Skip to main content

গল্প।। পুনরাবৃত্তি ।। আলাপন রায় চৌধুরী


পুনরাবৃত্তি

                 - আলাপন রায় চৌধুরী


                                                           ১

"আচ্ছা আচ্ছা, আপনিই লোক পাঠিয়েছিলেন তাহলে।" একটু হেসে বললো সত্য। "বলুন!"

"হ্যাঁ স্যার, আমিই...। আমার নাম করণ বাত্রা। প্লিজ বসুন।" এই বলে থানার ও.সি. বাত্রা সাহেব ইশারা করে কনস্টবলকে ওনার কেবিনের দরজাটা ভেজিয়ে বাইরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিলেন।

তারপর ও.সি. আসল কথাটা শুরু করলেন। "এবার বলি ব্যাপারটা আপনাকে।"

"আপনি নয়, তুমি বলুন আমাকে। আমি অনেক ছোট।"

"ওকে...! দেখুন, আমাদের কাছে একটা টীম-এর কয়েকজন এসেছিলো। সবাই ট্রেকার ওরা। তা ওরা একটা অদ্ভুত ক্লেম করে- ওরা নাকি এগজোটিক হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্ক-এ ভূত দেখেছে! আই মিন, ওরা ভূত শব্দটা ব্যবহার না করলেও ব্যাপারটা সেরমই।"

"ওকে, দেন..."

"ওরা আমায় বলে যে ন্যাশনাল পার্কে নাকি ওরা একজনকে খাদে পড়ে যেতে দেখেছে! এবার ব্যাপার হলো এই যে ওরা ব্যাপারটা তখনই পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানায়।"

"ওহ, তাহলে পার্ক-এর গার্ডরা সার্চ অপারেশন চালায়নি?"

"হ্যাঁ, চালিয়েছিল, বাট ওরা কিছু পায়নি- কোন লাশ নয়, বিলংগিংস নয়, ছেঁড়া জামাকাপড় বা ব্লাড ড্রপস, অ্যাবসলাউটলি নাথিং ওয়াস ফাউন্ড!"

"এরম হওয়ায় ওরা পুলিশকে জানায় ঘটনাটা, আর এখন হয়তো ওরা ছুটি কাটিয়ে ফিরেও গেছে।"

"হমম, সবই তো বুঝলাম। কিন্তু আপনি আমায় ডেকে পাঠালেন?"

"না না, এখানেই শেষে নয় স্যার। সেই কথাতেই আসছি। ব্যাপারটা ওরা আমায় জানাতেই আমি লোক পাঠাই পার্কে। আমরা কাউকে খুঁজে পাইনি স্যার।"

"হুম, দ্যাটস স্যাড! তো আমি এক্ষেত্রে কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে?"

"পার্কের একজন পুরোনো লোক আছেন- এখন রিটায়ার করে পার্কেরই এক কোনায় থাকেন পুরোনো কোয়ার্টার-এ । ওনার নাম  রবি- এই  রবিজি  আমায় বললেন যে এটা নাকি নতুন নয়!.আগেও এরম দেখা গেছে, ফ্রিকোয়েন্টলি না হলেও ! মেয়েটি যাকে পড়তে দেখেছে সে অশরীরী!"

"হোয়াট?"

"হ্যাঁ স্যার! এই জন্যই প্রচুর খোঁজা-খুঁজি করেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি!"

"আচ্ছা যে পড়ে গেছে তাকে কেমন দেখতে ছিল? তার কোন ডেসক্রিপসন পেয়েছেন কি?"

"ওদের ট্রেকিং গ্রুপের একটি মেয়ে- কি যেন নামটা? চিত্রা, হ্যাঁ, চিত্রা! ও লোকটাকে পড়তে দেখেছিল! আমরা ভাসা ভাসা ডেস্ক্রিপশন শুনি স্যার। উই হ্যাড টু রাশ টু দ্য স্পট আফটার দে রিপোর্টেড।"

"আপনাদের তো রিপোর্ট রেকর্ড করার খাতা আছে। সেখানে আপনারা কিছু লিখে রাখেননি রেকর্ড করার সময়?"

"হ্যাঁ স্যার, দাঁড়ান, খাতাটা আনিয়ে নিচ্ছি!" এই বলে ওসি বেল বাজালেন আর বাইরে থেকে একজন কন্স্টবেল ঘরে ঢুকতেই তাকে খাতাটা আনতে বলে দিলেন তিনি।

কন্স্টেবল দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যেতেই সত্য জিজ্ঞেস করল, "কিছু মনে করবেন না, কিন্তু আপনি সিওর যে সার্চটা ঠিক ঠাক করা হয়েছে?"

"১০০% সিওর স্যার! গার্ডরা অবধি করেছে. এমনিতেও পার্কটার পিছনেই বর্ডার। সেই জন্য ওই অঞ্চলটাকে আমরা একটু চোখে চোখে রাখি, আর বিশেষ গুরুত্বও দি।"

"হুম্..." বলে সত্য শুনতে লাগল, আর ওসি বলে চললেন, "আমি আমার যে কনস্টেবলদের পাঠাই তারা পার্কটা ভালো ভাবে চেনে। তাই ওদেরই পাঠাই। এছাড়া ওখানকার গার্ডরা তো স্যার, হাতের তালুর মতোই... আমি নিশ্চিত যে দে লেফ্ট নো স্টোন আনটার্নন্ড ইন দিস কেস!"

"তাহলে বলছেন যে আপনাদের সার্চ সাকসেসফুল ছিল। তার মানে হয় ওই মেয়েটি ভুল বলছে, বা যে পড়ে যায় সে..."

