Skip to main content

গল্প -- রণেশ রায়






শেষ চিঠি



বছর কুড়ি বয়েস। বাবা মায়ের দুই মেয়ের বড় মেয়ে। কলেজে পড়ে। ভালো ছাত্রী। সপ্রতিভ মেয়ে।  কলকাতার উপকন্ঠে বাড়ি। মেয়েটির নাম সুহাসিনী। বাবা আদর করে নাম দিয়েছিলেন। ওর আলাদা করে কোন ডাক নাম নেই। এত বড় নামে ডাকতে অসুবিধে হওয়ায় সবাই সুনি বলে ডাকে। যেন কাঠবেড়ালির লেজটা খসে পড়েছে। ঠিক যেমন নাম থেকে হাসিটা উবে গেছে। কিন্তু সেটা মুখে যোগ হয়েছে। মুখের মিষ্টি হাসিটা ওর সব সময়ের সঙ্গী। মেয়েটি ছিপ ছিপে গড়নের। মেপে মেপে সুন্দরী না হলেও দেখতে মিষ্টি। চোখটা যেন সবসময় অশ্রুসিক্ত। বর্ষার মেঘের ছায়াটা মুখে আঁকা। একটু হলেই চোখে বর্ষা নামবে। কিন্তু নামবে নামবে বললেও নামে না। কেউ একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে।

সুহাসিনী অর্থনীতি নিয়ে পড়ে। কলেজে বন্ধুর অভাব নেই। তার কলেজটা বাড়ি থেকে চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে। বাসে যাতায়াত করতে হয়। অঞ্চলে একটা মেয়েদের স্কুলে পড়ত। বাড়ির অন্তরমহলটাই তার জগৎ। বাবা মায়ের হাত ধরে কখনো বাইরেটা দেখেছে মাত্র। এখন তার সুযোগ হয়েছে নিজের পথ নিজে চিনে নেওয়ার। কলেজে ঢুকে তার পরিচয়ের দরজাটা যেন অবাধ হয়েছে। সেখানে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবার সঙ্গে অবাধ মেলামেশা। ও ক্লাসে খুব মনোযোগী। বন্ধুরা ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মারলেও ও সেটা করে না। তবে আড্ডায় তার যে উৎসাহ নেই তা নয়। ক্লাস করে যতটুকু সময় পাওয়া যায় আড্ডা দেয়। বন্ধুদের কাছেও ও সুনি। তবে বন্ধুদের মধ্যে থাকলে নামের 'হাসি'টা মুখে জুড়ে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে । ও সেখানে সুহাসিনী, ডাকে সুনি হলেও। 

প্রায়-কলকাতার মত একটা শহর অঞ্চল থেকে কলেজে এসে সে সমবয়সী শহুরে ছেলেদের সঙ্গে যেমন অবাধ মেলামেশার সুযোগ পেয়েছে তেমনি গ্রাম থেকে আসা ছেলে মেয়েদের বন্ধুত্ব তাকে আমাদের বৃহত্তর সমাজটাকে চেনার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই দিক থেকে শহরের উপকণ্ঠে কলেজগুলো যেন গ্রামীন বাংলা আর শহুরে বাংলার এক মিলন তীর্থ। গ্রামের সকালের মিষ্টি রোদ্দুরের সঙ্গে শহরের দুপুরের যৌবনের দহনের এ যেন সঙ্গম। শহরের অনাবৃষ্টিতে যে তৃষ্ণা কেঁদে মরে তা গ্রামের বারিবর্ষণে মেটে। শহরের সাজানো বাগানে ফুলের সঙ্গে গ্রামের বৃক্ষের পাতাবাহার। এখানে শহুরে সংকীর্ণতা ও অহংটা যেন ভেঙে যায়। আবার গ্রামের সংস্কার এখানে হোঁচট খায়। সুহাসিনীরা বুঝতে পারে জীবনের পরিধির ব্যাপ্তিটা তারা এতদিন যা জেনে এসেছে তার থেকে অনেক বেশি, দৈর্ঘ্যে আর প্রস্থে। যেন রবীন্দ্রনাথের সাধারণ মেয়ে, 'সজল মেঘ আর উজ্জ্বল রোদ' মিলেছে এ কলেজ প্রাঙ্গণে।

