Skip to main content

গল্প -- রণেশ রায়






শেষ চিঠি



বছর কুড়ি বয়েস। বাবা মায়ের দুই মেয়ের বড় মেয়ে। কলেজে পড়ে। ভালো ছাত্রী। সপ্রতিভ মেয়ে।  কলকাতার উপকন্ঠে বাড়ি। মেয়েটির নাম সুহাসিনী। বাবা আদর করে নাম দিয়েছিলেন। ওর আলাদা করে কোন ডাক নাম নেই। এত বড় নামে ডাকতে অসুবিধে হওয়ায় সবাই সুনি বলে ডাকে। যেন কাঠবেড়ালির লেজটা খসে পড়েছে। ঠিক যেমন নাম থেকে হাসিটা উবে গেছে। কিন্তু সেটা মুখে যোগ হয়েছে। মুখের মিষ্টি হাসিটা ওর সব সময়ের সঙ্গী। মেয়েটি ছিপ ছিপে গড়নের। মেপে মেপে সুন্দরী না হলেও দেখতে মিষ্টি। চোখটা যেন সবসময় অশ্রুসিক্ত। বর্ষার মেঘের ছায়াটা মুখে আঁকা। একটু হলেই চোখে বর্ষা নামবে। কিন্তু নামবে নামবে বললেও নামে না। কেউ একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে।

সুহাসিনী অর্থনীতি নিয়ে পড়ে। কলেজে বন্ধুর অভাব নেই। তার কলেজটা বাড়ি থেকে চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে। বাসে যাতায়াত করতে হয়। অঞ্চলে একটা মেয়েদের স্কুলে পড়ত। বাড়ির অন্তরমহলটাই তার জগৎ। বাবা মায়ের হাত ধরে কখনো বাইরেটা দেখেছে মাত্র। এখন তার সুযোগ হয়েছে নিজের পথ নিজে চিনে নেওয়ার। কলেজে ঢুকে তার পরিচয়ের দরজাটা যেন অবাধ হয়েছে। সেখানে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবার সঙ্গে অবাধ মেলামেশা। ও ক্লাসে খুব মনোযোগী। বন্ধুরা ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মারলেও ও সেটা করে না। তবে আড্ডায় তার যে উৎসাহ নেই তা নয়। ক্লাস করে যতটুকু সময় পাওয়া যায় আড্ডা দেয়। বন্ধুদের কাছেও ও সুনি। তবে বন্ধুদের মধ্যে থাকলে নামের 'হাসি'টা মুখে জুড়ে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে । ও সেখানে সুহাসিনী, ডাকে সুনি হলেও। 

প্রায়-কলকাতার মত একটা শহর অঞ্চল থেকে কলেজে এসে সে সমবয়সী শহুরে ছেলেদের সঙ্গে যেমন অবাধ মেলামেশার সুযোগ পেয়েছে তেমনি গ্রাম থেকে আসা ছেলে মেয়েদের বন্ধুত্ব তাকে আমাদের বৃহত্তর সমাজটাকে চেনার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই দিক থেকে শহরের উপকণ্ঠে কলেজগুলো যেন গ্রামীন বাংলা আর শহুরে বাংলার এক মিলন তীর্থ। গ্রামের সকালের মিষ্টি রোদ্দুরের সঙ্গে শহরের দুপুরের যৌবনের দহনের এ যেন সঙ্গম। শহরের অনাবৃষ্টিতে যে তৃষ্ণা কেঁদে মরে তা গ্রামের বারিবর্ষণে মেটে। শহরের সাজানো বাগানে ফুলের সঙ্গে গ্রামের বৃক্ষের পাতাবাহার। এখানে শহুরে সংকীর্ণতা ও অহংটা যেন ভেঙে যায়। আবার গ্রামের সংস্কার এখানে হোঁচট খায়। সুহাসিনীরা বুঝতে পারে জীবনের পরিধির ব্যাপ্তিটা তারা এতদিন যা জেনে এসেছে তার থেকে অনেক বেশি, দৈর্ঘ্যে আর প্রস্থে। যেন রবীন্দ্রনাথের সাধারণ মেয়ে, 'সজল মেঘ আর উজ্জ্বল রোদ' মিলেছে এ কলেজ প্রাঙ্গণে।

