Skip to main content

প্রবন্ধ ।। রবীন্দ্র-ভাবনায় যুদ্ধ ও বিশ্বশান্তি ।। চন্দন দাশগুপ্ত

 

রবীন্দ্র-ভাবনায় যুদ্ধ ও বিশ্বশান্তি

চন্দন দাশগুপ্ত 


        "এক সময়ে, এই বিশ্বসৃষ্টির প্রথম যুগে সৃষ্টি ও প্রলয়ের দ্বন্দ্বনৃত্য চলেছিল----সৃষ্টি ও প্রলয়ের শক্তির মধ্যে কে যে বড়ো তা বুঝবার জো ছিল  না.......তখন যদি বাইরে থেকে কেউ একজন পৃথিবীকে দেখতে পেত, তাহলে বলত এই বিশ্ব প্রলয়েরই লীলাক্ষেত্র, সৃষ্টির নয়........কিন্তু এই মহাপ্রলয়ের অন্তরে সৃষ্টির সত্যই গোপন হয়েছিল। যা বিনাশ করে, যা ভীষণ, বাইরে থেকে তাকে সত্য বলে মনে হলেও তা সত্য নয়----এই ভীষণ তান্ডবলীলাই সৃষ্টির ক্ষেত্রে চরম কথা নয়।" রবীন্দ্রনাথের লেখা 'প্রলয়ের সৃষ্টি' প্রবন্ধের এই অংশটি যেন আজকের দুনিয়ার চিত্রটিকেই তুলে ধরেছে। পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ আশঙ্কার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমগ্র পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের চিন্তা যেন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা রবীন্দ্রনাথের ঐ বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। 
         ১৯৩০ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর 'রাশিয়ার চিঠি' গ্রন্থের ৪নং চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাশিয়া সম্পর্কে লিখেছেন : ".......অর্থসম্বল এদের সামান্য, বিদেশের মহাজনী গদীতে এদের ক্রেডিট নেই।.....অথচ রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকলের চেয়ে যে অনুৎপাদক বিভাগ সৈন্যবিভাগ----তাকে সম্পূর্ণরূপে সুদক্ষ রাখার অপব্যয় এদের পক্ষে অনিবার্য। কেননা, আধুনিক মহাজনী যুগের সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি এদের শত্রুপক্ষ এবং তারা সকলেই আপন আপন অস্ত্রশালা কানায় কানায় ভরে তুলেছে।" এই উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায়, বিশ্বশান্তি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গী তথাকথিত শান্তিপ্রিয় নির্ঝঞ্ঝাট 'অহিংসবাদী' অথবা 'নিরপেক্ষ শান্তিকামী'-র মতো ছিল না। তিনি জানতেন, সামরিক খাতে ব্যয় 'অনুৎপাদক' এবং সামরিক বিভাগ হল 'অনুৎপাদক বিভাগ'। তিনি দেখেছিলেন, সেই অনুৎপাদক বিভাগকেও 'সম্পূর্ণরূপে সুদক্ষ রাখার অপব্যয়' সোভিয়েত কে করতে হচ্ছে, তবুও তিনি একবারও এই অপব্যয়কে অন্যায় বলেননি, উল্টে সমর্থন করেছেন। 
        মনে রাখতে হবে, কোনও ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াকেই কারো মানসিকতা হিসেবে গণ্য করা অনুচিত। আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারাবাহিক মূল প্রত্যয় কি ছিল, সেটি বিচার করে তবেই যুদ্ধ ও বিশ্বশান্তি সম্পর্কে তাঁর মানসিকতা অনুমান করা সম্ভব। শুধু কবিতা বা প্রবন্ধই নয়, নাটক-গল্প-উপন্যাস-গান সর্বত্রই তিনি যা বলেছেন, সেগুলিতে মিশে থাকা তাঁর মতবাদকে সঠিক পুনরুদ্ধার দীর্ঘ গবেষণার বিষয়। ঠিক সেই কারণেই রবীন্দ্রনাথ যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির স্বপক্ষে ছিলেন-----শুধু এটুকু বললে সবটা বলা হয় না।