তপন কিশোর অরিন্দম ইন্দ্রানী দেবযানী সুতপা সবাই কলেজে ওর বন্ধু। এক এক জনের এক একটা বিষয়। পড়াশুনা আড্ডা নিয়ে কলেজে বেশ চলে। নিজের বিষয় ছাড়াও বন্ধুদের মাধ্যমে রাজনীতি দর্শন সমাজতত্ত্ব সাহিত্য এমন কি রসায়ন নিয়েও ওদের আড্ডা হয়। রাজনীতি নিয়ে বাক বিতণ্ডা লেগেই থাকে। বন্ধুদের মধ্যে তপন সুহাসিনীকে যেন বেশি আকর্ষণ করে। খুব যে ব্যতিক্রমী ছেলে তা নয়। তপনের সাহিত্যে উৎসাহ বেশি। ইংরেজির ছাত্র। বাংলায় কবিতা গল্প লেখে। সাহিত্যের ছাত্রী না হলেও সুহাসিনী কবিতা ভালোবাসে। তপন ওকে একজন ভালো পাঠিকা পেয়েছে। আর পাঠক পাঠিকারাই লেখকদের সবচেয়ে আপনজন। পাঠক ছাড়া লেখকের জীবন বর্ষণবিহীন বর্ষাকাল। কল্পনায় জমে ওঠা বর্ষণসিক্ত মেঘ বর্ষায় না। চাতকের তৃষ্ণা মেটে না। পাঠিকা সাহিত্যিকের স্বভাব প্রেমিকা। প্রেম নিবেদন করতে হয় না। লুকিয়ে দেখা করার দরকার হয় না। পাঠিকাকে তার লেখা পড়াতে পারলেই প্রেম নিবেদন করা হয় নিজেদের অজান্তেই। পাঠিকাও সেটা সাদরে গ্রহণ করে। 

কলেজ ফেরত ওরা দুজনে প্রায়ই একই বাসে। কলেজের সামনে থেকে ওঠে। সুহাসিনী কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে যায়। তপনকে আরও প্রায় দের ঘন্টা যেতে হয়। তপনের বাড়ি শহর ছাড়িয়ে চব্বিশ পরগনার এক গ্রামে। চাষ-ই ওদের পরিবারের  জীবিকা। আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না হলেও স্বচ্ছল। তপন গ্রামে ভালো ছাত্র বলে পরিচিত। সাহিত্যে অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ইংরেজি নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বলা কওয়ায় ইংরেজিতে খুবই কাঁচা।আজকের শহুরে কথায় কথায় ইংরেজি বলিয়েদের পাতে পড়ে না। কিছুটা ব্রাত্যই বটে। তবে গ্রামের স্কুল হলেও ইংরেজি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইংরেজি ব্যাকরণটা ভালো শিখেছে। সুহাসিনীও লক্ষ্য করেছে অভিধান ওর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। অবসর সময়ে ওকে অভিধান খুলে বসে থাকতে দেখা যায়। তাই বোধহয় যখন ইংরেজি লেখে তখন তা যেমন ব্যাকরণ ভিত্তিক হয় তেমনি লেখায় শব্দের বৈচিত্র পাওয়া যায়। ওর এই ইংরেজি জানাটা আলাপ চারিতায় একেবারেই ধরা পড়ে না। সেখানে সে গ্রাম্য বাঙালি। চলা ফেরায় তেমন সপ্রতিভ নয়। আজকের কর্পোরেট দুনিয়ার চাহিদার সঙ্গে মানানসই নয়। সেদিক থেকে কর্পোরেট ক্যারিয়ার জগৎ তার কাছে অন্ধকার। কিন্তু তার প্রিয় পাঠিকা সেদিক থেকে বেশি সরোগর। সুহাসিনী ও তপন যেন বিপরীত অক্ষে অবস্থান করে। ভবিষ্যতে কর্পোরেট দুনিয়ার হাতছানি সুহাসিনীকে ডাকে। কিন্তু তপন ডাক পায় না। দুজনের মধ্যে এই পার্থক্য সত্ত্বেও তাদের সম্পর্কের অতলে যেন কোন এক অচেনা নদীর ফল্গুধারা। 