তপন কিশোর অরিন্দম ইন্দ্রানী দেবযানী সুতপা সবাই কলেজে ওর বন্ধু। এক এক জনের এক একটা বিষয়। পড়াশুনা আড্ডা নিয়ে কলেজে বেশ চলে। নিজের বিষয় ছাড়াও বন্ধুদের মাধ্যমে রাজনীতি দর্শন সমাজতত্ত্ব সাহিত্য এমন কি রসায়ন নিয়েও ওদের আড্ডা হয়। রাজনীতি নিয়ে বাক বিতণ্ডা লেগেই থাকে। বন্ধুদের মধ্যে তপন সুহাসিনীকে যেন বেশি আকর্ষণ করে। খুব যে ব্যতিক্রমী ছেলে তা নয়। তপনের সাহিত্যে উৎসাহ বেশি। ইংরেজির ছাত্র। বাংলায় কবিতা গল্প লেখে। সাহিত্যের ছাত্রী না হলেও সুহাসিনী কবিতা ভালোবাসে। তপন ওকে একজন ভালো পাঠিকা পেয়েছে। আর পাঠক পাঠিকারাই লেখকদের সবচেয়ে আপনজন। পাঠক ছাড়া লেখকের জীবন বর্ষণবিহীন বর্ষাকাল। কল্পনায় জমে ওঠা বর্ষণসিক্ত মেঘ বর্ষায় না। চাতকের তৃষ্ণা মেটে না। পাঠিকা সাহিত্যিকের স্বভাব প্রেমিকা। প্রেম নিবেদন করতে হয় না। লুকিয়ে দেখা করার দরকার হয় না। পাঠিকাকে তার লেখা পড়াতে পারলেই প্রেম নিবেদন করা হয় নিজেদের অজান্তেই। পাঠিকাও সেটা সাদরে গ্রহণ করে। 

কলেজ ফেরত ওরা দুজনে প্রায়ই একই বাসে। কলেজের সামনে থেকে ওঠে। সুহাসিনী কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে যায়। তপনকে আরও প্রায় দের ঘন্টা যেতে হয়। তপনের বাড়ি শহর ছাড়িয়ে চব্বিশ পরগনার এক গ্রামে। চাষ-ই ওদের পরিবারের  জীবিকা। আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না হলেও স্বচ্ছল। তপন গ্রামে ভালো ছাত্র বলে পরিচিত। সাহিত্যে অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ইংরেজি নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বলা কওয়ায় ইংরেজিতে খুবই কাঁচা।আজকের শহুরে কথায় কথায় ইংরেজি বলিয়েদের পাতে পড়ে না। কিছুটা ব্রাত্যই বটে। তবে গ্রামের স্কুল হলেও ইংরেজি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইংরেজি ব্যাকরণটা ভালো শিখেছে। সুহাসিনীও লক্ষ্য করেছে অভিধান ওর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। অবসর সময়ে ওকে অভিধান খুলে বসে থাকতে দেখা যায়। তাই বোধহয় যখন ইংরেজি লেখে তখন তা যেমন ব্যাকরণ ভিত্তিক হয় তেমনি লেখায় শব্দের বৈচিত্র পাওয়া যায়। ওর এই ইংরেজি জানাটা আলাপ চারিতায় একেবারেই ধরা পড়ে না। সেখানে সে গ্রাম্য বাঙালি। চলা ফেরায় তেমন সপ্রতিভ নয়। আজকের কর্পোরেট দুনিয়ার চাহিদার সঙ্গে মানানসই নয়। সেদিক থেকে কর্পোরেট ক্যারিয়ার জগৎ তার কাছে অন্ধকার। কিন্তু তার প্রিয় পাঠিকা সেদিক থেকে বেশি সরোগর। সুহাসিনী ও তপন যেন বিপরীত অক্ষে অবস্থান করে। ভবিষ্যতে কর্পোরেট দুনিয়ার হাতছানি সুহাসিনীকে ডাকে। কিন্তু তপন ডাক পায় না। দুজনের মধ্যে এই পার্থক্য সত্ত্বেও তাদের সম্পর্কের অতলে যেন কোন এক অচেনা নদীর ফল্গুধারা। 

