Skip to main content

Posts

কবিতা ।। জীবাশ্মহীন অ্যানথ্রাসাইট ও নতুন অক্ষর পুরুষ ।। নিমাই জানা

জীবাশ্মহীন অ্যানথ্রাসাইট ও নতুন অক্ষর পুরুষ   নিমাই জানা মন্দাক্রান্তা আলোর নিচে অ্যানথ্রাসাইট মেশানো অজৈব মৃতজীবী শহর ঘুমিয়ে থাকে জীবাশ্মহীন হয়ে আমি সব বিয়োগ চিহ্নের আবছায়া কাল্পনিক মায়াময় মূর্তিকে রাতের অন্ধকার থেকে বের করে আরো একবার নব্য মন্বন্তর পরাগের দিকে নিয়ে যাই , প্রহরের পাখি শুধু দৈর্ঘ্য মেপে যায় আয়ু বড় ক্ষীন হতে থাকে রাতের তারার মতো আমি শুধু নিশাচরের সাথে ঘুরে বেড়াই প্রাচীন জলজ রাশিচক্রের গান বক্ষস্থলে চেয়ে দেখো সনাতন ,ফুরিয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণকায় অলৌকিক দেহঘরের সম্বন্ধ পদ সরল দৈর্ঘ্যের জিরাফের পিঠে বেরিয়ে যায় নগরকীর্তন আর কিছু ত্র্যম্বক চৈতন্য কথা, নতুন করে আমার পিঠ থেকে খসে পড়ে হলুদ পাতার দেহজ ফসিল , আমি এক নতুন বৈশাখের অবিভাজ্য ধনাত্মক রাশিচক্র ফেলে আসি নৈসর্গিক ঈশ্বরের জন্য , আরো একবার ভূগোলের প্রতিটি পৃষ্ঠা জুড়ে পরজীবী অসুখেরা নেচে উঠবে নতুন দেহ ঘরের জন্য , প্রাচীন গুহার ভেতর বসে কোন এক আবুল ফজল গান গাইতে গাইতে কম্বোজ থেকে মাংসল পা বের করে রোপন করবেন বিবিধ রসায়ন ক্ষেত্র চেয়ে দেখো সূর্য , কেমন করে আরো একবার টকটকে লাল হতে পারো প্রতিটি বুবুক্ষু মানুষদের জ...

কবিতা ।। প্রস্তুতি ।। লাবণী পাল

      প্রস্তুতি        লাবণী পাল সদর দোরে কড়া নড়লো বোধ হয়। নেই তো সময় একটুও আর হাতে। ফেলতে হবে গুছিয়ে যা সব জীর্ণ, পুরাতন। শোবার ঘরের চাদর জুড়ে ফুল গেঁথেছে রক্ত মেয়ের, ধর্ষকামের লোলুপ হাতের কাজ। পুড়িয়ে ফেলো, শেষ রেখো না কোথাও। পর্দা ঘিরে এ কোন্ অলক্ষণ ! চাকরি-হারা বেকার ছেলের লাশ যে ঝোলে ! ডিগ্রি ভরা কাগজগুলো জমছে মিছে ধুলোর পরে। সরাও, সরাও, সাফ্ করো সব। বসার ঘরেও ঝুল-কালি সার, ধর্মে পোড়া আগুন ও ছাই - নেভাও এবার। চতুর্দিকই অগোছালো, সামলে নিও। নতুন বছর পৌঁছে গেছে দুয়ার ধারে, আজকে তাকে নতুন আশায় বরণ করো, শপথ নিও। ================= লাবণী পাল। ধুপগুড়ি, জলপাইগুড়ি।

ছড়া ।। এই নববর্ষে ।। আনন্দ বক্সী

এই নববর্ষে  আনন্দ বক্সী  পুরাতন বিগত       নয়া সাল আগত            জানাইনা স্বাগত                 পয়লার প্রভাতে                       বৈশাখী সভাতে । নতুনের পরশে      চারিদিক হরষে              আনন্দ বরষে                বাঙালির প্রাণেতে                      রবির সে গানেতে। পদ হোক বাহারে         বাঙালির আহারে              ভালোবাসো যাহা রে                               বর্ষের বরণে                                  স্বাদ থাক স্মরণে। নতুন সে পোশাকে      ...

