Skip to main content

শ্যামাপদ মালাকারের গল্প




নবজীবন

------------


আমাকে চিনতে পারছেন, আমি কে?--জানি, আপনি আমাকে ভুলে গেছেন। ভুলবেনই তো--পারিজাত নারীদের কি কম যাতয়াত ছিল--আপনার বৈঠকখানায়।
ঠিক আছে, এখনো চিনতে পারেননি তাই তো?
তবে আমার পরিচয়টা একটু দিই----
তারপর, দেবাদিদেব  শিবকে আমি খুব ভক্তি করতাম। সমাজিক নিয়মানুসারে তার ব্রত-উপোস করে আর পাঁচটা নারীর মতোই, গোপেশ্বরের চিন্তায় মনকে নিবিষ্ট করে রাখতাম।
কিন্তু মহাকালও আমার প্রতি বিমুখ হলেন। বিবাহনামক সামাজিক একপ্রকারের রীতির শিকার হয়ে-- অপরিণীতা বয়সেই, শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে পিতার ভবন ত্যাগ করে চললাম।
সম্পূর্ণ অপরিচিত ঘর--অপরিচিত পুরুষ!
কিছু না বুঝে উঠার আগেই আমি 'মা' হয়ে গেলাম--যাকে একালে পুরুষেরা "ডানাকাটা পরী" বলে।
তখনও  আমি বুঝতে পারিনি, ভালবাসা কি, তবু নবজাতকের নাম রাখতে হবে---শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ছেলের নাম রাখলেন 'শুভ'।
বাপেরবাড়ি থেকেই আমি একটু জেদী হয়ে এসেছিলাম,
আমি নিজে যা ভাল বুঝতাম-- তাই করতাম, তবু আত্মীয়স্বজনদের নিকট হতে স্নেহ-মায়া-আদরের কোনো ঘাটতি ছিল না।
অনেকদিন থেকে লোকমুখে শুনতাম, ট্রেশন পেরিয়ে কয়েক পা এগিয়ে গেলেই নাকি রাধা-মাধবের  মন্দির। শুনেছি সেখানে গেলে প্রসাদ পায় অনেকেই।
সেই লোভে, মাঝে মাঝে রাধা-মাধবের পূজো দিতে আসতাম মন্দিরে।
লোকে শ্যামসুন্দর মন্দির বললেও--আমি বিশ্বেশ্বরের মন্দির মনে করতাম। তার প্রসাদ পাওয়ার জন্য ভিতরে ভিতরে কতটা যে আমি অস্থির হয়ে উঠেছিলাম, সে কথা পতিতপাবনই জানতেন।
আমার একমাত্র সন্তান শুভ-- সামাজিক অর্থে আমি --'এক ছেলের মা'। দীঘির মধ্যে  যেমন পদ্ম, তেমনই শ্বশুরবাড়ির উদ্যানে আমি।মাঝ আকাশে জ্বলন্ত অরুণিমার ন্যায়- পরমা সুন্দরী, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের রীতি তখন, দুএককথায় বর্ণনা করা সহজ ছিলনা।
থাক সে কথা- -
তারপর- তারপর শুভ, দামাল ছাড়িয়ে পা পা করে নিজের উঠোন অতিক্রম করল।
প্রকৃতির কি নিয়ম, সে কারু বাধ্য নয়-- সে আপন মনে পথ হাঁটে।
শুভ আরো একটু বড় হল। তার স্কুলজীবনের এক্সজাম শুরু হল। কিন্তু ছেলেটা এখন ভীতুই রয়ে গেছে। যাক সে কথা, সে সেদিন বায়না করল--"মা তুমি সঙ্গে চল, আমি একা যেতে পারবোনা।"
হঠাৎ মনে পড়ে যেতেই আমি তার সঙ্গে যেতে রাজি হয়ে গেলাম। কারণ, শুভ যে পথ দিয়ে এক্সজাম দিতে যাবে, সেই পথেই রাধা-মাধবের মন্দির।
ভাবলাম, এই সুযোগ কোনমতে হাতছাড়া করা যায় না--বিশ্বেশ্বরের প্রসাদ আমাকে পেতেই হবে।
কিন্তু যে আশা আর উদ্যম নিয়ে বেরোলাম, ততটা হয়ে আর উঠল কই!
