Skip to main content

গল্প -- অয়ন সাঁতরা




 বিকৃত 


লাল গোলাপের পাপড়িটা অনেক্ষণ ধরে পায়ে পায়ে পিষ্ট হতে হতে এখন দলা পাকানো আবর্জনায় পরিনত হয়েছে। বর-আসন এখন শুন্য, বরকে ঘিরে পারিষদের ন্যায় বসে থাকা বন্ধুবর্গদের চেয়ারও শুন্য। সবাই বিয়ের মণ্ডপে। খাওয়ার জায়গাটাও এখন ফাঁকা, তবে পাখাগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরেই চলেছে। প্যান্ডেলের বাইরে, মাঠের এক প্রান্তে দু জন নারী পুরুষকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তারাও বেশ কিছুক্ষন গল্প করার পর আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে বেড়িয়ে গেল। ক্যাটারারের লোকগুলো দ্রুত কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। একজন এসে হঠাত খবর দিল –' বাড়ির পিছনে এইমাত্র একটা ডেডবডি দেখা গেছে!'  
                                               ১
-' বিয়েবাড়িতে আমি এমনিতে খাওয়া হয়ে গেলে বেড়িয়ে যাই। কিন্তু কোলকাতার বাইরে ... এইরকম গ্রাম সাইডে আসায় রাতে খাওয়ার পরেও আমি মাঠে ঘুরছিলাম।  বিয়ের সময় হতে সবাই একে একে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলও আমি একাই ঘুরছিলাম। এমন সময় হঠাতই পারোমিতাকে দেখতে পাই। সেও আমাকে দেখতে পায়। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কেমন আছে সে! এখানেই বা আসা কিভাবে... এইসব আর কি'।
-' আপনাদের রিলেশানটা?'
-'চার বছর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল...'
-'একবার বিয়ে হয়েছিল, মানে টেকেনি তাই তো?'
-'বলাই বাহুল্য। তারপর টুকটাক সাধারন কথাবার্তা। জানতে পারলাম ও কনে পক্ষ। ব্রাইডের পি.এইচ.ডি গাইড'।
-'তারপর?'
-'তখন পৌনে দুটো হবে... আমরা ওখান থেকে বেরিয়ে যাই। বিয়ের জায়গায় যাইনি। পাশের পুকুরটার ধারে একটু পাইচারি করি। তেমন কোনো কথা হয়নি। মিনিট পনেরো কুড়ি পরে সুমন আসে..'
-'এক মিনিট। সুমন কে?'
-'অভিরূপের অফিস কলিগ হিসেবে আমরা দু জনেই এসেছিলাম কোলকাতা থেকে'
-'বুঝেছি। বলে যান'।
-'সুমন এসে বলে সে এবার লজে ফিরতে চায়। আমি সম্মতি দিতে বাইক বার করতে গেল সুমন পারোমিতা আর কিছু কথা না বলে বিয়ের মন্ডপের দিকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে সুমন বাইক নিয়ে এসে দাঁড়াল, আমি উঠে পরলাম। ব্যাস! তারপর আজ সকালে জানতে পারলাম পারোমিতা বাড়ির পাশের খাতটায় পরে মারা গেছে'।
-'আচ্ছা সুমনের সঙ্গে পারোমিতার পরিচয় ছিল?'
-'না। তা কি করে সম্ভব!'
-'ঠিক আছে'।
কৌশিকবাবু এতক্ষন রাজদীপকে জেরা করছিলেন। আর কৌশিকবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে রাজদীপের জবানবন্দি শুনছিল অংশুমান।
কৌশিকবাবু এবার পরিতোষবাবুকে, মানে যার মেয়ের বিয়ে ছিল গতকাল, তাকে জিজ্ঞেস করল –' আচ্ছা আপনার মেয়ে বেড়িয়ে গেছে তো?'
-'হ্যাঁ হ্যাঁ... আপনারা আসার আগেই ওইদিকটা আমরা সেরে ফেলেছি'।
-'ধন্যবাদ। তবে ওখানেও আমাদের যেতে হতে পারে... সে যাই হোক, আপাতত আপনি বলুন তো- বিয়ের ব্যাবস্থা তো এই উঠোনেই হয়েছিল?'
বাড়ির উঠোনটার দিকে লাঠি নির্দেশ করে জিজ্ঞেস করলেন কৌশিকবাবু।
-'হ্যাঁ'
-'খাতটা যেহেতু বাড়ির পিছন দিকে, পারোমিতাকে তাই সেই অবধি যেতে মন্ডপ ক্রস করতে হয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনাদের কারুর না কারুর তো তাকে দেখার কথা, কারন আপনাদেরই কথা অনুযায়ী রাত হয়ে যাওয়ায় সেই সময় বেশি কেউ এই বারান্দায় ছিল না। অথচ আপনারা প্রত্যেকেই বলছেন কেউ তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেখেননি... এটা কি করে সম্ভব?'
পরিতোষবাবুর স্ত্রী শর্মিলা বললেন –'দেখুন, বিয়ের সময় আমরা সবাই মন্ডপে নানান কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। কতজন মাঠ থেকে ভিতরে আসছে...আমরা তো আর সবাইকে লক্ষ রাখিনিতাছাড়া বাথরুম যেতে গেলেও...'
-'বাথরুমটা দেখাবেন চলুন।' বাথরুমের দড়জার দিকে এগিয়ে গেলেন কৌশিকবাবু। তারপর বললেন –' এটার পিছনেই খাতটা?'
-'হ্যাঁ' বলে দরজাটা খুলে দিলেন পরিতোষবাবু। দরজাটা খুললেই সামনে একফালি ঝুল বারান্দার মত জায়গা, তারপর সেই খাত! বাঁ দিকে আবার বাথরুমের দরজা।
কৌশিকবাবু বিস্ময় প্রকাশ করলেন –'এ তো মশাই ডেঞ্জারাস জায়গা! এখন তো মনে হচ্ছে এটা সুইসাইড বা মার্ডারের থেকে সিম্পিল অ্যাক্সিডেন্টের কথাই আগে ভাবতে হয়'।
-'সে আমরা অবশ্য অস্বিকার করতে পারিনা'।
-'ইনভিস্টেগেশান হয়ে গেলেই আগে এই জায়গাটা ঘিরে দেবেন'।
একজন কনস্টেবেল গোছের লোক কোশিকবাবুকে বললেন –'স্যার, কাল রাতে যারা যারা এই বাড়িতে থেকেছে প্রত্যেককে ছাদে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছি'।
-'হ্যাঁ, চল' বলেই একবার পরিতোষ বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন –'ডোন্ট মাইন্ড, আপনার গেস্টদের একটু বিব্রত করতেই হচ্ছে'। তারপর –'আয় অংশু' বলে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলেন।
গতরাতে যারা যারা এই বাড়িতে ছিল, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ঘুমিয়ে পরেছিল; যেহেতু বিয়ে ছিল অধিক রাতে। যারা জেগে ছিল তারা বলছে কেউ পারোমিতাকে চিনত না এবং কে এল, কে গেল, বিয়ে বাড়িতে তা নিরিক্ষন করা সম্ভব নয়। তবুও সবাই মোটামুটি নিজের নিজের কার্যকলাপ বর্ণনা করল। কেবল দু জনের বক্তব্যের মধ্যে সন্দেহভাজন কিছু ছিল। প্রথমজন কনের এক মামা আর দ্বিতীয়জন কনের ভাইয়ের এক বন্ধু। 
মামার বক্তব্যঃ বিয়ের দেরি আছে বলে প্যান্ডেল থেকে খেয়ে এসে একবার একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম। তারপর নিচে শাঁখের আওয়াজ টাওয়াজ হতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বেড়িয়ে যখন নিচে নামতে যাই তখন স্পষ্ট একজনের ছায়া দেখেছিআবার যখন নেমে আসছি, তখনো মনে হয়েছে পিছন পিছন আরো কেউ নামছিল, তখন অবশ্য অতটা আমল দিইনি। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, উপর থেকে তো আর কারুর নেমে আসার বাকি ছিল না। থাকার মধ্যে আমার ছোত ভাইয়ের বাচ্চা ছেলেটা...সে তো ঘুমচ্ছিল, তাছাড়া তার বয়স তিন। আর মা, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন, তাঁর বয়স চুরাশি'।
রাজের বক্তব্যঃ (কনের ভাইয়ের বন্ধু) আমি একটা ফোন করতে ছাদে এসেছিলাম। আমি কথা বলতে বলতে চাপা স্বরে একজন ছেলে আর মেয়ের গলার আওয়াজ পেয়েছি। সামথিং ... স্পেশাল... মানে...
