Skip to main content

পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায়

নবপ্রভাত

পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা

রণেশ রায় 


পরাবাস্তববাদ বলতে কী বুঝি 

অধিবাস্তবতা বা পরাবাস্তববাদ (surrealism) হলো মানুষের একটা এমন মনোগত অবস্থান যেখানে তার সচেতন আর অবচেতন মন পরস্পরের সঙ্গে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। মানুষের বিভিন্ন ভাবনার মধ্যে বুননের কাজ চলতে থাকে। বস্তুজগতের বাস্তবতার উর্দ্ধে এক বাস্তবতা যেখানে মানুষের কল্পনা ডানা মেলে, সেজে ওঠে নানা কল্প কথায়। মানুষের মন ভেসে যায় এক স্বপ্ন জগতে। বস্তুজগতের সঙ্গে মনোজগতের এক সেতুবন্ধন ঘটে। এ যেন এক সূচি শিল্প।

১৯১৭ সালে "পরাবাস্তববাদ" শব্দটি ফরাসি কবি নাট্যকার গুইলাম অ্যাপোলিনার প্রবর্তন করেন। ফরাসি দেশের শিল্পব্যক্তিত্ব আন্দ্রে ব্রেটন (১৮৯৬-১৯৬৬), পরাবাস্তববাদ নামক আন্দোলনের প্রথপ্রদর্শকদের মধ্যে অগ্রণী। ১৯২০-এর দশকে প্যারিসে একটি শৈল্পিক আন্দোলন হিসেবে এর সূত্রপাত। দুটি বিশ্বযুদ্ধের অন্তরবর্তীকালে এই আন্দোলন এতটাই গতিময় ছিল যে সাড়া বিশ্বে সাহিত্য চিত্রকলা এক নতুন মোড় নেয় যার প্রভাব আজও আধুনিক শিল্প সাহিত্যে অব্যাহত।। লেখক এবং দার্শনিক ব্রেটন  "The Manifesto of Surrealism" প্রকাশের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান , যা সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত সনাতনী শিল্প ভাবনার বিরোধিতা করে গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা বলে খ্যাত । তখনকার সমাজজীবনের ওপর বিজ্ঞানের অপব্যবহারের কুফল ও যুদ্ধের ভয়াভয়তার বিরোধিতা করার কথা বলা হয় এই আন্দোলনে। যুক্তিবাদের নামে বিজ্ঞানের অগ্রগতির নামে সমাজজীবনে যে ভয়াভয়তা নামিয়ে আনা হয় তার বিরোধিতার একটা ধরণ হলো এই আন্দোলন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা যখন ইউরোপে প্রকট   শিল্পকলা তখন রাজনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল। শিল্পকলা তখন তথাকথিত সামরিক ঢঙে শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং বিপ্লবকে দূরে রাখার একটি উপায় হিসাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে পরাবাস্তববাদীরা শিল্পের উপর শাসক সম্প্রদায়ের কর্তৃত্ব থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন।  তাঁরা রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিরোধিতা করলেও তাঁদের লড়াইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে ভাবার কারণ নেই। তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য রাজনৈতিক ছিল না। পরাবাস্তববাদ শিল্প জগতে মানুষের মধ্যে সচেতনা ও অবচেতনার মধ্যে বিরোধের মীমাংসা করে ভাববাদ ও বস্তুবাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চেয়েছিলো যা যান্ত্রিক অতিবাস্তবতার দর্শনের বিরোধিতা করে গড়ে তোলে বাস্তবতার উর্দ্ধে অবস্থিত এক মনন যাতে তাঁরা বিশ্বাসী ছিলেন। সেটাই ছিল পরাবাস্তববাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। উদ্দেশ্য ছিল আধ্যাত্মিক মানবদরদী ভাবনাকে তথাকথিত যুক্তিবাদের উর্দ্ধে তুলে ধরা। শিল্পকলাকে সব ধরণের নিয়ন্ত্রণের উর্দ্ধে রেখে বিশুদ্ধতা দেওয়া। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে  মানবতাকে যেভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছিল  তা মেরামত করা।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের  মুখে এই আন্দোলন শাসক সম্প্রদায়ের রোষের সম্মুখীন হয়।যদিও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনটি আর আন্দোলনের আঁকারে থাকেনি, তবুও আজকের চিত্র শিল্প সাহিত্যের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরাবাস্তববাদের প্রভাব বিশেষ লক্ষণীয়। পরাবাস্তববাদী চিত্রকল্প, কাব্য চর্চায়  কাব্যিক কৌশল ব্যবহার আজের সাহিত্যে একটা উন্নত আঙ্গিক হিসেবে সাহিত্য জগতে স্থান পেয়েছে। সাহিত্যের সীমানা  প্রসারিত হয়েছে। 

