বৃষ্টির ভেতর ছায়ার সঙ্গে শিবাশিস মুখার্জী আমার ছায়া আমার সঙ্গী— রোদে, বৃষ্টিতে, নিঃশব্দ বিকেলে সে-ই পাশে হাঁটে, কোনো প্রশ্ন করে না। আজ চন্দননগরের আকাশে বৃষ্টি নামেনি, তবু বাতাসে ভেজা গন্ধ— যেন কেউ আসেনি, তবু তার উপস্থিতি রয়ে গেছে। আমি একা— এই একাকিত্ব আমার নিজের হাতে গড়া, রান্নাঘরের ধোঁয়া, বইয়ের পাতা, টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কিছু অক্ষর, কিছু দিনলিপি— সব মিলিয়ে আমি আর আমার ছায়া, একটা ছোট জগৎ বুনে যাই। মানুষরা আসে, কিছুক্ষণ থাকে, তারপর নিজেদের অন্ধকারে হারিয়ে যায়— কিন্তু সে থাকে, আমার পায়ের সঙ্গে জড়িয়ে, আমার শ্বাসের মতো নিশ্চুপ। তবু কোথাও একটা ফাঁক থেকে যায়— এই 'পুরোপুরি'-র ভিতরেও। আমি কি কাউকে চাই? নাকি শুধু চাওয়ার অনুভূতিটাকে? জানালার কাঁচে জল জমে— বৃষ্টি না নামলেও, হয়তো বাইরে না, ভিতরে। আমার তো এক জীবন আছে— বাঁধা, গড়া, প্রতিষ্ঠিত— তাই এই অনুভূতি কি অবৈধ? না কি শুধু অনুচ্চারিত ছায়া? রাতে আলো নেভালে আমার ছায়া মিলিয়ে যায়, তবু অদৃশ্য হয়ে থেকেও সে-ই আমার ভিতরে থাকে— আমার নিঃশব্দ কথাগুলোর মতো। ...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...