Skip to main content

গল্প ।। শংকর ।। কানাই দাস





শংকর

কানাই দাস (আসাম)

 
 
 
              শ্মশানের চিতাটা দাউ দাউ করে জ্বলছে ।অপেক্ষা করছে আর একটা লাশের ।কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকটা হয়তো চলে আসবে। এভাবেই হয়তো জ্বলতে থাকবে একের পর এক লাশ ।এই লাশগুলোর দুঃখের কথা কেউ জানবে না। চিতার ছায়ভস্মের  সাথে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা সব নিঃশেষ হয়ে যাবে ।হাতে একটা 'ওল্ড মঙ্ক 'এর বোতল নিয়ে ভাবতে থাকে শংকর। শঙ্করের কানে ভেসে আসে এটি একটি 22 বছরের তরুনীর লাশ।না -কোনো অসুখে নয় ,বিবাহিত পুরুষকে ভালোবেসে না পাওয়ার ব্যর্থ বেদনা নিয়ে  হারিয়ে গেছে মেয়েটি। কয়েকজন শ্মশানের বাগানে বসে বিড়ি টানছে, আর বলছে- 'শালা বড়লোকদের দের মেয়ের পেছনটা বিড়ির পাছার মতই যতই চটকাবে ততোই একটা আলাদা গন্ধ বের হবে।' শংকর ভাবে -এই গন্ধের মধ্যেই তো রয়েছে ক্যান্সারের টান। হাতে বোতলটা শক্ত করে ধরে এগিয়ে যায় তাদের কাছে। কিন্তু সাহস করে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না। বোতলের মুখটাই একবার চুমু দিল। এদিকে বিড়িতে টান দিতে দিতে একজন বলে উঠল ,-
     কে কে ওখানে ?
      আমি, আমি শংকর । শংকর বাউরী।--
 তা দাদা আপনার হাতে কি? শংকর নিমিষের মধ্যে উত্তর দেয়--গঙ্গাজল সেবন করছি। শংকর এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে তাদের পাশে বসল । একজনকে জিজ্ঞাসা করল---আচ্ছা দাদা আপনারা কী ওই লাশটার সাথেই এসেছেন! একথা শুনা মাত্র সকলেই চুপ। একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিঃশব্দ ,নির্বাক স্রোতার মতো অবাক চোখে দেখতে থাকে শংকর কে। বোতলে এখনো অর্ধেকেরও বেশি মদ রয়েছে। ফটিক চাই-এর নজরটাও গিয়ে পড়েছে মদের বোতলের দিকে । মাতাল আর চাতালের মধ্যে  কোনো লজ্জা ঘৃণা ভয় থাকতে নেই। মাতালের মাল আর চাতালের চা দেখলেই জিব টা এমনিতেই বেরিয়ে আসে। ফটিক বলে বসে  ----দাদা এক চুমুক দেওয়া যাবে , উপর উপর মেরে দেবো ।বিড়ির কিছু আগুন ফটিকের তহবনে (লুঙ্গি )এসে গড়াগড়ি খাচ্ছে,তহবনের মধ্যে পড়ে থাকা আগুন একজন দু আঙ্গুল দিয়ে নেভাতে থাকে। কিছুক্ষণ আগেই বাংলা 60 র বেশ কয়েক বোতল গলকেষ্টনম করেছে এই চারজনে। তবুও নেশা এখনো হয়নি। একজন ফেলে দেওয়া বিড়িটা আবার জ্বালাতে থাকে। ফুকফুক করে জ্বলতে  থাকে বিড়িটা। কিছুক্ষণ নিরবতা থাকার পর -তৃতীয় ব্যক্তি বলে বসে ,----না দাদা ওটা একটা শহরের মালদারী মাল। ও কিছু নয়, সুসাইড কেস। দেখছেন না কতকগুলি সিভিক পুলিশ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই মোটা পেটলা মালটা -ওটা  পুলিশ অফিসার। বেশ কিছুদিন ধরে শঙ্করের একটা  জুজু ধরেছে- এই রকম মোটা পেটলা মানুষ দেখলেই তার যেন ভেতরে ভেতরে ভয়ের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই ফটিক শঙ্করের হাতে থাকা মদের বোতলটা নিয়ে দু-তিন ঢোক গটগট করে গিলে ফেলেছে।      
 
 ২

একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পাগলা নদী। নদীর ওপাশে আমবাগান। বাগানটা ঘন অন্ধকারে ঢেকে ফেলেছে। জল স্থির না স্রোত আছে তাও বোঝা যায় না। কচুরিপানা সমস্ত নদীটাকে দৈত্যের মতো গ্রাস করেছে। শ্মশান লাগোয়া নদীর পাশে পাশে কতকগুলি ফলক। যা কবর দেওয়ার পর বানানো হয়েছে। একটু আগেও ঘন অন্ধকারে এখানে মনে হচ্ছিল বসে কেউ যেন মদ খাচ্ছে। না। শংকর মোবাইলের টর্চটা জ্বেলে প্রত্যক্ষ করে নিল ওটা একটা কবরের ফলক। কোন সাধুর। শঙ্করের নজর চলে যায়, সেই পেট‌ওয়ালা মোটা মালটার দিকে। মনের মধ্যে বিড়বিড় করে বলতে থাকে মালটা কোথাও যেন দেখেছি। একটি শেয়াল তাদের পাশ দিয়ে সো করে বেড়িযে গেল। দুজন মাতাল নিজের নিজের লুঙ্গিটা শক্ত করে ধরে হো হো করে শেয়ালটার পিছু নিল । পড়ে থাকা অল্প মদের বোতলটা হাতে নিয়ে শংকর সেখান থেকে সরে পড়ল।

