Skip to main content

প্রবন্ধ ।। রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধ ও সাহিত্যচর্চা ।। রণেশ রায়

রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধ ও সাহিত্য চর্চা

রণেশ রায় 

আমরা রবীন্দ্রভাবনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসম্পর্ক আলোচনা করার জন্য রবীন্দ্রভাবনা নিয়ে কয়েকটা কথা বলে নেব। আদিম বন্য সমাজে প্রকৃতির দুটি রূপ দেখা যায়----ভয়ঙ্কর  ধ্বংসাত্মক একটা রূপ আরেকটা অনিন্দ সুন্দর স্রষ্টার রূপ। জল বায়ু  আগুন প্রভৃতি হল প্রকৃতি যাদের প্রত্যেককে ধ্বংসের আর সৃষ্টির রূপে দেখা যায়।  মানুষ ভয়ে শ্রদ্ধায় প্রকৃতিকে তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করে।  প্রকৃতির উপাসনায় ব্রতী হয়।   এর থেকে উদ্ভব হয় সনাতনী শাশ্বত ধর্মের।  এর পর মানুষ ভাবতে শুরু করল প্রকৃতিকে অনুশাসনে রাখে এক চেতনা যা সর্বশক্তিমান। এই কল্পিত সর্বশক্তিমানের প্রতি অর্ঘ্য দান করাই হল পূজা।এই চেতনা তথা সর্ব শক্তিমান ক্ষমতাই হল ব্রহ্ম বা  পরমেশ্বর। রবীন্দ্রনাথ এই পরমেশ্বরকে তাঁর কল্পলোকে  বসিয়ে তাকে  ঈশ্বর বলে বিবেচনা করেছেন  যা প্রকৃতিকে পরিচালনা করে। তাঁর  প্রতি ভক্তিভরে  নিজের অন্তর্লোকে  তাকে   নিবেদন করা, তাকে সৌন্দর্যের আনন্দলোকে নিজের অন্তর্দৃষ্টি  দিয়ে দেখাই হলো রবীন্দ্রনাথের ভক্তিবাদ, ঐশ্বরিক প্রেম। এখানেই রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিপ্রেম মানবপ্রেম ঐশ্বরিকপ্রেম একবিন্দুতে মিলেছে। এই বিশ্বলোককে নিজের মনের কল্পলোকে প্রতিষ্ঠিত করে সেই কল্পলোকের আলোয় জীবনকে জীবনবোধকে উপলব্ধি  করাই  হল রবীন্দ্র মানস রবীন্দ্র ভাবনা।   তাই কবি বলেন, 


"সেই সত্য যা রচিবে তুমি,

ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি

রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।"" 


রবীন্দ্র মানস সনাতনী ধর্ম ও শিল্পবিপ্লবত্তোর পশ্চিমি ভাবধারার রোমান্সের সঙ্গে হেগেলের কল্পলোকের ভাববাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠেন রোমান্টিক যুগের পাশ্চাত্যের কবিকূল   শেলী ওয়ার্ডসওয়ার্থ বায়রন প্রমুখের  উত্তরসূরি। 


বাংলা সাহিত্য জগতের আনাচে কানাচে রবীন্দ্র ভাবনা রবীন্দ্র দর্শনের অবাধ বিচরণ। সাহিত্য চর্চায় তিনি এক বহুমুখি ব্যক্তিত্ব। রবি ঠাকুরকে আমরা পাই সাহিত্যের আঙিনার প্রতিটি বিভাগে। কবিতা, গল্প,  উপন্যাস, নাটক, নৃতি নাট্য, গান ----- কোথায় নয়? সর্বত্র। তাঁর জীবন দর্শন প্রতিভাত হয় সাহিত্যের প্রতিটি বিভাগের মাধ্যমে। রবীন্দ্র দর্শন রবীন্দ্র ভাবনা প্রকৃতি প্রেম পূজা  সামাজিক ন্যায় বোধ সব কিছুকে  বেষ্টন  করে  থাকে তার নিজ মহিমায়।


কবি প্রকৃতিকে এ মহাজগতের সর্বশক্তিমান চিরন্তন সত্য বলে জেনেছেন যা মানব জগত ও  বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে রক্ষা  করে থাকে। প্রকৃতির অনিন্দ সুন্দর রূপকে তিনি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষ সব যুগে সবার কাছে। তিনি জানেন মানুষ নশ্বর। ১০০ বছর পর তিনি এই বৈচিত্রময় প্রকৃতির কোলে থাকবেন না। সেটা তাঁর আপশোষ। কিন্তু বহমান এ জীবনে তিনি চান প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রাশি যেন আগামী দিনেও প্রজন্মের কাছে অনুভূত হয় আজের মত। তিনি কবিতাটায় কথার ছটায়  শব্দের মাধুরিতে প্রকৃতির স্বরূপ তুলে ধরেছেন। তাই তিনি কবিতাটায় লেখেন:


  

