Skip to main content

গল্প ।। ইচ্ছের ডানা ।। মিতা দাস


 ইচ্ছের ডানা

মিতা দাস 


আইলাইনারটা বেশ ভালো করে পরা হয়েছে এবার। আগেরবার তো পুরো ঘেঁটে গিয়েছিলো, তারপর অনেক ইউটিউব ভিডিও দেখে, ভালো করে শিখে নিয়ে,এবার ঠিক হয়েছে। এবার আইশ্যাডো পরাটাও শিখতে হবে, কিছুতেই দুটো শেড মিক্স করে পরতে পারছিলো না। এইসব কথাই ও ভাবছিলো, হঠাৎ বাবার আওয়াজ পেয়ে তাড়াতাড়ি মিসেলার দিয়ে মুছে, বোনের আইলাইনারটা ড্রয়ারে রেখে দিলো সুজিত। ততক্ষনে তার বাবা ওপরে চলে এসেছিলেন, যদিও মুখে বিন্দু মাত্র মেকআপের চিহ্ন ছিল না, তবুও সুজিতকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তার বাবার ভ্রু কুঁচকে গেল। একটু সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তুু কিছু বললেন না। আগেও এই নিয়ে অনেক কথা হয়ে গিয়েছিলো, যদিও সুজিতকে তারপর আর দেখেননি সেরকম কিছু করতে, তবুও মনটা খুত খুত করছিলো। কি বলতে এসেছিলেন, সেটা না বলে নিজের ঘরে চলে গেলেন। আজকে আবার ছেলে সুজিতের আচরণ ভাবাচ্ছে যতীন বাবুকে। শুধু ছেলে কেন? তার মেয়ের আচরণ ও স্বাভাবিক না, সত্যি ছেলেটা আর মেয়েটা যে কেন স্বাভাবিক আচরণ করে না? তার মেয়ে সৌমীর কোনো কিছুই, জামাকাপড় থেকে শুরু করে স্বভাব, সাজগোজ কোনো কিছুই মেয়েদের মতো না।     

অনেক কষ্টে বাইরের লোকেদের থেকে লুকিয়ে রেখেছেন, যদি তারা জেনে যান, তাহলে কি ভাববেন? তাই উনি আর ওনার স্ত্রী সুজাতা অনেকবার তাদের ছেলে মেয়েকে বুঝিয়েছেন কোনটা করা উচিত আর কোনটা করা উচিত না। তার স্ত্রীও সৌমীকে মেকআপ বক্স, শাড়ি ইত্যাদি কিনে দিয়েছেন যাতে ওকে মেয়ে লাগে, সৌমী তার চুল বড় রাখতে পছন্দ করে না, তবুও তাকে বাধ্য করেছেন চুল বড় রাখতে। সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে "স্বাভাবিক" হতেই হবে তাদেরকে। কিন্তুু সুজিত কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন? কেন তাদেরকে নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে দেওয়া হয় না? ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছে, স্কুলের প্রথম দিন হোক, কি কোনো কারণে ব্যথা পাওয়া, সৌমী যখন কাঁদতো, তখন তার মা বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে চুপ করতেন, কিন্তুু যখন সুজিত কাঁদতো তখন তাকে চুপ করাতে করাতে ওনারা বলতেন " কেন মেয়েদের মতো কাঁদছিস?" আচ্ছা শুধু মেয়েরাই কি কাঁদতে পারে? ছেলেদের ব্যথা লাগে না? সুজিত সত্যি বুঝে পায় না কেন তার বাবা মা ঠিক উল্টোটা করেন তাদের জন্য। সুজিতের আজও মনে আছে সেইদিন টার কথা যেদিন ও প্রথম বলে বাড়িতে যে ও নাচ শিখবে, কত্থক শেখার খুব ইচ্ছে ওর। সেদিন তার বাবা মা আর একটা কাকুও বাড়িতে এসেছিলেন, তারা খুব হাসা হাসি করেছিলেন, তারা নাচের স্কুলে ভর্তি করালেন ঠিকই, কিন্তুু সুজিতকে না, ফুটবল শেখার ইচ্ছে রাখা সৌমিকে। সুজিতকে ক্রিকেটে ভর্তি করানো হলো, যদিও ক্রিকেট তার ভালই লাগে খেলতে, কিন্তুু খারাপ লাগলো এটা ভেবে যে তার ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হল না। তারপর একদিন সুজিতকে মেকআপ করতে দেখে যতীন বাবু খুব রাগারাগি করেছিলেন, এমনকি ওকে থাপ্পড় মেরে দিয়েছিলেন, সৌমীকে তো সারাক্ষণ শুনতে হয় কোনটা ওর করা ঠিক আর কোনটা মেয়ে হিসেবে করা উচিত নয়। দুজনেই মুখ বন্ধ করে মেনে নিয়েছিল।

