Skip to main content

গল্প।। পুনরাবৃত্তি ।। আলাপন রায় চৌধুরী


পুনরাবৃত্তি

                 - আলাপন রায় চৌধুরী


                                                           ১

"আচ্ছা আচ্ছা, আপনিই লোক পাঠিয়েছিলেন তাহলে।" একটু হেসে বললো সত্য। "বলুন!"

"হ্যাঁ স্যার, আমিই...। আমার নাম করণ বাত্রা। প্লিজ বসুন।" এই বলে থানার ও.সি. বাত্রা সাহেব ইশারা করে কনস্টবলকে ওনার কেবিনের দরজাটা ভেজিয়ে বাইরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিলেন।

তারপর ও.সি. আসল কথাটা শুরু করলেন। "এবার বলি ব্যাপারটা আপনাকে।"

"আপনি নয়, তুমি বলুন আমাকে। আমি অনেক ছোট।"

"ওকে...! দেখুন, আমাদের কাছে একটা টীম-এর কয়েকজন এসেছিলো। সবাই ট্রেকার ওরা। তা ওরা একটা অদ্ভুত ক্লেম করে- ওরা নাকি এগজোটিক হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্ক-এ ভূত দেখেছে! আই মিন, ওরা ভূত শব্দটা ব্যবহার না করলেও ব্যাপারটা সেরমই।"

"ওকে, দেন..."

"ওরা আমায় বলে যে ন্যাশনাল পার্কে নাকি ওরা একজনকে খাদে পড়ে যেতে দেখেছে! এবার ব্যাপার হলো এই যে ওরা ব্যাপারটা তখনই পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানায়।"

"ওহ, তাহলে পার্ক-এর গার্ডরা সার্চ অপারেশন চালায়নি?"

"হ্যাঁ, চালিয়েছিল, বাট ওরা কিছু পায়নি- কোন লাশ নয়, বিলংগিংস নয়, ছেঁড়া জামাকাপড় বা ব্লাড ড্রপস, অ্যাবসলাউটলি নাথিং ওয়াস ফাউন্ড!"

"এরম হওয়ায় ওরা পুলিশকে জানায় ঘটনাটা, আর এখন হয়তো ওরা ছুটি কাটিয়ে ফিরেও গেছে।"

"হমম, সবই তো বুঝলাম। কিন্তু আপনি আমায় ডেকে পাঠালেন?"

"না না, এখানেই শেষে নয় স্যার। সেই কথাতেই আসছি। ব্যাপারটা ওরা আমায় জানাতেই আমি লোক পাঠাই পার্কে। আমরা কাউকে খুঁজে পাইনি স্যার।"

"হুম, দ্যাটস স্যাড! তো আমি এক্ষেত্রে কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে?"

"পার্কের একজন পুরোনো লোক আছেন- এখন রিটায়ার করে পার্কেরই এক কোনায় থাকেন পুরোনো কোয়ার্টার-এ । ওনার নাম  রবি- এই  রবিজি  আমায় বললেন যে এটা নাকি নতুন নয়!.আগেও এরম দেখা গেছে, ফ্রিকোয়েন্টলি না হলেও ! মেয়েটি যাকে পড়তে দেখেছে সে অশরীরী!"

"হোয়াট?"

"হ্যাঁ স্যার! এই জন্যই প্রচুর খোঁজা-খুঁজি করেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি!"

"আচ্ছা যে পড়ে গেছে তাকে কেমন দেখতে ছিল? তার কোন ডেসক্রিপসন পেয়েছেন কি?"

"ওদের ট্রেকিং গ্রুপের একটি মেয়ে- কি যেন নামটা? চিত্রা, হ্যাঁ, চিত্রা! ও লোকটাকে পড়তে দেখেছিল! আমরা ভাসা ভাসা ডেস্ক্রিপশন শুনি স্যার। উই হ্যাড টু রাশ টু দ্য স্পট আফটার দে রিপোর্টেড।"

"আপনাদের তো রিপোর্ট রেকর্ড করার খাতা আছে। সেখানে আপনারা কিছু লিখে রাখেননি রেকর্ড করার সময়?"

"হ্যাঁ স্যার, দাঁড়ান, খাতাটা আনিয়ে নিচ্ছি!" এই বলে ওসি বেল বাজালেন আর বাইরে থেকে একজন কন্স্টবেল ঘরে ঢুকতেই তাকে খাতাটা আনতে বলে দিলেন তিনি।

কন্স্টেবল দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যেতেই সত্য জিজ্ঞেস করল, "কিছু মনে করবেন না, কিন্তু আপনি সিওর যে সার্চটা ঠিক ঠাক করা হয়েছে?"

"১০০% সিওর স্যার! গার্ডরা অবধি করেছে. এমনিতেও পার্কটার পিছনেই বর্ডার। সেই জন্য ওই অঞ্চলটাকে আমরা একটু চোখে চোখে রাখি, আর বিশেষ গুরুত্বও দি।"

"হুম্..." বলে সত্য শুনতে লাগল, আর ওসি বলে চললেন, "আমি আমার যে কনস্টেবলদের পাঠাই তারা পার্কটা ভালো ভাবে চেনে। তাই ওদেরই পাঠাই। এছাড়া ওখানকার গার্ডরা তো স্যার, হাতের তালুর মতোই... আমি নিশ্চিত যে দে লেফ্ট নো স্টোন আনটার্নন্ড ইন দিস কেস!"

"তাহলে বলছেন যে আপনাদের সার্চ সাকসেসফুল ছিল। তার মানে হয় ওই মেয়েটি ভুল বলছে, বা যে পড়ে যায় সে..."