এর মধ্যেই কনস্টেবলটি খাতা নিয়ে এসে টেবিলে রেখে আবার দরজা বন্ধ করে চলে গেল।

"হ্যাঁ আপনি কি যেন বলছিলেন স্যার?" আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করেন করণ বাত্রা।

"না, আমি বলছিলাম যে এটা কোন এলাবোরেট প্রাঙ্ক বলে তো মনে হচ্ছে না। পুলিশকে নিয়ে এরকম ভাবে মজা করে ট্রেকারদের কি লাভ?"

"হ্যাঁ স্যার, সেটাই। রবিজি তো বললেনই এটা ভূত-প্রেতের ব্যাপার..."

"হুম্, আরেকটা ব্যাপার লোকটা যদি পড়ে গিয়ে এদিক-ওদিক চলে গিয়ে থাকে বা কেউ তাকে নিয়ে গিয়ে থাকে সেটা তো জানাজানি হবে। সেরমও কিছু শোনেন নি?"

"না, নিচে কেউই লোকটাকে পড়তে দেখেনি। এদিকে চিত্রা ক্লেম করছে যে লোকটা ওপর থেকে পড়েছে।"

"এবার রিপোর্টটা দেখব। কিন্তু তার আগে একটা জিনিস বলুন- পার্কে তো নিশ্চয়ই সিসিটিভি আছে। সেটার ফুটেজ চেক করেছেন?"

"না স্যার, আসলে পার্কের ব্যাপারটাতে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। তো সবাই বেরিয়ে এসে জড়ো হয়। তার মধ্যে রবিজিও ছিলেন। অনেক তল্লাশি করেও যখন পাওয়া গেল না লোকটাকে, তখন রবিজি লোকটার ডেস্ক্রিপশন না শুনেই বললেন যে এটা ভুতের কেস।"

"আপনার রবিজির সাথে তো কথা বলতে হচ্ছে তাহলে। পুরনো কোয়ার্টারে পেয়ে যাবো তো ওনাকে?"

"হ্যাঁ হ্যাঁ।"

"ওকে" বলে সত্য একটু চুপ করতেই, রিপোর্ট খাতার পেজ উল্টাতে উল্টাতে ওসি বললেন, "এই, এই যে স্যার, এখানে, হ্যাঁ এই তো, দেখুন!"

"টল, লিন, ভেরি ফেয়ার, অরেঞ্জ টি-শার্ট, ব্রাউনিশ বা সোনালী চুল... উমম্, নর্থ ইন্ডিয়ান না বিদেশী? বিদেশিই মনে হচ্ছে তো!"

"হ্যাঁ স্যার, হতেই পারে। অনেক বিদেশী আসে এই ন্যাশনাল পার্কে।"

"হ্যাঁ বটে।"

"তবে একটা ব্যাপার স্যার, আমায় টিকিট কাউন্টার থেকে বলল ওরম কেউ কিন্তু ঐদিন পার্কে আসেনি। এতে আমার রবিজির কথাটা আরো যুক্তিপূর্ণ লাগে। আফটার অল পুরনো লোক!"

"কোন চোরা পথে ঢোকেনি তো লোকটা?"

"স্যার, সেরম পথ থাকলেও ওরম কোন ইন্ট্রুশন বা ইনফিল্ট্রেশন-এর রিপোর্ট ইদানিংকালে আমাদের কাছে নেই।"

"হুম্, ওকে, ঠিক আছে। আমি দেখছি এই ব্যাপারে আমি কি করতে পারি। ভূত হোক বা অন্য কিছু, ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং!"

এই বলে সত্য "থ্যাংক ইউ, বাত্রা সাহেব!" বলার সাথে সাথে নিজের হাতও বাড়িয়ে দিল।

"নো প্রবলেম স্যার। ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম, এন্ড থ্যাংকস টু ইউ টু!" বাত্রা বললেন, আর তার সাথে দু'জনে জোরে করমর্দন করলেন।


                                                              

এখানে বলে রাখা ভালো যে সত্য একজন প্রবাসী বাঙালি মিস্ট্রি-হান্টার- বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা  নিয়ে চর্চা করা, সেইসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করাই তার নেশা। কোথাও অ্যানম্যালস্ বা প্যারানরমাল কিছুর সন্ধান পেলেই সত্যর মন বেরিয়ে পড়তে চায় সেই জায়গার উদ্দেশ্যে! এদিকে পেশা বলতে একটা ব্যবসা আছে তার। তাছাড়া তার আরেকটা পেশাও আছে যার কথা সে কাউকে জানায় না। তাই আমারও বলা বারণ! যাইহোক এই কেসটা নিয়েও সে লেগে পড়ল। তবে কিছুদূর এগোনোর পর কিছুতেই আর কেসটা নিয়ে এগোতে না পারায় সে একটু অধৈর্য হল, আর তার স্যার-এর সাহায্য নেবে ঠিক করল।

যদি কেউ ভাবে যে সত্যর স্যারের ঘরবাড়ি দেখলেই বোঝা যাবে যে উনি মিস্ট্রি হান্টার বা অ্যানোম্যালস-প্যারানরমাল ব্যাপার-স্যাপারে আগ্রহ রাখেন, তাহলে সেটা ভুল হবে। উনি রিটায়ার করেছেন কিছুদিন হল। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে মোটামুটি নিরিবিলি জায়গায় একটা ছোট্ট বাংলো-স্টাইলড বাড়িতে থাকেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির সত্যর থেকে ৪ ইঞ্চি বেশি লম্বা, ছিপছিপে চেহারা। এখনো অনেক চুলই কালো। শখের মিস্ট্রি হান্টার মিস্টার এস. খান্না বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন। সত্য জানিয়েছিল যে সে দেখা করতে আসবে; তাই অপেক্ষাতেই ছিলেন। সত্য গেট খুলে ঢুকতেই চায়ের যেটুকু বাকি ছিল সেটুকু চুমুক দিয়ে চটপট শেষ করে ফেললেন। সত্য স্মিত হাসতে হাসতে সরু কংক্রিটের রাস্তা ধরে বারান্দার ধারে আসতেই হাতের ইশারায় মিস্টার খান্না তাকে ভেতরে ঢুকে আসতে বললেন।

ভিতরে ড্রইং রুমে মাঝামাঝি সোফাতে দু'জনে কোনাকুনি বসে কথা শুরু করলেন।

"বল সত্য কেমন আছো? আর কেসটা ঠিক কি?"

