Skip to main content

গল্প ।। ইচ্ছের ডানা ।। মিতা দাস


 ইচ্ছের ডানা

মিতা দাস 


আইলাইনারটা বেশ ভালো করে পরা হয়েছে এবার। আগেরবার তো পুরো ঘেঁটে গিয়েছিলো, তারপর অনেক ইউটিউব ভিডিও দেখে, ভালো করে শিখে নিয়ে,এবার ঠিক হয়েছে। এবার আইশ্যাডো পরাটাও শিখতে হবে, কিছুতেই দুটো শেড মিক্স করে পরতে পারছিলো না। এইসব কথাই ও ভাবছিলো, হঠাৎ বাবার আওয়াজ পেয়ে তাড়াতাড়ি মিসেলার দিয়ে মুছে, বোনের আইলাইনারটা ড্রয়ারে রেখে দিলো সুজিত। ততক্ষনে তার বাবা ওপরে চলে এসেছিলেন, যদিও মুখে বিন্দু মাত্র মেকআপের চিহ্ন ছিল না, তবুও সুজিতকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তার বাবার ভ্রু কুঁচকে গেল। একটু সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তুু কিছু বললেন না। আগেও এই নিয়ে অনেক কথা হয়ে গিয়েছিলো, যদিও সুজিতকে তারপর আর দেখেননি সেরকম কিছু করতে, তবুও মনটা খুত খুত করছিলো। কি বলতে এসেছিলেন, সেটা না বলে নিজের ঘরে চলে গেলেন। আজকে আবার ছেলে সুজিতের আচরণ ভাবাচ্ছে যতীন বাবুকে। শুধু ছেলে কেন? তার মেয়ের আচরণ ও স্বাভাবিক না, সত্যি ছেলেটা আর মেয়েটা যে কেন স্বাভাবিক আচরণ করে না? তার মেয়ে সৌমীর কোনো কিছুই, জামাকাপড় থেকে শুরু করে স্বভাব, সাজগোজ কোনো কিছুই মেয়েদের মতো না।     

অনেক কষ্টে বাইরের লোকেদের থেকে লুকিয়ে রেখেছেন, যদি তারা জেনে যান, তাহলে কি ভাববেন? তাই উনি আর ওনার স্ত্রী সুজাতা অনেকবার তাদের ছেলে মেয়েকে বুঝিয়েছেন কোনটা করা উচিত আর কোনটা করা উচিত না। তার স্ত্রীও সৌমীকে মেকআপ বক্স, শাড়ি ইত্যাদি কিনে দিয়েছেন যাতে ওকে মেয়ে লাগে, সৌমী তার চুল বড় রাখতে পছন্দ করে না, তবুও তাকে বাধ্য করেছেন চুল বড় রাখতে। সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে "স্বাভাবিক" হতেই হবে তাদেরকে। কিন্তুু সুজিত কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন? কেন তাদেরকে নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে দেওয়া হয় না? ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছে, স্কুলের প্রথম দিন হোক, কি কোনো কারণে ব্যথা পাওয়া, সৌমী যখন কাঁদতো, তখন তার মা বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে চুপ করতেন, কিন্তুু যখন সুজিত কাঁদতো তখন তাকে চুপ করাতে করাতে ওনারা বলতেন " কেন মেয়েদের মতো কাঁদছিস?" আচ্ছা শুধু মেয়েরাই কি কাঁদতে পারে? ছেলেদের ব্যথা লাগে না? সুজিত সত্যি বুঝে পায় না কেন তার বাবা মা ঠিক উল্টোটা করেন তাদের জন্য। সুজিতের আজও মনে আছে সেইদিন টার কথা যেদিন ও প্রথম বলে বাড়িতে যে ও নাচ শিখবে, কত্থক শেখার খুব ইচ্ছে ওর। সেদিন তার বাবা মা আর একটা কাকুও বাড়িতে এসেছিলেন, তারা খুব হাসা হাসি করেছিলেন, তারা নাচের স্কুলে ভর্তি করালেন ঠিকই, কিন্তুু সুজিতকে না, ফুটবল শেখার ইচ্ছে রাখা সৌমিকে। সুজিতকে ক্রিকেটে ভর্তি করানো হলো, যদিও ক্রিকেট তার ভালই লাগে খেলতে, কিন্তুু খারাপ লাগলো এটা ভেবে যে তার ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হল না। তারপর একদিন সুজিতকে মেকআপ করতে দেখে যতীন বাবু খুব রাগারাগি করেছিলেন, এমনকি ওকে থাপ্পড় মেরে দিয়েছিলেন, সৌমীকে তো সারাক্ষণ শুনতে হয় কোনটা ওর করা ঠিক আর কোনটা মেয়ে হিসেবে করা উচিত নয়। দুজনেই মুখ বন্ধ করে মেনে নিয়েছিল।