এর মধ্যেই কনস্টেবলটি খাতা নিয়ে এসে টেবিলে রেখে আবার দরজা বন্ধ করে চলে গেল।

"হ্যাঁ আপনি কি যেন বলছিলেন স্যার?" আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করেন করণ বাত্রা।

"না, আমি বলছিলাম যে এটা কোন এলাবোরেট প্রাঙ্ক বলে তো মনে হচ্ছে না। পুলিশকে নিয়ে এরকম ভাবে মজা করে ট্রেকারদের কি লাভ?"

"হ্যাঁ স্যার, সেটাই। রবিজি তো বললেনই এটা ভূত-প্রেতের ব্যাপার..."

"হুম্, আরেকটা ব্যাপার লোকটা যদি পড়ে গিয়ে এদিক-ওদিক চলে গিয়ে থাকে বা কেউ তাকে নিয়ে গিয়ে থাকে সেটা তো জানাজানি হবে। সেরমও কিছু শোনেন নি?"

"না, নিচে কেউই লোকটাকে পড়তে দেখেনি। এদিকে চিত্রা ক্লেম করছে যে লোকটা ওপর থেকে পড়েছে।"

"এবার রিপোর্টটা দেখব। কিন্তু তার আগে একটা জিনিস বলুন- পার্কে তো নিশ্চয়ই সিসিটিভি আছে। সেটার ফুটেজ চেক করেছেন?"

"না স্যার, আসলে পার্কের ব্যাপারটাতে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। তো সবাই বেরিয়ে এসে জড়ো হয়। তার মধ্যে রবিজিও ছিলেন। অনেক তল্লাশি করেও যখন পাওয়া গেল না লোকটাকে, তখন রবিজি লোকটার ডেস্ক্রিপশন না শুনেই বললেন যে এটা ভুতের কেস।"

"আপনার রবিজির সাথে তো কথা বলতে হচ্ছে তাহলে। পুরনো কোয়ার্টারে পেয়ে যাবো তো ওনাকে?"

"হ্যাঁ হ্যাঁ।"

"ওকে" বলে সত্য একটু চুপ করতেই, রিপোর্ট খাতার পেজ উল্টাতে উল্টাতে ওসি বললেন, "এই, এই যে স্যার, এখানে, হ্যাঁ এই তো, দেখুন!"

"টল, লিন, ভেরি ফেয়ার, অরেঞ্জ টি-শার্ট, ব্রাউনিশ বা সোনালী চুল... উমম্, নর্থ ইন্ডিয়ান না বিদেশী? বিদেশিই মনে হচ্ছে তো!"

"হ্যাঁ স্যার, হতেই পারে। অনেক বিদেশী আসে এই ন্যাশনাল পার্কে।"

"হ্যাঁ বটে।"

"তবে একটা ব্যাপার স্যার, আমায় টিকিট কাউন্টার থেকে বলল ওরম কেউ কিন্তু ঐদিন পার্কে আসেনি। এতে আমার রবিজির কথাটা আরো যুক্তিপূর্ণ লাগে। আফটার অল পুরনো লোক!"

"কোন চোরা পথে ঢোকেনি তো লোকটা?"

"স্যার, সেরম পথ থাকলেও ওরম কোন ইন্ট্রুশন বা ইনফিল্ট্রেশন-এর রিপোর্ট ইদানিংকালে আমাদের কাছে নেই।"

"হুম্, ওকে, ঠিক আছে। আমি দেখছি এই ব্যাপারে আমি কি করতে পারি। ভূত হোক বা অন্য কিছু, ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং!"

এই বলে সত্য "থ্যাংক ইউ, বাত্রা সাহেব!" বলার সাথে সাথে নিজের হাতও বাড়িয়ে দিল।

"নো প্রবলেম স্যার। ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম, এন্ড থ্যাংকস টু ইউ টু!" বাত্রা বললেন, আর তার সাথে দু'জনে জোরে করমর্দন করলেন।


                                                              

এখানে বলে রাখা ভালো যে সত্য একজন প্রবাসী বাঙালি মিস্ট্রি-হান্টার- বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা  নিয়ে চর্চা করা, সেইসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করাই তার নেশা। কোথাও অ্যানম্যালস্ বা প্যারানরমাল কিছুর সন্ধান পেলেই সত্যর মন বেরিয়ে পড়তে চায় সেই জায়গার উদ্দেশ্যে! এদিকে পেশা বলতে একটা ব্যবসা আছে তার। তাছাড়া তার আরেকটা পেশাও আছে যার কথা সে কাউকে জানায় না। তাই আমারও বলা বারণ! যাইহোক এই কেসটা নিয়েও সে লেগে পড়ল। তবে কিছুদূর এগোনোর পর কিছুতেই আর কেসটা নিয়ে এগোতে না পারায় সে একটু অধৈর্য হল, আর তার স্যার-এর সাহায্য নেবে ঠিক করল।

যদি কেউ ভাবে যে সত্যর স্যারের ঘরবাড়ি দেখলেই বোঝা যাবে যে উনি মিস্ট্রি হান্টার বা অ্যানোম্যালস-প্যারানরমাল ব্যাপার-স্যাপারে আগ্রহ রাখেন, তাহলে সেটা ভুল হবে। উনি রিটায়ার করেছেন কিছুদিন হল। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে মোটামুটি নিরিবিলি জায়গায় একটা ছোট্ট বাংলো-স্টাইলড বাড়িতে থাকেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির সত্যর থেকে ৪ ইঞ্চি বেশি লম্বা, ছিপছিপে চেহারা। এখনো অনেক চুলই কালো। শখের মিস্ট্রি হান্টার মিস্টার এস. খান্না বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন। সত্য জানিয়েছিল যে সে দেখা করতে আসবে; তাই অপেক্ষাতেই ছিলেন। সত্য গেট খুলে ঢুকতেই চায়ের যেটুকু বাকি ছিল সেটুকু চুমুক দিয়ে চটপট শেষ করে ফেললেন। সত্য স্মিত হাসতে হাসতে সরু কংক্রিটের রাস্তা ধরে বারান্দার ধারে আসতেই হাতের ইশারায় মিস্টার খান্না তাকে ভেতরে ঢুকে আসতে বললেন।

ভিতরে ড্রইং রুমে মাঝামাঝি সোফাতে দু'জনে কোনাকুনি বসে কথা শুরু করলেন।

"বল সত্য কেমন আছো? আর কেসটা ঠিক কি?"

