Skip to main content

গল্প ।। কথা রাখার কথা ।। সুপ্তা আঢ্য


কথা রাখার কথা         

সুপ্তা আঢ্য
বড়ো রাস্তা ছাড়িয়ে দুটো গলি পেরিয়ে তিন নম্বর গলির একটু ভেতরে বড়ো পাঁচতলা আবাসনের চতুর্থ তলার দক্ষিণমুখো ফ্ল্যাটের বসার ঘরে সৌপর্ণ ওর স্ত্রী হিয়া আর ওদের মা বিতস্তা দেবী এই মুহূর্তে গভীর আলোচনায় মগ্ন ।আধুনিকতার সাথে সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনে সাজানো ফ্ল্যাটের ভিতরটা দেখলেই এ বাড়ির মানুষদের রুচিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।বছর খানেক আগে বাড়ির কর্তা রণিতেশ সেন রিটায়ারমেণ্টের পর পরই ইহলোকের মায়া কাটিয়েছেন। আর মিসেস বিতস্তা সেন এই একমাস হলো স্কুল জীবনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজের সাথে সময় কাটাচ্ছেন । ওনার ছেলে সৌপর্ণ আর ওর স্ত্রী দুজনেই মুম্বইয়ের এক বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত, ওদের একমাত্র ছেলে সৌহার্দ্য পাশের ঘরে আপনমনে ভিডিও গেম খেলতে ব্যস্ত। সৌপর্ণ ওর মাকে বলে উঠল "তুমি এখন কি করবে---কিছু ভেবেছ?" "ঠিক বুঝলাম না রে----কী করব বল তো?" "না মানে - - - তোমার তো রিটায়ারমেণ্ট হয়েই গেল - - - - বাবাও এখন নেই। এই ফাঁকা বাড়িতে তুমি একা কী করবে? বরং তুমি আমাদের সঙ্গে চল---ওখানে তুমি ভালো থাকবে মা।" "ও--এই কথা। কিন্তু - - - - " " কিন্তু কি মা! " "দেখ বাবা----আমি তোর ঘাড়ে বোঝা হতে চাই না। ষাটের কোটা পেরিয়ে এলাম----যে কটা দিন বাঁচব _---চতুরাশ্রমের তৃতীয় আশ্রম বাণপ্রস্থকেই না হয় বেছে নিলাম। কিন্তু এখন জঙ্গলে তো থাকতে পারব না - - - - তাই শহর ছাড়িয়ে ভাগীরথীর তীরে একটা বৃদ্ধাবাসের খোঁজ পেয়েছি। ওখানেই থাকব রে । " বিতস্তা দেবীর এহেন সিদ্ধান্তে সৌপর্ণ আর হিয়া স্তব্ধবাক হয়ে বসে রইল - - - সারা ঘরজুড়ে এখন পিন ড্রপ সাইলেন্স। পরিবেশটা হাল্কা করার জন্য উনি বলে উঠলেন" তুই এত বড়ো হয়ে গেছিস আর এই একটা ছোট্ট কথায় মন খারাপ করে বসে পড়লি? " " এটা ছোট কথা নয় মা----তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে----এটা ভাবলে কি করে?" "তোদের ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না আমি----শুধু এই ফাঁকা বাড়িটা ছেড়ে অন্য বাড়িতে যাচ্ছি। ছুটি ছাটায় তোদের আসার খবর পেলে এসে সবাই একসাথে কাটিয়ে যাব। আর শোন, এই কাগজগুলো রাখ----" " এগুলো কিসের কাগজ মা! " " এই বাড়ি আর ব্যাংকের পেপার্স---এগুলো সাবধানে রাখবি।" " কবে যাবে তুমি? " " কাল বিকেলে যাব। হিয়া, তোমাদের ফ্লাইট কখন? " " সকালে মা। " " ঠিক আছে, আমি ঘরে গেলাম - - - কিছু গোছানোর আছে----ওগুলো কমপ্লিট করে নি। তোমরাও শুতে যাও।" কথাগুলো বলে নিজের ঘরে গিয়ে পরেরদিনের যাত্রার সবকিছু গোছগাছ কমপ্লিট করে নিল বিতস্তা। শেষ মুহূর্তে স্বামী রণিতেশের একটা ছবি সঙ্গে নিয়ে নিল ও। সমস্ত গোছগাছ সারা হতে ঘড়ির দিকে মুখ তুলে তাকাতেই দেখল ঘড়ির ছোট কাঁটাটা একটার ঘর প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। টেবিলের ওপর রাখা বোতল থেকে জলটা খেয়ে বিছানার দিকে একঝলক তাকিয়ে আস্তে আস্তে দরজাটা খুলে বারান্দার চেয়ারে এসে বসল বিতস্তা। পাশের ছেলের ঘর থেকে তখন চাপাস্বরে স্বামী স্ত্রীর আলাপনের আওয়াজ আসছে। ওদের কথার আওয়াজে মুচকি হেসে চেয়ারে বসে বাইরে গহীন অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল ও। এত বছরের সংসার জীবনের আজই শেষ রাত ওর----তাই প্রথম রাতের মতো শেষ রাতটাও না ঘুমিয়ে থাকার সিদ্ধান্তই নিল ও। বাইরের নিঝুম নিশার নীরবতা যখন