            শ্মশানের গেটলাগোয়া কতকগুলি পান ,বিড়ি ,সিগারেটের দোকান। আর গেটের মধ্যেখানে লেখা ,'মদ্যপ অবস্থায় শ্মশানে প্রবেশ করবে.. ....।'  'ন' এবং' না' অক্ষর দুটির চিহ্ন ও সংকেত কিছুই নেই।  তবু বুঝে নিতে হয়। শংকর বুঝে নেয এমত অবস্থায় তার ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। দুটো সিগারেট নিয়ে শংকর বেরিয়ে পড়ে শ্মশান লাগোয়া বাঁধের কাছে ল্যাম্পপোস্টের নিচে। সিগারেট ধরিয়ে ভাবতে শুরু করে দুই সন্তানের পিতা শংকর কিভাবে সংসার থেকেও সংসারচু্্যত।


                    স্ত্রী সুকুমারী বাউড়ি। বালুচর গ্রাম। ভালোবেসে শংকর তাকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ে করার পড়ো আগে কখনোই সে সুকুমারী নাম ধরে ডাকেনি। ভালোবেসে ডাকতো শংকরী। বিয়ে 2010 এপ্রিল সংখ্যা। সংখ্যা বলার কারণ, কেননা শঙ্করের এরপরেও অনেক অলিখিত বিয়ে হয়েছে। সদ্য মাস্টার ডিগ্রী পাস করে বিয়ের ল্যাটা চুকিয়ে ফেলে । বাবার জমিজামার কাজ ,পার্টির কাজ কিংবা পয়সা দিয়ে চাকরি নেওয়ার ব্যবস্থা সব কাজ সমানভাবে চালাতে থাকে। একরকম সুখের সংসার। বাড়ি থেকে মাত্র 500 মিটার দূরে শশুর বাড়ি। দুই শ্যালক , তাদের বউ, শশুর ,শাশুড়ি ,গ্রামের আত্মীয়-পরিজন নিয়ে একরকম সুখের দিন ছিল তার। মজা তামাশা ,রঙ্গ ,হাসি ,সব‌ই হত। কিন্তু গ্রাম্য পরিবেশে যখন কেউ কারো বাড়ি অতিরুক্ত ঘনঘন যায়, তখন সমাজের চোখে পড়তে শুরু করে। স্ত্রীর কানেও একথা আসতে থাকে। প্রথম প্রথম সুকুমারি ব্যাপারটা তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ব্যাপারটাকে, তিলকে তাল করে ফেলে। সুকুমারীর বৌদির প্রতি শঙ্করের দুর্বলতা প্রকাশ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মল্লযুদ্ধ। শংকর প্রথমে আমল না দিলেও তার মাত্রা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। ভালোবাসার সুতোর টান ক্রমশ শিথিল হতে থাকে। সুকুমারীর হাত থেকে লাটাই টি হারিয়ে যেতে থাকে, গ্রাম্য অর্ধশিক্ষিত সুকুমারী তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনা। আজ বছর সাতেক হল , শঙ্করের শ্বশুরবাড়ি আর যাওয়া হয়নি।
                  