"স্যার, আমি ভালোই আছি। কেসটা বেশ জটিল, অন্তত আমার তো লাগছে! তাই এলাম আর কি…"

"হুম, তাহলে ফাইনালি জটিল কেস পেলে, সত্য!" এই বলে একটু হাসলেন মিস্টার খান্না। "আচ্ছা, বলো, দেখি সাহায্য করতে পারি যদি কিছু…"

"হ্যাঁ আমি নিজেও পাজলড! আমি চাইছিলাম এরকম চ্যালেঞ্জিং কেস!"

"কিন্তু এটা একদম আউট অফ দা বুক হয়ে গেছে, তাই তো?"

"হ্যাঁ স্যার। তবে আমার মনে হল আপনি হয়তো একটা রাস্তা দেখাতে পারবেন।" একটু লজ্জা মিশ্রিত হাসি হেসে বলল সত্য।

"হুম আচ্ছা।"

"পুরো ব্যাপারটা খুলে বলি। ১৯৭০-এর দশকে হিমাচলের এগজোটিক হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্কে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়। একজন হাইকার খাদে পড়ে যায়। তারপর থেকে মাঝে মাঝে তার 'ভূত'-কে সেই পার্কে দেখা যায়- ওই একই জায়গা থেকে সে পড়ে যাচ্ছে! লোকে সেটা এখনো দেখতে পায় মাঝে সাজে।"

"ওহ্ এটা তো খুব কমন ব্যাপার। আনুক শুনেছি এরম!"

"হ্যাঁ স্যার এরম তো কত গল্প শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু আপনি শুনলে অবাক হবেন যে, যে লোকটি খাদে পড়ে গেছিল সে মারা যায়নি। অনেকদিন হসপিটালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে বেঁচে গেছিল, আর…"

"ওয়াহ্, হাউ ইন্টারেষ্টিং…, হ্যাঁ, বলো…"

"বেঁচে গেছিলো সে, আর এখনো বেঁচে আছে। ব্রিটিশ সিটিজেন মিস্টার জর্জ ক্লার্ক!"

"বলো কি!"

"হ্যাঁ স্যার, সাসেক্সে থাকেন। ৭০-এর উপর বয়স। আমি নিজেও কথা বলেছি ওনার সাথে।"

"তুমি শিওর? কোন ভুল হচ্ছে না তো?"

"না, ফুললি ভেরিফাইড! উনি কথায় কথায় স্বীকারো করলেন ব্যাপারটা। ইনোসেন্টলি কথা বলে কথা বার করেছি।"

"ও, বাট তুমি বললে যে ভূত…"

"ওটাই তো স্যার!"

"হুম, আমায় ভাবতে হচ্ছে তো তাহলে… আচ্ছা, কথা কীভাবে বললে?"

"ফেসবুক স্যার, ফেক প্রোফাইল, হে হে!"

"আহ্ হা হা হা! আই শুড হাভ নোন!"

"ভাগ্যিস ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটা একসেপ্ট করলেন। না হলে ঘি উঠতো না এত সহজে।"

"ওনার হাইকিংয়ের শখ এখনো আছে, অ্যাকসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও।"

"প্যাশন, সত্য, তোমার-আমার মতই…"

"হ্যাঁ স্যার, সেই...! ওনার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ওনার বোনের প্রোফাইলে ঢুকে বেশ কিছু পুরনো ফটো পেলাম- কোনোটা ৬০, কোনোটা ৭০ বা ৯০-এর দশকে তোলা। কয়েকটাতে মিস্টার ক্লার্কও আছেন- তখন বয়স কম।"

"এন্ড হি ইস দ্য সেম ম্যান, রাইট?"

"ইয়েস! আমি ঘেঁটেঘুঁটে যেটা পেয়েছিলাম সেটা পুরনো লোকাল কাগজের ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ছবি হলেও সেটা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে একই লোক। এছাড়া আই উইটনেস অ্যাকাউন্ট তো ছিলই- সেই মেয়েটি তো কালারেই দেখেছে ওনাকে- ওনার অতীতের চেহারাটাকে।"

"আই সি। খবর হয়েছিল তাহলে…"

"হ্যাঁ, লোকাল কিছু পেপারে বেরিয়েছিল খবরটা ১৯৭২-এ। তবে উনি যে বেঁচে গেছিলেন সেটা আর কাগজে বেরোয়নি। আমি অন্তত কোনো রেকর্ড পাইনি।"

"আচ্ছা, ওখানে শুধু এক্সিডেন্টের খবরটা দিয়েছিল…?"

"হ্যাঁ স্যার, আর উনি যে গুরুতর আহত, সেটা। মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো ফলো আপও বেরোয়নি, ইফ অ্যাট অল হি হ্যাড ডাইড। আর, যে হসপিটালে ছিলেন তার পুরনো রেকর্ড থেকেও কনফার্ম করেছি। এছাড়া অন্য কোথাওও ওনার মারা যাওয়ার কোনো খবর নেই।"

"আচ্ছা। আর এতেই তোমার সন্দেহ হয় যে…"

"হ্যাঁ, এর থেকেই আমার মনে হয় যে সে যাত্রায় উনি বেঁচে গেছিলেন।"

"তা ওনার 'ভূত'-কে কেউ দেখেছে এর মধ্যে?"