ওদের সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকতার লাগাম পরানো হয় নি। কেউ কাউকে প্রেম নিবেদন করে নি। তবে পস্পরের আকর্ষণটা বাড়তে থাকে। তপন প্রায়ই ওর গল্প বা কবিতা নিয়ে সুহাসিনীর সঙ্গে বসে। বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। কবিতা পাঠ করে। সুহাসিনীও আজকাল একটা আধটা কবিতা লেখে। তবে ওর পড়াশুনা থাকে যার জন্য অনেক সময় দেয়। ভালো ফল করে একটা ভালো চাকরির তাগিদ ওর জীবনে খুব বেশি। কিন্ত তপন পড়াশুনায় অনাগ্রহী না হলেও ক্যারিয়ার করার প্রশ্নে উদাসীন। ও ভালো তেমন চাকরির কথা ভাবে না। সাহিত্য চর্চায় বেশি সময় দেয়। দুজনেই দুজনের কথা ভাবে। তপনের পাঠক পাঠিকা আছে। তারাই তার প্রেম। কিন্তু সুহাসিনীর পার্থিব চাহিদাটা বেশি। সে ক্যারিয়ারই হোক আর ভবিষ্যৎ সংসার জীবনই হোক। কার সঙ্গে সংসার জীবনে জোট বাঁধা যায় সেটা সে ভাবে। পার্থিব প্রয়োজনে জোট বাঁধা আর ভালোবাসার মধ্যে যে পার্থক্য আছে সেটা তাকে ভাবায়। ভাবে বলেই তপনের সঙ্গে একটা নৈস্বর্গিক প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তার ভিত্তিতে সংসার গড়ার ভাবনা কতটা বিশুদ্ধ প্রেমের মর্যাদা পাবে সেটা নিয়ে তার সংশয় হয়। পার্থিব প্রেম সেই বিশুদ্ধ প্রেমের মর্যাদা হানি করবে বলে মনে হয়। শেষের কবিতার বন্যা আর অমিত। মনে করে পার্থিব প্রেম বাড়ির পুকুরে সাঁতার কাটার মত। ঘরার জল যা নিত্য ব্যবহারের জন্য পুকুর থেকে তোলা হয়। কিন্তু তাতে সমুদ্রে সাঁতারের আনন্দ নেই, বিহঙ্গ আকাশে ডানা মেলে না। অপার্থিব নিষ্কাম প্রেমেই তো সেটা সম্ভব। আমাদের সমাজে সংসার ও সকাম পার্থিব প্রেম সম্পর্কে তার ধারণাটা একদিন সুহাসিনী কবিতায় রূপ দেয়। তপনের সঙ্গে দেখা হয় কলেজ প্রাঙ্গনে। সেখানে সব বন্ধুদের সামনে সে কবিতাটা পাঠ করে। কবিতাটা সবার ভালো লাগে। ওটাই সুহাসিনীর লেখা প্রথম কবিতা যেটা ও তপনকে উৎসর্গ করে ।

সুহাসিনী জানে সংসারটা জরুরি। মানিয়ে চলা। পার্থিব সুখ দুঃখ দৈনিক মিলন বিরহ এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সবার সঙ্গে কি সে সংসার পাতা যায়? বোধ হয় না। সে অনেকবার প্রস্তাব দেবে বলেও পিছিয়ে আসে। তপন এ নিয়ে ভাবে না। সাহিত্য সেবা নিয়েই তার কারবার। প্রয়োজনের তাগিদে যদি সংসার পাততে হয় তো  পাতবে। এর জন্য প্রেম নিবেদন করতে হবে কেন? প্রেম তো নিজে থেকেই আসে। কাশর ঘণ্টা বাজিয়ে হই হই করে তাকে নিয়ে আসতে হবে কেন? সংশয়ের আঁধারে ওদের প্রেমের ইতিকথা হৃদয়ের গভীরে লুকায়। হৃদয় বাতায়ন ধরে সে উঁকি মারে।

