Skip to main content

পবিত্র চক্রবর্তীর গল্প

ঢাকী




কান্ড দেখেছ!
দুগগা পুজোতে ঢাক ভালোই বাজিয়েছে কীর্তন কামার। ছোট্ট থেকেই বাপ ঠাকুরদার
হাত ধরে শহুরে হাওয়ার মাঝে ট্যাং ট্যাং করে কাঁসি পিটাতে পিটাতে কখন যে
বাপ থেকে নিজেই ঠাকুরদা হল, মনে করা দায়।
বছরের কিছু সময় তার ছক বাঁধা কাজ। তাছাড়া বার মাসের তের পাব্বন, উৎসব
লেগেই আছে, তবে তা থেকে ঘরে তোলার মত তেমন কিছু থাকে না। উঠোনের দাওয়ায়
চমরাটাকে টান করতে করতে কত কথাই না মনে পরে যায়। এই তো সেবার রায় দালানের
খড়ি ওঠা ঠাকুর মন্দিরের সামনে ঠাকুরদা পাল্লা দিয়েছিলেন অন্য ঢাকিদের
সাথে। কীর্তনের তখন উঠতি বয়স, কচি কচি গোঁফ, হাল্কা দাড়ি এদিক উদিক দিয়ে
উঁকি মারছে। কাঁসির বদলে ঢাকের বোলে হাত ঝালাচ্ছে সবে। পিঠ টন টন করলেই
দাদুর চোখ পাকানো দেখেই আবার শুরু করছে বাদ্যি।
রাত যত ঘন হচ্ছে, মা মা রব চারিদিকে। ধোঁয়া- ধুনোর গন্ধ। বৃদ্ধ রায়
মশায়ের ঘড়ি ধরা কাজ, তার সাথে নরহরি বামুনের নিয়মের মাঝে কীর্তনের বাপ
টপাটপ করে বিশাল রাম দা হাতে একটা একটা করে পাঁঠার মুন্ড মাটিতে
নামাচ্ছে। ফিনকি দিয়ে লাল রক্ত ছিটকে ছিটকে লাগছে মুখে-গায়ে। উফ ভাবা যায়
এসব পুণ্যির কাজ।
-"বলি দাদু, ঢাকের সাথে সাথে তুর চামরাও এব্বার শুকাবে, তুর ছেইলে যে
ডেইকে ডেইকে সারা" -পালুর কথায় বুড়ো তাকিয়ে দেখে বংশের একমাত্র পিদিম
দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে। দাদুর সাথে রঙ্গ করার সময় পেলেই হাত ধুয়ে লেগে পরে।
পালুর একটাই নাম। ইস্কুলের খাতাতেও ওই নাম তোলা আছে। কচি শাল গাছের মত
চেহারা। পালুর বাপ বলে এক নম্বরের খচ্চর। কান ধরে কত বার ঢাক বাজানোর
চেষ্টা করেছে। শেষে কীর্তনের কথায় পালু নাক বেঁকিয়ে ঢাক ধরে। এটা বোঝে
না, কত পুন্ন্যি করলে ঢাকি হয়ে জন্ম নিতে হয়। সময় পেলেই নাতির গায়ে হাত
বোলাতে বোলাতে বুঝিয়েছে, "দ্যাক, পেলো, তুর এই হাতেইর বাইদ্যি শুনেই
দেবতারা সগগ থেইকে মাটিতে লামেন, খুশি হন"।
পালুর হয়েছে জ্বালা , এই বুড়োর কথা খুব একটা ফেলতে পারে না। মাঝে মধ্যে
অবশ্য ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে বলে, "হ, তুর দেবতারা খুশি হন, আমার বন্ধুরাও
দাঁত বাইর কইরে হাসে। বলে, ওই পেলো ঢাকি আইসছে"।

পালুর বন্ধু মহলটাও কম ছোট না। গাঁয়ের শেষ প্রান্তে সন্ধ্যে হলেই মা-বাপ
খেদানো ছেলে পিলেদের সাথে নানা ভাষার সম্মেলন আর কিঞ্চিৎ কটু ধোঁয়ার
মৌতাতে জমে ওঠে আসর। টিম টিমে বাল্বের আলোয় চলে নানা রঙিন পরিকল্পনা।
পালু এখানকার মাতব্বর। ভগবানের কৃপায় সুঠাম চেহারা আর মারকুটে স্বভাবের
জন্য ওর মুখের ওপর খুব একটা কথা বলার সাহস রাখে না।
-"না! এভাবে চলে না, একটা ঘড় দরকার। লক্ষী'দা অনেকদিন ধরেই বলছে পাশের
গ্রামের সঙ্গে জলে ঝাঁপাতে হবে"।
-"হ রে তোর লক্ষী'দা বলেই খালাস, তারপর, টাকাটা কে দেবে তোর বাপ!"