এই বাড়িতে সুজিতকে বোঝার মতো কেউ নেই একমাত্র সৌমী ছাড়া, সেও তো ভুক্ত ভুগী। তার ইচ্ছেরও কোনো দাম নেই। তাই তারা ঠিক করে যখন তাদের ইচ্ছের কোনো দাম এই বাড়িতে নেই, তখন তারা তাদের বাবা মায়ের ইচ্ছে অনুযায়ী চলবে, কিন্তুু নিজেদের ইচ্ছেটা কেও গুরুত্ব দেবে, কিন্তুু লুকিয়ে। তাই মাঝে মাঝেই সুজিত তার বোনের মেকআপ বক্স খুলে মেকআপ করে আর নিজের কত্থক শেখার ইচ্ছে পুরন করার জন্য কত্থক ক্লাসে ভর্তি হয়। ওদিকে সৌমীও চুপি চুপি ফুটবল কোচিং নেয়, তার সাথে মাঝে মাঝে কত্থক শিখতে যায়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। সৌমী মাঝে মাঝে স্টেপ বুঝতে না পারলে সুজিত সাহায্য করে। ওদিকে সুজাতা যখন মেয়ের মেকআপ বক্স খুলে দেখেন যে সেটা ব্যাবহার হয়েছে, সৌমী ব্যাবহার করেছে ভেবে উনি খুশি হয়ে যান। এইভাবেই দুজনে দুজনকে সাপোর্ট করে, কিন্তুু মাঝে মাঝে দুজনেরই খুব খারাপ লাগে যে ওদের ইচ্ছের কোনো দাম দেওয়া হয়না। সৌমী মাঝে মাঝে বলে " দাদা, আমরা কি কোনোদিনও একটু ভালোভাবে কিছু করতে পারবো না? কতোদিন এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে করবো?" উত্তরে সুজিত বলে " আর যে কোনো উপায় নেইরে, যদি আমরা বলি তাহলে এইটুকু স্বাধীনতাও তো থাকবে না।" 

সৌমী তার কলেজের ফুটবল টিমে ভর্তি হয়েছিল, অবশ্য ভর্তি হোওয়ার সময় ও তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল ফুটবল কোচের থেকে, কিন্তুু প্রতিভা যে অযাচিত কথা থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সেটা সৌমী প্রমাণ করে দিয়েছে। এখন সৌমী ফুটবল টিমের স্টার প্লেয়ার আর ওকে দেখা দেখি অনেক মেয়েও টিমে যোগ দিয়েছে। সুজিত ও একটা ড্যান্স ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, তার বোনের ক্লাসে ভর্তি হলে তার বাবা মা যেনে যেতে পারেন, তাই অন্য একটা ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, মাঝে মাঝে অফিসে কোনো প্রোগ্রাম হলে মেকআপের দায়িত্ব সুজিতের থাকে, ও মেকআপ করিয়ে দেয় আবার শিখেও নেয়। দুজনেই নিজেদের প্রতিভা নিয়ে গর্ব বোধ করে, কোনো ম্যাচ বা কম্পিটিশন জিতলে একে অপরকে নিজেদের ট্রফি, সার্টিফিকেট দেখায়, কিন্তুু বাবা মাকে দেখানোর সময় উল্টে দেয়। সৌমীর ট্রফি সুজিত দেখিয়ে বলে যে ও ক্রিকেটে পেয়েছে, আবার সুজিতের প্রাইজ সৌমী দেখিয়ে বলে যে ও ড্যান্স কম্পিটিশনে পেয়েছে।
 
সমস্যাটা শুরু হয় সেদিন থেকে, যেদিন পাড়ার পরিতোষ কাকু সুজিতকে ড্যান্স ক্লাস থেকে বাইরে বেরোতে দেখেন। সুজিতের ড্যান্স ক্লাসটা তার বাড়ির থেকে দূরে যাতে তার বাড়িতে বা পাড়াতে কেউ জানতে না পারে। সুজিতের বাড়ি বেহালাতে তাই ও তেরতলায় একটা ড্যান্স ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলো। পরিতোষ বাবু কোনো কাজে ওইদিক গিয়েছিলেন, হঠাৎ সুজিতকে ড্যান্স ক্লাসের সামনে দেখে অবাক হয়ে যান। সুজিত ও প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনা কি করবে, তাই চুপ করে পরিতোষ বাবুর দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। পরিতোষ বাবু সামনে এসে জিজ্ঞেস করেন " কিরে সুজিত, তুই নাচের ক্লাসের সামনে কি করছিস?" সুজিত বুঝে পায়না কি বলবে, তারপর বলে ফেলে " কিছুনা কাকু, বোনকে এখানে ছাড়তে এসেছিলাম"।পরিতোষ বাবু " ও আচ্ছা" বলে চলে যায়। কোনরকমে হাফ ছেড়ে বাঁচে সুজিত, ভাবে যাক কোনো সন্দেহ করেনি, নাহলে কেস খাওয়ার থেকে কেউ বাঁচাতে পারতো না। কিন্তুু সত্যিটা আর কতদিন লুকোনো যায়? পরিতোষ বাবু সেদিন ঠিক করেছিলেন তার মেয়েকেও ওই নাচের ক্লাসেই ভর্তি করাবেন, মনে মনে ভাবলেন ভালই হবে, সৌমী আছে তাই কোনো সমস্যা হবে না, একসাথে যাতায়ত করতে পারবে, কোনো অসুবিধে হবে না। কিন্তুু ফি কতো আর কখন ক্লাস হয়, এইসব যতীন বাবুর থেকে একবার জেনে নিতে হবে, তাই উনি ঠিক করেন কালকে যতীন বাবুর বাড়িতে যাবেন।