"স্যার, আমি ভালোই আছি। কেসটা বেশ জটিল, অন্তত আমার তো লাগছে! তাই এলাম আর কি…"

"হুম, তাহলে ফাইনালি জটিল কেস পেলে, সত্য!" এই বলে একটু হাসলেন মিস্টার খান্না। "আচ্ছা, বলো, দেখি সাহায্য করতে পারি যদি কিছু…"

"হ্যাঁ আমি নিজেও পাজলড! আমি চাইছিলাম এরকম চ্যালেঞ্জিং কেস!"

"কিন্তু এটা একদম আউট অফ দা বুক হয়ে গেছে, তাই তো?"

"হ্যাঁ স্যার। তবে আমার মনে হল আপনি হয়তো একটা রাস্তা দেখাতে পারবেন।" একটু লজ্জা মিশ্রিত হাসি হেসে বলল সত্য।

"হুম আচ্ছা।"

"পুরো ব্যাপারটা খুলে বলি। ১৯৭০-এর দশকে হিমাচলের এগজোটিক হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্কে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়। একজন হাইকার খাদে পড়ে যায়। তারপর থেকে মাঝে মাঝে তার 'ভূত'-কে সেই পার্কে দেখা যায়- ওই একই জায়গা থেকে সে পড়ে যাচ্ছে! লোকে সেটা এখনো দেখতে পায় মাঝে সাজে।"

"ওহ্ এটা তো খুব কমন ব্যাপার। আনুক শুনেছি এরম!"

"হ্যাঁ স্যার এরম তো কত গল্প শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু আপনি শুনলে অবাক হবেন যে, যে লোকটি খাদে পড়ে গেছিল সে মারা যায়নি। অনেকদিন হসপিটালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে বেঁচে গেছিল, আর…"

"ওয়াহ্, হাউ ইন্টারেষ্টিং…, হ্যাঁ, বলো…"

"বেঁচে গেছিলো সে, আর এখনো বেঁচে আছে। ব্রিটিশ সিটিজেন মিস্টার জর্জ ক্লার্ক!"

"বলো কি!"

"হ্যাঁ স্যার, সাসেক্সে থাকেন। ৭০-এর উপর বয়স। আমি নিজেও কথা বলেছি ওনার সাথে।"

"তুমি শিওর? কোন ভুল হচ্ছে না তো?"

"না, ফুললি ভেরিফাইড! উনি কথায় কথায় স্বীকারো করলেন ব্যাপারটা। ইনোসেন্টলি কথা বলে কথা বার করেছি।"

"ও, বাট তুমি বললে যে ভূত…"

"ওটাই তো স্যার!"

"হুম, আমায় ভাবতে হচ্ছে তো তাহলে… আচ্ছা, কথা কীভাবে বললে?"

"ফেসবুক স্যার, ফেক প্রোফাইল, হে হে!"

"আহ্ হা হা হা! আই শুড হাভ নোন!"

"ভাগ্যিস ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটা একসেপ্ট করলেন। না হলে ঘি উঠতো না এত সহজে।"

"ওনার হাইকিংয়ের শখ এখনো আছে, অ্যাকসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও।"

"প্যাশন, সত্য, তোমার-আমার মতই…"

"হ্যাঁ স্যার, সেই...! ওনার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ওনার বোনের প্রোফাইলে ঢুকে বেশ কিছু পুরনো ফটো পেলাম- কোনোটা ৬০, কোনোটা ৭০ বা ৯০-এর দশকে তোলা। কয়েকটাতে মিস্টার ক্লার্কও আছেন- তখন বয়স কম।"

"এন্ড হি ইস দ্য সেম ম্যান, রাইট?"

"ইয়েস! আমি ঘেঁটেঘুঁটে যেটা পেয়েছিলাম সেটা পুরনো লোকাল কাগজের ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ছবি হলেও সেটা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে একই লোক। এছাড়া আই উইটনেস অ্যাকাউন্ট তো ছিলই- সেই মেয়েটি তো কালারেই দেখেছে ওনাকে- ওনার অতীতের চেহারাটাকে।"

"আই সি। খবর হয়েছিল তাহলে…"

"হ্যাঁ, লোকাল কিছু পেপারে বেরিয়েছিল খবরটা ১৯৭২-এ। তবে উনি যে বেঁচে গেছিলেন সেটা আর কাগজে বেরোয়নি। আমি অন্তত কোনো রেকর্ড পাইনি।"

"আচ্ছা, ওখানে শুধু এক্সিডেন্টের খবরটা দিয়েছিল…?"

"হ্যাঁ স্যার, আর উনি যে গুরুতর আহত, সেটা। মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো ফলো আপও বেরোয়নি, ইফ অ্যাট অল হি হ্যাড ডাইড। আর, যে হসপিটালে ছিলেন তার পুরনো রেকর্ড থেকেও কনফার্ম করেছি। এছাড়া অন্য কোথাওও ওনার মারা যাওয়ার কোনো খবর নেই।"

"আচ্ছা। আর এতেই তোমার সন্দেহ হয় যে…"

"হ্যাঁ, এর থেকেই আমার মনে হয় যে সে যাত্রায় উনি বেঁচে গেছিলেন।"

"তা ওনার 'ভূত'-কে কেউ দেখেছে এর মধ্যে?"