রাজের বক্তব্য আন্দাজ করে অংশু ঠান্ডা অথচ গম্ভিরভাবে, এই প্রথম কথ বলল –'মধ্য রাতের গোপন অভিসার বলতে চাইছেন তো! কিন্তু তারা কারা সেটা দেখতে পাননি?'
-'না'
এইবেলা অংশুমানের পরিচয়টা দিয়ে রাখা দরকার। অংশুমান প্রথমত কৌশিকবাবুর বন্ধুর ছেলে এবং দ্বিতীয়ত ওনার হবু জামাইও বটে। অংশুমান পেশাদারি গোয়েন্দা না হলেও শখে এর আগে কৌশিকবাবুর দুটো ইন্টারেস্টিং কেসে ওনাকে সহায়তা করেছে। তবে সেই দুটো কেসই কোলকাতার ছিলএবারের টা তো একেবারে মাদিনীপুর! ব্যপারটা আসলে নিতান্তই কাকতালীয়। কৌশিকবাবু মেদিনীপুরে এসেছিলেন মাস তিন এক আগে একটা মার্ডার কেসের তদন্তে। সে কাজ হয়ে গেছে। এই সপ্তাহেরই শেষে ওনার কোলকাতায় ফেরার কথা ছিল, কিন্তু আজ সকালে এই খবরটা পেয়ে উনি ঘটনাস্থলে চলে আসেন। আর অংশুমান এসেছে তার অফিসের কাজে। ও একটা বিজ্ঞাপন অফিসে কাজ করে –মেইনলি ফোটগ্রাফি। সেই কাজেই এসেছিল এদিকে, কৌশিকবাবু থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আজ সকালে খবর পাওয়ামাত্র কৌশিকবাবু ওকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন।
                                          'আচ্ছা কাকু, বলছি আপনি ওদের সাথে একটু কথা বলুন। গুকালের পুরো ভিডিও আর যা স্টিল তোলা হয়েছে, তার সবগুলোর যেন এক কপি করে পাঠিয়ে দেয়'।
-'গুড। ঠিক বলেছ'।
-'আর বলে দিন, ভিডিও যেন কোনোভাবে এডিট না কর হয়'।
পরিতোষবাবু ক্যামেরাম্যানকে ডেকে দিলেন। কৌশিকবাবু ছবি আর ভিডিও দিতে বললেন।
-'আচ্ছা কাকু... একটু শোনো'।
-'কি?'
-'পারসোনাললি যারা ভিডিও করেছিল...'
-'হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পারছি তুমি কি বলতে চাইছ। দেখছি। শুধুমাত্র কাল রাতের ভিডিও গুলোর ব্যাবস্থা আমি করতেই পারি। ওয়েট'। কৌশিকবাবু দু জন ইন্সপেক্টারকে নিয়ে ভিতরে গেলেন। অংশু এর মাঝে পরিতোষবাবুকে বলে রাখল, 'ছবি গুলো আমরা পেয়ে গেলে আপনাকে একবার আসতে হবে'।
-'কেন বলুন তো?'
-'সবাইকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য। তাছাড়া কাল রাতে এখানে যে যে গেস্টরা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আপনাদের রিলেশান, এটসেট্রা...'
-'ঠিক আছে, আপনারা খবর দেবেন। তবে একটা কথা ছিল...'
-'বলুন'।
-'কাল সন্ধ্যেবেলা আপনারা কি বাকি পুলিশদের সাথে নিয়ে...'
কোউশিকবাবু এমন সময় এসে বললেন –'চিন্তা নেই, ওখানে শুধু আমি আর অংশুই থাকব। আর আমি পুলিশের পোশাকে থাকব না'।
ছবি আর ভিডিও বিকেলের মধ্যেই গেস্ট-হাউসে পৌঁছে দিল ক্যামেরাম্যান। কৌশিকবাবু বেড়িয়েছেন তাঁর এক সহকারি অফিসারের সাথে। আসলে পরিতোষবাবুর অতিথিদের জবানবন্দি অনুযায়ী এবং আনুষঙ্গিক তথ্য-প্রমাণাদির ভিত্তিতে চার জনের নাম উঠে এসেছে, যাদের সঙ্গে ওইদিন পারোমিতার কথোপকথন হয়েছে –তাদেরই বাড়ি গিয়েছেন ওঁরা।
আকাশটা কালো করে এসেছে। এই সময় এইরকম আবহাওয়াটা অস্বাভাবিক। ফাল্গুন মাসে সাধারনত চৈত্রবৈশাখের মত বিকেলের দিকে আকাশ কালো করে ঝর বৃষ্টি হয় না। তবে আজ হয়েছে। বেশ ভালো রকম কালো করেছে, ঠান্ডা বাতাসের সাথে ধুলো উড়ছে ঝরের দাপটে। মধুস্মিতা, অংশুর মিতা এতক্ষন জানালার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। এবার জানালা থেকে সরে এসে ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল। অংশু বিছানায় বসে ছবি গুলো বিছিয়েছে, তার একটাতে খেয়াল না করে বসে পরেছিল। অংশু 'কানা নাকি' বলে ছবিটা সরিয়ে নিল।
'ওপস, সরি। খেয়াল করিনি। এই বাবা কখন আসবে?'
অংশু ছবি গুলোর উপর থেকে চোখ না সরিয়েই বলল –'ঠিক নেই। একেকটা জায়গা থেকে কেমন ইনফরমেশান পাচ্ছে, সেসবের উপর দিপেন্ট করছে'
-'তাহলে তুই তখন থেকে ছবি গুলো নিয়ে কি করছিস?'