কালকের দিনটা সৌমীর জন্য খুব জরুরি, কালকে ইন্টার কলেজ ফুটবল ম্যাচ আছে, যদি ওদের কলেজ জিতে যায়, তাহলে ফাইনাল ম্যাচের জন্য কোয়ালিফাই করবে, আর সেটা করতে পারলে, স্টেট লেভেল ম্যাচ খেলার জন্য কোয়ালিফাই করবে। সুজিতকে কথাটা বলাতে ও খুব খুশি হয়েছে, ও ঠিক করেছে যে সৌমীর ম্যাচ ও কালকে দেখতে যাবে। সৌমীর আনন্দে ঘুম আসছিলো না, আবার একটু টেনশন ও হচ্ছিলো। সুজিতের ঘরের গিয়ে ওকে তুলে জিজ্ঞেস করে " দাদা, কালকে যদি সিলেক্ট হয়ে যাই তাহলেতো ফাইনালের জন্য সিলেক্ট হবো, তারপর ওটাতে সিলেক্ট হলে স্টেট লেভেলের জন্য সিলেক্ট হবো।" সুজিত শুনে বললো " তাতে অসুবিধে কোথায়? ভালই তো, তুই তো এটাই ছেয়েছিলিশ।" সৌমী বললো," সেটা না দাদা, আমি বরাবর চেয়েছিলাম যে আমি সিলেক্ট হয়ে যাই, কিন্তুু সিলেক্ট হাওয়ার পর অনেক ট্রেনিং হবে, তার থেকেও বড় কথা গার্ডিয়ানের পারমিশন লাগবে, সেগুলোর কি হবে?" সুজিত বললো " তুই ওই নিয়ে ভাবিস না, কালকের ম্যাচে কনসেনট্রেট কর, বাকিটা আমি দেখে নেবো।" সৌমী আবার নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পরলো।

পরদিন সকালে সুজিত আর সৌমী নিজেদের মতো ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে যায় যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। দুজনে চৌরাস্তা পৌঁছে একসাথে অটো নিলো। কলেজে পৌঁছে সৌমী তারাতারি ড্রেস চেঞ্জ করে নিলো, আর একটু পরেই ম্যাচ শুরু হয়ে যাবে। ওদের কোচ স্যার কিছু ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দিলো, ওদিকে সুজিত দর্শকের আসনে বসলো, যতই হোক একটু বুক ঢিপ ঢিপ করছে, কিন্তুু সৌমীকে ভয় পেতে না করলো। ম্যাচ শুরু হয়ে গেলো, সৌমী প্রথমেই একটা গোল দিলো আর দর্শকের আসনের সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠলো। খুব আনন্দ হচ্ছিলো সুজিতের, আনন্দে নাচছিল সৌমী। কিন্তুু ওদের জানা ছিলোনা ওদের বাড়িতে ওইসময় কি হতে চলেছিলো।

সুজিত আর সৌমী কলেজ যাওয়ার পর যতীন বাবু পেপার পড়ছিলেন, সেই সময় পরিতোষ বাবু এলেন। যতীন বাবু ওনাকে দেখে হেসে উঠে দাড়ালেন, তারপর বসতে বললেন, দুজনেই গল্প করতে আরম্ভ করে দিলেন, সুজাতা দেবীকে চা বানাতে বললেন। প্রথমে নিজেদের কাজ নিয়ে, তারপর এদিক ওদিক গল্প করে পরিতোষ বাবু আসল কথায় আসলেন। পরিতোষ বাবু বললেন " আচ্ছা যতীন বাবু আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম।
"হ্যাঁ বলুন না" যতীন বাবু বললেন।
পরিতোষ বাবু বললেন "আচ্ছা সৌমী যেই নাচের ক্লাসে যায়, সেটা কেমন একটু বলতে পারবেন? কতো টাকা নেয়, কখন ক্লাস হয়।"
যতীন বাবু বললেন "ক্লাসটা তো খুবই ভালো, সৌমী ও অনেকদিন হলো শিখছে, তা আপনি কেন জিজ্ঞেস করছেন?"
পরিতোষ বাবু বললেন " আসলে আমিও ভেবেছিলাম আমার মেয়েকে ওখানে ভর্তি করাবো, সৌমী ও থাকবে, ভালই হবে একসাথে যাতায়াত করতে পারবে, অনেক দূর........."
পরিতোষ বাবুর কথাটা শেষ হলো না, তার আগেই যতীন বাবু বললেন " দূর? বেশি দূরে নাতো, এইতো কাছেই ওর নাচের ক্লাস, দুটো বাড়ি পরে। কোনো অসুবিধে হবে না, ও নিজেই যাতায়াত করতে পারবে।"
পরিতোষ বাবু বলে উঠলেন " সেকি যতীন বাবু, সৌমী তারাতলাতে ক্লাস করে না?"
যতীন বাবু বললেন " না তো, ও এখানেই ক্লাস করে।"
পরিতোষ বাবু অবাক হয়ে বললেন " কিন্তুু অমি সুজিতকে তারাতলাতে দেখলাম, ও একটা নাচের ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলো, আমি বলাতে বললো যে সৌমী ওখানে যায়, আর ও ওখানে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলো।"