এই বাড়িতে সুজিতকে বোঝার মতো কেউ নেই একমাত্র সৌমী ছাড়া, সেও তো ভুক্ত ভুগী। তার ইচ্ছেরও কোনো দাম নেই। তাই তারা ঠিক করে যখন তাদের ইচ্ছের কোনো দাম এই বাড়িতে নেই, তখন তারা তাদের বাবা মায়ের ইচ্ছে অনুযায়ী চলবে, কিন্তুু নিজেদের ইচ্ছেটা কেও গুরুত্ব দেবে, কিন্তুু লুকিয়ে। তাই মাঝে মাঝেই সুজিত তার বোনের মেকআপ বক্স খুলে মেকআপ করে আর নিজের কত্থক শেখার ইচ্ছে পুরন করার জন্য কত্থক ক্লাসে ভর্তি হয়। ওদিকে সৌমীও চুপি চুপি ফুটবল কোচিং নেয়, তার সাথে মাঝে মাঝে কত্থক শিখতে যায়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। সৌমী মাঝে মাঝে স্টেপ বুঝতে না পারলে সুজিত সাহায্য করে। ওদিকে সুজাতা যখন মেয়ের মেকআপ বক্স খুলে দেখেন যে সেটা ব্যাবহার হয়েছে, সৌমী ব্যাবহার করেছে ভেবে উনি খুশি হয়ে যান। এইভাবেই দুজনে দুজনকে সাপোর্ট করে, কিন্তুু মাঝে মাঝে দুজনেরই খুব খারাপ লাগে যে ওদের ইচ্ছের কোনো দাম দেওয়া হয়না। সৌমী মাঝে মাঝে বলে " দাদা, আমরা কি কোনোদিনও একটু ভালোভাবে কিছু করতে পারবো না? কতোদিন এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে করবো?" উত্তরে সুজিত বলে " আর যে কোনো উপায় নেইরে, যদি আমরা বলি তাহলে এইটুকু স্বাধীনতাও তো থাকবে না।" 

সৌমী তার কলেজের ফুটবল টিমে ভর্তি হয়েছিল, অবশ্য ভর্তি হোওয়ার সময় ও তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল ফুটবল কোচের থেকে, কিন্তুু প্রতিভা যে অযাচিত কথা থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সেটা সৌমী প্রমাণ করে দিয়েছে। এখন সৌমী ফুটবল টিমের স্টার প্লেয়ার আর ওকে দেখা দেখি অনেক মেয়েও টিমে যোগ দিয়েছে। সুজিত ও একটা ড্যান্স ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, তার বোনের ক্লাসে ভর্তি হলে তার বাবা মা যেনে যেতে পারেন, তাই অন্য একটা ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, মাঝে মাঝে অফিসে কোনো প্রোগ্রাম হলে মেকআপের দায়িত্ব সুজিতের থাকে, ও মেকআপ করিয়ে দেয় আবার শিখেও নেয়। দুজনেই নিজেদের প্রতিভা নিয়ে গর্ব বোধ করে, কোনো ম্যাচ বা কম্পিটিশন জিতলে একে অপরকে নিজেদের ট্রফি, সার্টিফিকেট দেখায়, কিন্তুু বাবা মাকে দেখানোর সময় উল্টে দেয়। সৌমীর ট্রফি সুজিত দেখিয়ে বলে যে ও ক্রিকেটে পেয়েছে, আবার সুজিতের প্রাইজ সৌমী দেখিয়ে বলে যে ও ড্যান্স কম্পিটিশনে পেয়েছে।
 
সমস্যাটা শুরু হয় সেদিন থেকে, যেদিন পাড়ার পরিতোষ কাকু সুজিতকে ড্যান্স ক্লাস থেকে বাইরে বেরোতে দেখেন। সুজিতের ড্যান্স ক্লাসটা তার বাড়ির থেকে দূরে যাতে তার বাড়িতে বা পাড়াতে কেউ জানতে না পারে। সুজিতের বাড়ি বেহালাতে তাই ও তেরতলায় একটা ড্যান্স ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলো। পরিতোষ বাবু কোনো কাজে ওইদিক গিয়েছিলেন, হঠাৎ সুজিতকে ড্যান্স ক্লাসের সামনে দেখে অবাক হয়ে যান। সুজিত ও প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনা কি করবে, তাই চুপ করে পরিতোষ বাবুর দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। পরিতোষ বাবু সামনে এসে জিজ্ঞেস করেন " কিরে সুজিত, তুই নাচের ক্লাসের সামনে কি করছিস?" সুজিত বুঝে পায়না কি বলবে, তারপর বলে ফেলে " কিছুনা কাকু, বোনকে এখানে ছাড়তে এসেছিলাম"।পরিতোষ বাবু " ও আচ্ছা" বলে চলে যায়। কোনরকমে হাফ ছেড়ে বাঁচে সুজিত, ভাবে যাক কোনো সন্দেহ করেনি, নাহলে কেস খাওয়ার থেকে কেউ বাঁচাতে পারতো না। কিন্তুু সত্যিটা আর কতদিন লুকোনো যায়? পরিতোষ বাবু সেদিন ঠিক করেছিলেন তার মেয়েকেও ওই নাচের ক্লাসেই ভর্তি করাবেন, মনে মনে ভাবলেন ভালই হবে, সৌমী আছে তাই কোনো সমস্যা হবে না, একসাথে যাতায়ত করতে পারবে, কোনো অসুবিধে হবে না। কিন্তুু ফি কতো আর কখন ক্লাস হয়, এইসব যতীন বাবুর থেকে একবার জেনে নিতে হবে, তাই উনি ঠিক করেন কালকে যতীন বাবুর বাড়িতে যাবেন।