চারপাশকে ঘিরে রেখেছে তখন মাঝে মাঝে পথ কুকুরদের চিৎকার ওর মায়া জাল ছিন্ন করলেও তাকে পূরণ করতে বেশী সময় লাগছিল না নিশার। এরকম রাত বড়ো প্রিয় বিতস্তার----এমন রাতেই তো ভেলায় চড়ে সময় সাগরের স্মৃতির ঢেউয়ে নিমগ্ন হওয়া যায়। অন্ধকারকে চোখে জড়িয়ে স্মৃতির অতলে ডুব দিতেই ছবির মতো ওর চোখে ভেসে উঠতে লাগল সবচেয়ে প্রিয় কিশোরীবেলা। মনে পড়ে গেল স্কুল থেকে পাঁচজন মিলে বাড়ি ফেরার কথা। ও, দীপন, পাঞ্চালী, শ্যামল আর স্মৃতিকণা---পাঁচবন্ধুর মিলেমিশে থাকার কথা বড্ড মনে পড়ছিল ওর আজ। ওদের বন্ধুত্বের বিষয় ছোট্ট গ্রামটায় চর্চিত থাকলেও ওদের কোনো হেলদোল ছিল না এই ব্যাপারে। এই পাঁচজনের দলে বিতস্তা আর দীপন ছিল সবচেয়ে কাছের বন্ধু - - - - আর এই বন্ধুত্ব যে কখন ভালোবাসায় পরিণত হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি কেউ। পাঞ্চালী এ নিয়ে আড়ালে বিতস্তাকে খ্যাপালেও পাত্তা দেয়নি ও কখনও। দীপ ওর প্রেমিক - - - এটা ভাবলেই চাপা হাসিতে মুখ ভরে উঠত ওর। আর ওকে মুখ চেপে হাসতে দেখে পাঞ্চালী বলল"তুই আমার কথা মানছিস না তো---পরে কিন্তু তুই পস্তাবি।" "শুধু শুধু পস্তাতে যাব কেন?" "দীপ তোকে সত্যিই ভালোবাসে রে----ওর চোখ দুটো দেখিসনি তুই? এই স্মৃতি, তুই কিছু বল না!" স্মৃতিকণা কিছু বলার আগেই ওকে থামিয়ে দিয়ে বিতস্তা বলে উঠল "ও কি বলবে রে? আর দীপের চোখে আলাদা কি আছে বলতো! তুই একটু বেশীই ভাবিস এসব নিয়ে। " ওদিকে শ্যামলও দীপনকে তাগাদা দেয় মনের কথা বিতস্তাকে খুলে বলার জন্য। কিন্তু যাকে নিয়ে এত আলোচনা - - - সেই দীপন ছিল নিজের জায়গায় অটল। ও বলত"তিস্তাকে নিজেকেই বুঝে নিতে দে ওর ভালোবাসাকে। আজ আমি বললেও ও বুঝবে না রে---- এতে ওর সাথে বন্ধুত্বটাই নষ্ট হয়ে যাবে। এর চেয়ে এটাই ভালো - - - - ।" একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দীপন চলে গেলে শ্যামল মুখ নামিয়ে উপায় ভাবতে থাকত বিতস্তাকে জানানোর। ওরা তিনজন কোনো উপায় না পেয়ে নীরব দর্শকের মতোই দীপনের একতরফা ভালোবাসার যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে বুক ফেটে গেলেও মুখ ফোটাতে পারে না দীপনের মুখের দিকে তাকিয়ে। এর মধ্যে কলেজ জীবন শেষে হায়ার এডুকেশনের জন্য দীপন বাইরে চান্স পেয়ে যায় আর বিতস্তার বাড়িতে পাত্রপক্ষের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। পাত্রপক্ষের পাকা কথার খবরটা বিতস্তা উত্তেজিত হয়ে দীপনকে জানাতে গিয়ে ওর মায়ের কাছে শুনল "দীপ একটু বেরিয়েছে বিতস্তা।" "কখন ফিরবে ও কাকীমা?" "ও তো পরশু চলে যাচ্ছে - - - তারই কেনাকাটা করতে গেছে।" "ও কোথায় যাচ্ছে কাকীমা?" "ওমা, তুই জানিস না - - - ও তো পিএইচডি করতে দিল্লী যাচ্ছে। তুই ওর ঘরে বস - - - ও এখনই চলে আসবে।"

Supta sent Today at 7:54 PM

বিস্মিত বিতস্তা দীপনের ঘরে ঢুকে চারিদিক দেখতে দেখতে হঠাৎই ওর চোখ পড়ে গেল টেবিলের ওপরের রাখা ডায়েরিটায়। এত বড়ো খবরটা দীপন ওকে না বলায় মনে মনে রাগ হলেও ডায়েরিটা দেখার কৌতুহল চাপতে পারছিল না ও।