                                        🌑

         রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবন পরিধিতে সচেতন ভাবে দুটি বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ অবশ্য তিনি দেখে যেতে পারেননি।প্রথম মহাযুদ্ধের সময় তিনি যুযুধান দু-পক্ষের কাউকেই মুক্তকন্ঠে সমর্থন করেননি :            "......এবার যুদ্ধের বান ডেকে এসেছে, প্রলয়ের ঝোড়ো হাওয়া লেগেছে হিংস্র শক্তির হাজার হাজার পালের উপর।.......এ পক্ষেরই হোক আর ও পক্ষেরই হোক, জয় কামনা করব কার। জয় যে হিংস্র শক্তির......।"    ( আমাদের অবস্থা )
         প্রথম মহাযুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের লেখা 'গীতালি'র গান আর 'বলাকা'র কবিতা। বলাকার 'পাড়ি' কবিতায় তিনি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে অভিযাত্রী নাবিককে মানব ইতিহাসের নায়ক হিসেবে কল্পনা করে বলেছেন, মানব সমাজের আপাত দুর্যোগের মধ্য দিয়েই ইতিহাস বিধাতার অনিবার্য সঞ্চরণ প্রত্যক্ষ করা যায়। মহাযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি ঠিক আমাদের মধ্যে এসে পড়েছেন। কিন্তু তিনি কেন আসছেন ? এর উত্তরে কবি জানাচ্ছেন, মানুষ বহুদিন ধরে লাঞ্ছিত হচ্ছে, উৎপীড়িতের দুঃখের ভার সীমা ছাড়িয়েছে। আশাবাদী কবির বিশ্বাস, এবার একটা ওলটপালট হবে, সাম্রাজ্যবাদের অবসানে আসবে মানুষের প্রকৃত মুক্তি তথা বিশ্বশান্তি :
     ".....এ কুৎসিত লীলা যবে হবে অবসান
     বীভৎস তান্ডবে।
     এ পাপযুগের অন্ত হবে,
     মনের তপস্বীবেশে
     চিতাভস্ম শয্যাতলে এসে
     নবসৃষ্টি ধ্যানের আসনে
     স্থান লবে নিরাসক্ত মনে,
     আজি সেই সৃষ্টির আহ্বান 
     ঘোষিছে কামান।"                 (জন্মদিনে ২১)
        
         কিশোর বয়স থেকেই কবি বিশ্বমানবের অবমাননা-উৎপীড়নের কথা ভেবে চিন্তামগ্ন :
     "......যা দেখিছ, যা দেখেছ, তাতে কি এখনো
      সর্বাঙ্গ তোমার, গিরি, উঠেনি শিহরি ?
      কি দারুন অশান্তি এ মনুষ্য জগতে
      রক্তপাত, অত্যাচার, পাপ, কোলাহল 
      কত কোটি কোটি লোক, অন্ধ কারাগারে
      অধীনতা শৃঙ্খলেতে আবদ্ধ হইয়া    
      ভরিছে স্বর্গের কর্ণ কাতর ক্রন্দনে।" 
                                                 [কবি ও কাহিনী]
আর আশি বছরে পৌঁছে পরিণত মানসে লিখেছেন  : 
     ".....কোটি কোটি মানুষের শান্তি স্বাধীনতা
      রক্তময় পদাঘাতে দিতেছে ভাঙ্গিয়া
      তবুও মানুষ বলি গর্ব করে তারা
      তবু তারা সভ্য বলে করে অহংকার।" 
এ-থেকেই বোঝা যায়, দীর্ঘকাল পরেও কবির মানসিক গড়নের কোনও মৌল পরিবর্তন আসেনি।এর সাথে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, শত দুঃখের মধ্যেও তরুণ কবির মনে যেমন হতাশা আসেনি :
     ".....পৃথ্বী সে শান্তির পথে চলিতেছে ক্রমে
      পৃথিবীর সে-অবস্থা আসেনি এখনো
      কিন্তু একদিন তাহা আসিবে নিশ্চয়।"
                                                  [কবি ও কাহিনী]
তেমনি পরিণত বয়সেও শান্তিবাদী কবি প্রত্যয়ে স্থির :
      ".......তরুণ বীরের তূণে
      কোন্ মহাস্ত্র বেঁধেছ কটির 'পরে
      অমঙ্গলের সাথে সংগ্রাম তরে।
      রক্তপ্লাবন পঙ্কিল পথে
      বিদ্বেষে বিচ্ছেদে
      হয়তো রচিবে মিলনতীর্থ
      শান্তির বাঁধ বেঁধে।"         [ নবজাতক]