শুভকে এক্সজাম হলে ঢুকিয়ে দিয়ে চিরপ্রবাহিণী গঙ্গার তীরে গিয়ে বসলাম--অত্যাধিক মানসিক চিন্তার কারণেই হোক,-- বা, দূরগামী বেগবতী গঙ্গার শীতল বায়ুর সংস্পর্শের কারণেই হোক---ক্লান্তিবশত সময়ের দিকে খেয়াল না থাকায়, প্রথমদিন বিশ্বেশ্বরের দর্শন হতে বঞ্চিত হলাম।
পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে, বিশ্বেশ্বর আমায় কৃপা করলেন।
শুভকে পরীক্ষার রুমে পৌচ্ছে দিয়ে, সরাসরি জগৎপিতার প্রাঙ্গণে গিয়ে উঠলাম।
কি শান্তি! কি প্রশান্তি! হৃদয় যেন পবিত্রতার গন্ধে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল।
নাটমন্দির সাদাকাল পাথরে নির্মিত, নাটমন্দির লাগোয়া কয়েকটি সোপানের পর চারিপাশে নকশা করা রক্তাভ প্লেট--তারমধ্যে দুই-চারটি দেবদেবী অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন--এমনেই প্রশস্ত, যেন স্বর্গের কোনো গালিচা পাতা।
বিশ্বেশ্বরের সম্মুখভাগ যেন পালিশ করা একএকটি রুপার প্লেট---অপূর্ব কৌশলে বসানো--অবশ্যই নিখুত প্রশংসার দাবী রাখে!
বিভিন্ন দর্শনার্থী ও আগত সেবার্থীদের সমাগমে রাধা-মাধব প্রাঙ্গণ ও নাটমন্দির যেন বৃন্দাবনধাম হয়ে উঠেছে!।
কর্মচারীর সংখ্যা কম নয়, হাঁকে-ডাকে-নিয়মে-শাসনে  সারা মন্দির ভরপুর। আরতির পর মন্দির বন্ধ হয়ে গেল। মনে হল--এবার হয়তো সেবার্থীরা প্রসাদ পাবেন।
যদিও জানি, মন্দিরের একটা নিয়ম আছে--নরম্যাল প্রসাদের চেয়ে স্পেশাল একটু মূল্য।
বিশ্বেশ্বরকে ডাকলাম--"হে প্রভূ! আমার পয়সা নেই। সেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি--দুপুর যে গড়িয়ে গেল, তোমার প্রসাদ হতে কি আজ বঞ্চিত হবো!"
মনে হয়, আমার আর্তনাদ শ্যাম শুনতে পেলেন। অন্তরটা মোচড় দিয়ে উঠার আগেই চোখদুটো জলে ছলছল করে উঠল! অন্তর থেকে বেরিয়ে এল--হে বিশ্বনাথ! তুমি আছো---হে অনাথার নাথ! তুমি আছো--- তুমি না থাকলে, আজ আমি প্রসাদ পেতাম না!
শেষ পর্যন্ত আমি প্রসাদ পেলাম! কি শান্তি! কি তৃপ্তি! মনে হল, বরষার গঙ্গার মতোই আজ আমি কানায় কানায় পরিপূর্ণা!।
কিন্তু আনন্দের বেগ শমিত হতে না হতেই--কর্মচারীর মুখে শুনলাম, মন্দিরের যিনি কর্ণধার, যিনি মালিক--উনার সঙ্গে আমাকে সাক্ষাৎ করে যেতে বলেছেন।
বজ্রহত গাছের ন্যায় বসে পড়লাম। মালিক ডেকেছেন-- বারংবার কানে প্রতিধ্বনী হতে লাগল! তবে কি উনি টাকা চায়বেন? টাকা তো আমার নেই!