পায়ে পায়ে টেবিলের কাছে গিয়ে ডায়েরিটা হাতে নিয়ে পাতা ওল্টাতেই চোখে পড়ল ওর সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তের কথা কি অসামান্য ভাবব্যঞ্জনায় ফুটে উঠেছে প্রতি পাতায়। পড়তে পড়তে চমকে উঠছিল বিতস্তা - - - - দীপনের চোখে নিজেকে নতুন রূপে আবিষ্কার করে মুক্তোর মতো জলবিন্দু শ্রাবণের বারিধারার মতো অঝোর ধারায় কপোল, চিবুক হয়ে কণ্ঠদেশে মিলে বড়ো বড়ো ফোঁটায় ভিজিয়ে দিচ্ছিল ডায়েরির পাতাগুলো। সময়ের কোনো হুঁশ ছিল না ওর - - - - বাইরে দীপনের গলার আওয়াজ পেলেও কোনোমতেই নিজেকে সামলাতে না পেরে স্থানুবৎ বসে রইল বিতস্তা । মায়ের কাছে বিতস্তার আসার খবর শুনে কোনওরকমে সাইকেলটা রেখে ঘরে ঢুকে ওকে টেবিলের কাছে বসে থাকতে দেখে একটু ভয় পেয়ে কাছে গিয়ে দেখল দামাল মেয়েটা শান্ত হয়ে বসে আছে - - - কোলের ওপর ডায়েরিটা খোলা আর ওর সারা গালে চোখের জলের আঁকিবুঁকি। ডায়েরির সাথে এই অবস্থায় বিতস্তাকে দেখে একটু অপ্রস্তুত ভাবে ওকে ঝাঁকিয়ে বলল "কি রে তিস্তা, কী হয়েছে তোর?" "কিচ্ছু না - - - কী হবে - - - তুই তো সব জানিস---তুই বল আমার কী হয়েছে।" "আমি স্যরি তিস্তা - - - ওগুলো এমনিই পাগলের প্রলাপ - - - - ওগুলো দেখে তুই কিছু মিন করিস না রে।" দীপনের মুখে একথা শুনেই কোনওরকমে ডায়েরিটা রেখে ওর কাছে গিয়ে দুহাতে ওর জামার কলারটা ধরে বলে উঠল" কোনটা এমনিই - - - দীপ----তুই - - তুই - - - আমাকে এত ভালোবাসিস - - - আর সবটাই এমনি! "ওর কলারটা ধরে ওকে আরও কাছে টেনে ঝাঁকিয়ে ফিসফিসে গলায় বলল" তুই কি ভেবেছিলি---তুই একাই ভালোবেসে মহান হতে পারিস - - - - সব ছেড়ে চলে যেতে পারিস - - - - আমি কিচ্ছু পারি না? দেখ আমি কি করতে পারি?" তিস্তা রেগে গেলে কি করতে পারে সে সম্পর্কে খুব ভালোই জানে দীপন----সরলমনা মেয়েটা রেগে গেলে জাস্ট পাগল হয়ে যায় - - - - আর দীপনের প্রতি ওর পজেসিভনেস তো ওর জানা----তবু কেন যে মেয়েটা এতদিন নিজের মন বুঝতে পারেনি কে জানে! দীপন ওকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল "একটু শান্ত হ----আমার ভুল হয়ে গেছে - - - - তোকে বোঝানোর দায়িত্ব ছিল আমার - - - - আমি পালন করিনি - - - আমাকে যা সাজা দেওয়ার দে----কিন্তু তুই একটু মাথা ঠাণ্ডা কর, লক্ষ্মীটি। কথা শোন আমার - - - - সোনা মেয়ে তুই।" দীপনের বাহুডোরের বাঁধনের পরম আশ্রয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলল তিস্তা। ওকে কাঁদতে দিয়ে ওকে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ওর মাথায় ভালোবাসার পরশ বোলাতে লাগল দীপন। বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে থাকার পর একটু শান্ত হয়ে দীপনের বাহুডোরে আরও নিশ্চিন্তে নিজেকে সঁপে দিয়ে কান্নাভেজা গলায় বলে উঠল "এখন কী হবে দীপ? তুই চলে যাবি আমাকে ছেড়ে? পারবি থাকতে---বল না?" বিষণ্ণ হাসি মুখে ফুটিয়ে ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল"তুইও তো তোর চলে যাবার খবরটাই আমাকে দিতে এসেছিস পাগলী!এখন একটু নিজেকে শান্ত কর তো।" "এরপরেও তুই আমাকে শান্ত হতে বলছিস! কী হবে এখন----বাড়ি গিয়ে মাকে সবটা বলে বিয়েটা ভেঙে দিতে হবে রে---আমি এখন যাই রে! বিকেলে দেখা করি বরং---" "শোন - - - একটু ঠাণ্ডা হ' তুই---একটা কথা কেন বুঝতে পারছিস না - - - তোর বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেছে - - - এখন কিচ্ছুটি করিস না সোনা! " " তাতে কী হয়েছে - - - - বিয়েটা তো আর হয়ে যায়নি। তুই আমাকে বিয়ে করতে রাজী আছিস তো? " " তুই ভুল করছিস তিস্তা - - - এত কিছুর পর বিয়েটা ভেঙে গেলে কাকুর সম্মানের কী হবে ভেবেছিস! শুধু নিজের কথাই ভাববি - - - ওই মানুষটার কথা ভাববি না একবারও? " " তাহলে এখন কী করব তুই বলে দে? আমাকে সারাজীবনের জন্য অন্য কারোর হাতে হাত রাখতে হবে---এটা কী ভাবে সম্ভব দীপ? " তিস্তার উত্তেজনায় গুরুত্ব না দিয়ে শান্ত স্বরে দীপন বলল" তুই যে আমার ভালোবাসাকে---আমাকে - - - গ্রহণ করেছিস - - - এতেই আমি ধন্য রে। " " তুই এত কম পাওয়ায় কী করে ধন্য হতে পারিস দীপ! আমি যে আরও বেশী চাই----" " তুই এখন যা করতে