কালকের দিনটা সৌমীর জন্য খুব জরুরি, কালকে ইন্টার কলেজ ফুটবল ম্যাচ আছে, যদি ওদের কলেজ জিতে যায়, তাহলে ফাইনাল ম্যাচের জন্য কোয়ালিফাই করবে, আর সেটা করতে পারলে, স্টেট লেভেল ম্যাচ খেলার জন্য কোয়ালিফাই করবে। সুজিতকে কথাটা বলাতে ও খুব খুশি হয়েছে, ও ঠিক করেছে যে সৌমীর ম্যাচ ও কালকে দেখতে যাবে। সৌমীর আনন্দে ঘুম আসছিলো না, আবার একটু টেনশন ও হচ্ছিলো। সুজিতের ঘরের গিয়ে ওকে তুলে জিজ্ঞেস করে " দাদা, কালকে যদি সিলেক্ট হয়ে যাই তাহলেতো ফাইনালের জন্য সিলেক্ট হবো, তারপর ওটাতে সিলেক্ট হলে স্টেট লেভেলের জন্য সিলেক্ট হবো।" সুজিত শুনে বললো " তাতে অসুবিধে কোথায়? ভালই তো, তুই তো এটাই ছেয়েছিলিশ।" সৌমী বললো," সেটা না দাদা, আমি বরাবর চেয়েছিলাম যে আমি সিলেক্ট হয়ে যাই, কিন্তুু সিলেক্ট হাওয়ার পর অনেক ট্রেনিং হবে, তার থেকেও বড় কথা গার্ডিয়ানের পারমিশন লাগবে, সেগুলোর কি হবে?" সুজিত বললো " তুই ওই নিয়ে ভাবিস না, কালকের ম্যাচে কনসেনট্রেট কর, বাকিটা আমি দেখে নেবো।" সৌমী আবার নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পরলো।

পরদিন সকালে সুজিত আর সৌমী নিজেদের মতো ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে যায় যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। দুজনে চৌরাস্তা পৌঁছে একসাথে অটো নিলো। কলেজে পৌঁছে সৌমী তারাতারি ড্রেস চেঞ্জ করে নিলো, আর একটু পরেই ম্যাচ শুরু হয়ে যাবে। ওদের কোচ স্যার কিছু ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দিলো, ওদিকে সুজিত দর্শকের আসনে বসলো, যতই হোক একটু বুক ঢিপ ঢিপ করছে, কিন্তুু সৌমীকে ভয় পেতে না করলো। ম্যাচ শুরু হয়ে গেলো, সৌমী প্রথমেই একটা গোল দিলো আর দর্শকের আসনের সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠলো। খুব আনন্দ হচ্ছিলো সুজিতের, আনন্দে নাচছিল সৌমী। কিন্তুু ওদের জানা ছিলোনা ওদের বাড়িতে ওইসময় কি হতে চলেছিলো।