পুনরায় শ্যামকে ডাকলাম--হে প্রভূ! কেন আমার পরীক্ষা নিচ্ছো! আমার কাছে টাকা নেই--তুমি কি জানতে না? হে বিপদতারণ--কেন তুমি আমায় প্রসাদ দিলে?।
আমার কিছু বিলম্ব হওয়ায়--আবার ডেকে পাঠালেন।
বিপদভঞ্জনের উপর ভরসা রেখে, অপরাধিনীর মতোই মালিকের কক্ষে প্রবেশ করলাম- -
এবার মনে পড়েছে---আমি কে?।
প্রবেশ করতেই সারা অন্তঃকরণ যেন হিম হয়ে গেল। মনে হল, কোনো একটা দেওয়ালে এসি অন রয়েছে।
সদ্যমৃতলতা অল্প অল্প জলসঞ্চারে যেমন ধীরে ধীরে জীবিতা হয়ে উঠে, তেমনি আমারও শরীরে যেন মৃদু মৃদু প্রাণ ফিরে আসছে।
চেয়ার পাতা ছিল। উনি আমায় বসতে বললেন।কক্ষটি সু্বাসি গন্ধে টলমল। অনুভব করলাম, রুমে ফুলফর্মে এসি ছুটছে। মুখোমুখি বসলাম। ভাবছি, উনি প্রসাদের টাকা চায়লে---আমি কি বলবো?--- বলবো, প্রসাদ দেওয়ার আগে, টাকার কথা তো আমাকে বলেন নি---যদি বলতেন, আমি প্রসাদ খেতাম না। এরকম অনেক উত্তরই মনে মনে জাগছে।
আমি উনার দিকে না চাইলেও--অনুমান করছি, উনি আমাকে হা করে দেখছেন!। রুমটিতে কয়েকটি রাধা-শ্যামের ছবি ছাড়াও--এখানে সেখানে পূজোর নৈবিদ্য।
ভাবলাম, প্রসাদের টাকা চায়ছেন না কেন? মনে মনে প্রশ্ন জাগছে--সত্যিই কি শ্যাম আমাকে কৃপা করেছেন?
মনের মধ্যে এইরকম তর্কবিতর্ক চলছে।
রুমের ভিতর দুজনের মধ্যে যে নীরবতা গড়ে উঠেছিল--তা পুরুষকণ্ঠে ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেল।
তিনি বললেন--"প্রসাদ পেয়েছেন?"
এবার চিন্তে পেরেছেন--আমি কে?।
প্রসাদের কথা উঠতেই--আমি বললাম---হ্যাঁ--প্রসাদ পেয়েছি। এই প্রথম মুখ তুলে উনার পানে কয়েকদণ্ড তাকালাম। দেখলাম---সুপুরুষ বটে, গায়ের রং তপ্তকাঞ্চন বর্ণ, দেহখানা বলিষ্ঠ-- এক কথায় সুদর্শন যুবক। সর্বাঙ্গে বিবিধ রত্নের অলঙ্কার, প্রতি আঙ্গুলে বহুমূল্যের একএকটি আঙটি। দুজনের মধ্যে পরিচয় বিনিময় চলছে।
এক সময়-- সময়ের দিকে তাকাতেই বাবুর পরীক্ষার কথা মনে পড়ে গেল।
এবার আমাকে বিদায় নিতে হবে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই---রাধামাধবের একটি ছবি, আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন-"আবার আসবেন- -
এবার চিন্তে পারছেন--আমি কে?
