণিকের তরে আসিয়াছি মোরা এই জগতের মেলাভূমে, দিন ফুরাইলে লীন হব পুন মহাকালের ওই ঘুমে। সুখ আর দুখ দুই ভাই মিলি পাতে মায়ার এই খেলা, তরীর মাঝি বোঝে না তো কভু কোন্ ঘাটে শেষ বেলা। আশার প্রদীপ জ্বলিয়া উঠিছে ঝড়ের আঁধার মাঝে, অনন্ত সুর বাজিয়া চলেছে বিশ্ব-হৃদয়-কাজে। বনের বিহগ গাহে গান যবে লভিয়া আপন মুক্তি, মানব কেবল খুঁজিয়া বেড়ায় বৃথা তর্কের যুক্তি। অসীম আকাশ ডাকিছে তোমায় মেলিয়া আপন পাখা, ধূলির ধরায় চিরদিন কভু সত্য কি যায় রাখা? সঁপিয়া দাও আপনারে ওই চরণের পরম ছায়ায়, তবেই মুক্তি লভিবে পরাণ মর্ত্যের এই মায়ায়। জীবন-নদীর তরীখানি ওগো বাইয়া চলো অবিরত, ধন্য হউক এই পথ চলা মহাজীবনের মতো। ২. অনন্ত ব্যাকুলতা আজিকে গগনে মেঘের মেলা, বসিয়া আছি একা, ঝরোঝরো বারিধারায় খুঁজি শুধু তোমারি দেখা। কদম্বেরই বনে জাগে বিরহের ব্যাকুল গান, সুরের মায়ায় ভাসিয়া চলিছে মোর অবুঝ পরান। তুমি যে আমার চির-দিবসের নিভৃত সাধনা, হৃদয়ে...

সামলে নেবে ।। আনন্দ বক্সী

সামলে নেবে  আনন্দ বক্সী অচিনপুরে যাবে খোকা  টাট্টুঘোড়ার পিঠে চড়ে, খুরের শব্দে মাতিয়ে দিক  লাগামখানি কষে ধরে। ভয় পাবে না মোটেও খোকা  থাকবে বসে বীরের মত, সামলে নেবে নিজেই খোকা  আসবে পথে বিপদ যত। কোনও বাধাই পারবে না যে  আজকে তাকে আটকে দিতে, পুরোপুরি প্রস্তুত যেন  তার দক্ষতার স্বাদটা নিতে। দৈত্য দানো রাক্ষস খোক্কস  যেই আসুক না পথের বাঁকে, হাতের চাবুক দিয়ে খোকা  বোঝাবে ঠিক সবক তাকে। ঘুরবে খোকা ইচ্ছেমত  অচিনপুরে পৌঁছে গিয়ে, লাগবে ভালো যে জিনিসটা  মায়ের জন্য আসবে নিয়ে।

নদী তীরে ।। পার্থ প্রতিম দাস

  নদী তীরে পার্থ প্রতিম দাস    অজয়ের চিন্তা জুড়ে সবুজ ঘাসের একটা হিন্দোল আছে। পায়ের তলায় থেকেও ঘাস, শত আঘাত সহ্য করে মাথা তুলে সূর্যকে বলছে, "আমি আছি, আদিমতম সৃষ্টির কাছাকাছি।"     জমির মধ্যে বাড়ি তৈরীর জন্য মাটি জমা হয়ে পড়ে আছে। সেই উঁচু মাটির স্তুপের ওপর বড় বড় ঘাস হয়েছে। অজয় সেই ঘাসের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যায়, শুধু ঘাসের পরশ পাওয়ার জন্য।       গ্রীষ্মের মরা সুবর্ণরেখার বালিয়াড়িতে বসে সে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। এক পশলা বৃষ্টি যদি হতো। গ্রীষ্ম পেরিয়ে পয়লা আষাঢ় এসে গেছে। তবুও বৃষ্টির দেখা নাই।         ফেসবুকে সে পোষ্ট করে, "বৃষ্টি না এলেও সারাটা দিন পয়লা আষাঢ়।" মনে মনে সে চলে যায় মালবিকার দেশে। বৃষ্টি মুখর প্রাচীন নগরির বারান্দায় বসে সে শোনে কালিদাসের মেঘদূত।হাওয়ায় ভেসে আসছে যেন মহাকালের ঘন্টা ধ্বনি।       অবশেষে এলো বৃষ্টি। ছাদের ওপর বনে বনান্তে শুরু হল বর্ষার সেই মদনমোহনী নৃত্য। ডুবে গেছে বালিরাশি। ভরা নদীর বুকে ভেসে চলেছে একটা শুকনো কাঠের গুঁড়ি। আর সেই কাঠ জড়িয়ে আছে প্রাচীন অজগর।  ...

