Skip to main content

প্রণব কুমার চক্রবর্তীর গল্প


    লক্ষ্মীপুরের বিমলা 

              

    সকালেই বল্লরী ফোন করে জানালো যে , এবারের নবান্নের অনুষ্ঠানে ওরা অাসতে পারবে না ৷ 
   - সে কি বলছিস ! 
    - গতবারে গিয়ে অর্ক ভীষন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলো ৷ 
    - কেন ? বিমলা জানতে চায় ৷ 
     - কেন অাবার ৷ সে তো ও ই জানে ৷ বাড়িতে ফিরে খুব রাগারাগি করেছিলো ৷ 
     -দে লাইনটা অর্ককে ৷ অামি কথা বলবো ৷
     - মায়ের কথা শোনা মাত্রই  বল্লরী ঝাঁজিয়ে বলে - থাক ৷ ওর সাথে কথা বলে কোনও  লাভ হবে না ৷
      - কেন ? অামার তো ব্যপারটা একটু জানা দরকার ৷ 
      - তোমার জেনে কোনও লাভ নেই  ৷গোটা ব্যাপারটা ওর বাবা মা শুনে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন - তোমার এসব অাধিক্ষেতা  অার বুজরুকি  ওনারা একদম মেনে নিতে রাজি নন ৷ নিষেধ করেছেন যেতে ৷ বলেছেন কথা দিয়েছিলেন মানে এইনয় যে , তুমি ওদের ছেলেকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই ভাবে হেনস্তুা করবে !
     - এ কী লছিস ? বিমলা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে - অামি ওদের  কাছে , মানে অর্কের বাবা মায়ের সাথে কথা বলে এক্ষুনি ব্যাপারটা মিটিয়ে নিচ্ছি  ৷ অামার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ৷        - সে অার করতে হবে না ৷ তুমি কী চাও তোমাদের জন্য অামার সংসারটা ভেঙে যাক ?অামি এর খেশি অার কিছুই  বলতে চাই  না ৷ তোমরা অামাদের জন্য অযথা অপেক্ষা করবে বলে সকালেই ফোন করে জানিয়ে দিলাম ৷ কিছু মনে কোরো না , বলেই লাইনটা কেটে দিলো ৷
    বিমলা রিসিভারটা মুখের কাছে নিয়ে বার কয়েক জোরে হ্যালো হ্যালো করে চিৎকার করে বুঝলো বল্লরী  ফোনটা ছেড়ে দিয়েছে ৷ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানায় গিয়ে বসে পড়লো ৷ ভাবে- এখন ওর কী করবে  ? বল্লরীর বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গোটা ব্যাপারটা বলবে ? নাকি নিজেই ছেলে বিল্টুকে নিয়ে সকালের প্রথম বাসেই বসিরহাটে অর্কদের বাড়িতে চলে যাবে ! ক্ষমা চেয়ে বুঝিয় সুঝিয়ে মেয়ে অার জামাইকে নিয়ে অাসবে ?

                                ( দুই  )

     ভাবতে ভাবতেই বিমলার দু চোখ জলে ভরে ওঠে ৷
     বুঝতে পারে -কথাগুলো মোটেই  বল্লরীর মনের কথা নয় ৷ সাংসারিক শান্তি বজায় রাখার জন্যই ও সব কথা বলেছে ! বিয়ের পরে  বিগত চার বছর ধরে ওরা অাসছে ৷ অথচ , এবারে এই কথা ! হঠাৎ  কী হলো ! অর্করা তো অশিক্ষিত পরিবার নয় ! যথেষ্ট লেখাপড়া জানে ! তবু কেন এই ধরনের কথা ! বল্লরীর বিয়ে দেবার অাগে ওর শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং শ্বাশুরি মহামায়া দেবী অর্কের বাবা অার মায়ের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলেই নিয়েছিলেন ৷ লক্ষ্মীপুর গ্রামে নবান্নের অনুষ্ঠানটা খুবই  জাঁক -জমক পূর্ণ ৷ সারাটা গ্রাম এই উৎসবে মেতে ওঠে ৷ ওই দিনটাতে বল্লরী অার অর্ককে যন অাসতে দেয়া হয় ৷
     অর্কের বাবা অার মা ওঁদের সেই দাবী মেনেও নিয়েছিলেন ৷ অথচ ,অাজ অাসতে দিতে রাজি নন !
     চোখের সামনে ভেসে ওঠে শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের মুখ ৷ 
     বিছানায় বসেই ও দেয়ালে টাঙানো ছবিটার দিকে তকাতেই যেন শুনতে পায় - বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের গলা ! ওকে ডেকে বলছেন - বৌমা ? ডোন্ট ক্রাই ৷ এটা খুব সামান্য ব্যাপার ৷ তোমার মেয়ে জামাই অাজ এলো কী না এলো , সেটা কোনও  ব্যাপারই নয় ৷ মনে রেখো ,তুমি শুধুমাত্র বল্লরী অার বিল্টুরই মা নও ৷ তুমি সব্বার মা ৷ তোমাকে সব্বার কথাই ভাবতে হবে ৷ ওরা ওদের কথা খেলাপ করতে পারে , কিন্তু তুমি তোমার কর্তব্যে অটল থেকো ৷ অামি সেটাই দেখতে চাই  ৷ 
      হাজার হোক মেয়ে জামাই বলে কথা ! মনের ভেতরের দৃঢ়তা হঠাৎই কেমন যেন শীথিল হয়ে উঠেছিলো ৷ মাতৃস্বত্তা ওকে ভীষন ভাবে নাড়া দেয়া শুরু করেছিলো ৷ সত্যিই  যদি ওর জন্য বল্লরীর সংসারটা ভেঙে যায় , তাহলে মা হিসবে সেটা ও দেখবে কিভাবে ? মিটিয়ে নেয়াটাই ভালো ৷
     বিমলা একবার ভেবেছিলো স্বামীকে ডেকে বলবে - যাও ৷ তুমি শান্ত স্বভাবের মানুষ ৷ তোমাকে দেখলে  ওনারা বেশি কিছু বলতে পারবে না ৷ গিয়ে ওদের বুঝিয়ে নিয়ে এসো  ৷ কিন্তু , পরমুহূর্তেই  বিমলা ওর শ্বশুর অার শ্বাশুরির মান সম্মানের কথা ভেবে ঠিক করে - নাহ্ ৷ বলবে না ৷ অন্তত অাজ তো মোটেই  নয় ৷কারন এই দিনটার সকথে গ্রামের অনেকেরই  মান সম্মান জড়িয়ে রয়েছে ৷
     বিমলা কোনও মতেই গ্রামের মান সম্মাল ভূলুণ্ঠিত হতে দেবে না ৷