    
                   মোবাইলটা অন করে সময় দেখে নেয় রাত্রি 8:45। পাসওয়ার্ড দিতে‌ই নোটিফিকেশনে প্রায়ই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। পঞ্চাশের উপরে মিসকলড। সবচেয়ে বেশি ফোন করেছে ছোটবোন রুমি। রুমিকে নিয়ম ও শঙ্করের চিন্তা---ধীরে ধীরে রুমির ও বযস বেড়ে যাচ্ছে। এ বছরের এপ্রিলে ঊনত্রিশে পা দেবে। ভালো একটা পাত্রের খোঁজ এখনও পাওয়া গেল না। মোবাইলের ওয়ালপেপারে নিজের ছবির দিকে তাকিয়ে শঙ্করের ঘৃণা বোধ হয়। 2017 এসএসসিতে দুইভাই বোনের চাকরির জন্য প্রায় 16 লক্ষ টাকাএক  দালালকে দেয়। কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট তাতেও জল ঢেলে দিয়েছে। ওল্ড মঙ্ক টা শেষ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য শংকর হাতের তালুতে বোতলের মুখ চেপে ধরে। মাত্র কয়েক ফোটা হাতের তালুতে এসে গড়াগড়ি খায়। দুই হাতের তালু এক জায়গা করে স্যানিটারাইজ করে নেয়। বাম হাতের তালু টা নাকের কাছে নিয়ে বেশ কয়েকবার সুগন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে। মোবাইল স্ক্রিনে আলোটা এখনো  জ্বলছে। এইতো কদিন আগে যেখানে রিয়ান ও আয়ানের ছবিটা একে অপরকে চুমু দিচ্ছিল। শঙ্করের জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবি। শংকর ভাবতে থাকে ,জীবনের সমস্ত সঞ্চয়ের পরিমাণ কত। জীবন বীমায় অন্তত ত্রিশ লক্ষ টাকা পাবে। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে আরও অন্তত পক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা । এসবের সমস্ত মালিক করে যাবে রিয়ান ও আয়ানকে। বাপটাও ক্যান্সারের ,'থার্ড  স্টেজে' দাঁড়িয়ে রয়েছে--হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই " বল হরি হরিবোল "হয়ে যাবে। এসময় বোনটার বিয়ে দেওয়ার খুব দরকার ছিল। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একমাত্র সাক্ষী রুমি। রুমি আবার তাকেই বেশি করে বকাঝকা করে। কখনো কখনো আবার প্রকৃত বন্ধুর মতো আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে রুমি। হতভাগী রুমি। পণের টাকাটাও দিয়ে দেয় চাকরির জন্য। ল্যাম্পপোস্ট থেকে 100 মিটার দূরে একটি শিমুল গাছ। একটি লক্ষ্মীপেঁচা ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রয়েছে শংকরের দিকে। ঠিক তার 70/ 80 মিটার দূরে শ্মশানের গেটটা। আবার একটি শবের  প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে। কতগুলি মানুষের হট্টগোল। রাম নাম সত্য হ্যায়,রাম নাম সত্য হ্যায় ,,বল হরি হরি বল, বল হরি হরি বল। শংকর এক-পা দু-পা করে এগিয়ে আসে শ্মশানের গেটের দিকে।       
                                                                                                                                                                      

                    এই ভিড়ের মধ্যে শংকর গেটের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পেছনের পকটে এ্ হাত দিয়ে পুরনো একটি মাস্ক বের করে। মাক্স টি মুখে পড়ে নেয়। তারপর ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু কোথায় গেল ওই মোটা পেটলা মানুষটা, পেছন দিক দিয়ে যাকে বড্ড চেনা চেনা লাগছিল তার। জনা এক-দেড়শ মানুষের ভিড়। লড়ি থেকে লাশটা নামানোর চেষ্টা চলছে।নিচে কয়েকজন অতি সতর্কতার সাথে লাশের দোলনার হাতা দুটো জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে। পাশে বছর 14 /15 এর একটি বালক ঠিমু ঠামু করে চিৎকার করছে। এক বুড়ো আরেক বুড়োকে ফিসফিস করে বলছে --বুড়ির একমাত্র সন্তান অনেকদিন আগেই মারা যায়। তারপর বৌমা বুড়ির ছেলের বন্ধুকে নিয়ে পালিয়ে যায় ।এই বুড়ি ছিল ছেলেটির মা বাবা। বাঁশের দোলনা নিয়ে এগিয়ে যায় চারজন মানুষ। গেটের সামনে আসতেই প্রায় 20/30 মিটার দূরে শবের বিশ্রামাগার ।ঘরটি মধ্যে পাঁচটি শব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘন্টাখানেক আগে এখানে চারটি ছিল ।এখন কমে তিনটি। আবার চারটি  শব ।শংকর এগিয়ে যেতে থাকে বাঁধানো শ্মশানের নদীর পাড়ে।  পাড়ের ঠিক উপরে একটি স্মৃতিসৌধ। সৌজন্যে সৌগত শর্মা। কোটিপতির একমাত্র সন্তান। পুত্রের প্রতি পিতার একমাত্র উৎসর্গ স্বরূপ নবরূপে রুপায়ণ এই শ্মশানটি। শংকর  ঘাটের বাঁধানো সিড়িতে পা দেয়। ঠামুর নতুন পুরাতন কাপড়গুলি বালকটি একটি ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলার আগে বার কয়েক বুকে জড়িয়ে ওই কাপড়েই দুটি চোখ মুছতে থাকে।  শঙ্করের দুচোখ দিয়ে জল বয়ে যেতে থাকে।