-'যে ছবি গুলোতে পারোমিতাকে দেখা যাচ্ছে বা আংশিক দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আলাদা করছি'।
-'বাবা... আংশিক! পারোমিতাকে পছন্দ হয়েছে বল। তা না হলে কোন ছবিতে আংশিক দেখা যাচ্ছে সেটা আবার আলাদা করে রাখছিস'।
-'ভাট বকলে অন্য কাউকে ফোন করে বক'।
-'ঠিক আছে বকব না। তাহলে বল, সকাল থেকে কি কি বুঝলি?'
-'বলতে পারি। তবে...'
-'স্পাই এর কাজ করতে হবে?'
-'এই মুহূর্তে না। তবে ...ছাড় সে কথায় পরে আসছি। আগে আমার থিওরিটা বলি'।
-'মানে পারোমিতা কিভাবে খাতে পরল?'
-'রাইট। দেখ, খাতের দিকে যাওয়ার দু টো রাস্তা। একটা রান্না ঘরের পিছনে, অন্যটা বাথরুম যাওয়ার মুখে'।
-'ওয়েট। বাথরুম যাওয়ার মুখে বলতে?'
-' পরিতোষবাবুর বাড়ির শুরুতেই বারান্দা। বারান্দায় উঠে ডানদিকে সিঁড়ি। সিঁড়ির পাশ দিয়ে বাথরুমে যাওয়ার রাস্তা। কমন বাথরুম, আই হোপ বিয়ে বাড়িতে সবাই এটাই ইউস করেছেকাজেই কারুর অ্যাক্সিডেন্ট হল না, হল শুধু পারোমিতার?'
-'মে বি হতেই পারে। আর তুইই তো বললি দু টো রাস্তা, একটা রান্না ঘরের পিছনে'।
-'সেতাই তখন বলতে যাচ্ছিলাম। রান্না ঘরের পিছনে যদি যায় সেটা হবে আত্মহত্যার চেষ্টা। কিন্তু সেটা করলে ভোর অবধি জেগে থাকা রান্না ঘরের পাঁচ জন লোকের কারুর না কারুর চোখে সেটা পরত'।
-'তাহলে তুই বলছিস এটা সিওর মার্ডার'।
-'মোস্ট প্রোবাবলি'।
-'কাউকে মার্ক করেছ?'
-'এখনো পর্যন্ত একজনকে'।
-'কে?'
-'তুই পারোমিতার যে এক্স হাসবেন্ডের সঙ্গে ওখানে দেখা হয়ে গিয়েছিল, সেটা শুনেছিস তো?'
-'হ্যাঁ'।
-'তার অফিস কলিগ। মানে সুমন। রাজদীপ বলছে বটে ওর অফিস কলিগ পারোমিতাকে আগে থেকে চেনে না, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে অন্য কোনো ভাবে ওদের পরিচিতি হতেও পারে। রাজদীপ সেটা জানে না'।
-'আচ্ছা, আমরা ধরে নিলাম, সুমনের সঙ্গে পারোমিতার শত্রুতা ছিল। কিন্তু তোমার থিওরিটা কি?'
-'রাজদীপ বলেছে সুমন লজে ফেরার প্রস্তাব দেওয়ায় রাজদীপ রাজি হয় এবং তারপর সুমন বাইক আনতে যায়। পারোমিতাও কিন্তু আর সেখানে দাঁড়ায়নি। এবার লক্ষণীয় বিষয় এই যে বাইক রাখার জায়গাটা হয়েছিল ঠিক সেই বারান্দার পিছনে। আর বারান্দায় ওঠার জন্য ওখানেও একটা দড়জা আছে; আমি নিজে দেখেছি। সো সবাই বিয়ে দেখতে ব্যস্ত। সুমন দেখল পারোমিতা বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। স্মার্টলি বারান্দা দিয়ে হেঁটে গেল, আর পারোমিতা দরজা খোলা মাত্র পিছন থেকে হালকা একটা ধাক্কা ব্যাস! কিন্তু এটাকে ঠিক মেনেও নিতে পারছি না। কেন বলত?'
-'এটা হলে তো পারোমিতা বাথরুমের দিকে যাচ্ছে আর সুমন বাইক বার করতে গিয়ে সেটা দেখতে পেল, সেটা কাকতালীয়। অর্থাৎ সুমন খুনের মোটিভ নিয়ে আসেনি নিশ্চয়ই। আর খুন করাটা মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়, এক যদি না সে পাশাদারি খুনি হয়। তাই ওভাবে...'
-'গুড। ঠিক এই জন্যই আমি থিওরিটাকে বাতিল করেছি। তবে সুমনকে এখনো তালিকা থেকে বাদ দিইনি। কারন লজে রাজদীপ আর সুমন দুজনেই ছিল। অথচ খবর দিয়ে যখন সবাইকে আসতে বলা হল, তখনো সুমন এল না কেন?'
মিতা বলল, 'আচ্ছা, সুমনের দিক থেকে সরে এসে আমরা যদি অন্য কারুর প্রাস্পেক্টিভ থেকে দেখি'।
-'তুই আবার কাকে টেনে থিওরি বানাচ্ছিস?'
-'বর'
-বর?
-হতেই তো পারে বরটা বর্বর!
-ঝেরে কাশ।
-দেখ। আমরা জানি পারোমিতার সঙ্গে রাজদীপের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিল। অ্যাম আই রাইট?
-রাইট।
-তারপর ধর পারোমিতার সঙ্গে কালকের বিয়েতে যে বর ছিল, তার সঙ্গে...
-মানে তুই বলতে চাইছিস, বিয়ে করতে এসে হঠাত করে পুরোনো সঙ্গিনীকে দেখে বাবাজি ভয় পেয়ে যায় আর সেখান থেকে অ্যাটেম্প টু মার্ডার!
-ইয়েস।
-হুম। বুঝলাম। দু টো ব্যাপারে হালকা বাধা থাকছে ঠিকই... বাট সেগুলোকেও নিঃসন্দেহে উড়িয়ে দেওয়া যায়। আর সেগুলোকে বাদ দিলে নেহাত তোর থিওরিটা খারাপ না।
-বাধাটা কোথায়?
-এজ। বর বাবাজির বয়সটা যা শুনেছি, সেটা পারোমিতার থেকে অনেকটা কম। তবে সেটা খুব একটা ফ্যাক্ট না। আর সেকেন্ডলি, বিয়ের আসরে বরের পক্ষে কখনোই মার্ডার অ্যাটেম্প করাটা পসিবেল নয়। কিন্তু এখানেও সেটা সে করতে পারে, যদি অন্য কাউকে সে এই কাজে লাগায়।
এবার বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। ঝড়টাও বেশ বাড়ছে। জানালার পাল্লাটায় আওয়াজ হচ্ছে দুম-দাম। মিতা উঠে গেল জানালা বন্ধ করতে। জানালা বন্ধ করতে করতেই মিতা জিজ্ঞেস করল, 'আচ্ছা ওই পারোমিতার বাড়ির লোককে ওর পাস্ট নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি?'