                                       🌑

        ১৮৮১ সালের জুন মাসে, মাত্র কুড়ি বছর বয়েসে রবীন্দ্রনাথের লেখা 'চীনে মরণের ব্যবসায়' শীর্ষক প্রবন্ধে দেখা যায়, তিনি শুধু যুদ্ধের বিরুদ্ধেই সোচ্চার নন, চীনদেশে নারকীয় তান্ডব ও পীড়নের মাধ্যমে উপনিবেশবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের মুখোসকেও তিনি ছিন্নভিন্ন করেছেন, পাশব শক্তির বিরুদ্ধে চীনা জনগণের ক্রোধ ও ঘৃণার সাথে নিজের ক্রোধ ও ঘৃণাকে যুক্ত করেছেন। 
        পারমাণবিক বোমার নারকীয় বীভৎসতা নিশ্চয়ই কবি কল্পনা করতে পারেননি, কিন্তু পাশ্চাত্য দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, একটা সর্বনাশা যুদ্ধ আসন্ন। তাই 'বলাকা'র কিছু কবিতায় প্রথম মহাযুদ্ধ আরম্ভ হবার আগেই তার পদধ্বনী শোনা গেছে :
     ".......এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।
     বেদনায় যে বান ডেকেছে
     রোদনে যায় ভেসে গো।
     রক্তমেঘে ঝিলিক মারে
     বজ্র বাজে গহন-পারে,
     কোন্ পাগল ওই 'বারে বারে
     উঠছে অট্টহেসে গো।
     এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।"  
 রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "......আমার এই অনুভূতি ঠিক যুদ্ধের অনুভূতিই নয়। আমার মনে হয়েছিল যে, আমরা মানবের এক বৃহৎ যুগসন্ধিতে এসেছি, এক অতীত রাত্রি অবসানপ্রায়। মৃত্যু-দুঃখ-বেদনার মধ্য দিয়ে বৃহৎ নবযুগের রক্তাভ অরুণোদয় আসন্ন।" বলাকার ৪-নং কবিতা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ণ, "......তখনও য়ুরোপের মহাযুদ্ধের খবর এদেশে আসেনি---আমার চার নম্বর কবিতা লেখবার পর যুদ্ধের খবর পেলাম..... দারুণ প্রলয়ের সূচনা হোলো, যুদ্ধের শঙ্খ বাজলো।"
          প্রথম মহাযুদ্ধকে কবি 'সর্বনাশ' হিসেবেই দেখেছেন, কিন্তু সে-সর্বনাশ তাঁর মতে ছিল 'অনিবার্য' :
     ".....ভাঙিয়া পড়ুক ঝড়, জাগুক তুফান,
     নিঃশেষ হইয়া যাক নিখিলের যত বজ্রবাণ।"
কারণ, কবির আশা, এই যুদ্ধের শেষে মানবজাতি পৌঁছতে পারবে এক নতুন সৃষ্টির উপকূলে :
     ".......শুধু একমনে হও পার
     এ প্রলয় পারাবার 
     নূতন সৃষ্টির উপকূলে
     নূতন বিজয়ধ্বজা তুলে।"
তাছাড়া প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হতেই কবির দৃঢ় প্রত্যয় হয়েছিল যে, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই একটি 'বৃহৎ রক্তাভ অরুণোদয় আসন্ন'------তিনি কি এই 'বৃহৎ রক্তাভ অরুণোদয়' বলতে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবকেই বোঝাননি ?
          শান্তিবাদী ছিলেন বলেই রবীন্দ্রনাথ কিন্তু 'অহিংসবাদী' ছিলেন না। 'হিংসা' যেখানে 'হিংস্রতা'-র সমার্থক, কবি অবশ্যই তার বিরোধী ছিলেন। কিন্তু অন্যায়কারীর কবল থেকে আত্মরক্ষার্থে যে বলপ্রয়োগ করা হয়, কবি সবসময়েই তার সমর্থক ছিলেন। এজন্যই গান্ধীজি যে অর্থে অহিংসবাদী, রবীন্দ্রনাথ সে-অর্থে অহিংসবাদী নন। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি দৃপ্তকন্ঠে যুদ্ধঘোষণা করেছেন :
     "......এবার সকল অঙ্গ ছেয়ে
     পরাও রণশয্যা।"
         রবীন্দ্রনাথ জানতেন যে, সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের পেছনে আছে ধনতান্ত্রিক প্রয়োজন এবং সেই আদি প্রবৃত্তি----লোভ। তাই শোষিত মানুষের বাস্তব চিত্র লিপিবদ্ধ করে তিনি রাষ্ট্র-নেতাদের সাবধান করে বলেছেন যে, মানুষে-মানুষে নিদারুণ পার্থক্যের অবসান না ঘটালে সাম্রাজ্যলোভীদের রাজত্ব বিপ্লবের কষাঘাতে বিচূর্ণ হবে :
     "......সিংহাসনতলচ্ছায়ে দূরে দূরান্তরে
     যে রাজ্য জানায় স্পর্ধাভরে
     রাজায় প্রজায় ভেদ মাপা
     পায়ের তলায় রাখে সর্বনাশ চাপা।"
ন্যায়যুদ্ধে যে কবির আন্তরিক সমর্থন ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে আয়ারল্যান্ডের মুক্তি আন্দোলনের প্রতি তাঁর সমর্থনে এবং সিরিয়া - মেসোপটেমিয়ায় জাতীয় আন্দোলন দমনের জন্য ভারতীয় সৈন্য প্রেরণের ঘটনায় তাঁর তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে।
          বিশ্বব্যাপী মারণযুদ্ধ চলাকালীন কবির হৃদয় যখন ক্ষতবিক্ষত, ঠিক সেই সময় তাঁর বন্ধু রোমাঁ রোলাঁ এই ধ্বংসের বিরুদ্ধে "Declaration of independence of thought"--এ সাক্ষর করার জন্য আহ্বান জানালেন। এ--প্রস্তাবে সানন্দে সম্মতিদান করে রবীন্দ্রনাথ সুদীর্ঘ বক্তব্য রেখেছিলেন। ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবাদ--বিরোধী অধিবেশনে ভারতের ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রগতি লেখকদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রেরিত ঐতিহাসিক প্রতিবাদবাণীতে সাক্ষরকারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যক্তি ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। League Against Fascism and War এর ভারত কমিটিরও তিনি ছিলেন সভাপতি।