তুমি ।। সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী

 তুমি  সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী  তোমার সুন্দর হাসি, জুড়িয়ে যায় ব্যথা, মনে হয় যেন মরুভূমির তপ্ত বুকে জলের রেখা। রাগেমাখা মুখখানি দপ করে জ্বলে উঠলে , খুঁজে পাই এক অনন্ত ছায়া , বিগলিত হৃদয় আনন্দে উড়ে চলে। সমস্যার সাগরে ভাসতে ভাসতে যখন তোমার সুর ভেসে আসে, ডুবে যাবো জেনেও , বেঁচে আছি হয়তো এর টানে। যখন তুমি চুপ থাকো , ভুলে যাই তোমারও একটা জগৎ আছে, স্বার্থপরের মত তাকিয়ে থাকি চাতকের মত । আসলে কোথায় যেন একটা মায়াবী দ্বীপের মত  দেবী হয়ে অলীক বন্ধনে জড়াও । রূপহীন ,গুনহীন কন্টকাকীর্ণ এক অতি সাধারনের  না পাওয়ায় থেকে এ সান্নিধ্য অপার পাওয়া, সর্বদা চেয়ে থাকি, স্বার্থপরের মত, ভুলে যাই তোমারও একটা জগৎ আছে। আছে দিন রাত, আছে উত্তম গতি, সেখানে ঢুকে পড়েছি গ্ৰহ বা উপগ্ৰহ নয়, রয়েছি গ্ৰহানু হয়ে।   সব রঙের প্রভায় আলোকিত হয়েছি,  উৎফুল্ল হয়েছি সুবাসে। জীবন উপন্যাসের কটা পাতা বাকী তা জানা নেই,  স্বার্থপরের মত চাই প্রানবায়ু।    যদি ওই দিনগুলো .... সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী  ভাসিয়ে ছিলেন নৌকা খানি ভাটির পথে, উৎরাই পথে চলা , তাই থেমে য...

প্রবীণেরাও প্রেমে পড়ুক ।। গুরুপ্রসাদ যশ

প্রবীণেরাও প্রেমে পড়ুক  গুরুপ্রসাদ যশ  এই যে  এতো স্রোত জেনেও একা রেখে চলে গেছে ফেরিঘাট  চর জেগে ওঠে মেঘেদের ঘরে নীল অন্তরীপে বর্ষাঋতু সুখ খুঁজে ফেরে  পাখিদের আলস্য উঠন জুড়ে  খয়া চাঁদ নামে মৃত কুয়াশার হাত ধরে  দূরতম দ্বীপে মন্দিরে মঙ্গল আরতির শঙ্খ  আমি চাই কিশোরীর হাতে বৃক্ষ রোপিত হোক  এ শিশিরের শেষেও প্রবীণেরা নতুন করে  প্রেমে পড়ুক একাকীত্ব ভেঙে গড়ে তুলুক  স্বাধীন সংসার । 