উত্তেজিত হয়ে মনা বলে ওঠে।
উদাস ভাবে কিচ্ছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর প্যান্ট ঝেরে উঠে পরে পালু। সারা
রাস্তায় নানা স্বপ্নের জালগুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘিরে ধরে পালুর শরীরকে।
আপন বলে ওঠে "নিদেন হাজার দুই তো লাগবেই।" ঠোঁটটা কামড়িয়ে হাঁটতে থাকে
পালু। পড়ে থাকে পিছনে পড়ে থাকা শিশিরে ভেজা ধুলো পথ।
ঘড়ের টিমটিমে আলোয় পা টিপে টিপে ঢুকতেই বাবা বলে উঠলেন, "লবাব পুত্তুর
এয়েছেন, রাত –বিরেত লাই, গান্ডে পিন্ডে গিলে লাও"।
নিঃশব্দে পালু রান্নাঘড়ে ঢুকে থালা টেনে খেয়ে শুতে চলে গেল। মনে হল না
বাপের কথায় কোন ছাপ পরেছে। এ যেন এক চিরস্থায়ী। বাপ বলে যাবে আর পালু
সমান্তরাল কান দিয়ে বার করে দেবে।
ছোট্ট ঘর। কিছুটা পারিপাট্যের ছাপ আছে। যদিও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু করার
ক্ষমতা নেই। কীর্তন কামার থেকে শুরু করে পালুর মা স্কুলের গণ্ডী পার
করাটাকে বাহুল্য মনে করেছিল এক জমানায়। তবে পালুর ক্ষেত্রে তাদের মতের
পরিবর্তন অবশ্যই হয়েছে। যদিও মাঝে মধ্যে ছেলের বেয়াদপি দেখে নিজের
পরিবর্তিত সেই চিন্তার গালে চড় মেরে বসে।
কামার সম্প্রদায়ের হলেও , কীর্তন তার ছেলের নাম নিজের সাথে মিলিয়ে
রেখেছিল গৌর। মাঝে মধ্যে সন্ধ্যেবেলায় গৌর গ্রামের বুড়ো বটের দাঁত বার
করা রোয়াকে বসে বিড়িতে জব্বর টান মেরে ভাগ্যকে এন্তারসে গাল পেরে বলে,
"কি আর হবে, এত্ত কাল ধইরে ঢাক বাজাচ্চি, আর আমার পুত্তুর ইস্কুলে গিয়ে
পূবপুরুষদের বিদ্যে লদীতে ফেলচে।"
এইভাবেই কাটে কীর্তন কামারদের প্রতি সন্ধ্যা। সামনেই পৌষ মাস। অমাবস্যার
কালী পুজো। বায়নার জন্য ডাক পরে হরিপুর থেকে। সংসারে অসময়ে দেবতারা মাঝে
মধ্যে আসেন বলে কিছুটা ক্ষরা কাটে। মা লক্ষ্মী সদয় হন। সেদিন রাতে কীর্তন
পালুর দরজাটা ঠেলে ঘুমন্ত পালুর কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে পরে। ঘোলাটে চোখে
বোঝার চেষ্টা করে নাতির মতিটাকে। ঘড়ের বাল্বের হাল্কা আলোয় নিজের কৈশোরকে
অনুভব করে। পরম মমতায় পীঠে হাত বোলাতেই জেগে পালু। বিস্ময়ে ফ্যাল ফ্যাল
করে তাকিয়ে থাকে। নাতির ঘুম ভেঙে যাওয়াতে বুড়ো এক মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে
মলাম স্বরে বলে, "পেলো, সামনেই পৌষে কালী, কর্তা বাড়ীর বায়না এয়েচে।
বাপের সঙ্গে যা তু। "
-"বুড়োর মাতাটা সত্যিই গেচে, সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা।"
-"তো কি হয়েচে বাপ! দেবতাদের চটাতে লাই রে, এবার তু বাজাবি আর আমি না হয়
কাঁসিটা বাজাবো, কেমন!"