চাস---সেটা করে তোর বাবা মাকে অথৈ জলে ফেলে দিস না তিস্তা - - -" "তাহলে - - -" তিস্তার হাতদুটো নিজের হাতে নিয়ে দীপন বলল" এই পৃথিবীটা বড্ড ছোট রে---তুই আমি একদিন ঠিক মিলবই। দেখিস তুই---" " তুই চলে যাচ্ছিস - - - আর আমিও কটাদিন পর অন্য লোকের সংসার করতে যাব---কী করে দেখা হবে তোর-আমার! " " ভালোবেসে দূরে থাকা যায় না বলেই এক হব---কবে---কোথায় - - কিভাবে - - - কিচ্ছু জানি না রে - - - শুধু জানি, দেখা আমাদের হবেই। তুই এখন বাড়ি যা - - - - কাকীমা চিন্তা করছেন। তোর বিয়েতে আসব না রে--। তোর-আমার এটাই শেষ দেখা---বিকেলে সবাই আজ আড্ডা দেব---আসিস কিন্তু।" কথাগুলো বলে হাতে ধরা তিস্তার হাতটা ছেড়ে দিতেই ওকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ও। দীপন ওর হাল্কা নীলচে শার্টের প্রতিটি সুতোয় জমিয়ে নিচ্ছিল ওর চোখের জল ।বেশ কিছুক্ষণ পর বিতস্তা নিজেকে সামলে চোখ মুছে একবারও পিছনে না তাকিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। সেদিন বিকেলে ওরা ডাকতে এলেও মাথা ধরার অজুহাতে মুখ গুঁজে শুয়ে রইল বিছানায়। পরদিন দীপনও চলে গেল আর তার কয়েকদিনের মধ্যেই একমাথা সিঁদুর পরে কনের সাজে সেজে রণিতেশের হাত ধরে এ বাড়িতে চলে আসে বিতস্তা। সেদিনের পর থেকে দীপনের আর কোনও খোঁজই পায়নি ও। নিজেদের চাকরির সুবাদে অনেক মানুষ দেখলেও ওই একজোড়া চোখ কোথাও খুঁজে পায়নি ও। বাপের বাড়ি গিয়ে শ্যামলের কাছে শুনেছে, বাইরের কোনো এক কলেজে দীপন পড়ায় - - - গ্রামে প্রায় আসেই না। ভীষণই জানতে ইচ্ছে করছিল---দীপনের বিয়ের খবর---ওর বউ কেমন হয়েছে - - - কিন্তু শ্যামলের সামনেও লজ্জায় জিভ জড়িয়ে যাচ্ছিল ওর। বোধহয় ওর মনের কথা বুঝতে পেরে শ্যামল বলেছিল"জানিস বিতস্তা - - - দীপন একাই থাকে - - - বিয়ে করেনি। কতবার বললাম বিয়ের কথা----কিন্তু - - -"

Supta sent Today at 7:55 PM

কিন্তু কী" সেটা আর জিজ্ঞেস করতে জিভ সরল না ওর---বদলে প্রসঙ্গ পাল্টে দুএক কথা বলার পর চলে এসেছিল বিতস্তা। এক অপার আনন্দে বুক ভরে উঠেছিল ওর----দীপ এখনও ওরই আছে----এটা ভেবে দীপের সেদিনের স্পর্শের কথা মনে পড়তেই শিহরিত হয়ে উঠেছিল ওর সারা শরীর। সেদিনের পর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছিল ও। তবে এখনও একলহমায় যেমন ও দীপকে নিজের ভাবতে পারে----এতদিন সংসার করার পরেও ও যেমন রণিতেশের হতে পারেনি তেমনি ওই মানুষটাকেও নিজের ভাবতে পারেনি কখনও। প্রতি মুহূর্তে দীপনের স্মৃতি কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে ওকে - - - - সকালে ঘুম থেকে উঠতই ওর দীপকে সাথে নিয়ে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওর দীপের দুচোখ নিজের চোখে জড়িয়ে ঘুমোতে যেত বিতস্তা। একমাত্র ছেলে সৌপর্ণ বাইরে চলে যাওয়ার পর থেকেই সংসারের বাঁধন আলগা হতে শুরু হয়েছিল ওর আর এখন রণিতেশের মৃত্যুর পর সে বাঁধনটা পুরোপুরি ছিঁড়ে গেছে। এখন এই সংসার থেকে মুক্তি নিয়ে নতুন করে দীপের স্মৃতি সাথে নিয়ে বাঁচবে ও। দীপের সাথে দেখা হওয়ার স্বপ্ন আর দেখে না তিস্তা - - - - দীপ যতই বলুক পৃথিবীর পরিসর ছোট - - - তিস্তা কিছুতেই মানতে পারে না সে কথা। পৃথিবী ছোট হলে দীপের দেখা ও ঠিক পেত, এতবছরেও যখন ও দীপের দেখা পায়নি তখন বাকি জীবনটা একা দীপের সঙ্গে কাটানো সময়ের সাথেই সহবাস করবে ও। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎই ভোরের পাখির সুরেলা আওয়াজে চমকে তাকিয়ে দেখল মিলনপিয়াসী প্রভাকরের সাথে মিলনের পর ঊষার কপোলের আবীরের লালিমার আগুন রাঙা রঙে সেজে উঠছে ভোরের আকাশ। সকালের এই সময়টা বরাবরই ওর খুব প্রিয়। ভোরাইয়ের সুরের মূর্চ্ছনায় মোহিত হয়ে আবীর রাঙা আকাশের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল বিতস্তা । হঠাৎ নীচে সাইকেলের বেলের আওয়াজে ঘোর কাটতেই মনে পড়ে গেল, একটু পরেই সৌপর্ণ হিয়ারা বেরোবে আর তাছাড়া ওর নিজেরও বেরোনোর তাড়া আছে। ওরা বেরিয়ে পড়লেই সবকিছু গুছিয়ে রেখে বিতস্তাও বেরিয়ে পড়বে ওর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে । প্রত্যেকবার সৌপর্ণ আর হিয়া হইহই করতে করতে যায় আবার আসার তাগিদে। কিন্তু এবার বোধহয় সেই মায়ের কাছে আসার তাগিদটা নেই বলেই ওদের যাবার তাড়াটাও ছিল কম। মায়ের সিদ্ধান্তের বদল হবে না বুঝে মনটা বড্ড ভার হয়ে আছে ছোট থেকেই মায়ের ভালোবাসার কাঙাল সৌপর্ণর। যাবার আগে আজ একটু বেশী সময় নিয়েই প্রণাম করতে গিয়ে নিজের অলক্ষ্যেই একফোঁটা জল বিতস্তার পায়ে পড়তেই ছেলেকে তুলে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন "এত মনখারাপ করছিস কেন? আমি ভালো থাকব এটা ভেবে খুশি থাকতে পারবি না তুই?" চোখের জল মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে সৌপর্ণ মায়ের হাত ধরে বলল "তাই হোক মা---তুমি ভালো থেকো আর - - -" "আর কী---বল---" "আমাদের ভুলে যাবে না তো মা?" নাতিকে বুকে জড়িয়ে হিয়ার মাথায় হাত রেখে বললেন " তুই আমার সন্তান - - - - আমার প্রতিটা নিশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছিস তোরা। নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ না হলে তোকে কি করে ভুলব বল। তুই চিন্তা করিস না - - - আমি ভালোই থাকব। " ওরা বেরিয়ে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়িটাকে শেষবারের মতো একবার দেখে নিয়ে একটা গাড়ি বুক করে রওনা দিল নিজের নতুন ঠিকানার দিকে। প্রায় ঘন্টাখানেকের জার্নির পর যখন 'নবনীড়ে' এসে পৌঁছল তখন গোধূলিবেলার শেষের আবেশটুকু চোখে জড়িয়ে বিকেল অপেক্ষায় রয়েছে সন্ধ্যারানীর সন্ধ্যাতারা জ্বালানোর। ফোনে সবকিছু আগে থেকেই ব্যবস্থা করে রাখায় এখানে এসে কোনো অসুবিধে হয়নি বিতস্তার। দোতলার দক্ষিণ - পূব খোলা বারান্দাসংলগ্ন এক কামরার ঘরটা বেশ মনোমতই হয়েছে ওর। বারান্দার সামনের বাগানের নাম না জানা গাছের সারির ফাঁক দিয়ে দেখা একফালি চাঁদের আবছা আলো মুগ্ধ করছিল ওকে। আজ প্রথম দিন হওয়ায় সন্ধ্যের প্রার্থনায় না গিয়ে চুপচাপ নিজের বারান্দায় বসে সন্ধ্যের এই আমেজটুকু উপভোগ করছিল ও। বহুদিন এরকম আমেজি সন্ধ্যে না দেখা বিতস্তা যখন সন্ধ্যের রেশটুকু নিতে ব্যস্ত তখন সন্ধ্যের চাঁদ হঠাৎই লুকিয়ে কালো ধোঁয়ার মতো একখণ্ড মেঘকে জায়গা দিতেই ধীরে ধীরে সেই ধোঁয়া জড়ানো মেঘরাজি কখন যেন নীলাকাশকে ধোঁয়ার চাদরে মুড়ে ঝড়কে সাথী করে তার অসামান্য বাজনার দুন্দুভিতে প্রকৃতিরানীকে মাতিয়ে তুলতে হাজির হয়েছে ওর সামনে। গ্রামের মেয়ে বিতস্তা এই ঝড়ের সন্ধ্যেটা বেশ উপভোগ করছিল----দীর্ঘদিন শহুরে হাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে এই ঝড়ের আবেশটুকু প্রায় ভুলতেই বসেছিল । বাইরে ঝড় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই লোডশেডিং হয়ে যাওয়ায় অফিস থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে। প্রতিটা বিল্ডিং - এ ইনভার্টার থাকলেও ঝড়ের রাতের সুবিধার্থে সন্ধ্যেটা মোমবাতিতেই কাজ চালায় এরা। এতে অবশ্য বিতস্তার সুবিধেই হয়েছে। বাইরে নিকষ কালো অন্ধকারে এলোমেলো করে দেওয়া ঝড়ের দাপট আর মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমকানিতে নিজের