মহারাজ ।। অসীম কুমার মন্ডল

মহারাজ অসীম কুমার মন্ডল মহারাজ, মহারাজ, তুমি বড়ই ধাপ্পাবাজ মুখে বলো তুমি গরিবের আসলেই তুমি ধনিদের, নতুন নতুন ফন্দি এটে করছো নিজের রাজ! মহারাজ, মহারাজ, তুমি বড়ই ধাপ্পাবাজ।। ধনীর সাথে সখ্যতা বৌয়ের ভাই যেমন আমার সাথে হিসাব কশো সৎ ভাইয়ের মতোন। আমি ঘোরাই কলের চাকা আমায় দাওনা ভাত, আমার পেটে লাথি মারো তোমরা উচু জাত। সামনে এলে দেখাও আবার বন্ধু বন্ধু সাজ! মহারাজ, মহারাজ, তুমি বড়ই ধাপ্পাবাজ।। নির্বাচনের সময় এলে চেচিয়ে বলো ভাই বুকে তোলো জনসভায় লাজ সরম নাই। চুরি করে পকেট ভরো আমার ভাতের টাকা, তেলো মাথায় তেল দিয়ে আমায় রাখো ফাঁকা। কেনো করো রাজা এমন হীন কাজ? মহারাজ, মহারাজ, তুমি বড়ই ধাপ্পাবাজ। সব যে তোমার অভিনয় তুমি তাদের গোলাম রাজ্য লোভী রাজা তুমি তাদের করো সালাম। সাদা খামে মোড়া তুমি স্বচ্ছ ধোকাবাজ! মহারাজ, মহারাজ, তুমি বড়ই ধাপ্পাবাজ।।   অসীম কুমার মন্ডল  রূপরামপুর থুকড়া ডুমুরিয়া খুলনা

৩টি কবিতা ।। চিত্ত রঞ্জন চক্রবর্তী

চিত্ত রঞ্জন চক্রবর্তী না বলো না নীল প্রভা তুমি যেতে  বারণ করো না নীলপ্রভা , অশান্ত  মন সেদিকেই গমন, চাঁদ সদাগর সপ্তডিঙ্গা ভিড়ায়। কাল থেকে  রাতের বিছানায়  শুয়ে অনুমান সকাল। , প্রভাতী নীলিমা করেছে আড়ি, ----চঞ্চল আঁখিপাত।   তিস্তা  নির্জনতা  ভেঙে ঢেউ তুলে, আবার মিলিয়ে যায়,  সব কাহিনী কল্প স্বপ্নগুলো ডুবে অতলে। অসীম গভীরে জন্ম নেয়  দক্ষিণা তট, মায়াময় একি। ভূমধ্যসাগরে সমুহ পর্বত ঘুমায়, গায়ে কুয়াশার চাদরে ঢাকি। চারিদিকে বৃঙ্গ মৃদঙ্গ বাজে, উঠে সুর মাতৃভজন , রাতের স্তব্ধতা ভাঙ্গে প্রভাত,  বুকে নিয়ে স্মৃতি অনুনন। ভালোবাসা শেষ হলে পড়ে থাকে যে রঙ, 12/বসুধা  প্রতীক্ষায় বসে  খুলে রাখে বাতায়ন। অনুরণ অনুমিতা আমাকে যেতে হবেই এবার, আঁধার ফুরাবার আগেই উঠে জেগে সমুদ্র ভু-ধর। সব কথা গুছিয়ে রেখো, বাসনা অনুমান, কথা শেষ হলে, তুমি আমার, থাকবে কি অনুক্ষণ? তুমি এসো, সামুদ্রিক ঝড় সব গেছে চলে ,  পাহাড়ের বিদ্যুৎ এখন করে খেলা নির্মল ভূতলে। তুমি এসো,খোলা রবে সুশোভিত সজ্জিত দ্বার। সরু বাতায়ন,ঘন কাঞ্চন-সুধা-নীড়, প্রতীক্ষার  স...