"হুম, এরম মাল্টিপল সাইটিংস হয়েছে স্যার। একটা সম্প্রতি হয়েছে, এই এক মাস আগে। আই উইটনেস টেস্টিমনিটাও হাতে পেয়েছি- চিত্রা নামে একজন টুরিস্ট। একটা গ্রুপ এসেছিল।"

"একই জিনিস?"

"হ্যাঁ, যতটা জানতে পেরেছি একই স্যার।"

"আচ্ছা, তারা তো ডিসক্রাইব করবেই… এছাড়া?"

"এছাড়া, একজন পুরনো গার্ড আছে পার্কের, রবি নাম। ওনার সাথে কথা বলেছি…"

"ওকে, তো উনি কি বললেন?"

"বাকি যাদের এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে, মানে ১৯৭৬ থেকে, ওনার চাকরির আমল থেকে…"

"আচ্ছা আচ্ছা, এই লোকটা ঠিকঠাক তো সত্য?"

"হ্যাঁ স্যার, রিজিওনাল পুলিশ স্টেশনের ওসি ভালো সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। আরেকটা ব্যাপার- আমি ওনার পিছনে খোচর লাগিয়েছিলাম।"

"বাহ্, তুমি এসিস্টেন্টও পেয়ে গেছো?"

"হ্যাঁ স্যার, একটি মেয়ে, সিম্মি বলে। ও আমার সাথে মুভ ইন করবে শীঘ্রই।"

"আচ্ছা, বাহ! এবার তোমার কাজে গতি আসবে।"

"হ্যাঁ, সিম্মিকে যেটুকু চিনি, বেশ কাজের মেয়ে!"

"হুম, তো সিম্মিও ক্লিনচিট দিয়েছে রবিকে?"

"হুম, তাই রবিজির কথায় সামান্য ইম্পারফেকশন থাকলেও মিথ্যে কথা বলে না লোকটা।"

"এই রবি তাহলে ইনফরমেশনের খনি?"

"হ্যাঁ স্যার, পুরনো লোক! বেশকিছু সাইটিংস-এর কথা বললেন। সব মনে না থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো সাল আর মাসও বলে দিলেন।"

"তো সব আই উইটনেসরা একই জিনিস দেখেছে?"

"হ্যাঁ, ওই শ্বেতাঙ্গ যুবকের খাদে পড়ে যাওয়া- সবক্ষেত্রে একই ডেস্ক্রিপশন!"

"ইন্টারেস্টিং…! আর জায়গাও এক?"

"হ্যাঁ স্যার, একই স্পট। কিন্তু কোন প্যাটার্ন পেলাম না!"

"মানে?"

"মানে বছরের আর কি, স্পেসিফিক গ্যাপ নেই কোন। যে এত বছর পর পর হচ্ছে, বা ওরম কিছু।"

"আচ্ছা আচ্ছা, বুঝলাম। অদ্ভুত কেস এটা! আর কিছু ইনফো পেয়েছো?"

"ওই স্যার, সাইটিং-এর কয়েকটা ডেট- ১৯৮৪, ১৯৯১, ১৯৯৯, প্রতিটাই সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় ভাগে।"

"আচ্ছা, আই সি। ইন্টারেস্টিং…! দাঁড়াও, নোট করে নি।"

"এখানে একটা প্যাটার্ন আছে স্যার, যদি রবিজির কথা ঠিক হয় তো। সেপ্টেম্বর!"

"উমম্ হুমম..., দেখব!" সব নোট করে নিয়ে মিস্টার খান্না বললেন, "ঠিক আছে। আমায় একটু ভাবতে দাও।"

"কবে আসবো তাহলে?"

"আমায় হপ্তাখানেক সময় দাও। তারপর যোগাযোগ করে চলে এসো।"

"ওকে স্যার।"

"আচ্ছা ওই স্পটটার আর কোন ছবি আছে?"

"হ্যাঁ, ওটা 'এক্সিডেন্ট স্পট' বলে পরিচিত। গুগলে ওটার অনেক এইচ কিউ ছবি আছে।"

"আচ্ছা তবে সার্চ করলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল পেয়ে যাব ওটার।"

"হুম হুম।"

"ওকে, তুমি কিছু খাবে এখন?"

"না স্যার, আমি বাস পাল্টানোর ফাঁকে খেয়ে নিয়েছি।"

"আচ্ছা, ঠিক হ্যায় দেন। সাবধানে ফিরো। টেক কেয়ার!" এই বলে মিস্টার খান্না সত্যর সাথে করমর্দন করলেন।


                                                                  

সত্যর সাথে দেখা হওয়ার এক সপ্তাহ পর মিস্টার খান্না সত্যকে ডেকে পাঠালেন। সত্য আবার তাঁর বাড়ি গিয়ে হাজির হলো।

সত্যকে ঘরে বসানোর পর উনি ফ্রিজের দিকে এগোতে এগোতে বললেন: "কোল্ড কফি আছে। খাবে নাকি?"

সত্য একটু লজ্জা পেয়ে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে, স্যার। দিচ্ছেন যখন..."

