Skip to main content

গল্প ।। শংকর ।। কানাই দাস





শংকর

কানাই দাস (আসাম)

 
 
 
              শ্মশানের চিতাটা দাউ দাউ করে জ্বলছে ।অপেক্ষা করছে আর একটা লাশের ।কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকটা হয়তো চলে আসবে। এভাবেই হয়তো জ্বলতে থাকবে একের পর এক লাশ ।এই লাশগুলোর দুঃখের কথা কেউ জানবে না। চিতার ছায়ভস্মের  সাথে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা সব নিঃশেষ হয়ে যাবে ।হাতে একটা 'ওল্ড মঙ্ক 'এর বোতল নিয়ে ভাবতে থাকে শংকর। শঙ্করের কানে ভেসে আসে এটি একটি 22 বছরের তরুনীর লাশ।না -কোনো অসুখে নয় ,বিবাহিত পুরুষকে ভালোবেসে না পাওয়ার ব্যর্থ বেদনা নিয়ে  হারিয়ে গেছে মেয়েটি। কয়েকজন শ্মশানের বাগানে বসে বিড়ি টানছে, আর বলছে- 'শালা বড়লোকদের দের মেয়ের পেছনটা বিড়ির পাছার মতই যতই চটকাবে ততোই একটা আলাদা গন্ধ বের হবে।' শংকর ভাবে -এই গন্ধের মধ্যেই তো রয়েছে ক্যান্সারের টান। হাতে বোতলটা শক্ত করে ধরে এগিয়ে যায় তাদের কাছে। কিন্তু সাহস করে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না। বোতলের মুখটাই একবার চুমু দিল। এদিকে বিড়িতে টান দিতে দিতে একজন বলে উঠল ,-
     কে কে ওখানে ?
      আমি, আমি শংকর । শংকর বাউরী।--
 তা দাদা আপনার হাতে কি? শংকর নিমিষের মধ্যে উত্তর দেয়--গঙ্গাজল সেবন করছি। শংকর এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে তাদের পাশে বসল । একজনকে জিজ্ঞাসা করল---আচ্ছা দাদা আপনারা কী ওই লাশটার সাথেই এসেছেন! একথা শুনা মাত্র সকলেই চুপ। একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিঃশব্দ ,নির্বাক স্রোতার মতো অবাক চোখে দেখতে থাকে শংকর কে। বোতলে এখনো অর্ধেকেরও বেশি মদ রয়েছে। ফটিক চাই-এর নজরটাও গিয়ে পড়েছে মদের বোতলের দিকে । মাতাল আর চাতালের মধ্যে  কোনো লজ্জা ঘৃণা ভয় থাকতে নেই। মাতালের মাল আর চাতালের চা দেখলেই জিব টা এমনিতেই বেরিয়ে আসে। ফটিক বলে বসে  ----দাদা এক চুমুক দেওয়া যাবে , উপর উপর মেরে দেবো ।বিড়ির কিছু আগুন ফটিকের তহবনে (লুঙ্গি )এসে গড়াগড়ি খাচ্ছে,তহবনের মধ্যে পড়ে থাকা আগুন একজন দু আঙ্গুল দিয়ে নেভাতে থাকে। কিছুক্ষণ আগেই বাংলা 60 র বেশ কয়েক বোতল গলকেষ্টনম করেছে এই চারজনে। তবুও নেশা এখনো হয়নি। একজন ফেলে দেওয়া বিড়িটা আবার জ্বালাতে থাকে। ফুকফুক করে জ্বলতে  থাকে বিড়িটা। কিছুক্ষণ নিরবতা থাকার পর -তৃতীয় ব্যক্তি বলে বসে ,----না দাদা ওটা একটা শহরের মালদারী মাল। ও কিছু নয়, সুসাইড কেস। দেখছেন না কতকগুলি সিভিক পুলিশ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই মোটা পেটলা মালটা -ওটা  পুলিশ অফিসার। বেশ কিছুদিন ধরে শঙ্করের একটা  জুজু ধরেছে- এই রকম মোটা পেটলা মানুষ দেখলেই তার যেন ভেতরে ভেতরে ভয়ের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই ফটিক শঙ্করের হাতে থাকা মদের বোতলটা নিয়ে দু-তিন ঢোক গটগট করে গিলে ফেলেছে।      
 
 ২

একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পাগলা নদী। নদীর ওপাশে আমবাগান। বাগানটা ঘন অন্ধকারে ঢেকে ফেলেছে। জল স্থির না স্রোত আছে তাও বোঝা যায় না। কচুরিপানা সমস্ত নদীটাকে দৈত্যের মতো গ্রাস করেছে। শ্মশান লাগোয়া নদীর পাশে পাশে কতকগুলি ফলক। যা কবর দেওয়ার পর বানানো হয়েছে। একটু আগেও ঘন অন্ধকারে এখানে মনে হচ্ছিল বসে কেউ যেন মদ খাচ্ছে। না। শংকর মোবাইলের টর্চটা জ্বেলে প্রত্যক্ষ করে নিল ওটা একটা কবরের ফলক। কোন সাধুর। শঙ্করের নজর চলে যায়, সেই পেট‌ওয়ালা মোটা মালটার দিকে। মনের মধ্যে বিড়বিড় করে বলতে থাকে মালটা কোথাও যেন দেখেছি। একটি শেয়াল তাদের পাশ দিয়ে সো করে বেড়িযে গেল। দুজন মাতাল নিজের নিজের লুঙ্গিটা শক্ত করে ধরে হো হো করে শেয়ালটার পিছু নিল । পড়ে থাকা অল্প মদের বোতলটা হাতে নিয়ে শংকর সেখান থেকে সরে পড়ল।