কবিতা ।। নতুন বছর ।। সুশান্ত সেন

নতুন বছর সুশান্ত সেন নতুন বছর ত এসে গেল এখনো সবাই চুপ করে থাকলে বাতাসের স্রোত কি দক্ষিণ সাগর থেকে আসবে ! পাশেই যে তরঙ্গভঙ্গ হয় বারবার বারবার সমুদ্রস্রোত যে বালিয়াড়িকে ধুয়ে ধুয়ে                                                              যায় সেই কথাটা কারো মনেই থাকে না। চুপ করে থাকার স্বাধীনতা                                  পরাধীনতাই ডেকে আনে। ভয়, শেকলের ভয়, মরণের ভয়, দল ছাড়া হয়ে                                   বাঁচার ভয় চুপ করিয়ে রাখে। তাই মাসের পর মাস প্রতিবাদেও চুপ করে থাকে        সংবিধান, অনড় থাকে আইন ও আদালত । একবার তো জেগে ওঠো একবার তো বলো ---              আমি বেঁচে আছি, আমার কথা শোন । ****...

কবিতা ।। স্বপ্ন নিয়ে ।। সুমিত মোদক

স্বপ্ন নিয়ে  সুমিত মোদক আকাশ-জল বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে  মহাকাশের পথে ; হয় তো সে কারণে মানুষের পা মাটিতে পড়ে না ; গনগনে আগুনের উপর একটার পর একটা  সময়ের ধারাপাত ; জীবনের নামতা শিখে নিয়েছে চাতক পাখি ; আকাশ-জল চাতক পাখি খোঁজে ; আর অসময় খোঁজে কান্নার শব্দ ; এ ভর দুপুরে কে কাঁদছে ! কে মাটির হাঁড়ি থেকে বাড়ছে ভাত ! সে কি আমাদের মা ! নাকি অস্পষ্ট এক হাত  ; দুপুর গড়িয়ে  বিকাল আসতে জানে ; ভাসতে জানে গো-রাখালের বাঁশি দখিনা বাতাসে ; আটপৌরে মেয়েটাও প্রেম নিবেদন করে নিজের কাছে ; অনেক গুলো স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরের পা রাখতে চেয়েছে উত্তর পুরুষ ; একের পর এক জলীয় বাষ্প ধরে রাখছে হাতের মুঠোয় ; অনাবাদী জমিকে আবাদী করে বোধ ।

কবিতা ।। নতুন দিনের ডাক ।। সুজন দাশ

নতুন দিনের ডাক সুজন দাশ মুছে যাক জরা-শুচি হোক ধরা নতুনেরে দিই ডাক, যাক গ্লানি মুছে-ব্যবধান ঘুচে সু-সাম্য ঘিরে থাক। সুন্দরে মাতি-টুটে যাক রাতি মিলনে সবাই বাঁধি, ঐক্যের টানে-প্রেরণার গানে দেশের জন্য কাঁদি। মলিনতা যত-হৃদয়ের ক্ষত ফেলে দিই দূরে ঠেলে, আসি পাশাপাশি-এক স্রোতে ভাসি প্রেমটুকু দিই ঢেলে। অপরের দুখে-যাই হাসি মুখে সাহায্যে রাখি হাত, ভুলি হানাহানি-মিছে টানাটানি টুটাই তিমির রাত। বাঁচবো মরমে-বর্ণে ধর্মে বিভেদে যাব না আর, মানুষ উর্ধ্বে-নীতির যুদ্ধে মহত্বে খুলি দ্বার! এসো নি' শপথ-বের করি পথ দাঁড়াই একতা বোধে, অন্যায় রুখে-বাঁচি সবে সুখে নেয়ে উঠি সুখো রোদে। হয়ে একজোট-তারে দিই ভোট মানবতা যার আছে, বেচব না নীতি-রাখি সম্প্রীতি সুখ যেন সবে যাচে! মহত্ব ছাড়া -হব পথহারা বর্গী লুটবে ন্যায়, সখ্যতা ধরি-চলো সবে লড়ি রচি নব অধ্যায়! :::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::;;;;::::::: সুজন দাশ আটলান্টিক সিটি,নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র। ফোন -6097469510