"হুম, আমি জানি তুমি কোল্ড কফি পছন্দ করো। তাই এনে রেখেছিলাম আগেই।"

মিস্টার খান্না কফির ক্যান এনে সোফার সামনে টেবিলের উপর রাখলেন। তারপর ক্যানটা খুলে সত্যর দিকে এগিয়ে দিলেন। সত্য সেটা ধরে বলল: "খুব ঠান্ডা স্যার। একটু রুম টেম্পারেচার-এ থাক। তারপর...।"

"ওকে, অ্যাজ ইউ উইশ...। এবার যে জন্য ডেকেছিলাম, সেই কাজের কথায় আসি।"

"হ্যাঁ, আমিও মুখিয়ে আছি। পুরো রাস্তা চিন্তা করছিলাম যে কি হতে পারে।"

"আচ্ছা ফিজিসিস্ট জন ব্রান্ডেনবার্গের নাম শুনেছো?"

"না স্যার।"

"আমার মনে হয়েছিল শোনোনি।‌ না হলে তুমি হয়তো এই রিডলটা সলভ করে ফেলতে।"

সত্যকে একটু অবাক হতে দেখে মিস্টার খান্না বাকিটা বলতে লাগলেন, "উনি আমেরিকান। ওনার একটা নতুন থিওরি বাজারে এসেছে।"

"আচ্ছা আচ্ছা।"

"এই যে ক্রিপটিড-এর কেসগুলো দেখো, যেমন আফ্রিকার মোকেলে মবেম্বে। এই আছে, এই নেই, একোর্ডিং টু আই উইটনেসেস...।"

"হ্যাঁ, ইয়েতির ব্যাপারেও এরম শুনেছি আমি।" বলে উঠলো সত্য।

"হুম, ঠিকই শুনেছো...। উমম, লক নেস মনস্টার-কেও আজ অবধি পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্কটল্যান্ড-এর লোকে দাবি করে তারা তাকে দেখেছে। কিছু আনক্লিয়ার অথচ আনএক্সপ্লেনড ফুটেজও আছে বটে।"

"হ্যাঁ, কিন্তু লক নেস হ্রদে যতগুলো এক্সপিডিশন হয়েছে তার একটাও মনস্টারের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পায়নি।"

"হ্যাঁ, কোন প্রমাণ নেই। শুধু একবার একটা মোটর-বোট অ্যাক্সিডেন্ট হয়। চালক মারা যায়। হঠাৎ কেন এরকম হয়েছিল তার কারণ কেউ বলতে পারেনি। অনেকে মনে করে যে হ্রদের জলে দৈত্যটা চরে বেড়াচ্ছিল, আর বোটটা তার গায়েই ধাক্কা খায়।"

"হ্যাঁ, কেসটা চেনা চেনা লাগছে...।"

"দেখো যারা ধরো ছবি, ফুটেজ বা বাস্তবে ওটাকে দেখেছে তাদের কথা শুনে মনে করা হয় যে ওটা এক প্রজাতির অবলুপ্ত জলচর ডাইনোসর যার নাম প্লিসিওসর।"

"হ্যাঁ হ্যাঁ, এটাও পড়েছি স্যার। কিন্তু এগুলো কি এই কেসের সাথে রিলেটেড?"

"হ্যাঁ সেই জন্যই তো বলছি। ব্যাপারটা ভাবো, মোকেলে মবেম্বে এই আছে, এই নেই। ওদিকে লক নেস মনস্টার মেসোজোয়িক যুগের ডাইনোসর।"

"উমম্, এর থেকে কি প্রমাণ হচ্ছে?"

"বলছি! তার আগে আরো আছে। ১৯৭৭ সালে নর্থ আমেরিকার লেক শ্যামপ্লেইন-এ একটা ছবি তোলা হয়। দূর থেকে তোলা ছবি- দূরে একটা ডাইনোসর দেখা যাচ্ছে লেকের জলে। ওই কিছুটা লক নেস মনস্টার বা 'নেসি'র মতই লাগছে। অথচ কেউ কোনদিন ওখানে কোন ক্রিপটিড বা ডাইনোসর দেখেনি! আজ অবধি তো নয়।"

" এ আগে পড়িনি কোথাও, স্যার!"

"ঠিক আছে...। ও, নেসি যে ওই লক নেসের জন্তুটারই ডাকনাম সে তো জানোই।"

"সত্য অল্প মাথা নেড়ে বলল, "স্যার, কিন্তু ওরকম তো অনেক ফেক ফটোও হয়।"

"এই ফটোটা পরীক্ষা হয়েছে বহুবার সেই '৭৭ থেকে। এটা ১০০% জেনুইন ! ওখানেই তো মজা।"

প্রত্যুত্তরে একটা মৃদু "হুম..." বলার সময় সত্যকে বেশ চিন্তামগ্ন দেখালো।"

মিস্টার খান্না বলে চললেন, "এবার ব্যাপারটা ভাবো সত্য- তিনটে ক্রিপটিড। প্রতিটা ক্ষেত্রেই লোকে জন্তুটাকে দেখেছে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করে; অথচ সার্চ করে কোনদিন কিছু পাওয়া যায়নি।"

"তাহলে এর মধ্যে একটা প্যাটার্ন আছে বলছেন?"

"একদম আছে। তবে আমি বলছিনা, বলছেন জয়ন ব্রান্ডেনবার্গ!"

"ওহ্, আই সি, সেই জন্যই..."

"হ্যাঁ, এবার বলি খুলে ব্যাপারটা।"

সত্য কিছুটা বিস্ময় আর কিছুটা কৌতূহল নিয়ে শুনে চললো তার স্যার-এর কথা।

"দ্যাখো, আজকে যেখানে কঙ্গোর নদীগুলো বা ওই স্কটল্যান্ড বলো বা ওই লেক শ্যামপ্লেইন- এই সব জায়গাই একসময়ে ছিল ডাইনোসরদের খাস বিচরণভূমি। সে অবশ্য কোটি কোটি বছর আগের কথা।"

"আচ্ছা, তারই কয়েকটা আজও রয়ে গেছে বলছেন?"