অবছায়াকে অশরীরি বলে ভ্রম হলেও হতে পারে। ঝড়ের বাজনার সাথে বৃষ্টিও সুরের রোশনাই বাড়ানোয় বারান্দা থেকে ঘরে এসে জানালার ধারটাতে বসে বিতস্তা। ঘরের বন্ধ দরজা জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়ায় তিরতির করে কাঁপছিল মোমবাতিটা আর তার কম্পনের জাদুতে দেওয়ালে যে অসামান্য শিল্পকলা সৃষ্টি হচ্ছিল মোহিত হয়ে তার দিকেই তাকিয়ে বসে ছিল ও। হঠাৎই বাইরের দরজায় আওয়াজ শুনে দরজাটা খুলতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল বিতস্তা - - - - বাইরে আধো অন্ধকারে আধভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে দীপন----চেহারায় অল্প বয়সের ছাপ ছাড়া আর কোনো পরিবর্তন হয়নি ওর---সেই এক মুখ - চোখ - চেহারার দীপনের ব্যাকব্রাশ করা সামনের কিছু চুলে পাক ধরা ছাড়া বাকীটা একই আছে। "কীরে, ভিতরে আসতে বলবি না?" হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে বিতস্তা বলে উঠল "ও---হ্যাঁ - - - আয় - - - কিন্তু----তুই এখানে?" ওকে পাশ কাটিয়ে দীপন ভিতরে ঢুকতেই এক ঝলক শিরশিরানি ঠাণ্ডা হাওয়ায় নিভে গেল মোমবাতিটা। "যাঃ! কী হবে এখন - - - আমার কাছে তো দেশলাইও নেই।" " এতে এত ভাবছিস কেন তিস্তা - - - -এরকম ওয়েদারে অন্ধকার বেশ লাগছে রে। " " বেশ তো - - - তোর অসুবিধা না হলে আমারও অসুবিধা নেই।"

Supta sent Today at 7:57 PM

কেমন আছিস তিস্তা - - -" "এই তো যেমন দেখছিস - - - তুই ভালো আছিস তো?" " আমার আবার ভালো থাকা - - - আছি একরকম। " " তুই কি করে জানলি আমি এখানেই আসব? " " জানতাম না তো---তোকে বলেছিলাম না, পৃথিবীটা বড্ড ছোট - - - আর ভালোবাসা সত্যি হলে আমাদের দেখা হবেই।" " হুম্ - - - - বুঝলাম। শ্যামলের কাছে শুনেছিলাম তুই নাকি বিয়ে করিস নি আর গ্রামেও আসতিস না। কেন বলতো? " " একসাথে এত প্রশ্নের উত্তর দেব কী করে? একে একে বলি---তোর প্রথম প্রশ্নের উত্তর, তোকে পাইনি বলে। আর দ্বিতীয় উত্তর, তোকে ছাড়া ওখানে থাকতে পারতাম না তাই!" " তাহলে সেদিন ছেড়ে দিয়েছিলি কেন? " " সব প্রশ্নের উত্তর একদিনেই শুনে নিবি---তার চেয়ে আজকের এই সন্ধ্যেটা গল্পও তো করতে পারি আমরা? " " তোর গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন রে? " " ভুলে যাচ্ছিস কেন - - - - আমি তোর থেকে একবছরের বড়ো - - - সময়টাতো খারাপ - - - তাই একটু ঠাণ্ডা লেগেছে রে। " একটু চুপ থেকে ফ্যাঁসফেঁসে গলায় দীপন বলল" তুই এখনও একইরকম আছিস তিস্তা - - - একটুও বদলাস নি। " " তুইও একইরকম আছিস দীপ - - - "বিতস্তা আরও কিছু বলার উদ্যোগ করার আগেই দীপন বলে উঠল" আমি এখন আসি রে---অনেকটা দেরী হয়ে গেল। " " কিসের দেরী দীপ----এতদিন পরে এলি---এক্ষুণি চলে যাবি? আর একটু বোস না----তোকে ছাড়তে মন চাইছে না রে! " একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দীপন ওর হাতটা তিস্তার হাতে রাখতেই কেঁপে উঠল ও"তোর হাত এত ঠাণ্ডা কেন? তোর কী শীত করছে?" " হ্যাঁ রে, বৃষ্টিতে ভিজে গেছি---একটু তো শীত করছেই। আমি এখন আসি রে। " " তুই আর থাকবি না দীপ? " " নারে, এই অন্ধকারে কে কোথায় দেখবে---সেটা কী ঠিক হবে। কাল সকালে বরং তুই আমার কাছে আসিস।" "তুই কি এখানেই থাকিস? " "হ্যাঁ রে, ওই পিছন দিকের ঘরে - - - ম্যানেজারকে বললেই দেখিয়ে দেবে। " " সে না হয় যাব----কিন্তু সকালে তো বেশিক্ষণ থাকা যাবে না, তুই রোজ রাত্তিরে আসবি তো? " দীপন আরও ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বলল" আসব রে, রোজ আসব---তোর কাছে আসার অপেক্ষাতেই তো আছি রে পাগলী। তুই রেস্ট নে - - - আমি আসছি। "কথাগুলো বলে