ওদের সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকতার লাগাম পরানো হয় নি। কেউ কাউকে প্রেম নিবেদন করে নি। তবে পস্পরের আকর্ষণটা বাড়তে থাকে। তপন প্রায়ই ওর গল্প বা কবিতা নিয়ে সুহাসিনীর সঙ্গে বসে। বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। কবিতা পাঠ করে। সুহাসিনীও আজকাল একটা আধটা কবিতা লেখে। তবে ওর পড়াশুনা থাকে যার জন্য অনেক সময় দেয়। ভালো ফল করে একটা ভালো চাকরির তাগিদ ওর জীবনে খুব বেশি। কিন্ত তপন পড়াশুনায় অনাগ্রহী না হলেও ক্যারিয়ার করার প্রশ্নে উদাসীন। ও ভালো তেমন চাকরির কথা ভাবে না। সাহিত্য চর্চায় বেশি সময় দেয়। দুজনেই দুজনের কথা ভাবে। তপনের পাঠক পাঠিকা আছে। তারাই তার প্রেম। কিন্তু সুহাসিনীর পার্থিব চাহিদাটা বেশি। সে ক্যারিয়ারই হোক আর ভবিষ্যৎ সংসার জীবনই হোক। কার সঙ্গে সংসার জীবনে জোট বাঁধা যায় সেটা সে ভাবে। পার্থিব প্রয়োজনে জোট বাঁধা আর ভালোবাসার মধ্যে যে পার্থক্য আছে সেটা তাকে ভাবায়। ভাবে বলেই তপনের সঙ্গে একটা নৈস্বর্গিক প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তার ভিত্তিতে সংসার গড়ার ভাবনা কতটা বিশুদ্ধ প্রেমের মর্যাদা পাবে সেটা নিয়ে তার সংশয় হয়। পার্থিব প্রেম সেই বিশুদ্ধ প্রেমের মর্যাদা হানি করবে বলে মনে হয়। শেষের কবিতার বন্যা আর অমিত। মনে করে পার্থিব প্রেম বাড়ির পুকুরে সাঁতার কাটার মত। ঘরার জল যা নিত্য ব্যবহারের জন্য পুকুর থেকে তোলা হয়। কিন্তু তাতে সমুদ্রে সাঁতারের আনন্দ নেই, বিহঙ্গ আকাশে ডানা মেলে না। অপার্থিব নিষ্কাম প্রেমেই তো সেটা সম্ভব। আমাদের সমাজে সংসার ও সকাম পার্থিব প্রেম সম্পর্কে তার ধারণাটা একদিন সুহাসিনী কবিতায় রূপ দেয়। তপনের সঙ্গে দেখা হয় কলেজ প্রাঙ্গনে। সেখানে সব বন্ধুদের সামনে সে কবিতাটা পাঠ করে। কবিতাটা সবার ভালো লাগে। ওটাই সুহাসিনীর লেখা প্রথম কবিতা যেটা ও তপনকে উৎসর্গ করে ।

সুহাসিনী জানে সংসারটা জরুরি। মানিয়ে চলা। পার্থিব সুখ দুঃখ দৈনিক মিলন বিরহ এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সবার সঙ্গে কি সে সংসার পাতা যায়? বোধ হয় না। সে অনেকবার প্রস্তাব দেবে বলেও পিছিয়ে আসে। তপন এ নিয়ে ভাবে না। সাহিত্য সেবা নিয়েই তার কারবার। প্রয়োজনের তাগিদে যদি সংসার পাততে হয় তো  পাতবে। এর জন্য প্রেম নিবেদন করতে হবে কেন? প্রেম তো নিজে থেকেই আসে। কাশর ঘণ্টা বাজিয়ে হই হই করে তাকে নিয়ে আসতে হবে কেন? সংশয়ের আঁধারে ওদের প্রেমের ইতিকথা হৃদয়ের গভীরে লুকায়। হৃদয় বাতায়ন ধরে সে উঁকি মারে।

