এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ
অরবিন্দ পুরকাইত
অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।
তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়েছে জানো, এখন কুড়ি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে আবার তোমার বোনের ফোন এল, হাইড অ্যান্ড সিক বিস্কুট নিতে। ঘুরে ওই দোকানে আবার জিজ্ঞেস করলাম, ওদের এই বিস্কুট নেই। তো জয়রামের পাশ দিয়ে সেই মুড়ি দোকানে যাওয়ার আগে আমাদের সেই একটা গলির গায়ে যে দোকানটা আছে সরু মতো, সেখান থেকে দুটো বিস্কুটের প্যাকেট নিলাম। তারপর বাসায় এসে, তাও ভাল লাগছে না। তো তোমার বোনকে বললাম, ছাদে যাবি? ওর পরীক্ষার পড়াশুনার ফাঁকে এসে টিভির ঘরে একটু শুয়েছে। বলল যাবে না। আমি একা গেলাম।
তোমার সেই শহরের এক চিলতে আকাশ। প্রিয় তোমার সেই আকাশটুকুতে আজও কত ভাললাগা! তোমারও কী যে ভাল লাগত! মধুক্ষরার দিকে সোজাসুজি একটা কালো মেঘের নৌকার উপরে যেন সাদা দুই পেঁজা তুলোর স্তূপ! আর কোথাও কোথাও একটু আধটু মেঘ, বাকিটা পরিষ্কার— ওই যেটুকু আকাশ দেখা যায় আর কি! আজ কত ঘুড়ি উঠছে উড়ছে জানো! আসলে, জানই তো, ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ— ক্রমশ এগিয়ে আসছে বিশ্বকর্মা পুজো। আর ক'দিন বৃষ্টি হচ্ছিল, আজকে বেশ একটু ছ্যাঁক দিয়েছে। পাখিরা— তুমি তো জানোই, মূলত কাক ও দু-চারটি পায়রা— আকাশে মাঝে মাঝে এদিক-সেদিক যাতায়াত করছে। একটু উঁচুতে পায়রার ছোটখাটো এক দঙ্গল উড়ে যাচ্ছে। ঘুড়ি কোন কোন ছাদ থেকে সব উঠছে উড়ছে সেসব তো আর দেখা যায় না, তবে ওই সামনের দিকে মানে তোমার ওই মধুক্ষরার দিকেই সোজা তাকালে দু-একটা বাড়ির পরে একটি যুবক এবং সঙ্গে ছোট্ট একটি বাচ্চা, তারাও দেখলাম ঘুড়ি বার করছে। হয়তো যুবকটির ছেলে অথবা ভাইপো। তো আর সব ঘুড়ি উড়ছে বিভিন্ন জায়গায় নানান ভঙ্গিতে। তার মধ্যে একটা ঘুড়ি ব্যাপক প্যাঁচ খেলছে দেখলাম! এবং ঘটনা হল, একের পর এক সে ঘুড়ি কেটে দিচ্ছে!
দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, ঘুড়ি কেটে গেলে অল্পক্ষণই মানুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে। যতক্ষণ সে পড়ে যেতে যেতে দৃষ্টিশক্তির পৌঁছানোর মধ্যে থাকে। জোরদার প্যাঁচ কাটাকাটি বা অনেক ঘুড়ি থাকলে, এমনকি কাটা ঘুড়ির দিকেও মানুষ বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকে না। আর যে লাটাইয়ের সুতো কেটে যায়, সেই লাটাইটি তবু— সামনে আড়াল না থাকলে— খানিক দূর থেকে হলেও দেখা বা বোঝা যায়, কিন্তু একান্ত কাছাকাছি না হলে সুতোর দেখা পাওয়া ভার! লোকেদের দেখা মিলতে পারে। ঘুড়ি কেটে যাওয়ার পর, যেটুকু-যা সুতো পড়ে থাকে, লাটাইয়ে গুটিয়ে নেয় ঘুড়ির মালিক।
ইতোমধ্যে ওই দিকেই সামনের দু-একটার পরের সেই বাড়িটা থেকে দেখলাম ঘুড়ি বাড়াচ্ছে। বেশ একটু তুলে, একটু স্থির হলে, দিল বাচ্চাটার হাতে। সে আনন্দে ওড়াতে থাকল। কখনও সামান্য গুটোচ্ছে, কখনও একটু ছাড়ছে। আসলে তার তো বেশি কিছু করার দরকার পড়ছে না। আমি বেশ অনুভব করতে পারছি, খুব আনন্দ পাচ্ছে সে। তোমার মনে পড়বে তুমি যখন ছোট ছিলে, আমাদের মাঠে তোমাকে দু-একবার নিয়ে গিয়েছিলাম ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে। দু-এক দিনই উড়িয়েছিলে তুমি। বেশি আর সময় পেলে কই! আমাদের মতো উদোম ছোটবেলা তো তোমার ছিল না! খেলাধুলা বলতে গেলে গৌণ, পড়াশুনোর দিকেই বেশি মন ও সময় দিতে হল তোমায়!