বাড়ি ফেরার পথে মনে হল, মানুষটি বেশ, উনার কত দয়া। এমন মানুষ একালে হয় না। মন্দিরের সব কর্মচারীরা উনাকে পিতার ন্যায় সম্মান করেন। নিশ্চয় উনার মধ্যে দয়া-করুণার শেষ নেই।
নির্দিষ্ট সময়ে শুভর এক্সজাম শেষ হল।
সংসারে কোনোদিন কোনোকিছুর অভাববোধ করিনি। শুভর বাবা-- যিনি আমার স্বামী, তার মতো মানুষ সংসারে খুব কমেই দেখা যায়। আমার প্রতি বিন্দুমাত্র তার অবহেলা ছিল না। অনবদ্য আমি তার স্নেহের ছায়ায় বাস করতাম। শ্বশুর ও শাশুড়িমায়ের তো কোনো তুলনা নেই, নিজের মেয়ের মতো বুকে আমায় আগলে রাখেন। প্রতিদানে আমিও উনাদেরকে যথোপযুক্ত সম্মান দিয়ে ঘর সাজিয়ে রাখতাম। প্রকৃতপক্ষে- পিতার বাড়ি থেকে---শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত আমার জীবনে ভালবাসার কোনো অভাব ছিল না।
তবু যেন মনে হতো--
সংসারে চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই, জগৎকে যত দেবে সে ততই চাইবে। এই কারণে মাঝে মাঝে মনে হতো--কি যেন আমার নেই! পারিবারিক কারণে--অকারণে মন ভাল না লাগলে--মাঝে মাঝে রাধা-মাধবের মন্দিরে দুদণ্ড শান্তি পেতে ছুটে আসতাম।
নাটমন্দিরে একটু বসলেই--আমি সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতাম।
মন্দিরের সেই মালিক, কত দয়ালু, উনি আমাকে কত সম্মান করেন।
তখনও আমি বুঝতে পারিনি, ভালবাসা কি---কারণ আমি কখনো কারুকে ভালবাসিনি তো, তাই মনে হতো-- কেন উনার প্রটিটা কথা আমার কানে সর্বদা মন্ত্রের মতো বাজে! কেন উনাকে দেখলেই আমি শান্ত হয়ে যায়! উনি আমাকে এতোখানি যত্ন করেন কেন? এর অর্থ আমি সর্বদা খুঁজে বেড়াতাম।
জগৎ নিত্য, কাল নিত্য, আত্মা নিত্য, নিত্য নয় শুধু জগতের সামগ্রী। সে একদিন ধ্বংস হবে-- জগতে যা কিছু আছে-- সবেই একদিন ধ্বংস হবে, ধ্বংস হবে সমস্ত দেব বিগ্রহ,আর যিনি পরমাত্মা--পরমেশ্বর ভগবান, তিনিই শুধু যুগের সূচনার জন্য বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দাপিয়ে বেড়াবেন!
সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলাম--
দিনটা ছিল, রাসপূর্ণিমা।
এই রাস দর্শনেরই জন্য নাকি--দেবাদিদেব মহাদেব গোপনে গোপীসেজে ধন্য হয়েছেন।
রাস শব্দের অর্থ সঙ্গীত বা নৃত্য।
রাসই জগৎ---জগতই রাস। এই রাসের জন্য পরমপুরুষ পুরুষোত্তম ভগবান কোটি কোটি ভাগে বিভক্ত হয়ে, গোপীদের মনোবাসনা পূর্ণ করেছিলেন।
আজ সেই দিন। চারিদিকে একটা সাজ সাজ রব--- আমি যাবো, আমি রাস দর্শন করবো-- আজ কত মানুষের সমাগম, আমি না গিয়ে কি থাকতে পারি?
শেষ পর্যন্ত আমাকে বেঁধে রাখতে কেউ পারেনি,  মধুসুদনকে স্মরণ করে--রাস দর্শনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম।
আমি এখন বিশ্বেশ্বরের প্রাঙ্গণে---নাটমন্দিরে।  সমস্ত প্রাঙ্গণ ও নাটমন্দির জুড়ে মানুষের ঢল। আরতি শুরু হয়েগেছে, রাস উৎসব আরাম্ভ হওয়ার আগে--এটাই শেষ আরতি।
উলু আর শঙ্খধ্বনীর মহাসমারোহে, মন্দির নিকটস্থশহরও আজ আনন্দে ভাসছে!