কলেজের পালা শেষ হয়েছে। সুহাসিনী খুব ভালো ফল করেছে। তপন খারাপ করে নি। দুজনে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিদ্যাদেবী দুজনকে বিদ্যাসাধনার প্রাঙ্গণে বন্দি করে রাখে। ইতিমধ্যে ওদের সম্পর্কটা বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকতা লাভ  করেছে । বছর খানেক আগে কলেজে পড়াকালীন একদিন বাসে বাড়ি ফেরার সময় সুহাসিনী পড়ে গিয়ে আহত হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তপন ওকে ওর বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে বাড়ির সবার সঙ্গে তপনের পরিচয়। ওর আচার আচরণ সরলতা সবাইকে মুগ্ধ করে। বাড়ির দরজা ওর কাছে উন্মুক্ত হয়। সেই থেকে তপনের সুহাসিনীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত। আনুষ্ঠানিক সম্পর্কটা গড়ে ওঠার শর্ত তৈরি হয়। মুক্ত পৃথিবীর উন্মুক্ত অপার্থিব প্রেম পার্থিব সম্পর্কে যেন বাঁধা পড়তে থাকে। সুহাসিনীর সংশয় থাকলেও সে  সেটা অস্বীকার করতে পারে না। নিষ্কাম প্রেম কামনার খাঁচায় বন্দী হোয়ে পড়ে যেন। ভিন্ন বিষয় হলেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুজনের রোজই দেখা হয়। প্রেম নির্জনতা খোঁজে। নিষ্কাম কামনার অঙ্গে বাসা বাঁধে। কাম আর নিষ্কাম দ্বন্দ্ব সমাধান খোঁজে পার্থিব চাহিদায়। ওদের সম্পর্কটা ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে দু বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সুহাসিনীর বাবা মা জানে এ ব্যাপারে আপত্তি করে লাভ নেই। সুনি একরোখা মেয়ে। ছেলের বাড়িতে এ নিয়ে সাধারণত বেশি প্রশ্ন ওঠে না বিশেষ করে মেয়েটি যেখানে দেখাশোনার পরীক্ষায় সহজেই পাশ করার উপযুক্ত।

দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালোভাবে পাশ করে। সুহাসিনী প্রত্যাশামত একটা কোম্পানিতে গবেষণা বিভাগে চাকরি পেয়ে বেঙ্গালুরে চলে যায়। তপন তার দেশের বাড়ির কাছে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। সে সাহিত্য সেবায় মনোনিবেশ করার সুযোগ পায়। দুজনেই জীবিকা হিসেবে তাদের পছন্দের জায়গায় স্থান পায়। দুজনের মধ্যে চিঠি পত্রে বা দুরাভাসে যোগাযোগ থাকে। সমস্যা দেখা দেয় তারা কোথায় কিভাবে ব্যাক্তিজীবনে জোট বাঁধবে তা নিয়ে। ব্যাপারটা সমাধান হয় না। দুজনকে একজায়গায় থিতু হতে গেলে একজায়গায় কাজ নিতে হয়। কর্মজীবন নিয়ে দুজনের ভাবনা দুরকম। তপন চায় গ্রামে মাস্টারি করে কর্মজীবনে কিছুটা সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে, একই সঙ্গে সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যেতে। সুহাসিনী চায় কর্পোরেট জীবনে প্রতিষ্ঠা যেটার সুযোগ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বেশি। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সংসারের দাবি মেটান মুশকিল। তাও দুজনে অপেক্ষা করে। বিষয়টা নিয়ে কেউ কাউকে দোষারোপ করে না। তপন যেমন চায় না সুহাসিনী নিজের সত্তা ছেড়ে নেহাৎ এক গৃহবধূ হয়ে থাকবে। আবার সুহাসিনীও চায় না তপনের  সাহিত্য সেবায় বেঘাত ঘটুক। বাস্তবের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সংঘাত কিভাবে মিটবে কেউ জানে না। অথচ দুজনেই দুজনকে পেতে চায়। নিষ্কাম প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হয়। কিন্তু কামনার টান কতদিন অস্বীকার করা যায়? কেউ জানে না। এছাড়া আছে পরিবারের বন্ধন। 