কথাটা শোনা মাত্রই যতীন বাবুর মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো, উনি যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন, কিন্তু কি বলবেন কিছু বুঝতে পারছিলেন না, পরিতোষ বাবুকে কোনমতে "পরে দেখছি" বলে উঠে গেলেন, পরিতোষ বাবুও আর কিছু বললেন না, "আসছি" বলে চলে গেলেন। পরিতোষ বাবু চলে যাওয়ার পর যতীন বাবু মনে মনে ভাবলেন " তাহলে এতদিন সুজিত আমাকে মিথ্যে কথা বলেছিল, যা কিছু বলেছিল সব মিথ্যে ছিলো ।" রাগে তার চোখ লাল হয়ে গেল, চুপচাপ সুজিতের আসার অপেক্ষা করতে থাকলেন।

ওদিকে সৌমী খুব খুশি, তার কলেজ ফাইনালে সিলেক্ট হয়েছে। প্রথমে একটা কলেজকে টেক্কা দিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছিলো, তারপর জিতে যাওয়ার পর, ফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করলো। ফাইনাল ম্যাচ আরও দুইদিন পরে, ম্যাচ শেষ হওয়ার‌ পর সৌমীর কলেজের সবাই তাকে জড়িয়ে ধরলো, সত্যি, খুবই আনন্দের দিন, সুজিত ও এসে সৌমীকে জড়িয়ে ধরলো, বললো " আজকে সত্যি আমার খুব আনন্দ হচ্ছে, তুই এতো ভালো খেলেছিস, আমি তোকে যতো দেখছিলাম, ততো মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।" সৌমী বললো " ইস যদি এই কথাটা বাবা মা কে বলতে পারতাম!" সুজিত বললো " সেটা করলে এইটুকু ও করতে পারবি না"। সৌমী মাথা নিচু করে বললো " হ্যাঁ জনিরে।" বলে সৌমী আবার ড্রেস চেঞ্জ করে বেরিয়ে আসলে, ঠিক সকালে যেটা পরে বেরিয়েছিলো, যেটাতে মনে হচ্ছিলো ও কলেজে ক্লাস করে আসছে। কলেজ থেকে বেরিয়ে সুজিত আর সৌমী একটা দোকানে কিছু খেতে ঢুকলো, আগেই বাড়িতে বলা ছিলো যে আসতে আসতে সন্ধে হবে, তাই কোনো অসুবিধে ছিলোনা, আর সৌমীরও খুব খিদে পেয়ে গিয়েছিলো। খাওয়ার অর্ডার করে সুজিত জিজ্ঞেস করলো " আচ্ছা তোদের ফাইনালটা কবে রে?" সৌমী বললো " আর দুই দিন পরে।" শুনে সুজিতের মুখটা শুকিয়ে গেলো, সৌমী সেটা লক্ষ্য করলো, ও জিজ্ঞেস করলো " কি হয়েছে দাদা? কি ভাবছিস তুই?" 
সুজিত বললো " তোর ফাইনাল ম্যাচ দেখতে আসতে পারবো না রে।" সৌমী জিজ্ঞেস করলো "কেন, কোনো অসুবিধে?" সুজিত বললো " অসুবিধে না, সেদিন আমার একটা ড্যান্স কম্পিটিশন আছে, যদি জিতে যাই তাহলে বাইরে পারফর্ম করার একটা চান্স আছে।" শুনে সৌমী খুব খুশি হয়ে গেলো, ও আনন্দের সাথে বললো " সত্যি? কি বলছিস তুই? আগে বলিসনি কেন? এটাতো খুব ভালো খবর।" ও এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে গেলো। সুজিত বললো " আমি বলতাম, আসলে সময় পাইনি বলার। কিন্তুু ফাইনাল ম্যাচে হয়তো‌ আসতে পারবোনা, যদি কোনো কারণে দেরি হয়ে যায়।" সৌমী বললো " তুই চিন্তা করিসনা দাদা, তুই তোর মতো কম্পিটিশনে মন দে।" সুজিত বললো " আমি তাও আসার চেষ্টা করবো"। দুজনে খাওয়ার খেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বাড়িতে পৌঁছে দেখে সবাই চুপ করে বসে আছে, সবার মুখ গম্ভীর, তারা যে ঢুকলো, তাও কারুর কোনো কথা নেই। সুজিত প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনি, ও