কিন্তু আমার মনে শান্তি কই? আমার মন কি চাইছে? কাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে? মনে হচ্ছে যেন এই ভীড়ে কে হারিয়ে গেছে-- তাকে আমি দেখতে পাচ্ছিনা কেন?।
শেষ পর্যন্ত খুঁজে পেলাম তাকে।
মন্দিরের এক কর্মচারী বলে গেলেন--"আপনাকে মালিক ডেকে পাঠিয়েছেন, উনার বৈঠকখানায় গিয়ে দেখা করুন।"
কথাটা শুনতে না শুনতেই ভেতরে অস্থিরতা ক্রমশ দ্বিগুণ হয়ে উঠল! বিলম্ব না করে, উনার ঘরে হাজির হলাম- -
কি, এবার চিনতে পারলেন--আমি কে?
আপনি আমায় সম্মান সহকারে বসার অনুমতি দিলেন।
প্রথম প্রণয়ের ভীরু কিশোরীর মতো আমি চেয়ারে বসলাম।
মনে মনে ভাবছিলাম--আমার মনে তো কোনো পাপ নেই, আমি রাধ-মাধবের রাস দর্শনে এসেছি।
আমি মাঝে মাঝে দেখছিলাম-- আপনি অভিজ্ঞ শিকারির মতো আমাকে ধরার জন্য জাল পাতছিলেন।
তবু আমি পালিয়ে যায় নি!
আপনি বললেন--"এই জান, তোমার আমার সম্পর্ক একজনমের নয়---তোমাকে দেখলে কেন আমি এত দুর্বল হয়ে যায়--তুমি বুঝতে পারনি?"
আমি সেদিন তোমার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম। আমি সেদিন পালিয়ে যায় নি!
অঘটন ঘটতে বেশী সময় লাগেনা। তবু মানুষ বেপরোয়া হয়ে যায়--বেহিসাবী হয়ে যায়! তুমি আমার আরো সন্নিকটে এলে--আমি উন্মূলিত তরুর ন্যায় কখন যেন তোমার প্রশস্তবক্ষে আমার মাথা সংস্থাপন করে ফেলেছি---আমি বুঝতে পারিনি- - -
এবার মনে পড়েছে? আমি কে!
ললাটে--গণ্ডে--চিবুকে চুম্বন আঁকতে আঁকতে বললে--"তোমার আমার পরজনমে কোনো সাক্ষাৎ ছিল, তাই হয়তো এজনমে এমন করে পেলাম।"
আমার অন্তর কেঁপে উঠল! সহসা মনে হাজার প্রশ্নের আবির্ভাব হল-- আমি কি তবে বিশ্বেশ্বরকে ভালবাসিনে? মাধবকে বাহানা করে কি ইনার জন্যই মন্দিরে ছুটে আসতাম? আমার যে স্বামী-সন্তান বর্মান! ঠাকুর কি আমায় কখনো ক্ষমা করবেন?।
রাতের পর রাত জেগে জেগে উচিৎ-অনুচিত বিচার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি হেরে গেলাম। বিশ্বেশ্বর  আমায় ত্যাগ করলেন---আমি নরকের পথে পা বাড়ালাম!।
তুমি আমার ইহকাল পরকাল হয়ে ভিতর থেকে জড়িয়ে ধরলে--আমি তোমায় ভালবাসলাম।
তোমার কথা চিন্তা করলে কি যে সুখ পেতাম আমি---একমাত্র অন্তর যামীই বুঝেছিলেন।
যখন তোমার নেশায় গৃহ আমার অরণ্য হয়ে উঠেছে--ঠিক সেই সময় থেকেই তুমি আমায় অল্প অল্প করে অবহেলা করতে লাগলে- -
এবারও চিনতে পারনি, আমি কে?।
তুমি যত আমার প্রতি অবহেলা শুরু করলে--ততই আমি নুকিয়ে নুকিয়ে তোমার জন্য কাঁদলাম। প্রশ্নছিল--আমার অপরাধ কি? কোন অপরাধে আমাকে তুমি বঞ্চিত করছো? এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ তুমি আমাকে কখনো দাওনি।
আমরা নারী বলে এতটা খেলনা নই! সত্য-মিথ্যা জানার আমাদেরও একটা সাধারণ শক্তি থাকে,
আজ আমি টের পেয়েছি--আমি শুধু একা নই--আমার মতো অনেক হতভাগী ঐ বৈঠকখানায় জীবন বিসর্জন করেছে!