জীবনের কোন বাস্তবতা মানুষের অবচেতন মনে একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যা মানুষের কল্পলোকে প্রতিফলিত হয়। সচেতন মনোজগতের সঙ্গে অবচেতন মনের কল্পকথার সংযোগ ঘটিয়ে শিল্প সাহিত্যকে শিল্পগুনে সমৃদ্ধ করে তোলার কথা বলা হয় পরাবাস্তবাদে। বাস্তবের সঙ্গে মানুষের অবচেতন মনের যে স্বপ্নলোকের বিরোধ তার সমাধান খোঁজে পরাবাস্তুবাদ বলে অনেকে মনে করেন। আমরা দেখি মানুষের মনোলোকের সঙ্গে বাস্তবের সংঘাত ঘটে। এর ফলে মানুষের ব্যবহারে স্ববিরোধিতার সৃষ্টি হয়। পরাবাস্তুবাস এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে এক কল্পকথা গেঁথে। তাকে অধিবাস্তবতা বলে বিচার করা হয় পরাবাস্তুবাদী দর্শনে। শিল্প সাহিত্যে এই বিষয় নিয়ে চর্চা প্রাধান্য পায় । বাংলা কবিতায় এই দর্শন বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয় জীবনানন্দ দাশের কবিতায়। মানুষের অবচেতন মনের ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতাকে যুক্ত করে এক অধিবাস্তবাদের ভাবনাতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয় এই পরাবাস্তবাদের দর্শনে যাকে অনেকে উদ্ভট কল্পকথা বলে মনে করেন, যার সঙ্গে বস্তুবাদের কোন সম্পর্ক নেই বলে বলা হয়। নানা রূপকের সাহায্যে বাস্তবতাকে চিহ্নিত করা হয় পরাবাস্তুবাদে। এই রূপকগুলো অনেক সময়  দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। তাই অনেকে একে কল্পলোকের কল্পকথায় কোন এক রূপসীর বিচরণ বলে  মনে করেন। মানুষের সচেতন ও অবচেতন মনের ভাবনার মধ্যে এক সেতুবন্ধনের কথা বলা হয় পরাবাস্তবাদের দর্শনে।


তবে আমার মনে হয় এর কিছু বিমূর্ত অস্পষ্ট বোধাতীত দিক থাকলেও এই ভাবনার উদ্ভবের বাস্তব ভিত্তি আছে। তা নিয়ে আমরা দুএকটা কথা বলে নিতে পারি বিষয়টাকে আরও ব্যাপ্তিতে বোঝার জন্য। সহিত্যে পরবাস্তুবাদের প্রভাব আলোচনার আগে কল্প কথা সৃষ্টি ও তার সাথে বস্তুবাদের সম্পর্কটা আমি যেভাবে ভাবি সেভাবে তুলে ধরছি।



দ্বন্দ্ব তত্ত্বের আবহে সাহিত্যে কল্পকথা ও কল্পচিত্র: 


সাহিত্য ও সাহিত্যিকের সঙ্গে কল্পকথা কল্পচিত্র সৃষ্টির ওতপ্রোত সম্পর্ক থাকলেও  সাহিত্যকে নেহাত সাহিত্যিকের স্বপ্ন বিলাস অলস কল্পনার এক আবেগঘন ক্ষণিক মুহূর্তের  নান্দনিক প্রকাশ বলে মনে করার কারণ নেই।  প্রকৃতিরই অংশ মানুষ তার বহির্মুখী ও অন্তর্মুখী  বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাঁচে। মানুষের অন্তর্মুখী বৈশিষ্ট্য  তার চেতনায় আলোকিত। সেটা  তার মনোজগত তথা মানসলোক। এই মনোজগতকে মানুষ কথায় প্রকাশ করতে পারে ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে পারে ইঙ্গিতে উপমায় প্রকাশ করতে পারে। একে সাহিত্যিক তাঁর নিজের জীবন বোধ  সৌন্দর্য বোধে নান্দনিক করে তোলেন সন্দেহ নেই। তিনি সাহিত্যে কল্পকথা কল্পচিত্র সৃষ্টি করেন। কিন্তু তাঁর এই শিল্পসৃষ্টি   নেহাত স্বপ্ন বিলাস, জীবনবোধ বর্জিত কল্পনার জালবোনা নয়, তার থেকে বেশি আরো কিছু। একটা সমাজ কাঠামোয় সাহিত্য কোন সমাজের অর্থনীতি, রাজনীতি  ও সংস্কৃতিকে বেষ্টন করে থাকে। সাহিত্যিকের জীবন দর্শন জীবন বোধ সমাজের প্রতি দায়িত্ব বোধকে তুলে ধরে। 