কবিতা ।।বাংলা নববর্ষ।। শ্রীমন্ত সেন,

  বাংলা নববর্ষ  শ্রীমন্ত সেন     রোদের রকমফেরে সহজেই বোঝা যায়, সহজেই বোঝা যায় বাতাসের আনমনা ভাবে, বিকেলের আলো জাগে তার দীপ্ত প্রতিভাসে— সে আসছে—সে আসছে-- বুকের কিনারা ঘেঁষে; কারা যেন চুপিসারে রেখে যায় প্রণামের দ্যুতি।   সবকিছু পুরাতন অনুষঙ্গে বিদায়ের সুর, পুরাতন অনুভবে নতুনের সান্ধ্যভাষা-পাঠ, নতুন দিনের সূর্য ফালাফালা করে ভোর, পয়লা বৈশাখ আসে নতুন দিশার মত— দিকে দিকে বুকে বুকে আলোর ইশারা নিয়ে।   আদিগন্ত জেগে ওঠে মায়ের মমতা হয়ে, বাংলা বর্ণপরিচয়ে মাখে সুগহন স্বর, আমন্ত্রণে-নিমন্ত্রণে সোনালি স্বপ্নেরা কাঁপে, পয়লা বৈশাখে শাঁখে ফোটে বদলের ডাক— 'যা কিছু আনন্দময় প্রাণের গভীরে এসো'। ____________________________________         শ্রীমন্ত সেন 29/A/1, ভাগীরথী লেন, পোঃ মাহেশ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।   পিন-712 202 চিত্র ঋণঃ ইন্টারনেট।

কবিতা ।। নববর্ষের গল্প বলি ।। তুহিন কুমার চন্দ

নববর্ষের গল্প বলি তুহিন কুমার চন্দ  শিউলি ডাকে ও চামেলি  একলা গেলি নদীর ঘাটে, বুনো চাঁপায় হাস্নুহানার  গল্প করেই সময় কাটে। কাঠমালতি এককোনে চুপ  নববর্ষ আদর করে, কনকচাঁপার গন্ধে মাতাল  হাওয়ায় সাথে গল্প করে। কেয়া বনের ভেতর দিয়ে  বাবলা কাঁটার বন যে ভীষণ,  উল্টোদিকে বিলাই খামচি  এ বনকে করছে শাসন।  ঝুমকোলতার নূপুর পড়ে  টাপুরটুপুর বৃষ্টি নামে, চাঁপার গন্ধে সূর্য ডোবে  রাতচড়াদের নিঝুম গ্রামে। শিউলি ডাকে ও চামেলি  মেঘ ধরেছে গানের কলি, তারচেয়ে চল মেঘের সাথে  রূপকথাদের গল্প বলি। ***************** তুহিন কুমার চন্দ  সুদর্শনপুর,রায়গঞ্জ-৭৩৩১৩৪ উত্তর দিনাজপুর (প.ব.) ভারত। মোঃ ৮৬১৭৮২৯১৩৩ tuhinchanda030@gmail.com

কবিতা ।। বর্ষবরণ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

বর্ষবরণ তীর্থঙ্কর সুমিত নতুন বর্ষ এলো আবার নতুন খুশি মুখে ভালোবাসার স্বপ্নপূরণ হবেই সর্বসুখে। বর্ষবরণ নতুন করে পুরোনো পিছে ফেলে সুখের খোঁজে সুখ প্রহরে নিজস্ব সম্বলে। রামধনু রং সবার মনে ছড়িয়ে যাক প্রাণে নতুন বছর নতুন আসা আসুক ভেসে কানে। ******************* তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু হুগলি পশ্চিমবঙ্গ     

কবিতা ।। নববর্ষ ।। দীপঙ্কর সরকার

নববর্ষ    দীপঙ্কর সরকার প্রতিটি সকাল আনে প্রতিটি নতুন ভোর হৃদয়ে প্রত্যাশা জাগে নববর্ষে এলো বুঝি খুশির খবর  ! যা কিছু পুরনো ছিন্ন মলিন সাফ সুতরো  করে গৃহস্থ সাজায় নতুন উঠোন । দোকানে দোকানে হাল খাতা শুভ মহরত । পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয় দূরে রেখে যা কিছু সংক্ষোভ , জীর্ণ পাতা ঝরার শেষে গাছে গাছে গজায় নব পল্লব । নতুন বছরে সব নতুন নতুন পাখির কণ্ঠেও  যেন নব সুর ! পুরনো নির্মোক ছেড়ে পুব দিগন্তে দ্যাখা দ্যায় নবারুণ । ************** দীপঙ্কর সরকার কাঁঠাল পুলি ( সিংহের হাটের কাছে) চাকদহ নদীয়া ৭৪১২২২