"হুম, এরম মাল্টিপল সাইটিংস হয়েছে স্যার। একটা সম্প্রতি হয়েছে, এই এক মাস আগে। আই উইটনেস টেস্টিমনিটাও হাতে পেয়েছি- চিত্রা নামে একজন টুরিস্ট। একটা গ্রুপ এসেছিল।"

"একই জিনিস?"

"হ্যাঁ, যতটা জানতে পেরেছি একই স্যার।"

"আচ্ছা, তারা তো ডিসক্রাইব করবেই… এছাড়া?"

"এছাড়া, একজন পুরনো গার্ড আছে পার্কের, রবি নাম। ওনার সাথে কথা বলেছি…"

"ওকে, তো উনি কি বললেন?"

"বাকি যাদের এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে, মানে ১৯৭৬ থেকে, ওনার চাকরির আমল থেকে…"

"আচ্ছা আচ্ছা, এই লোকটা ঠিকঠাক তো সত্য?"

"হ্যাঁ স্যার, রিজিওনাল পুলিশ স্টেশনের ওসি ভালো সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। আরেকটা ব্যাপার- আমি ওনার পিছনে খোচর লাগিয়েছিলাম।"

"বাহ্, তুমি এসিস্টেন্টও পেয়ে গেছো?"

"হ্যাঁ স্যার, একটি মেয়ে, সিম্মি বলে। ও আমার সাথে মুভ ইন করবে শীঘ্রই।"

"আচ্ছা, বাহ! এবার তোমার কাজে গতি আসবে।"

"হ্যাঁ, সিম্মিকে যেটুকু চিনি, বেশ কাজের মেয়ে!"

"হুম, তো সিম্মিও ক্লিনচিট দিয়েছে রবিকে?"

"হুম, তাই রবিজির কথায় সামান্য ইম্পারফেকশন থাকলেও মিথ্যে কথা বলে না লোকটা।"

"এই রবি তাহলে ইনফরমেশনের খনি?"

"হ্যাঁ স্যার, পুরনো লোক! বেশকিছু সাইটিংস-এর কথা বললেন। সব মনে না থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো সাল আর মাসও বলে দিলেন।"

"তো সব আই উইটনেসরা একই জিনিস দেখেছে?"

"হ্যাঁ, ওই শ্বেতাঙ্গ যুবকের খাদে পড়ে যাওয়া- সবক্ষেত্রে একই ডেস্ক্রিপশন!"

"ইন্টারেস্টিং…! আর জায়গাও এক?"

"হ্যাঁ স্যার, একই স্পট। কিন্তু কোন প্যাটার্ন পেলাম না!"

"মানে?"

"মানে বছরের আর কি, স্পেসিফিক গ্যাপ নেই কোন। যে এত বছর পর পর হচ্ছে, বা ওরম কিছু।"

"আচ্ছা আচ্ছা, বুঝলাম। অদ্ভুত কেস এটা! আর কিছু ইনফো পেয়েছো?"

"ওই স্যার, সাইটিং-এর কয়েকটা ডেট- ১৯৮৪, ১৯৯১, ১৯৯৯, প্রতিটাই সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় ভাগে।"

"আচ্ছা, আই সি। ইন্টারেস্টিং…! দাঁড়াও, নোট করে নি।"

"এখানে একটা প্যাটার্ন আছে স্যার, যদি রবিজির কথা ঠিক হয় তো। সেপ্টেম্বর!"

"উমম্ হুমম..., দেখব!" সব নোট করে নিয়ে মিস্টার খান্না বললেন, "ঠিক আছে। আমায় একটু ভাবতে দাও।"

"কবে আসবো তাহলে?"

"আমায় হপ্তাখানেক সময় দাও। তারপর যোগাযোগ করে চলে এসো।"

"ওকে স্যার।"

"আচ্ছা ওই স্পটটার আর কোন ছবি আছে?"

"হ্যাঁ, ওটা 'এক্সিডেন্ট স্পট' বলে পরিচিত। গুগলে ওটার অনেক এইচ কিউ ছবি আছে।"

"আচ্ছা তবে সার্চ করলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল পেয়ে যাব ওটার।"

"হুম হুম।"

"ওকে, তুমি কিছু খাবে এখন?"

"না স্যার, আমি বাস পাল্টানোর ফাঁকে খেয়ে নিয়েছি।"

"আচ্ছা, ঠিক হ্যায় দেন। সাবধানে ফিরো। টেক কেয়ার!" এই বলে মিস্টার খান্না সত্যর সাথে করমর্দন করলেন।


                                                                  

সত্যর সাথে দেখা হওয়ার এক সপ্তাহ পর মিস্টার খান্না সত্যকে ডেকে পাঠালেন। সত্য আবার তাঁর বাড়ি গিয়ে হাজির হলো।

সত্যকে ঘরে বসানোর পর উনি ফ্রিজের দিকে এগোতে এগোতে বললেন: "কোল্ড কফি আছে। খাবে নাকি?"

সত্য একটু লজ্জা পেয়ে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে, স্যার। দিচ্ছেন যখন..."

"হুম, আমি জানি তুমি কোল্ড কফি পছন্দ করো। তাই এনে রেখেছিলাম আগেই।"

মিস্টার খান্না কফির ক্যান এনে সোফার সামনে টেবিলের উপর রাখলেন। তারপর ক্যানটা খুলে সত্যর দিকে এগিয়ে দিলেন। সত্য সেটা ধরে বলল: "খুব ঠান্ডা স্যার। একটু রুম টেম্পারেচার-এ থাক। তারপর...।"

"ওকে, অ্যাজ ইউ উইশ...। এবার যে জন্য ডেকেছিলাম, সেই কাজের কথায় আসি।"

"হ্যাঁ, আমিও মুখিয়ে আছি। পুরো রাস্তা চিন্তা করছিলাম যে কি হতে পারে।"

"আচ্ছা ফিজিসিস্ট জন ব্রান্ডেনবার্গের নাম শুনেছো?"