সেই ছেলেটি বেশ আনন্দে ওড়াচ্ছে! হঠাৎ দেখলাম, আমাদের বাসা থেকে নেমেই বাঁদিকে— যেদিকে মন্দির আর বড় গাছটা (হোটেলও) রয়েছে, সেখানকার কোনও ছাদ থেকে ছোট্ট লেজের একটা ঘুড়ি উঠল! একেবারে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের। একটু দূর থেকে দেখতে পাওয়া মুশকিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে ওই বাচ্চার ঘুড়িটা না কেটে দেয়! সবচেয়ে বড় কথা, ওরা ওখান থেকে এই ঘুড়িটাকে দেখতেই পাবে না কিছুতেই! দেখতে পেলে, ওই বাচ্চাটির বাবা বা কাকা যিনিই হোন— কিন্তু পাশেই রয়েছেন— লাটাইটি নিয়ে নিশ্চয়ই চেষ্টা করতেন ঘুড়িটাকে বাঁচাতে বা পুরোপুরি প্যাঁচ খেলতে। তো একটু পরেই দেখি আমার অনুমান সত্য হয়ে, মুহূর্তে তাদের ঘুড়িটা কেটেই দিল স্বচ্ছ প্লাস্টিক। প্রথমটা বুঝে উঠতে পারিনি, তারপর দেখলাম যে, আর দেখতে পাচ্ছি না ওদের ঘুড়িটাকে! একটু পরেই দেখলাম পড়ে-থাকা সুতোটুকু যুবকটি গুটোতে শুরু করেছে লাটাইয়ে! আর কোনো সন্দেহ রইল না। কীরকম গোপনে অজান্তে ঘুড়িটা কেটে গেল ভাবো— কিছু দেখতে পেল না, বুঝে উঠতে পারল না, হঠাৎ দেখছে সুতোয় টান নেই, নেতিয়ে পড়ে গেছে! বাচ্চাটা টের পেয়েছিল কি না জানি না। যুবকটির হাতে লাটাই থাকলে সুতোর সঙ্গে সুতো লাগাটা হয়তো টের পেত। কিন্তু তাতে কী, টের পেতে পেতে কেটেই যেত হয়তো!
আকাশে এদিক-ওদিক যথারীতি আরও ঘুড়ি উঠছে/উড়ছে, কেটে যাচ্ছে। কতজনে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে! অনেক উপরের আকাশে এক দঙ্গল ছোট ছোট পাখি দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ল। তোমাকে বলেছি, ওই যে বলে না, শকুন যত উপরেই থাক, দৃষ্টি ঠিক ভাগাড়ের দিকে! তা এক-দু'দল শকুন আমরা হামেশাই দেখতাম খুব উঁচু আকাশে বিচরণ করত, কিন্তু লক্ষ্য থাকত কোথায় কোন গো-পোড়ো অর্থাৎ ভাগাড়ে গরু পড়েছে! সাঁ-সাঁ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা নেমে আসত! তুমি তো জান আমাদের চড়কতলায় আগে গো-পোড়ো ছিল, তোমাকে গল্প করেছি। একটা গরু পড়লে, চারিদিক থেকে শকুন আসার সাঁ সাঁ শব্দ পাওয়া যেত। ঘুরিয়ে বললে, এদিক-ওদিক ওইরকম শব্দ পেলে বোঝা যেত গরু পড়েছে গো-পোড়োয়। আশপাশের তাল-নারকেল ইত্যাদি গাছ ভরে যেত, কিছু সরাসরি পোড়োতে চলে যেত। তো একে একে ভরে যেত শকুনে। বাতাসে একটা দুর্গন্ধ টের পাওয়া যেত আশেপাশে তাদের উপস্থিতিতে। এত শকুন, অনেক সময় গরুটাকেই দেখা যেত না প্রায়! মানে গরুর দেহটাকে। ছেঁড়াছিঁড়ি শুরু করত। মুচি আসার আগে পর্যন্ত তারা কায়দা করে উঠতে পারত না পুরোপুরি। যেসব জায়গা নরম, যেমন, পায়ু, মুখ ইত্যাদি— সেই