            শ্মশানের গেটলাগোয়া কতকগুলি পান ,বিড়ি ,সিগারেটের দোকান। আর গেটের মধ্যেখানে লেখা ,'মদ্যপ অবস্থায় শ্মশানে প্রবেশ করবে.. ....।'  'ন' এবং' না' অক্ষর দুটির চিহ্ন ও সংকেত কিছুই নেই।  তবু বুঝে নিতে হয়। শংকর বুঝে নেয এমত অবস্থায় তার ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। দুটো সিগারেট নিয়ে শংকর বেরিয়ে পড়ে শ্মশান লাগোয়া বাঁধের কাছে ল্যাম্পপোস্টের নিচে। সিগারেট ধরিয়ে ভাবতে শুরু করে দুই সন্তানের পিতা শংকর কিভাবে সংসার থেকেও সংসারচু্্যত।


                    স্ত্রী সুকুমারী বাউড়ি। বালুচর গ্রাম। ভালোবেসে শংকর তাকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ে করার পড়ো আগে কখনোই সে সুকুমারী নাম ধরে ডাকেনি। ভালোবেসে ডাকতো শংকরী। বিয়ে 2010 এপ্রিল সংখ্যা। সংখ্যা বলার কারণ, কেননা শঙ্করের এরপরেও অনেক অলিখিত বিয়ে হয়েছে। সদ্য মাস্টার ডিগ্রী পাস করে বিয়ের ল্যাটা চুকিয়ে ফেলে । বাবার জমিজামার কাজ ,পার্টির কাজ কিংবা পয়সা দিয়ে চাকরি নেওয়ার ব্যবস্থা সব কাজ সমানভাবে চালাতে থাকে। একরকম সুখের সংসার। বাড়ি থেকে মাত্র 500 মিটার দূরে শশুর বাড়ি। দুই শ্যালক , তাদের বউ, শশুর ,শাশুড়ি ,গ্রামের আত্মীয়-পরিজন নিয়ে একরকম সুখের দিন ছিল তার। মজা তামাশা ,রঙ্গ ,হাসি ,সব‌ই হত। কিন্তু গ্রাম্য পরিবেশে যখন কেউ কারো বাড়ি অতিরুক্ত ঘনঘন যায়, তখন সমাজের চোখে পড়তে শুরু করে। স্ত্রীর কানেও একথা আসতে থাকে। প্রথম প্রথম সুকুমারি ব্যাপারটা তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ব্যাপারটাকে, তিলকে তাল করে ফেলে। সুকুমারীর বৌদির প্রতি শঙ্করের দুর্বলতা প্রকাশ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মল্লযুদ্ধ। শংকর প্রথমে আমল না দিলেও তার মাত্রা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। ভালোবাসার সুতোর টান ক্রমশ শিথিল হতে থাকে। সুকুমারীর হাত থেকে লাটাই টি হারিয়ে যেতে থাকে, গ্রাম্য অর্ধশিক্ষিত সুকুমারী তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনা। আজ বছর সাতেক হল , শঙ্করের শ্বশুরবাড়ি আর যাওয়া হয়নি।
                  
    
                   মোবাইলটা অন করে সময় দেখে নেয় রাত্রি 8:45। পাসওয়ার্ড দিতে‌ই নোটিফিকেশনে প্রায়ই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। পঞ্চাশের উপরে মিসকলড। সবচেয়ে বেশি ফোন করেছে ছোটবোন রুমি। রুমিকে নিয়ম ও শঙ্করের চিন্তা---ধীরে ধীরে রুমির ও বযস বেড়ে যাচ্ছে। এ বছরের এপ্রিলে ঊনত্রিশে পা দেবে। ভালো একটা পাত্রের খোঁজ এখনও পাওয়া গেল না। মোবাইলের ওয়ালপেপারে নিজের ছবির দিকে তাকিয়ে শঙ্করের ঘৃণা বোধ হয়। 2017 এসএসসিতে দুইভাই বোনের চাকরির জন্য প্রায় 16 লক্ষ টাকাএক  দালালকে দেয়। কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট তাতেও জল ঢেলে দিয়েছে। ওল্ড মঙ্ক টা শেষ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য শংকর হাতের তালুতে বোতলের মুখ চেপে ধরে। মাত্র কয়েক ফোটা হাতের তালুতে এসে গড়াগড়ি খায়। দুই হাতের তালু এক জায়গা করে স্যানিটারাইজ করে নেয়। বাম হাতের তালু টা নাকের কাছে নিয়ে বেশ কয়েকবার সুগন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে। মোবাইল স্ক্রিনে আলোটা এখনো  জ্বলছে। এইতো কদিন আগে যেখানে রিয়ান ও আয়ানের ছবিটা একে অপরকে চুমু দিচ্ছিল। শঙ্করের জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবি। শংকর ভাবতে থাকে ,জীবনের সমস্ত সঞ্চয়ের পরিমাণ কত। জীবন বীমায় অন্তত ত্রিশ লক্ষ টাকা পাবে। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে আরও অন্তত পক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা । এসবের সমস্ত মালিক করে যাবে রিয়ান ও আয়ানকে। বাপটাও ক্যান্সারের ,'থার্ড  স্টেজে' দাঁড়িয়ে রয়েছে--হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই " বল হরি হরিবোল "হয়ে যাবে। এসময় বোনটার বিয়ে দেওয়ার খুব দরকার ছিল। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একমাত্র সাক্ষী রুমি। রুমি আবার তাকেই বেশি করে বকাঝকা করে। কখনো কখনো আবার প্রকৃত বন্ধুর মতো আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে রুমি। হতভাগী রুমি। পণের টাকাটাও দিয়ে দেয় চাকরির জন্য। ল্যাম্পপোস্ট থেকে 100 মিটার দূরে একটি শিমুল গাছ। একটি লক্ষ্মীপেঁচা ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রয়েছে শংকরের দিকে। ঠিক তার 70/ 80 মিটার দূরে শ্মশানের গেটটা। আবার একটি শবের  প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে। কতগুলি মানুষের হট্টগোল। রাম নাম সত্য হ্যায়,রাম নাম সত্য হ্যায় ,,বল হরি হরি বল, বল হরি হরি বল। শংকর এক-পা দু-পা করে এগিয়ে আসে শ্মশানের গেটের দিকে।       
                                                                                                                                                                      