 আজি হতে শতবর্ষ পরে

কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি

      কৌতূহলভরে--

   আজি হতে শতবর্ষ পরে।

আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের

      লেশমাত্র ভাগ--

আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,

   আজিকার কোনো রক্তরাগ

অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে

      তোমাদের করে

   আজি হতে শতবর্ষ পরে।


তিনি প্রকৃতিকে দেখেছেন ঋতু বৈচিত্রে ঋতু পরিবর্তনের  রহস্যের মধ্যে---- গ্রীষ্মের উষমতায়, তাঁর দহনে, কালবৈশাখির তান্ডবে আবার তারই মধ্যে সৃষ্টির মহিমায়। তিনি তাকে দেখেছেন বর্ষার বিরহে তার প্লাবনে। শরতের আগমনী গানে। তাঁর শরৎ ঋতুর ওপর গানে প্রকৃতি পূজার উৎসবের সঙ্গে একাত্ম হোয়ে এক পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি করে এই ভৌতিক জগত যার সঙ্গে মেলে এসে মানুষের এক মনন এক আধ্যাত্মিক আনন্দানুভূতি। তিনি পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করতেন না। প্রকৃতির মহাশক্তিতে  বিশ্বাসী, প্রকৃতি পূজারী ছিলেন তিন। প্রকৃতির কর্তৃত্বের ওপর ছিল তাঁর অগাধ আনুগত্য। তিনি ছিলেন প্রকৃতির উপাসক যেখানে প্রেম পূজা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হোয়ে জীবনকে করে তুলেছে মানবধর্মে বলিয়ান যা তাঁর জীবন দর্শনে এক মানবতা বোধ। প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানুষের অধিকার সম্মান বোধ তুলে ধরা আর  প্রকৃতি পূজা মানব ধর্মের প্রতি আনুগত্য তাঁর জীবন দর্শনকে এক বিন্দুতে মিলিয়েছে।


এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ। 

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে  মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।।

যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,

অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।।


তিনি তাঁর কবিতায় গানে বৈশাখের তাণ্ডব রূপ দেখেন যা ধ্বংসের বার্তা বাহক একই সঙ্গে এক শুভ আগমন বার্তা। আমরা শেলীর Ode to The West Wind কবিতায় প্রকৃতির এই রূপ পাই। একই সঙ্গে তাঁর প্রেমের ধারণা মূর্ত হয়ে ওঠে বর্ষার ওপর লেখা কবিতা গানে। বিরহের এক নৈসর্গিক প্রেমের প্রকাশ তাতে। নিচে অসংখ্য গান কবিতার মধ্যে একটা তুলে ধরা হলো আংশিক। রবীন্দ্রনাথের কবিতায়ে গানে বর্ষার জয়গান সোনা যায়। বর্ষাকে তিনি প্রেম বিরহের বার্তবাহী বলে তুলে ধরেছেন।  বর্ষায় তিনি প্রানোচ্ছল এবং একই সঙ্গে বিরহ বেদনায় কাতর। তিনি লেখেন কোন এক  বর্ষার দিনে:


এমন দিনে তারে  বলা যায়

         এমন ঘনঘোর বরিষায়।

         এমন দিনে মন খোলা যায় ----

এমন মেঘস্বরে     বাদল-ঝরোঝরে

         তপনহীন ঘন তমসায় ।। 


শরৎ কবির কাছে উৎসব কাল। প্রকৃতির শুভ্র পোশাকে পূজার ডালি নিয়ে তার আগমন। এ দুর্গোৎসব হতে পারে হতে পারে ফসল কাটার নবান্ন উৎসব। তিনি গেয়ে ওঠেন:


আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা।

নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই-- লুকোচুরি খেলা॥

আজ    ভ্রমর ভোলে মধু খেতে--   উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে;

আজ    কিসের তরে নদীর চরে চখা-চখীর মেলা॥

ওরে    যাব না আজ ঘরে রে ভাই, যাব না আজ ঘরে।

ওরে,    আকাশ ভেঙে বাহিরকে আজ নেব রে লুট ক'রে॥

যেন    জোয়ার-জলে ফেনার রাশি    বাতাসে আজ ছুটছে হাসি,

আজ    বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা॥


তিনি তাঁর গান কবিতায় বসন্তের আগমনী গান গান। বসন্ত তাঁর কাছে প্রেমের বার্তা বাহক। পুরোনোর বিদায়ে নতুনের বার্তা তাঁর বসন্ত রাগে:


আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। 

            তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে 

            কোরো না বিড়ম্বিত তারে। 

             আজি    খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো 

             আজি    ভুলিয়ো আপোনপর ভুলিয়ো,

             এই        সংগীত-মুখরিত গগনে

              তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো। 

এই         বাহির ভুবনে দিশা হারায়ে 

দিয়ো      ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে। 


রবির প্রেমবোধ তাঁর গানে গল্পে নাটকে শাশ্বত হয়ে উঠেছে। দৈহিক সম্পর্কের উর্ধে সে দেহাতীত। প্রেম হল দুজনের মধ্যে এক মিলন গ্রন্থি। তা প্রকৃতি মানুষের মধ্যে হতে পারে মানুষে মানুষে হতে পারে। দৈহিক সম্পর্কের ব্যাপার থাকে বলে নরনারীর মধ্যে প্রেম দেহাতীত ছাড়াও দৈহিক প্রয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা পায়। কবির দেহাতীত আদৰ্শ  প্রেমের ধারণা মূর্ত হোয়ে ওঠে শ্যামা নৃত্য  নাট্যে যেটা তিনি কবিতার আদলেও তুলে ধরেন। উত্তীয় শ্যামার প্রেমে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে শ্যামার অনুরোধে চোর অপবাদ নিজের ঘারে তুলে নিয়ে। কবি দেখান এই বিশুদ্ধ প্রেম প্রেমিক প্রেমিকাকে সর্বস্ব ত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করে। এই ত্যাগের মধ্যে দিয়ে প্রেম হয়ে ওঠে দেহাতীত অবিনশ্বর যা এই বৈষয়িক সব ক্ষুদ্র স্বার্থকে অতিক্রম করে।  উত্তীয় নিচের কথামালায় সে প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরে গেয়ে ওঠেন:


আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান---

          তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,

তুমি জান নাই তার মূল্যের পরিমান।

                 রজনী গন্ধ্যা অগোচরে

কেমনে রজনী স্বপনে ভরে 

                     সৌরভে,

    তুমি জান নাই, জান নাই

তুমি জান নাই, মরমে আমার ঢেলেছ তোমার গান


এবার আমরা রবীন্দ্রপ্রেমের স্বরূপ আলোচনায় রবীন্দ্রনাথের কাব্যধর্মী উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ আর নাটক ‘রক্ত করবী’ ধরে  আলোচনায় আসব। আগেই বলে রাখি এই দুটি বইতেই তিনি দেহাতীত এক নৈসর্গিক বিমূর্ত প্রেমের মাহাত্ম তুলে ধরেছেন যা মানুষের আনন্দের উৎস, মুক্তির দিশা বলে কবি মনে করেন। একই সঙ্গে এই প্রেমবোধ উৎসারিত হয় মানবতার দর্শনকে কেন্দ্র করে যেখানে ক্ষুদ্র আত্মস্বার্থের পরিসর খুব সীমিত বা অনুপস্থিত, যাকে জয় করতে প্রেরণা যোগায় রবীন্দ্রনাথের নৈসর্গিক আধ্যাত্বিক প্রেম বোধ যা অবহেলিত হয় মানুষের ক্ষুদ্র স্বার্থ বোধে বৈষয়িক তাগিদে। জীবনের পাওয়া না পাওয়ার বৈষয়িক হিসেব রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্বিক প্রেম বোধকে অস্বীকার করে। রবীন্দ্রনাথের এই প্রেমবোধ ভাববাদে আপ্লুত   যে ভাববাদ রবীন্দ্রদর্শনের অনুরাগী।


তিনি তাঁর কবিতায় মানুষের সহজাত সৌন্দর্য আর আনন্দ বোধকে একাত্ম করে তুলেছেন কবিতায়। প্রকৃতির সহজাত সৌন্দর্য আর মানুষের সহজাত স্বতঃস্ফূর্ত প্রানোজ্বল আনন্দবোধ এক সূত্রে বাঁধা পড়ে যখন তিনি লেখেন:


আজি এ প্রভাতে রবির কর

কেমনে পশিল প্রাণের পর,

কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!

না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

জাগিয়া উঠেছে প্রাণ, ওরে উথলি উঠেছে বারি,

ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া  রাখিতে নারি


এবার আসা যাক ‘শেষের কবিতা’য়, রবীন্দ্রনাথের অতীন্দ্রিয় শাশ্বত এক আধ্যাত্মিক প্রেমের ধারণায়। উপন্যাসে দুটি চরিত্র----নারী ও পুরুষ, লাবণ্য আর অমিত। অমিত লাবণ্যক বন্যা বলে সম্বোধন করত। দুজনে এক আত্মীক বন্ধনে নিজেদের বেঁধেছে যা সহজাত নৈসর্গিক। বস্তুজগতের কোন বাধ্যবাধকতায় এ প্রেম নিজেকে বাঁধে না। এ এক  স্বতঃস্ফূর্ত সহজাত শাশ্বত প্রেম যা দেহাতীত। অথচ দুজনেই জানে এই ইহজগতে নশ্বর এ বৈষয়িক জীবনে দৈহিক বন্ধনের তাগিদ থাকে, তার প্রয়োজন থাকে। বিবাহের মাধ্যমে তার প্রয়োজন মেটে। আর এই বিবাহ বন্ধনের থেকেও উৎসারিত হতে পারে এক দেহাতীত প্রেম। আবার সেটা নাও হতে পারে কারণ বৈষয়িক প্রয়োজনে এই প্রেম ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থেকে যেতে পারে যা মানুষকে মুক্তির নিশানা দেখাতে পারে না, পরস্পরের অধিকার শ্রদ্ধার স্বীকৃতি পায় না সে অনুষ্ঠানিক প্রেমে।