সব জায়গা থেকে ছিঁড়তে শুরু করত। আর মুচি চামড়া ছাড়িয়ে নিলে তারা সব শুরু করে দিত মাংস ছেঁড়া। মুচি আসতে দেরি করে ফেললে, শকুনের ভিড়ে ও তাদের খাওয়ার ব্যগ্রতায় চামড়া ছাড়ানোই দুষ্কর হয়ে উঠত। বারবার তাড়াতে হত আর ছাড়াতে হত। সহকারী কেউ থাকলে সে হয়তো শকুনই সামলাত। এমনিতে অন্য মুচি এসে যাওয়া বিচিত্র নয়, কেন-না ছাড়ানো সমাপ্ত হওয়ার আগে এসে হাত লাগালেই ভাগ পাওয়া যাবে! বলে ন্যায়, পোড়ো ছুঁইলিই ভাগ। তা তার আগে কে কতটা খেয়ে নিতে পারে এই নিয়ে শকুনদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি চলত, কামড়াকামড়ি। রাগে গরগর করতে করতে ক্যাঁ-ক্যাঁ-কোঁ-কোঁ আওয়াজ করত। দু-একটা কাকও দেখা যেত কোনও কোনও সময়। তো সে যাই হোক, এখন তো শকুন একেবারেই নেই তুমি জানতে। তো ওরা শকুন নয় অন্য কোনও পাখি, হয়তো কাকেরই একটা দল।
সেই ঘুড়িটা বেশ কেটে যাচ্ছে! বোঝা যাচ্ছে এর সুতো এবং ওড়ানোয় কেরামতি আছে! সুতো বেশ শক্ত, আর মঞ্জাও বেশ কড়া! কড়া মাঞ্জায় এ মহানগরে মাঝে মাঝে কেমন বিপদ জানই তো। খানিকক্ষণ পরে পরে দেখছি, একটা করে ঘুড়ি সূত্রছিন্ন হয়ে টাল খেতে খেতে, লাট খেতে খেতে পড়ে যাচ্ছে!
ক্রমশ মেঘের রংও পাল্টে যাচ্ছে। আগের সেই কালো মেঘের নৌকা নেই এখন, কালো-সাদা মিলিয়ে একটা ধূসর ধূসর মতো রং হয়ে যেন বিশাল কোনও খেলনা পুতুলের আকার ধারণ করেছে!
যে একাধিক ঘুড়িকে কাটছিল, মাঝে মাঝে কোথা থেকে কত দূরে কোথায় নিজের ঘুড়িটাকে নিয়ে গিয়ে কারও সঙ্গে প্যাঁচ লাগাচ্ছে ভাবতে আশ্চর্য লাগে! ঘুড়ি ওড়ানোয়, মুশকিল হল, হাওয়া একই দিকে বয়, কিছুতেই উলটো দিকে ওড়ানো যাবে না! তাই প্যাঁচ খেলার ইচ্ছা না থাকলেও অনেকসময় প্যাঁচে পড়ে যেতে হয়! খানিকটা ওই নির্বিবাদী লোকের মতো আর কি! ফলে অনেকসময় চেষ্টা করতে হয় প্যাঁচ এড়ানোর।
ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি সেই যুবকটি আর-একটি ঘুড়ি নিয়ে এল ঘর থেকে। কলকা বেঁধে লাটাই জুতে তুলতে শুরু করল।
আরও একটু আলো কমে এসেছে। দূরে কোনও এক বড় আবাসনের একদম মাথায় মিটমিট করে আলো জ্বলতে শুরু করেছে সিগন্যালের মতো। সূর্যের আলো ক্রমশ কমে আসছে। বাদুড় দু-একটা বেরোতে শুরু করেছে। আমার মাথার উপর থেকে মাঝে মাঝে উড়ে যাচ্ছে, আসছে।