যতীন বাবুকে কিছু একটা বলার জন্য এগিয়ে আসতে যাবে, কিন্তুু যতীন বাবু উঠে তার গালের মধ্যে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো। সুজিত হতবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকলো। যতীন বাবু রাগে নিজেকে সামলাতে পারছেন না, উনি আরেকটা থাপ্পড় মারত যাবেন কিন্তুু সুজাতা দেবী আর সৌমী তাকে আটকে দিলেন। যতীন বাবু সুজিতের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন " মিথ্যুক, ঠকবাজ তুই এতবড়ো কথা লুকিয়েছিস?" সুজিত কাপতে কাপতে বলে উঠলো " আমি কি লুকোলাম তোমাদের থেকে?" 
যতীন বাবু বলে উঠলেন " পরিতোষ বাবু আজকে এসেছিলেন বাড়িতে, তার মেয়েকে নাচের ক্লাসে ভর্তি করাবেন বলে, তারাতলাতে।" শুনে সুজিতের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো, কি বলবে কিছু বুঝতে পারছিলো না। ও চুপ করে গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকলো, সুজিতকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে যতীন বাবু চিৎকার করে বললেন " আমি না করেছিলাম না? বলিনি এইসব মেয়েদের‌ জিনিস করবি না। তুই ভাবতে পারছিস কেউ জানলে আমরা মুখ দেখাতে পারবো না।" সুজিত আর চুপ করে থাকতে পারলোনা, যখন জেনেই গেছে , তখন আর চুপ করে থেকে লাভ নেই, আজকে একটা এসপার ওসপার‌ করবে। সুজিত খুব আসতে, শান্ত হয়ে বললো " কেন মুখ দেখাতে পারবেনা বাবা? আমি কি এমন কাজ করেছি?"
যতীন বাবু আরও রেগে গিয়ে বললেন " লজ্জা করছেনা তোর? সুজাতা দেবীও বললেন " তুই আমাদের কিছু না বলে এরকমটা করতে পারলি? তোর একবারও মনে হলোনা কেউ এটা জানতে পারলে কি ভাববে?"
সুজিত এখনও শান্ত, ও বললো " আমার লজ্জা করেনা বাবা, আমি কোনো খুন বা চুরি ডাকাতি করিনি যার জন্য আমাকে লজ্জা পেতে হবে", সুজাতা দেবীকে উদ্দেশ্য করে বললো " আমি যদি তোমাদেরকে বলতাম, তাহলে তোমরা আমাকে যেতে দিতে? আর কে কি ভাববে সেই জন্য আমি নিজের ইচ্ছেটা পূরণ করতে পারবোনা?"
" না পারবিনা, এরকম অদ্ভুত ইচ্ছে রেখে এই সমাজে থাকতে পারবিনা তুই।" যতীন বাবু বলে উঠলেন, তিনি বললেন " এই সমাজে থাকতে গেলে কিছু নিয়মে চলতে হয়, নিজের ইচ্ছে মতো সব করা যায়না।"
সুজিত বললো " সমাজ তো মানুষের জন্য বাবা, যদি সমাজে থেকে মানুষ নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে না পারে, তাহলে কিসের সমাজ?"
যতীন বাবু বললেন " অযথা তর্ক করবোনা, কোন ইচ্ছের কথা বলতে চাইছিস তুই? নাচ শেখা, এটা তোর ইচ্ছে? মেকআপ করা, এটা তোর ইচ্ছে? এগুলো কোনো সাধারণ ছেলের ইচ্ছে হতে পারে? কোনো ছেলেকে দেখেছিস এরকম করতে? এইসব কাজ মেয়েদের, এগুলো মেয়েরা করে।"
"এরকম কোথাও লেখা নেই বাবা যে খেলাধুলো শুধু ছেলেরা করতে পারবে আর সাজগোজ নাচ মেয়েরা‌ করতে পারবে, এটা তোমার সমাজ ঠিক করেছে" সুজিত বললো, ও আরও বললো " তোমার সমাজ এইভাবেই কতো স্বপ্নকে শেষ করে দিয়েছে, কতজনের ডানা কেটে দিয়েছে সেটা জানো? কেন সন্মানে লাগবে বলে? কিসের সন্মান? এরকম সন্মান রেখে কি লাভ যেটা স্বপ্নকে শেষ করে ফেলে?"