দীপন ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ করতেই বিতস্তা বলে উঠল" সেদিনের মতো আর একবার তোকে জড়াতে দিবি দীপ? " ওর দিকে ঘুরে বিষণ্ণ গলায় দীপন বলল "আজ আমি ভিজে গেছি তিস্তা - - - আমাকে জড়ালে তুইও ভিজে যাবি---অন্য কোনদিন না হয় - - - " " বেশ তাই হবে" "আমি এখন আসি, কাল তোর অপেক্ষায় থাকব" কথাগুলো বলে পিছনে না তাকিয়ে খোলা দরজা দিয়ে অন্ধকারে দীপন মিলিয়ে যেতেই মোমবাতিটা না জ্বালিয়ে দীপনের স্পর্শধন্য হাতটা বুকের কাছে জড়িয়ে চুপটি করে বসে রইল বিতস্তা।বেশ কিছুক্ষণ পর একটা টর্চের জোরালো আলোয় চমক ভেঙে তাকাতেই আবাসনের সর্বক্ষণের ছেলে সমীর বলল" কী হয়েছে মাসীমা, অন্ধকারে একা বসে আছেন যে? মোমবাতিটা নিভে গিয়েছিল - - - আমাদের ডাকবেন তো? এভাবে অন্ধকারে যদি পড়ে টড়ে যেতেন!" "না রে বাবা - - - - না! কিচ্ছু হবে না। অন্ধকারে কোনও অসুবিধে হয়নি আমার। তা কারেন্ট কী আসবে না আজ?" "না - - - - কারেন্ট আসবেনা - - - তবে সবাই শুয়ে পড়লে ইনভার্টারটা চালানো হবে। আপনার খাবার দিয়ে গেলাম আর মোমবাতিটা জ্বালিয়ে দিয়ে গেলাম। ও - - - হ্যাঁ - - - দেশলাইটা পাশেই রাখলাম। আর প্রয়োজনে ডাকবেন কিন্তু। " সমীরের সব কথা কানে ঢুকলেও মনে সবটা ঢুকল না ভাববিহ্বল বিতস্তার। দীপনের কথা ওকে জিজ্ঞেস করবে ভেবেও শেষ মুহূর্তে কিছু একটা ভেবে চুপ করে ওর কথায় মাথা নেড়ে বসে রইল বিতস্তা। সমীর চলে গেলে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে খাবারটা ঢাকা দিয়ে পাশে সরিয়ে রেখে জমাট বাঁধা অন্ধকারে বাইরের বারান্দায় চুপচাপ বসে দীপনের কথা ভাবতে লাগল ও। পরদিন সকালে প্রার্থনার পর অফিসে এসে ম্যানেজারবাবুর সাথে আলাপ পরিচয়ের পর বিতস্তা বলল "আমাকে একটু দীপন বসুর ঘরে নিয়ে যাবেন?" "আপনি দীপন বাবুকে চেনেন?" "হ্যাঁ, ও আমার বন্ধু। একটু নিয়ে চলুন না প্লিজ - - -" "কিন্তু উনি এখানে আছেন জানলেন কিভাবে - - - - না - - - মানে - - - উনি বলেছিলেন কাউকে না জানিয়েই এসেছেন এখানে। তাই - - - জানতে চাইছিলাম ।" একটু ইতস্তত করে বিতস্তা বলল "আসলে ওর সাথে দেখা হয়েছিল - - - তখনই বলল। একটু নিয়ে চলুন না প্লিজ। " ম্যানেজারবাবু অবাক হয়ে বললেন" উনি নিজে আপনাকে বলেছেন? না - - - মানে! " ওনাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে বিতস্তা এগিয়ে গেল ঘরের দরজার দিকে। ম্যানেজারবাবুও আর কথা না বাড়িয়ে ওনাকে নিয়ে অফিসের পিছন দিকে পার্ক সংলগ্ন দোতলা বাড়ির একেবারে দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ পূবের বারান্দা ঘেরা ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াতেই দরজায় তালা দেখে বিতস্তা বলে উঠল "এই যাঃ! দরজাটা তো তালাবন্ধ দেখছি। জানিয়ে আসা উচিত ছিল আমার। আপনি বরং চলে যান----আমি ওর সাথে দেখা করে ঠিক চিনে চলে যাব" একটু ভ্রূ কুঁচকে ম্যানেজারবাবু বললেন "আমি চাবি খুলে দিচ্ছি - - - - আপনি ভিতরে যান।" ম্যানেজার বাবুর কথায় একটু অবাক হলেও এটা নিয়ম ভেবে চাবি খোলার সাথে সাথেই ঘরটায় ঢুকতে গিয়ে আবারো অবাক হল ও। ঘরটা খুলতেই একটা চাপা ধূলোর গন্ধ নাকে এসে লাগল ওর। গন্ধটা সয়ে নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখল ভীষণই পরিপাটি করে সাজানো ঘরটা যেন ওরই অপেক্ষায় রয়েছে। টানটান করে পেতে রাখা অল্প কুঁচকে যাওয়া বিছানাটা দেখে মনে হচ্ছে, একটু আগেই কেউ উঠে গেছে বিছানা থেকে। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল ম্যানেজারবাবু কখন চলে গেছেন ওখান থেকে। দীপনের অপেক্ষায় চুপচাপ বসে না থেকে পুরো ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল ও। দেওয়ালজোড়া বিভিন্ন ছবি, একটা বুকসেল্ফে সাজানো বিভিন্ন বই, জানালায় রাখা দুটো মানিপ্ল্যান্ট গাছ একে অপরকে জড়িয়ে দেওয়াল বেয়ে বেশ উঠছে। টেবিলের ওপর বেশ কিছু বইয়ের মাঝে সেই নীল ডায়েরিটা - - - যা একদিন বিতস্তাকে ওর মনের মানুষের খবর এনে দিয়েছিল। এক বুক কৌতুহল নিয়ে ডায়েরির পাতা টা খুলতেই একটা চিঠি ওর হাতে পড়ল। একটু দোনামোনা করে চিঠিটা খুলতেই দেখল ওকেই লেখা হয়েছে চিঠিটা। দীপনের এমন কাজকে পাগলামী ভেবে নিজের মনে একটু হেসে পড়তে শুরু করল চিঠিটা---

Supta sent Today at 7:59 PM

তিস্তা,
 আমার মনে হয়েছিল তুই এখানে আসবি। তাই তোর জন্য এটা রাখলাম। ম্যানেজার সতীশবাবুকে বলাই আছে, তুই এলে তোকে এঘরে পৌঁছে দিতে। আসলে আর কিছুদিন আগে এলে আমি নিজেই তোকে নিয়ে আসতাম। ভীষণ অবাক হচ্ছিস তো এটা ভেবে যে, আমি কী করে জানলাম তোর আসার কথা! ভুলে যাস কেন, আমরা একসাথে বড়ো হয়েছি - - - - তাই সুন্দরী ভাগীরথী যে তোর প্রিয় নদী - - - এটা তোর মনে না থাকলেও আমি ভুলিনি রে। জানিস তিস্তা, তোকে আমি একটা দিনের জন্যেও ভুলিনি -----আমার নিশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গেই জড়িয়ে নিয়েছিলাম তোকে। তোর সব খবর আমি পেতাম শ্যামলের কাছ থেকে। তুই যেদিন অফ হোয়াইট আর কচি পাতা কম্বিনেশনের শাড়িটা পরে প্রথম স্কুলে গেছিলি - - - তোর অগোচরেই তোকে দুচোখ ভরে দেখে জড়িয়ে নিয়েছিলাম নিজের উষ্ণতায়। একই শহরে থেকেও ভিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে বেঁচেছি এতদিন।শরীরের টান তৈরী হওয়ার আগে থেকেই মনের টান তৈরী হয়ে গিয়েছিল আমাদের - - - তাই তোকে দূরে পাঠিয়েও নিজে দূরে যেতে পারলাম না রে। তোর না থাকা তুই-এর সাথেই সহবাস করেছি এতদিন - - - - এখানে এসে মনের টান মেটাতে তোর সাথে নতুন ভাবে বাঁচব ভেবেছিলাম - - - কিন্তু ওপারের ডাক যে অমোঘ - - - তাকে এড়াই কেমনে! জানিস তিস্তা, সবাই বলে নিশ্বাস বন্ধেই সব শেষ - - - - কিন্তু আমার কাছে তা আর এক শুরু। সতীশকে এই ঘরে অন্য কাউকে না রাখতে বলেছি তুই না আসা অব্দি। ভাবছিস তো জানলাম কীকরে! এটুকু বিশ্বাস না থাকলে বৃথাই এতদিন ভালোবাসলাম তোকে। এতদিন রণিতেশের সাথে সংসার করেও যে তুই ওর হতে পারিসনি - - - এটা আমি জানি। আর এখানেই তো আমার জিত রে। তুই আমার তিস্তা - - - শুধুই আমার - - - - কোনো বাধাই তোকে দূরে নিয়ে যেতে পারেনি আমার থেকে। আর তাই তো তুই ফিরে এসেছিস আমার কাছে। তুই থাকবি আমার এই ঘরে----আমার সাথে - - - আমার কাছে? আমার অশরীরের উষ্ণতায় জড়িয়ে রাখব তোকে - - - - তোকে বুকের মাঝে রাখার যে অপার শান্তি - - - - তা আমি উপভোগ করতে চাই তোকে বুকে জড়িয়ে। এক অশরীরের সাথে নতুন খেলার - - - - নতুন সংসার পাতবি? আমার এই ঘর তোর অপেক্ষায় - - - - আসবি তিস্তা? " চিঠিটা পড়তে পড়তেই চোখের জল বাঁধ মানছিল না বিতস্তার। চিঠি পড়া শেষ করে চিঠিটার গা থেকে দীপনের স্পর্শসুখ অনুভব করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলতে লাগল" তুই কাল কথা রাখতে এসেছিলি দীপ - - - - আমি এ ঘরেই থাকব - - - - তুই এখানেই আছিস আমি জানি - - - - সব শুনছিস তো----আমি তোর অশরীরের সাথেই বাকী দিনগুলো যাপন করব - - - - তুই খুশী তো!" বলতে বলতে হু হু করে কেঁদে উঠল দীপনের তিস্তা আর তখন ঠিক ওর পিছনে অবয়বহীন শরীরে এক নিশ্চিন্ত অবয়ব ফুটে উঠছিল ধীরে ধীরে।
 
  -----------------------------

You sent Today at 8:02 PM



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432