কলেজের পালা শেষ হয়েছে। সুহাসিনী খুব ভালো ফল করেছে। তপন খারাপ করে নি। দুজনে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিদ্যাদেবী দুজনকে বিদ্যাসাধনার প্রাঙ্গণে বন্দি করে রাখে। ইতিমধ্যে ওদের সম্পর্কটা বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকতা লাভ  করেছে । বছর খানেক আগে কলেজে পড়াকালীন একদিন বাসে বাড়ি ফেরার সময় সুহাসিনী পড়ে গিয়ে আহত হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তপন ওকে ওর বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে বাড়ির সবার সঙ্গে তপনের পরিচয়। ওর আচার আচরণ সরলতা সবাইকে মুগ্ধ করে। বাড়ির দরজা ওর কাছে উন্মুক্ত হয়। সেই থেকে তপনের সুহাসিনীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত। আনুষ্ঠানিক সম্পর্কটা গড়ে ওঠার শর্ত তৈরি হয়। মুক্ত পৃথিবীর উন্মুক্ত অপার্থিব প্রেম পার্থিব সম্পর্কে যেন বাঁধা পড়তে থাকে। সুহাসিনীর সংশয় থাকলেও সে  সেটা অস্বীকার করতে পারে না। নিষ্কাম প্রেম কামনার খাঁচায় বন্দী হোয়ে পড়ে যেন। ভিন্ন বিষয় হলেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুজনের রোজই দেখা হয়। প্রেম নির্জনতা খোঁজে। নিষ্কাম কামনার অঙ্গে বাসা বাঁধে। কাম আর নিষ্কাম দ্বন্দ্ব সমাধান খোঁজে পার্থিব চাহিদায়। ওদের সম্পর্কটা ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে দু বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সুহাসিনীর বাবা মা জানে এ ব্যাপারে আপত্তি করে লাভ নেই। সুনি একরোখা মেয়ে। ছেলের বাড়িতে এ নিয়ে সাধারণত বেশি প্রশ্ন ওঠে না বিশেষ করে মেয়েটি যেখানে দেখাশোনার পরীক্ষায় সহজেই পাশ করার উপযুক্ত।

দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালোভাবে পাশ করে। সুহাসিনী প্রত্যাশামত একটা কোম্পানিতে গবেষণা বিভাগে চাকরি পেয়ে বেঙ্গালুরে চলে যায়। তপন তার দেশের বাড়ির কাছে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। সে সাহিত্য সেবায় মনোনিবেশ করার সুযোগ পায়। দুজনেই জীবিকা হিসেবে তাদের পছন্দের জায়গায় স্থান পায়। দুজনের মধ্যে চিঠি পত্রে বা দুরাভাসে যোগাযোগ থাকে। সমস্যা দেখা দেয় তারা কোথায় কিভাবে ব্যাক্তিজীবনে জোট বাঁধবে তা নিয়ে। ব্যাপারটা সমাধান হয় না। দুজনকে একজায়গায় থিতু হতে গেলে একজায়গায় কাজ নিতে হয়। কর্মজীবন নিয়ে দুজনের ভাবনা দুরকম। তপন চায় গ্রামে মাস্টারি করে কর্মজীবনে কিছুটা সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে, একই সঙ্গে সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যেতে। সুহাসিনী চায় কর্পোরেট জীবনে প্রতিষ্ঠা যেটার সুযোগ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বেশি। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সংসারের দাবি মেটান মুশকিল। তাও দুজনে অপেক্ষা করে। বিষয়টা নিয়ে কেউ কাউকে দোষারোপ করে না। তপন যেমন চায় না সুহাসিনী নিজের সত্তা ছেড়ে নেহাৎ এক গৃহবধূ হয়ে থাকবে। আবার সুহাসিনীও চায় না তপনের  সাহিত্য সেবায় বেঘাত ঘটুক। বাস্তবের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সংঘাত কিভাবে মিটবে কেউ জানে না। অথচ দুজনেই দুজনকে পেতে চায়। নিষ্কাম প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হয়। কিন্তু কামনার টান কতদিন অস্বীকার করা যায়? কেউ জানে না। এছাড়া আছে পরিবারের বন্ধন। 