এক দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টাকে সামগ্রিকতায় বিচার করা দরকার । এই সামগ্রিকতা হল এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড যা প্রকৃতি ও মানব সমাজ আর প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কে সম্পর্কিত। মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে এই সমাজ। প্রকৃতি মানুষকে নিয়ে এই বস্তু জগৎ বা ভৌত জগৎ যা সাহিত্যিককে তাঁর সাহিত্যের বিষয় বস্তু বেছে নিতে সাহায্য করে। মানুষ তার ইন্দ্রিয় দিয়ে এই বস্তুজগতকে অবলোকন করে, তার বিবর্তন প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করে। তার মনোজগতে প্রতিবিম্বিত হয় এই প্রকৃতি এই মানব সমাজ যখনই সে প্রকৃতিকে মানব সমাজকে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করে তাকে অবলোকন করে। বস্তুজগতের প্রতিফলন ঘটে তার স্নায়ুজগতে। তার মনোজগত উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। আবার মনোজগত এইভাবে যে বার্তা পায় সেটা তাকে উপলব্ধিতে সাহায্য করে। অতীত বর্তমানকালকে সে  বোঝার চেষ্টা করে তা তাকে  জীবনটাকে বুঝতে সাহায্য করে। তার জীবন বোধ তৈরি হয়। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে মানুষ। সাহিত্যিক তা দিয়ে তাঁর কল্পনার মালা গাঁথেন। এক কল্পচিত্র তৈরি হয় যার থেকে তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি যা একান্তই সাহিত্যিকের নিজের এক অনবদ্য সৃষ্টি। ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ করতে চান  তিনি। এর থেকে সৃষ্টি হয় কল্পকথা যা  সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগে ভাষায় রূপ পায়। ছন্দ তাল লয়ে কবিতায গল্পে সেজে ওঠে। অর্থাৎ বস্তুজগত যেমন মনোজগতের ওপর ক্রিয়া করে তেমনি মনোজগত প্রকৃতি জগতকে অনুধাবন করে, মানব সমাজের দিক নির্দেশ করে, তাকে বুঝতে সাহায্য করে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হাসি কান্না প্রেম ভালোবাসা জীবন যুদ্ধকে বোঝার চেষ্টা করেন সাহিত্যিক তাঁর সাহিত্য চর্চায়। এসবই তাঁর কল্পকথা হয়ে ওঠে, কল্পচিত্র সাহিত্যের সৃষ্টি করে যা সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন ভাবে রূপ পায়। সৃষ্টি হয় সাহিত্য শিল্প।সেখানে মনোজগতের প্রকৃতিজগতকে সঠিক প্রেক্ষাপটে তার কার্যকরণ দিয়ে বোঝার ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ন। এখানেই বস্তু জগৎ ও মনোজগতের মধ্যে দ্বান্দ্বিক সম্পর্কটা তাৎপর্যপূর্ণ যা আর বস্তুজগতকে বাদ দিয়ে কল্প বিলাস থাকে না। কবিতায় উভয় জগতের বিষয়টা মূর্ত হয়ে ওঠে।  বাস্তব অবস্থা থেকে উঠে এসে লেখকের কল্পজগতে এক কল্পচিত্র সৃষ্টি হয়। সে আবেগ তাড়িত হয়ে ওঠে তাঁর ভাবের জগতে তাঁর ভাবনা   তাঁর কল্পকথায়। 


আমরা বলেছি যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বস্তুজগত মানুষের মননে কল্পজগতে প্রতিবিম্বিত হয়। সাহিত্যিক তাঁর পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি করেন কল্পকথা কল্পচিত্র যা সুর ছন্দ লয়ে ভাষায় সেজে ওঠে সাহিত্যিকের সাহিত্য চর্চায়। বিশেষ করে কাব্যচর্চায়। মানুষের মনন সাহিত্যের মাধ্যমে বস্তুজগতের ও সমাজজীবনের কর্ম কাণ্ডকে অবলোকন করে তাকে নিজের ভাবনায় রাঙিয়ে নেয়। প্রশ্ন হলো কোনটা প্রধান। বস্তুলোক না মনলোক কোনটা সাহিত্য সৃষ্টিতে সাহিত্যের আধারে  বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যারা সাহিত্য সৃষ্টিতে মনলোককে প্রধান বলে মনে করেন তাঁরা মনে করেন বস্তুজগত যেমনই হোক না  কেন সাহিত্যিক তাঁর ভাবনায় তাকে যেভাবে দেখেন কল্পনায় তাকে যে ভাবে রাঙিয়ে নেন সেভাবে নিজের কলমে তাকে উপস্থাপন করেন।বস্তুজগতকে  তাঁরা মনোজগতের প্রতিবিম্ব বলে মনে করেন। পাঠকের স্বাধীনতা আছে তাঁর মনন দিয়ে গল্প কবিতাকে নিজের মত বুঝে নেওয়ার।তার ফলে বিমূর্তভাবে গল্প কবিতাকে পরিবেশন করার সুযোগ থাকে, তাকে নিজের মত করে বুঝে নেয় পাঠক। লেখক যা বলতে চান তা না বুঝলেও তা যদি পাঠকের মননে আনন্দ উৎসারিত করতে পারে   তবেই সাহিত্যিকের সাহিত্য  পরিবেশন সার্থক বলে এঁরা মনে করেন। আর যাঁরা মনে করেন বস্তুজগতটা প্রধান তার আধারে কল্প কথার সমন্বয়ে সাহিত্য সৃষ্টি হয় তাঁরা বস্তুজগতকে  তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য দিয়ে চেনার চেষ্টা করেন।মনোজগতকে বস্তুজগতের প্রতিবিম্ব বলে মনে করা হয়। যেটা যেমন তাকে পাঠক সেভাবে যেন দেখতে পারেন সেটাই চান। সাহিত্যিক সমাজের ভবিষ্যত গতিপথ নিয়ে ছবি আঁকতে পারেন। সাহিত্য সমাজের কাজে লাগে পরিবর্তনের দিশা দেখাতে পারে নেহাত পাঠকের মনোরঞ্জন করে না, নেহাত  অস্পষ্ট অনিদ্দৃষ্ট বিমূর্ত ভাবে তাকে পরিবেশন করে না। করা উচিত না।