৩টি কবিতা।। বিধানেন্দু পুরকাইত

বিধানেন্দু পুরকাইত সঙ্গীহীন সঙ্গীহীন সঙ্গী খোঁজে বয়স হলেও আশি আসলে কি প্রেম নাকি শরীর বিলাসী? মন খোঁজে এক নরম মন যেকোন বয়সে বেঁচে থাকার প্রাঞ্জলতা যেখান থেকে আসে। সঙ্গীহীন সঙ্গী খোঁজে ব্যর্থ জীবন প্রান্তে হা-হুতাশ বাঁসা বাঁধে যখনই অজান্তে। সখি আমার বন্ধু রক্তের সম্পর্ক ছাড়া যে মানুষটি কেঁদে উঠেছিল আচমকা উদ্গ্রীবতার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে চেয়েছিল হাতটা ধরতে সে বন্ধু - সে সখি। দুরন্ত ট্রেনের ঝটকায় লুটিয়ে পড়ে শরীর না দেখেও কোলাহল যাকে কান্নায় ভিজিয়ে দেয় সর্বাঙ্গ তার নাম বন্ধু, তার নাম সখি। বন্ধু তো সখি - সখি তো বন্ধু সর্বাঙ্গ জড়িয়ে থাকে ভালবাসায় অনাবিল। বৃষ্টির গান রাতদুপুরে বৃষ্টি পড়ে যদি চলে এসো বাড়ির কাছাকাছি ভিজতে হলে ভেজো আপন মনে যা কিছু সখ রেখেছিলে নিজ সংগোপনে। কারো কাছে নেই তো কোন ঋণ তবু কেন ঋণের ভারে ন্যুব্জ ও সঙ্গিন শরীর এবং মনের দোলাচল বৃষ্টি ভিজে সপসপে অঞ্চল। আজকে না হয় বৃষ্টির গান হোক ঋণের বোঝা কমুক কিছু - বিলুপ্ত দুর্ভোগ। —---------

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

কবিতা ।। পিতৃ-মাতৃ- সুধা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

পিতৃ-মাতৃ- সুধা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল এই সেই হাত পাখা বেতের লাঠি  বাবার চশমা খাট বিছানা । চৌকি জঁক ঘাট পুকুর কুল আম গাছতলা মায়ের পরশ লেগে আছে হুঁকো কলকে আর পানের বাটায় । পুরানো সেই থমথমে গম্ভীর বারান্দা চিরস্মরণীয়  উভয়ের প্রতিকৃতি ফ্রেমে বাঁধা । তাকিয়ে সদাহাস্যোজ্জ্বল  আমাদের দিকে । মায়ের সিন্দুকে আচার খুচরো দু'আনা পয়সা কত গল্পের মাটি মাটি সুগন্ধি জানালা ! এখন  তুলসীতলার প্রদীপ জ্বলে না বলে - কত আফসোস  গোধূলিতে নেই সিঁথি সিঁদুর ! আহা জন্মভিটার  রাঙামাটি নমস‍্য মাতৃ সুধা । =========== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা পিন কোড :743347

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

আশিস চৌধুরীর মুক্তগদ্য

বাদল বাউল বাজায় রে একতারা গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে যখন শরীর মন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে তখন আমরা চাতকের মত আকাশপানে চেয়ে থাকি,দেখি মেঘ করেছে কি-না। এ যেন যক্ষপ্রিয়ার মত মেঘের অপেক্ষায় বসে থাকা।এখন অবশ্য বর্ষা সময়মত আসে না। বড় অভিমানী হয়েছে সে। মৌসুমীবায়ু যে সময়ে এই বাংলায় প্রবেশ করার কথা তা এখন করে না,কিছুটা বিলম্বিত বলা যায় । ঋতুচক্রে এখন অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেছে বিশ্ব-উষ্ণায়নের কারণে একথা আমরা আজ সকলেই জানি।আর এই বিশ্ব-উষ্ণায়নের মূল কারণ হচ্ছে অতি আধুনিক মানুষের লাগামছাড়া ভোগবিলাস।কাজেই বর্ষার আগমন একটু দেরিতে হলেও আমরা আগের মত অস্থির হই না,অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং বর্ষা দেরি করলেও আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে কার্পণ্য করি না।তার আগমনে আমাদের হৃদয় ময়ূরের মত নেচে ওঠে।আমরা যেন এইভাবে অভ্যর্থনা জানাই-‘এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। ’ ঋতুচক্রের নিয়মানুযায়ী আষাঢ় , শ্রাবণ-এই দু ’ মাস বর্ষাকাল।তা সত্ত্বেও ভাদ্রমাসেও কিন্ত যথেষ্ট বৃষ্টি হয়।তবু আষাঢ়-শ্রাবণ কে নিয়েই আমাদের যত কাব্য , গান আর নস্টালজিয়া।এই মুহূর্তে আমারই মনে পড়ে গেল-আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন..... ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...