-'সেসব কথা তোর বাবার সাথে হয়েছে। আমি আগে চলে এসেছি। কাকু আসুক, বাকি কথা জানা যাবে'। কথাটা বলেই অংশু ভুরু কুঁচকে একটা ছবির দিকে তাকাল। তারপর আর একটা ছবি হাতে নিয়ে সেই ছবিটার দিকে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হন্যে হয়ে বাকি ছবি গুলো হাতরাতে লাগল। মিতা জিজ্ঞেস করল –কি খুঁজছিস?
অংশু কোনো উত্তর দিল না।
কৌশিকবাবু ফিরলেন প্রায় রাত আটটা, বৃষ্টি থামার পর।
-নতুন কিছু খবর পাওয়া গেছে?
-নতুন খবর বলতে পারোমিতার বাবা মায়ের থেকে যেটুকু জানা গেছে, তাতে মেয়ের সুইসাইড করার কোনো কারন তো তারা খুঁজে পাচ্ছে না। তাহলে বাকি রইল মার্ডার আর অ্যাকসিডেন্ট। এবার ওর বাবা মায়ের কথা অনুযায়ী মেয়ের শত্রু তো কোনো কালে ছিলই না, উপরন্তু কোলকাতা থেকে শত্রু মেদিনীপুরে এসে খুন করবে, এ যুক্তি তো মেনে নিতে পারছে না। ইভেন আমারো এবার মনে হচ্ছে ইটস জাস্ট আ অ্যাক্সিডেন্ট।
-আচ্ছা কাকু, আমার একটা কথা সকাল থেকেই মনে হচ্ছিল, তখন বলিনি।
-কি?
-পারোমিতা কি আদৌ উপর থেকেই নিচে পরেছে? কারন বাথরুমের রেস্পেক্টে ওটা খাত হলেও আদপে তো ওটা পুকুরপাড়। হতেও তো পারে উনি ওখানে গিয়েছিলেন, দেন ওখানে কেউ...
-উপর থেকে পড়েছে কিনা সেটা তো কালকের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে। বাট... সেই 'কেউ' ওনাকে কোকাতা থেকে চেস করে এখানে এসে...
-না আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে তো যেতেই পারে। পারে না কি...?
-তা পারে। তবে উপর থেকে পরার ফলে যেভাবে মাথা ফাটে... এক্ষেত্রেও কিনু...
-না না। সেটা তো অ্যাক্সিডেন্ট প্রুফ করার জন্য আততায়ী ইচ্ছে করেও করতে পারে?
-পারে।
-তাহলে এখন সেই 'কেউ' টাকে খুঁজে বার করাটা খুব দরকার।
কৌশিকবাবু আবার কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, চাকরটা এসে জিজ্ঞেস করল, 'ভাত না রুটি?'
-ইয়ে অংশু, তুমি রাতে রুটি খাও?
-না ভাত। তবে কাকু, এখন একটু বেরোবো।
-না না, এখন কোথায় বেরোবে? রাত হয়ে গেছে, এটা তো কোলকাতা নয়। রাস্তা গুলিয়ে ফেললে...
-না না। আমি রাস্তা গোলাবো না।
-ঠিক আছে, তাহলে আমার গাড়ি নিয়ে যাও।
মিতা আবার বায়না ধরল সেও বেরোবে। অগত্যা, কৌশিকবাবু একজনকে অনুমতি দিয়েছেন, আর একজনকে থামান কিকরে? তবে বার বার করে বলে দিলেন দশটার মধ্যে যেন বাড়ি ফেরা হয়।  
                                         ৪
-আমরা ঠিক কোথায় যাচ্ছি? জিজ্ঞেস করল মিতা।
অংশু বলল, না জেনেই যখন বেড়িয়েছিস তখন আর না জানলেও চলবে। মিতাও আর ঘাঁটাল না। কারন ও জানে এখন অংশু কোনো জবাবই দেবে না। তাই ঘার ফিরিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে বসে রইল। মরামের উপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যাওয়ার আওয়াজ আর হেডলাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরির মত গাছগুলো।
গাড়িটা একটা পুকুরের পাড়ে এনে পার্ক করল অংশু। মিতা বেশ আন্দাজ করতে পারল, এটা সেই ডেথ স্পট। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখন এখানে এসে লাভটা কি? প্রশ্ন করবে না করবে না ভেবেও শেষমেশ বলেই ফেলল, এখন এখানে এলে কেন?
-ছক সাজাতে। আমি তো আর হোমস নই যে ঘরে বসে বসে সব সাজিয়ে নেব আর স্পটে এসে কেরামতি দেখাবো!
-'তা সকালে ছক সাজাতে...' অংশু মিতার কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে, কথাটা শেষ করতেও না দিয়ে দুটো জলের গাড়ির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল –' লক্ষ্য করে দেখ, এদিকটায় জলের জায়গা ছিল প্লাস জেনারেটারের ব্যাবস্থাও এখানে ছিলতারমানে জেনারেটারের দায়ীত্বে যারা ছিল... মমম... না, সবসময় যে তারা থাকবে...' নিজেই কথা বলছে, বলতে বলতে আবার থেমে থেমে যাচ্ছে অংশু। সাজাচ্ছে, গুটি গুলো সাজাচ্ছে। কি যেন ভেবে একবার বিরবির করে বলল, রাজলক্ষ্মী ইলেক্ট্রনিক্স!
-'আমি কি গাড়িতে গিয়ে বসব? মশা কামড়াচ্ছে'।
-'না। আমার মোবাইল নিয়ে আসা হয়নি। জায়গাটার ছবি তুলে রাখ'।
-'নিচ্ছি'।
মিতা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি নিচ্ছে, অংশু বলল, কাল বিকেলের দিকে একবার বৃষ্টি হচ্ছিল না?
-হচ্ছিল তো!
-তাহলে এখানে ধস্তাধস্তি হলে কিন্তু মাটিতে তার ...। অংশু টর্চ জ্বেলে জায়গাটা পর্যবেক্ষণ করছে। পুকুরের পার ধরে খানিকক্ষণ হেঁটে যাওয়ার পরে হঠাত একটা জায়গায় অংশু থামল, তারপর হাঁটু গেরে বসে কিছু যেন নিরিক্ষন করল। তারপর মুচকি হেসে বলল –'অনুপ্রবেশ। বাট হু ওয়াস দ্য সেকেন্ড অ্যন্ড হোয়াই?'
মিতা বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই অংশু বলল, তোকে একটা কাজ করতে হবে। এই বাড়ির যে ছোট মেয়েটা আছে, ওর থেকে কায়দা করে কথা আদায় করতে হবে।
-কি কথা?
-চ। গাড়িতে যেতে যেতে বলব।
                                     বিকেলের দিকে ঝড় হয়ে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। মিতার গাড়িতে একটু শীত শীত করছিল বইকি। কিন্তু চাপা উত্তেজনাও ছিল। অংশু কি এমন দেখল ওখানে? তাছাড়া বিকেলে ছবিতেই বা কি এমন খুঁজে পেয়েছিল সে? –মিতা যখন এইসব ভাবছে, তখন ওকে অবাক করে অংশু বলল –'তুই নিশ্চয়ই ভাবছিস আমি বিকেলে ছবিতে কি খুঁজছিলাম?'