"নো, তারা নেই।"

"তাহলে?"

"ওগুলো তাদের ছায়া বা ইমেজ। কিছু সেকেন্ড-এর জন্য প্রকট হয়।"

সত্য যারপরনাই অবাক হয়ে বলল, "ইমেজ, হোয়াট দ্য...!" তার শেষ কথাগুলো শোনা গেলো না।

"হ্যাঁ, ইমেজ, প্রফেসর ব্র্যান্ডেনবার্গ-এর মতে তাই-ই। এইবার কিভাবে জিনিসটা কানেক্ট করলাম সেইটা বলি।"

সত্য অবাক ভাবটা কাটানোর চেষ্টা করতে করতে মাথা নেড়ে সায় দিল।

আমি ওই হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্কের পরিবেশ-প্রকৃতি, ইত্যাদি নিয়ে একটু ইনফো পড়ছিলাম। নেটে সার্চ করে নির্ভরযোগ্য সাইট থেকে দেখছিলাম। হঠাৎ ওখানকার মিনারেল কম্পোজিশনের টপিকটা চোখ বোলাতে গিয়ে একটা ব্যাপার আমার চোখে পড়ল!"

"কি?", কৌতুহলী সুরে জিজ্ঞাসা করল সত্য।

"ওখানকার পাহাড়গুলোতে হাই কোয়ার্টস কনটেন্ট আছে। আর এখানেই ব্রান্ডেনবার্গ আসছেন।"

সত্য একটু ভুরু কুঁচকে বললো, "ওহ্!"

"কোয়ার্টস-এর ব্যাপারটা চোখে পড়তেই আমার ব্যান্ডেনবার্গের নতুন থিওরিটা মাথায় খেলে গেল।"

"আচ্ছা আচ্ছা, নতুন থিওরি?"

"হুম সত্য, ওনার মতে এই কোয়ার্টস হলো এক কেরামতি মিনারেল। এর ওয়ার্মহোল তৈরী করার ক্ষমতা আছে!"

"ওয়ার্মহোল! কিভাবে?" অবাক হয়ে প্রশ্ন করল সত্য।

"দ্যাখো না, উনি নেসি আর শ্যামপ্লেইন মনস্টারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ভাবেই। হয়তো ইয়েতিটাও একই কেস। হু নোস্?"

"আচ্ছা স্যার, হতে পারে...। তবে পায়ের ছাপগুলো..." শেষ কথাগুলো মনে মনেই ভাবলো সত্য, তবে স্যার ছন্দে আছেন বলে এই মুহূর্তে ইয়েতির প্রসঙ্গটা আর তুললো না। উনি বলতে থাকলেন, " ওই রিজিয়ানগুলোয় জলের তলায় বা আশেপাশে, কোয়ার্টস-এর প্রাচুর্যের ফলে স্পেস-টাইম ডিসটরশান দেখা দেয়।"

"আই সি! আর তার থেকেই তৈরি ওয়ার্মহোল, যার মধ্যে দিয়ে কোটি কোটি বছর আগের এক্সটিনক্ট হওয়া প্রাণী অল্প সময়ের জন্য চোখের সামনে ভেসে উঠছে।"

"অ্যাবসোলিউটলি! আর শুধু ভেসেই উঠছে না, ইমেজগুলো এতটা কনভিন্সিং যে লোকে সেগুলোকে সত্যি সত্যি রক্ত-মাংসের প্রাণী ভাবছে।"

"হ্যাঁ স্যার, এমনকি তার অথেন্টিক ছবি পর্যন্ত তুলে ফেলেছে! একেবারে তেলেসমাতি ব্যাপার! ভাবা যায় না!"

"আর এর থেকেই জন্ম নিয়েছে ক্রিপটিড মিথ্স। তবে ৩-টের এক্সপ্লেনেশনই পাওয়া যাচ্ছে এই থিওরী থেকে।"

"এই থিওরী দিয়ে তার মানে কিছু-কিছু জেনুইন ভূত-প্রেতের কেসও ব্যাখ্যা করা যাবে।"

"হ্যাঁ, কিছু কিছু, সব নয়..."

"এই যেমন মিস্টার ক্লার্ক ভূত নন...। কিন্তু স্যার, মিস্টার ক্লার্কই কেন?"

"হুম, এটাতেই আসছিলাম। আর এটারও একটা সম্ভাব্য কারণ আছে। প্যারা-সাইকোলজিতে মানা হয় যে কোথাও কোনো ট্রমাটিক ইভেন্ট ঘটলে সেটা যেখানে ঘটেছে সেখানকার পরিবেশে একটা ছাপ রেখে দেয় ঘটনাটা।"

"আচ্ছা, এটা শুনেছি। কিন্তু আমি ভাবতাম ভূতের ব্যাপার। ব্রান্ডেনবার্গ-এর থিওরি অজানা ছিল। তাই ওই অ্যাঙ্গেল দিয়ে ভাবিনি কখনো।"

"হ্যাঁ গো। আর অনেকে ক্লেম করে না যে তারা গোটা একটা সেনাবাহিনী দেখেছে চোখের সামনে, বা প্রাচীন দুই রাজার বাহিনীর যুদ্ধ হতে দেখেছে ভর দুপুর বেলায়। হয়তো এবার তার এক্সপ্লেনেশন পাওয়া যাচ্ছে।"

"হ্যাঁ, এই ধরনের কেসগুলো আমারও জানা। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে সত্যি সত্যি অতীতে কোনো এক কালে ওই স্পটে ওরম যুদ্ধ হয়েছিল!"

"হুম, আর দ্যাখো, যুদ্ধও কিন্তু এক ধরণের ট্রমাটিক ইভেন্টই!"