সুজিত আর সৌমী কলেজ যাওয়ার পর যতীন বাবু পেপার পড়ছিলেন, সেই সময় পরিতোষ বাবু এলেন। যতীন বাবু ওনাকে দেখে হেসে উঠে দাড়ালেন, তারপর বসতে বললেন, দুজনেই গল্প করতে আরম্ভ করে দিলেন, সুজাতা দেবীকে চা বানাতে বললেন। প্রথমে নিজেদের কাজ নিয়ে, তারপর এদিক ওদিক গল্প করে পরিতোষ বাবু আসল কথায় আসলেন। পরিতোষ বাবু বললেন " আচ্ছা যতীন বাবু আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম।
"হ্যাঁ বলুন না" যতীন বাবু বললেন।
পরিতোষ বাবু বললেন "আচ্ছা সৌমী যেই নাচের ক্লাসে যায়, সেটা কেমন একটু বলতে পারবেন? কতো টাকা নেয়, কখন ক্লাস হয়।"
যতীন বাবু বললেন "ক্লাসটা তো খুবই ভালো, সৌমী ও অনেকদিন হলো শিখছে, তা আপনি কেন জিজ্ঞেস করছেন?"
পরিতোষ বাবু বললেন " আসলে আমিও ভেবেছিলাম আমার মেয়েকে ওখানে ভর্তি করাবো, সৌমী ও থাকবে, ভালই হবে একসাথে যাতায়াত করতে পারবে, অনেক দূর........."
পরিতোষ বাবুর কথাটা শেষ হলো না, তার আগেই যতীন বাবু বললেন " দূর? বেশি দূরে নাতো, এইতো কাছেই ওর নাচের ক্লাস, দুটো বাড়ি পরে। কোনো অসুবিধে হবে না, ও নিজেই যাতায়াত করতে পারবে।"
পরিতোষ বাবু বলে উঠলেন " সেকি যতীন বাবু, সৌমী তারাতলাতে ক্লাস করে না?"
যতীন বাবু বললেন " না তো, ও এখানেই ক্লাস করে।"
পরিতোষ বাবু অবাক হয়ে বললেন " কিন্তুু অমি সুজিতকে তারাতলাতে দেখলাম, ও একটা নাচের ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলো, আমি বলাতে বললো যে সৌমী ওখানে যায়, আর ও ওখানে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলো।"

কথাটা শোনা মাত্রই যতীন বাবুর মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো, উনি যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন, কিন্তু কি বলবেন কিছু বুঝতে পারছিলেন না, পরিতোষ বাবুকে কোনমতে "পরে দেখছি" বলে উঠে গেলেন, পরিতোষ বাবুও আর কিছু বললেন না, "আসছি" বলে চলে গেলেন। পরিতোষ বাবু চলে যাওয়ার পর যতীন বাবু মনে মনে ভাবলেন " তাহলে এতদিন সুজিত আমাকে মিথ্যে কথা বলেছিল, যা কিছু বলেছিল সব মিথ্যে ছিলো ।" রাগে তার চোখ লাল হয়ে গেল, চুপচাপ সুজিতের আসার অপেক্ষা করতে থাকলেন।