-'হ্যাঁ তো'।
-'শোন তাহলে, কারন তোর জানাটা দরকার। কিন্তু তার আগে বল তো, কাল পারোমিতা কি পরেছিল?'
-'শাড়ি। লাল আর হলুদের কম্বিনেশান'।
-'ঠিক এই একই কালারের শাড়ি আরো একজন পরেছিল'।
-'কে?'
-'পোরিতোষ বাবুর ভাইয়ের বড় মেয়ে। আমি যখন পারমিতার ছবি গুলো আলাদা করছিলাম, তখন একটা ছবিতে আমিও ঘোল খেয়ে গিয়েছিলাম। ওই যে তখন বললাম না.. আংশিক! সেইরকম একটা ছবি। আমি ব্যাক সাইডটা দেখে ভেবেছিলাম ওটা পারোমিতা বাট পরে অন্য একটা ছবির পুরোটা দেখে বুঝলাম ওটা অনন্যা, মানে পরিতোষ বাবুর ভাইয়ের মেয়ে'।
-'তুই কি মিন করতে চাইছিস বল তো?'
-'এটাই যে, পরিতোষবাবুর ছেলের বন্ধুর জবানবন্দি অনুযায়ী সেই রাত্রে ছাদে যে গোপোন প্রেমালাপ চলছিল, বা পুরোনো প্রেমিক প্রেমিকার বচসা, যাই বলি না কেন... সেই দুজনের একজন অর্থাৎ নারীটি অনন্যা।
-'মানে তুই বলতে চাইছিস, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড অনন্যা ভেবে পারমিতাকে মেরে ফেলেছে। যাহ্‌। সে কেন ...তাছাড়া...'
-'তাছাড়া ছার বালিকে। যেটা বলছি, সেটা শোন। কাল আমি সকালে কোলকাতা যাব, দরকার আছে। আবার বিকেলের মধ্যে ফিরে আসব। তুই শুধু কাকুর সঙ্গে ওই বাড়ি পৌঁছে গিয়ে অনন্যার বোনের সঙ্গে কথা বলে আদায় কর, অনন্যার পাস্ট। মানে অনন্যার বিয়ের আগের ঘটনা কি ছিল?'
-'তুমি এত সিওর হচ্ছ কি করে যে অনন্যার...'
-'বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড ছিল কিনা?'
-'হ্যাঁ'
-'শোন, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড কাল্প্রিট কিনা, সে বিষয়ে আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। বাট, তার বয়ফ্রেন্ড ছিল এবং সে সেদিন ওই বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিল, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত হয়েছি কিছু বিয়ে বাড়িতে কিছু গেস্টদের করা ব্যাক্তিগত ভিডিও থেকে। এইধরনের ভিডিও গুলোতে এমন অনেক ধরনের ফুটেজ ধরা পরে ম্যাডাম!'
-'ঠিক আছে। আমি ঠিক কথা বার করে নেব। কিন্তু তুই কোলকাতায় যাবি কেন?'
-'পারোমিতা কাল রাতে কেন পিছনদিকের ওই পুকুরে গিয়েছিল বা কেন পুকুরপারে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা জানতে'।
-'মানে? এই তো বলছিস ভুল করে...' 
-'কিন্তু এই ভুলের পিছনে আরো কিছু ঠিক ভুল আছে। সেগুলো যে না জানলে অনেক কিছু অজানা থেকে যাবে'।
                                       ৫   
অংশু পরদিন সকালে বেড়োনোর আগেই পারোমিতার রিপোর্ট টা চলে এল। রিপোর্ট বলছে, উঁচু কোনো জায়গা থেকে পরেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে মৃত্যুর অন্যতম কারন কোনো ব্লান্ড ইন্সট্রুমেন্টের আঘাত।
অংশু চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল –'মাথার আঘাতটা দেখেই সন্দেহ হয়েছিল ওটাই মৃত্যুর কারন, সেইজন্যেই আপনাকে বলেছিলাম হতেও পারে উপর থেকে পরে মারা যায়নি। কিন্তু এখন ব্যাপারটা যা দাঁড়াল, উপর থেকেও পড়েছে আবার নিচেও মার খেয়েছে'।
কৌশিকবাবু বললেন, মানে পারমিতার জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ অবস্থা হয়েছিল।
-'হুম। এবার দেখতে হবে বাঘটি কে, আর কুমিরটাই বা এসেছিল কেন?'
-'অ্যাঁ?'
-'বাদ দিন। বলছিলাম, ওই পোরিতোষবাবুর জামাইয়ের অফিসের ঠিকানাটা আজকে দুপুরের মধ্যে জেনে আমাকে এস.এম.এস করে দেবেন তো'।
-'ঠিক আছে। তা তুমি রাতের মধ্যে আবার এখানে আসছ তো'।
-'ইচ্ছে তো আছে। কারন সিনেমাটা তো আর বেশিক্ষন ঝুলিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ও ভাল কথা, রিসেপ্সশানের জায়গাটার লোকেশানটাও পাঠিয়ে দেবেন। ওখানেই ডাইরেক্ট ঢুকে যাব'।
-'বেশ। তুমি তাহলে বেড়িয়ে পর। যাবে যখন দেরি করে কাজ নেই'।

বিকেল থেকেই সাজ সাজ রব। কনে যাত্রিদের যাওয়ার জন্য গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশরা সবাই সাধারন পোশাকে। খুব নিজেদের লোক ছাড়া এই খুনের ব্যাপারটা পারা প্রতিবেশিরা এখনো কেউ জানে না। আত্মীয়-স্বজন রাও না। পরিতোষবাবু এমনিতেই চিন্তায় আছেন, তার উপর আবার দুপুরে খাওয়ার আগে কোউশিকবাবু তাঁর জামাইয়ের অফিসের ঠিকানা পাঠাতে আরো নারভাস হয়ে পরেছিলেন উনি। এদিকে মিতা শুধু সুযোগ খুঁজছিল কি করে অনন্যার সেই ছোট বোনটিকে আলাদা করে পাওয়া যায়। অংশু বলেছে, ব্যাপারটা কনফার্ম করে দিতে আর সেই ছেলেটার ঠিকানা দিতে। মিতা এদিকে ভেবে পাচ্ছে না, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড অনন্যা ভেবে পারোমিতাকে ফেলে দিলেও নিচে আঘাতটা করল কে? নাকি সেই ছেলেটি এতটাই সাংঘাতিক যে...। আরে, ওই তো অনন্যার বোন। ওটাই তো...হ্যাঁ, ছবি অনুযায়ী তো তাই।
-'শুনছ?' ডাক দিল মিতা।
-'আমায় বলছেন?' ঘুরে দাঁড়ায় মেয়েটি। পায়ে পায়ে এগিয়ে এল মিতার কাছে। 'বলুন'। এই তো! ঘেঁটে গেল মিতা। কিভাবে শুরু করবে? না, অংশুর কথা বলা যাবে না। বলতে হবে বাবা জানতে চেয়েছে।
-'আমি ইন্সপেক্টার কৌশিকবাবুর মেয়ে, মধুস্মিতা। বাবা আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছে কয়েকটা প্রশ্ন করতে'।
-'আমাকে?'