বেঙ্গালুরে গবেষণার কাজে সুহাসিনী বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে। আর গবেষণার কাজ একটা যৌথ দায়িত্ব। এই কাজে অন্যদের সহযোগিতা বিশেষ দরকার। ওর সঙ্গে জনা দশেকের একটা টিম। প্রাতিষ্ঠানিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা নিজেদের অজান্তেই প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে কখন ব্যক্তিগত প্রাঙ্গনে ঢুকে পড়ে সেটা সবসময় ঠাহর করা যায় না। ওর সঙ্গে কর্মরত সবাই খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। মেয়ে পুরুষ সবাই। ও ওখানে দুজন মেয়ের সঙ্গে একটা ফ্ল্যাটে থাকে। নিজেরা পালা করে নিজেদের কাজ করে। অন্যান্যরা আসে। অফিসের কথাবার্তা ছাড়াও ব্যক্তিগত আলাপ আড্ডা চলে।

স্কুলে শিক্ষকতার সূত্রে তপনের পরিচিতির বিস্তার ঘটেছে গ্রাম থেকে গ্রামে । লেখক হিসেবেও ওর নামডাক। কবিতা প্রেমিক প্রেমিকারা তাকে জড়িয়ে থাকে। বাড়িতে পাঠক পাঠিকাদের অবাধ যাতায়াত। নিজের বাড়ির একটা ঘরে কবিতা আবৃত্তির মহড়া চলে। বাচ্চাবুড়োদের নিয়ে বাচিক স্কুল। হেসে খেলে দিন যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠাবার দাবি আসে।শহর থেকে প্রায়ই নেমন্তন্ন।এরই মধ্যে সংসারের কিছু দায়িত্ব। বিশেষ করে মায়ের প্রতি।ভাইরা থাকলেও বড় ছেলে হিসেবে তার দায়িত্ব বেশি। মায়ের কঠিন অসুখ। তাঁকে নিয়ে প্রায়ই কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়। ছোট বোন সংসারের দায়িত্ব নিলেও তার ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হয়। বাবা মা দুজনেই ওর বিয়ের কথা বলে। ও প্রয়োজনটা বোঝে। ওর সুহাসিনীকে মনে পড়ে, মনে পড়ে ওর সেই কবিতাটা। সংসার কেন দরকার। সেটা কি দিতে পারে আর কি পারে না। দরাজ থেকে কবিতাটা বার করে ও পড়ে:

সংসার সাগরজলে  
আমি  খাবি খাই
জীবনের বাগানে ফল ফলে 
খাই দাই  ভালো আছি ভাই।
আমি ভাবি রোজই,
 বসে বসে ভাবি আর ভাবি ,
অজানা এক ভয়
আর এক সঙ্গে চলবে না 
টেকানো  গেল না
সম্পর্কটা বোধ হয়!

 থাক সে সংসার, 
সে  বেঁচে থাক 
আমাদের কামনায়
সকালের ভৈরোঁয়  
রাতের জ্যোৎসায়
গড্ডালিকা প্রবাহে  
কালের অবগাহনে
ঝর্ণার কল কল রবে  
সুন্দরবনে বাঘের  গর্জনে  
দিনান্তে  মালিন্যের   আশ্রয়ে 
সময়ের ডানা মেলে 
বিবাদ বিষাদ রাগ অনুরাগের  প্রাঙ্গনে।


বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। আগের মত সুহাসিনীর ঘন ঘন চিঠি তপন পায় না। এখন চিঠি লেখার প্রয়োজনটা ফুরিয়েছে সুহাসিনীর। মেসেজ বা আপে যোগাযোগটা হয়। মস্তিষ্কের কল্পনার জগৎটা বাঁধা পড়েছে হাতের  মুঠোয়। তাতে তপনের মন ভরে না। সুহাসিনীর চলে যায়।ও নিজেও সুহাসিনীকে লেখা কমিয়ে দিয়েছে। সুহাসিনীর প্রেমটাও যেন সংসারের দরজায় করা নাড়ে।সংসারের মুঠোয় বন্দী হতে চায়।