                    ঘাটের সিড়িতে বসে পড়ে শংকর। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা কাপড়গুলো ধীক ধীক করে জ্বলছে ।একটা আলাদা ধরনের গন্ধ নাকে এসে লাগছে। কতগুলি ব্যাঙ ও ঝিঝি পোকা একসাথে ডাকছে আর ডাকছে। কিছু লোক বালকটির চার পাশে দাঁড়িয়ে সান্তনা পুরস্কারের পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণ করে চলেছে। রায়ান আর আয়ানের মুখদুটি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে আর কেন য়েন উবে যাচ্ছে।  সাত জন লোক ঘাটের সিড়ি বেয়ে নদীর দিকে এগিয়ে চলেছে ।সাথে একজন পুরোহিত কী কী করণীয় তা বলছে আর হাতদুটো নাড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। ঘাটের নিচে পড়ে রয়েছে অসংখ্য ঘট ,মাটির তা ,প্রদীপ ছেঁড়া কাপড়  পোড়াকাঠ আর ও কত কী ! এগুলি মাড়িয়ে সাত জন লোক এক হাঁটু জলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিয়জনের আত্মা শান্তির জন্য বিসর্জন দিতে। হঠাৎ কানের মধ্যে প্রবেশ করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মোবাইলের রিংটোন ---মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া //রঙ্গিলা দেশের নাইয়া //মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া// বহুবার শংকর গানটা শুনেছে। কয়েকটা লাইন হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল-- কত সাধু গুরু ভাইসা গেল রে-- এই না নদীর পিছল ঘাট// ছয় রমনি দেখায় ঠাট //তাদের রূপ দেখিয়া যাইওনা ভুলিয়া রে নাইয়া //রঙ্গিলা দেশের নাইয়া// স্ত্রীর সাথে ঝগরা করে শংকর দুপুর বারোটায় না খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। আসার আগে স্ত্রীকে কথা দিয়ে এসেছে ,এই মুখ আর সে তার স্ত্রীকে দেখাবেনা ।কিন্তু  শঙ্করের মনের বল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ।এ জীবন তার নিজের, রায়ান ,আয়ানের ,তার বাড়িতে থার্ড স্টেজ দাঁড়িয়ে থাকা পিতার, তার মা, রুমির আর কারো নয়। শংকর এ সময় বিদিতাকে  বড্ড প্রয়োজন অনুভব করে। বিদিতা শঙ্করের বিবাহের পরবর্তী জীবনের পঞ্চমনারী ।বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্রী।


                 এক পা দু পা করে শংকর এগিয়ে যেতে থাকে শ্মশানের ডানদিকে ।দুটি অশ্বত্থ গাছ পাশাপাশি অবস্থান করছে, নদীর ঠিক পাশে। তার পাশ দিয়ে চলে গেছে চার পাঁচ হাতের বাঁধানো রাস্তা ।আর ঠিক ওই গাছের নিচেই রয়েছে একটি হরিবাসর। কতকগুলি সাধু ও কিছু শ্মশান যাত্রী যে যার উৎসাহ নিয়ে গান গেয়ে চলেছে--- হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো পার করো আমারে// অশ্বত্থ গাছটির পাশে রয়েছে একটি লোহার রেলিং-- শংকর হেলান দিয়ে লক্ষ করতে থাকে  গাছের ঝুরি সহ গুড়িটাকে। অসংখ্য মানুষের নেমপ্লেট-- যাতে নামসহ- জন্ম-মৃত্যু -ঠিকানা গুলি ঝুলছে বাঁদুর ঝোলার মতো। কোথায়‌ও  আবার লাল ওড়না জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাছের গুড়ির সাথে ।এভাবেই হয়তো অজস্র নক্ষত্র ঝড়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে ।যার সাক্ষী এই অশ্বত্থ  ‌ গাছ। হঠাৎ নজরে পড়ে বছর ৭৯ এর   শংকর মালাকারের নেমপ্লেটির  উপর । বছর 38 শংকর ভাবতে থাকে  এখনো তার‌ অনেক‌ আয়ু ।হাতের মুঠোফোনটা নিয়ে  শংকর নাড়তে থাকে। আবার পাসওয়ার্ডটা দিয়ে দেখে এবারেও প্রায় একশর উপরে মিসকলড্। সময় বারোটা পাঁচ ,তারিখ 12/01/2021। আর একটা নতুন দিনের সূচনা হয়ে গেছে। সেখান থেকে ২০/২৫ মিটার দূরে কতকগুলো সাধু যজ্ঞের জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে হাত দুটো বারবার প্রসারিত করে তাপ নিচ্ছে। শংকর‌ও  শরীরটা গরম করার জন্য এগিয়ে গেল তাদের কাছে।        
 

                 রাত্রি বারোটার পর‌ই ফোন করত বিদিতা ।বিদিতার ও কোন ফোন বা মেসেজ পাইনি আজ। বেশ কয়েকদিন ধরে বিদিতার সাথে তার দর কষাকষি চলছে ।বিদিতা তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে চায়। বিদিতা গুহ ,যার পিতা রমেন গুহ, একজন দুদে পুলিশ অফিসার। মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর থানার ওসি।বড়দা সায়ন কোচবিহারের দিনহাটা কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ।একরকম হাইপ্রোফাইল ঘরের মেয়ে বিদিতা। বিদিতার সাথে তার পরিচয় কল্যাণীর ঘোষপাড়ায় এক রেস্টুরেন্টে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেয় শংকর ।তারপর তাদের দুজনের মধ্যে চলতে থাকে  ফোনপকথন। শংকর ভালোবেসে নাম দেয় বিন্দি।