                                          🌑

        দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জাপানের যুদ্ধোদ্যমকে "সভ্যতা প্রসারের প্রয়াস" রূপে বর্ণনা করে জাপানী কবি নোগুচি রবীন্দ্রনাথকে এক দীর্ঘ চিঠি লেখেন----তাঁর সমর্থন লাভের আশায়। রবীন্দ্রনাথ তার উত্তরে যা লেখেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি লেখেন, কোনো দেশের স্বাধীনতাহরণই মানবিক শুভবুদ্ধির পরিচায়ক নয়। বোমাবারুদে বিধ্বস্ত করে কোনো দেশে সভ্যতা বিস্তারের চেষ্টা আদিকালের এক অসভ্য রীতি। আপন অভিরুচিসম্মত পথেই প্রত্যেক দেশ আত্মশক্তির পথে পা বাড়াবে। এর অন্যথা পৈশাচিক বর্বরতা মাত্র। 
         বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্যা Miss Rathbone এই সময় ভারতবর্ষ ও ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে এক বক্তৃতা করেন। অন্তিম রোগশয্যায় শুয়েও এর মোক্ষম জবাব দেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, নিজ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা শহীদ হন, তাঁদের উদ্দেশ্যে দূর থেকে ঢিল ছোঁড়া হল নির্লজ্জ কাপুরুষতা। আজকের মদমত্ত রণপতিরা যেদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, তখনই শেষ হবে তাঁদের লীলাখেলা। কিন্তু সত্যনিষ্ঠ দেশসেবক ত্যাগব্রতী বীরেরা চিরকালের দীপ্তিতে দিগন্ত আলো করে থাকবেন। যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এমন সতেজ ও স্বতঃস্ফূর্ত উক্তি রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কে করতে পারতেন ?
        শেষ জীবনে রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বংসী আগুনে পৃথিবীকে দগ্ধ হতে। দেখেছেন রণতান্ডবে বিধ্বস্ত হচ্ছে মানবসমাজ ও সভ্যতা, ছারখার হচ্ছে কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষের জীবন ও সংসার। কিন্তু তখনও দৃঢ়চেতা কবিমানসে হতাশা আসেনি। তিনি বুঝেছেন, সেই পরিস্থিতিতে শান্তির বাণী শুনিয়ে লাভ নেই---একমাত্র পথ হল দানবতার বিরুদ্ধে মানবতার আপোসহীন সংগ্রাম। পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার আগে তাই যৌবনোচিত নির্ভীকতায় কবিকন্ঠে শোনা গেছে বরাভয় আর সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত সেই শাশ্বত আহ্বান :
    "নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস,
     শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস---
     বিদায় নেবার আগে তাই
     ডাক দিয়ে যাই
     দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে
     প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে।" 
        বলা নিষ্প্রয়োজন যে, রবীন্দ্রনাথের বিশ্বশান্তি চেতনা কিন্তু কোনো নির্বীর্যের আত্মসমর্পণের মানসিকতা থেকে উদ্বুদ্ধ নয়, সে--শান্তি দুর্জয়, দুর্বার  :
     ".....সেই বিনাশের প্রচন্ড মহাবেগে
     একদিন শেষে বিপুলবীর্য শান্তি উঠিবে জেগে
     মিছে করিব না ভয়।
     ক্ষোভ জেগেছিল, তাহারে করিব জয়।"
         শান্তিকামী কবির মানসিকতা বোঝা যায় চীনদেশ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যে :