"না স্যার।"

"আমার মনে হয়েছিল শোনোনি।‌ না হলে তুমি হয়তো এই রিডলটা সলভ করে ফেলতে।"

সত্যকে একটু অবাক হতে দেখে মিস্টার খান্না বাকিটা বলতে লাগলেন, "উনি আমেরিকান। ওনার একটা নতুন থিওরি বাজারে এসেছে।"

"আচ্ছা আচ্ছা।"

"এই যে ক্রিপটিড-এর কেসগুলো দেখো, যেমন আফ্রিকার মোকেলে মবেম্বে। এই আছে, এই নেই, একোর্ডিং টু আই উইটনেসেস...।"

"হ্যাঁ, ইয়েতির ব্যাপারেও এরম শুনেছি আমি।" বলে উঠলো সত্য।

"হুম, ঠিকই শুনেছো...। উমম, লক নেস মনস্টার-কেও আজ অবধি পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্কটল্যান্ড-এর লোকে দাবি করে তারা তাকে দেখেছে। কিছু আনক্লিয়ার অথচ আনএক্সপ্লেনড ফুটেজও আছে বটে।"

"হ্যাঁ, কিন্তু লক নেস হ্রদে যতগুলো এক্সপিডিশন হয়েছে তার একটাও মনস্টারের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পায়নি।"

"হ্যাঁ, কোন প্রমাণ নেই। শুধু একবার একটা মোটর-বোট অ্যাক্সিডেন্ট হয়। চালক মারা যায়। হঠাৎ কেন এরকম হয়েছিল তার কারণ কেউ বলতে পারেনি। অনেকে মনে করে যে হ্রদের জলে দৈত্যটা চরে বেড়াচ্ছিল, আর বোটটা তার গায়েই ধাক্কা খায়।"

"হ্যাঁ, কেসটা চেনা চেনা লাগছে...।"

"দেখো যারা ধরো ছবি, ফুটেজ বা বাস্তবে ওটাকে দেখেছে তাদের কথা শুনে মনে করা হয় যে ওটা এক প্রজাতির অবলুপ্ত জলচর ডাইনোসর যার নাম প্লিসিওসর।"

"হ্যাঁ হ্যাঁ, এটাও পড়েছি স্যার। কিন্তু এগুলো কি এই কেসের সাথে রিলেটেড?"

"হ্যাঁ সেই জন্যই তো বলছি। ব্যাপারটা ভাবো, মোকেলে মবেম্বে এই আছে, এই নেই। ওদিকে লক নেস মনস্টার মেসোজোয়িক যুগের ডাইনোসর।"

"উমম্, এর থেকে কি প্রমাণ হচ্ছে?"

"বলছি! তার আগে আরো আছে। ১৯৭৭ সালে নর্থ আমেরিকার লেক শ্যামপ্লেইন-এ একটা ছবি তোলা হয়। দূর থেকে তোলা ছবি- দূরে একটা ডাইনোসর দেখা যাচ্ছে লেকের জলে। ওই কিছুটা লক নেস মনস্টার বা 'নেসি'র মতই লাগছে। অথচ কেউ কোনদিন ওখানে কোন ক্রিপটিড বা ডাইনোসর দেখেনি! আজ অবধি তো নয়।"

" এ আগে পড়িনি কোথাও, স্যার!"

"ঠিক আছে...। ও, নেসি যে ওই লক নেসের জন্তুটারই ডাকনাম সে তো জানোই।"

"সত্য অল্প মাথা নেড়ে বলল, "স্যার, কিন্তু ওরকম তো অনেক ফেক ফটোও হয়।"

"এই ফটোটা পরীক্ষা হয়েছে বহুবার সেই '৭৭ থেকে। এটা ১০০% জেনুইন ! ওখানেই তো মজা।"

প্রত্যুত্তরে একটা মৃদু "হুম..." বলার সময় সত্যকে বেশ চিন্তামগ্ন দেখালো।"

মিস্টার খান্না বলে চললেন, "এবার ব্যাপারটা ভাবো সত্য- তিনটে ক্রিপটিড। প্রতিটা ক্ষেত্রেই লোকে জন্তুটাকে দেখেছে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করে; অথচ সার্চ করে কোনদিন কিছু পাওয়া যায়নি।"

"তাহলে এর মধ্যে একটা প্যাটার্ন আছে বলছেন?"

"একদম আছে। তবে আমি বলছিনা, বলছেন জয়ন ব্রান্ডেনবার্গ!"

"ওহ্, আই সি, সেই জন্যই..."

"হ্যাঁ, এবার বলি খুলে ব্যাপারটা।"

সত্য কিছুটা বিস্ময় আর কিছুটা কৌতূহল নিয়ে শুনে চললো তার স্যার-এর কথা।

"দ্যাখো, আজকে যেখানে কঙ্গোর নদীগুলো বা ওই স্কটল্যান্ড বলো বা ওই লেক শ্যামপ্লেইন- এই সব জায়গাই একসময়ে ছিল ডাইনোসরদের খাস বিচরণভূমি। সে অবশ্য কোটি কোটি বছর আগের কথা।"

"আচ্ছা, তারই কয়েকটা আজও রয়ে গেছে বলছেন?"

"নো, তারা নেই।"

"তাহলে?"