                                 ( তিন )

      লক্ষ্মীপুর গ্রামটা মূলত দক্ষিন চব্বিশ পরগনার কোল ঘেঁসা উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার একটি কৃষি এবং মেছোঘেরি অধ্যুষিত অঞ্চল ৷ 
      মিনাখাঁ থানার দক্ষিনে বিদ্যাধরী নদির পাশে এই গ্রামটি বাদ দিলে চারপাশের গ্রামগুলোতে - হাকিবপুর , রাঁকিপুর , নিয়ামতপুর , বেরমজুর , ইত্যাদিতে মুসলীমদের অাধিপত্যিই বেশি ৷ গ্রামের বেশিরভাগ লোকই হয় কৃষিজীবী - ধনী মানুষের জমিতে চাষ-অাবাদ করে , না হয় বাবুদের মাছের ঘেরিতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে ৷ লেখা পড়ায় খুব একটা উৎসাহী নয় ৷ ওদের ধারনা - লেখাপড়াটা অর্থ-কড়ি সম্পন্ন  লোকদের একটা শখ ৷ সমাজে বাবুগিরি দেখাবার একটা কায়দা মাত্র ৷
      বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের বাবা ব্রহ্মজ্যোতি
বিদ্যাবিনোদ গ্রামে একটা সংস্কৃতের টোল খুলেছিলেন ৷ সেটা দেখেই  হাজি নুরুদ্দিন মুনশীরো ইচ্ছে হয়েছিলো গ্রামের মসজিদে একটা মক্তবা খোলার ৷ ব্যাপারটা রেশারেশির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এই চিন্তা করে ব্রহ্মজ্যোতি বিদ্যাবিনোদ হাজি নুরুদ্দিন মুনশীকে বলেছিলেন - শোনো  ভায়া ? গ্রামের ছেলেদের ওই সংস্কৃত অার অারবি-ঊর্দু শিখে কোন কামে লাগবে ? লেখা-পড়া যদি শিকতেই হয় , ইংরেজী শিখতেইহবে ৷ নাহলে গ্রামের ,ছেলেপুলেরা অফিস-কাছাড়ীতে চাকবীইপাবে না ৷
      দু জনে উদ্যোগী হয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় বিঘা পাঁচেক জমির উপরে প্রথমে একটা প্রাথমিক ইস্কুল তৈরি করেছিলেন ৷ হাজি বদরুদ্দোজাকে পধান শিক্ষক করে বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়কে করেছিলেন ইস্কুল কমিটির প্রেসিডেন্ট ৷
      সেই  ইস্কুল এখন জুনিয়ার হাই ইস্কুলে পরিনত হয়েছে ৷ আশ-পাশ গ্রামের ছেলেরা সব পড়তে অাসে ৷ বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং হাজি বদরুদ্দোজা সাহেবের ইচ্ছে যে কোনও মূল্যেই ওই জুনিয়ার হাই স্কুলকে একদিন হাই ইস্কুলে পরিনত করবেন ৷
     ইস্কুলের সামনের বিরাট মাঠটাতে ওই তল্লাটের মুসলীমরা মহরমের দিন তাজিয়া নিয়ে এসে  লাঠি-সড়কি খেলতো ৷ সব সম্প্রদায়ের মানুষ মাঠে এসে হাজির হতো তাজিয়া এবং লাঠি খেলা দেখার জন্য ৷ হিন্দুরাও  রথ, গাজন , শিব , ইত্যাদির মেলা বসাতো ৷ হাজি বদরুদ্দোজা সাহেব একদিন নিজেই উপযাজক হয়ে বিমলার শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়কে বলেছিলেন - অামি যতদূর অাপনাদের শিব পূজোয় বট গাছ লাগে ,তাইনা ? কিন্তু , এই ইস্কুলের মাঠে তো বট গাছ নেই  ৷ অসুবিধা হয় না ? 
     বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় কোনও উত্তর না দিয়ে চুপ করেছিলেন ৷
    - বুঝেছি সাহেব ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টার হেসে বলেছিলেন - মৌনতাই সম্মতির লক্ষ্যন ৷ নিজেই উদ্যোগী হয়ে ইস্কুলের মাঠের একদম দক্ষিন প্রান্তে কালুয়া দিঘীর পাড়ে একটা বট গাছের চারা এনে লাগিয়ে বলেছিলেন - যতদিন এইগাছটা বেঁচে থাকবে ততদিন লক্ষ্মীপুরের বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং বদরুদ্দোজা  মাস্টারও বেঁচে থাকবে ৷ 
      কালুয়া দিঘীর পাড়ের সেই বট গাছটা এখন শাখা-প্রশাখা অার ঝুড়িতে বিরাট অাকার ধারন করেছে ৷ গ্রীষ্মের তপ্ত নিদাঘ অার দাবদাহের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই দুপুর বেলায় ওইবট গাছের ছায়ায় শুয়ে বসে বিশ্রাম নেয় ! মনে হয় যেন বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় অার বদরুদ্দোজা মাস্টার ছাতা হয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামটাকে রোদ ঝড় জল এবং বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে !

                                  (চার )

       সাল এবং মাসটা এখনো বিমলার মনে অাছে ৷ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাস ! শীতটা সবে বেশ জাঁকিয়ে পড়া শুরু করেছে ৷
       বিমলা সেই সময় বছর চারেক হলো লক্ষ্মীপুরে বৌ হয়ে এসেছে ৷
       বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় সকাল সকাল বাজার করে এসে বাড়িত বসে টিভি দেখতে ব্যাস্ত ৷ সারা ভারত জুড়ে তোলপাড় করা খবর ! এক দল লোক অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করেছে ! সেখানে নাকি রাম মন্দির বানানো হবে !
        সাংঘাতিক ব্যাপার !
        ঘটনার রেশ হিসেবে ভারতের বিভিন্ন্ স্থানে সাম্প্রোদায়িক গন্ডগোল শুরু হয়ে গেছে ! উভয় সম্প্রোদায়ের মানুষ একে অপরের উপরে খড়্গ হস্ত হয়ে খেঁপে উঠেছে !
        চারপাশে একটা অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি !
        সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার উভয়েই রেড-এ্যালার্ট জারি করেছে ! পুলিশ টহল শুরু হয়ে গেছে ৷ প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রচর করা শুরু করেছে ৷
        বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় ঘরে বসে টিফিন খাচ্ছিলেন ৷ হঠাৎ , ছেলে ব্রজকে ডেকে বললেন - দ্যাখ তো বদরুদ্দোজা মাস্টার বাড়িতে অাছে কিনা ? থাকলে , ডেকে অানতো ৷ দেশের অবস্থা মোটেই  ভালো না ৷ অামাদের  এখনই কিছু ভাবা প্রয়োজন ৷
       ব্রজ বরুতে গিয়েই দেখে বদরুদ্দোজা মাস্টার অারোও  কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে হাজির ৷ হন্তদন্ত হয়ে বলে ওঠেন - শুনেছেন কর্তা ? দেশের হাল ! অামাদের এই সব এলাকা তো গন্ড-মূর্খের বাস ৷ কেউ এই সুযোগে এদিকে না গন্ডগোল লাগাবার চেষ্টা করে ! বুঝলেন কর্তা  অামি ঠিক করেছি অামরা সবাই মিলে এই লক্ষ্মীপুরে কোনও গন্ডগোল পাকাতে দেবো না ৷ কিছুদন সবাই  মিলে পালা করে পাহারা দেবো ৷
       - এর থেকে উত্তম প্রস্তাব অার কী হতে পারে ৷ বিপ্রদাশ বাবু বলেছিলেন - এমনটাই তো হওয়া দরকার ৷ চলুন হাজি সহেব অামি এখন থেকেই তৈরি ৷
       অাতংক এবং ভীতির মধ্যেই  দিন চারেক কাটার পরেই হঠাৎ কিভাবে যেন একটা গুজব রটিয়ে দেয়া হলো - লক্ষ্মীপুরের হিন্দুরা বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের  নেতৃত্বে ইস্কুলের মাঠে যেখানে মহরমের লাঠি খেলা এতদিন ধরে হয়ে অাসছে , সেটা দখল করছে ৷ তুলসির বেদী  এবং শিবের মন্দির করবে বলে ইঁট বালি সিমেন্ট সব ফেলেছে ৷
       ব্যাস ! যাবে কোথায় ?
        বিকেলের দিকে অাশ-পাশ এলাকার সব মুসলমানরা যেমন লাঠি-সড়কি নিয়ে চড়াও  করলো লক্ষ্মীপুরে ৷ হিন্দুরাও পিছিয়ে ছিলো না ৷
তারাও  লক্ষ্মীপুরের তুলসি বেদী এবং শিব মন্দির তৈরর কাজ ত্বরান্নিত করার জন্য সেখানে এসে দাঁড়ালো ৷
       একদিকে মুসলীমদের না রাহে তগদির ধ্বনি ! অন্যদিকে হিন্দুদের ঘন ঘন জয় শ্রী রাম অাওয়াজ !
       সংঘর্ষ বধে অার কী ! 