                    এই ভিড়ের মধ্যে শংকর গেটের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পেছনের পকটে এ্ হাত দিয়ে পুরনো একটি মাস্ক বের করে। মাক্স টি মুখে পড়ে নেয়। তারপর ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু কোথায় গেল ওই মোটা পেটলা মানুষটা, পেছন দিক দিয়ে যাকে বড্ড চেনা চেনা লাগছিল তার। জনা এক-দেড়শ মানুষের ভিড়। লড়ি থেকে লাশটা নামানোর চেষ্টা চলছে।নিচে কয়েকজন অতি সতর্কতার সাথে লাশের দোলনার হাতা দুটো জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে। পাশে বছর 14 /15 এর একটি বালক ঠিমু ঠামু করে চিৎকার করছে। এক বুড়ো আরেক বুড়োকে ফিসফিস করে বলছে --বুড়ির একমাত্র সন্তান অনেকদিন আগেই মারা যায়। তারপর বৌমা বুড়ির ছেলের বন্ধুকে নিয়ে পালিয়ে যায় ।এই বুড়ি ছিল ছেলেটির মা বাবা। বাঁশের দোলনা নিয়ে এগিয়ে যায় চারজন মানুষ। গেটের সামনে আসতেই প্রায় 20/30 মিটার দূরে শবের বিশ্রামাগার ।ঘরটি মধ্যে পাঁচটি শব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘন্টাখানেক আগে এখানে চারটি ছিল ।এখন কমে তিনটি। আবার চারটি  শব ।শংকর এগিয়ে যেতে থাকে বাঁধানো শ্মশানের নদীর পাড়ে।  পাড়ের ঠিক উপরে একটি স্মৃতিসৌধ। সৌজন্যে সৌগত শর্মা। কোটিপতির একমাত্র সন্তান। পুত্রের প্রতি পিতার একমাত্র উৎসর্গ স্বরূপ নবরূপে রুপায়ণ এই শ্মশানটি। শংকর  ঘাটের বাঁধানো সিড়িতে পা দেয়। ঠামুর নতুন পুরাতন কাপড়গুলি বালকটি একটি ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলার আগে বার কয়েক বুকে জড়িয়ে ওই কাপড়েই দুটি চোখ মুছতে থাকে।  শঙ্করের দুচোখ দিয়ে জল বয়ে যেতে থাকে।


                    ঘাটের সিড়িতে বসে পড়ে শংকর। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা কাপড়গুলো ধীক ধীক করে জ্বলছে ।একটা আলাদা ধরনের গন্ধ নাকে এসে লাগছে। কতগুলি ব্যাঙ ও ঝিঝি পোকা একসাথে ডাকছে আর ডাকছে। কিছু লোক বালকটির চার পাশে দাঁড়িয়ে সান্তনা পুরস্কারের পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণ করে চলেছে। রায়ান আর আয়ানের মুখদুটি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে আর কেন য়েন উবে যাচ্ছে।  সাত জন লোক ঘাটের সিড়ি বেয়ে নদীর দিকে এগিয়ে চলেছে ।সাথে একজন পুরোহিত কী কী করণীয় তা বলছে আর হাতদুটো নাড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। ঘাটের নিচে পড়ে রয়েছে অসংখ্য ঘট ,মাটির তা ,প্রদীপ ছেঁড়া কাপড়  পোড়াকাঠ আর ও কত কী ! এগুলি মাড়িয়ে সাত জন লোক এক হাঁটু জলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিয়জনের আত্মা শান্তির জন্য বিসর্জন দিতে। হঠাৎ কানের মধ্যে প্রবেশ করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মোবাইলের রিংটোন ---মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া //রঙ্গিলা দেশের নাইয়া //মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া// বহুবার শংকর গানটা শুনেছে। কয়েকটা লাইন হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল-- কত সাধু গুরু ভাইসা গেল রে-- এই না নদীর পিছল ঘাট// ছয় রমনি দেখায় ঠাট //তাদের রূপ দেখিয়া যাইওনা ভুলিয়া রে নাইয়া //রঙ্গিলা দেশের নাইয়া// স্ত্রীর সাথে ঝগরা করে শংকর দুপুর বারোটায় না খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। আসার আগে স্ত্রীকে কথা দিয়ে এসেছে ,এই মুখ আর সে তার স্ত্রীকে দেখাবেনা ।কিন্তু  শঙ্করের মনের বল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ।এ জীবন তার নিজের, রায়ান ,আয়ানের ,তার বাড়িতে থার্ড স্টেজ দাঁড়িয়ে থাকা পিতার, তার মা, রুমির আর কারো নয়। শংকর এ সময় বিদিতাকে  বড্ড প্রয়োজন অনুভব করে। বিদিতা শঙ্করের বিবাহের পরবর্তী জীবনের পঞ্চমনারী ।বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্রী।