"ওগুলো তাদের ছায়া বা ইমেজ। কিছু সেকেন্ড-এর জন্য প্রকট হয়।"

সত্য যারপরনাই অবাক হয়ে বলল, "ইমেজ, হোয়াট দ্য...!" তার শেষ কথাগুলো শোনা গেলো না।

"হ্যাঁ, ইমেজ, প্রফেসর ব্র্যান্ডেনবার্গ-এর মতে তাই-ই। এইবার কিভাবে জিনিসটা কানেক্ট করলাম সেইটা বলি।"

সত্য অবাক ভাবটা কাটানোর চেষ্টা করতে করতে মাথা নেড়ে সায় দিল।

আমি ওই হিমবন্ত ন্যাশনাল পার্কের পরিবেশ-প্রকৃতি, ইত্যাদি নিয়ে একটু ইনফো পড়ছিলাম। নেটে সার্চ করে নির্ভরযোগ্য সাইট থেকে দেখছিলাম। হঠাৎ ওখানকার মিনারেল কম্পোজিশনের টপিকটা চোখ বোলাতে গিয়ে একটা ব্যাপার আমার চোখে পড়ল!"

"কি?", কৌতুহলী সুরে জিজ্ঞাসা করল সত্য।

"ওখানকার পাহাড়গুলোতে হাই কোয়ার্টস কনটেন্ট আছে। আর এখানেই ব্রান্ডেনবার্গ আসছেন।"

সত্য একটু ভুরু কুঁচকে বললো, "ওহ্!"

"কোয়ার্টস-এর ব্যাপারটা চোখে পড়তেই আমার ব্যান্ডেনবার্গের নতুন থিওরিটা মাথায় খেলে গেল।"

"আচ্ছা আচ্ছা, নতুন থিওরি?"

"হুম সত্য, ওনার মতে এই কোয়ার্টস হলো এক কেরামতি মিনারেল। এর ওয়ার্মহোল তৈরী করার ক্ষমতা আছে!"

"ওয়ার্মহোল! কিভাবে?" অবাক হয়ে প্রশ্ন করল সত্য।

"দ্যাখো না, উনি নেসি আর শ্যামপ্লেইন মনস্টারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ভাবেই। হয়তো ইয়েতিটাও একই কেস। হু নোস্?"

"আচ্ছা স্যার, হতে পারে...। তবে পায়ের ছাপগুলো..." শেষ কথাগুলো মনে মনেই ভাবলো সত্য, তবে স্যার ছন্দে আছেন বলে এই মুহূর্তে ইয়েতির প্রসঙ্গটা আর তুললো না। উনি বলতে থাকলেন, " ওই রিজিয়ানগুলোয় জলের তলায় বা আশেপাশে, কোয়ার্টস-এর প্রাচুর্যের ফলে স্পেস-টাইম ডিসটরশান দেখা দেয়।"

"আই সি! আর তার থেকেই তৈরি ওয়ার্মহোল, যার মধ্যে দিয়ে কোটি কোটি বছর আগের এক্সটিনক্ট হওয়া প্রাণী অল্প সময়ের জন্য চোখের সামনে ভেসে উঠছে।"

"অ্যাবসোলিউটলি! আর শুধু ভেসেই উঠছে না, ইমেজগুলো এতটা কনভিন্সিং যে লোকে সেগুলোকে সত্যি সত্যি রক্ত-মাংসের প্রাণী ভাবছে।"

"হ্যাঁ স্যার, এমনকি তার অথেন্টিক ছবি পর্যন্ত তুলে ফেলেছে! একেবারে তেলেসমাতি ব্যাপার! ভাবা যায় না!"

"আর এর থেকেই জন্ম নিয়েছে ক্রিপটিড মিথ্স। তবে ৩-টের এক্সপ্লেনেশনই পাওয়া যাচ্ছে এই থিওরী থেকে।"

"এই থিওরী দিয়ে তার মানে কিছু-কিছু জেনুইন ভূত-প্রেতের কেসও ব্যাখ্যা করা যাবে।"

"হ্যাঁ, কিছু কিছু, সব নয়..."

"এই যেমন মিস্টার ক্লার্ক ভূত নন...। কিন্তু স্যার, মিস্টার ক্লার্কই কেন?"

"হুম, এটাতেই আসছিলাম। আর এটারও একটা সম্ভাব্য কারণ আছে। প্যারা-সাইকোলজিতে মানা হয় যে কোথাও কোনো ট্রমাটিক ইভেন্ট ঘটলে সেটা যেখানে ঘটেছে সেখানকার পরিবেশে একটা ছাপ রেখে দেয় ঘটনাটা।"

"আচ্ছা, এটা শুনেছি। কিন্তু আমি ভাবতাম ভূতের ব্যাপার। ব্রান্ডেনবার্গ-এর থিওরি অজানা ছিল। তাই ওই অ্যাঙ্গেল দিয়ে ভাবিনি কখনো।"

"হ্যাঁ গো। আর অনেকে ক্লেম করে না যে তারা গোটা একটা সেনাবাহিনী দেখেছে চোখের সামনে, বা প্রাচীন দুই রাজার বাহিনীর যুদ্ধ হতে দেখেছে ভর দুপুর বেলায়। হয়তো এবার তার এক্সপ্লেনেশন পাওয়া যাচ্ছে।"

"হ্যাঁ, এই ধরনের কেসগুলো আমারও জানা। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে সত্যি সত্যি অতীতে কোনো এক কালে ওই স্পটে ওরম যুদ্ধ হয়েছিল!"

"হুম, আর দ্যাখো, যুদ্ধও কিন্তু এক ধরণের ট্রমাটিক ইভেন্টই!"

"তাহলে সবকিছু পরলোক বা অন্য ডাইমেনশন-এর কেস নয়। অতীতের দৃশ্যও দেখা যায় ওয়ার্মহোল-এর জানালা দিয়ে।"

"তবে দেখতে হবে যুদ্ধের কেসগুলোয় কোয়ার্টস বা ওরম কিছুর ভূমিকাও আছে কিনা। নাকি শুধুই ট্রমা..."

"সেটাই স্যার। মিস্টার ক্লার্ক-এর কেসটায় যদিও ট্রমা আর কোয়ার্টস দুটোই আমরা পাচ্ছি। পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক আর শক! আর আশেপাশের পাহাড়ের পাথরে প্রচুর কোয়ার্টস।"

"হ্যাঁ, এটা ক্লাসিক কেস বলতে পারো। ভদ্রলোক আজও ইংল্যান্ডে বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন, আর এদিকে হিমাচল প্রদেশে লোকে ওনারই ভূতের ভয়ে তটস্থ হচ্ছে!"