        উভয় সম্প্রোদায়ের মহিলারা ভয়ে বাড়িতে বসে নিজেদের ইস্ট দেবতাকে স্মরণ করা শুরু করেছিলো ৷ ঠিক সেই  সময়েই  বদরুদ্দোজা মাস্টার এবং বিমলার শ্বশুর লক্ষ্মীপুরের উভয় সম্প্রোদায়ের সমস্ত ছেলেদের নিয়ে রুখে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন - এইগ্রামে ওসব ধর্মীয় জিগির তুলে গন্ডগোল পাকাতে দেবো না ৷                 বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় বেপাড়ার  এসে জড়ো হওয়া হিন্দুদের দ্দেশ্যে বলেছিলেন - তুলসী বেদী অার মন্দির যদি করার প্রয়োজন হয় , তাহলে সেখানে অাপনাদের অাসতে হবে না ৷ অামরা লক্ষ্মীপুরের লোকরাই  তৈরি করতে পারবো ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টারও তেমনি হাড়োয়া অার হাসনাবাদের চৌভাগার মুসলমানদের রীতিমতো দাবড়িয়ে বলেছিলেন - এই লক্ষ্মীপুর গ্রামে হিন্দু এবং মুসলমান কেউই ধর্মীয় খতরেতে নেই  ৷ অামরা কিন্তু এখানে কারোও কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক ঝামলা বরদস্ত করবো না ৷ হিন্দুরা কেউ  মহরমের মাঠ দখল করার ইছে প্রকাশ করেনি ৷ উল্টো অামরা এই লক্ষ্মীপুরের মুসলমানরাই উদ্যোগী হয়ে ওই কালুয়া দীঘির পাড়ে ওদের তুলসী বেদী এবং মন্দির তৈরি করে দেবো বলেছি ৷
        যৌথভাবে সেদিন রুখে দাঁড়াতেই কেউ  অার গন্ডগোল পাকাতে সাহস পায়নি ৷ ফিরে গিয়েছিলো ৷ তবু , মাস দুয়েক সবাই গ্রামটা পাহারা দিয়ে রেখেছিলো শুধুমাত্র উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনটাকে দৃঢ় রাখার জন্য ৷ পরে একটা রবিবারে গ্রামের সব্বাইকে নিয়ে বসে বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং হাজি বদরুদ্দোজা মাস্টার  ঠিক করেন - গ্রামের সমস্ত মানুষকে নিয়ে একটা দিন সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে পালন করবেন ৷
       কেউ  বলেছিলো দুর্গা পূজোর বিজয়ার পরের দিন ৷ কেউ  বলেছিলো ঈদের পরের রবি বারে ৷ কেউ  অাবার বলেছিলো - দুর্গা পূজো এবং ঈদের সাথে ধর্মের গন্ধ রয়েছে , সেই  কারনে ওই দুটো দিনে না করে অন্য একটা অালাদা দিন ঠিক করতে হবে- যার সাথে ধর্মের কোনও সম্পর্ক থাকবে না ৷
         সেটা কোন দিন হতে পারে ?
         সেই  ব্যাপারে বিস্তর অালোচনা হয়েছিলো ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টার বলেছিলেন রাখীবন্ধন উৎসবটাকে পালন করলেই মনে হয় ভালো হবে ৷ কবিগুরু হিন্দু-মুসলীমের মধ্যে ঐক্যবন্ধন তৈরি করার জন্য বঙ্গ-ভঙ্গের বিরোধীতা করে ওই  উৎসবের সূচনা করেছিলেন ৷ অামরা লক্ষ্মীপুরের মাঠে ওই লক্ষ্যেই রাখী উৎসবটা অাবার চালু করবো ৷
         বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় হাজি সাহেবের ওই প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেছিলেন - মাস্টার ? লক্ষ্মীপুর  একটা গন্ড গ্রাম ৷ এখানকার লোকজন লেখা-পড়া জানে না ৷ অাপনি মোটেই বুঝাতে পারবেন না - হোয়াট ইজ বঙ্গ ভঙ্গ ? লোকজন অাপনার কথার হয়তো অাজ বিরোধীতা করবে না ৷ কিন্তু , মন থেকে রাখীর ব্যাপারটা মেনে নিতে পারবে না ৷ চব্বিশ  ঘন্টা ওইব্যাপারটা নিয়েই ঘোঁটপাকাবে ৷ শহরের লোক হলে কর্ম ব্যস্ততায় ওইসব ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময়ই পাবে না ৷ তাই  অামি বলছিলাম - নবান্নের দিনটাকেই করলে মনে হয় ঠিক হবে ৷