ছড়া ।। নাইয়র ।। সুব্রত চৌধুরী

নাইয়র সুব্রত   চৌধুরী বোশেখ   মাসে   নাইয়র   আসে   হারায়   পথের   বাঁকে , পথের   ধূলোয়     পদচিহ্নে সুখের   ছবি   আঁকে। নাইয়র   আসে   সখী   হাসে বাজে   খুশির   বীণ , এই   ক ' টা   দিন   দু : খ   ব্যথা ওদের   হবে   লীন। নাইয়র   বেড়ায়   বাগান   জুড়ে   আলতা   পায়ে   নুপুর , কাঁঠাল   মুচি   কুচি   কুচি ঘামে   ভেজা   দুপুর। সন্ধ্যা   নামে   রূপোর   খামে নাইয়র   মাতে   গানে , রূপোর   সিকি   ঝিকিমিকি   ডাকে   খুশির   বানে।   ————————————- সুব্রত চৌধুরী আটলান্টিক সিটি, নিউ জারসি, যুক্তরাষ্ট্র  হোয়াটসআপ # +1 6092332728

ছড়া ।। নববর্ষের নব হর্ষে ।। সুব্রত দাস

নববর্ষের নব হর্ষে     সুব্রত দাস ফুল পাখি মেঘ আকাশ বাতাস আজ কেন চঞ্চল, ঝরা পাতায় তবুও যে গাছ  রোদ্দুরে ঝলমল ! কিসের কিসের, কোন খুশিতে ফুটছে হাজার ফুল, কোথায় কে ভাই, অজান্তে হায় করলো কী যে ভুল ! কচিকাঁচা, ফুলকুঁড়িদের ডাগর চোখের তল, নতুন কিছু আশার ভাষার ভাসছে শতদল ! বলছি শোনো আসল কথা কথার কথা নয়, নববর্ষের, নব হর্ষেই এসব কিছু হয় !! ------------------------------------- সুব্রত দাস ৩১/১, গোবিন্দ সেন রোড, পোঃ রামঘাট, সূচকঃ ৭৪৩১৬৬, গরিফা, উওর ২৪ পরগণা, থানাঃ নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গ।

ছড়া ।। মিঠে আলোয় ।। স্বপন মুখোপাধ্যায়

মিঠে আলোয়  স্বপন মুখোপাধ্যায় আজ বোশেখের নিমন্ত্রণে  মাতছি খুশির গানে, হাসছে পলাশ কৃষ্ণচূড়া সবার প্রাণে প্রাণে। নতুন বছর দিচ্ছে দোলা শিরিষ ফুলে ফুলে, রঙিন আশায় গর্বে এ বুক  উঠছে দুলে দুলে। সকাল থেকেই দোকান দানি সাজছে নতুন করে, হালখাতা আর গনেশ পুজো  হচ্ছে আড়ম্বরে। সাজছে ঘরের দেওয়ালগুলো  নতুন ক্যালেন্ডারে, মিঠে আলোয় মনের দুয়ার  খুলছে বারে বারে। *************** স্বপন মুখোপাধ্যায় বহড়া,ষাটপলসা,বীরভূম  ফোন নম্বর 8617822208

কবিতা ।। নববর্ষ ।। সুব্রত কুণ্ডু

নববর্ষ  সুব্রত কুণ্ডু  পয়লা বোশেখ মানেই হল নতুন বরষ,  পয়লা বোশেখ মানেই হল মনের হরষ,  উথলে ওঠে প্রাণ--  রায়বাগানে ছেলেপুলের  আমেরই সন্ধান।  পয়লা বোশেখ এলেই হবে নতুন খাতা,  জীর্ণপাতা ঝরে গিয়ে কচিপাতা,  সবুজে ভরপুর -- আমের আঁটির ভেঁপু তোলে  নতুন গানের সুর।  বোশেখ এলেই ভাঙে সবার খুশির বাঁধ,  ফিনিক ফোটা জ্যোৎস্না ছড়ায় পূর্ণিমা-চাঁদ,  জ্যোৎস্না মাখামাখি--  ঠাম্-মা শোনায় রূপকথা আর  আমরা চাতক পাখি।  বোশেখ মানেই চিরনতুন রবিঠাকুর,  গানে গানে হৃদয় ভরে রবীন্দ্র-সুর,  প্রাণে প্রাণে হর্ষ-- আনন্দে ও মন-খুশিতে  কাটুক নববর্ষ।  ****************** সুব্রত কুণ্ডু  নবগ্রাম, রহিমপুর, হুগলী  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত  ৭১২৪০৮