কোনও ক্রমে ঠেকের ভাষাকে সামলিয়ে পেলো ঝাঁঝিয়ে ওঠে, "ভাগ তো, মাঝ রাতে
কেলো কইরতে এয়েচে", বলেই পাশ ফিরে জোর করে চোখ বন্ধ করে।

রাতটা বেশ গভীর। ঢাকটা জোড়েই বাজচ্ছে। বরং বেশী জোড়েই। উদ্যাম ভাবে বোল
উঠছে একের পর এক। আদিম আর্তনাদের মতো প্রাচীন উলুর সাথে জুবু থুবু থাকা
সারবদ্ধ পাঁঠার ভয়ার্ত স্বর মিলে মিশে একাকার। ভিজে উঠছে জমি, সারা হাত,
কাপড় গাঢ় কালচে থকথকে জমাট রক্তে অমাবস্যাকে করে তুলছে যোগ্য পৌষে কালীর
রাত। ফাঁক বুঝে পটু হাতে গলা সমেত কাটা মাথা তুলে নিচ্ছে কর্তা বাড়ীর
নির্বাচিত লোক।
না, পালু পৌষে কালী পুজোর ঢাক বাজাই নি। ওইদিন রাতের পর সকালে কীর্তন
কামারের সাথে গৌরও মলাম সুরের খেই ধরে। কাজ উদ্ধার হয়নি, গৌরের চিল
চিৎকার কিছুটা কানে ঢুকেছিল পালুর।
বয়েসের ভারে ন্যুব্জ কীর্তন কামার তার বাপ-ঠাকুরদার টান করা ঢাকে কাঠি
দিয়েছিল, বোলগুলো যেন বাধ্য শিশুর মত বুড়োর তালে কথা বলতে শুরু করে। এবার
আর এই কামারদের কাছে বলির দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। গৌরের মনটা খারাপ। এহেন
ভাগ্যের কাজ পরেছে অন্য গ্রামের কামারদের। কানাঘুষায় শোনা যাচ্ছে
ব্যাটারা টাকা কম নিচ্ছে। তবে বলির মাংস বেশ ক্ষানিকটা করে পাবে।
-"ওহ! ভারী তো কম লেবে! কাটারিটাই ভালো কইরে ধইরতে লারচে", বাপের কানের
কাছে ফিস ফিস করে বলে গৌর।
_ "লিক গে, ছাড়ান দে, যা পেইচি তাতেই চালা রে", একটু গম্ভীর ভাবে বলে কীর্তন।
এবছর, ধান কাটার তাড়া নেই। জমি কোথায়! সারা বছর ফাঁক পেলে যে ভাগ চাষির
কাজ করতো, তাও গেছে। আগের বছরে তাও কীর্তনের সাথে হাত মিলিয়েছিল ছেলে আর
নাতি। নাতি হল নবাব, কীর্তনও পা হড়কে বেশ কিছু মাস বিছানার সাথে ভাব
করেছিল। গৌর একা আর কত পারবে! নাতি যত তাল গাছের মত বাড়ছে, এসব কাজকে কেন
জানি না অস্পৃশ্য অচ্ছুতের মত দেখছে। ভাগ চাষির ভাগ্য খানিকটা বুড়ো বলদের
মত।
হঠাৎ সোরগোলে সম্বিৎ ফিরে পায় কীর্তন। কোমরটাকে একটু সোজা করে ঘারটা তুলে
ধরে। লয়টা গেছে কেটে। পাশে গৌর নেই। গলাটা ঝেড়ে, শুকনো ঠোঁটের কষটা মুছে
কয়েকবার নাতি আর ছেলের নাম ধরে ডাক দেয়।

জমাট ধুনোর গন্ধ ম ম করছে, ভিজে ফুলের গন্ধের সাথে বাতাসকে ভারী করে