         কেন ? দু চারজন প্রত্যুত্তরে বলেছিলো - নবান্নও তো একটা হিন্দুদের উৎসব ! সেই ধর্মের ব্যাপারটাইতো এসে যাবে ?
         - মোটেই নয়  ৷ বিপ্রদাশ বাবু বেশ গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন - কেউ  কিছু হাইজ্যাক করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেই কী সেটা তার নিজের হয়ে যায় ?
        ব্যাপারটা বোধগম্য না হওয়ায় সবাই ওর মুখের দিকে অবাক হয়ে ভাবতে থাকে - বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এ কী বলছেন ?
        - অবাক হওয়ার কিছু নেই ৷ বিপ্রদাশ বাবু হেসে বলেন - নবান্নটা মূলত কৃষি প্রধান উৎসব ৷ অর্থাৎ , যে কৃষক নবান্ন তারইউৎসব ৷ কৃষক তো কোনও ধর্মের বিচারে হয় না ৷ হিন্দুরাও হতে পারে ৷ মুসলসানরাও হতে পারে ৷ তাহলে "নোতুন ধান্যে হবে নবান্ন" কেন শুধুমাত্র হিন্দুদের উৎসব বলে বিবেচিত হবে ? তাছাড়া , অামাদের এই অঞ্চলটা হলো গিয়ে কৃষিজীবী  অধ্যুসিত  অঞ্চল ৷ এই বিদ্যাধরী নদির দু পাড় জুরেই এক সময় গড়ে উঠেছিলো বিখ্যাত কৃষক অান্দোলন - তেভাগা অান্দোলন ৷ পাশের গ্রাম বেরমজুরে এখনও  সেই  অান্দোলনের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শহীদ বেদী ৷ সেই  অান্দোলনে কোনও  জাত-পাত কিংবা ধর্মের ব্যাপার ছিল না ৷ অামার মতে নবান্ন পালন করে অামরা সবাইকে দেখাতে চাই  - মানুষের পেটের লড়াইয়ের কাছে কোনও  ধর্মের রাজনীতিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের লোকজন পাত্তা দেবে না ৷ 
        বহু অালোচনা করেই ঠিক হয়েছিলো - প্রতিবছর নবান্নের  দিনে সকাল থেকে ইস্কুলের মাঠে অনুষ্ঠানটা হবে ৷ চলবে সন্ধ্যে পর্যন্ত ৷ খাওয়া-দাওয়া , গান-বাজনা , ইত্যাদি সবই করবে গ্রামের ছেলে মেয়েরা ৷ লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছেলেএবং মেয়েরা কর্মসূত্রে এবং বৈবাহিক সূত্রে যে যেখানেই থাকুক , ওই দিন সে ছুটি নিয় ওই নবান্নের  অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেই৷
       যতদিন বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং ওর স্ত্রী মহামায়া দেবী অার হাজি বদরুদ্দোজা মাস্টার  এবং তার বিবি মেহেরুন্নিসা বেগম জীবিত  ছিলেন , ওরাই  উৎসবের মাথা হয়ে কাজ করে গেছেন ৷ ওদের অবর্তমানে গ্রামবাসীরা এখন বিমলা অার হাজি বদরুদ্দোজা সাহেবের মেয়ে রওশন বেগমের উপরে দায়িত্ব বর্তিয়েছে ৷
       বিপ্রদাশ বাবু মারা যাবার অাগে বিমলাকে বারবার করে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন যে , কোনও  অবস্থাতেই এই সম্প্রীতির উৎসব যেন বন্দ না হয় ৷
      বল্লরী বেশ ছোটবেলা থেকেই  লক্ষ্মীপুরের এই উৎসবের সাথে জড়িয়ে থেকেছে ৷ নিজে তো নাচ -গান গাইতোই , অন্য ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নাটক ,গান-বাজনা করাতো ৷ বিয়ের পরেও তিন বছর অর্ককে  নিয়ে এসেছে ৷ নাচ-গান করেছে ৷
       সেই নবান্নের উৎসবে বল্লরী অার অর্ক এবারে অাসবে না !