 

পরে জানা যায় যে কেতকীর সঙ্গে অমিতের এক বৈষয়িক প্রেম সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে কেতকী  দাবি করে তাদের ভালোবাসার এক বৈষয়িক  সম্পর্ক যা বিবাহে পরিণতি পেতে পারে । বন্যা সেটা মেনে নেয়। সে জানত অমিতের সংগে তার প্রেম দেহাতীত যার দৌলতে তারা নদীতে অবাধে সাঁতার কাটে মুক্ত আকাশে ভেসে বেড়ায়। আর কেতকীর প্রেম সংসার জগতের খেয়া বায়।



অমিত কেতকীকে  বিয়ে করে। তার স্বীকারোক্তিতে সে বলে:

কেতকীর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ ভালোবাসারই; কিন্তু সে যেন ঘড়ায়-তোলা জল, প্রতিদিন তুলব, প্রতিদিন ব্যবহার করব। আর লাবণ্যর সঙ্গে আমার যে ভালোবাসা সে রইল দিঘি; সে ঘরে আনবার নয়, আমার মন তাতে সাঁতার দেবে।’

সাংসারিক প্রয়োজনে লাবণ্যের বিবাহ ব্যবস্থা শোভনলালের সঙ্গে । সে অমিতকে চিঠি পাঠিয়েছে যাতে তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কটা ধরা পরে। বন্যার বিয়েতে  অমিতের নিমন্ত্রন। কারও কোন ক্ষোভ নেই কারণ তারা জানে তাদের প্রেম এক বন্ধনহীন গ্রন্থি। বিবাহ বন্ধনে তারা তাকে বাঁধতে পারে না। চিঠির একটা অংশ তুলে দিলাম যা রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরে:


কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে

বসন্তবাতাসে

অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,

ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,

সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে

তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতিপ্রদোষে

হয়তো দিবে সে জ্যোতি,

হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি।

তবু সে তো স্বপ্ন নয়,

সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়—

সে আমার প্রেম,

তারে আমি রাখিয়া এলেম

অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।

পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে

কালের যাত্রায়।

হে বন্ধু, বিদায়।


রবীন্দ্রনাথে গানের মধ্যে দিয়েও শাশ্বত এই প্রেমের সুর:


সেদিন দুজনে দুলেছুনু বনে,   ফুলডোরে বাঁধা ঝুল না। 

সেই স্মৃতিটুকু কভু ক্ষণে ক্ষণে   যেন জাগে মনে, ভুলো না ॥

সেদিন বাতাসে ছিল তুমি জানো--   আমারি  মনের প্রলাপ জড়ানো,

  আকাশে আকাশে আছিল ছড়ানো তোমার হাসির তুলনা ॥

  যেতে যেতে পথে পূর্ণিমারাতে চাঁদ উঠেছিল গগনে।

  দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে কী জানি কী মহা লগনে।

এখন আমার বেলা নাহি আর,    বহিব একাকী বিরহের ভার--

  বাঁধিনু যে রাখী পরানে তোমার সে রাখী খুলো না, খুলো না ॥


‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথের একটি প্রতীক ধর্মী বহুমাত্রিক নাটক যেখানে একটা শোষণ ব্যবস্থার চরিত্র যেমন উন্মোচিত হয়েছে তেমনি তার বিরুদ্ধে  অসহায় মানুষের বিক্ষোভ তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অসহায় অবস্থাটা নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানব প্রেমের নৈসর্গিক রূপটা। দুটি প্রতীকী চরিত্র কেন্দ্রীয় চরিত্র বলে বিবেচিত ----- যক্ষ  আর নন্দিনী। নন্দিনীর প্রেমিক রঞ্জন নাটকে পার্শ চরিত্র। যক্ষ  পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় রাজতন্ত্রী শাসনের প্রতিভূ যে  শোষণ ও নিপীড়ণের মাধ্যমে শাসন চালায়। আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সাহায্যে রাজার শাসন চলে।  আর খেটেখাওয়া মানুষ তাদের ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকলেও রাজার শাসন মেনে নিতে বাধ্য। এই ব্যবস্থায় রাজা থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যন্ত্রে পরিণত হয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এই শোষণমূলক চরিত্রটা রবীন্দ্রনাথ তুলে ধরেন যদিও বংশানুক্রমে তিন অভিজাত জমিদার পরিবারের সন্তান যে পরিবার শিক্ষা জীবন যাপন নানা দিক দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের অনুগ্রহ পেয়ে থাকত । তৎসত্বেও তৎকালীন  শাসন ও শোষণকে তিনি যে তুলে ধরেছেন সেটা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সন্দেহ নেই। এই নাটকে এক নারী চরিত্র নন্দিনী প্রেমের প্রতীক হয়ে মুক্তির দিশারী হিসেবে নাট্যমঞ্চে আবির্ভুত হন। তিনি তাঁর প্রেম বোধের সাহায্যে নিপীড়িত মানুষের মধ্যে এক অধিকার বোধ আত্মসম্মান  বোধ জাগিয়ে তোলেন যা তাদের নিজেদের যন্ত্র নয় মানুষ  বলে ভাবতে শেখায়। নন্দিনী এই শোষণমূলক ব্যবস্থাকে ঘৃণা  করলেও তার অবসানে সক্রিয় থাকলেও তাঁর প্রেম বোধ এই ব্যবস্থার প্রতিনিধি যক্ষরাজ আর তার রক্ষীবাহিনী আমলা সবার  হৃদয় জয় করে তাদের রাজতন্ত্রের থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাঁদের এসব কাজ থেকে নিরস্ত করে। সব মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে প্রেম বোধ মানবতা বোধ।  রঞ্জন নন্দিনীর প্রেমিক। তাদের মধ্যেকার আধ্যাত্মিক প্রেম বোধ জেগে ওঠে সব স্তরের মানুষের মধ্যে। আর এই প্রেমই পারে সমাজের শোষণ নিপীড়নকে আটকাতে বলে রবীন্দ্রনাথ মনে করেন। এটা বলতে গিয়ে তিনি এই শাসন ব্যবস্থা আর ভাড়াটে শাসক সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। দেখান সবার মধ্যে প্রেমের সঞ্চালন মানব মুক্তির দিশারী হতে পারে।  তাতে এই ব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতার সঞ্চার হয়  সে বিচ্ছিন্নতা দূর হয়। বরং এই ব্যবস্থাটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তারই সৃষ্ট রাজা আর তাঁর পরিষদবর্গ থেকে।


পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মানুষকে মানুষ থেকে মানুষকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। যক্ষ পুরীতে সোনাখনিতে কর্মরত মানুষের জীবন ধারণ তাঁদের বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোভের তাড়নায় প্রকৃতির ওপর আক্রমণ যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় গৃহীত নীতি। রবীন্দ্রনাথ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এই প্রকৃতি লুঠ যে পুঁজিবাদী সভ্যতাকে  পাল্টা আঘাত করবে তা রবীন্দ্রনাথ তুলে ধরেন, তার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন যা তাঁর সাহিত্য চর্চায় ভাষা পেয়েছে। আজ সভ্য সমাজে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কার্যত সভ্যতার বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পৃথিবীকে  ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। এই ব্যাপারটা রবীন্দ্র দর্শনে প্রতিভাত হয় যেটা তিনি বিভিন্ন গল্প প্রবন্ধ উপন্যাসে তুলে ধরেন।


সমাজ জীবনে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা তাঁর সাহিত্য চর্চার অন্যতম উপাদান। এই ব্যবস্থায় সমাজে অর্থনৈতিক শোষণের ফলে যেমন ন্যায় নীতি বিঘ্নিত হয় তেমনি ধর্মের নামে অধর্মের অনুশাসন সামাজিক আচরণ ধর্মের নামে কুসংস্কারের প্রবর্তন সমাজ ও পরিবারে লিঙ্গগত বৈষম্য ন্যায় নীতি প্রবর্তনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। পুরুষ প্রধান সমাজে পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া রীতি নীতি নারী নির্যাতনের হাতিয়ার।শোষণ মূলক সমাজের শোষণ কায়েম রাখতে সামাজিক ধর্মীয় বিভিন্ন রীতিনীতি প্রবর্তিত হয়। রবীন্দ্র নাথ সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হতে চেয়েছেন নারী স্বাধীনতার প্রবক্তা হয়ে উঠেছেন। তার কবিতা গল্পে সব ধরনের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন। আমরা দু একটা কবিতা উপন্যাস ধরে রবীন্দ্রনাথের এক সমাজ সংস্কারক চরিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করব।


এবার রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চার আরেকটা দিক তথা মানুষের জীবন জীবিকার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি  তাঁর ‘ঐকতান’ কবিতা দিয়ে শুরু করা যাক। তিনি তাঁর নিজের অভিজাত সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, সেটা তাঁর কাছে ছিল একটা বিরম্বনা। এই বিরম্বনা বোধ তাঁকে কতটা ব্যথিত করত তা আমরা কবিতাটার কয়েক লাইন পড়লেই বুঝতে পারি:


সবচেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন অন্তরালে,

তার পূর্ণ পরিমাপ নাই বাহিরের দেশে কালে। 

সে অন্তরময়,

অন্তর মিশালে তবে তার অন্তরের পরিচয়।

পাইনে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার;

বাঁধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবন যাত্রার। 

চাষী ক্ষেতে চালাইছে হাল,

তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল---

বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার। 

তারই পরে  ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার। 

অতি ক্ষুদ্র অংশে তার সম্মানে চির নির্বাসনে 

সমাজের উচ্চমঞ্চে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে। 

মাঝে মাঝে গেছি আমি ওপাড়ার প্রাঙ্গনের ধরে;

ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে। 

জীবনে জীবন যোগ করা 

না হলে, ব্যর্থ হয় গানের পসরা। 

তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা ---

আমার সুরের অপূর্ণতা।

 

কী সহজ ভঙ্গিমায় কবিতার ছন্দে সাহিত্যের কথা মালায় এঁকেছেন দরিদ্র সাধারণ মানুষের নানা ধরণের জীবিকা তাঁদের দৈনন্দিন জীবন যাপন। তাদের জীবিকা ও জীবন যাপনের সঙ্গে তিনি তাঁর কলমের জোরে একাত্ম হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর সামাজিক অবস্থার জন্য এরই মধ্যে নিপিড়িত মানুষের সঙ্গে তাঁর যে  সহজাত দূরত্ব সেটা গোপন করেন নি। গভীর বিড়ম্বনা সত্বেও তা দ্বিধাহীন ভাবে তুলে ধরতে সংকোচ করেন নি।


পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবারে মহিলাদের অসহায় নিপিড়িত অবস্থাটা তিনি তুলে ধরেন তাঁর ‘স্ত্রীর পত্র’ নামক গল্পে। গল্পটা যেন তাঁর লেখায় তিনি বলে যাচ্ছেন তাঁর ঘরে বসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামনে রেখে। মেয়েদের এই দুরবস্থা তাঁর মত অভিযাত পরিবারের মা বৌদের ক্ষেত্রে যেমন সত্যি তেমনি তাঁদের পরিবারে নিয়োজিত পরিচালিকাদের ক্ষেত্রেও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও সত্যি। এর জন্য তিনি দুই মহিলা চরিত্র মেজ বৌ আর বিন্দুকে উপস্থিত করেছেন। পরিবারে সমাজে মহিলাদের স্বাধীন সত্তা স্বীকার করা হয় না। ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম অনুসরণ করে মহিলাদের চলতে হয় ঘরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ থেকে, পরিনারের অনুশাসন পুরুষের কর্তৃত্ব মেনে। আর শ্রমিক কর্মী হিসেবে যে মেয়েরা কাজ করে তাঁদের ক্ষেত্রেও রোজগেরে হলেও পরিবারের অনুশাসনে চলতে হয়। তাঁদের শিক্ষা স্বাস্থ্য বিয়ে জীবন যাপন সব কিছুতেই পরিবারের লৌহ শৃঙ্খল অনুশাসন। গল্পে বাড়ির মেজবৌ পরিবারের চোখে বেয়ারা কারণ সে নিজ পরিচয়ে নিজ সত্তায় বাঁচতে চায়। পরিবারের বেঁধে দেওয়া গৃহস্থালীর মধ্যে নয়। তাঁর সাহিত্য চর্চার প্রতি যে স্বাভাবিক আগ্রহ তা পরিবারের অনুশাসনে স্বীকৃত নয়। আরো মজার পরিবারের আনুগত্যে মহিলারা এমনভাবে অভ্যস্থ হয়ে যান যে তাঁরাই মেজ বৌয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে পরিবারের অমঙ্গল বলে মনে করেন। পরিবারের মধ্যে মেয়েরাই হয়ে ওঠে মেয়েদের শত্রু। তারা নিজেরাই নারী নির্যাতনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বোঝে না যে এটা নারী সমাজের জন্য অসন্মান। পরিবারের অনুগত থেকে স্বামীও পরিবারের হয়ে ওকালতি করেন। মেজ বৌয়ের ক্ষেত্রে এর পরিণতি হল পরিবারের সঙ্গে তাঁর মানসিক বিচ্ছেদ। আর বিন্দুর ক্ষেত্রে পরিবারের অমান্য হলে তার পরিণতি আরো ভয়ঙ্কর কারণ সে নিম্নবর্গের মেয়ে মানুষ। তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে পাগল ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। পালিয়ে এসে মেজবৌয়ের আশ্রয় নেয়। মেজ বৌ পরিবারের নীতি অগ্রাহ্য করে বিন্দুকে আশ্রয় দেবে তাকে তার মর্যাদা দেবে বলে ঠিক করে। সেটাতে পরিবারের সম্মানহানি হয়। মেজ বৌ তার তোয়াক্কা না করে সে পরিবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মেজ বৌএর প্রতি বিন্দুর ছিল অসাধারণ ভালোবাসা। আর তাঁর এই ভালোবাসা তাকে মেজোবৌয়ের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে। দুই নারীর মধ্যে আধ্যাত্মিক প্রেমের সম্পর্ক স্থাপিত হয়  যা পরস্পর দৈহিক যৌন সম্পর্কের উর্ধে। রবীন্দ্র দর্শনে যা মানব প্রেম। বিন্দু মেজবৌয়ের এই বিচ্ছিন্নতা সহ্য করতে না পেরে সে বাড়ি থেকে চলে এসে আত্মঘাতী হয়। মেজ বৌ এতে এতটাই ক্ষুব্ধ হয় যে আর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না বলে স্থির করে। সে তার স্বামীকে লেখা পত্রে এই গল্পের আদ্যপ্রান্ত লিখে তার নিজের সত্তা নিয়ে নিজের মত বাঁচবে বলে  জানায়। মেজ বৌয়ের এই জেহাদ রবিঠাকুরের কলমে নারী সমাজের জেহাদ বলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সে আত্মসমর্পন নয় আত্মহত্যা নয় পুরুষ সমাজের বিরুদ্ধে  বিদ্রোহীনি এক নারী।