তুলেছে নানা ফল-দুধ-রক্তের নোনতা গন্ধ। এসব আর নাড়া দেয় না কীর্তনদের।
আচমকা শরীরটা কেঁপে উঠল পালুর অশ্লীল গলার শব্দে। নিজের কানকে বিশ্বাস
করানোটা কঠিন। তবে যতই এগিয়ে যাচ্ছে কীর্তন ততই ছেলের রগরগে গলাটাও শুনতে
পেল। চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে একটা জায়গায় বেশ কিছু লোকের মাথা গোল হয়ে
দাঁড়িয়ে আছে, সঙ্গে চলছে হাত-পা নাড়িয়ে কথাবার্তা।
ফাঁকা জায়গায় সন্তর্পণে ছাল ওঠা ঢাকটা রেখে বাঁকা দেহটাকে সেদিকে নিয়ে
যেতেই কীর্তনের চক্ষু চড়কগাছ। একি! পেলোকে পেরে মারছে কেন?
বেশ কিছু শক্তি ফিরে পায় বুড়ো। কোঁচকানো শিরা ওঠা হাতে ভিড় করে থাকা
ভক্তদের সরিয়ে এগিয়ে যায় কীর্তন। ঘাড় গোঁজা পেলোর পাশেই ফুঁসতে থাকা
ষাঁড়ের মত গৌর মাজায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
-"ও গৌর, বাবা কি হইচে বল রে, পেলোকে কি কললি!", শত বছরের প্রাচীন
অশ্বত্থের পাতায় হাওয়া লেগে যে ভয়ার্ত আওয়াজ ওঠে, কীর্তনের স্বরে যেন
তারই অনুকম্পন জেগে উঠছে।
-"লাও লাও আর মাতা খেয়ো নি, তুর লবাব কি কইরেচে, হারামজাদা" ফুঁসতে
ফুঁসতে জবাব দেয় গৌর।
হাজার কথার মধ্যে সব কথা যেন হারিয়ে যায়। বেদীর কালী মূর্তির নিথর পাঁঠার
নীলাভ চোখের মত কীর্তনের চোখ বোঝার চেষ্টা করে। রাশি রাশি ঝাঁঝালো কটু
নগ্ন কথার সারমর্ম যখন আশি বছরের বুড়োর কালচে খড়ি ওঠা ধুলোটে হৃদয়ে ঢুকল,
বুঝল কি আহামক্কের মত কাজটা সে করেছে। ঢাকের বায়না তো দূর অস্ত, মুখও
দেখবে না কেও গ্রামের। হয়ত, বাবুদের কৃপাতে একঘড়ে হয়ে পরবে।
-"পেলো এইটা কইরতে পাইরলি! এত্ত বচরে এইমনটা কেও কইরে নি বাপ" নিঃস্পন্দ
গলায় কেটে কেটে ধীর ভাবে বলে কীর্তন। না, চোখ দিয়ে জল পরছে না। তারা
কামার। শত লোহার বল বুকের প্রতিটা পাঁজরে। অনেক ঘটনা জীবনের ইতিহাসকে
ওলট-পালট করেছে। বুকের ভীষণ এক গভীরে নাড়া খেলেও, চোখের জলে মণি কখন ভাসে
নি।
_ "বেশ কইরেচি, আবার কইরব দইরকার হলে", কথাটা বলে পালু মার খাওয়া ফুলো
ফুলো চোখে টলতে টলতে হাঁটা লাগাল।
কর্তা মশাইয়ের মন। ধন্যি লোক। ঘাড় ধরে বার করে দিলেও, লোকের হাত দিয়ে
হাজার তিনেক টাকা কীর্তনের হাতে দিয়েছে। অবশ্য, গৌর বা কীর্তন ধুলোয় বসে