"......অপরপক্ষে কোন কোন জাতি অপেক্ষাকৃত সহজে তাদের স্বভাবকে অনুসরণ করে বাহিরের চিত্তবিক্ষেপ থেকে শান্তিলাভ করে এসেছে। তারা বিবাদ করে, লড়াই করে মানুষের গৌরব সপ্রমাণ করতে চায়নি। বরঞ্চ লড়াই করাকে তারা বর্বরতা বলে জ্ঞান করেছে। চীন এর প্রধান দৃষ্টান্ত।" কবি আরো বলেছেন :
"......আমি এই কামনা করি, আমাদের পিতামহের মর্মস্থান থেকে উচ্চারিত এই বাণী আমাদের প্রত্যেকের ধ্যানমন্ত্র হয়ে জগতে শান্তির দৌত্য করতে থাক্।" 
         সাম্রাজ্যবাদীদের কুৎসিত লোভের থাবা এবং দুনিয়া জুড়ে ত্রাস সঞ্চারের অপচেষ্টার ফলেই যে আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে এতে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু দূরদর্শী রবীন্দ্রনাথ প্রথম মহাযুদ্ধের সময়েই বলেছেন :
"........আমেরিকার রাষ্ট্রতন্ত্রে কুবের দেবতার চরগুলি যেসব কুকীর্তি করে সেগুলো সামান্য নয়।" ১৯৩৩ সালে লেখা 'কালান্তর' প্রবন্ধেও তিনি সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার স্বরূপ উদ্ঘাটন করেছিলেন তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সঙ্গে :
"......ক্রমে ক্রমে দেখা গেল য়ুরোপের বাইরে অনাত্মীয় মন্ডলে য়ুরোপীয় সভ্যতার মশালটি আলো দেখাবার জন্য নয়, আগুন লাগানোর জন্য।" 
         ফ্যাসিষ্ট দানবের উত্থানের পেছনে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র-গোষ্ঠীর নীতিকেই রবীন্দ্রনাথ দায়ী করেছেন :
".......দেখলুম দূরে বসে ব্যথিতচিত্তে, মহীসাম্রাজ্যশক্তির রাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিষ্ক্রিয় ঔদাসীন্যর সঙ্গে দেখতে লাগলো, জাপানের করাল দ্রংষ্ট্রাশক্তির দ্বারা চীনকে খাবলে খাবলে খাওয়া......দেখলুম, ঐ স্পর্ধিত সাম্রাজ্যশক্তি নির্বিকার চিত্তে এবিসিনিয়াকে ইটালির হাঁ করা মুখের গহ্বরে তলিয়ে যেতে দেখলো, মৈত্রীর নামে সাহায্য করলো জার্মানির বুটের তলায় গুঁড়িয়ে ফেলতে চেকোশেলাভাকিয়াকে.......।" ইটালি কর্তৃক অ্যাবিসিনিয়া দখলের প্রতিবাদে কবির লেখনী গর্জে উঠেছিল 'আফ্রিকা' কবিতায় :
    "....এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে
    নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
    এল মানুষ ধরার দল
    গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
    সভ্যের বর্বর লোভ
    নগ্ন করলো আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।"
          চেকোশ্লাভাকিয়া নাৎসী বাহিনীর দখলে চলে গেলে "আহ্বান" কবিতায় কবিকন্ঠে বেজেছে বিষণ্ণতার সুর :
    "....বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ ইতিহাসে
     অন্ধবেগে ঝঞ্ঝাবায়ু হুঙ্কারিয়া আসে
     ধ্বংস করে সভ্যতার চূড়া।
     ধর্ম আজি সংশয়েতে নত
     যুগ যুগের তাপসদের সাধনাধন যত
     দানবপদদলনে হল গুঁড়া।"
তবুও কিন্তু কবি আশাবাদী। তাই তিনি নির্ভীক যুবসমাজকে আহ্বান জানাচ্ছেন :
     ".....তোমরা এস তরুণ জাতি সবে
     মুক্তিরণ ঘোষণাবলী জাগাও বীরবরে
     তোলো অজেয় বিশ্বাসের কেতু।
     রক্তে রাঙা ভাঙন ধরা পথে
     দুর্গমেরে পেরোতে হবে বিঘ্নজয়ী রথে
     পরাণ দিয়ে বাঁধতে হবে সেতু।"