পরের ঘুড়িটা যুবকটি বেশ সুন্দর বাড়ালো এবং বাচ্চাটির হাতে দিল। সে সুন্দর ওড়াচ্ছে— দূরে উপরে ঘুড়িটা যেন বেশ স্থির হয়ে আছে। যেমন তোমায় গল্প করতাম আমাদের কোনও কোনও ঘুড়ি সন্ধ্যার সময় অল্প বাতাসে অনেকদূর উঠে প্রায় স্থির হয়ে থাকত ডানা মেলে। যেন নট নড়ন-চড়ন, নট কিচ্ছু বলতে গেলে! তোমায় আরও বলেছিলাম না, সেই অবস্থায় একেবারে অন্ধকার হয়ে যেত, তখনও আমরা ঘুড়ি আকাশে স্থির রেখে বসে থাকতাম। গল্প করতাম, আড্ডা দিতাম— আমাদের বড়পুকুরের পাশের ডাঙাবাড়িতে এরকম একবার ঘুড়ি তুলে অন্ধকারে বসে থাকতে থাকতে মনে হয়েছিল ঘুড়িটা দেখব আকাশে! বাবার তিনব্যাটারি টর্চটা বাড়ি থেকে লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম, বোধহয় সঙ্গী হিরন্ময়ের কাছে রেখে। আসলে কারো কাছে রাখতে তো হয় না, লাটাই পুঁতে রাখলেও সে ঘুড়ি সচরাচর দিব্যি একইরকম থাকবে স্থির। তো তিনব্যাটারি টর্চটা— এভারেডি— ঘুড়ির দিকে তাক করেছিলাম। ফোকাস ঘুড়ির গায়ে পড়ছে দেখতেও পাচ্ছিলাম। তাতে কত আনন্দ!
এখানেও মন্দিরের দিকে দু-একটা বাড়ির পরে দেখলাম একটা কালো ঘুড়ি আবার উঠছে! ভয় পেলাম, আবার না বাচ্চাটার ঘুড়িটা কেটে দেয়! কিন্তু এবার প্লাস্টিকের কালো ঘুড়ি হওয়ায় ওই যুবকটি তো বুঝতে পেরেছে, সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার হাত থেকে লাটাইটা সে নিয়ে নিয়েছে। আমি একটু স্বস্তি পেলাম। আর দেখতেও পাচ্ছি না কালো ঘুড়িটাকে! বোঝাই যাচ্ছে যুবকটি তার ঘুড়িটাকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছে। তো যাই হোক, কালো ঘুড়িটা বেশি উঠল না দেখে একটু স্বস্তি পেলাম, বাবা, বাচ্চাটা একটু মন দিয়ে উড়িয়ে আনন্দ পাক!
ক্রমশ আলো আরও কমে এল, আরো চারিদিকে ক্রমশ ঘরে ঘরে আলো জ্বালানো শুরু হচ্ছে। একসময় যুবকটিও দেখলাম ঘুড়ি আস্তে আস্তে দ্রুত গুটিয়ে নিতে শুরু করল। তারপর একদম হাতের মধ্যে। যুবক ও শিশুটি আস্তে আস্তে ছাদের দরজা দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল। একটু পরে তাদের ঘরে আলো জ্বলতে দেখলাম। আরো কয়েকটা ঘুড়ি ক্রমশ কমতে কমতে শেষে দুটোতে ঠেকল। এবং সে-দুটোকেও দেখি— একসময় তারা গুটিয়ে নিল। কেন-না ঘুড়ি আর দেখাই যাচ্ছিল না তেমন। আমি আস্তে আস্তে আবার বাসায় আসার জন্য পা বাড়ালাম। তুমি থাকলে একসঙ্গে উপভোগ করতে পারতাম দুজনে। আমরা কত কী আলোচনা করতে পারতাম! সাম্প্রতিক গান, সাহিত্য, সিনেমা থেকে নঃশ্বরতা, প্রকৃতি, বিচিত্র মানুষ— হয়তো এই ঘুড়ি ওড়ানোর রূপকেও। কিন্তু সে তো আর হবার নয়। ওই স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ঘুড়ির মতোই প্রায় অদৃশ্য থেকে, আচমকা কখন কেটে নিয়ে যায় উড়তে-থাকা শান্ত সুন্দর ঘুড়িকে!
[১২ ভাদ্র ১৪৩৩ (২৯-০৮-২৬) শনিবার সন্ধ্যা, বাসা]
অরবিন্দ পুরকাইত
গ্রাম ও ডাক — গোকর্ণী,
থানা — মগরাহাট,
জেলা — দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা।
Comments
Post a Comment