যতীন বাবু বললেন " আমি কিছু শুনতে চাইনা, যদি এই বাড়িতে থাকতে চাস, তাহলে নাচ গান সব বন্ধ করতে হবে, নাহলে বেরিয়ে যেতে পারিস।" সুজাতা দেবী আটকানোর চেষ্টা করলো, কিন্তুু যতীন বাবু শুনলেন না। সুজিত ঠিক করলো ও চলেই যাবে, আর কিচ্ছু শুনবে না, ও ওর ঘরের দিকে যেতে যাবে, এমন সময় সৌমী বলে উঠলো " যেতে হলে শুধু দাদা কেন যাবে? আমিও যাবো।" সুজিত আটকাতে চেষ্টা করলো, কিন্তুু সৌমী শুনলো না, " আমাকে বলতে দে দাদা", বলে সৌমী এগিয়ে এসে বললো " শুধু দাদা তোমাদেরকে লুকিয়ে কাজ করেনি, আমিও করেছি। নাচের ক্লাসের সাথে সাথে আমিও ফুটবল খেলছি, কলেজের হয়ে ম্যাচ খেলছি।" যতীন বাবু আর সুজাতা দেবী অবাক হয়ে সৌমীর দিকে তাকিয়ে থাকলো, সৌমী বলে চললো " আর শুধু তাই না, আজকে আমি একটা ফুটবল ম্যাচ জিতেছি, দুদিন পরে ফাইনাল, সেখানে সিলেক্ট হলে স্টেট লেভেলে খেলতে পারবো।" সুজাতা দেবী বললেন " সৌমী তুইও? তুই কি করে করতে পারলি একটা মেয়ে হয়ে?" সৌমী একটু ব্যাঙ্গ হেসে বললো " সেটা তোমরা কোনোদিন বুঝবে না, মানুষ স্বপ্ন ছাড়া বাঁচতে পারেনা। তোমরা তো কোনোদিন আমাদের ইচ্ছেটা জিজ্ঞেস করোনি, আমরা কি চাই, তোমরা যা বলেছো, আমরা তাই করে গেছি, কিন্তুু আমরা খুশি কি না সেটা একবারও তোমরা ভেবেছো?" 

সৌমী বলে চললো " আজকে আমি আমার কলেজের হয়ে একটা ম্যাচ জিতলাম, দাদা এতো সুন্দর নাচ করতে পারে, কিন্তুু আমরা ভয়ে তোমাদেরকে বলতেই পারিনা। মনে হয় যদি তোমরা যেনে যাও তাহলে আমরাতো আর কিছু করতে পারবোনা, কেন? কারণ সমাজ সেটা ভালো চোখে দেখবেনা। আচ্ছা সমাজ কি সব কিছু? আমাদের ইচ্ছের কোনো দাম নেই?" সৌমী কেঁদে ফেললো, সুমিত আর কথা বাড়ালো না, সৌমীকে বললো ওর সাথে আসতে। ঘরে যাওয়ার আগে বলে গেলো " আমাদের ইচ্ছেটা তোমরা কোনোদিন গুরুত্ব দিলেনা, তোমরা চিরকাল সমাজের কথা ভেবে এসেছো, আচ্ছা যদি তোমাদের কোনো ইচ্ছে থাকতো, যেটা ছাড়া তোমরা থাকতে পরতে না, যেটা সমাজ আটকাতো, তাহলেও কি তোমরা এইভাবে ছেড়ে দিতে?" কথাটা বলে সুজিত সৌমীকে‌ নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো, সৌমীকে বললো নিজের জমা কাপড় গোছাতে, তারা আর এই বাড়িতে থাকবেনা। সুজিত নিজের ঘরে এসে বসে মাটিতে বসে পরলো, চোখ দিয়ে জল পরে যাচ্ছে, কিন্তুু আজকে আর মুছে ফেলছে না যেটা অন্যদিন করে থাকে, অন্যদিন আটকে রাখতে হয় কান্না, কিন্তুু আজকে আর আটকাচ্ছে না, অনেকদিন পর মন খুলে একটু কাঁদছে, শেষ কবে কেঁদেছিল, সেটা মনে নেই।