                   কয়েকজন সাধু শংকরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোন কথা না বলে বসে পড়ে ছেড়া পাটের বস্তার উপর। আগুনের আঁচ নেওয়ার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করে ।পাশেই রয়েছে কতকগুলি মন্দির। শংকর সূর্য মন্দিরের দিকে চলে আসে। আবার বুক পকেট থেকে মুঠোফোনটা বের করে। না আর কোন মিসকলড্ এলার্ট নেই ।স্কিনে থাকা ফেসবুকে বুড়ো আঙুলটা দাবায়।লক্ষ করতে থাকে , গত এক-দেড় মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টগুলি।  কত গান ,জীবনমুখী কথা, বাস্তবতার কত ক্ষতচিহ্ন। গতকাল তিন চারটি গান পোস্ট করে --ও চাঁদ আমার কি অপরাধ তুমি বলে দাও /ভালোবাসো আর নাইবা বাসো আমি তোমায় ভালোবেসে যাবো /আজ থেকে আর ভালবাসার নাম নেব না আমি।/ এইতো জীবন, হিংসা বিবাদ , লোভ, ক্ষোভ,  বিদ্বেষ,_---- চিতাতেই সব শেষ /হায় চিতাতেই সব শেষ ।চার্জ না থাকার জন্য মোবাইল ফোনটা অফ হয়ে যায়। সূর্যদেবের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে --বিদিতা তুমি আমার কর্ণকে ভালো রেখো,--- তুমি আমার কর্ণকে ভালো রেখো।


               বিদিতা জানতো শংকর বিবাহিত। তবুও কেন যেন তাকে ভালো লেগে যায়। বিদিতার  জীবনে শংকর হয়ে ওঠে মস্তরাম। 2019 এর আগস্ট প্রথম পরিচয় হয় তাদের। তারপর পুজোয় যখন বিদিতা বাড়ি আসে তখন দুজনে হাতে হাত রেখে শহরের মণ্ডপগুলো ঘুরে ছিল। প্রথম প্রথম শংকর বিদিতার ভালোবাসা গ্রহণ করেনি। কিন্তু বিদিতায় যখন বলে-- এই ভালোবাসার কথা তার বাড়ির কেউ কোনদিন জানতেপারবে না। বাড়তে থাকে তাদের ভালোবাসার রসায়ন। শুরু হয় পূর্বরাগ , অনুরাগ, অভিসার‌ও মাথুর এসবই চলতে থাকে মুঠাফোনের মাধ্যমে। তারপর শুরু হয় ফোনবাৎসায়ন। বিদিতা অডিও সেক্স করলেও ভিডিও সেক্স কোনদিন করেনি শংকরের সাথে। ভিডিও  সেক্সে ইতঃস্তত বোধ করত  বিদিতা। শংকর কে প্রায়ই ডেকে নিতো কলকাতার ফ্ল্যাটে। ওটা বিদিতার ই  ফ্লাট। দুজনে বসে এখানেই প্রথম তারা মস্তরাম ওয়েব সিরিজ টা পুরো দেখে এবং এক একটা  আসন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্র্যাকটিক্যালি করতে থাকে । প্রথম দুদিন কনডমেশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি দেখালেও পরে য়েন কেমন কেমন মনে হয়। তৃপ্তি পায় না বিদিতা। শঙ্করের ওয়ালেটে রাখা কনডম্ গুলো ছুঁড়ে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। তারপর মার্চ মাসে পুরো লকডাউন।বিদিতা আটকে পড়ে কলকাতায়। শংকর মালদায়। শুরু হয় বিরহ ।কেননা মস্তরামের নেশা তখনও কাটেনি তাদের ।তার উপরে হঠাৎ লকডাউন। প্রতিদিন সময় করে শংকর ফোন করে খোঁজখবর নিত।  প্রেমের গাঢ়ত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে । শুরু হয় আনলক ওয়ান /টু ।এর‌ই মধ্যে আবার শংকর কলকাতায় যায় ।এবারে প্রায় 12 দিন থাকে। সময়টা সেপ্টেম্বরের প্রথম । 'কভিদ' ১৯ এর প্রকোপ, ফ্ল্যাটের বাইরে যেতে পারিনি শংকর। কোনরকম প্রটেকশন ছাড়াই বাৎসায়নের কামসূত্র অধ্যায়ণ করতে থাকে দুইজনেই। অক্টোবরে বিন্দির সাথে শেষ দেখা হয় তার। সেইবার পুজোয় কয়েক দিনের জন্য সে মালদায় আসে। এখানেও বেশ কয়েকবার শারীরিক মিলন হয় দুজনের। তারপর চলে যায় কলকাতায় ।ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার আসে বিন্দি মালদায় ।ধরা পড়ে মায়ের হাতে ।প্রেগনেন্ট।