                                      🌑

          অনেকে রবীন্দ্রনাথকে ভাববাদী এবং এসকেপিস্ট বলেছেন। কিন্তু লক্ষ্যণীয়, তাঁর বহু কবিতা থেকেই এমন অনেক ভাবনা বেরিয়েছে, যা বিশ্বের যেকোন দোর্দন্ডপ্রতাপ শাসকের সিংহাসনকেও টলিয়ে দিতে সক্ষম :
     ".....উপর আকাশে সাজানো তড়িৎ আলো
      নিম্নে নিবিড় অতি বর্বর কালো
      ভূমিগর্ভের রাতে---
      ক্ষুধাতুর আর ভূরিভোজীদের
      নিদারুণ সংঘাতে
      ব্যাপ্ত হয়েছে পাপের দুর্দহন,
      সভ্যনামিক পাতালে যেথায়
      জমেছে লুটের ধন।"
         বিভীষিকাময় যুদ্ধকে কবি অভিসম্পাত জানিয়েছেন 'সেঁজুতি', 'প্রান্তিক', 'নবজাতক', 'জন্মদিন'......প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের অজস্র কবিতায়। কবির ভাষায় :
  "......ক্ষুব্ধ যারা, লুব্ধ যারা,
   মাংস গন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টি হারা
   শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনা কুন্ড তব ঘেরি
   বীভৎস চিৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি
   নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি,
   শুনি তাই আজি
   মানুষ জন্তুর হুহুঙ্কার দিকে দিকে উঠে বাজি।"   
          ১৯৩৭ সালে বোমারু বিমানের ধ্বংসলীলা ফুটে উঠেছে কবির সৃষ্টিতে :
    "....এদিকে দানবপক্ষী ক্ষুব্ধ শূণ্যে
    উড়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে বৈতরণী নদীপার হতে 
    যন্ত্রপক্ষ হুংকারিয়া নরমাংসক্ষুধিত শকুনি
    আকাশেরে করিল অশুচি......"
          লক্ষ্যণীয়, এসব সত্ত্বেও যুদ্ধের ধ্বংসলীলার যথাযথ চিত্র তাঁর কাব্যে অনুপস্থিত একথা রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করে নিয়েই বলেছেন যে তিনি 'রসতীর্থ পথের পথিক' হলেও বীভৎসতার বাস্তব চেহারা তাঁর অচেনা নয়। কিন্তু সেই পরিচয়ের যথার্থ প্রকাশের ক্ষেত্র কাব্য নয়, কর্ম। তাই 'রোমান্টিকে'-র 'নবজাতক' কবিতায় শোনা গেছে :
      "যেথা ঐ বাস্তব জগত
       সেখানে আনাগোনার পথ
       আছে মোর চেনা।
       সেথাকার দেনা
       শোধ করি----সে নহে কথায় তাহা জানি,
       তাহার আহ্বান আমি মানি।
       দৈন্য সেথা, ব্যাধি সেথা, সেথায় কুশ্রীতা,
       সেথায় রমণী দস্যুভীতা
       সেথায় উত্তরী ফেলি পরি বর্ম 
       সেথায় নির্মম কর্ম।"
                                        🌑