সামান্য তোতলালো কি মেয়েটা? হুম, তাহলে মিতার এখন নরম হলে চলবে না। 'হ্যাঁ, তোমাকে। কাল তুমি পুলিশকে সব সত্যি কথা কিন্তু বলোনি'। সন্দেহটা সন্দেহ হিসেবে নয়, হাই কনফিডেন্সের সাথে কথা ছুঁড়ে দিয়েছে মিতা।
-'মানে?' এবার একটু ঘাবরেও গেছে। নাহ, এই তো মোক্ষম সময়।
-'তুমি তোমার দিদির পাস্ট নিয়ে পুলিশকে কিছু বলনি। অল রাইট, অতজনের সামনে তোমার দ্বিধা হয়েছিল নিশ্চই, আর সেই জন্যই বাবা আজকে পারসোনালি জানতে পাঠিয়েছে'।
-'সেটা পুলিশ জেনে কি করবে?'
-'দরকার আছে। তুমি সব সত্যি বলবে'।
-'দিদি জানবে না তো যে আমি বলে দিয়েছি?'
-'না জানবে না'।
-'ঠিক আছে'।
মেয়েটি যা বলল তা এইরকম –' অনন্যার সাথে ছেলেটির স্কুল লাইফের প্রেম। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় অনন্যা বাড়িতে বেকায়দায় ধরা পরে যায় এবং তারপর সাত তাড়াতাড়ি করে অনন্যার বিয়েও দিয়ে দেয়। এদিকে ছেলেটিকে বাড়ির কেউ তেমন চোখে দেখেনি। বা দেখে থাকলেও এতদিনে তা ভুলেও গেছে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সেই অভিক অর্থাৎ অনন্যার প্রেমিক, যে এখন ক্যাটারারিঙ্গের বিসনেস করে, তার কাছে গিয়ে পৌঁছোয় এই বিয়ের জল, ক্যাটারিঙ্গের দায়ীত্ব। ওদিকে অনন্যা বিয়ের দিন সকালে শ্বশুর বাড়ি থেকে আসে এবং দুপুর বেলায় তার বাচ্চা ছেলেটার জন্য খাওয়ার আনিয়ে দিতে বললে  ক্যাটারিং এর ওখান থেকে অভিক খাওয়ারটা নিয়ে আসে। অনন্যা তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় আর সে সবটাই বলে বোনকে। এদিকে অনন্যার বর কিছু সন্দেহ করতে পারে এই ভয়ে অনন্যা রাতে নিচে যখন সবাই বিয়ের ওখানে ব্যাস তখন চুপি চুপু ছাদে অভির সঙ্গে দেখা করে। সেই কথোপোকথনের কথাই উল্লেখ করেছে দাদার বন্ধু। তবে উপরে আদৌ কি কথা হয়েছিল তা সে জানে না। তবে অনন্যা নিছে নেমে আসার কিছু সময় পরে দিদিকে দেখে অভিকে একবার চমকাতে দেখেছে সে!'
'অভি অনন্যাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকেছে? তারমানে তো বোঝাই যাচ্ছে, অভি কালপ্রিট' ভাবল মিতা। মিতা এও ভাবল, অভি কি তাহলে ছাদে অনন্যার থেকে টাকা পয়সা কিছু চেয়েছিল ব্লাকমেল করে?

...
'ভারতবর্ষে প্রথম টকি এসেছিল ১৯৩১ সালে। যদিও তার আগে হলিউড টকি ভারতে দেখানো হয়েছে ১৯২৮ এ। বাংলায় টকি এলেও তার সাউন্ড প্রবলেম নিয়ে গুনিদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। এম্নন সময় এলেন বি.এন.সরকার। তাঁর নিউ থিয়েটারস বলতে গেলে সেই সময় বাংলার সিনেমার জগতে একচেটিয়া মার্কেট করে নিয়েছিল। তবুও যে সব ছোট খাটো কিছু ফিল্ম প্রোডাকশান তার ফাঁকে গজিয়ে উঠেছিল, তার মধ্যে এই ' বাকধারা পিকচারস' ও একটা'। একটানা এতটা বলে থামলেন সঞ্জয়বাবু। পুরোনো প্রোডাকশানের স্টিল, ভিডিও রোল, এছাড়া অন্যান্য নথি পত্তর নিয়ে বেশ ভাল রকমের ব্যাবসা ফেঁদে বসেছেন এই সঞ্জয় ভদ্দরলোক। অংশু চায়ে ছোট্ট চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করল –'সেই সময় ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে যা দেখা গেছে আর কি... মানে ওই অগ্নিকান্ডে সিনেমার রিল নষ্ট হয়ে যাওয়া...'
-'উঁহু, এইখানেই গল্প। তখনকার দিনের বেশ নামকরা এক পরিচালকের চারটে ছবি রাজনৈতিক কারনে মুক্তি পেতে পারে নি। সময়টা তা ধরুন গিয়ে চল্লিশের গোড়ার দিককার কথা। কিন্তু সেই রিল পরে বিদেশ ঘুরে নিলেম হয়ে... অবশ্যই হিস্টরিকাল ভ্যালুর দিক থেকেই... সে জিনিস এখন আমার কাছে। এবার যাকে তাকে এসব জিনিস...'
-'আসল কথায় আসুন'।
-'হ্যাঁ, বলছি। গত মাসের এগারো তারিখে পারোমিতা বসু নামের একজন প্রোফেসর আমার কাছে এসেছিলেন এই ব্যাপারে। ওনার নাকি রিসার্চের কাজে লাগবে। তা কাগজ পত্রও কিসব যেন দেখিয়েছিলেন। তবে আমার বলে ন্যাজ্য দাম নিয়ে কথা, এর মধ্যে এক শাশালো খদ্দের এলেন। বেশি দাম দিতে রাজি। আমি তবুও একবার ওনাকে ফোন করেছিলাম কিন্তু পেলাম না। মহা ধন্দে পরে গেলাম। উনি এমনিতেও যে দিনে নেবেন বলেছিলেন সেদিন আসেননি। দিন পেরিয়ে গেছে। আমিও তাই সেই লোককে বেচে দিলাম জিনিস। তার পরে একদিন হঠাত করে সে মেয়ে এসে হাজির। আমি অগত্যা সেই ভদ্দরলোকের ঠিকানাই দিয়ে দিলাম ব্যাস! এইটুকুই। এর বেশি আমি জানি না'।
-সেই ভদ্রলোকের নাম?'
-'দাঁড়ান, দেখে বলতে হবে'। বলে সঞ্জয়বাবু মনিটরের দিকে চোখ রাখলেন।
                                        ৬
-খাওয়ার নিয়ে এসেছিস কিছু? গাড়ি চালাতে চালাতেই প্রশ্ন করে অংশু। মিতা পাশের সিটে বসে। জবাব দেয় –'ফোন করে বললি আর আনব না? কিন্তু তুই সকাল থেকে কিছু খাসনি কেন?'
-'আর খাওয়া? চারিদিকে দৌড়োদৌড়ি করতে করতেই তো সময় চলে গেল। বিলপত্তর, এক্সচেঞ্জ... তাও ভাগ্য ভাল পুরোনো বন্ধুর দেখা মিলেছে। নয়তো আজ আর সবটা পেতে হতনা।
মিতার চোখে মুখে উচ্ছাস। 'তারমানে তুই সল্ভ করে ফেলেছিস?'
