বৃষ্টি আখরে লেখা চিঠি
মেঘ আসে সব আকাশেতে এলেবেলে
সাদা সাদা মেঘ আষাঢ়ে শরৎ নাকি
হেলায় দিয়েছে বৃষ্টি ঘরানা ফাঁকি
ভিজব ভেবেছি এবার বরষা এলে !
ভেবেছি ভাসাব কাগজের নাও গড়ে
কলকল জলে কইমাছ এলে উঠে
ধরে নিয়ে বাড়ি আসব লাফিয়ে ছুটে
নিষেধ না শুনে, যদিবা বাজও পড়ে।
এখনো কিশোর মনের গহীণে নাচে
এখনো দামাল হতে চায় দেখি মন
বৃষ্টি ফোঁটায় কী যেন ছন্দ আছে
ঝমঝম শুনি ঝিমঝিম সারাক্ষণ !
মৌন গাছেরা ঝিম মেরে সারাবেলা
পাখিরা নীরব ভুলে গেছে বুঝি খেলা
মাটির হাঁ-মুখে নীরব আর্তনাদ
ফসলের ক্ষেতে সকরুন সংবাদ।
প্রিয়ার চিঠি যে বইত সে মেঘ কোথা
কোথা গেল তার নবজলধর রূপ
দৌত্য করুক মানায়না এই চুপ
মরা নদীগুলি ভরা হোক খরস্রোতা ।
না হারায় পথ না হারায় যেন দিক
কালো কেশদাম নিয়ে মেঘ দিক দেখা
নামুক মেঘেরা বৃষ্টি আখরে লেখা
পড়ব চিঠিটি, ভিজব এবার ঠিক।
..................
কান্তিলাল দাস
বেলতলা লেন
(সাধুখাঁ মাঠ)
ডাক : সিঙ্গুর
জেলা : হুগলি
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...