স্মৃতি এরকম একটা জিনিস, মনের যতো গভীরেই চাপা দেওয়া থাক না কেনো ঠিক কোনো না কোনো ভাবে বেরিয়ে আসে। সুজিতের‌ শেষ কথাটা যতীন বাবুর কানে বাজতে থাকলো "আচ্ছা যদি তোমাদের কোনো ইচ্ছে থাকতো, যেটা ছাড়া তোমরা থাকতে পরতে না, যেটা সমাজ আটকাতো, তাহলেও কি তোমরা এইভাবে ছেড়ে দিতে?" যতীন বাবুর অনেক কথা মনে পরে গেল, যেগুলো আজ অবধি কাউকে বলেনি। একটু বসে থাকার পর ঠিক করলেন সুজিতের সাথে কথা বলবেন। সুজিত ততক্ষনে ওর ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছিল, সৌমীও ব্যাগ নিয়ে রেডি, যতীন বাবু ঘরে ঢুকলেন। ওরা ওনাকে ঢুকতে দেখলো কিন্তুু কিছু বললো না। যতীন বাবু কিছুক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে থাকলেন, অপরাধ বোধ তাকে গ্রাস করেছে, তারপর বললেন " তোরা যখন চলেই জাবি ঠিক করেছিস, তখন একটা কথা শুনে যা।" দুজনে যতীন বাবুর দিকে তাকালো, যতীন বাবু বলে চললেন " সুজিত, তুই জিজ্ঞেস করলি না আমার কোনো ইচ্ছে থাকলে, সেটা যদি সমাজ আটকাতো, তাহলে সেটা আমি ছেড়ে দিতাম কি না........" একটু থামলেন, তারপর সোফায় বসে বললেন " আমাকে ছাড়তে হয়েছিলো, সত্যি বলতে বাধ্য করা হয়েছিলো। আমিও তোর মতো ছোটবেলায় সাজতে খুব ভালোবাসতাম, গাড়ির থেকে বেশি পুতুল দিয়ে খেলতাম, কিন্তুু একদিন যখন বাবা দেখতে পেলেন, তখন সব পুতুল ফেলে দিলেন, এমন কিছু আমার সামনে রাখতে দিলেননা যেটা মেয়েদের ছিলো, কাঁদলে বকা দিয়ে থামিয়ে দিতেন। আমার দাদারাও আমাকে মেয়ে বলে ক্ষেপাতে লাগলো, যাতে আমি ওগুলো কিছু না করি। আমি আস্তে আস্তে ভাবতে লাগলাম হয়তো বাবা ঠিকই বলছেন, হয়তো এটাই করতে হয়, তাই ইচ্ছে থাকা সত্বেও আর কোনো মেয়েদের জিনিস হাত দিলাম না। সুজিত তোকে যখন দেখলাম মেকআপ করতে তখন ভয় পেয়ে গেছিলাম, আমি তো ছোট ছিলাম তাই আমাকে বেশি কথা শুনতে হয়নি, কিন্তুু তুই ওরকম করছিস সেটা জানলে তো কেউ তোকে শান্তিতে বাঁচতে দেবেনা, তোকে সারাক্ষণ কথা শুনতে হবে।"
সুজিত এতক্ষন সব কথাগুলো শুনছিলো, তারপর যতীন বাবুর সামনে এসে বসে বললো " কে কি বলবে আমাকে, আমাকে কি শোনাবে তাতে আমার কিচ্ছু মনে হবেনা বাবা, সমাজ হয়তো আমাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না, কিন্তুু আমি যদি আমার স্বপ্নটার কথা না ভবি, তাহলে আমিও শান্তিতে থাকতে পারবনা, আমার ইচ্ছেটা চিরকালের মতো বন্ধী হয়ে থাকবে, কোনোদিন স্বাধীন হবেনা।" সৌমী এগিয়ে এসে বললো " সমাজ কি ভাবছে সেটাতে আমাদের কিচ্ছু এসে যায় না বাবা, তোমরা কি ভাবছো সেটাতে আমাদের এসে যায়। যদি তোমরা সমাজ কি ভাববে সেটা ভেবে ভয় পাও, তাহলে আমরা কিভাবে খুশি থাকবো?" 

যতীন বাবু দুজনের মাথায় হাত দিলেন, উঠে দাড়িয়ে বললেন " আচ্ছা ঠিক আছে, আজকে তোরা রেস্ট নিয়ে নে, কালকে দোকানে যেতে হবে।" সুজিত আর সৌমী একে অপরের দিকে তাকালো, সৌমী জিজ্ঞেস করলো " কেন বাবা?" যতীন বাবু বললেন " কেন মানে? এইতো তুই বললি দুদিন পরে তোর ফাইনাল, ভালো জার্সি কিনতে হবে তো।" দুজনে বিশ্বাস করতে পারলো না, আনন্দে যতীন বাবুকে জড়িয়ে ধরলো। সুজিত বললো " বাবা দুদিন পরে আমার কিন্তুু নাচের কম্পিটিশন আছে, আমারও কিছু লাগবে।" যতীন বাবু বললো " হ্যাঁ ! তোর ও একই দিনে? তা‌ বেশ কি লাগবে বলিস।" কথাটা বলে যতীন বাবু বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, আবার বললেন " এখন চল, খেতে যাবি, আর ঠিক করে নিতে হবে কোন প্রোগ্রামটা কখন অ্যাটেন্ড করবো, আমি দুটো প্রোগ্রাম দেখতে চাই।"

দুদিন পরে সকাল থেকেই সবাই ব্যাস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি আরম্ভ করে দিলো, দুটো প্রোগ্রাম অ্যাটেন্ড করতে হবে, সুজিত আর সৌমী আগে খেতে বসে গেছে, ঠিক হয়েছে যতীন বাবু সুজিতের সাথে ড্যান্স ক্লাসে যাবেন, আর সুজাতা দেবী সৌমীর সাথে কলেজে যাবেন আর সুজিতের ড্যান্স শেষ হলে ওরা কলেজে আসবে। তারা নিজেদের মতো বেরিয়ে গেলেন। সুজিতের ড্যান্স কম্পিটিশন শুরু হলো, ওর নাচ দেখে হলে থাকা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেলো, যতীন বাবুর খুব গর্ব হচ্ছিলো সুজিতের ওপর। যখন রেজাল্ট বলা হলো, সুজিত ফার্স্ট হলো, হাতে ট্রফিটা নিয়ে যতীন বাবুকে প্রণাম করলো, যতীন বাবু বললেন " আমি খুব খুশি হয়েছি সুজিত" সুজিত হাসলো, যতীন বাবু বললো " এখন চল সৌমীর কলেজে, দেখি ও কি করছে।"
কলেজের মাঠেও সবাই উত্তেজিত, "সৌমী সৌমী" করে সারা কলেজ চিয়ার করছে, সুজাতা দেবী আনন্দের সাথে দেখছিলেন, জেতার জন্য আরও একটা গোল বাকি, যতীন বাবু আর সুজিত এসে বসলেন, তারাও খুব আনন্দের সাথে দেখলেন কিভাবে পুরো কলেজ সৌমীকে চিয়ার করলেন। সৌমী দৌড়ে যাচ্ছে গোল পোস্টের দিকে, আর নিমেষের মধ্যেই গোল! পুরো কলেজ আনন্দের সঙ্গে উঠে দাড়ালো, সৌমীর কলেজ জিতে গেছে, কিছু স্টুডেন্টরা মাঠে দৌড়ে গিয়ে সৌমীকে ঘাড়ে তুলে চিয়ার করলো " হিপ হিপ হুররে" সৌমী দৌড়ে গিয়ে সুজিত, যতীন বাবু আর সুজাতা দেবীকে জড়িয়ে ধরলো।