এবার আসা যাক রবীন্দ্রনাথের রাশিয়ার চিঠি প্রবন্ধে। আমরা আগেই বলেছি রবিঠাকুর পুঁজিবাদী ব্যবস্হাকে তার শোষণ নিপীড়নের কারণে ঘৃণা করতেন। তার অবসান চাইতেন। তিনি মার্ক্সবাদী ছিলেন না তাই মাৰ্ক্সের শ্রেণী লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তার অপসারণের কথা বিচার করেন নি। তবে সোভিয়েত বিপ্লবের মাধ্যমে জারের উচ্ছেদ ঘটলে তিনি সোভিয়েত বিপ্লবকে অভিনন্দন জানান। পরে সোভিয়েত রাশিয়ায় গিয়ে সেখানকার শাসন সরকারের জননীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তার ভিত্তিতে রাশিয়ার চিঠি নামক প্রবন্ধটি রচনা করেন। সোভিয়েত শাসনের ধনাত্বক ঋনাত্বক দুটি দিকই তুলে ধরেন। নতুন সোভিয়েত শাসন সেখানকার আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় যে বিপুল পরিবর্তন এনেছে তা তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য শিক্ষা জীবিকার উন্নতির দুয়ার যে খুলে গেছে সেটা দেখান। শ্রমজীবী মানুষের নিয়মানুবর্তিতা তাঁদের শ্রমমুখী জীবনের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সেখানকার শাসন ব্যবস্থায়  একটা যান্ত্রিকতা আছে বলে তিনি মনে করেন। আর বিশ্বজুরে ভাতৃত্বের বন্ধন যা মাৰ্ক্সের আন্তর্জাতিকতাবাদের ভিত্তি তা যে সমাজতন্ত্রের সাম্য ধারণার মধ্যে নিহিত আছে সেটা স্বীকার করেন। আর তখন পৃথিবী জুড়ে সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার লড়াই শুরু হয় সোভিয়েতের নেতৃত্বে যেটা পৃথিবীর নিপিড়িত মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। রবীন্দ্রনাথ এই বিশ্ব ভাতৃত্বের লড়াইয়ের সাথী ছিলেন তাঁর সাহিত্যে যা তাঁর মানবতাবোধকে ভাষা দেয়, তার বার্তা পৌঁছে দেয়। রশিয়ার চিঠি এরই একটা প্রমাণপত্র বলে বিবেচিত।

রবীন্দ্রনাথের জীবন ভাবনা জীবন দর্শন গড়ে উঠেছে প্রেম সম্পর্কে তাঁর ধারণাকে কেন্দ্র করে ---- সে প্রেম একাধারে প্রকৃতি প্রেম মানব প্রেম সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রেম। তাঁর কাছে সৃষ্টির উৎস নিহিত আছে প্রকৃতির বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে। এই ভৌতজগৎ ও তার বিবর্তন প্রক্রিয়াকে অবলোকন করে হৃদয় গহনে কল্পনার মালা গেঁথে যে সৌন্দর্য বোধের সৃষ্টি করা হয় মনোলোকে তাই রবীন্দ্র প্রেমে রূপ লাভ করে বলে মনে করা যেতে পারে। আর এখানেই তাঁর কল্পস্বর্গ আনন্দলোক যা তাঁর রোমান্টিকতা থেকে উদ্ভুত । আর এই আনন্দলোক তাঁর কল্পস্বর্গ সেজে ওঠে কল্পনার অবগাহে। এই আবহে নিজের মনের গভীরে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে অবলোকন করা তাকে নিজের মনলোকে প্রতিষ্ঠা করা তাকে এক অনাবিল সৌন্দর্য বোধে সাজিয়ে তোলাকে আমরা রবীন্দ্র প্রেম বলতে পারি। উপেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য তাঁর ‘রবীন্দ্র-পরিক্রমা’ কাব্য গ্রন্থে বলেন , ‘যে প্রেম বুভুক্ষিত দৃষ্টিতে দেহের চারিপাশে ঘুরিয়া মরে, ব্যক্তি-মানুষের বাস্তব দেহ-মন যাহার ভিত্তি, সেই আবেগময়, আত্মহারা, সাধারণ মানুষের প্রেম রবীন্দ্রনাথের প্রেম নয়।...প্রেম অসীম, অনন্তের ধন, আত্মার সম্পদ, দেহের সীমায় তাহাকে ধরা যায় না। দেহসম্বন্ধ বিরহিত, অপার্থিব সৌন্দর্যের নিবিড় অনুভূতি এক অনির্বচনীয় আনন্দরস।’