বেঙ্গালুরে গবেষণার কাজে সুহাসিনী বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে। আর গবেষণার কাজ একটা যৌথ দায়িত্ব। এই কাজে অন্যদের সহযোগিতা বিশেষ দরকার। ওর সঙ্গে জনা দশেকের একটা টিম। প্রাতিষ্ঠানিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা নিজেদের অজান্তেই প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে কখন ব্যক্তিগত প্রাঙ্গনে ঢুকে পড়ে সেটা সবসময় ঠাহর করা যায় না। ওর সঙ্গে কর্মরত সবাই খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। মেয়ে পুরুষ সবাই। ও ওখানে দুজন মেয়ের সঙ্গে একটা ফ্ল্যাটে থাকে। নিজেরা পালা করে নিজেদের কাজ করে। অন্যান্যরা আসে। অফিসের কথাবার্তা ছাড়াও ব্যক্তিগত আলাপ আড্ডা চলে।

স্কুলে শিক্ষকতার সূত্রে তপনের পরিচিতির বিস্তার ঘটেছে গ্রাম থেকে গ্রামে । লেখক হিসেবেও ওর নামডাক। কবিতা প্রেমিক প্রেমিকারা তাকে জড়িয়ে থাকে। বাড়িতে পাঠক পাঠিকাদের অবাধ যাতায়াত। নিজের বাড়ির একটা ঘরে কবিতা আবৃত্তির মহড়া চলে। বাচ্চাবুড়োদের নিয়ে বাচিক স্কুল। হেসে খেলে দিন যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠাবার দাবি আসে।শহর থেকে প্রায়ই নেমন্তন্ন।এরই মধ্যে সংসারের কিছু দায়িত্ব। বিশেষ করে মায়ের প্রতি।ভাইরা থাকলেও বড় ছেলে হিসেবে তার দায়িত্ব বেশি। মায়ের কঠিন অসুখ। তাঁকে নিয়ে প্রায়ই কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়। ছোট বোন সংসারের দায়িত্ব নিলেও তার ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হয়। বাবা মা দুজনেই ওর বিয়ের কথা বলে। ও প্রয়োজনটা বোঝে। ওর সুহাসিনীকে মনে পড়ে, মনে পড়ে ওর সেই কবিতাটা। সংসার কেন দরকার। সেটা কি দিতে পারে আর কি পারে না। দরাজ থেকে কবিতাটা বার করে ও পড়ে:

সংসার সাগরজলে  
আমি  খাবি খাই
জীবনের বাগানে ফল ফলে 
খাই দাই  ভালো আছি ভাই।
আমি ভাবি রোজই,
 বসে বসে ভাবি আর ভাবি ,
অজানা এক ভয়
আর এক সঙ্গে চলবে না 
টেকানো  গেল না
সম্পর্কটা বোধ হয়!

 থাক সে সংসার, 
সে  বেঁচে থাক 
আমাদের কামনায়
সকালের ভৈরোঁয়  
রাতের জ্যোৎসায়
গড্ডালিকা প্রবাহে  
কালের অবগাহনে
ঝর্ণার কল কল রবে  
সুন্দরবনে বাঘের  গর্জনে  
দিনান্তে  মালিন্যের   আশ্রয়ে 
সময়ের ডানা মেলে 
বিবাদ বিষাদ রাগ অনুরাগের  প্রাঙ্গনে।


বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। আগের মত সুহাসিনীর ঘন ঘন চিঠি তপন পায় না। এখন চিঠি লেখার প্রয়োজনটা ফুরিয়েছে সুহাসিনীর। মেসেজ বা আপে যোগাযোগটা হয়। মস্তিষ্কের কল্পনার জগৎটা বাঁধা পড়েছে হাতের  মুঠোয়। তাতে তপনের মন ভরে না। সুহাসিনীর চলে যায়।ও নিজেও সুহাসিনীকে লেখা কমিয়ে দিয়েছে। সুহাসিনীর প্রেমটাও যেন সংসারের দরজায় করা নাড়ে।সংসারের মুঠোয় বন্দী হতে চায়।