"হা হা হা, সেই স্যার! উমম্, তাহলে ব্যাপারটার নিষ্পত্তি হল।"

"হ্যাঁ, আশা করা যায়। এবার কফিটায় চুমুক দাও প্লিজ। এতক্ষণে ঠান্ডা কমেছে ঠিক।" চাপা হাসি হাসতে হাসতে বললেন মিস্টার খান্না।

সত্য মাথা নিচু করে ক্যানটা ধরতে যাচ্ছিল; এমন সময় কিছু একটা মাথায় আসতেই, মুখ তুলে আবার প্রশ্ন করল, "একটা ব্যাপার স্যার- এই যে সাইটিং-গুলো, এগুলো মাঝে মাঝে হয় কেন?" আই মিন, রেগুলার বা সবসময় হচ্ছে যে তা তো নয়..."

"ভেরি ভ্যালিড পয়েন্ট সত্য! আমার মনে হয় তিথি, ঋতু, পরিবেশ; বা বিশেষ বিশেষ দিনের আবহাওয়া। তারপর ম্যাগনেটিক ফিল্ড! ওটাও ইম্পর্টেন্ট। আমি যতদূর জানি এগুলোর একটা প্রভাব পড়ে, বা এগুলো অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। যতদূর মনে পড়ছে, জ্যোতিষ শাস্ত্রতেও ব্যাপারগুলো আমরা পাই।"

"আর স্যার, এরমও তো হয় বা হতে পারে যে ঠিক যেদিন এ-ব্যাপারটা হয়েছিল ঠিক সেই দিনেই এই ব্যাপারটার পুনরাবৃত্তি হয় আজকের দিনের মানুষের চোখের সামনে। একই ডেট-এ আর কি..."

"ইয়েস, এটাও পসিবল। ওই যে তুমি বলেছিলে না, লেট সেপটেমবারে..., না সরি, সেকেন্ড হাফ অফ সেপ্টেম্বরে ২-৩টে সাইটিংস হয়েছে। আর বাকিগুলোর ডেট জানা নেই। তো দ্যাখো সেপ্টেম্বর-এর ২২-২৩ তারিখে তো অটমনাল একুইনক্স থাকে। তার একটা ইফেক্ট..."

"ওহ্ আই শুড হাভে নোন দিস বিফোর!"

"কি?"

"স্যার, ক্লার্ক বাবুর ব্যাপারটা ৭০'স-এ যে পেপারে বেরোয় তার ডেট ছিল ২৪শে সেপ্টেম্বর। তার মানে একদিন আগের ঘটনা হলে উনি পড়ে গিয়েছিলেন ২৩ তারিখে।"

"হুম, বাট দিনটার ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত? নোট করে রেখেছো?"

"হ্যাঁ স্যার, নোটও করা আছে আর মাথায়ও আছে।"

"আচ্ছা ওকে, তাহলে তো ঠিকই আছে।"

"রবিজি যা বলেছিলেন সেটা তো বলছিলামই আপনাকে। সেকেন্ড হাফ অফ সেপ্টেম্বরে সাইটিংস। রবিজির ডেট মনে ছিল না। হোক না হোক ওই ২২ থেকে ২৩ তারিখ নাগাদ সব সাইটিংসগুলো হয়!"

"হুম, ইন্ট্রেস্টিং ইন্ডিড!"

"তাহলে ওই দিন পড়ে যাওয়ার জন্যই হয়তো দেখায় ওই টাইমে।"

"হ্যাঁ হ্যাঁ, কোয়াইট পসিবল। তবে এটাও ভুললে চলবেনা যে ইট ইজ দ্য একুইনক্স ডে; তাই ওটারও হাত থাকতে পারে।"

"সেই। এই ক্ষেত্রে হয়তো দু'টোই একসাথে এক জায়গায় এসেছে- দ্য আনফরচুনেট ডেট এন্ড অটাম একুইনক্স! আর তার সাথে কোয়ার্টস আর ট্রমা! দ্য গ্রেট আলাইনমেন্ট, স্যার।"

"যা বলেছ!" বলে মিস্টার খান্না আর সত্য দু'জনেই হাসতে লাগলেন, আর তার ফাঁকে বললেন, "নাও ফিনিশ ইওর কফি বিফোর ইউ লীভ!"

জটিল রহস্যের সমাধান হওয়ায় অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়ে সত্য শেষ পর্যন্ত কফিতে চুমুক দিলো।
                                                                                                                         
                                                               সমাপ্ত
 


নাম: আলাপন রায় চৌধুরী। 
ঠিকানা: দমদম, কলকাতা- ৭০০০৬৫।
চলভাষ নম্বর: + ৯১ ৮৯৬১ ১০৫ ৭৬৫।
হোয়াটস এপ: +৬৪ ০২২ ৩১৮ ৪১১৪।




 

=========================================================

Better  Some Tabs. For You

1. 



Samsung Galaxy Tab A 10.1 (10.1 inch, RAM 2GB, ROM 32GB, Wi-Fi-Only), Black

Deal Price: Rs. 12,499.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

2. 


Lenovo Tab M10 HD Tablet (10.1 inch, 2GB, 32GB, Wi-Fi Only) Slate Black

Deal Price: Rs. 9,990.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

3. 

Samsung Galaxy Tab A7 (10.4 inch, RAM 3 GB, ROM 32 GB, Wi-Fi-only), Grey

Deal Price: Rs. 16,999.00

Extra 10%  direct off  on SBI Card (20-23 Jan, 2021)

For Details CLICK HERE

=======================

Click Here To Find More Tabs.