নিজেকে ইশ্বর বলে মনে কর তাই না? আরে ইশ্বর সে--যে নারীকে কখন ঠকায় না!
ভগবান তো সে---যে নারীত্বকে সম্মান করেন!
বীর পুরুষরা কখন নারীর সাথে যুদ্ধ করেনা--
আদর্শ পুরুষরা কখন নারীহত্যা করেনা!
এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, বিধাতা আমাকে কৃপা করেনি--যদি শ্যাম আমাকে কৃপা করতো, প্রসাদের দাম আমাকে এভাবে শোধ করতে হতো না! তোমার মনে পড়ে? তুমি একদিন আমাকে বিনে পয়সায় বিশ্বেশ্বরের প্রসাদ দিয়েছিলে।
আমি কখন ভাবিনি, প্রসাদের দাম এভাবে মিটিয়ে দিয়ে যেতে হবে!।
আমি যে তোমাকে বড্ড ভালবাসি গো! এখনও তোমাকে আমি ভালবাসি!
কিন্তু এতোবড় সত্যটা তুমি সেদিন গোপন করেছিলে কেন?
আমিতো বার বার বলেছিলাম---দেখ, বিয়ে কর--বিয়ে করে একটা সংসার কর, কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতে তুমি বলেছিলে--"আমি তোমার জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারি!"।
এবার বলতো, একটা বিবাহিতা নারীর জীবনে একটা অবিবাহিত ছেলের প্রণয়সংসর্গ হলে-- সেই নারীর চিন্তা কি কম!।
নিজের দিকটাও সেদিন  ভেবেছিলাম। আমি যে খুব একটা ভাল- তা নই! আমি নিজে বিবাহিতা জেনেও দিনের পর দিন তোমার অদম্য ইচ্ছার প্রতি মাথা নুইয়েছি।সেদিন আমার উচিৎ ছিল--তোমার গালে একটা থাপ্পড় মেরে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কিন্তু আমি তা করিনি, আমি জানি-- আমার এই পাপের ক্ষমা নেই!
আমার মতো নারীরা কখন স্থায়ীসুখী হয় না, যদিও বা হয়--বিচ্ছিন্ন মেঘের মতো ক্ষণস্থায়ী---আমার কথা থাক।
আমি কি কম ভেবেছি? দিনে দিনে--মাসে মাসে---বছরে বছরে ভেবেছি--তুমি আমার জন্য এতোবড় ক্ষতি করতে চলেছো!
একটা অবিবাহিত পুরুষ যখন একটা বিবাহিতা নারীর জন্য সর্বস্বপণ করে বসে, সেই বিবাহিতা নারীর জীবনে আর কি পাওয়ার বাকি থাকে বলো? নিজেকে যতখানি ভাগ্যবতী মনে হয়---ততটা দুঃখিনীও মনে হয়।
জগতে যত রকমের পাপ আছে--সবচেয়ে বড়পাপ- স্বামীকে বঞ্চিত করে যে নারী পরপুরুষের জন্য পথ চেয়ে থাকে। ললাটে সেই বিষের সাগর নিয়েই-- তোমাকে ভালবাসলাম।
মনে মনে আরো পাপ আঁটলাম, এক নারীর দুই পুরুষ অবৈধ। তাই তোমার জন্য ওর প্রতি স্নেহ-মায়া-মমতা আস্তে আস্তে উপড়ে ফেলতে লাগলাম।
বিনিময়ে--দণ্ডে দণ্ডে, পলে পলে-- আলোতে অন্ধকারে ওর নির্যাতনের শিকার হতে লাগলাম। ভিতরে ভিতরে তোমাকে ছোঁয়ার ইচ্ছে-- শতবাহু প্রসারিত করে তোমার দিকে ঠেলে দিতে লাগল!