                 এক পা দু পা করে শংকর এগিয়ে যেতে থাকে শ্মশানের ডানদিকে ।দুটি অশ্বত্থ গাছ পাশাপাশি অবস্থান করছে, নদীর ঠিক পাশে। তার পাশ দিয়ে চলে গেছে চার পাঁচ হাতের বাঁধানো রাস্তা ।আর ঠিক ওই গাছের নিচেই রয়েছে একটি হরিবাসর। কতকগুলি সাধু ও কিছু শ্মশান যাত্রী যে যার উৎসাহ নিয়ে গান গেয়ে চলেছে--- হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো পার করো আমারে// অশ্বত্থ গাছটির পাশে রয়েছে একটি লোহার রেলিং-- শংকর হেলান দিয়ে লক্ষ করতে থাকে  গাছের ঝুরি সহ গুড়িটাকে। অসংখ্য মানুষের নেমপ্লেট-- যাতে নামসহ- জন্ম-মৃত্যু -ঠিকানা গুলি ঝুলছে বাঁদুর ঝোলার মতো। কোথায়‌ও  আবার লাল ওড়না জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাছের গুড়ির সাথে ।এভাবেই হয়তো অজস্র নক্ষত্র ঝড়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে ।যার সাক্ষী এই অশ্বত্থ  ‌ গাছ। হঠাৎ নজরে পড়ে বছর ৭৯ এর   শংকর মালাকারের নেমপ্লেটির  উপর । বছর 38 শংকর ভাবতে থাকে  এখনো তার‌ অনেক‌ আয়ু ।হাতের মুঠোফোনটা নিয়ে  শংকর নাড়তে থাকে। আবার পাসওয়ার্ডটা দিয়ে দেখে এবারেও প্রায় একশর উপরে মিসকলড্। সময় বারোটা পাঁচ ,তারিখ 12/01/2021। আর একটা নতুন দিনের সূচনা হয়ে গেছে। সেখান থেকে ২০/২৫ মিটার দূরে কতকগুলো সাধু যজ্ঞের জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে হাত দুটো বারবার প্রসারিত করে তাপ নিচ্ছে। শংকর‌ও  শরীরটা গরম করার জন্য এগিয়ে গেল তাদের কাছে।        
 

                 রাত্রি বারোটার পর‌ই ফোন করত বিদিতা ।বিদিতার ও কোন ফোন বা মেসেজ পাইনি আজ। বেশ কয়েকদিন ধরে বিদিতার সাথে তার দর কষাকষি চলছে ।বিদিতা তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে চায়। বিদিতা গুহ ,যার পিতা রমেন গুহ, একজন দুদে পুলিশ অফিসার। মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর থানার ওসি।বড়দা সায়ন কোচবিহারের দিনহাটা কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ।একরকম হাইপ্রোফাইল ঘরের মেয়ে বিদিতা। বিদিতার সাথে তার পরিচয় কল্যাণীর ঘোষপাড়ায় এক রেস্টুরেন্টে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেয় শংকর ।তারপর তাদের দুজনের মধ্যে চলতে থাকে  ফোনপকথন। শংকর ভালোবেসে নাম দেয় বিন্দি।


                   কয়েকজন সাধু শংকরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোন কথা না বলে বসে পড়ে ছেড়া পাটের বস্তার উপর। আগুনের আঁচ নেওয়ার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করে ।পাশেই রয়েছে কতকগুলি মন্দির। শংকর সূর্য মন্দিরের দিকে চলে আসে। আবার বুক পকেট থেকে মুঠোফোনটা বের করে। না আর কোন মিসকলড্ এলার্ট নেই ।স্কিনে থাকা ফেসবুকে বুড়ো আঙুলটা দাবায়।লক্ষ করতে থাকে , গত এক-দেড় মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টগুলি।  কত গান ,জীবনমুখী কথা, বাস্তবতার কত ক্ষতচিহ্ন। গতকাল তিন চারটি গান পোস্ট করে --ও চাঁদ আমার কি অপরাধ তুমি বলে দাও /ভালোবাসো আর নাইবা বাসো আমি তোমায় ভালোবেসে যাবো /আজ থেকে আর ভালবাসার নাম নেব না আমি।/ এইতো জীবন, হিংসা বিবাদ , লোভ, ক্ষোভ,  বিদ্বেষ,_---- চিতাতেই সব শেষ /হায় চিতাতেই সব শেষ ।চার্জ না থাকার জন্য মোবাইল ফোনটা অফ হয়ে যায়। সূর্যদেবের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে --বিদিতা তুমি আমার কর্ণকে ভালো রেখো,--- তুমি আমার কর্ণকে ভালো রেখো।


               বিদিতা জানতো শংকর বিবাহিত। তবুও কেন যেন তাকে ভালো লেগে যায়। বিদিতার  জীবনে শংকর হয়ে ওঠে মস্তরাম। 2019 এর আগস্ট প্রথম পরিচয় হয় তাদের। তারপর পুজোয় যখন বিদিতা বাড়ি আসে তখন দুজনে হাতে হাত রেখে শহরের মণ্ডপগুলো ঘুরে ছিল। প্রথম প্রথম শংকর বিদিতার ভালোবাসা গ্রহণ করেনি। কিন্তু বিদিতায় যখন বলে-- এই ভালোবাসার কথা তার বাড়ির কেউ কোনদিন জানতেপারবে না। বাড়তে থাকে তাদের ভালোবাসার রসায়ন। শুরু হয় পূর্বরাগ , অনুরাগ, অভিসার‌ও মাথুর এসবই চলতে থাকে মুঠাফোনের মাধ্যমে। তারপর শুরু হয় ফোনবাৎসায়ন। বিদিতা অডিও সেক্স করলেও ভিডিও সেক্স কোনদিন করেনি শংকরের সাথে। ভিডিও  সেক্সে ইতঃস্তত বোধ করত  বিদিতা। শংকর কে প্রায়ই ডেকে নিতো কলকাতার ফ্ল্যাটে। ওটা বিদিতার ই  ফ্লাট। দুজনে বসে এখানেই প্রথম তারা মস্তরাম ওয়েব সিরিজ টা পুরো দেখে এবং এক একটা  আসন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্র্যাকটিক্যালি করতে থাকে । প্রথম দুদিন কনডমেশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি দেখালেও পরে য়েন কেমন কেমন মনে হয়। তৃপ্তি পায় না বিদিতা। শঙ্করের ওয়ালেটে রাখা কনডম্ গুলো ছুঁড়ে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। তারপর মার্চ মাসে পুরো লকডাউন।বিদিতা আটকে পড়ে কলকাতায়। শংকর মালদায়। শুরু হয় বিরহ ।কেননা মস্তরামের নেশা তখনও কাটেনি তাদের ।তার উপরে হঠাৎ লকডাউন। প্রতিদিন সময় করে শংকর ফোন করে খোঁজখবর নিত।  প্রেমের গাঢ়ত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে । শুরু হয় আনলক ওয়ান /টু ।এর‌ই মধ্যে আবার শংকর কলকাতায় যায় ।এবারে প্রায় 12 দিন থাকে। সময়টা সেপ্টেম্বরের প্রথম । 'কভিদ' ১৯ এর প্রকোপ, ফ্ল্যাটের বাইরে যেতে পারিনি শংকর। কোনরকম প্রটেকশন ছাড়াই বাৎসায়নের কামসূত্র অধ্যায়ণ করতে থাকে দুইজনেই। অক্টোবরে বিন্দির সাথে শেষ দেখা হয় তার। সেইবার পুজোয় কয়েক দিনের জন্য সে মালদায় আসে। এখানেও বেশ কয়েকবার শারীরিক মিলন হয় দুজনের। তারপর চলে যায় কলকাতায় ।ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার আসে বিন্দি মালদায় ।ধরা পড়ে মায়ের হাতে ।প্রেগনেন্ট।