ওদিকে সৌমী খুব খুশি, তার কলেজ ফাইনালে সিলেক্ট হয়েছে। প্রথমে একটা কলেজকে টেক্কা দিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছিলো, তারপর জিতে যাওয়ার পর, ফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করলো। ফাইনাল ম্যাচ আরও দুইদিন পরে, ম্যাচ শেষ হওয়ার‌ পর সৌমীর কলেজের সবাই তাকে জড়িয়ে ধরলো, সত্যি, খুবই আনন্দের দিন, সুজিত ও এসে সৌমীকে জড়িয়ে ধরলো, বললো " আজকে সত্যি আমার খুব আনন্দ হচ্ছে, তুই এতো ভালো খেলেছিস, আমি তোকে যতো দেখছিলাম, ততো মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।" সৌমী বললো " ইস যদি এই কথাটা বাবা মা কে বলতে পারতাম!" সুজিত বললো " সেটা করলে এইটুকু ও করতে পারবি না"। সৌমী মাথা নিচু করে বললো " হ্যাঁ জনিরে।" বলে সৌমী আবার ড্রেস চেঞ্জ করে বেরিয়ে আসলে, ঠিক সকালে যেটা পরে বেরিয়েছিলো, যেটাতে মনে হচ্ছিলো ও কলেজে ক্লাস করে আসছে। কলেজ থেকে বেরিয়ে সুজিত আর সৌমী একটা দোকানে কিছু খেতে ঢুকলো, আগেই বাড়িতে বলা ছিলো যে আসতে আসতে সন্ধে হবে, তাই কোনো অসুবিধে ছিলোনা, আর সৌমীরও খুব খিদে পেয়ে গিয়েছিলো। খাওয়ার অর্ডার করে সুজিত জিজ্ঞেস করলো " আচ্ছা তোদের ফাইনালটা কবে রে?" সৌমী বললো " আর দুই দিন পরে।" শুনে সুজিতের মুখটা শুকিয়ে গেলো, সৌমী সেটা লক্ষ্য করলো, ও জিজ্ঞেস করলো " কি হয়েছে দাদা? কি ভাবছিস তুই?" 
সুজিত বললো " তোর ফাইনাল ম্যাচ দেখতে আসতে পারবো না রে।" সৌমী জিজ্ঞেস করলো "কেন, কোনো অসুবিধে?" সুজিত বললো " অসুবিধে না, সেদিন আমার একটা ড্যান্স কম্পিটিশন আছে, যদি জিতে যাই তাহলে বাইরে পারফর্ম করার একটা চান্স আছে।" শুনে সৌমী খুব খুশি হয়ে গেলো, ও আনন্দের সাথে বললো " সত্যি? কি বলছিস তুই? আগে বলিসনি কেন? এটাতো খুব ভালো খবর।" ও এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে গেলো। সুজিত বললো " আমি বলতাম, আসলে সময় পাইনি বলার। কিন্তুু ফাইনাল ম্যাচে হয়তো‌ আসতে পারবোনা, যদি কোনো কারণে দেরি হয়ে যায়।" সৌমী বললো " তুই চিন্তা করিসনা দাদা, তুই তোর মতো কম্পিটিশনে মন দে।" সুজিত বললো " আমি তাও আসার চেষ্টা করবো"। দুজনে খাওয়ার খেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বাড়িতে পৌঁছে দেখে সবাই চুপ করে বসে আছে, সবার মুখ গম্ভীর, তারা যে ঢুকলো, তাও কারুর কোনো কথা নেই। সুজিত প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনি, ও যতীন বাবুকে কিছু একটা বলার জন্য এগিয়ে আসতে যাবে, কিন্তুু যতীন বাবু উঠে তার গালের মধ্যে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো। সুজিত হতবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকলো। যতীন বাবু রাগে নিজেকে সামলাতে পারছেন না, উনি আরেকটা থাপ্পড় মারত যাবেন কিন্তুু সুজাতা দেবী আর সৌমী তাকে আটকে দিলেন। যতীন বাবু সুজিতের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন " মিথ্যুক, ঠকবাজ তুই এতবড়ো কথা লুকিয়েছিস?" সুজিত কাপতে কাপতে বলে উঠলো " আমি কি লুকোলাম তোমাদের থেকে?" 
যতীন বাবু বলে উঠলেন " পরিতোষ বাবু আজকে এসেছিলেন বাড়িতে, তার মেয়েকে নাচের ক্লাসে ভর্তি করাবেন বলে, তারাতলাতে।" শুনে সুজিতের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো, কি বলবে কিছু বুঝতে পারছিলো না। ও চুপ করে গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকলো, সুজিতকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে যতীন বাবু চিৎকার করে বললেন " আমি না করেছিলাম না? বলিনি এইসব মেয়েদের‌ জিনিস করবি না। তুই ভাবতে পারছিস কেউ জানলে আমরা মুখ দেখাতে পারবো না।" সুজিত আর চুপ করে থাকতে পারলোনা, যখন জেনেই গেছে , তখন আর চুপ করে থেকে লাভ নেই, আজকে একটা এসপার ওসপার‌ করবে। সুজিত খুব আসতে, শান্ত হয়ে বললো " কেন মুখ দেখাতে পারবেনা বাবা? আমি কি এমন কাজ করেছি?"
যতীন বাবু আরও রেগে গিয়ে বললেন " লজ্জা করছেনা তোর? সুজাতা দেবীও বললেন " তুই আমাদের কিছু না বলে এরকমটা করতে পারলি? তোর একবারও মনে হলোনা কেউ এটা জানতে পারলে কি ভাববে?"
সুজিত এখনও শান্ত, ও বললো " আমার লজ্জা করেনা বাবা, আমি কোনো খুন বা চুরি ডাকাতি করিনি যার জন্য আমাকে লজ্জা পেতে হবে", সুজাতা দেবীকে উদ্দেশ্য করে বললো " আমি যদি তোমাদেরকে বলতাম, তাহলে তোমরা আমাকে যেতে দিতে? আর কে কি ভাববে সেই জন্য আমি নিজের ইচ্ছেটা পূরণ করতে পারবোনা?"
" না পারবিনা, এরকম অদ্ভুত ইচ্ছে রেখে এই সমাজে থাকতে পারবিনা তুই।" যতীন বাবু বলে উঠলেন, তিনি বললেন " এই সমাজে থাকতে গেলে কিছু নিয়মে চলতে হয়, নিজের ইচ্ছে মতো সব করা যায়না।"
সুজিত বললো " সমাজ তো মানুষের জন্য বাবা, যদি সমাজে থেকে মানুষ নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে না পারে, তাহলে কিসের সমাজ?"
যতীন বাবু বললেন " অযথা তর্ক করবোনা, কোন ইচ্ছের কথা বলতে চাইছিস তুই? নাচ শেখা, এটা তোর ইচ্ছে? মেকআপ করা, এটা তোর ইচ্ছে? এগুলো কোনো সাধারণ ছেলের ইচ্ছে হতে পারে? কোনো ছেলেকে দেখেছিস এরকম করতে? এইসব কাজ মেয়েদের, এগুলো মেয়েরা করে।"
"এরকম কোথাও লেখা নেই বাবা যে খেলাধুলো শুধু ছেলেরা করতে পারবে আর সাজগোজ নাচ মেয়েরা‌ করতে পারবে, এটা তোমার সমাজ ঠিক করেছে" সুজিত বললো, ও আরও বললো " তোমার সমাজ এইভাবেই কতো স্বপ্নকে শেষ করে দিয়েছে, কতজনের ডানা কেটে দিয়েছে সেটা জানো? কেন সন্মানে লাগবে বলে? কিসের সন্মান? এরকম সন্মান রেখে কি লাভ যেটা স্বপ্নকে শেষ করে ফেলে?"