তপন মেসেজে বার্তা পায়। সুহাসিনী তাকে জরুরি তলব করে। সে যেন বেঙ্গালোরে যায়। বিশেষ দরকার।সঙ্গে উড়ানের টিকিট। তপন বার্তা পেয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ভেবে পায় না কি এমন দরকার। সুহাসিনীর ডাককে সে কোনোদিন অস্বীকার করতে পারে না। স্কুল ছুটি নিয়ে রওনা দেয়। নির্ধারিত সময়ে উড়ান ধরে। উড়ানে বসে তার চিন্তার জগত তোলপাড়। কিছুদিন আগে সুহাসিনী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আবার কি তবে সে অসুস্থ! আবার সে ভাবে হয়তো তাদের সম্পর্কটাকে সে ঝালিয়ে নিতে চায়। অনেকদিন দেখা নেই। দেখা করতে চায়। তপন রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে। এবার দেখা হলে সম্পর্কটার একটা চূড়ান্ত রূপ দিতে চায়। সে জানে সুহাসিনী বিয়ে করতে চায়। তবে তপনের পক্ষে বেঙ্গালোরে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া কি সম্ভব! তবে কি করার!  তপন বিভ্রান্ত। তার মাথায় শুধু সুহাসিনী নয়, তার পরিবার বাবা মা বোনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা মাথায় ভিড় করে। সুহাসিনীর মা তো তপনকে খুব স্নেহ করেন। হয়তো মনে মনে তাকে জামাই বলে গ্রহণ করেছেন। সুহাসিনীর ছোট বোন সোহাগ ওর বিশেষ গুণগ্রাহী । ওর সঙ্গে ঠাট্টা ইয়ার্কি। কবি বাবু বলে ওকে ডাকে। দিদিকে নিয়ে মস্করা। একদিন ঠাট্টা করে সোহাগ তপনকে বলে দিদি তো মনে হচ্ছে ফিরবে না। তখন কি করবেন? তপন গম্ভীর হয়ে ওঠে। কবিগুরুর উদাসীন গম্ভীর মুখ দেখে সোহাগ লজ্জা পায়। এমনি টুকরো টুকরো কথার ঘাত প্রতিঘাতে ওদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তপন জানে সোহাগের এক সহপাঠীর সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। যে কোন কারনেই হোক সোহাগের সে সম্পর্ক এখন নেই। বিষয়টা নিয়ে তপন ওর প্রতি সহানুভূতিশীল। মেয়েটি পড়াশুনায় তেমন আগ্রহী না হলেও গুণী। সংসারের কাজে পটু। ভালো রান্না করে। তপন ওদের বাড়ি গেলে ওর হাতের চা না খেয়ে ফেরে না। মেয়েটি  ভালো কবিতা আবৃত্তি করে। 

ঘণ্টা আড়াইয়ের মধ্যে উড়ান বেঙ্গালুরু বিমান বন্দরে নামে। সেখান থেকে একটা ভাড়া গাড়ি নিয়ে ঠিকানা ধরে তপন পৌঁছে যায় সুহাসিনীর আস্তানায়। সুহাসিনী তপনের অপেক্ষায়। তখন বিকেল প্রায় পাঁচটা।কলকাতার গ্রীষ্ম থেকে সে আসে বেঙ্গালুরুর বসন্তে।অপেক্ষারত সুহাসিনীর চোখে সেই বসন্তের স্পর্শ। তপন ওকে দেখে আপ্লুত হয়। তারা যেন ফিরে যায় ফাগুনের সন্ধ্যায় কলকাতার গঙ্গার ধারে। তপনের স্মৃতিতে সেই সন্ধ্যাগুলো ফিরে আসে। আজ অনেকদিন পর সুহাসিনীকে সে একান্তে পায়। সুহাসিনী তপনকে নিয়ে ঘরে বসে। দুজনের মধ্যে আলাপচারিতা শুরু হয়। সুহাসিনী জানতে চায় 
------ তোমার মা কেমন আছেন? 
তপন বলে :
------ ভালো না। এখন কাজকর্ম করতে পারে না। বোনের ওপর সংসারের চাপ। 
সুহাসিনীর যেন কৌতুক মিশ্রিত উত্তর:
------ এখন তো  কাউকে বাড়িতে দরকার। আর বোনের তো ভবিষ্যত আছে।
তপন সুযোগ পায় কথাটা তুলতে। সে বলে:
------ এখন তো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাড়িতে সে ব্যাপারে সবাই অপেক্ষা করছে।
------ হ্যাঁ ঠিকই তো। এই কথা বলে সুহাসিনী অন্য প্রসঙ্গে আসে। বলে:
------ সোহাগ বললো তুমি ও বাড়িতে গিয়েছিলে। ওকে কেমন দেখলে?
তপন বলে:
------ ভালো। এখন অনেক স্বাভাবিক। মনে হয় আঘাতটা সহ্য করে নিয়েছে। আমি ফিরলে আমাকে একদিন মাংস রান্না করে খাওয়াবে বলেছে।
সুহাসিনীর উত্তর :
------ ওর হাতে খেয়ে তৃপ্তি পাবে। আমি ও কাজে লবডঙ্কা।