              সূর্য মন্দির থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে। কোথায় গেল সেই মোটা পেটলা মানুষটা। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে হরিবাসরের দিকে ।কয়েকজন সিভিক পুলিশ একজনকে ঘিরে ধরে বসে আছে ।সকলেই চুপচাপ। মধ্যে বসে থাকা রমেন বাবু গম্ভীর স্বরে একজন সিভিক পুলিশের নাম ধরে ডাকছে আর বলছে, আরে ও হাবলা, কোথায় গেলিরে ,,দেখ না ব্যাটাদের হয়েছে কিনা। প্রথম দিন জয়েন করে ও শালা শান্তি পেলাম না। বাড়া জঙ্গিপুর‌ই ভালো ছিল ।এই  সৌমেন দেখে আইতো  কি হলো? শঙ্করের গালভরা দাড়ি ,তার উপরে মুখে মাক্স। শংকর চিনতে পারল মোটা পাতলা মালটা বিদিতার  বাবা ।বিদিতা  অনেকদিন আগেই বলেছে বাবার ট্রানস্ফার টা 2019 এর শেষে না হলে 2020 শুরুতে হয়ে যাবে। তারপর তো চলে আসে একটা পেন্টানিক সিচুয়েশন গোটা বিশ্বে শুরু হয় লকডাউন ।তবে কি গতকালই তিনি জয়েন করেছেন! হবে হয়তো !তার উপরে পশ্চিমবঙ্গে যা চলছে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে ভুড়ি ভুড়ি মানুষ ট্রানস্ফার নিয়ে বাড়ির কাছে চলে আসছে । লাল টুপি যতদিন ছিল শঙ্করের কদরও ছিল ব্লকে সবার আগে। তারা কয়েকজন মিলে সমস্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিত এবং তা জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিত। সেই সময়টা বড্ড ভালো কেটেছে তার। নোকিয়া 1108 সেটটার কথা এখনো ভুলতে পারেনা শংকর। প্রথম মোবাইল, দিনে শ দুয়েক এরও বেশি ফোন আসতো তার কাছে। কত মানুষের কত রকম ভাবে সাহায্য করেছে, সে নিজেও জানে না। এসএফআইয়ের দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতা হয়ে উঠেছিল। তারপর জেলা কমিটি থেকে ধীরে ধীরে যুব তে প্রবেশ। একটা পরিচিতি নাম হয়ে উঠেছিল জেলার নেতাদের কাছে। 2011 পালাবদল। কিন্তু শঙ্কর নীতি এবং আদর্শ কোনটাই বিসর্জন দিতে পারেনি। বর্তমানে সবুজ এবং গেরুয়া পুরো পশ্চিমবঙ্গ ছেয়ে গেলেও শংকর এখনো লাল টুপি পরে বসে আছে। ব্যর্থ এক আশা নিয়ে-- হাত নাকি কাস্তে ধরেছে। সবুজের দাপটে প্রায় দু বছর হয়ে গেল রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলেছে। এতদিন লাল ঝান্ডা টা থাকলে হয়তো ভালো একটা জায়গা করে নিতে শংকর। না,রমেন বাবু তাকে চিনতে পারিনি। ভালো হয়েছে -চিনতে পারলে কোমরের রাখা পিস্তলটির একটি গুলি তার বুকের এপার ওপারে একটা সুরঙ্গ তৈরি করে চলে যেত। শঙ্করের সবচেয়ে বেশি ভয় হয় এই মানুষটাকে ।রাতের পর রাত ঘুমের মধ্যেও আসতে থাকে এই মানুষটা ।শংকর ডিপ্রেসড ।নিজেকে আলাদা জগতের মানুষ তৈরি করে ফেলে। দ্রুত আবার চলে যায় মন্দিরগুলোর দিকে ।মন্দিরের গায়ে লাগানো নেমপ্লেট গুলোর উপর লোকদেখানো চোখ বোলাতে থাকে ।একটি  কে নিজের নেমপ্লেট ভাবতে থাকে। তার মদের নেশা টা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।                                                                                                  
 ৫