"তাহলে সবকিছু পরলোক বা অন্য ডাইমেনশন-এর কেস নয়। অতীতের দৃশ্যও দেখা যায় ওয়ার্মহোল-এর জানালা দিয়ে।"

"তবে দেখতে হবে যুদ্ধের কেসগুলোয় কোয়ার্টস বা ওরম কিছুর ভূমিকাও আছে কিনা। নাকি শুধুই ট্রমা..."

"সেটাই স্যার। মিস্টার ক্লার্ক-এর কেসটায় যদিও ট্রমা আর কোয়ার্টস দুটোই আমরা পাচ্ছি। পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক আর শক! আর আশেপাশের পাহাড়ের পাথরে প্রচুর কোয়ার্টস।"

"হ্যাঁ, এটা ক্লাসিক কেস বলতে পারো। ভদ্রলোক আজও ইংল্যান্ডে বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন, আর এদিকে হিমাচল প্রদেশে লোকে ওনারই ভূতের ভয়ে তটস্থ হচ্ছে!"

"হা হা হা, সেই স্যার! উমম্, তাহলে ব্যাপারটার নিষ্পত্তি হল।"

"হ্যাঁ, আশা করা যায়। এবার কফিটায় চুমুক দাও প্লিজ। এতক্ষণে ঠান্ডা কমেছে ঠিক।" চাপা হাসি হাসতে হাসতে বললেন মিস্টার খান্না।

সত্য মাথা নিচু করে ক্যানটা ধরতে যাচ্ছিল; এমন সময় কিছু একটা মাথায় আসতেই, মুখ তুলে আবার প্রশ্ন করল, "একটা ব্যাপার স্যার- এই যে সাইটিং-গুলো, এগুলো মাঝে মাঝে হয় কেন?" আই মিন, রেগুলার বা সবসময় হচ্ছে যে তা তো নয়..."

"ভেরি ভ্যালিড পয়েন্ট সত্য! আমার মনে হয় তিথি, ঋতু, পরিবেশ; বা বিশেষ বিশেষ দিনের আবহাওয়া। তারপর ম্যাগনেটিক ফিল্ড! ওটাও ইম্পর্টেন্ট। আমি যতদূর জানি এগুলোর একটা প্রভাব পড়ে, বা এগুলো অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। যতদূর মনে পড়ছে, জ্যোতিষ শাস্ত্রতেও ব্যাপারগুলো আমরা পাই।"

"আর স্যার, এরমও তো হয় বা হতে পারে যে ঠিক যেদিন এ-ব্যাপারটা হয়েছিল ঠিক সেই দিনেই এই ব্যাপারটার পুনরাবৃত্তি হয় আজকের দিনের মানুষের চোখের সামনে। একই ডেট-এ আর কি..."

"ইয়েস, এটাও পসিবল। ওই যে তুমি বলেছিলে না, লেট সেপটেমবারে..., না সরি, সেকেন্ড হাফ অফ সেপ্টেম্বরে ২-৩টে সাইটিংস হয়েছে। আর বাকিগুলোর ডেট জানা নেই। তো দ্যাখো সেপ্টেম্বর-এর ২২-২৩ তারিখে তো অটমনাল একুইনক্স থাকে। তার একটা ইফেক্ট..."

"ওহ্ আই শুড হাভে নোন দিস বিফোর!"

"কি?"

"স্যার, ক্লার্ক বাবুর ব্যাপারটা ৭০'স-এ যে পেপারে বেরোয় তার ডেট ছিল ২৪শে সেপ্টেম্বর। তার মানে একদিন আগের ঘটনা হলে উনি পড়ে গিয়েছিলেন ২৩ তারিখে।"

"হুম, বাট দিনটার ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত? নোট করে রেখেছো?"

"হ্যাঁ স্যার, নোটও করা আছে আর মাথায়ও আছে।"

"আচ্ছা ওকে, তাহলে তো ঠিকই আছে।"

"রবিজি যা বলেছিলেন সেটা তো বলছিলামই আপনাকে। সেকেন্ড হাফ অফ সেপ্টেম্বরে সাইটিংস। রবিজির ডেট মনে ছিল না। হোক না হোক ওই ২২ থেকে ২৩ তারিখ নাগাদ সব সাইটিংসগুলো হয়!"

"হুম, ইন্ট্রেস্টিং ইন্ডিড!"

"তাহলে ওই দিন পড়ে যাওয়ার জন্যই হয়তো দেখায় ওই টাইমে।"

"হ্যাঁ হ্যাঁ, কোয়াইট পসিবল। তবে এটাও ভুললে চলবেনা যে ইট ইজ দ্য একুইনক্স ডে; তাই ওটারও হাত থাকতে পারে।"

"সেই। এই ক্ষেত্রে হয়তো দু'টোই একসাথে এক জায়গায় এসেছে- দ্য আনফরচুনেট ডেট এন্ড অটাম একুইনক্স! আর তার সাথে কোয়ার্টস আর ট্রমা! দ্য গ্রেট আলাইনমেন্ট, স্যার।"

"যা বলেছ!" বলে মিস্টার খান্না আর সত্য দু'জনেই হাসতে লাগলেন, আর তার ফাঁকে বললেন, "নাও ফিনিশ ইওর কফি বিফোর ইউ লীভ!"

জটিল রহস্যের সমাধান হওয়ায় অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়ে সত্য শেষ পর্যন্ত কফিতে চুমুক দিলো।
                                                                                                                         
                                                               সমাপ্ত
 


নাম: আলাপন রায় চৌধুরী। 
ঠিকানা: দমদম, কলকাতা- ৭০০০৬৫।
চলভাষ নম্বর: + ৯১ ৮৯৬১ ১০৫ ৭৬৫।
হোয়াটস এপ: +৬৪ ০২২ ৩১৮ ৪১১৪।




 

=========================================================

Better  Some Tabs. For You

1. 