কল্পনার অবগাহে গড়ে তোলা এক নৈসর্গিক প্রেম বোধের আলোয় রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধ দর্শন গড়ে উঠেছে। আর তাঁর সাহিত্য চর্চার ওপর এর প্রতিফলন দেখা যায়। তাই দেখা যায় ভাববাদে আপ্লুত তাঁর সাহিত্য চর্চা।

রবীন্দ্রনাথের জীবন বোধ গড়ে তোলায় সাহিত্য চর্চায় ডারুনের বিবর্তনবাদ  ও হেগেলের ভাববাদের গভীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। মাৰ্ক্সের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ। যদিও দুজনের জীবন ভাবনাই মানুষের কল্যানের অভিসারী। মনুষ্য সমাজের মুক্তির জন্য নিপীড়নমূলক পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার অবসান দরকার বলে উভয়েই মনে করেন। মার্কস শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শক্তির সাহায্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার উচ্ছেদকে একটা ঐতিহাসিক অনিবার্যতা  বলেন।  রাষ্ট্র শক্তিকে প্রেমের সাহায্যে মানুষের মন জয় করে উৎখাত করার ধারণাকে এক অলীক স্বপ্ন বলে মনে করা হয় মার্ক্সবাদী ভাবনায়। আর  রবীন্দ্রনাথ সেখানে তাঁর রোমান্টিক কল্পনার অবগাহে মানুষের মনের উৎকৃষ্টতার জাগরণ ঘটিয়ে লক্ষ্য সাধনে ব্রতী হওয়ার কথা বলেন তাঁর ভাববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে গড়ে ওঠা জীবনবোধের সাহায্যে যেখানে প্রেম শুভ এক মন জগৎ সৃষ্টিতে চালিকা শক্তি। সেই জন্যই দেখা যায় রবীন্দ্র সাহিত্যে প্রেম এত গুরুত্বপূর্ণ।


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর

    রঙ বিবেকানন্দ নস্কর    আদুল স্রোতের টান  আঙুল রঙিন  চোখের পাতায় কৃষ্ণচূড়া  আদিবাসী মেয়ে বাজালো ফাগুন বীণ। বাসন্তিকা এমন বেআব্রু  আনমনা দক্ষিনা কোথায় যায় আবির বাতাস ঘ্রাণ  বিরহ বৃথা দায় । রঙ বিন্দু,স্বেদ বিন্দু  কিশোরী যুবতী হোক আদি প্রেম আদি ভাষা  রক্তাভ হাতের নখ । =============== বিবেকানন্দ নস্কর  সম্পাদক -ছন্দের ঘ্রাণ পত্রিকা  সন্তোষ পুর  পোঃ চাঁদ পালা  ফলতা  দ:২৪ পরগনা 

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

রঙ || নীল ডায়েরি

  দুটি কবিতা  নীল ডায়েরি  সময়ের জলছবি শহরের পিচগলা দুপুরে আজ ভীষণ একাকীত্ব, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া একমুঠো রোদ্দুর— যেন কোনো প্রাচীন লিপির অস্পষ্ট পাঠোদ্ধার। সবুজ সংকেত আসতেই তারা মিলিয়ে যায়, ঠিক যেমন আমাদের শৈশব ভিড় করে স্মৃতির স্টেশনে। আমি আজও খুঁজি সেই হারানো ডাকবাক্স, যেখানে চিঠিরা অপেক্ষার হলুদ রঙ মেখে বসে থাকে। অথচ এখন শুধু ইমেলের ইনবক্সে ডিজিটাল নীরবতা— হৃদয়ের মানচিত্রে জমা হচ্ছে কেবলি ধূসর বালুচর। সময় তো নদী নয়, সময় আসলে এক আয়না, যেখানে আমরা প্রতিদিন অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠি। মায়া ও মৃত্তিকা মাটির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আদিম এক ঘ্রাণ, সেখানে শিকড় চেনে তার নিজস্ব ঠিকানার হদিস। আমরাও তো বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছি আকাশে, অথচ পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ ছাড়া সবটাই অলীক। কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটে ওঠে, তখন মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই আসলে এক আশ্চর্য শিল্প। বুকের বাঁদিকে আজ এক অদ্ভুত জোনাকির আলো, হয়তো কোনো প্রিয় মানুষের ফিরে আসার পদধ্বনি। পাখিদের ডানায় লেগে থাকা বাতাসের গান শুনে— বিকেলের বিষণ্ণতা মুছে যায় চেনা কোনো সুরের টানে। জীবন মানে তো কেবল ফুরিয়ে যাওয়া নয়, জীবন মা...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...