চিঠি
-------------------------------------
খোকা তুই কেমন আছিস?
কতদিন তোদের খবর পাইনে
বিষ্টু কেমন আছে? খুব দেখতে ইচ্ছে হয়।
ভীষণ দুষ্ট হয়েছে ঠিক যেন ছোট্টোটি তুই।
অন্তরে অন্তরে হয়তো ঠাম্মারে খোঁজে!
তবে বলতে পারে না ছোট্টো তো..
অন্য মাদের মতো এখানে আমি বেশ আছি।
তোদের ভাবনায় দিন কাটে
তবে রাতটা কিছুতেই কাটতে চায় না।
মনটা একটা ভরসার হাত খোঁজে
খোঁজে মা ডাক।
বৌমা অকারণে আর রাগ করেনা নিশ্চয়ই!
দেয়না বাবার বাড়ি যাওয়ার অজুহাত।
ওর সমস্ত রাগের কারণই আমি ছিলেম
বড় অভিমানি মেয়ে ওর খেয়াল রাখিস।
খোকা পূর্বের বকুল গাছটি আছে?
তুই যখন এক বছরের দুলেদুলে চলতি
তোর বাবা গাছটি এনেছিলেন।
বলতেন বয়সকালে দাদু ভাইয়ের সনে
বকুলের গন্ধ ছায়াতলে খেলায় মাতবো।
বসবার ঘরে ওনার সাদা-কালো ফটোটা
আছে?
নাকি সৌন্দর্য নষ্টের শঙ্কায় বাক্সে ঠাঁই পেয়েছে?
গত ভাদ্রে চিঠি দিলি আশ্বিনে আসবি
পথ পানে চেয়ে রইলাম খোকা আসবে!
দূর হতে ভেসে আসছে আষ্টমী মন্ত্র
উলু-শঙ্খধ্বনি ঢাকের আওয়াজ।
জানালায় চেয়ে দেখি-
নূতন বস্ত্রে সন্তান নিয়ে মা চলেছে মন্ডপে।
ছোট্টো বেলার তোকে খুঁজে পেলাম
বুকটা কেঁপে উঠলো।
অপেক্ষায় দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল
তুই এলি নে।
মিথ্যা আশায় ক্ষনিকের সুখ।
বুকের মাঝে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে
এরবেশি লিখতে পারছি নে।
চোখটাও ঝাপসা হয়ে আসছে বারবার।
জীর্ণ হাতে অস্পষ্ট লেখা
একটু কষ্ট করে পড়িস বাবা।
সময় করে একটা চিঠি লিখিস
ইতি-
তোর মা।।
============
সুবীর হালদার
কৃষ্ণনগর নদীয়া
ফোন-8972942226