               মাথাটা এখনো ধরে আছে। প্রচন্ড যন্ত্রণা অনুভব করে। কেউ যেন মাথায় লোহার হাতুড়ি মেরে চলেছে ।প্রচন্ড শীত কুয়াশায়, অন্ধকারের মাত্রাটা আরও বেড়ে গেছে। শীত শ্মশানের  চারিদিকটা চক্রব্যূহ তৈরি করে ফেলেছে। নদীর এপাশ-ওপাশ করে চলেছে কতকগুলি নাম না জানা পাখি। শ্মশানের অস্পষ্ট আলো নদীতে পড়ছে ।পাখিরা কোন  লৌকিক- অলৌকিক বার্তার অপরূপ স্পর্শ  নিয়ে চলছে । অগ্রাহণের শেষ আর পৌষের শুরুর দিকে কিছু অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই পাগলা নদীতে ।ঠান্ডা বাতাস,  শক্ত মাটি আর মৃত্যুপ্রায় গাছগাছালিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে শ্মশানটা। ভীষণ ঠান্ডা অনুভব করতে থাকে ।মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুলের উপর বরফের আস্তরণ তৈরি করে ফেলেছে। না,, কিছু একটা শরীরে দিতে হবে।
            
       
              সন্তর্পনে পা ফেলে শংকর এগিয়ে আসে শবের ছুড়ে ফেলা কাপড় গুলির ডাস্টবিন টার দিকে ।যদি একটা কম্বল পাওয়া যায় ।ডাস্টবিনটার পাশেই পড়ে রয়েছে কতগুলো কাপড়, তার মধ্যে রয়েছে একটি কম্বল। শরীরে ভীষণ ঠান্ডা লাগায় খপাৎ করে কম্বলটা উঠিয়ে নেয় এবং সারা শরীরে জড়িয়ে দেয়।শব  বিশ্রামাগারের  পাশে থাকা কয়েকজন লক্ষ করতে থাকে আর নিজেরা মাস্ক না পড়ায় অনুশোচনা করতে থাকে, শালা পাগলেও  তার ভাল বুঝে। ধীরে ধীরে শংকর শ্মশানের গেটটা দিয়ে বেড়িয়ে পড়ে। শ্মশানের  বাঁধটা দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। অল্প দূরেই শ্মশানের বাজারটা। শ্মশান যাত্রীদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে এখানে। গতকাল গঙ্গাজল আর কতগুলি আঙ্কেল চিপস, বিড়ি, সিগারেট ছাড়া কিছুই খাওয়া হয়নি তার ।পেটে ভীষণ খিদে ।।কিছু শ্মশান যাত্রী একটা দোকানে ভোজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখাগ্নি করা মানুষটা কিছু লুচি,সবজি, মিষ্টি, বোঁদে শালপাতার থালায় নিয়ে সঙ্গে এক গ্লাস জল ,একটা নিরিবিলি স্থানে দিতে যাচ্ছে ।পেছনে পেছনে কতগুলি কুকুর , শংকর ও ওদের দলে এগিয়ে যেতে থাকে। খাওয়ার দেওয়ার পর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না, লোকটি খাওয়ার থালা টা রেখে হন হন করে দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।  হাতে একটি ছোট লাঠি নিয়ে কুকুরগুলোকে তারা করে গ্লাস সহ থালা টা নিয়ে একটু দূরে খেতে থাকে। খেতে খেতে গরম অনুভব করে -- তরুণীর কম্বলটা শরীরে ফেভিকুইক আঠার মতো জড়িয়ে ধরেছে।
খাওয়া শেষ ।না --এখানে আর থাকা যাবে না, হাঁটতে হাঁটতে চলে ব্রিজ টার দিকে।     
 
 