তপন মেসেজে বার্তা পায়। সুহাসিনী তাকে জরুরি তলব করে। সে যেন বেঙ্গালোরে যায়। বিশেষ দরকার।সঙ্গে উড়ানের টিকিট। তপন বার্তা পেয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ভেবে পায় না কি এমন দরকার। সুহাসিনীর ডাককে সে কোনোদিন অস্বীকার করতে পারে না। স্কুল ছুটি নিয়ে রওনা দেয়। নির্ধারিত সময়ে উড়ান ধরে। উড়ানে বসে তার চিন্তার জগত তোলপাড়। কিছুদিন আগে সুহাসিনী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আবার কি তবে সে অসুস্থ! আবার সে ভাবে হয়তো তাদের সম্পর্কটাকে সে ঝালিয়ে নিতে চায়। অনেকদিন দেখা নেই। দেখা করতে চায়। তপন রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে। এবার দেখা হলে সম্পর্কটার একটা চূড়ান্ত রূপ দিতে চায়। সে জানে সুহাসিনী বিয়ে করতে চায়। তবে তপনের পক্ষে বেঙ্গালোরে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া কি সম্ভব! তবে কি করার!  তপন বিভ্রান্ত। তার মাথায় শুধু সুহাসিনী নয়, তার পরিবার বাবা মা বোনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা মাথায় ভিড় করে। সুহাসিনীর মা তো তপনকে খুব স্নেহ করেন। হয়তো মনে মনে তাকে জামাই বলে গ্রহণ করেছেন। সুহাসিনীর ছোট বোন সোহাগ ওর বিশেষ গুণগ্রাহী । ওর সঙ্গে ঠাট্টা ইয়ার্কি। কবি বাবু বলে ওকে ডাকে। দিদিকে নিয়ে মস্করা। একদিন ঠাট্টা করে সোহাগ তপনকে বলে দিদি তো মনে হচ্ছে ফিরবে না। তখন কি করবেন? তপন গম্ভীর হয়ে ওঠে। কবিগুরুর উদাসীন গম্ভীর মুখ দেখে সোহাগ লজ্জা পায়। এমনি টুকরো টুকরো কথার ঘাত প্রতিঘাতে ওদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তপন জানে সোহাগের এক সহপাঠীর সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। যে কোন কারনেই হোক সোহাগের সে সম্পর্ক এখন নেই। বিষয়টা নিয়ে তপন ওর প্রতি সহানুভূতিশীল। মেয়েটি পড়াশুনায় তেমন আগ্রহী না হলেও গুণী। সংসারের কাজে পটু। ভালো রান্না করে। তপন ওদের বাড়ি গেলে ওর হাতের চা না খেয়ে ফেরে না। মেয়েটি  ভালো কবিতা আবৃত্তি করে। 

ঘণ্টা আড়াইয়ের মধ্যে উড়ান বেঙ্গালুরু বিমান বন্দরে নামে। সেখান থেকে একটা ভাড়া গাড়ি নিয়ে ঠিকানা ধরে তপন পৌঁছে যায় সুহাসিনীর আস্তানায়। সুহাসিনী তপনের অপেক্ষায়। তখন বিকেল প্রায় পাঁচটা।কলকাতার গ্রীষ্ম থেকে সে আসে বেঙ্গালুরুর বসন্তে।অপেক্ষারত সুহাসিনীর চোখে সেই বসন্তের স্পর্শ। তপন ওকে দেখে আপ্লুত হয়। তারা যেন ফিরে যায় ফাগুনের সন্ধ্যায় কলকাতার গঙ্গার ধারে। তপনের স্মৃতিতে সেই সন্ধ্যাগুলো ফিরে আসে। আজ অনেকদিন পর সুহাসিনীকে সে একান্তে পায়। সুহাসিনী তপনকে নিয়ে ঘরে বসে। দুজনের মধ্যে আলাপচারিতা শুরু হয়। সুহাসিনী জানতে চায় 
------ তোমার মা কেমন আছেন? 
তপন বলে :
------ ভালো না। এখন কাজকর্ম করতে পারে না। বোনের ওপর সংসারের চাপ। 
সুহাসিনীর যেন কৌতুক মিশ্রিত উত্তর:
------ এখন তো  কাউকে বাড়িতে দরকার। আর বোনের তো ভবিষ্যত আছে।
তপন সুযোগ পায় কথাটা তুলতে। সে বলে:
------ এখন তো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাড়িতে সে ব্যাপারে সবাই অপেক্ষা করছে।
------ হ্যাঁ ঠিকই তো। এই কথা বলে সুহাসিনী অন্য প্রসঙ্গে আসে। বলে:
------ সোহাগ বললো তুমি ও বাড়িতে গিয়েছিলে। ওকে কেমন দেখলে?
তপন বলে:
------ ভালো। এখন অনেক স্বাভাবিক। মনে হয় আঘাতটা সহ্য করে নিয়েছে। আমি ফিরলে আমাকে একদিন মাংস রান্না করে খাওয়াবে বলেছে।
সুহাসিনীর উত্তর :
------ ওর হাতে খেয়ে তৃপ্তি পাবে। আমি ও কাজে লবডঙ্কা।