বোশেখ মানেই আলোর দিশা ।। জয়শ্রী সরকার

বোশেখ মানেই আলোর দিশা  জয়শ্রী সরকার বোশেখ মানেই নতুন বছর , আনন্দ-কলতান ভোরের মৃদু-মন্দ হাওয়ায় পাখপাখালির গান । বোশেখ মানেই দুই বাংলারই আকাশ ছোঁয়া আশা হৃদয় দিয়ে লালন করি প্রাণের ভালোবাসা ! বোশেখ মানেই জীবনবৃক্ষে একটা ঝরাপাতা আনন্দেতে খুলবে মানুষ জীবিকার হালখাতা । বোশেখ মানেই আনন্দগান প্রকৃতির কলরব প্রত্যাশারা অপেক্ষাতে জীবনেরই বৈভব ! বোশেখ মানেই রবীন্দ্রনাথ প্রাণের ঠাকুর বরণ কাব্য-নাটক , নৃত্য-গীতে সবাই করি স্মরণ । বোশেখ মানেই আনমনা হই রবীন্দ্রনাথ চিতে আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত হয় রবীন্দ্রসংগীতে ! বোশেখ মানেই কালবোশেখী ঝড়ের মাতন সে কী ! স্নিগ্ধ তো হয় বসুন্ধরা , সেই ছবিটাও দেখি । বোশেখ মানেই পিচ্ গলা পথ তপ্ত তাওয়ার মতো দীঘল বটের শীতল ছায়া প্রাণটা জুড়ায় কত ! বোশেখ মানেই নতুন শপথ, র'ইবো সবাই বেঁধে গাইবো যে গান একসাথে সব এক সুরেতেই সেধে। বোশেখ মানেই নতুন আলো , নতুন প্রাণের দিশা সবুজে মন উঠবে ভরে , কাটবে অমানিশা ! ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

কবিতা ।। নতুন বছর নতুন দিনে ।। মৃত্যুঞ্জয় হালদার

নতুন বছর নতুন দিনে মৃত্যুঞ্জয় হালদার ভোর হতেই কাকা জ্যাঠা জমিতে যায় ছুটে, খড়ের আঁটি গোটাকয়েক আগুন ধরায় জুটে। নতুন বছর নতুন দিনের সূর্য যখন হাসে, ধোঁয়ায় ধূসর কুয়াশা যেন জমাট চারিপাশে। ধীরে ধীরে বাড়লে বেলা রীতি রেওয়াজ যত, ঘরে ঘরে বর্ষবরণ আমোদ অবিরত। নিম হলুদে মাখামাখি শিল-নোড়াতে জোর, সবার গায়ে নিম-হলুদের  আজ লেগেছে ঘোর। দেবালয়ে পুজা আচ্চা নতুন পোশাক পরে, সবাই যেন সুস্থ থাকে সমবৎসর ভরে। পদে পদে পাকশালেতে সুঘ্রাণে ভরপুর, আয়েশ করে একসাথে আজ জমজমাটি দুপুর। বিকেলবেলা গোষ্ঠ মেলা  দলবেঁধে সব যাওয়া, বাউল কিংবা গাজন গানে মনের আরাম পাওয়া। ........................................................... ✍️ গড়িয়া স্টেশন রোড ফরতাবাদ মোড় কলকাতা-৮৪  পশ্চিমবঙ্গ   ভারত

ছড়া ।। নববর্ষ ।। রূপালী মুখোপাধ্যায়

নববর্ষ  রূপালী মুখোপাধ্যায় সারাদিনই গলদঘর্ম, সন্ধ্যে বেলায় হাওয়া চৈত্র শেষ, বৈশাখেতে এটাই পরম পাওয়া। গাছে গাছে ভর্তি থাকে সবুজ কিশলয়  বেলীর সুবাস ছড়িয়ে থাকে গোটা বাগান ময়। জুঁই মাধবী দুজন মিলে গল্প করে কত  গল্প শোনার জন্য ছোটে মলয় বাতাস যত। এগারো মাস পরে আসে নতুন বোশেখ মাস  বছরটা তো ভালো যাবে সবার মনে আশ । এই মাসেতেই আছে আবার কবির জন্ম তিথি  বকুল ফুলের গন্ধেভরা সকল বনবীথি । কুহু কুহু কোকিল ডাকে পুষ্পভরা শাখে  আম কাঁঠালে ভর্তি থাকে এই ভরা বৈশাখে। উঠান জোড়া আলপনাতে বোশেখ বরণ করে  শুভ নববর্ষ বলে ,জড়িয়ে সবাই ধরে । নিয়ম করে নববর্ষ পালন করা হয়  বছর টা কি ভালো যাবে শঙ্কা যেন রয়। ******************** রূপালী মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান 