বার কয়েক নিষ্ফল ব্যর্থ আবেদন করতে পিছিয়ে যায় নি। কর্তা পাথর চোখে
তাকাতেই, কিছু মাতব্বর গৌরের পিছনে লাথ মেরে পায়ের সুখটা জমিয়ে করেছে।
অতি উৎসাহীরা ঢাকের চামড়ায় বেশ কিছু আঁকিবুঁকি কেটে বাদ-প্রতিবাদও
জানিয়েছে।

জীবনের গতিপথ কুয়াশা ঢাকা এক সরল রেখা। সরল যে অনেক সময় আক্ষরিক অর্থে
জটিলতার রূপান্তর। হয়ত সেই আলেখ্য বুঝতেই জীবনের অনেকটা সময় শেষবারের
জন্য জ্বলে ওঠার অবলম্বন খোঁজে। তার তাগিদে এক অনামী সন্ধ্যায় বিছানার
পাশে শুয়ে কীর্তন হাতরে বেড়ায় ফেলে আসা রুক্ষ পথ। এখন তার চোখ দিয়ে যে জল
বেরোয়, তার নাম কান্না কিনা বোজা মুশকিল। তবে তীব্র দহন যে তার হাড় বার
করা বুকের খাঁচার বাইরের না, সেটা বোঝে একমাত্র নিজেই। কিছু দড়ি ছেঁড়া
খাটিয়ার একচেটে জীবন আজ তার সর্বক্ষনের সঙ্গী। মাঝে মধ্যে গৌর এসে উঁকি
মারে। ঘোর কাটলে কীর্তন ক্ষয়াটে জীর্ন ভুরূর ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করে।
দুর্বোধ্য ভাষায় চলমান জীবনের অভিযোগ জানাতে ছাড়ে না। আদৌ অভিযোগ না
অনুনয় তা গৌর কেন কেওই বোঝে না!
-"শুইয়ে থাক, চিল্লাতে হবেক লা, পেটের ভাইত তো আইনতে হবেক", নিত্যদিনের
রোজনামচার মত বলে বেরিয়ে যায় গৌর। এইভাবেই শুরু হয় দিন আর শেষও হয় অনুরুপ
ভাবে। ঢাকের বোলের ছন্দ কীর্তন কামারের গত হয়েছে মাস ক্ষানেক হল।
সামান্যের মাঝে অসামান্য নানা রূপে আসে। সেই আকস্মিক পরিবর্তনের লয় ধরতে
পারলে জীবন তোমার, না ধরতে পারলেও জীবন সেই তোমারই থাকে। শুধু পটভূমি যায়
পরিবর্তিত হয়ে। কর্তা বাড়ির ঘটনাটা পালুর কাছে ছিল তীব্র প্রতিবাদ। উঠতি
বয়েসের এক চেতনার মিশ্রণ। তবে তা তথাকথিত শাস্ত্রের পরিপন্থী কিনা তা
ভাবার সময় তার ছিল না। নিরীহ জীবহত্যা লীলার বিরুদ্ধে এক কিশোরের চরম
থাপ্পর।
সেদিন থাকতে পারে নি পালু। চোখের সামনে ছটফট করতে করতে নিথর হয়ে যাওয়া
নির্বাক পশুগুলোর ভাষা যেন তার কানের পর্দাকে ছিঁড়ে দিচ্ছিল। পালু যে আগে
এসব দেখে নি তা নয়। কিন্তু কৈশোরের প্রাবল্য তার মনের অতলে জাগায় প্রশ্ন,
অনুভূতি। কাঁসিটা টান মেরে ছুঁড়ে ফেলে কাটারি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কামারের
গালে সপাটে থাপ্পর মারতে সে বেশী চিন্তা করে নি। চিন্তা করে নি নামাবলী