========================

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন ।। শংকর ব্রহ্ম

প্রবন্ধ               বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন শংকর ব্রহ্ম                  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন, "যদি ভারতকে জানতে চাও, তবে বিবেকানন্দকে জানো। তাঁর মধ্যে যা কিছু আছে সবই ইতিবাচক, নেতিবাচক কিছুই নেই।"                  বিবেকানন্দ বুঝেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ দেশের জনগণের উপর নির্ভর করে। তাই তিনি মনুষ্যত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "আমার উদ্দেশ্য, মানবজাতিকে তার অন্তর্নিহিত দেবত্ব শিক্ষা দেওয়া এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয় তা শেখানো।"                    তিনি  বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানবতার পরিপূর্ণতার প্রকাশ। তা মানুষের মধ্যেই আছে। তার বিকাশ ঘটাতে হবে। সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে ন...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। তুষার মরু প্রান্তরে ।। দেবাংশু সরকার

তুষার মরু প্রান্তরে দেবাংশু সরকার          কয়েক বছর হল দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তির স্বাদ পেয়েছে দেশবাসী। লাল মুখোদের রক্ত চক্ষু আর দেখতে হয় না। সহ্য করতে হয় না বিদেশী চাবুকের আঘাত। গোরাদের ভারি বুটের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়া যায় না। সরকার জোর দিয়েছে শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে। গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ। দেশকে স্বাধীন করার, পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার যে স্বপ্ন ছিল যুব সমাজের চোখে, সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। সেই আকাঙ্খা চরিতার্থ হয়েছে। এখন যুব সমাজের চোখে দেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন। কৃষিকাজ, পড়াশোনা সব দিক দিয়েই সাফল্য আসতে শুরু করেছে। কেবল কৃষিকাজ বা পড়াশোনা নয় খেলাধুলাও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যুব মানসে। উত্তর, পশ্চিম ভারতে ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়ছে কুস্তির। অন্যদিকে পুর্ব, দক্ষিণ ভারতের ছেলেরা মেতে উঠেছে ফুটবল নিয়ে।       উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানার গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠেছে কুস্তির আখড়া। বজরং বালীর নাম নিয়ে সেই সব আখড়ায় ভিড় জমাচ্ছে তরুণ, যুবকরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও চলত এই সব আখড়া। তখন সংখ্যায় অনেক...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

চিনা লোককথা ।। সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে ।। বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র

চিনা লোককথা সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র     জিন রাজবংশের আমলে চিনে লে-গুয়াং নামের একজন সৎ সাহসী চরিত্রবান ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি   বাস করতেন। এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ না হওয়ায় তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।     বন্ধুকে দেখে লে-গুয়াং-এর চোখে জল এসে যায়। এ কী চেহারা হয়েছে তার, চোখেমুখে   দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, ‘বন্ধু, তুমি কি কোনো কঠিন সমস্যায় পড়েছ? তোমার মুখ এত ম্লান কেন?’ বন্ধুটি কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘গতবছর তোমার দেওয়া ভোজসভায় আমি উপস্থিত ছিলাম তোমার নিশ্চয় মনে আছে। ওই ভোজসভার দিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খাওদাওয়ার পরে তুমি আমার হাতে যে পানীয়ের গেলাসটি ধরিয়ে দিয়েছিলে তার মধ্যে একটি ছোট্ট সাপ উঁকি দিচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখার পর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।’     লে-গুয়াং বন্ধুর কথা শুনে ধন্ধে পড়ে যান। তারপর বসার ঘরের চারিদিকে ভালো করে   পর্যবেক্ষণ করে দেয়ালে টাঙানো একটি সাপ-আঁকা ধনুকে তাঁর চোখ আটকে যায়। সহসা তিনি   হাহা করে হেসে ওঠেন...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

ছোটগল্প ।। সংশোধন ।। কৌশিক দরিপা

সংশোধন কৌশিক দরিপা সংশোধানাগার এক অন্য পৃথিবী। বাইরের লোক অনুমান করতে পারবে না ভিতরের জগৎ এর মানুষের তিক্ততার বিষয় গুলি।সবাই ভাবে ভিতরে হয়তো বন্দিরা চিন্তা,ভাবনাহীন,উদ্দেশ্যহীন ভাবে বাঁচে।জীবন দর্শন তাদের ভবিষ্যতের হয়তো একদম শেষ হয়ে যায়।যারা দাগী অপরাধী তাদের ব্যাপার আলাদা,মানে যারা ধারাবাহিক ভাবে কালো জগতের সাথে যুক্ত ছিলো,তাদের শাস্তি সময়ের অপেক্ষা থাকে।তারা জানেই,একদিন না একদিন এই বন্দি জীবন তাদের আপন করে নিতেই হবে।কিন্তু যারা জীবনে অপরাধ করেনি কোনোদিন,সুস্থ জীবন যাপনের মাঝে হঠাৎ কোনো দোষ করে বসে,শাস্তির পর তাদের অনুতপ্ত জীবন হার মানে বেঁচে থাকা আয়ুর কাছে।কিন্তু যারা তারপরেও জীবনে সৎ আদর্শের অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়,তারাই একমাত্র জীবনে সংশোধনের মানে বুঝতে পারে।যেমন বুঝতে পেরেছিলো অনিল। অনিল পান্ডে।মফস্বল শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।বাবা,মা ও ছোট বোন কে নিয়ে তাদের দিন আনা দিন খাওয়া সংসার।বাবা ট্রাক ড্রাইভারি করে টেনে নিয়ে যেতো তাদের সংসার।ড্রাইভারি লাইনে মদ বিলাসিতা নয়,প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার বাবার।প্রতিদিন এই নিয়ে মায়ের সাথে ঝগড়াও কম হতো না।যদিও বস্তি পরিবেশে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...