যতীন বাবু বললেন " আমি কিছু শুনতে চাইনা, যদি এই বাড়িতে থাকতে চাস, তাহলে নাচ গান সব বন্ধ করতে হবে, নাহলে বেরিয়ে যেতে পারিস।" সুজাতা দেবী আটকানোর চেষ্টা করলো, কিন্তুু যতীন বাবু শুনলেন না। সুজিত ঠিক করলো ও চলেই যাবে, আর কিচ্ছু শুনবে না, ও ওর ঘরের দিকে যেতে যাবে, এমন সময় সৌমী বলে উঠলো " যেতে হলে শুধু দাদা কেন যাবে? আমিও যাবো।" সুজিত আটকাতে চেষ্টা করলো, কিন্তুু সৌমী শুনলো না, " আমাকে বলতে দে দাদা", বলে সৌমী এগিয়ে এসে বললো " শুধু দাদা তোমাদেরকে লুকিয়ে কাজ করেনি, আমিও করেছি। নাচের ক্লাসের সাথে সাথে আমিও ফুটবল খেলছি, কলেজের হয়ে ম্যাচ খেলছি।" যতীন বাবু আর সুজাতা দেবী অবাক হয়ে সৌমীর দিকে তাকিয়ে থাকলো, সৌমী বলে চললো " আর শুধু তাই না, আজকে আমি একটা ফুটবল ম্যাচ জিতেছি, দুদিন পরে ফাইনাল, সেখানে সিলেক্ট হলে স্টেট লেভেলে খেলতে পারবো।" সুজাতা দেবী বললেন " সৌমী তুইও? তুই কি করে করতে পারলি একটা মেয়ে হয়ে?" সৌমী একটু ব্যাঙ্গ হেসে বললো " সেটা তোমরা কোনোদিন বুঝবে না, মানুষ স্বপ্ন ছাড়া বাঁচতে পারেনা। তোমরা তো কোনোদিন আমাদের ইচ্ছেটা জিজ্ঞেস করোনি, আমরা কি চাই, তোমরা যা বলেছো, আমরা তাই করে গেছি, কিন্তুু আমরা খুশি কি না সেটা একবারও তোমরা ভেবেছো?" 

সৌমী বলে চললো " আজকে আমি আমার কলেজের হয়ে একটা ম্যাচ জিতলাম, দাদা এতো সুন্দর নাচ করতে পারে, কিন্তুু আমরা ভয়ে তোমাদেরকে বলতেই পারিনা। মনে হয় যদি তোমরা যেনে যাও তাহলে আমরাতো আর কিছু করতে পারবোনা, কেন? কারণ সমাজ সেটা ভালো চোখে দেখবেনা। আচ্ছা সমাজ কি সব কিছু? আমাদের ইচ্ছের কোনো দাম নেই?" সৌমী কেঁদে ফেললো, সুমিত আর কথা বাড়ালো না, সৌমীকে বললো ওর সাথে আসতে। ঘরে যাওয়ার আগে বলে গেলো " আমাদের ইচ্ছেটা তোমরা কোনোদিন গুরুত্ব দিলেনা, তোমরা চিরকাল সমাজের কথা ভেবে এসেছো, আচ্ছা যদি তোমাদের কোনো ইচ্ছে থাকতো, যেটা ছাড়া তোমরা থাকতে পরতে না, যেটা সমাজ আটকাতো, তাহলেও কি তোমরা এইভাবে ছেড়ে দিতে?" কথাটা বলে সুজিত সৌমীকে‌ নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো, সৌমীকে বললো নিজের জমা কাপড় গোছাতে, তারা আর এই বাড়িতে থাকবেনা। সুজিত নিজের ঘরে এসে বসে মাটিতে বসে পরলো, চোখ দিয়ে জল পরে যাচ্ছে, কিন্তুু আজকে আর মুছে ফেলছে না যেটা অন্যদিন করে থাকে, অন্যদিন আটকে রাখতে হয় কান্না, কিন্তুু আজকে আর আটকাচ্ছে না, অনেকদিন পর মন খুলে একটু কাঁদছে, শেষ কবে কেঁদেছিল, সেটা মনে নেই।