দেখা গেল  বস্তু ও ভাবের এক দ্বিমুখী সম্পর্ক দেখা যায়। হেগেলের মত দার্শনিকরা বস্তু ও ভাবের মধ্যে ভাবকে প্রাধান্য দিয়ে জীবনকে জীবনের ভালমন্দকে ব্যাখ্যা করেছেন । তাঁর অনুগামী সাহিত্যিকরা সাহিত্য কর্মকে সাহিত্যিকের মনের রঙে রাঙানো বলে মনে করেন। রামায়ন মহাভারতে সাহিত্যিকের কল্পনায় চরিত্রের সৃষ্টি। তার বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সেখানে মানুষকে দেবতার আসনে নয়তো রাক্ষস খোক্ষস বা অসুর বলে চিত্রিত করা হয়ছে। অপরদিকে বস্তুবাদী ভাবনায় বস্তু প্রাধান্য পায়। বস্তুজগতকে সাহিত্যের আধার বলে বিবেচনা করা হয়। কার্ল মার্কস দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী দর্শন অনুসরণ করে সমাজের শ্রেণী দ্বন্দ্বকে শ্রেণীবিভক্ত সমাজে প্রধান দ্বন্দ্ব বলে মনে করেন। আর শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গিতে সাহিত্যিকের কাঙ্ক্ষিত জীবন বোধকে দেখার চেষ্টা করেন।তাকে কেন্দ্র করে মার্কসবাদী সাহিত্য গড়ে ওঠে যেখানে তথাকথিত শ্রেণীনিরপেক্ষ সাহিত্য সৃষ্টিকে শোষক সম্রদায়ের স্বার্থ সিদ্ধ করে, শোষণ নিপীড়নের হাতিয়ার বলে মনে করা হয়। তাঁরা মনে করেন শ্রেণীবিভক্ত সমাজে শ্রেণী নিরপেক্ষ সাহিত্য বলে কিছু হয় না।



পরাবাস্তববাদ ভাবনার বিকাশ :


আমরা বলেছি যে পরাবাস্তববাদ দর্শনের মূল কান্ডারি  ফরাসি কবি-সমালোচক আন্ড্রে ব্রেটন। এই দর্শন বলে যে মানুষের অবচেতন মনে কল্পজগতে প্রকৃত সত্য জন্ম লাভ করে, কল্পকথায় সেজে ওঠে। জীবনের  বাস্তব সত্যকে রূপকের মাধ্যমে তুলে আনতে চায় সাহিত্য শিল্পীর কল্পকথায়, তাকে সাজিয়ে তুলতে চায় নান্দনিক রূপ দিযে। এর আগে   পরাবাস্তববাদ প্রাথমিক বিকাশ ঘটেছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ডাডাবাদী কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে  ফ্রান্সের প্যারিসে, ১৯২০-এর সময়কালে। এই ভাবনা তখন থেকেই  ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় বিস্তারিত হতে থাকে সাহিত্য শিল্পের বিভিন্ন আঙ্গিকে। শিল্প সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগে সিনেমা জগতে এর অনুপ্রবেশ ঘটে।  এর উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনীতির জগতেব  জঞ্জাল থেকে উদ্ভাবিত  মানবতাবিরোধী তথাকথিত মূল্যবোধকে অস্বীকার করে মানুষকে  একটি নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী করা। সেটাই পারে  ভণ্ডামি ও রীতিনীতির বেড়াজাল ভেঙে  বস্তুর অন্তর্নিহিত সত্যে পৌঁছতে। এই সত্যে পৌঁছবার ভাবনাটাই আরও বিশদে প্রতিফলিত হয় পরাবাস্তুবাদের চেতনায়।