কথা বলতে বলতে কলিংবেল। কে আবার! কাবাব মে হাড্ডি। তপন ভাবে। সুহাসিনী দরজা খোলে। তপন আড় চোখে দেখে একজন সুদর্শন ভদ্রলোকের প্রবেশ। তপনের মনে হয় ভদ্রলোকের আসার কথা সুহাসিনী জানত।সুহাসিনী তপনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। উনার নাম রামস্বামী যার কথা তপন আগেই শুনেছে। উনিই অসুস্থ সুহাসিনীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিন জন গল্প করতে বসে।ওদের দুজনের মধ্যে তৃতীয়ের এই উপস্থিতি তপনকে অস্বস্তিতে ফেলে। ভদ্রলোক অবাঙালি।তাই ইংরেজিতে আলাপচারিতা যা তপনের পক্ষে বিড়ম্বনা। তপন কোনমতে চালিয়ে যায়। কথা বলতে বলতে রাত হয়। ইতিমধ্যে ফরমাস অনুযায়ী দোকান থেকে খাবার আসে। খাবার শেষ হলে সুহাসিনী বলে:
------- তপন তুমি উনার সঙ্গে যাও।ওখানে তোমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। উনি তোমার জন্য হোটেলে ব্যবস্থা করতে দিলেন না।

পরের দিন । সুহাসিনী রামস্বামীর বাড়িতে হাজির। ইতিমধ্যে তপনের উনার সঙ্গে পরিচয় ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। রামস্বামীর আতিথেয়তায় তপন মুগ্ধ হয়। রামস্বামী অবিবাহিত। একাই থাকে। সকালে উঠে চা ব্রেকফাস্ট নিজের হাতে করে খাওয়ান। বাড়ি চেন্নাই। রামস্বামী পাশের ঘরে যান। তপনের সঙ্গে সুহাসিনী একা। কালকের কথার রেশ টেনে তপন বলে:
----এবার আমাদের ব্যাপারটা ঠিক করে ফেলা যাক। সুহাসিনী বলে 
----আমার বাড়িতে চলো সব কথা হবে। 

এরপর দুজনের আলাপচারিতা। রামস্বামী এসে যোগ দেয়। দুপুরে এখানেই খাওয়া দাওয়া সেরে সুহাসিনী তপনকে নিয়ে ওর ডেরায় যায়। বাড়িতে এসে দুজনে আবার নিভৃতে আলাপ। তপন বিয়ের কথা তোলে। সুহাসিনীও তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। তপনকে প্রস্তাব দেয় এখানে একটা স্কুলে চাকরি নিতে। ইংরেজি ওর বিষয় বলে সেটা পেতে অসুবিধে হবে না জানায়। যদি তপন রাজি হয় তবে সে তাকে একটা স্কুলে কালকেই নিয়ে যেতে পারে। এই ইন্টারভিউএর ব্যবস্থা করেই সুহাসিনী তাকে আসতে বলে।তপন জানায় সেটা তার পক্ষে সম্ভব নয় । দুজনের মধ্যে এ নিয়ে মনোমালিন্য হয়। তবে তা বেশিদূর এগোয় না। সুহাসিনীর সংশয় ছিল তপন তার জায়গা ছেড়ে আসবে কি না। আর তপন জানে সুহাসিনী আত্মমর্যাদা আত্মসত্তা ছেড়ে সংসার করবে না। সেটা তার কাছে দাসত্ব। তাও ও বিশ্বাস করে সুহাসিনী কখনো পশ্চিম বঙ্গে কোথাও চাকরি নিয়ে চলে আসবে। সে আর জোরাজুরি করে না। বাড়ি ফিরে আসে ।

