বৃষ্টি আখরে লেখা চিঠি
মেঘ আসে সব আকাশেতে এলেবেলে
সাদা সাদা মেঘ আষাঢ়ে শরৎ নাকি
হেলায় দিয়েছে বৃষ্টি ঘরানা ফাঁকি
ভিজব ভেবেছি এবার বরষা এলে !
ভেবেছি ভাসাব কাগজের নাও গড়ে
কলকল জলে কইমাছ এলে উঠে
ধরে নিয়ে বাড়ি আসব লাফিয়ে ছুটে
নিষেধ না শুনে, যদিবা বাজও পড়ে।
এখনো কিশোর মনের গহীণে নাচে
এখনো দামাল হতে চায় দেখি মন
বৃষ্টি ফোঁটায় কী যেন ছন্দ আছে
ঝমঝম শুনি ঝিমঝিম সারাক্ষণ !
মৌন গাছেরা ঝিম মেরে সারাবেলা
পাখিরা নীরব ভুলে গেছে বুঝি খেলা
মাটির হাঁ-মুখে নীরব আর্তনাদ
ফসলের ক্ষেতে সকরুন সংবাদ।
প্রিয়ার চিঠি যে বইত সে মেঘ কোথা
কোথা গেল তার নবজলধর রূপ
দৌত্য করুক মানায়না এই চুপ
মরা নদীগুলি ভরা হোক খরস্রোতা ।
না হারায় পথ না হারায় যেন দিক
কালো কেশদাম নিয়ে মেঘ দিক দেখা
নামুক মেঘেরা বৃষ্টি আখরে লেখা
পড়ব চিঠিটি, ভিজব এবার ঠিক।
..................
কান্তিলাল দাস
বেলতলা লেন
(সাধুখাঁ মাঠ)
ডাক : সিঙ্গুর
জেলা : হুগলি
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...