তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী
প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা
মায়াবী মারীচের সোনার হরিণের সৌন্দর্য্যে,
চাহিদার গণ্ডী কাটতে ভুলেছে লক্ষণ।
ছদ্মবেশী রাবণের কবলে সীতা মার মতো।
অশোকবনে কাটছে অতি কষ্টে।
রাঘবের অপেক্ষা দূঃখ লাঘবে।
প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদার অন্তরায়ে জীবন,
আকাঙ্ক্ষাগুলো হয়তো অবৈধ,
নয়তো নিষিদ্ধ,হয়তো দামী।
নয়তো বা অন্য কারো।
আত্মোপলব্ধির প্রয়োজন।
পাওয়ার ইচ্ছায় লাফ চাহিদার সাগরে,
পাঞ্জা লড়াই মৃত্যুর দাবীতে।
জৈবিক চাহিদাই যখন সুউচ্চ এভারেস্ট,
তখনো প্রয়োজন সামাজিক সস্মানের।
দরকারের দাবীতে নীলকণ্ঠ।
ধর্মযুদ্ধ
হস্তিনাপুর,আর.জি.কর.,বারুইপুর।
আবারও বাজছে সেই সুর ম-হা-ভা-র-ত।
তবে কি ফের ধর্মযুদ্ধ!কুরুক্ষেত্র?
লজ্জার আরেক অধ্যায়!দ্যুতসভা!বস্ত্রহরণ!
দ্রৌপদীর বেণী না-বাঁধা পণে দ্রোহের আগুন।
দূঃশাসনের পরনে আজ বুলেটপ্রুফ পোশাক।
ভীমেরা দূর্বল আইনি জটিলতায়।
অপরাধীদের বুকের রক্তে ছৌয়াঁচে যৌন রোগের ভাইরাস।
লালসার মাদকতায় দ্রৌপদীরা কবরে অথবা শশ্মানে।
ভীষ্ম-দ্রোণ-কৃপ নীরব,অপরাধের অন্নে লালিত।
হে কৃষ্ণ, শোনাও তোমার ধর্মের বানী,
অর্জুনের গাণ্ডীবে যোজিত হোক পাশুপত অস্ত্র।
মোমবাতি নয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বলুক ন্যায়ের মশাল।
দ্বৈপায়ন থেকে হিঁচড়ে টেনে বের করো দূর্যোধনদের।
কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে বাজুক নারী নিরাপত্তার সুর।
ঠিকা কৃষিমজুর
--কি রে মুনিশ যাবি নাকি?
বজ্রভীষন সুরে হাঁক পাড়ল অমুক গাঁয়ের বাবু|
--যাবো বুলেই তো সেই সাত সকাল থেকে,
কন্ট্রোল দোকানের মত দাড়াঁইন আছি দেখতে লারছিস লাকি|
বরষা ঝড়িছে,জল লেগেছে ভুইঞেঁ,
মেয়ে মরদে তাই তো এসেছি,
রাক্ষুষে মনে,বাচ্চাটাকে ঘরে এসেছি থুইয়ে|
এই কটাদিন তো যা রোজগার যা কামাই,
ফুরিন যাবে বেটা-বেটির পুজোর জামায়।
তা বাদ দে বুল ক-বিঘা তুর বটে|
মেয়ে- মরদে পুতিন দিব, মেশিনের মত চটপটে্|
১৫ বিঘা আছে আমা'র,
ভাইদের আরও ধর ষোলো,
সব কাজটা তোরাই করবি,
যদি পোত্ হয় ভালো|
তাহলে চল শিঘিরি,
ওহো হো তার আগে বল কত মজুরি?
খাবার দিবি? না লাল ঠেকো?
কাটা ছয়েক পুতিন দিব মাগ-ভাতার দুজনে,
জমির মাপটা সঠিক বুলিশ,পাপ রাখিসনে মনে|
--না না খাবার ছাড়,৪০০ টাকা লিবি,
আর ছয় লয়, সাত করে দিবি|
আরে বাবু ছয়তেই ছুটছে মোদের ঘাম,
২০ টাকা বাড়াইন দিস,বাস ভাড়ার দাম|
জলখাবারটা তুই দিয়ে যাস,সাথে বান্ডিল বিড়ি,
হাফ কাঠা বেশিই দেব,যা একদম ফ্রি|
সব ঠিকঠাক হতেই,
তারা বাবুটির পিছনে হাঁটা লাগালো,
মনে সেকি আনন্দ্, একটানা কয়েকদিন কাজ পাবে|
কয়দিন সুস্থ খাবারের জোগান পাবে,
বাচ্চাগুলো পুজোর সময়,নতুন কাপড় পড়বে,
মনে চিন্তা করতে করতে জমিতে এসে পৌঁছল..
বাবু,জমি দেখিয়ে দিলেন----
প্রতারনা হৃদয়,মুহূর্তে পনেরো বিঘা বারো হয়ে গেল।
বাবু জমির মাপটা ঠিক বুলছিস তো?
ভুল লাই তো কোন?
আমরা যদিও মূর্খ বটে,
জমির মাপের আন্দাজ আছে জেনো।
জমির মালিক চড়ালো মেজাজ,
তোদের ঠকাবো, কি ভাবিস মোরে,
যা যা ফিরে যা, আওয়াজ বাড়ল জোরে।
গরীব মানুষ ভেবে, দিলাম কাজের ফরমান,
তোরা অবিশ্বাস করে সাজাচ্ছিস বেইমান।
কাজ হারানোর আশঙ্কা,
খিদের অনলে দগ্ধ হওয়ার ভয়,
পুজোয় সন্ততিদের নতুন পোশাক পড়ানোর আকাঙ্ক্ষা,
বাবুর মিথ্যেকে সত্যি করার দায়িত্ব পেল।
হ্যাঁ, বাবু আমরাই ঠিকা কৃষিমজুর বুটে।
....................................
তন্ময় অধিকারী
গ্রাম+পোস্ট - কোমরপুর
থানা- কেতুগ্রাম
জেলা -পূর্ব বর্ধমান
পিন-৭১৩১২৯
হোয়াটসঅ্যাপ -৯৬০৯৬০৪৯৪৫
Comments
Post a Comment