         মহাযুদ্ধ এবং বর্তমান সভ্যতার সমস্যাগুলির মূল কারণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মতাদর্শ প্রায় নির্ভুল হলেও এটি অস্বীকার করা যাবেনা যে, এইসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথটি তাঁর কাছে সুস্পষ্ট ছিল না। সাধারণ মানুষের শ্রেণীচেতনা, সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন, এবং সামাজিক- অর্থনৈতিক- রাজনৈতিক বিপ্লবকে যে তিনি একেবারেই দেখতে পাননি, তা নয়। কিন্তু তিনি সম্ভবত এর উপর ঠিক আস্থা রাখতে পারেননি। অবশ্য এটাও ঠিক যে, মহাযুদ্ধের তৎকালীন সেই তান্ডবলীলার মধ্যে কোনোরকম বিপ্লবের সম্ভাবনাও তখন দেখা যায়নি। তাই সঙ্কট সমাধানের জন্য কবি মানুষের নৈতিক পুনরুত্থানের স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর মতে, কিছু 'মহান ব্যক্তিত্ব'-ই মানুষের সেই শুভবুদ্ধি ও নৈতিক চেতনার পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে।  লক্ষ্যণীয় বিষয়, এইসব 'মহান ব্যক্তিত্ব'-দের চেয়েও তিনি কিন্তু বিশ্বজোড়া কোটি কোটি সাধারণ মানুষেরই জয়গান করেছেন বেশি। তাই তিনি সাধারণ মানুষের সংগ্রামী মানসিকতার প্রতি সুদৃঢ় আস্থা নিয়ে ঘোষণা করেছেন : ".....মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।.....মনুষ্যত্বের অন্তহীন, প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপরাধ মনে করি......।"
          দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিষ্টদের সঙ্গে মিত্রপক্ষের সংগ্রামে ফ্যাসিজমই যে প্রধান এবং আশু শত্রু ( Principal and Immediate Enemy) এবং তাকেই যে আগে পরাস্ত করা দরকার এই মূল বিচারেও কবির বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবিরোধী কবিতাগুলি ছাড়াও তিনি ফ্যাসিষ্ট দেশ আর নেতাদের বিদ্রূপ করে কয়েকটি ছড়াও লিখেছিলেন, যেমন :
১]  "ঐ শোনা যায় রেডিও তে বোঁচা গোঁফের হুমকি
       দেশ বিদেশে শহরে গ্রামে গলাকাটার ধুম কি !"
       গোঁ গোঁ করে রেডিওটা কে জানে কার জিত,
       মেশিনগানে গুঁড়িয়ে দিল সভ্য বিধির ভিত।"
২]               "মনে রেখো দৈনিক
                    চা খাইবে চৈনিক 
                    গায়ে যদি বল পাও
                     হবে তবে সৈনিক
                     জাপানীরা যদি আসে
                     চিঁড়ে নিক দৈ নিক
                     আধুনিক কবিদের 
                     যত পারে বই নিক।"
৩]  "জাপানী জাপানী
      তোমার হাড়েতে লাগিবে কাঁপানি
      এখন যতই কর লাফানি ঝাঁপানি।"
         জীবনের শেষ কয়েক মাস রবীন্দ্রনাথ খুবই অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতাও তাঁকে কাবু করতে পারেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পৈশাচিক বর্বরতা তাঁর অন্তিম জীবনকে
দুর্বিষহ করে তুলেছিল। জীবনসায়াহ্নে কবির লেখনীতে তাই শোনা গেছে কালবৈশাখীর গুরুগম্ভীর মেঘগর্জন। তাঁর বিখ্যাত 'সভ্যতার সঙ্কট' ঐ সময়েই লেখা।
          বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, যে-বুর্জোয়া সভ্যতার 'উন্মত্ত দানবিকতা' ও 'বর্বর নির্লজ্জতা' দেখে রবীন্দ্রনাথ ক্ষুব্ধ-ব্যথিত-ক্রুদ্ধ হয়েছেন, প্রতিবাদে ফেটে পড়তে চেয়েছেন, সেই 'সভ্যতার'-ই কাছে নিজের এবং মানবসমাজের গভীর ও ব্যাপক ঋণের কথাও তিনি ভুলতে পারেন না :
".......জীবনের প্রথম আরম্ভে সমস্ত মন থেকে বিশ্বাস করেছিলুম য়ুরোপের অন্তরের সম্পদ এই সভ্যতার দানকে। কিন্তু আজ আমার বিদায়ের দিনে সে-বিশ্বাস একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেল।" আর ঠিক এইখানেই রবীন্দ্র মানসিকতায় এক জটিলতার হদিস পাওয়া যায়। কিন্তু এই ঘটনার কারণ কি ?