              সূর্য মন্দির থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে। কোথায় গেল সেই মোটা পেটলা মানুষটা। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে হরিবাসরের দিকে ।কয়েকজন সিভিক পুলিশ একজনকে ঘিরে ধরে বসে আছে ।সকলেই চুপচাপ। মধ্যে বসে থাকা রমেন বাবু গম্ভীর স্বরে একজন সিভিক পুলিশের নাম ধরে ডাকছে আর বলছে, আরে ও হাবলা, কোথায় গেলিরে ,,দেখ না ব্যাটাদের হয়েছে কিনা। প্রথম দিন জয়েন করে ও শালা শান্তি পেলাম না। বাড়া জঙ্গিপুর‌ই ভালো ছিল ।এই  সৌমেন দেখে আইতো  কি হলো? শঙ্করের গালভরা দাড়ি ,তার উপরে মুখে মাক্স। শংকর চিনতে পারল মোটা পাতলা মালটা বিদিতার  বাবা ।বিদিতা  অনেকদিন আগেই বলেছে বাবার ট্রানস্ফার টা 2019 এর শেষে না হলে 2020 শুরুতে হয়ে যাবে। তারপর তো চলে আসে একটা পেন্টানিক সিচুয়েশন গোটা বিশ্বে শুরু হয় লকডাউন ।তবে কি গতকালই তিনি জয়েন করেছেন! হবে হয়তো !তার উপরে পশ্চিমবঙ্গে যা চলছে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে ভুড়ি ভুড়ি মানুষ ট্রানস্ফার নিয়ে বাড়ির কাছে চলে আসছে । লাল টুপি যতদিন ছিল শঙ্করের কদরও ছিল ব্লকে সবার আগে। তারা কয়েকজন মিলে সমস্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিত এবং তা জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিত। সেই সময়টা বড্ড ভালো কেটেছে তার। নোকিয়া 1108 সেটটার কথা এখনো ভুলতে পারেনা শংকর। প্রথম মোবাইল, দিনে শ দুয়েক এরও বেশি ফোন আসতো তার কাছে। কত মানুষের কত রকম ভাবে সাহায্য করেছে, সে নিজেও জানে না। এসএফআইয়ের দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতা হয়ে উঠেছিল। তারপর জেলা কমিটি থেকে ধীরে ধীরে যুব তে প্রবেশ। একটা পরিচিতি নাম হয়ে উঠেছিল জেলার নেতাদের কাছে। 2011 পালাবদল। কিন্তু শঙ্কর নীতি এবং আদর্শ কোনটাই বিসর্জন দিতে পারেনি। বর্তমানে সবুজ এবং গেরুয়া পুরো পশ্চিমবঙ্গ ছেয়ে গেলেও শংকর এখনো লাল টুপি পরে বসে আছে। ব্যর্থ এক আশা নিয়ে-- হাত নাকি কাস্তে ধরেছে। সবুজের দাপটে প্রায় দু বছর হয়ে গেল রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলেছে। এতদিন লাল ঝান্ডা টা থাকলে হয়তো ভালো একটা জায়গা করে নিতে শংকর। না,রমেন বাবু তাকে চিনতে পারিনি। ভালো হয়েছে -চিনতে পারলে কোমরের রাখা পিস্তলটির একটি গুলি তার বুকের এপার ওপারে একটা সুরঙ্গ তৈরি করে চলে যেত। শঙ্করের সবচেয়ে বেশি ভয় হয় এই মানুষটাকে ।রাতের পর রাত ঘুমের মধ্যেও আসতে থাকে এই মানুষটা ।শংকর ডিপ্রেসড ।নিজেকে আলাদা জগতের মানুষ তৈরি করে ফেলে। দ্রুত আবার চলে যায় মন্দিরগুলোর দিকে ।মন্দিরের গায়ে লাগানো নেমপ্লেট গুলোর উপর লোকদেখানো চোখ বোলাতে থাকে ।একটি  কে নিজের নেমপ্লেট ভাবতে থাকে। তার মদের নেশা টা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।                                                                                                  
 ৫

               মাথাটা এখনো ধরে আছে। প্রচন্ড যন্ত্রণা অনুভব করে। কেউ যেন মাথায় লোহার হাতুড়ি মেরে চলেছে ।প্রচন্ড শীত কুয়াশায়, অন্ধকারের মাত্রাটা আরও বেড়ে গেছে। শীত শ্মশানের  চারিদিকটা চক্রব্যূহ তৈরি করে ফেলেছে। নদীর এপাশ-ওপাশ করে চলেছে কতকগুলি নাম না জানা পাখি। শ্মশানের অস্পষ্ট আলো নদীতে পড়ছে ।পাখিরা কোন  লৌকিক- অলৌকিক বার্তার অপরূপ স্পর্শ  নিয়ে চলছে । অগ্রাহণের শেষ আর পৌষের শুরুর দিকে কিছু অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই পাগলা নদীতে ।ঠান্ডা বাতাস,  শক্ত মাটি আর মৃত্যুপ্রায় গাছগাছালিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে শ্মশানটা। ভীষণ ঠান্ডা অনুভব করতে থাকে ।মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুলের উপর বরফের আস্তরণ তৈরি করে ফেলেছে। না,, কিছু একটা শরীরে দিতে হবে।
            