স্মৃতি এরকম একটা জিনিস, মনের যতো গভীরেই চাপা দেওয়া থাক না কেনো ঠিক কোনো না কোনো ভাবে বেরিয়ে আসে। সুজিতের‌ শেষ কথাটা যতীন বাবুর কানে বাজতে থাকলো "আচ্ছা যদি তোমাদের কোনো ইচ্ছে থাকতো, যেটা ছাড়া তোমরা থাকতে পরতে না, যেটা সমাজ আটকাতো, তাহলেও কি তোমরা এইভাবে ছেড়ে দিতে?" যতীন বাবুর অনেক কথা মনে পরে গেল, যেগুলো আজ অবধি কাউকে বলেনি। একটু বসে থাকার পর ঠিক করলেন সুজিতের সাথে কথা বলবেন। সুজিত ততক্ষনে ওর ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছিল, সৌমীও ব্যাগ নিয়ে রেডি, যতীন বাবু ঘরে ঢুকলেন। ওরা ওনাকে ঢুকতে দেখলো কিন্তুু কিছু বললো না। যতীন বাবু কিছুক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে থাকলেন, অপরাধ বোধ তাকে গ্রাস করেছে, তারপর বললেন " তোরা যখন চলেই জাবি ঠিক করেছিস, তখন একটা কথা শুনে যা।" দুজনে যতীন বাবুর দিকে তাকালো, যতীন বাবু বলে চললেন " সুজিত, তুই জিজ্ঞেস করলি না আমার কোনো ইচ্ছে থাকলে, সেটা যদি সমাজ আটকাতো, তাহলে সেটা আমি ছেড়ে দিতাম কি না........" একটু থামলেন, তারপর সোফায় বসে বললেন " আমাকে ছাড়তে হয়েছিলো, সত্যি বলতে বাধ্য করা হয়েছিলো। আমিও তোর মতো ছোটবেলায় সাজতে খুব ভালোবাসতাম, গাড়ির থেকে বেশি পুতুল দিয়ে খেলতাম, কিন্তুু একদিন যখন বাবা দেখতে পেলেন, তখন সব পুতুল ফেলে দিলেন, এমন কিছু আমার সামনে রাখতে দিলেননা যেটা মেয়েদের ছিলো, কাঁদলে বকা দিয়ে থামিয়ে দিতেন। আমার দাদারাও আমাকে মেয়ে বলে ক্ষেপাতে লাগলো, যাতে আমি ওগুলো কিছু না করি। আমি আস্তে আস্তে ভাবতে লাগলাম হয়তো বাবা ঠিকই বলছেন, হয়তো এটাই করতে হয়, তাই ইচ্ছে থাকা সত্বেও আর কোনো মেয়েদের জিনিস হাত দিলাম না। সুজিত তোকে যখন দেখলাম মেকআপ করতে তখন ভয় পেয়ে গেছিলাম, আমি তো ছোট ছিলাম তাই আমাকে বেশি কথা শুনতে হয়নি, কিন্তুু তুই ওরকম করছিস সেটা জানলে তো কেউ তোকে শান্তিতে বাঁচতে দেবেনা, তোকে সারাক্ষণ কথা শুনতে হবে।"
সুজিত এতক্ষন সব কথাগুলো শুনছিলো, তারপর যতীন বাবুর সামনে এসে বসে বললো " কে কি বলবে আমাকে, আমাকে কি শোনাবে তাতে আমার কিচ্ছু মনে হবেনা বাবা, সমাজ হয়তো আমাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না, কিন্তুু আমি যদি আমার স্বপ্নটার কথা না ভবি, তাহলে আমিও শান্তিতে থাকতে পারবনা, আমার ইচ্ছেটা চিরকালের মতো বন্ধী হয়ে থাকবে, কোনোদিন স্বাধীন হবেনা।" সৌমী এগিয়ে এসে বললো " সমাজ কি ভাবছে সেটাতে আমাদের কিচ্ছু এসে যায় না বাবা, তোমরা কি ভাবছো সেটাতে আমাদের এসে যায়। যদি তোমরা সমাজ কি ভাববে সেটা ভেবে ভয় পাও, তাহলে আমরা কিভাবে খুশি থাকবো?" 

যতীন বাবু দুজনের মাথায় হাত দিলেন, উঠে দাড়িয়ে বললেন " আচ্ছা ঠিক আছে, আজকে তোরা রেস্ট নিয়ে নে, কালকে দোকানে যেতে হবে।" সুজিত আর সৌমী একে অপরের দিকে তাকালো, সৌমী জিজ্ঞেস করলো " কেন বাবা?" যতীন বাবু বললেন " কেন মানে? এইতো তুই বললি দুদিন পরে তোর ফাইনাল, ভালো জার্সি কিনতে হবে তো।" দুজনে বিশ্বাস করতে পারলো না, আনন্দে যতীন বাবুকে জড়িয়ে ধরলো। সুজিত বললো " বাবা দুদিন পরে আমার কিন্তুু নাচের কম্পিটিশন আছে, আমারও কিছু লাগবে।" যতীন বাবু বললো " হ্যাঁ ! তোর ও একই দিনে? তা‌ বেশ কি লাগবে বলিস।" কথাটা বলে যতীন বাবু বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, আবার বললেন " এখন চল, খেতে যাবি, আর ঠিক করে নিতে হবে কোন প্রোগ্রামটা কখন অ্যাটেন্ড করবো, আমি দুটো প্রোগ্রাম দেখতে চাই।"