ছড়া ।। সোহাগ মায়ায় এসো ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

সোহাগ মায়ায় এসো নিরঞ্জন মণ্ডল নতুন বছর এসো হে এসো বস দাওয়ার পর তোমার ছোঁয়ায় শীতল হাওয়ায় ভরুক সবার ঘর। দিন কাটে না রাত কাটে না পেটের খিদেয় যাদের একটু দিয়ো খুশির খবর ,ভাত দু'মুঠো তাদের। যেসব ছেলে মেয়ের রোজই পথেই গড়ায় দিন শতেক ব‍্যথা না পাওয়াতেই বুক করে চিনচিন তাদের দিয়ো স্বপ্ন ভেজা একটা দুটো রাত, রোগ যাতনায় কাতর জনের মাথায় সোহাগ হাত। কঠিন কাজে হাঁফায় যারা খেলার সময় ভুলে সামনে তাদের অবকাশের দরজা দিয়ো খুলে। একটু কোরো উজল কোমল খোস খসখস গা ; খেত খামারে সময় ভোলা বিরাম বিহীন পা রক্ত ঘামের আলপনা দেয় দণ্ড প্রহর পলে শীতল পরশ বুলিয়ে দিয়ো তাদের চলাচলে। ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে যারা খিদের মানিক খোঁটে জোয়ার স্রোতে রাত কেটে যায় দিনের আলো ফোটে, তাদের দিয়ো সুর ঝুরঝুর অবসরের কাল মন পবনে ভরিয়ে দিয়ো তাদের ডিঙার পাল। নতুন বছর তোমার কাছে চাই না তেমন সুখ একটু মায়া আবেগ দোলায় ভরিয়ে দিয়ো বুক। চারপাশেতে ধুঁকছে যারা এড়িয়ে পরিহাস তাদের কথা ভাবতে দিয়ো একটু অবকাশ। গলায় দিয়ো নতুন কথার সুর কলকল গান, ফুল ফোটানোর খেত জাগানোর অমল পিছন টান। ****************

বৈশাখী ছড়া ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

বৈশাখ মানে... রঞ্জন কুমার মণ্ডল বৈশাখ মানে বাংলা সনের শুভ প্রথম মাস হালখাতার মহোৎসব শুরু দুর্গতি হবে নাশ। বৈশাখ মানে খাঁ খাঁ রোদ্দুর  তাপের ভ্রুকুটি চলে পথিকজন জিরিয়ে নেয় বসে গাছের তলে। বৈশাখ মানে গাছে কাঁচাআম ঝিনুকে ছাড়িয়ে খাওয়া ভোরবেলাতে আম কুড়ানো শিশুকালে ফিরে যাওয়া। বৈশাখ মানে গাছে কচিপাতা কাঁচা আমের দুপুর দুপুর গড়ালে মাঝে মাঝেই কালবৈশাখীর সুর। বৈশাখ মানে তাপের বহর শুকিয়ে পুকুর জলা নোনা ঘামেতে চাষীরা মাঠে চাষ করে সারাবেলা। বৈশাখ মানে খুশির আমেজে বৈশাখী মেলা ফেরে কবি গুরুর জন্মদিন স্মরণ  বাংলার ঘরে ঘরে। ______________________________________   রঞ্জন কুমার মণ্ডল  সারাঙ্গাবাদ, মহেশতলা,  জেলা -দক্ষিণ ২৪ পরগণা। পিন-৭০০১৩৭. পশ্চিমবঙ্গ। ফোন  : +91 8240249978.