                                         ( পাঁচ )

      প্রত্যেক দিন বিমলা চা করে নিজেই এনে ব্রজেশ্বরকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে ৷ কিন্তু , চা হাতে অাজ অাসতেই দেখলো ব্রজেশ্বর বিছানায় নেই ৷ উঠে গেছে ৷
       কোথায় গেলো ? বিমলা খানিকটা চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় এদিকে সেদিকে তাকায় ৷ নাহ্ ৷ ঝুল বারান্দাতেওতো নেই  !
       বিমলা যখন চিন্পাতা এবং ভাবনার ঘূর্ণাবর্তে বিধ্বস্ত ,ঠিক সেই সময় পাশের ঘরে অালমারির পাল্লা বন্দ করার অাওয়াজে গিয়ে দেখে ব্রজেশ্বর স্নান সেরে ধুতি পাঞ্জাবি পরে একদম রেডি ৷ 
      - কী ব্যাপার ! বিমলা জিঞ্জেস করে - সকাল সকাল স্নান সেরে একদম রেডি হয়ে কোথায় চললে ?
       - ইস্কুলের মাঠে ৷
       - ইস্কুলের মাঠে ! তুমি এত সকালে ? কী ব্যাপার সত্যি বলো তো ? 
        বিমলা মনে মনে ভাবে যে লোককে সে বিগত তিরিশ বছর সকালে উঠতে দেখেনি , সে অাজ সকালে উঠেছে !বলছে কাজ অাছে ! মনে হয় বল্লরীর ফোনের ব্যাপারটা ঘাপটি মেরে শুনেছে ৷ ওর অার বলার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই  উদ্যোগী হয়েছে অর্কদের বাড়িতে  যাবার জন্য ৷ অাসলে বল্লরীকে ব্রজেশ্বর দারুন ভালবাসে ৷ ও অাসবে না শুনেই  মনটা খারাপ হয়ে গেছে ৷
        - কী গো বললে না তো সত্যি  কোথায় যাচ্ছো ?
        - তুমি যা ভাবছো ,সেখানেই ৷ ব্রজেশ্বর বলে - বুঝতে পারছো মেয়েটার মনের অবস্থাটা কী হয়েছে ? যাই  একবার চেষ্টা করে দেখি ৷ কেন ওনারা এইব্যাপারে অাপত্তি করছেন ! অর্কের যদি ইস্কুলের মাঠে যেতে অাপত্তি থাকে , যাবে না ৷ বাড়িতেই থাকবে ৷ অামিই না হয় ওকে অার বল্লরীকে সঙ্গ দেবো ৷
        - যাও  ৷ বিমলা গম্তীর ভাবে বলে - দেখো , বাবার সম্মানটা যেন ধুলোয় নষ্ট কোরো না ৷ মনে রেখো , অর্কের বাবা মায়ের সাথে তোমার বাবা মায়ের এই অনুষ্ঠানে অাসার ব্যপারে চুক্তি হয়েছিলো ৷ সেটা ওরা ভঙ্গ করেন কিভাবে ? এর মানে তো ওনাদের স্বর্গত  অাত্মাকে অপমান করা ! শিক্ষিত ভদ্রলোকরা কখনও কথার খেলাপ করে না ৷ তুমি মেনে এসব মেনে নিলেও অামি কিন্তু মন থেকে ওদের এই অভদ্র বাজ ব্যবহারকে মেনে নিতে পারছি ন ৷ তাই  কিছুই  বলিনি ৷
       - সে তো বুঝেছি বলেই অামি উঠে তৈরি হয়ে নিয়েছ ৷ব্রজেশ্বর চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুকে গলাধঃকরণ করে ঠাকুরের নাম স্মরণ করে বেরিয়ে পড়েছিলো ৷

                                     ( ছয় )