কোমরে জড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুতের অস্তিত্বকে। গলাটা টিপে ধরে
থামিয়ে দিয়েছিল অর্থ না বুঝে মন্ত্রের কচকচানি
প্রাচিত্তির সহ শুদ্ধ ভাবে হোম করে আবার শুরু হয়েছিলো পৌষে কালীকে তুস্টি
করার পালা ।শুধু পালা পরিবর্তন হয়েছিলো কীর্তন-গৌরদের গতিপথে। তবে,
সেদিনের এই দুঃসাহস ভোলা কি যায় !ক'জনের মনের মধ্যেই বা জেগে ওঠে আদিম
রূপের মধ্যেও আদিমতা।

কামার জীবনে এহেন ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় প্রাচীন কীর্তন। বিরোধ বাধে নিজের
সাথে নিজেরই। গৌর যখন তার 'লবাব'কে বাঁখারি দিয়ে পিটাচ্ছিল থামাই নি সে।
এটাই পালুর প্রাপ্য শাস্তি। মার খেতে খেতে কঁকিয়ে বলেছিল, "শালা, বেশ
কইরেচি, কোন ধম্মে লিকেচে কালী মাংস খাবে, আর তোরা নাকি শিল্পী, লাচ
ভাইলো কইরে..." কথাটা শেষ করার আগেই রাগের মাথা খেয়ে বলিষ্ঠ গৌর পালুর
মুখে দেয় সজোরে গুঁতো। রক্তে ভেসেছিল গৌরের হাত। লুটিয়ে থাকা ছেলেটার
পাশে পিচ করে থুতু ফেলে চালার মধ্যে ঢোকে। কীর্তন ভালো ভাবে বোঝার আগেই
গৌর হিড় হিড় করে টেনে তাকে নিয়ে যেতে যেতে বলে, "শালো থাকুক পইড়ে।"
' তোরা নাকি শিল্পী, লাচ ভাইলো কইরে',- এ কথার মানে যে কতটা নিষ্ঠুর
হাসির মত তা এতদিনে বোঝে নি কামার শ্রেণীর এই প্রাচীন প্রতিনিধি। বার বার
করে ঘুরে ফিরে আসে কীর্তনের মাথায় পালুর মার খাওয়া জড়ানো গলার ব্যঙ্গ।
ধর্ম বা শাস্ত্রের তলোয়ার তাকে যতটা না কাটাকুটি করেছে, তার থেকেও বেশী
বার এই ভোঁতা অথচ ছ'টি শব্দের চাবুক তার পঁচাত্তরটা বছরের ধারাপ্রবাহকে
আকস্মিক ভাবে মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছিল বারবার। ঝর্না থেকে নদী চলতে চলতে
অন্তিম লগ্নে এসেও অনেক সময় পথের ক্লান্তিতেই যে ভাবে হারিয়ে ফেলে মাটির
সাথে সখ্যতা, সেই নিয়মটা কীর্তনের শিল্পী সত্ত্বাকে এক কঠিন কথার অনুরণনে
করে তুলেছিল শুষ্ক।
পরদিন সকালে গৌরের কড়া নিষেধ অমান্য করে ' লবাব'-এর কাছে ছুটে যেতে গিয়েই
ধাক্কা খায়।
-" পেলো, ও পেলো ওঠ রে, গৌর দ্যাকে যা লাতি উঠছেক লাই", মাটিতে বসে পরে
নাতির ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া মাথাটাকে কোলের উপর তুলে ডাকাডাকি জুড়ে দেয়