'প্রোবাবলি'
-'তর প্রোবাবলি মানে হয়ে গেছে। বাবা জানে?'
-'কাকু কাল রাত থেকেই আমার থিওরিটা জানেন। আর আজ বিকেলে ফোন করে বলে দিয়েছি সবটা। নইলে যে সমস্যা হয়ে যাবে'।
-'সে তোর থিওরি তো আমিও জানি'।
-'তুই যেটা জানিস, সেটা অনুমান'।
-'মানে?'
-'সেদিন আমি কার ছবি দেখছিলাম? আর কিই বা খুঁজছিলাম?'
-'কেন, পারোমিতার...'
-'আরো একজন'।
-'অনন্যা'।
-'না। অনন্যার কেসটা ইম্পরটেন্ট, বাট মেন নয়'।
-'তাহলে?'
-'তাহলে, তাহলে আগে খাওয়ার দে। তুই স্টিয়ারিং ধর। আমি খাই, নয়তো ওখানে আর গল্প বলা হবে না'।

চারিদিকে সাজ সাজ রব। বরপক্ষের এখনো সবাই ব্যাপারতা জানে না। অংশু কৌশিকবাবুকে বললেন –'কাকু... বলছি, গোটা টা বলতে গেলে তো অনেক কথাই উঠবে। কিন্তু কাজটা তো এখানে না হলেই নয়'।
-'সে ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি। পোরিতোষবাবুর বেয়াইয়ের সঙ্গে সব কথা হয়ে গেছে। ছাদের ঘরে ব্যাবস্থা হয়েছে। বলা হবে কনের মেকাপ হচ্ছে'।
-'আর...'
-'সব ব্যাবস্থা হয়ে গেছে। তোর কাছে শুধু প্রুফ আছে কিনা বল'।
-'সব আছে'।

ঘরটা বেশ বড়। ছাদের পাশের ঘর বলতে সাধারণত যেমনটা ভাবা হয় তা নয়। ঘরের একপাশে লাইট, ক্যামেরার স্ট্যান্ড ইত্যাদি ছবি তোলার আরো কিছু আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে ক্যামেরাম্যান নারাচারা করছে। ইনি সেই মেয়ের বাড়ির ক্যামেরাম্যান। ছেলের বাড়ির ক্যামেরাম্যান নিচে ইতিমধ্যেই ভিডিও শুরু করে দিয়েছেন সম্ভবত আর ইনি মেয়ের সাজার অপেক্ষ্যায়। অংশুদের ঢুকতে দেখে ঘর ছেরে দিচ্ছিলেন, কিন্তু কৌশিকবাবু বললেন –'থাক থাক আপনাকে উঠতে হবে না'। তারপর অংশু, পোরিতোষবাবু, মিতা, অনন্যা, অনন্যার বাবা-মা একে একে নিজেদের মত চেয়ার টেনে বসে গেলেন। ছেলের বাবাও উপস্থিত আছেন। অংশুই শুরু করল কথা। প্রথমেই ইষত গলা খাকরানি দিয়ে বলল –'প্রথমে কিন্তু অনন্যার মায়ের সাথেই কথা বলতে হচ্ছে'। অনন্যার মা অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন অংশুর দিকে। অংশুর কোনো বিকার নেই। সে ঠান্ডা ভাবেই বলল –'আপনার মেয়ের বিয়ের আগে একটি ছেলেকে ভালোবাসতো আর তাই আপনারা মেয়েকে পুরো কলেজটা না পড়িয়েই সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিলেন তাই তো!'
-'এসব...এসব কথা...'
-'চিন্তা করবেন না। আপনারা বাবা মা হয়ে অমানবিক কাজ করেছেন ঠিকই, মাপ করবেন ছোট মুখে বড় কথা, কিন্তু এটাই সত্যি। যাই হোক, আমি অতটা অমানবিক হতে পারলাম না, তাই ওর হাসবেন্ডকে এখানে উপস্থিত রাখিনি'। এই শেষ কথাটা শোনার পর আর কিছু বললেন না উনি। কেমন যেন মূষরে গেছে। শুধু বললেন, 'তার সঙ্গে...'
-'বলছি কি সম্পর্ক। তার আগে আপনি বলুন তো অনন্যা, আপনি পোরশু দিন রাতে ছাদের সঙ্গে ওই অভিক ছেলেটির সঙ্গে কথা বলছিলেন তাই না!'
-'হু'।
-'কি কথা হয়েছিল?'
-'এক রাশ অভিমান নিয়ে যা বলা যায়। তার উপর যখন দুপুর বেলা সেই আমার ছেলের জন্যে খাওয়ার এনে দিয়েছিল... তারপর আপনিই বলুন না কি কথা সে বলতে পারে?'
-'হুমকি? ব্ল্যাক্মেল?'
-'না না। এসব কি বলছেন? ও কখনোই এসব বলেনি। শুধু বাচ্চাদের মত আবদার করেছিল, আমি যেন সারারাত ছাদে দাঁড়িয়ে ওর সাথে গল্প করি। কিন্তু আমি শুনিনি। ছুটে চলে এসেছিলাম'।
-'আর আপনার ছুটে চলে আসাটাই এক গভীর ট্র্যাজেডিতে পরিনতি নিয়েছিল'।
-'মানে?'
-'বলছি। অভিক...!'
অভিক বুঝি এতক্ষন বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল। সে ভিতরে আসতেই অংশু বলল –'আমায় যা যা বলেছ, সবাইকে তাই বল এবার। আমি যানি তুমি সত্যি বলছ। কারন তার পরের অংশটা আমার জানা'।
অভিক বলল –'সেদিন আমি ছাদে অনন্যার সাথে ছিলাম। তারপর অনন্যা ছুটে নিচে চলে যায়। কিছুক্ষন ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে আমিও ছুটে যাই। তারপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে দেখি সিঁড়ির পাশ দিয়েই অনন্যা কোথায় যাচ্ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ধরতে যাই। সে একটা দরজায় ঠেলা মেরে দরজাটা খোলে। আমি জানতাম না ওটা কিসের দড়জা। আমি অনন্যা ভেবে একদম ওর পিছনে গিয়ে হাতটা ধরে টানি আর সঙ্গে সঙ্গে ...বোধ হয় ঘটনার আকস্মিকতাতেই সে ভয় পেয়ে পা পিছলে নিচে পরে যায়। আমি ভিষন ভয় পেয়ে যাই। কিন্ত আশ্চর্য, দৌড়ে ওখান থেকে সরে এসে দেখি অনন্যা দিব্যি মন্ডপে! তখন বুঝি যে পরে গেছে, সে অনন্যার মতোই শাড়ি পরায় আর পিছন থেকে দেখতেও অনেকটা একই রকম হওয়ায় আমি ভুল করেচিলাম'।
'কিন্তু ও যে শোধ নিতেই আমার মেয়েকে ঠেলে ফেলে দেয়নি তার প্রমান কি?' অনন্যার মা বলেন। কিন্তু এবার অনন্যা ঘুরে দাঁড়ায়। সে বলে 'আমি অনেক প্রমান তমায় পরে দেব মা। আগে ওনার কথা শুনতে দাও'। তার গলায় স্পষ্ট ঝাঁঝ।
এর মধ্যে ক্যামেরাম্যান তার ক্যামেরা আর স্ট্যান্ড নিয়ে উঠে বলল –'আমি তাহলে চললাম। বর বোধ হয় রেডি'। কিন্তু তার বেরোতে যাওয়ার মুখে অংশু তাকে আটকাল।
-'এক মিনিট ... আপনার নামটা যেন কি?'