        ব্রজেশ্বর বেরিয়ে যেতেই বিমলা ফোনে রমেশ অার নওশাদের সাথে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এক প্রস্থ অালোচনা করে নেয় ৷ বলে - রান্নার ঠাকুরকে দিয়ে সকালের টিফনটা বানাবার কাজটা শুরু করে দিতে ৷৷ইব্রাহীম অার গোবিন্দ যেন বাজারে চলে যায় মাংস অানতে ৷ একটু যেন দেখে নেয় ৷ গত বছর নাকি মাংসটা ভাল দেয়নি ৷ কম দামতো নেয় না ! কেন মাংস খারাপ দেবে ? রাখহরি মুদির দোকানে ফর্দটা দেয়া অাছে ৷  অামি বিল্টুর হাত দিয়ে সব টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি ৷ তোমরা মুদির দোকান থেকে সব মাল অার বাজারের থেকে ভালো মাছ অানিয়ে নিও  ৷ কেষ্ট ময়রাকে বলা অাছে - ঠিক সময়ে মিষ্টি পাঠিয়ে দেবে ৷
        সব্বাইকে সমস্ত কিছু বুঝিয়ে বলে বিমলা অালমারি থেকে টাকা-পয়সা এবং চেক বইটা বের করে ৷ বিল্টুকে ডেকে সব ওর হাতে বুঝিয়ে দিয়ে বলে -যাহ্ ৷ মাঠে গিয়ে রওশন চাচীর হাতে এগুলো দিয়ে বলবি যে অামার অাজ যেতে একটু দেরি  হবে ৷ স্নান করে বাড়ির পূজোটা সেরে অামি দশটা সাড়ে দশটার মধ্যেই যাবো ৷ অামার জন্য যেন কোনও কাজ ফেলে না রাখে ৷
         বিল্টু বেরিয়ে যেতেই  বিমলা স্নান সেরে ঘরে এসে অালমারিটা খুলে ভাবে কোন শাড়িটা পরবে ? ভেতরের সব থাকে থাকে নানান ধরনের নানা রঙের শাড়ি সাজানো ৷ ওসবের ভেতর থেকে একটা লাল পাড়ের তসরের শাড়িটা টেনে বের করে ৷ শাড়িটা ছিলো ওর শ্বাশুরির ৷ যখন প্রথম লক্ষ্মীপুরে নবান্ন উৎসবটা চালু হয়েছিলো বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় কোলকাতার বড়বাজার থেকে নিজেই পছন্দ করে কিন এনে দিয়ে বলেছিলেন ওটা পরে সব কাজ করতে ৷ মহমায়া দেবী  ওই শাড়িটা উত্তরসুরি  হিসেবে ওকে দিয়ে গিয়েছে ৷ এই ক"বছর বিমলা ওই শাড়িটা পরেই উৎসবের কাজ করেছে ৷ অাজোও ওটাই  সে পরবে ৷
        বিমলা শাড়িটা বের করে পরে ৷ অাস্তে অাস্তে  ড্রেসিং অায়নাটার সামনে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৷ কপালে সিঁদুরের টিপটা পরে নিজেকে বার কয়েক ঘুরে ফিরে দেখে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ৷ তারপরে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় শ্বশুর অার শ্বাশুরির ছবির সামনে ৷ নমস্কার জানিয়ে বলে - অামি সত্যিই ব্যার্থ ৷ অাপনাদের সৃষ্টির  উপযুক্ত মর্যাদা রাখতে পারলাম না ৷ নিজের মেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইকেই এই নবান্নের সঠিক মূল্যায়ন বুঝাতে পারিনি ৷ অাজ ওরা অাসবে না বলেছে ৷ গ্রামের সবাই যখন জিঞ্জেস করবে , অামি কী জবাব দেবো ? এত কষ্ট করে যে একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরন গড়ে তোলা হয়েছে , সেটা তো নষ্ট হয়ে যাবে ! শেয পর্যন্ত সুযোগ সন্ধানীরাই মনে হচ্ছে জিতে যাবে !
সেই  দৃশ্য অামি দেখবো কিভাবে ? ঘরে বসে মুখ বুঁজে সহ্য করতে পারবো না ৷ অাপনারা অামাকে বলে দিন - এই  মুহূর্তে  অামার কী করনীয় ?
        পাগলের মতো নিজের মনে কথা বলতে বলতে বিমলা ডুকরে কেঁদে ওঠে ৷ 
        মনে হলো বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং মহামায়া দেবী ফটো থেকে বেরিয়ে এসে , ওর চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলেন - যাও  ৷ ঠাকুর ঘরে গিয়ে মন দিয় পূজোটা সারো ৷ প্রার্থনা করো লক্ষ্মীপুরের সব মানুষের মঙ্গলের জন্য ৷ দেখবে সমস্ত ঝামেলা মিটে যাবে ৷ শুভ শক্তির কাছে কখনোই অশুভ শক্তি জিততে পারবে না ৷

                                  ( সাত )