কীর্তন। কাক ভোরে ক্ষোয়াটে গলার চিৎকারে পথ চলতি লোক, কামার পাড়ার
হাঁপরের দড়ি ছেড়ে হুমড়ে পরে কিছু মানুষ। গৌর ছেলেকে পাঁজাকোলা করে ঘড়ের
মধ্যে ঢোকে। কীর্তন পাথরের মত পা ভাঁজ করে উবু হয়ে বসে থাকে উঠোনের সজনে
গাছের ছড়ি ছিটিয়ে থাকা পাতা-ফুলের মাঝে। অদূরেই শিশিরে ভিজে থাকা খয়েরি
রক্তের উপর জমতে শুরু করেছে ধুলোর আস্তরণ। গুন গুন করে শুরু হয় কামার
পাড়ার গুঞ্জন। সূর্যের আলোয় ভর করে বগল ছেঁড়া সোয়েটার, র্যা পার জড়িয়ে
আসে কীর্তনের মত কিছু রোঁয়া ওঠা প্রাচীনের দল।
-"ওঠ রে কেত্তন। চুপ কইরে থাকিস না রে। বিশে ডাগতার লিয়ে আইসলেই দেইখবি
লাতি ছুইটবে।"
-"হ গো কেত্তন'দা ডবকা লাতি তুমার, বইসে বইসে না ভেইবে উইঠে পর।"
-"বড্ড ভালো গো তুর লাতি, উটতি বয়েসে কাইলকের মত কাইন্ড কইরে থাকে, তা
বলে গৌর বাড়াবাড়ি কইরবে কেনে?"
বাক্যবাণে জর্জরিত কীর্তন বোঝাতে পারে না বা হয়ত বোঝানোর চেষ্টাও করে না।
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মাটির দিকে। অস্ফুট গলায় বলার চেষ্টা করে, "
শিইল্প, আমি কি ঢাকি..."
বোধের বাইরে কথাগুলো চলে যাওয়াতে কামার পাড়ার কিছু চ্যাঙরা ছেলের দল
ধরাধরি করে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসে। আশ্চর্য মানুষ আর তাদের জীবন! কালকের
ঘটনায় প্রায় একঘরে করে দেওয়ার নিদানের পক্ষে একজোট হয়ে গলা চড়িয়েছিল, আর
আজ এক রাতের প্রবাহে নতুন এক উৎসাহে কীর্তন, পালুকে সমবেদনা জানাতে
একবারের জন্য কার্পন্য করতে ভোলে নি। ভুলে যায় নি না দেখা নিশুত রাতের
ঘটে যাওয়া ঘটনায় নানা রঙের পরত চাপাতে।

কিছুদিন ধরেই আকাশটা ঘোলাটে হয়ে থাকতো। আজ সকাল থেকে তামাটে মেঘ কালো করে
শুরু হল অঝোরে বৃষ্টি। শিং নামিয়ে গরুগুলো ডাক ছেড়েছে। কামার পাড়ায় আগুণ
নিভু নিভু। বৈশাখীর মা কোমরে শাড়ির খুঁট খুঁজে ধানিকে মাঠ থেকে আনতে
ছুটেছে। হাওয়ার দাপটে রতন কামারের দাওয়ার প্লাস্টিকের ত্রিপল পাল্লা দিয়ে
কোন মতে টিকে আছে। গৌর কোনমতে ছাতাটা চেপে ধরে বাড়ির কাছে আসতেই ঠুন ঠুন
করে শব্দ। ভ্রূ জোরা কুঁচকে দোরের দিকে কান পাততেই বুঝলো, আওয়াজটা একটু
জোড়াল একঘেয়ে তালে বেজে চলেছে। এ যে ঢাকের বোল!