তুমি যদি বল, এটা আমার অন্যায়--মানলাম। কিন্তু তোমার দেখান পথেই তো আজ আমি পা বাড়িয়েছি, তোমার মনে আছে?
একদিন বলেছিল-"এক পুরুষের মধ্যে চিত্তবিনিময়ে বৈধতা বজায় থাকে।" তাই 'সে' কূলের নিশি ত্যাগকরে সাঁতরাতে সাঁতরাতে যখন একূলের তীর ছুঁই ছুঁই--তখন তুমি ভয় পেয়ে গেলে।
আমি অবাক! যে আমার জন্য অনায়াসে এতোবড় প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্থিরচিত্তে যন্ত্রণা সয়ে যেতে পারে--যে আমার জন্য পৃথিবীর সর্বস্ব নির্দ্বিধায় ত্যাগ করে পারে, সেই স্পর্শটুকুর জন্য- আমি আজ তার মুখোমুখি!
জিজ্ঞাসা করলাম-" কি, তুমি আমাকে চেয়েছিলে না? দেখ, সে আজ নরক যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে বধ্যভূমিতে  হাজির! আমাকে চিনতে পারছো? আমি মালবিকা, যার জন্য পৃথিবীর সব সুখ-দুঃখ ত্যাগ করেছো!।
পরাজিত সৈনিকের মতো ধীরে ধীরে মুখতুলে যখন বললে-"মালবিকা, আমি বিবাহিত!"।
কথাটা শুনার সঙ্গে সঙ্গে চোখে বর্ষণ নামার আগেই--বুকের ভেতরে অনেক দূরে কোথায় যেন একটা বাজ পড়ল! তার প্রতিধ্বনি অন্তরের একূল-ওকূল সবকুল মচড়াতে মচড়াতে নির্জন প্রান্তরে নিয়ে গিয়ে আমাকে যেন আছাড় মারতে লাগল!
বিধাতা জানে---কোন সৌদামিনীর আলো পথিক ভয় পায়! বিধাতা জানে--কোন বজ্রের ক্ষমতায় পাহাড় ফাটে!
বিধাতা জানে- কাকে কতটা অন্ধকারভরা নরক ছুঁড়ে দিতে হয়!
এ তুমি কি করলি গো! কোন জনমের প্রতিশোধ নিলে তুমি?
গাড়ী--বাড়ি--ধন--সম্পদ--প্রতিষ্ঠা--মর্য্যাদা তোমার তো সবেই আছে, তবে কিসের অভাবে আমার দুকূল কেড়ে নিলে?
তুমি যে বিবাহিত--এতোবড় সত্যটা কেন গোপন করেছিলে? আমি যে বড্ড ভালবাসি গো তোমা----
যখন শুনলাম তুমি বিবাহিত, তার বিষের জ্বালায় আমার সুখের নিশি যে চিরকালের মতো নীল হয়ে গেল!।
যেদিন আমার ললাটে চুম্বন এঁকেছিলে-সেদিন কি একটিবারও তোমার মনে হয় না--যে মালবিকা এজনমের সব সুখ-দুঃখ তোমার পায়ে জলাঞ্জালী দিল!
যেদিন মালবিকার চিবুকে প্রথম চুম্বন এঁকেছিল, সেদিন কি তোমার একটিবারও মনে হয়নি, যে---তোমার মালবিকা আর বেঁচে নেই--সে খুন হয়ে গেছে?
সত্যিকারের ভালবাসা তুমি কি করে বুঝবি বল? তোমার প্রমোদগৃহে অবিশ্রান্ত উর্ব্বসী-রম্ভার নৃত্যগীত,---আর বাসরঘরে মেনকার ঘন ঘন কটাক্ষবর্ষণ!।
যেদিন সত্যিকারে কোনো নারীকে ভালবাসবে--সেদিন বুঝবে--ঐশ্বর্য্য--সম্পদ--প্রতিষ্ঠা--ইমারত, ভালবাসার সামনে সব তুচ্ছ--সব তুচ্ছ!।
হে বিধাতা!তুমি কি আঘাতগুলো বেছে বেছে শুধু নারীদের জন্যই পুষে রেখেছ?