       বেলা বারোটা বাজলো ৷
        ইস্কুলের মাঠে সবাই বলাবলি শুরু করেছে - এখনও  কেন বিমলা কাকিমা এসে পৌঁছালো না ! এতো তো দেরি  সে কোনও দিন করে না !
        - কী রে ? ইদ্রিশ মোল্লা এসে বিল্টুকে জিঞ্জেস করে - বৌদি এখনও কেন অাসেননি ? কী বলেছে ? শরীরটা খারাপ হয়নি তো ? যাহ্ না ৷ একবার গিয়ে দেখে অায় ৷
        বিল্টু তখন মাঠে অন্যদের সাথে খেলায় ব্যাস্ত ৷ বলে - কাকা ? চিন্তা করবেন না ৷ মা বাড়ির পূজোটা সেরেই  এসে পড়বে ৷ হয়ত দিদি জামাইবাবুরা এসে হাজির হয়েছে ৷ মনে হয় ওদের সঙ্গে নিয়েই  অাসবে ৷
       - নাহ্ ৷ শিবতোষ ভট্টাচার্য , সাগিনা মন্ডল , রোহিলা বিবিরা এক রকম জোর করেই বিল্টুকে সঙ্গে নিয়ে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখলো - সদর দরজাটা ভেতর থেকে বন্দ ৷ ডাকাডাকি করলো , কিন্তু কোনও সাড়া শব্দ নেই  ৷
         ওরা যখন নিজেরা ব্যাপরটা নিয়ে অালোচনায় ব্যাস্ত , ঠিক সেই  সময়েই  ফোনটা বিকট চিৎকার করা শুরু করলো ! 
       বেজেই চলেছে , অথচ কেউ  ধরছে না 
       - কাকা ? বিল্টু বেশ চিন্তিত  হয়েই  বলে - নির্ঘাৎ মায়ের কিছু একটা হয়েছে ! নাহলে নিশ্চিত ফোনটা  ধরতো ! তোমরা দাঁড়াও ৷অামি প্রাচীল টপকে ভেতরে গিয়ে দেখছি ৷
        - হ্যাঁ ৷ তাই কর ৷ শিবতোষ ভট্টাচার্য অার সাগিনা মন্ডল বিল্টুকে ঠেলে তুলে প্রাচীরে উঠতে সাহায্য করে ৷
        ভেতরে ঢুকতেই ফোনটা থেমে গেলো ৷
সদরের দরজাটা খুলে দিয়ে বিল্টু মা মা বলে বার কয়েক ডেকে বাড়ির ঠাকুর ঘরের দিকে এগোতেই দেখে - মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় বিমলা পড়ে অাছে ! হাতে বাড়ির ধারালো কাস্তেটা ধরা !
        - জেঠু ? বিল্টু কান্না ভেজা গলায় বলে ওঠে - দেখুন মা কী করেছে ! পুলিশকে খবর দিতে হবে ৷
        শিবতোষ ভট্টাচার্য এবং সাগিনা মন্ডল ছূটে গিয়ে দেখে - ওর রক্তাক্ত শরীরের পাশেই  একটা সাদা কাগজের টুকরোতে গোটা গোটা অক্ষরে কী সব যন লেখা অাছে ! কাগজটাও রক্তে ভিজে গেছে ৷ 
       - বিল্টু ? শিবতোষ ভট্টাচার্য জিঞ্জেস করেন - দ্যাখ তো লেখাটা কী তোর মায়ের ?
        বিল্টু কিছু বলতে যাচ্ছিলো , কিন্তু সেই মুহূর্তেই  ফোনটা অাবার বেজে উঠলো  ৷ বিল্টু ছূটে গিয়ে ফোনটা ধরেই  বুঝলো বাবা ৷ দিদির বাড়ি থেকে বলছে - সবকিছু মিটে গেছে ৷ ওরা একটু বাদেই  রওনা দিচ্ছে ৷ বলছে মাকে একটু  ফোনটা দে অর্কের বাবা অার মায়ের সাথে কথা বলুক ৷
       - বাবা ? মা এখন কথা বলতে পারবে না ৷ ওকে নিয়ে এক্ষুনি অামাদের হাসপাতালে যেতে হবে ৷ অামি ফোনটা রাখছি , বলে হাঁউমাউ করে কেঁদে উঠলো ৷ 
       সাগিনা চাচা গয়ে বিল্টুকে ধরতেই সে ফোনের রিসিভারটা ছেড়ে দেয় ৷ ভট্টা৷চার্য জেঠু
লোকজনকে ডেকে বিমলার রক্তাক্ত দেহটাকে একটা ম্যাটাডোরে তুলে বললেন থানা হয়ে যেতে ৷ লেখা কগজের টুকরো তুলে নিয়ে দেখে লেখা অাছে "যে কোনও মূল্যে লক্ষ্মীপুরের এই সাম্প্রোদায়িক সম্প্রীতির উৎসব নবান্নকে বজায় রাখতেই হবে ৷ "
        ওরা বেরিয়ে যাওয়ার পরেও দোদুল্যমান রিসিভারটা থেক তখনো ব্রজেশ্বরের গলা ভেসে অাসছে - হ্যাঁ রে বিল্টু ? বলছিস না কেন তোর মায়ের কী হয়েছে ? কেন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে ?

        হাসপাতালের মাঠে যেন সারাটা লক্ষ্মীপুর গিয়ে হাজির হয়েছে ৷ সবাই জাতি ধর্মের ভেদাভেদ ভূলে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে চলেছে - ওকে বিপন্মুক্ত করে দাও  ৷ লক্ষ্মীপুরে ফিরিয়ে নিয়ে  যাবে ৷

ঠিকানা :
প্রণব কুমার চক্রবর্তী 
৩৭/১ স্বামী শিবানন্দ রোড , চৌধুরীপাড়া ,
বারাসাত , কোলকাতা - ৭০০ ১২৪
মো: নং - ৯৪৩৩০ ২৮৬৮৫ এবং
               ৮৭৭৭৬ ৮৫৯৯২ ৷

        

       
     

       

        
       

       

                                   
  

      
      
      


      

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...