                শ্মশান থেকে বাবা ফিরে এসেছে ।মায়ের ঘরে ফিসফিস করে বলছে , মেয়েটা কিছু খেয়েছে, মেয়েটা না ওর শ্মশানের চিতাটা সাজিয়ে আসব। ভেবোনা মেয়েকে একা বিদায় দেব -_----সঙ্গে তোমারও রাম নাম সত্য করে দেব। সারা জীবন শুধু অর্থ সঞ্চয় করে গেলাম দুহাতে, কিন্তু তুই সামান্য একটা দায়িত্ব পালন করতে পারলি না। দরজাটা খোলা রেখেই মাকে বকছে -- আমার বিছানার পাশে জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, বাবা-মায়ের পাছায় রিভলভারটা লাগিয়ে পৃথিবীর সমস্ত অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে চলেছে। তারমধ্যে একটি বাক্য বেশ কয়েকবার বলতে থাকে রেগে রেগে --শালী তোর এই দিক দিয়ে ঢুকিয়ে এমন করে বের করবো যে তোর ফুটোটা কাউকে দেখাতে পারবিনা। কতবার বলেছি মাগী মেয়েটার কাছে থাক, শুনলি না। এখন বুঝ,  তুইতো চার দেওয়ালের মধ্যে থাকবি, কিন্তু আমি-- বিদিতার চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে। নিজেকে নিজেই এর জন্য দোষী মনে করে ।শঙ্করের সংসার ও তার নিজের পরিবার ,সব মিলিয়ে 12 জন মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। না ,,সুসাইড করতে পারবে না ।একা থাকলে সম্ভব ছিল ।কিন্তু সে অন্তঃসত্ত্বা। কোন এক আগন্তুকের মা ।তাকে বেঁচে থাকতেই হবে ।একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।মোবাইলটা বের করে এখনি একটা ফোন করবে শংকরকে ।বাবা-মায়ের ঝগড়ায় হৃদয়টা  ভূকম্পনের মতো কেঁপে ওঠে ।নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যায়। হাতে রাখা মোবাইলটাও কাঁপতে থাকে। এতদিন মাকেই  দেখতো বাবাকে নানা বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছে,,কিন্তু কিছুদিন থেকে মা নির্বাক শ্রোতার মত বাবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে--- আর বাবা নিরহ বোবা জন্তুর মত মায়ের উপর অত্যাচার করে ।না ফোন নয়, একটা হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ ::
       "আমি আমার সমস্ত             জায়গা থেকে তোমাকে  ব্লক করলাম --------
           দাড়ি কমা হীন  শূন্যস্থান যুক্ত একটি হৃদয় ভাঙ্গা বাক্য।                                                                     ব্রিজের এক পাশে হেলান দিয়ে বসে পড়ে। কম্বলটা মাথা পর্যন্ত মুড়ে দেয়। দুটো চোখ কম্বলের ফাঁকে বিড়ালের চোখের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকে।  ব্রিজটার ওপাশে দুটি পাগল পাগলী-- পাগলটি পাগলীটির বুকের মাঝখানে নিজের মাথাটা রেখে দিয়েছে -,পাগলীটি দুই হাত দিয়ে তার মাথার চুলগুলো  আঁচড়াতে থাকে ।একটা কম্বল দুজনে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। মাঝে মাঝে কপালে চুমু দিতে থাকে। লজ্জা রাঙ্গা টিয়ার মত মুখ সরিয়ে নেয় পাগল ।ভালোবাসার রাগ- অনুরাগ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। দুটি পারিজাত ফুল ব্রিজের উপর লুটোপুটি করতে থাকে। শংকর মুচকি হাসে আর হাসে-- নিয়তি আমার ভাগ্য নিয়ে এমন খেলা খেলছে বেদনার বালুচরে ।না, আর পারছে না ।চোখটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।বিড়বিড় করে বলতে থাকে বিদিতা, বিদিতা, বিদিতা, বিদিতা , বিন্দি ,বিন্দি ,বিন্দি, বিন্দি,হে কৃষ্ণ ,হে কৃষ্ণ ,হেকৃষ্ণ পৃথিবীর কত মানুষ  পাতার মতো ঝরে যাচ্ছে ,আমি কেন নয়? আমি কেন নয়?কাল বাদ পরশু পৌষপার্বণ ।গঙ্গাস্নানের মেলা। হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ টায়ইআশ্রয় নেবে
। সকাল হলে কেউ জানবে না আজ রাতে শংকর এখানে ছিল। হালকা বাতাস গায়ে শিরশির করে এসে লাগছে।কম্বলের ভিতরে একটা আলাদা ধরনের সুগন্ধ বেরিয়ে আসতে থাকে। না কোন পারফিউমের সুগন্ধ নয়। পারফিউম আর মৃত দেহের গন্ধ একসাথে মিলেমিশে এক আলাদা কাম উত্তেজক সুগন্ধির মত হয়ে গেছে । তার স্পর্শ করা নারীদের শরীরের গন্ধ এক জায়গায় করলে যা দাঁড়ায় ।সে জড়িয়ে ধরে কম্বলটাকে। যতটা হাতের জোড় খাটাতে পারে। আবার উঠে পড়ে। সামনের দিকে এগোতে থাকে। কিছুদূর এগিয়েই রয়েছে বিরামপুর অনাদি চরণ মেমোরিয়াল ডি. ইএল .ই ডি. কলেজ। তার সামনে রয়েছে একটি প্রাচীন বটগাছ ।বহু পুরনো। পায়ে এক পাটি জুতো পড়ে এগিয়ে যেতে থাকে। বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই গাছটার নিচে ।কত মেলা আর লোকগানের আসর বসত এই গাছটার তলায়।নিচে একটি চায়ের দোকান ,এখানে কত নাম না জানা মানুষ, সাধুরা চা খেতে খেতে কত বিচিত্র ধরনের আলোচনা করত ।পাশেই একটি আমের আড়ত ।আমের সময় মালদহের সব রকমের আম এখানে পাওয়া যায় ।   কত ধরনের আম য়ে এখানে কেনাবেচা হয়, তা বলা খুব মুশকিল। সেই ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেয়।সুরেলা ফজরের নামাজ শুরু হয়ে গেছে -- তিন চারটি মসজিদের আল্লাহ হুয়াকপার আল্লাহ ,/আল্লাহ হুয়কপার আল্লাহ---- শব্দগুলো একে অপরকে তীরের ফলার মতো বিধছে --কিছুটা উপরে যাচ্ছে আর কিছুটা নিচের মানুষের কানে প্রবেশ করছে। ফজরের আজান শুনতে শুনতে শংকর সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায়

সেই লাল ফ্রকটা সৈকত প্রসাদ রায়  বৃদ্ধাশ্রমের পশ্চিম দিকের জানলাটা বিকেলের রোদে একটু লালচে হয়ে থাকে। সেই জানলায় ঠেস দিয়ে বসে থাকেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা,  তাঁর নাম জবা, কিন্তু এখানে সবাই তাঁকে 'বোবা মা' বলে ডাকে। আজ কুড়ি বছর হলো একটি দুর্ঘটনায় সে কথা বলার শক্তি চিরতরে হারিয়েছে । তাঁর ডান হাতটা অসাড়, পক্ষাঘাতে কুঁচকে গেছে আঙুলগুলো। কিন্তু তাঁর বাম হাতটি সবসময় বুকের কাছে একটি পুরনো, বিবর্ণ পলিথিন জাপটে ধরে থাকে। কেউ জানে না ওই পলিথিনের ভেতরে কী এমন মহার্ঘ্য বস্তু লুকিয়ে রেখেছেন তিনি। জবার স্মৃতিগুলো আজ বড় বেশি জীবন্ত হয়ে উঠছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ পঁচিশে বৈশাখ হতে পারে, কিন্তু জবার মনের ক্যালেন্ডারে আজ তাঁর মেয়ে 'খুশি'র জন্মদিন। ফিরে যাওয়া যাক পঁচিশ বছর আগের এক বসন্তের রাতে। জবা তখন টগবগে তরুণী, তবে কপালটা তাঁর পোড়া। স্বামী মারা গেছেন খুশির জন্মের ছ'মাসের মাথায়। লোকের বাড়িতে বাসন মেজে, ধান সেদ্ধ করে জবা বড় করছিলেন তাঁর একমাত্র প্রাণভ্রমরা খুশিকে। খুশির বয়স তখন সাত। বায়না ধরেছিল, "মা, দোকানে ওই যে লাল ফ্রকটা ঝুলে আছে, ওটা আমায় কিনে দেবে?" জবা সেদিন কথা দিয়েছিলেন...