নববর্ষের কবিতাগুচ্ছ ।। সৌমেন দেবনাথ

নববর্ষের কবিতাগুচ্ছ  ।। সৌমেন দেবনাথ  নববর্ষে প্রত্যাশা আসলো আবার নববর্ষ উঠলো নতুন আলো, সকল জীর্ণ যাবে কেটে নিপাত যাবে কালো। বাঁধনহারা সুখে সবাই ভাসবে সুখের ভেলায়, আর ভুল ভ্রান্তি করবে না কেউ ভেসে হেলায় খেলায়। দুঃখ যত ঝরে যাবে থাকবে না আর ক্ষরণ, রঙে রঙে জীবন জাগবে নতুন করে বরণ। কষ্ট স্মৃতির কাটবে ইতি নতুন যাত্রায় সামিল, বর্ণিল জীবন সবার আসবে কেটে যাবে অমিল। দুঃখ ভোলার দিনে সবার মনে থাকবে রঙিন, যত গ্লানি যাবে ডুবে হবে না কেউ সঙিন। নতুন বছর নতুন আলোয় বাঁচবো নিয়ে আদর্শ, সুখে দুখে শক্ত রবো শুভ নববর্ষ। আল্পনায় বৈশাখ নববর্ষ ঘিরে মনে থাকে যে জল্পনা, নতুন বর্ষ বরণ করতে আঁকা হয় আল্পনা। উঠানে তাই ঝাড়-পোছ-লেপন নান্দনিক উঠান সাজ, তারপর উঠানে চিত্রাঙ্কন আহ রঙিন কারুকাজ। দেয়াল জুড়ে শৈল্পিক আঁকা দেখলেই করি শংসা, পিচঢালা ঐ সড়ক জুড়েও আঁকা রঙিন নকশা। নকশায় থাকে কত কিছু লতা-পাতা ফুল ফল ঢোল-তবলা হাতপাখা কুলা চোখের পড়ে না পল। আঁকিবুকি দিয়ে আমরা দেশটা করি বিন্যাস, পয়লা বৈশাখ ঘিরে দেশ মা হয় রং-তুলির ক্যানভাস। নতুন বর্ষের নব আশায় নতুন বছর নতুন আশায় ভাসবো স্বপ্ন ভেলায়, ভুলে যাবো হানাহানি মাতবো রঙের মে...

অণুগল্প ।। নববর্ষের আনন্দ ।। মিঠুন মুখার্জী

।।  নববর্ষের আনন্দ ।।            মিঠুন মুখার্জী নববর্ষ বাঙালির কাছে খুব আনন্দের। বিশ্বের সকল জাতির আনন্দের দিন যেমন ইংরেজি নববর্ষ, তেমনি বাঙালির কাছে বাংলা নববর্ষ। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরন করার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি নবীন যাদব। আমি বাঙালি নই ,কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে থাকতে থাকতে আমি মনে প্রানে বাঙালি হয়ে উঠেছি। আমার বাড়ি বিহারের পাটনায়। কর্মসূত্রে আমি কলকাতার বেহালায় থাকি। আমি একজন স্টেশন মাস্টার। বারাসাতে আমার পোস্টিং।                 বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ।তারা আনন্দ করতে খুব ভালোবাসেন। তাই প্রত্যেক মাসেই কোনো না কোনো উৎসবে মেতে থাকে। এখানে কুড়িবছর থাকার ফলে আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমি বিহারী না বাঙালি। দীর্ঘ দিন এখানে থাকার ফলে আমি ও আমার পরিবার ভালোই বাংলা শিখে গেছি।প্রত্যেক নববর্ষে আমার বাঙালি কলিগরা ও বাঙালি বন্ধুরা আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। আমাকে কেউ মিস্টির প্যাকেট আবার কেউ লাড্ডু ও ক্যালেন্ডার দেন। আমার খুব ভালো লাগে।এমন কি কোলাকুলিও করেন। বেশিরভাগই ...

ছড়া ।। বর্ষবরণ ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

বর্ষ বরণ বিদ্যুৎ মিশ্র নতুন মনের নতুন দিনের নতুন বরষ যাপন আজকে শুধুই ভালোবাসার সবাই নিজের আপন । ভুলে সবাই দ্বন্দ্ব বিবাদ প্রেম ছড়িয়ে দেবো গরিব দুখি আর্তজনে নিজের করে নেবো । সারা বছর মিলেমিশে থাকবো আবার সাথে স্বপ্ন সকল পুরণ হবে জোছনা ঝরা রাতে । সবাই মিলে করবো বরণ নতুন বছর শুরু ছন্দ গানে থাকবো মেতে আছেন কবি গুরু । **************** বিদ্যুৎ মিশ্র পুরুলিয়া , পশ্চিমবঙ্গ,ভারত

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,