 যতীন বাবু ঠিক করলেন সবাই রেস্টুরেন্টে খাবেন, আজকে তাদের আনন্দের দিন, সুজিত আর সৌমীও খুব খুশি, আজকে তারা নিজেদের ট্রফিটা সবার সামনে দেখাতে পারছে, আর লুকিয়ে, পাল্টে দেখাতে হবেনা। চারজনেরই আজকে খুব হালকা লাগছিলো, তাদের মনটা হালকা লাগছিলো। আজকে তারা সবাই স্বাধীন, যতীন বাবু আর সুজাতা দেবী তাদের পুরনো চিন্তা থেকে আর সুজিত আর সৌমী স্বাধীন ভাবে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

"জেন্ডার রোল" অর্থাৎ লিঙ্গ ভূমিকা অথবা এমন কিছু কাজ ঠিক করে দেওয়া যেটা শুধু একটা লিঙ্গ করতে পারবে, বিপরীত লিঙ্গ করলে সেটা সমাজের চোখে দৃষ্টিকটু হয়ে যায়। আমরা স্বাধীন হলেও এখনো সমাজে অনেক নিয়ম এরকম আছে যেটার থেকে আমরা স্বাধীন হতে পারিনি, আমাদের মনের মধ্যে গেঁথে বসে আছে। সেরকমই একটা হলো জেন্ডার রোল। আমরা নিয়ম বানিয়ে দিয়েছি কোন কাজ গুলো ছেলেরা করবে আর কোন কাজ গুলো মেয়েরা করবে, কাজকেও "ছেলেদের মতো" , "মেয়েদের মতো" বলে ঠিক করেছি, স্কুলেও ঠিক একই জিনিস বাচ্চাদের বোঝানো হচ্ছে, ওদের মনের মধ্যে এখনই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছেলে আর মেয়ে আলাদা। যতোদিন সমাজ ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য করতে থাকবে ততোদিন কি আমরা সত্যি স্বাধীন হতে পারবো? 
 
---------------------- 


 মিতা দাস
দেবী বাড়ি রোড নতুন পাড়া নিয়ার পোস্টাল কোয়ার্টার, কোচবিহার - ৭৩৬১০১






Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার   f‡i _vKyK AvKvk N„Yvq bq fv‡jvevmvq R‡g DVzK wgZvwj AvnZ mg‡q b‡ivg el©‡Y AvmyK cÖkvwšÍ emšÍ w`‡bi g‡Zv KvUzK ev‡iv gvm G‡K Ac‡ii mnvbyf~wZ‡Z f‡i _vKzK †`k mevi Kcv‡j †j‡M _vKzK Avb‡›`i wUc my‡Li cÖ`xc R¦‡j DVzK mevi `ytL N‡i mKv‡ji ‡mvbv †iv‡` f‡i _vK mvivw`‡bi mgq ‡KvZ~nj bq Avb›` D”Qv‡m f‡i _vKzK mevi Ni Sjmv‡bv Av‡jvq f‡i _vKyK mevi AvKvk|   Zzwg mgy‡`ªi g‡Zv A‰_ ü`‡q Avgvi AvKvOÿvi N‡i G‡b‡Qv fv‡jvevmvi e„wó my‡Li bvgZvq Rxe‡bi avivcvZ f‡i‡Qv fv‡jvjvMvi evZv‡m f‡i‡Qv wb:k‡ãi Kÿ iv‡Zi wb¯ÍäZvq G‡b‡Qv †RvbvwKi evmi|   Avn¬v`x Av`‡i nv‡Z nvZ †i‡L wb`viæY my‡L f‡i‡Qv gb k~Y¨Zvi †PŠnÏx‡Z Zz‡j‡Qv my‡Li †`qvj Avuav‡i R¡vwj‡q‡Qv Av‡jvi †ivkbvB em‡šÍi e„wó‡Z gb wfwR‡q nvRv‡iv dz‡ji M‡Ü K‡i‡Qv gvZvj|     Zzwg Kv‡Q Avmvq   Zzwg Kv‡Q G‡j fv‡jvevmvq Av‡m c~Y©Zv emšÍ evZv‡m D‡o gy³ cvwL`j g‡bi K...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...