কথা বলতে বলতে কলিংবেল। কে আবার! কাবাব মে হাড্ডি। তপন ভাবে। সুহাসিনী দরজা খোলে। তপন আড় চোখে দেখে একজন সুদর্শন ভদ্রলোকের প্রবেশ। তপনের মনে হয় ভদ্রলোকের আসার কথা সুহাসিনী জানত।সুহাসিনী তপনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। উনার নাম রামস্বামী যার কথা তপন আগেই শুনেছে। উনিই অসুস্থ সুহাসিনীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিন জন গল্প করতে বসে।ওদের দুজনের মধ্যে তৃতীয়ের এই উপস্থিতি তপনকে অস্বস্তিতে ফেলে। ভদ্রলোক অবাঙালি।তাই ইংরেজিতে আলাপচারিতা যা তপনের পক্ষে বিড়ম্বনা। তপন কোনমতে চালিয়ে যায়। কথা বলতে বলতে রাত হয়। ইতিমধ্যে ফরমাস অনুযায়ী দোকান থেকে খাবার আসে। খাবার শেষ হলে সুহাসিনী বলে:
------- তপন তুমি উনার সঙ্গে যাও।ওখানে তোমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। উনি তোমার জন্য হোটেলে ব্যবস্থা করতে দিলেন না।

পরের দিন । সুহাসিনী রামস্বামীর বাড়িতে হাজির। ইতিমধ্যে তপনের উনার সঙ্গে পরিচয় ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। রামস্বামীর আতিথেয়তায় তপন মুগ্ধ হয়। রামস্বামী অবিবাহিত। একাই থাকে। সকালে উঠে চা ব্রেকফাস্ট নিজের হাতে করে খাওয়ান। বাড়ি চেন্নাই। রামস্বামী পাশের ঘরে যান। তপনের সঙ্গে সুহাসিনী একা। কালকের কথার রেশ টেনে তপন বলে:
----এবার আমাদের ব্যাপারটা ঠিক করে ফেলা যাক। সুহাসিনী বলে 
----আমার বাড়িতে চলো সব কথা হবে। 

এরপর দুজনের আলাপচারিতা। রামস্বামী এসে যোগ দেয়। দুপুরে এখানেই খাওয়া দাওয়া সেরে সুহাসিনী তপনকে নিয়ে ওর ডেরায় যায়। বাড়িতে এসে দুজনে আবার নিভৃতে আলাপ। তপন বিয়ের কথা তোলে। সুহাসিনীও তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। তপনকে প্রস্তাব দেয় এখানে একটা স্কুলে চাকরি নিতে। ইংরেজি ওর বিষয় বলে সেটা পেতে অসুবিধে হবে না জানায়। যদি তপন রাজি হয় তবে সে তাকে একটা স্কুলে কালকেই নিয়ে যেতে পারে। এই ইন্টারভিউএর ব্যবস্থা করেই সুহাসিনী তাকে আসতে বলে।তপন জানায় সেটা তার পক্ষে সম্ভব নয় । দুজনের মধ্যে এ নিয়ে মনোমালিন্য হয়। তবে তা বেশিদূর এগোয় না। সুহাসিনীর সংশয় ছিল তপন তার জায়গা ছেড়ে আসবে কি না। আর তপন জানে সুহাসিনী আত্মমর্যাদা আত্মসত্তা ছেড়ে সংসার করবে না। সেটা তার কাছে দাসত্ব। তাও ও বিশ্বাস করে সুহাসিনী কখনো পশ্চিম বঙ্গে কোথাও চাকরি নিয়ে চলে আসবে। সে আর জোরাজুরি করে না। বাড়ি ফিরে আসে ।