উল্লেখযোগ্য যে পরাবাস্তুবাদের সূত্রপাতের সূত্র ডাডা আন্দোলনের মধ্যে পাওয়া গেলেও ডাডা আন্দোলন যুক্তিবাদকে অস্বীকার করে কল্পলোকের মাধ্যমে ভাববাদকে প্রতিষ্ঠিত করে যা প্রগতি পরিপন্থী বলে ব্রেটনের মত পরাবাস্তুবাদের প্রবর্তকরা মনে করেন। তাঁরা কল্পলোকের সঙ্গে জীবনের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে যান্ত্রিক বস্তুবাদের বিরোধিতা করেন। বিজ্ঞানের তথা যুক্তিবাদের অপপ্রয়োগের কথা বলেন যদিও তাদের ভাবনায় ভাববাদের প্রাধান্য থাকায় কল্পনা সর্বস্বতার একটা প্রবণতা দেখা যায়। তবে তাঁদের ধারণায় যে কল্পলোক সেটার গুরুত্ব আমাদের জীবনে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। মার্ক্সবাদও মানুষের মনন ও কল্পলোককে অস্বীকার করে না সেটা আমরা আগে আলোচনায় দেখেছি।

মনে রাখতে হয় আন্দ্রে ব্রেটন ছাড়াও সাহিত্যে ও বিভিন্ন শিল্পকলায় পরাবাস্তুবাদের পৃষ্ঠপোষক হলেন পল এলুয়ার্ড, পিয়েরে রেভার্ডি প্রমুখ। এঁরা কবিতায়  পরাবাস্তুবাদের  চর্চার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। যুক্তিবাদ নয়  মনস্তাত্ত্বিক - অর্থাৎ অবচেতন - চেতন চিন্তা প্রক্রিয়ার সাহায্যে তাঁরা পরাবাস্তুবাদের চর্চা করেন। তাঁদের ভাবনায় কল্পলোকে বিচরণ ও সেখানে নান্দনিক পথে সাহিত্য শিল্পকে তুলে ধরা ছিল চমকপ্রদ যা পাঠকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে।তবে, চিত্রকলার জগতে পরাবাস্তুবাদ  সবচেয়ে বেশী সাফল্য লাভ করে। পরাবাস্তববাদী চিত্রকলা কেবল ডাডাবাদ দ্বারাই পুষ্ট হয়নি।  হিয়েরোনিমাস বোশ এবং ফ্রান্সিসকো গোয়ার মতো পূর্ববর্তী চিত্রশিল্পীদের দ্বারা যেমন প্রভাবিভ হয়েছিল তেমনি ওডিলন রেডন, জর্জিও ডি চিরিকো এবং মার্ক চাগালের মতো সমসাময়িক সাহিত্যিক শিল্পীদের কল্পনাপ্রসূত এবং অদ্ভুত চিত্তাকর্ষক চিত্রকর্ম দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিল । মার্ক্সবাদী না হয়েও তাঁদের অনেকেই মার্ক্সবাদী ও মাৰ্ক্সের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। যেমন আমরা পরর্তীকালে জীবনানন্দ দাশকে দেখি যার ওপর আমরা আমাদের আলোচনার এবার আসব।

বাংলাভাষায় পরাবাস্তববাদী সাহিত্যচর্চায় জীবনানন্দন্দ দাশ :

বাংলাভাষায় জীবনানন্দ দাশ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সমীর রায়চৌধুরী, রবীন্দ্র গুহ, সিকদার আমিনুল হক প্রমুখ কবিদের হাতে  পরাবাস্তববাদিতা চৰ্চার বিকাশ ঘটে। রবীন্দ্রনাথের আঙ্গিকের এক বিকল্প আঙ্গিক বাংলার কবিতা সাহিত্যে বিকাশলাভ করে। বর্তমান সময়ের আল শাহারিয়ার জিদনি, মারজুক রাসেল, সাইম রানা, মাদল হাসান, ফেরদৌস মাহমুদ, বিজয় আহমেদ, আমজাদ সুজন প্রমুখ কবিগণও, সচেতন বা অবচেতন মনে সীমিতভাবে হলেও কবিতাচর্চায় পরাবাস্তুবাদের আশ্রয় গ্রহণ করেন। 


 বাংলা ভাষায় পরাবাস্তুবাদ প্রসঙ্গে আলোচনায়  জীবানানন্দ দাশের কথা না বললে নয় যিনি আধুনিক কবিতার একজন  অগ্রদূত। আধুনিক কবিতায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ গল্পের ঢংয়ে তাকে উপস্থাপন করার বদলে অনুভূতিকে চিত্রকল্পের ছোঁয়ায় বিমূর্তভাবে কবিতায় উপস্থাপনের ওপর নজর দেওয়া হয় যার কল্পরূপের স্রষ্টা হিসেবে আমরা জীবনানন্দ দাশকে পাই।  আবার যেমন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তীর কলকাতার যীশু কবিতায় তিনি লেখেন:


"ঝাঁকামুটে, ফিরিওয়ালা, দোকানি ও খরিদ্দার— 

এখন তারাও যেন স্থির চিত্রটির মতো শিল্পীর ইজেলে

লগ্ন হয়ে আছে।/ স্তব্ধ হয়ে সবাই দেখছে, টালমাটাল পায়ে

রাস্তার এক-পার থেকে অন্য পারে হেঁটে চলে যায়

সম্পূর্ণ উলঙ্গ এক শিশু।"


বলনে বিস্তার নেই, যেন এক খন্ড মুহূর্তের চমকপ্রদ উপস্থাপন। খুলে বলা নয়। যেন নীরব স্থির চিত্র পরিবেশিত হয়েছে। এক মননের অনুভূতির বিমূর্ত উপস্থাপন। কম বলেও অনেক বলা। আমরা জীবনানন্দের কবিতায় এক ধরনের ঝটকা উপস্থাপন পাই যেখানে তাঁর অনুভূতিকে বুঝে নিতে হয়, বুঝিয়ে দেওয়ার দায় থাকে না কবির। জীবানন্দ দাশের কবিতার একটা কথা 'আজ পৃথিবীর গভীর অসুখ' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।কোন বিস্তৃত বিবরণ নেই কিন্তু এর মধ্যে কত গভীর কথা বলে দেওয়া।। বা 'ঘোড়া' কবিতায়, ''আমরা যাইনি মরে---- তবু কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়''  ইঙ্গিতে বুঝে নিতে হয় তাঁর ভাবনায়।প্রকাশের ভাবটা বিমূর্ত কিন্তু মূর্ত হয়ে ওঠে জীবন ভাবনা। জীবনানন্দের অধিকাংশ কবিতায় দেখা যায় তাঁর মানস পটে যেন তিনি চিত্র শিল্পী। ছবি হয়ে প্রানবন্ত হয়ে ওঠেন।কবিমানস থেকে পাঠক মানসে রূপান্তরিত হয় সে ছবি। যেন একটা মুহূর্তের আচমকা ছবি। পড়েই মনে হয় সেগুলি চিত্রকলায় রূপান্তর করার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। 

যেমন, "কচি লেবু পাতার মত নরম সবুজ আলোয়

পৃথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের বেলা;

কাঁচা বাতাবির মত সবুজ ঘাস — তেমনি সুঘ্রাণ— 

হরিণেরা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে!" (ঘাস, বনলতা সেন)। 

এই লাইনগুলির জন্মই হয়েছে শিল্পীর কবি মানসে স্থান পাবার জন্য। জীবনানন্দর কবিতার ওপর অনেক বিখ্যাত চিত্রশিল্পীই ছবির সিরিজ এঁকেছেন বলে জানা যায়। সেরকমই তাঁর "আট বছর আগের একদিন" নামক অসাধারণ পরাবাস্তববাদী কবিতার একটা ছত্র হলো:


"হে প্রগাঢ় পিতামহী! আজও চমৎকার! 

আমিও তোমার মত বুড়ো হবো, বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনো জল  পার, 

আমরা দু'জনা মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাড়ার"! 


কবির অবচেতন মনোলোকের সব দ্বিধা দ্বন্দ্বের যেন অবসান ঘটিয়ে নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছেন সচেতন মননে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশে। কবি কল্পলোকে বিচরণ করতে করতে কল্পকথায় কী অসাধারণ মালা গাঁথেন কবিতায়। পরাবাস্তুবাদের আঙ্গিকে কী চমৎকার কবিতার নিবেদন।


কবি তাঁর কবিতায় প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছেন নানা রঙে নানা বর্ণে। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার আকাশ বাতাস মাঠ ঘাট নদী ফুল বর্ণময় হয়ে উঠেছে তাঁর কবিতায়। মাতৃরূপী প্রকৃতি বন্দনায় কোন কোন কবিতা প্রকৃতি পূজা হয়ে উঠেছে।বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতি  যে বিভিন্ন সাজে সেজে ওঠে তা কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর কল্পলোকে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যের বিমূর্ত প্রতীক। তিনি প্রকৃতিকে ধরে রাখেন তাঁর কল্পলোকে। বাস্তবের প্রকৃতি কল্পলোকে অধিবাস্তব এক সৌন্দর্য হয়ে ওঠে যা কবিকে নিয়ে যায় পরাবাস্তুবাদের এক কল্পলোকে।