দুদিন পরে সকাল থেকেই সবাই ব্যাস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি আরম্ভ করে দিলো, দুটো প্রোগ্রাম অ্যাটেন্ড করতে হবে, সুজিত আর সৌমী আগে খেতে বসে গেছে, ঠিক হয়েছে যতীন বাবু সুজিতের সাথে ড্যান্স ক্লাসে যাবেন, আর সুজাতা দেবী সৌমীর সাথে কলেজে যাবেন আর সুজিতের ড্যান্স শেষ হলে ওরা কলেজে আসবে। তারা নিজেদের মতো বেরিয়ে গেলেন। সুজিতের ড্যান্স কম্পিটিশন শুরু হলো, ওর নাচ দেখে হলে থাকা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেলো, যতীন বাবুর খুব গর্ব হচ্ছিলো সুজিতের ওপর। যখন রেজাল্ট বলা হলো, সুজিত ফার্স্ট হলো, হাতে ট্রফিটা নিয়ে যতীন বাবুকে প্রণাম করলো, যতীন বাবু বললেন " আমি খুব খুশি হয়েছি সুজিত" সুজিত হাসলো, যতীন বাবু বললো " এখন চল সৌমীর কলেজে, দেখি ও কি করছে।"
কলেজের মাঠেও সবাই উত্তেজিত, "সৌমী সৌমী" করে সারা কলেজ চিয়ার করছে, সুজাতা দেবী আনন্দের সাথে দেখছিলেন, জেতার জন্য আরও একটা গোল বাকি, যতীন বাবু আর সুজিত এসে বসলেন, তারাও খুব আনন্দের সাথে দেখলেন কিভাবে পুরো কলেজ সৌমীকে চিয়ার করলেন। সৌমী দৌড়ে যাচ্ছে গোল পোস্টের দিকে, আর নিমেষের মধ্যেই গোল! পুরো কলেজ আনন্দের সঙ্গে উঠে দাড়ালো, সৌমীর কলেজ জিতে গেছে, কিছু স্টুডেন্টরা মাঠে দৌড়ে গিয়ে সৌমীকে ঘাড়ে তুলে চিয়ার করলো " হিপ হিপ হুররে" সৌমী দৌড়ে গিয়ে সুজিত, যতীন বাবু আর সুজাতা দেবীকে জড়িয়ে ধরলো।

 যতীন বাবু ঠিক করলেন সবাই রেস্টুরেন্টে খাবেন, আজকে তাদের আনন্দের দিন, সুজিত আর সৌমীও খুব খুশি, আজকে তারা নিজেদের ট্রফিটা সবার সামনে দেখাতে পারছে, আর লুকিয়ে, পাল্টে দেখাতে হবেনা। চারজনেরই আজকে খুব হালকা লাগছিলো, তাদের মনটা হালকা লাগছিলো। আজকে তারা সবাই স্বাধীন, যতীন বাবু আর সুজাতা দেবী তাদের পুরনো চিন্তা থেকে আর সুজিত আর সৌমী স্বাধীন ভাবে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

"জেন্ডার রোল" অর্থাৎ লিঙ্গ ভূমিকা অথবা এমন কিছু কাজ ঠিক করে দেওয়া যেটা শুধু একটা লিঙ্গ করতে পারবে, বিপরীত লিঙ্গ করলে সেটা সমাজের চোখে দৃষ্টিকটু হয়ে যায়। আমরা স্বাধীন হলেও এখনো সমাজে অনেক নিয়ম এরকম আছে যেটার থেকে আমরা স্বাধীন হতে পারিনি, আমাদের মনের মধ্যে গেঁথে বসে আছে। সেরকমই একটা হলো জেন্ডার রোল। আমরা নিয়ম বানিয়ে দিয়েছি কোন কাজ গুলো ছেলেরা করবে আর কোন কাজ গুলো মেয়েরা করবে, কাজকেও "ছেলেদের মতো" , "মেয়েদের মতো" বলে ঠিক করেছি, স্কুলেও ঠিক একই জিনিস বাচ্চাদের বোঝানো হচ্ছে, ওদের মনের মধ্যে এখনই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছেলে আর মেয়ে আলাদা। যতোদিন সমাজ ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য করতে থাকবে ততোদিন কি আমরা সত্যি স্বাধীন হতে পারবো? 
 
---------------------- 


 মিতা দাস
দেবী বাড়ি রোড নতুন পাড়া নিয়ার পোস্টাল কোয়ার্টার, কোচবিহার - ৭৩৬১০১






Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432