একদিন দুজনের মধ্যে মোবাইলে কথা হয়। কে কেমন আছে জানার পর উভয়ের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়। সুহাসিনী জানায় যে সে তপনকে একটা চিঠি দিয়েছে। তপন জানায় সে  সেটা পেয়েছে। চিঠিতে কি লিখেছে? সেটা আমাদের সকলেরই কৌতূহলের। 

সুহাসিনী রামস্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে  নিজের বিয়ের একটা কার্ড পাঠিয়েছে। বিয়েতে ঘটক রামস্বামী। তার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার থেকে একটা কবিতার অংশ:

মোর লাগি করিও না শোক,
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই---
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে।

শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।

এর সঙ্গে তার অনুরোধ তপন যেন বিয়ে করে। সংসারের প্রয়োজনটা তারও আছে। তপনকে সে ভালোবাসে তাই তার দায় আছে এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করা। সে উপযুক্ত পাত্রী হিসেবে তার বোন সোহাগকে  চিঠিতে উপস্থিত করে। তপন একটু বোকা বনে যায়। একটা সন্দেহ উঁকি মেরেছিল। প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু এ কি, সোহাগিনীর তরফ থেকেই! ভেবে পায় না। সোহাগিনীর ওপর শ্রদ্ধা বেড়ে যায়।

একটু ধাতস্থ হয়ে কদিন পরে তপনও চিঠিতে তার বাস্তব অবস্থাটা জানায়। সে প্রস্তাবটা মেনে নেয় তবে সোহাগের স্বেচ্ছামত সাপেক্ষে। সে মতটা পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে তার সংশয় আছে যেখানে তাদের সম্পর্কটা ও জানে। ব্যাপারটা সুহাসিনীর ওপর ছেড়ে দেয়। সে চিঠিতে তার অনুমতি জানায়। যেন এরকম একটা কিছুর জন্য সে প্রস্তুত ছিল। ভাবনার জগৎটা তার ছিন্ন ভিন্ন। সে ভেবে চলে :

ভালোই করেছ। কোন নিশ্চয়তার শর্তে ঘর বাঁধা! শত সহস্র ফুটো সে ঘরের ছাদে। গ্রীষ্মের দহন শীতের কাঁপন বর্ষায় প্লাবন সে ঘরে। বসন্তে ফুল ফোটে না এ বাগানে। প্রেমের কলি মুর্চ্ছা যায় সে বাসরে। ভালোই করেছ তুমি  বালির বাধ না বেঁধে, অনিশ্চয়তার জোয়ারে না ভেসে। আর জেনো প্রেম বাঁধে না নিজেকে, ধরা দেয় না সংসারের পাঁকে। মুক্ত বিহঙ্গ সে, ডানা মেলে ওড়ে আকাশে, নীরব গুঞ্জন তার বাতাসে।

 তপনের ভাবনায় দোলাচল। হঠাৎ একটা দমকা হওয়া। তার ভাবনায় একটা চমক, একটা সংকোচ, যেন একটা উদ্বেগ: সোহাগের থেকে কি ছাড়পত্র পাওয়া যাবে? 

সোহাগের সেদিনের সেই ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতূহলী চোখটা ভেসে ওঠে। সেদিনের সে ঔদাসীন্য তপনের মুখে আর দেখা যায় না । আবার সুহাসিনীর পাঠানো চিঠিটায় যেন লেখা শেষের কবিতায় অমিতের প্রতি বন্যার অভয় বাণী :

তোমার হয় নি কোন ক্ষতি 
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি 
যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি 
হোক তব সন্ধ্যাবেলা,
পূজার সে খেলা 
ব্যাঘাত পাবে না প্রত্যহের  ম্লান স্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগ-বেগে 
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোন নৈবিদ্যের থালে।
তোমার মানস-ভোজে সযত্নে সাজালে 
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষ্ণায়,
তার সাথে দিও না মিশায়ে
যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
আগে তুমি নিজে 
হয়তো - বা করিবে রচন 
মোর স্মৃতি টুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়,
হে বন্ধু, বিদায়।







বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...