আমি যদি কোনো অপরাধে অপরাধিনী হই--তবে সেও সমান অপরাধে অপরাধী।
আজ কে আমাকে বাংশীধ্বনি শুনিয়ে ঘরের বাইরে এনেছে?
আজ কে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে দুকূল কেড়ে নিয়েছে?
আজ কে মিষ্টিকথার জাল বিছিয়ে আমাকে শিকার করছে?
কেন সে আঘাত করে আমার ভুল শুধরে দেয়নি?
কেন সে আমাকে ধর্ম শেখায় নি?
কেন সে পরজনমের লোভ দেখিয়ে আমাকে দুর্বল করেছে?
তাই বললাম--হে বিশ্বেশ্বর! আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি--তবে সেও সমান অন্যায় করেছে--
আমার বিচার হলে---তার বিচার হবে না কেন?
আমার ধর্ম গেলে--তার ধর্ম যাবে না কেন?
হে পতিতপাবন! তোমার নিকটে তো সব সমান--তবে আজ এ বিভেদ কেন?
আমি বাঁচলে তোমার সৃষ্টি কি চলত না?
মানলাম। আমি যাকে ঠকিয়েছি তার জন্য শাস্তি যতবড়ই কঠিন হোকনা কেন--আমি বুক পেতে প্রায়শ্চিত্য করবো।
কিন্তু সেদিন আমি যাকে ভালবাসতাম--সে ভালবাসার মধ্যে তো কোনো ছলনা ছিল না! তবে তার প্রায়শ্চিত্ত্য আমি কেন করবো?
কেন রাত জেগে জেগে অবিশ্রান্ত চোখের জল ফেলবো?
হে রাধা-মাধব! তোমার পূজার থালার মধ্যে আমার কোন ছলচাতুরী ছিল না--কোন দুরভিসন্ধি ছিল না-- তবে কোন ধর্মশাস্ত্রবলে তোমার প্রাঙ্গণে গেলে এক অব্যক্ত যন্ত্রণায় ছটফট করি?
হে করুণাময়! তুমি যতবড়ই বিধাতা হও---এর হিসেব একদিন আমাকে দিতেই হবে!।
যখন আমি এইরকম একটি পরিস্থিতির শিকার হয়ে অকূল সাগরে পড়ে ডুবছি, সেই মুহূর্ত একজন লেখকের সঙ্গে আমার দেখা।
আমি ডুবে যাচ্ছি দেখে--সেই লেখক, আমার হাত ধরে টেনে তীরে তুললেন।
আমাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তুললেন!
আমার এই অবস্থার কারণ, লেখক জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তখন এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, উনার কাছে ঔষধ চাইলাম, লেখক আমায় ঔষধ দিলেন--"ধর্মতত্ত্বের" প্রথম পর্ব।
প্রতিদিন একপাতা করে লেখক আমায় সেবন করালেন।
ধীরে ধীরে যখন অনুশীলনতত্ত্ব শেষ করলাম--তখন আমি অনেকখানি সুস্থ!।
আমার চোখের পর্দা সরে গেছে--এখন আমি কারুকে আর ভয় পাইনা।
আমি এখন নিজেই বিচার করতে পারি--কে সত্য---কে মিথ্যা--কে বিষ---কে অমৃত---কে ন্যায়---কে অন্যায়।
আমি এখন নিজে বিচার করতে পারি--কে সৎ--কে অসৎ---কোনটা ভালবাসা---আর কোনটা ছলনা।
আমি এখন ইচ্ছে মতো যেমন মরতে শিখেছি--- তেমনি ইচ্ছে মতো বাঁচতেও শিখেছি!।
--------------------------------
নাম- শ্যামাপদ মালাকার
গ্রাম- চন্দনপুর
পো- জোড়দা
জে- বাঁকুড়া

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432