       
              সন্তর্পনে পা ফেলে শংকর এগিয়ে আসে শবের ছুড়ে ফেলা কাপড় গুলির ডাস্টবিন টার দিকে ।যদি একটা কম্বল পাওয়া যায় ।ডাস্টবিনটার পাশেই পড়ে রয়েছে কতগুলো কাপড়, তার মধ্যে রয়েছে একটি কম্বল। শরীরে ভীষণ ঠান্ডা লাগায় খপাৎ করে কম্বলটা উঠিয়ে নেয় এবং সারা শরীরে জড়িয়ে দেয়।শব  বিশ্রামাগারের  পাশে থাকা কয়েকজন লক্ষ করতে থাকে আর নিজেরা মাস্ক না পড়ায় অনুশোচনা করতে থাকে, শালা পাগলেও  তার ভাল বুঝে। ধীরে ধীরে শংকর শ্মশানের গেটটা দিয়ে বেড়িয়ে পড়ে। শ্মশানের  বাঁধটা দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। অল্প দূরেই শ্মশানের বাজারটা। শ্মশান যাত্রীদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে এখানে। গতকাল গঙ্গাজল আর কতগুলি আঙ্কেল চিপস, বিড়ি, সিগারেট ছাড়া কিছুই খাওয়া হয়নি তার ।পেটে ভীষণ খিদে ।।কিছু শ্মশান যাত্রী একটা দোকানে ভোজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখাগ্নি করা মানুষটা কিছু লুচি,সবজি, মিষ্টি, বোঁদে শালপাতার থালায় নিয়ে সঙ্গে এক গ্লাস জল ,একটা নিরিবিলি স্থানে দিতে যাচ্ছে ।পেছনে পেছনে কতগুলি কুকুর , শংকর ও ওদের দলে এগিয়ে যেতে থাকে। খাওয়ার দেওয়ার পর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না, লোকটি খাওয়ার থালা টা রেখে হন হন করে দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।  হাতে একটি ছোট লাঠি নিয়ে কুকুরগুলোকে তারা করে গ্লাস সহ থালা টা নিয়ে একটু দূরে খেতে থাকে। খেতে খেতে গরম অনুভব করে -- তরুণীর কম্বলটা শরীরে ফেভিকুইক আঠার মতো জড়িয়ে ধরেছে।
খাওয়া শেষ ।না --এখানে আর থাকা যাবে না, হাঁটতে হাঁটতে চলে ব্রিজ টার দিকে।     
 
 

