পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!!
অরিন্দম পাল
সবাই হাজার হাজার টাকা পেয়ে যাচ্ছে, তার সাথে কত রকমের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে—কিন্তু আমার কথা না হয় বাদই দিলাম কিন্তু আমার গিন্নির যে কত অভাব, সেদিকে সরকারের কোনও ধ্যান নেই।
হয়তো সরকার ভাবছে, মাস্টারের বউয়ের আবার কিসের অভাব! এটা নিশ্চয়ই স্বভাব।
সত্যিই তাই—"ভাব, অভাব আর স্বভাব", এই তিন নিয়েই তো সংসার।
কিন্তু ওই যে বললাম, কেউ জানতেও চায় না আসলে কিসের অভাব। মানে, ওরা জানে না যে ওরা কিছু জানে না। তাই আজ উত্তম স্বামী হিসেবে গিন্নির হয়ে তার দুঃখের কথাগুলো আপনাদের জানিয়ে দিই। ভেবেছিলাম, সেন্সাস করতে এলে এগুলো লিখিতভাবে জমা দেব।
তাহলে সাহস করে বলেই ফেলি।
প্রথমত, ত্বকে ভিটামিন ডি-এর অভাব।
দ্বিতীয়ত, অক্সিজেনের অভাব।
তৃতীয়ত, জলের অভাব।
চতুর্থত, গ্লোর অভাব।
পঞ্চমত, ময়েশ্চারের অভাব।
ষষ্ঠত, অ্যান্টি-এজিংয়ের অভাব।
আরও আছে, সবকিছু তো আর সরকারি নথিতে লেখা যায় না!
একদিন সকালে গিন্নি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
— বলো তো, আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?
সংসারের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর ছায়া প্রকাশনী কিংবা রায় এন্ড মার্টিন এর সহায়িকায় পাবেন না। তাই নিরাপদ উত্তর দিলাম,
— তোমাকে তো প্রতিদিনই নতুন লাগে।
বউ খুশি হয়ে বলল,
— সত্যি?
তার পরক্ষণেই সেই স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে আবার বলল, —তুমি না দেখেই বললে বল?
ব্যস! তার সৌন্দর্যচর্চার সমস্ত আলো মুহূর্তে নিভে গেল।
আজও মনে পড়ে, গিন্নিকে পটানোর জন্য একসময় রাত জেগে মনের মাধুরী মিশিয়ে চিঠি লিখতাম। পাতার পর পাতা কবিতা লিখতাম। তখন মোবাইল ছিল, কিন্তু মিসড কল দেবার জন্য। কল করলেও পয়সা, কল ধরলেও পয়সা। তাই চিঠির ডালি নিয়ে গিন্নির বাড়ির সামনে ঘুরতে ঘুরতে পাড়ার নেড়ি কুকুরটার সঙ্গেও আমার বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিল। কুকুরটা অন্তত আমাকে দেখলে লেজ নাড়ত। কিন্তু গিন্নির তো নট নড়নচরণ।
এখন অবশ্য গিন্নির সৌন্দর্যচর্চার কাছে আমার সেই প্রেমপত্রগুলোও পরাজিত।
গিন্নির এই সৌন্দর্য চর্চাকে আমি কোন রকম ভাবেই বর্ণনা করতে পারি না। ব্যাপারটা না খুবই মজার।
সেই যে সুকুমার রায়ের “ছুটির হিসাব” ছড়াটা।
“মুখ ধুবো না ভাত খাবো না ঘুম যাব না আজকে রাতে---- “
এক রাতে দেখি, গিন্নি মুখে সবুজ কী একটা মেখে বসে আছে।
জিজ্ঞেস করলাম,
— ওটা কী?
বলল,
— মুলতানি মাটি। এটা গ্লো আনবে।
সকালে উঠে দেখি গ্লো তো আসেই নি, বদলে এসেছে ব্রণ।
গিন্নি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
— আমার মুখটা নষ্ট হয়ে গেল! এখন কী করব?
বাঙালি স্বামীর জন্মগত একটা ক্ষমতা আছে—ডাক্তার না হয়েও উপদেশ দেওয়া। গিন্নীকে বলেই ফেললাম ,
— চিন্তা কোরো না। বাসন মাজার তারের জালিটা আছে না? কাল যেটা কালুর দোকান থেকে নিয়ে এলাম। এখনো নতুন। ওটা দিয়ে একটু ঘষে দাও। ডিপ ক্লিনজিং, এক্সফোলিয়েশন, ডেড স্কিন রিমুভাল—সব একসঙ্গে হয়ে যাবে। শেষে মুখটা একেবারে স্টেইনলেস স্টিল ফিনিশ পাবে!
তারপর? তার আর পর নেই.....
আপনি কি ভাবছেন, আমি সত্যিই বলেছি। তাহলে আপনি বিয়ে করেননি মশাই।
---------------------
Comments
Post a Comment