নারীকে আমি যেমন দেখি ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য

নারীকে আমি যেমন দেখি কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য শুধু নারী নিয়ে লিখতে আমার ভারি আপত্তি। না না আমি নারী বিদ্বেষী নয়। বরং উলটো। নারী যদি আড়ি করে, মন খারাপ,  আর মন ভারী আমার পিছন ছাড়ে না। কিন্তু নর, নারী নিয়ে লিখলে আমার মনে হয় পক্ষপাতদুষ্ট হবে , অর্থাৎ পুরুষ নারী কে ফ্লার্ট বা মাখন লাগাতে ব্যস্ত থাকবে। আসল কথা প্রকাশে বিরত  অথবা গার্জিয়ানগিরি দেখানোর লক্ষণ প্রকট হবে। আর নারী যদি নারী নিয়ে লেখেন, তা'হলে সোনায় সোহাগা। শতাংশের হিসাব জানিনা, তবে অর্ধেকের বেশি নারী, তাদের নিয়ে না লিখে পুরুষদের অসহযোগিতা নিয়ে প্রবন্ধ লিখতে শুরু  করবেন। যে ভারসাম্যের বা বোঝাপড়ার দরকার নারী পুরুষের মধ্যে, সেটার বড় অভাব। আন্তর্জাতিক নারী দিবস হোক বা প্রতিদিনের দিনযাপন, আজকের যুগ আগের মত নয়। এখন ''ডবল ইঞ্জিন সরকার", বেশিরভাগ পরিবারে। আর সেভাবেই আজকের প্রজন্মের নারী পুরুষ নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছে। এই তৈরি করা কিন্তু বললাম আর তৈরি হয়ে গেল এমনটা নয়। একটু একটু করে অল্প বয়স থেকে পরিবেশ, প্রকৃতি আর পারিবারিক শিক্ষা যেটা জেনেটিক, নারী পুরুষ দুজনের মধ্যে পরিবর্তন আনে। তাতে ঝগড়া, মনোমালিন্য হবেই।...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া ।। নবপ্রভাত বইমেলা 2023 সংখ্যা ।। সোমা চক্রবর্তী

পাঠ-প্রতিক্রিয়া : নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৩ সংখ্যা সোমা চক্রবর্তী  (কালিকাপুর, বারাসাত,উত্তর চব্বিশ পরগনা) লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় যাওয়া এবার সম্ভব হল না। কয়েকদিন আগে ডাক যোগে হাতে পেয়েছি নবপ্রভাত এর মুদ্রিত বইমেলা সংখ্যা। একটি অণুগল্প নিয়ে আমিও সেখানে রয়েছি অন্যান্য প্রিয় লেখকদের সঙ্গে। কাজেই, উৎসাহ একটু বেশিই রয়েছে। সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধ লিখিত পাঠ প্রতিক্রিয়া চাই। তাই আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেললাম বইটি। নবপ্রভাত এর যে ব্লগ বা ওয়েব ম্যাগাজিন (ব্লগজিন) এর সঙ্গে আগে থেকেই আমি পরিচিত, এ ক্ষেত্রে তার কথা একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতি বাংলা মাসের এক তারিখে প্রকাশিত প্রতিটি সংখ্যারই প্রবন্ধ অংশটি অত্যন্ত উন্নত মানের হয়ে থাকে। যেমন বিষয় নির্বাচন, তেমনই তথ্য সমৃদ্ধ। মুদ্রিত সংখ্যাটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচটি প্রবন্ধের প্রত্যেকটিই উৎকৃষ্ট। বিষয় এবং তথ্য আমাদের ভাবায়। "যুদ্ধ-কবিতা এবং কবিতায় যুদ্ধবিরোধ" প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে এবং উল্লিখিত কবিতার ভেতর দিয়ে আমরা দেখতে পাব, মধ্যযুগের বীরগাথামূলক কাব্য এবং মহাকাব্যের হাত ছেড়ে কেমন করে কবিতা ছোট পাকদন্ডী বেয়ে চল...

নারী এখন ।। দেবব্রত মন্ডল

নারী এখন দেবব্রত মন্ডল  নারী এখন নির্বাচনের পোস্টার— দেয়ালের গায়ে গায়ে তার হাসিমুখের প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে সে এক নিরাপত্তাহীন দেহ, অন্ধ গলির অন্ধকার যাকে প্রতিদিন অনুসরণ করে। তার সম্মান মঞ্চভরা স্লোগান, তার বিচার ধুলো জমা ফাইলের ভেতর নীরব অপেক্ষা। রাস্তায় সে ভয়ের ছায়া মেপে হাঁটে, ঘরে ফিরে নীরব কান্না লুকিয়ে রাখে বালিশের নিচে। এই সমাজে নারী হওয়া মানে— প্রতিটি সকাল একটি নতুন আশঙ্কা, প্রতিটি রাত একটি অসমাপ্ত যুদ্ধ। তবু সে বেঁচে থাকে— স্বপ্ন, লজ্জা, ক্ষত সবকিছু বুকে নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠার অদম্য লড়াইয়ে।

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...

নারী ।। চন্দন মিত্র

নারী চন্দন মিত্র   কিনে আনি চালডাল তরিতরকারি আরো কিনি তেলনুন যা যা দরকারি,   এটুকুই কাজ আমার কোনোমতে সারি।     অগোছালো ভুলো-লোক       ঈষৎ আনাড়ি   তবু পরিপাটি থাকি,   যা যা দরকারি অনায়াসে মিলে যায়     ঘরে আছে নারী। ........................    চন্দন মিত্র ডায়মন্ড হারবার

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...