জীবনানন্দের কবিতা অবলম্বনে পরাবাস্তুবাদের (surrealism) দর্শন নিয়ে কয়েকটা কথা বলে নেওয়া দরকার। যে বাস্তবকে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অবলোকন  করা হয় তাকে মনোলোকে কল্পরূপের সাহায্যে কথামালায় নান্দনিক রূপ দেওয়াকে এক কথায় পরাবাস্তববাদ বলা চলে যা আমরা আগের আলোচনায় দেখেছি। পরাবাস্তুবদিরা মনে করেন সাহিত্যে বিশেষ করে কবিতায় বাস্তবকে চাঁচাছোলা ভাবে উলংগ করে তুলে ধরার মধ্যে শিল্পগুণ থাকে না। তাকে নানা রকম মূর্ত বিমূর্ত উপমায় সাহিত্যিকের মনোজগতে কল্পকথায় সাজিয়ে তুলে পরিবেশন করতে হয় যাতে তা নান্দনিক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ বস্তুজগতের প্রতিফলন ঘটে সাহিত্যিকের মনোলোকে যা কল্পকথায় সেজে ওঠে নানা ধরনের উপমার সাহায্যে। এতে মানুষের অবচেতন মনে যে একটা কল্পজগত তাকে বাস্তব জগৎ থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সাহিত্য বিশেষ করে কবিতা নেহাত অন্তর্মুখী এক বিমূর্ত শিল্প কর্ম হয়ে ওঠে বলে  পরাবাস্তুবাদের সমালোচনা করা হয়।বাংলা কাব্য সাহিত্যে জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতার আঙ্গিকে পরাবাস্তুবাদের দর্শনের রূপকার।এছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ, সমীর রায়চৌধুরী, রবীন্দ্র গুহ, সিকদার আমিনুল হক প্রমুখ কবিগণের কবিতায় পরাবাস্তববাদিতার দর্শনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। 


বাস্তবের  উর্দ্ধে উঠে জীবনকে চেতন অবচেতনের দোলাচলে কবি যখন কল্পকথাকে সাজিয়ে তুলে তাকে নান্দনিক রূপ দেন তখন তাকে আমরা অধিবাস্তবতার আঙ্গিকে বিচার করি। একেই পরাবাস্তুবাদের কবিতার আঙ্গিক বলে ভাবা যেতে পারে যেখানে বস্তুবাদ থেকে ভাববাদ বেশী গুরুত্ব পেলেও বাস্তব আর কল্পকথার মধ্যে একটা মেলবন্ধনের চেষ্টা থাকে। চেতন অবচেতন মনের মধ্য যে বিরোধ তা দূর করার কথা বলা হয়। জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চায় এই পরাবাস্তুবাদ বিশেষ গুরুতপূর্ন।

রবীন্দ্র যুগে জন্মগ্রহণ (১৮৯৯-১৯৫৪) করেও রবীন্দ্র প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ এক নতুন আঙ্গিকে জীবনানন্দ দাশ কবিতা চর্চা করেন যা পরাবাস্তুবাদের দর্শনে গড়ে ওঠে। তাই বাংলার কবিতার জগতে একে পরাবাস্তুবাদধর্মী আঙ্গিক বলা চলে। 


আমরা জানি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ  মানব ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মানিবতাকে পদীদলত করেছে। একই সঙ্গে বিধ্বংসী  রুশ বিপ্লব ভবিষ্যতের নতুন দিশা দেখিয়েছে। জীবনানন্দ দাশ সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ জিগির মানবতাবিরোধী  ধ্বংসাত্বক কাজকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। মার্ক্সবাদের প্রতি তাঁর আস্থা দেখা যায়। কিন্তু বাংলায় কাব্যচর্চায় পরাবাস্তুবাদী দর্শনের একনিষ্ঠ রূপকার ছিলেন যা মার্ক্সবাদী আঙিকের অনুরূপ নয়। 


বিশ শতকের প্রথম বিশ্বত্তর যুগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালের সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যবোধের অবক্ষয় জীবনানন্দকে কাব্যের জগতে নতুন পথে এগোতে বাধ্য করে। জীবনের জটিল সমীকরণের ফলস্বরূপ ক্লান্তি, অবসাদ, নৈরাশ্য, নৈরাজ্যকে জীবনানন্দ রূপ দিয়েছেন  তাঁর কবিতায়। চেতনার এক অজানা রাজ্যে তাঁর প্রবেশ এই নতুন আঙ্গিকে কবিত চর্চার দৌলতে।


জীবনানন্দ একদিকে জীবনকে কাব্যে রূপায়িত করতে প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তেমনি তাঁর মনোজগতের চেতন অবচেতন মনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মুখে কবিতা চর্চায় হয়ে উঠেছেন তিনি অধিবাস্তববাদী। পরবাস্তুবাদের উপাসক। তিনি চেয়েছেন অন্তর্জগতের তথা মনোজগতের সঙ্গে বহিঃর্জগতের বস্তুবাদের মেলবন্ধন ঘটাতে। কবি সারাজীবন তাঁর মনোজগতে সত্যের সন্ধান করেছেন। সমকালীন যুগের  যান্ত্রীকতা ও জটিলতার বিরোধিতা করার জন্য তিনি আশ্রয় নেন পরাবাস্তবতাবাদে।