                শ্মশান থেকে বাবা ফিরে এসেছে ।মায়ের ঘরে ফিসফিস করে বলছে , মেয়েটা কিছু খেয়েছে, মেয়েটা না ওর শ্মশানের চিতাটা সাজিয়ে আসব। ভেবোনা মেয়েকে একা বিদায় দেব -_----সঙ্গে তোমারও রাম নাম সত্য করে দেব। সারা জীবন শুধু অর্থ সঞ্চয় করে গেলাম দুহাতে, কিন্তু তুই সামান্য একটা দায়িত্ব পালন করতে পারলি না। দরজাটা খোলা রেখেই মাকে বকছে -- আমার বিছানার পাশে জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, বাবা-মায়ের পাছায় রিভলভারটা লাগিয়ে পৃথিবীর সমস্ত অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে চলেছে। তারমধ্যে একটি বাক্য বেশ কয়েকবার বলতে থাকে রেগে রেগে --শালী তোর এই দিক দিয়ে ঢুকিয়ে এমন করে বের করবো যে তোর ফুটোটা কাউকে দেখাতে পারবিনা। কতবার বলেছি মাগী মেয়েটার কাছে থাক, শুনলি না। এখন বুঝ,  তুইতো চার দেওয়ালের মধ্যে থাকবি, কিন্তু আমি-- বিদিতার চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে। নিজেকে নিজেই এর জন্য দোষী মনে করে ।শঙ্করের সংসার ও তার নিজের পরিবার ,সব মিলিয়ে 12 জন মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। না ,,সুসাইড করতে পারবে না ।একা থাকলে সম্ভব ছিল ।কিন্তু সে অন্তঃসত্ত্বা। কোন এক আগন্তুকের মা ।তাকে বেঁচে থাকতেই হবে ।একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।মোবাইলটা বের করে এখনি একটা ফোন করবে শংকরকে ।বাবা-মায়ের ঝগড়ায় হৃদয়টা  ভূকম্পনের মতো কেঁপে ওঠে ।নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যায়। হাতে রাখা মোবাইলটাও কাঁপতে থাকে। এতদিন মাকেই  দেখতো বাবাকে নানা বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছে,,কিন্তু কিছুদিন থেকে মা নির্বাক শ্রোতার মত বাবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে--- আর বাবা নিরহ বোবা জন্তুর মত মায়ের উপর অত্যাচার করে ।না ফোন নয়, একটা হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ ::
       "আমি আমার সমস্ত             জায়গা থেকে তোমাকে  ব্লক করলাম --------
           দাড়ি কমা হীন  শূন্যস্থান যুক্ত একটি হৃদয় ভাঙ্গা বাক্য।                                                                     ব্রিজের এক পাশে হেলান দিয়ে বসে পড়ে। কম্বলটা মাথা পর্যন্ত মুড়ে দেয়। দুটো চোখ কম্বলের ফাঁকে বিড়ালের চোখের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকে।  ব্রিজটার ওপাশে দুটি পাগল পাগলী-- পাগলটি পাগলীটির বুকের মাঝখানে নিজের মাথাটা রেখে দিয়েছে -,পাগলীটি দুই হাত দিয়ে তার মাথার চুলগুলো  আঁচড়াতে থাকে ।একটা কম্বল দুজনে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। মাঝে মাঝে কপালে চুমু দিতে থাকে। লজ্জা রাঙ্গা টিয়ার মত মুখ সরিয়ে নেয় পাগল ।ভালোবাসার রাগ- অনুরাগ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। দুটি পারিজাত ফুল ব্রিজের উপর লুটোপুটি করতে থাকে। শংকর মুচকি হাসে আর হাসে-- নিয়তি আমার ভাগ্য নিয়ে এমন খেলা খেলছে বেদনার বালুচরে ।না, আর পারছে না ।চোখটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।বিড়বিড় করে বলতে থাকে বিদিতা, বিদিতা, বিদিতা, বিদিতা , বিন্দি ,বিন্দি ,বিন্দি, বিন্দি,হে কৃষ্ণ ,হে কৃষ্ণ ,হেকৃষ্ণ পৃথিবীর কত মানুষ  পাতার মতো ঝরে যাচ্ছে ,আমি কেন নয়? আমি কেন নয়?কাল বাদ পরশু পৌষপার্বণ ।গঙ্গাস্নানের মেলা। হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ টায়ইআশ্রয় নেবে
। সকাল হলে কেউ জানবে না আজ রাতে শংকর এখানে ছিল। হালকা বাতাস গায়ে শিরশির করে এসে লাগছে।কম্বলের ভিতরে একটা আলাদা ধরনের সুগন্ধ বেরিয়ে আসতে থাকে। না কোন পারফিউমের সুগন্ধ নয়। পারফিউম আর মৃত দেহের গন্ধ একসাথে মিলেমিশে এক আলাদা কাম উত্তেজক সুগন্ধির মত হয়ে গেছে । তার স্পর্শ করা নারীদের শরীরের গন্ধ এক জায়গায় করলে যা দাঁড়ায় ।সে জড়িয়ে ধরে কম্বলটাকে। যতটা হাতের জোড় খাটাতে পারে। আবার উঠে পড়ে। সামনের দিকে এগোতে থাকে। কিছুদূর এগিয়েই রয়েছে বিরামপুর অনাদি চরণ মেমোরিয়াল ডি. ইএল .ই ডি. কলেজ। তার সামনে রয়েছে একটি প্রাচীন বটগাছ ।বহু পুরনো। পায়ে এক পাটি জুতো পড়ে এগিয়ে যেতে থাকে। বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই গাছটার নিচে ।কত মেলা আর লোকগানের আসর বসত এই গাছটার তলায়।নিচে একটি চায়ের দোকান ,এখানে কত নাম না জানা মানুষ, সাধুরা চা খেতে খেতে কত বিচিত্র ধরনের আলোচনা করত ।পাশেই একটি আমের আড়ত ।আমের সময় মালদহের সব রকমের আম এখানে পাওয়া যায় ।   কত ধরনের আম য়ে এখানে কেনাবেচা হয়, তা বলা খুব মুশকিল। সেই ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেয়।সুরেলা ফজরের নামাজ শুরু হয়ে গেছে -- তিন চারটি মসজিদের আল্লাহ হুয়াকপার আল্লাহ ,/আল্লাহ হুয়কপার আল্লাহ---- শব্দগুলো একে অপরকে তীরের ফলার মতো বিধছে --কিছুটা উপরে যাচ্ছে আর কিছুটা নিচের মানুষের কানে প্রবেশ করছে। ফজরের আজান শুনতে শুনতে শংকর সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার   f‡i _vKyK AvKvk N„Yvq bq fv‡jvevmvq R‡g DVzK wgZvwj AvnZ mg‡q b‡ivg el©‡Y AvmyK cÖkvwšÍ emšÍ w`‡bi g‡Zv KvUzK ev‡iv gvm G‡K Ac‡ii mnvbyf~wZ‡Z f‡i _vKzK †`k mevi Kcv‡j †j‡M _vKzK Avb‡›`i wUc my‡Li cÖ`xc R¦‡j DVzK mevi `ytL N‡i mKv‡ji ‡mvbv †iv‡` f‡i _vK mvivw`‡bi mgq ‡KvZ~nj bq Avb›` D”Qv‡m f‡i _vKzK mevi Ni Sjmv‡bv Av‡jvq f‡i _vKyK mevi AvKvk|   Zzwg mgy‡`ªi g‡Zv A‰_ ü`‡q Avgvi AvKvOÿvi N‡i G‡b‡Qv fv‡jvevmvi e„wó my‡Li bvgZvq Rxe‡bi avivcvZ f‡i‡Qv fv‡jvjvMvi evZv‡m f‡i‡Qv wb:k‡ãi Kÿ iv‡Zi wb¯ÍäZvq G‡b‡Qv †RvbvwKi evmi|   Avn¬v`x Av`‡i nv‡Z nvZ †i‡L wb`viæY my‡L f‡i‡Qv gb k~Y¨Zvi †PŠnÏx‡Z Zz‡j‡Qv my‡Li †`qvj Avuav‡i R¡vwj‡q‡Qv Av‡jvi †ivkbvB em‡šÍi e„wó‡Z gb wfwR‡q nvRv‡iv dz‡ji M‡Ü K‡i‡Qv gvZvj|     Zzwg Kv‡Q Avmvq   Zzwg Kv‡Q G‡j fv‡jvevmvq Av‡m c~Y©Zv emšÍ evZv‡m D‡o gy³ cvwL`j g‡bi K...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...