Samsung Galaxy Tab A 10.1 (10.1 inch, RAM 2GB, ROM 32GB, Wi-Fi-Only), Black

Deal Price: Rs. 12,499.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

2. 


Lenovo Tab M10 HD Tablet (10.1 inch, 2GB, 32GB, Wi-Fi Only) Slate Black

Deal Price: Rs. 9,990.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

3. 

Samsung Galaxy Tab A7 (10.4 inch, RAM 3 GB, ROM 32 GB, Wi-Fi-only), Grey

Deal Price: Rs. 16,999.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

=======================

Click Here To Find More Tabs.

========================

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

প্রবন্ধ: সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল ।। তৈমুর খান

সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল     মানুষ-নজরুলকে খুঁজতে হলে তাঁর কবিতায়, বিশেষ করে সাম্যবাদী চেতনার আলোকে তাঁর স্বরূপ খুঁজে পাওয়া যাবে।      জীবনে-কর্মে-ভাবনায় তাঁর সার্বিক সাধনার বিষয় মূলত মানুষই। প্রকৃতি-প্রেম-বিদ্রোহ সবকিছুর মূলেই মানুষের অবস্থিতি। এক গভীর একাত্মতায় সেখানে ব্যক্তি হারিয়ে গেছে। তার বদলে রূপ পেয়েছে মানুষ, আর এই মানুষই মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং নজরুলকে এবং মানুষ-নজরুলকে খুঁজে পাই তাঁরই সৃষ্টিতে, ভাবনায় এবং আত্মবিনির্মাণে। দেশের রাজনৈতিক কান্ডারিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন :   "হিন্দু না ওরা মুসলিম ? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন ?   কান্ডারি !বলো, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র !"   তখনই বুঝে নিই নজরুল ভারতবাসী। তাঁর অন্যকোনো পরিচয় নেই ।শুধু 'মানুষ' পরিচয়েই তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চান। তাঁর এই মনুষ্যচেতনা থেকেই সাম্যবাদের জয়গান। কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে আমরা   সহজেই নজরুলকে উপলব্ধি করতে পারি ।    সবার উপরে মানবতাবাদ   কবি নজরুল মানসে দেখতে পাই সবার উপরে এক   সর্বব্যাপী মানবিক বোধ কাজ করেছে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা : উত্তমকুমার পুরকাইত

সে উঠানে দাঁড়ালে সে উঠানে দাঁড়ালে হলুদমাখা সন্ধ্যা নামে চ ন্দনের গন্ধ নিয়ে জ্যোৎস্না আসে চুপে, সে উঠানে দাঁড়ালে মাথার উপরে চাঁদ শুক্লাপক্ষের কুসুম শরীর প্রলয়প্রপাতে; মাথা নাড়লেই দোলনা হয় সে হাত বাড়ালেই জোয়ারের উচ্ছ্বাসে নীল দিগন্তে সে মিটিমিটি হাসে, ভোরের নৈবেদ্য নিয়ে দশহরা মাসে; সে উঠানে দাঁড়ালে মৃত্যুরা কেঁপে ওঠে জোরে কুয়াশার গর্ভে প্রাণ ধরে, সে উঠানে দাঁড়ালে রাত্রির ঠোঁটে হাসি ঝরে পূবের বারান্দায় দুটি চোখ মুখোমুখি দু'জনারে দ্যাখে।   *********************************   কবির নাম, ঠিকানা: উত্তমকুমার পুরকাইত শঙ্করপুর, পোস্ট-প্রাণবল্লভপুর, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-৭৪৩৩৯৫ মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ-৯৫৯৩১৩২৭৬৫ ই-মেইল: upurkait1978@gmail.com

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা

  প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা  ১.   বসন্ত বিলাপ তোমার পলাশ লালে লাল রাঙা  তোমার পলাশে ফাগুন, আমার পলাশে শয়তান পোকা  আমার পলাশে আগুন। তোমার আকাশ আবির মাখানো  গাঁথে মিলনের মালা, আমার আকাশ মলিন মুখেতে  সহে দংশন জ্বালা। ওখানে ঋতুরা আসে আর যায়  আনে রকমারি ডালি, এখানে বিষাদে ঋতুর সময়  সব কেড়ে করে খালি। তোমার পলাশে খুশির জোয়ারে  রাশি রাশি ভালোবাসা, রক্ত মাখানো আমার পলাশে  জীবন সর্বনাশা। ২.    উনুন একটা একটা করে কাঠ গনগনে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জীবন্ত উনুনের ভেতর। আগুনে পোড়ে কাঠ , কাঠ পুড়িয়ে চাই করে উনুন। উনুনে পোড়ে কাঠ,উনুন পোড়ায় নিজেকে। শুদ্ধ করে গনগনে আগুনের বিশুদ্ধতায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সয়ে; শুদ্ধ হয় মানব জীবন। ৩.   নগ্নতা  সকালে হাঁটতে বেরিয়েই চোখে পড়লো  অদ্ভুত এক নগ্নতা সাগর নদী পাহাড় নগ্ন  মাঠ ঘাট জঙ্গল নগ্ন  এক বিচিত্র নগ্নতায় ঢাকা প্রকৃতি যেন লালসার ভোগ্য বস্তু। চারপাশ থেকে শত সহস্র লকলকে জিভ  লোলুপ দৃষ্টিতে দংশন করে লুটে নেয় সব সাতসকালে নগ্নতা লুটের হাট! ওরই মাঝে একটি শিশুকে দেখতে...