একদিন দুজনের মধ্যে মোবাইলে কথা হয়। কে কেমন আছে জানার পর উভয়ের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়। সুহাসিনী জানায় যে সে তপনকে একটা চিঠি দিয়েছে। তপন জানায় সে  সেটা পেয়েছে। চিঠিতে কি লিখেছে? সেটা আমাদের সকলেরই কৌতূহলের। 

সুহাসিনী রামস্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে  নিজের বিয়ের একটা কার্ড পাঠিয়েছে। বিয়েতে ঘটক রামস্বামী। তার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার থেকে একটা কবিতার অংশ:

মোর লাগি করিও না শোক,
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই---
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে।

শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।

এর সঙ্গে তার অনুরোধ তপন যেন বিয়ে করে। সংসারের প্রয়োজনটা তারও আছে। তপনকে সে ভালোবাসে তাই তার দায় আছে এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করা। সে উপযুক্ত পাত্রী হিসেবে তার বোন সোহাগকে  চিঠিতে উপস্থিত করে। তপন একটু বোকা বনে যায়। একটা সন্দেহ উঁকি মেরেছিল। প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু এ কি, সোহাগিনীর তরফ থেকেই! ভেবে পায় না। সোহাগিনীর ওপর শ্রদ্ধা বেড়ে যায়।

একটু ধাতস্থ হয়ে কদিন পরে তপনও চিঠিতে তার বাস্তব অবস্থাটা জানায়। সে প্রস্তাবটা মেনে নেয় তবে সোহাগের স্বেচ্ছামত সাপেক্ষে। সে মতটা পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে তার সংশয় আছে যেখানে তাদের সম্পর্কটা ও জানে। ব্যাপারটা সুহাসিনীর ওপর ছেড়ে দেয়। সে চিঠিতে তার অনুমতি জানায়। যেন এরকম একটা কিছুর জন্য সে প্রস্তুত ছিল। ভাবনার জগৎটা তার ছিন্ন ভিন্ন। সে ভেবে চলে :

ভালোই করেছ। কোন নিশ্চয়তার শর্তে ঘর বাঁধা! শত সহস্র ফুটো সে ঘরের ছাদে। গ্রীষ্মের দহন শীতের কাঁপন বর্ষায় প্লাবন সে ঘরে। বসন্তে ফুল ফোটে না এ বাগানে। প্রেমের কলি মুর্চ্ছা যায় সে বাসরে। ভালোই করেছ তুমি  বালির বাধ না বেঁধে, অনিশ্চয়তার জোয়ারে না ভেসে। আর জেনো প্রেম বাঁধে না নিজেকে, ধরা দেয় না সংসারের পাঁকে। মুক্ত বিহঙ্গ সে, ডানা মেলে ওড়ে আকাশে, নীরব গুঞ্জন তার বাতাসে।

 তপনের ভাবনায় দোলাচল। হঠাৎ একটা দমকা হওয়া। তার ভাবনায় একটা চমক, একটা সংকোচ, যেন একটা উদ্বেগ: সোহাগের থেকে কি ছাড়পত্র পাওয়া যাবে? 

সোহাগের সেদিনের সেই ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতূহলী চোখটা ভেসে ওঠে। সেদিনের সে ঔদাসীন্য তপনের মুখে আর দেখা যায় না । আবার সুহাসিনীর পাঠানো চিঠিটায় যেন লেখা শেষের কবিতায় অমিতের প্রতি বন্যার অভয় বাণী :

তোমার হয় নি কোন ক্ষতি 
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি 
যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি 
হোক তব সন্ধ্যাবেলা,
পূজার সে খেলা 
ব্যাঘাত পাবে না প্রত্যহের  ম্লান স্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগ-বেগে 
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোন নৈবিদ্যের থালে।
তোমার মানস-ভোজে সযত্নে সাজালে 
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষ্ণায়,
তার সাথে দিও না মিশায়ে
যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
আগে তুমি নিজে 
হয়তো - বা করিবে রচন 
মোর স্মৃতি টুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়,
হে বন্ধু, বিদায়।







বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432