বাস্তবের দৈনন্দিন জীবনে পর্যদুস্ত কবি তাঁর কবি প্রতিভাকে যেন উৎসর্গ করেন পরাবাস্তব জগতকে। সেই কাব্য জগৎ দুঃখ, কষ্ট, হতাশা থেকে মুক্ত বলে পরাবাস্তুবাদীরা মনে করতেন। সেখানে তিনি যেমন বনলতাকে পেয়েছেন তেমনি পেয়েছেন সুচেতনাকে। তাঁর সমস্ত কবিতায় হতাশা, ব্যথা, কষ্ট ইত্যাদির বিবিধ প্রকাশ লক্ষ্য করি। তাঁর মনোজগতে যেন এক অজানা রহস্যয়ী বাসা বেঁধেছিল বনলতা সুচেতনা নামে। 


জীবনানন্দ দাশ তাঁর বোধ কবিতায় লেখেন:


আলো –অন্ধকারে যাই- মাথার ভিতরে

স্বপ্ন নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে !

স্বপ্ন নয়- শান্তি নয়-ভালোবাসা নয়,

হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!


কী সে বোধ? মনে হয় কবির একাকিত্ব বোধ। তিনি তাঁর কবিতার কবি মানস নিয়ে এক কল্পলোকে চলে যান। সেখানে এক অধিবাস্তব জগতে কল্পনার জগতে তাঁর বাস। তাঁর বোধ তাকে যন্ত্রনা এই নির্বাসনেড জন্য। বস্তু জগতকে তিনি অস্বীকার করতে পারেন না তাই এক বিরহ বেদনা তাঁকে যন্ত্রণা দেয়। নিজের কাছেই নিজের প্রশ্ন



শরীরে মাটির গন্ধ মেখে,

শরীরে জলের গন্ধ মেখে,

উৎসাহে আলোর দিকে চেয়ে

চাষার মতন প্রাণ পেয়ে

কে আর রহিবে জেগে পৃথিবীর'পরে ?

স্বপ্ন নয়,- শান্তি নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে

মাথার ভিতরে!


তিনি তাঁর বাস্তবের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা হেতু যে সীমাবদ্ধতা তা জানেন। তাঁত বোধ তাকে জানান দেয়:


সকল লোকের মাঝে ব'সে

আমার নিজের মুদ্রাদোষে 

আমি একা হতেছি আলাদা?

        আমার চোখেই শুধু ধাঁধাঁ ?


অতীবস্তুবাদের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবন,

চেতন অবচেতন মনের মধ্যে যে দ্বন্দ বিরোধী তা ভাষা পায় কবিতায়। প্রাণবন্ত হয়ে তা কবিতায় সেজে ওঠে।



বনলতা সেন কবিতায় তিনি তাঁর কল্পলোকের এক পথিক। হেঁটে চলেন সীমাহীন পথ যেন অনন্তের পথ ধরে তাঁর হেঁটে চলা। কিন্তু তিনি যখন বাস্তবে নেমে আসেন তখন জীবনের অনিবার্যতা মৃত্যুকে তিনি অবলোকন করেন যাকে তিনি তুলে ধরেন কবিতায়। 

বনলতা সেন কবিতার প্রথম ও শেষ পংক্তি আমরা তুলে ধরতে পারি তাঁর এই দ্বৈত সত্তা চিনে নেওয়ার জন্য:


বাস্তবের দৈনন্দিন জীবনে পর্যদুস্ত কবি তাঁর কবি প্রতিভাকে যেন উৎসর্গ করেন পরাবাস্তব জগতকে। সেই কাব্য জগৎ দুঃখ, কষ্ট, হতাশা থেকে মুক্ত বলে পরাবাস্তুবাদীরা মনে করতেন। সেখানে তিনি যেমন বনলতাকে পেয়েছেন তেমনি পেয়েছেন সুচেতনাকে। তাঁর সমস্ত কবিতায় হতাশা, ব্যথা, কষ্ট ইত্যাদির বিবিধ প্রকাশ লক্ষ্য করি। তাঁর মনোজগতে যেন এক অজানা রহস্যয়ী বাসা বেঁধেছিল বনলতা সুচেতনা নামে। তাঁর এই কাব্যিক চরিত্র নীচে আমার একটা কবিতায় তুলে ধরার চেষ্টা করলাম:



অধিবাস্তবতায় জীবনানন্দ


মনের কল্প সুন্দরী ভেসে বেড়ায়

জীবন ভাবনার বুনন তোমার চেতনায়

চেতন অবচেতনের সঙ্গম মেলা সে জগতে

এ যে কল্প স্বর্গ তোমার 

মনন তোমার কল্পনার মালা গাঁথে স্বপনে

নিংড়ে নাও জীবনের বাস্তবতা

বসাও তাকে বিমূর্ততার নন্দন কাননে

সে যে তোমার অধিবাস্তবতা

কল্পনার মায়াজালে বাঁধা তোমার কবিতা।





Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...