-'শুভাশিষ জানা'।
-'সিওর তো!'
-'কি অদ্ভুত প্রশ্ন?'
-'বেশ। আপনি ছবি তোলার সময় কোনো সহকারি সাথে রাখেন?'
-'রাখি। কেন?'
-'তিনি ছবি তোলেন?'
-'না।
-'লাইট ধরে'।
-'কিন্তু পোরশু দিন তিনি ছবি তুলেছিলেন। আর তার তোলা সে ছবিতে আপনাকে দেখা গেছে'
-'তো?'
-'আরে তো মানে? সেখান থেকেই ত আপনার উপর সন্দেহ মশাই। ছবিতে দেখা গেছে আপনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছেন। অল্প একটূ দেখা গেছে। কিন্তু আপনি যখন ছবি গুলো কোয়ারটারে দিতে এসেছিলেন, তখন যে আপনাকে দেখে ফেলেছিলাম!'
-'কি যা তা বলছেন?'
-'আপনি এই মাত্র বলেছেন আপনার নাম বলছেন। যদিও সে নাম অস্বিকার করার ক্ষমতা আপনার নেই। যেমনটা ক্ষমতা নেই এটা অস্বিকার করার যে, আপনার কোলকাতার শোভাবাজারে বাড়ি আছে!'
-'আমি ওই মেয়েটাকে খুন করেছি? কিন্তু কেন? আমি কি পাগোল? এমনি এমনি একটা মেয়েকে মেরে ফেলব?'
-এমনি এমনি তো নয়। আপনি গতবছর ১৩ই মে সঞ্জয় মিত্রর নিলামঘর থেকে 'বাকধারা পিকচারসের' যে ছবির রিল কিনেছিলেন অন্যান্য নথির সঙ্গে, সেই জিনিস তার একসপ্তাহ আগে বুক করে গিয়েছিলেন পারোমিতা। এবার আপনি সেই জিনিস বেশি দাম দিয়ে কিনে নিলে পারোমিতা আপনার কাছে যায় সেই রিলের ছবি আপনি যেন ওনাকে অন্তত পক্ষে দেখতে দেন কারন উনি এই বিষয়এ রিসার্চ করছেন। কিন্তু আপনি তাকে সেই জিনিস দেননি। অপেক্ষা করছিলেন অন্য কোন বড় পার্টির জন্য। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে পারমিতা আপনাকে ফোন করে জানান যে উনি আপনার দু একটা খুচরো বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত, তাই আপনার এতেই মঙ্গল- যদি রিল আপনি ওনাকে দিয়ে দেন'। শুভাশিষ কিছু একটা মৃদু প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল, অংশু বলল –'অস্বিকারের উপায় নেই। পারোমিতা মরেছে, ওর ফোন নয়। তারপর শুনুন। আপনি দেখলেন বাঁচার একটা পথ আছে, যদি আপনিও পারোমিতার কোনো উইক পয়েন্ট খুঁজে বার করতে পারেন! হঠাতই আপনার মেদিনীপুরের এজেন্সি থেকে অর্ডার এল। আপনিও নিজে ছবির কাজে এলেন, কোলকাতা থেকে পালিয়েই একরকম। ব্ল্যাকমেল কি জিনিস তাই না! যাই হোক, আপনি এখানে এসে দেখতে পেলেন পারোমিতাকে। তারপর দেখলেন এই বাড়ির পিছন দিকটা। ভেবেছিলেন ওখানে কায়দা করে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবেন। প্ল্যান মত গেলেনও। কিন্তু আপনি সময়ের আগে পৌঁছে গিয়েছিলেন বা পারোমিতা আপনার টোপ গিলে সেখানে যায়নি। অথচ আপনি নিরাস হয়ে ফিরে আসার আগেই উপর থেকে কি যেন একটা পরল। আপনি হাতে চাঁদ পেলেন। আপনার শিকার এরই মধ্যে অর্ধেক ক্ষত। ব্যাস! আপনিও দিলেন পাথর চাপা!' সবাই চুপ। অংশুই আবার বলল –'আপনি ঘটনাটা বিকৃত করতে চেয়েছিলেন ঠিকই... তবু সব কেমন ঘেঁটে গেল তাই না শুভাশিষবাবু!'

পরদিন সকালে আগে অংশু আর মিতা ফিরে আসে মিতার গাড়ি করে। মিতা অবশ্য একচোট ঝাল নিয়েছে অংশুর উপর, তাকে ছবির ব্যাপারটা ডিটেলে না বলার জন্য।


 ===================


অয়ন সাঁতরা
ফোন- ৯৮৩৬৬১৪০৮৪
ঠিকানা- ১৭সি, এ সি পাল স্ট্রিট। কোল-৫৭







বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

ছোটগল্প ।। গিরগিটি ।। উত্তম চক্রবর্তী

গিরগিটি উত্তম চক্রবর্তী লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল আমার । কোথায় দেখেছি কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই সে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যায় বড় রাস্তার দিকে । আমি গলির ভিতরে যেতে যেতে চিন্তা করছিলাম কে এই লোকটা , ওকে আগে আমি কোথায় যেন দেখেছি । সন্তু ওর বাড়ির দরজাতেই দাঁড়িয়েছিল । আমি এখন ওর বাড়িতেই যাচ্ছি নোট আনতে । সন্তুকে দেখে আমি ওকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,    'হ্যাঁরে সন্তু , এইমাত্র যে লোকটা এই গলি দিয়ে বের হল , ওই যে ওই যে পিছনটা দেখা যাচ্ছে রে , ওই লোকটা কে রে , চিনিস ? কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি মনে হচ্ছে , কিন্তু মনে পড়ছে না । ' সন্তু ঘাড় উঁচু করে দেখে বলল , 'আরে ও তো আমার ছোটো মামা জগাই মণ্ডল। কাল রাতে এসেছে । তোদের কৃষ্ণ নগরের লোক । ওখানেই থাকে । নীল দলের খুব বড় একজন লিডার মানুষ । তুই হয়ত মামাকে কোন মিটিং মিছিলে দেখে থাকবি । '  আমি চুপ করে ভাবতে থাকলাম, হবে হয়ত । আমার বাড়ি কৃষ্ণ নগরে দর্জি পাড়া অঞ্চলে। কিন্তু আমি কলকাতায় মেস বাড়িতে থেকে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস সি করছি। মাসে একবার কৃষ্ণ নগরে বাড়িতে যাই। হয়ত ওনাকে দেখেছি কোথাও। সন্তুর ব...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...