          আসলে আধুনিক সভ্যতার জন্মভূমি ইউরোপ থেকে একদা যে মনুষ্যত্বের বাণী ছড়িয়ে পড়েছিল, শৈশবকালে তার সাথে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় হয়েছিল ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের মধ্য দিয়ে। স্বভাবতই তখন তাঁর মনে হয়েছিল ভারতে ও প্রাচ্যদেশে হয়ত তারই পবিত্র ধারক ও বাহক রূপে ইংরেজ ও অন্যান্য পাশ্চাত্য জাতিগুলির আগমন ঘটেছে। পরবর্তীকালে সেই জাতিগুলির বীভৎস ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী স্বরূপ উন্মোচিত হতে থাকে। নিজের সুদীর্ঘ জীবনে এই আশাভঙ্গের বেদনা এবং পরস্পরবিরোধী অভিজ্ঞতাই কবিকে প্রচন্ড দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের সম্মুখীন করেছে। মোহমুক্তি ঘটার সাথে কবির মর্মবেদনা ও ক্ষোভ ফুটে উঠেছে 'সভ্যতার সঙ্কট' প্রবন্ধের প্রত্যেকটি ছত্রে :
".......ভারতবর্ষ ইংরেজের সভ্যশাসনের জগদ্দল পাথর বুকে নিয়ে তলিয়ে পড়ে রইল নিরুপায় নিশ্চলতার মধ্যে। চৈনিকদের মতন এত বড়ো প্রাচীন সভ্য জাতিকে ইংরেজ স্বজাতির স্বার্থসিদ্ধির জন্য বলপূর্বক অহিফেন বিষে জর্জরিত করে দিলে এবং তার পরিবর্তে চীনের এক অংশ আত্মসাৎ করলে।.........য়ুরোপীয় জাতির স্বভাবগত সভ্যতার প্রতি বিশ্বাস ক্রমে কী করে হারানো গেল, তারই এই শোচনীয় ইতিহাস আজ আমাকে জানাতে হল....।"
         আজ আমরা জেনেছি, সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পরবর্তী উন্নততর পর্যায় বলেই পুঁজিবাদী সভ্যতারও কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ঠিক একই ভাবে ইতিহাসের নিয়মেই পরবর্তীকালে সমাজবাদের জন্ম হয়েছে। হয়ত রবীন্দ্রনাথ সচেতন ভাবে এই সত্যটি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন নি। তবে অভিজ্ঞতার আলোকে এবং ১৯৩০ সালে সোভিয়েত ভ্রমণের সময় তিনি তাঁর সচেতন ও মানবতাবাদী নির্মোহ দৃষ্টির প্রভাবে এই সত্যের যথেষ্ট কাছাকাছি আসতে পেরেছিলেন। 'প্রলয়ের সৃষ্টি' প্রবন্ধে তাই তিনি লেখেন :
".......মানুষের ইতিহাসে এই দানবিকতাই কি শেষ কথা ? মানুষের মধ্যে এই যে অসুর এই কি সত্য ? .......এই সংঘাতের অন্তরে অন্তরে কাজ করছে শান্তির প্রয়াস সেকথা বুঝতে পারি যখন দেখি এই দুঃখের দিনেও কত মহাপুরুষ দাঁড়িয়েছেন শান্তির বাণী নিয়ে-----সেজন্য মৃত্যুকে পর্যন্ত স্বীকার করেছেন।"
         দুটি আশ্চর্য যোগাযোগ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য। প্রথমটি হল, রুশ লালফৌজ প্রবল বিক্রমে বার্লিন অভিযান শুরু করে ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট----যেদিন বিশ্বকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আর দ্বিতীয়টি হল রাষ্ট্রসঙ্ঘ কর্তৃক ১৯৮৬ সালকে 'আন্তর্জাতিক শান্তিবর্ষ' ঘোষণা-----যে বছর সারা ভারতবর্ষ তথা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছিল বিশ্বশান্তির অগ্রদূত কবিগুরুর ১২৫ তম জন্মশতবার্ষিকী।
         সোভিয়েটের অভিজ্ঞতা অর্জনের পরই শেষ বয়সে রবীন্দ্র-জীবনে একটি উত্তরণ ঘটছিল---ধীরে ধীরে ভাববাদী জগৎ থেকে তিনি নিশ্চিত ভাবে সরে আসছিলেন বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের দিকে---- হয়ত উপলব্ধি করেছিলেন এই পথেই আসবে প্রকৃত বিশ্বশান্তি। যুদ্ধ তাঁকে শুধু উদ্বিগ্নই করেনি, তাঁর সামগ্রিক মানসিকতা ও জীবনদর্শনকেও দ্রুত রুপান্তরিত করছিল। ১৯৪১ সালে তাঁর মহাপ্রয়াণের ফলে সেই গঠনের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল। কিন্তু যেটুকু ভস্মাবশেষ তিনি রেখে গিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায় জীবনের শেষ পর্যায়েও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসামান্য দূরদর্শী চিন্তার অধিকারী। আর এইজন্যই তিনি ফ্রয়েড, আইনস্টাইন, মার্কস প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত মণীষিদের সাথে একাসনে অধিষ্ঠিত থাকার উপযুক্ত যুগপুরুষ। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, জীবনের শেষ অধ্যায়ের রবীন্দ্রনাথই সেই মহামানব, যাঁর ভাবনা-চিন্তা আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করতে পারে। তাই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আজ বিশ্বকবিরই কাঙ্খিত মুক্ত বিশ্বের পদধ্বনি শোনার প্রতীক্ষা আমাদের করতেই হবে।

=====================
চন্দন দাশগুপ্ত 

সি/৩০/১, রামকৃষ্ণ উপনিবেশ, রিজেন্ট এস্টেট, 
কলকাতা---৭০০ ০৯২


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...