অনেক দিনের চেনা লয়। ছাতাটা দাওয়ার এক কোনে কোন মতে ফেলে কাদা পা নিয়ে
দরজাটা খুলতেই দেখে ঘড় অন্ধকার, জানলা দিয়ে জোলো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির
ছাঁট ঢুকছে। চোখ বুলিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো শব্দের উৎস।
-" বাবা, জেইগে আছ নাকি," কিছুটা অজানা আতঙ্ক মিশ্রিত গলায় ডেকে ওঠে গৌর।
জানলাটা বন্ধ না করে বাপের কাছে যেতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। খাটিয়ার একপাশে
রাখা ছাল ওঠা ঢাকটার উপর টপ টপ করে বিন্দু বিন্দু জল চুঁইয়ে পড়ছে। শব্দটা
ওখান থেকেই উঠে আসছে। ঠিক যেন প্রাচীন সভ্যতার ইতিকথার ধোঁয়াটে নিশীথের
কথা বলে চলেছে। দিচ্ছে অস্তিত্বের প্রমান। শেষ হয়েও না শেষ হওয়া
সংগ্রামের বীরত্বকে। গৌর থমকে থাকে। দেওয়ালের স্যাঁতস্যেঁতে কোনায় বসে
পরে। রুক্ষ চামড়ায় আজ জলীয় বাষ্পের কণা লেগে আছে। ফাটা চামড়ায় আজ শীত
আঁকিবুঁকি কাটছে স্বল্প । তবুও এক সহনশীল খোঁচায় সচকিত হয়ে গৌর তাকায়
কীর্তনের দিকে। কিছু বলতে গিয়ে অজানা কান্নায় কামার জীবনের চোখটা সজল হয়ে
ওঠে। অস্ফুট শব্দে বিড়বির করতে থাকে।
- "বাবা তুর হাইতটা লইরছে রে আবার, পারবিক তু।" শুকনো মাটিতে বৃষ্টির
প্রথম জলকণা প্রথম যে ছন্দের মদিরতা তোলে, তারই যেন অমোঘ ছোঁয়া লেগেছে
কীর্তনের দেহে । সমূল উৎপাটিত বৃক্ষেরও কোন না কোন অংশ লেগে থাকে মাটির
গহ্বরে। দীর্ঘ টানাপড়েনের ইতিহাস লেগে থাকে মানব জীবনে, তার সত্তার কোন
এক প্রহেলিকাময় পটভূমিতে ।
নাতির 'তোরা নাকি শিল্পী, লাচ ভাইলো কইরে' কথাটা যে কতখানি তার শিল্পী
সত্ত্বায় আঘাত হেনেছিল, তা এক উঠতি কিশরের মনে নাও দাগ কাটতে পারে।
কিন্তু, কিছু আপাত বালখিল্য কথা পরিবর্তন করে দেয় মানব জীবনের আলেখ্য।
দোষ পালুকে সত্যি কি দেওয়া উচিত! প্রশ্নটা আপেক্ষিকতার প্রসঙ্গ টানতে
পারে। এটা ঠিক আপেক্ষতার বিচার করতে বসলে অনেক কিছুই জীবনে পাওয়াও যেমন
হয় তেমন, হারাতেও হয় তার বেশী। বেশ ক'টা মাস বিছানায় থেকে কীর্তনের
অবচেতন মনে যে কথা ঘুরপাক খায়, তা এক অজানা রহস্যে আবৃত। সেই সত্য
উদ্ঘাটন করার সামর্থ্য হয়তো কারোরই নেই। তবু বোধ যখন সজাগ হয় তখন সময়
অনেকটা চলে গেলও ফেলে যায় কিছু দাগ। সেই দাগের ভরসায় শুরু হয় বাকী পথ
চলা।
থরথরে করে ঠোঁটটা কেঁপে ওঠে প্রাচীন কামারের শুষ্ক মুখের প্রতিটি বলি
রেখায়। কয়েকবার ঢোঁক গিলে যেন কীর্তন বলতে চায় তার ঘুমন্ত দেশের অনুভুতির
কথা। শীতের কোল ছেড়ে এক ক্ষুদার্ত অজগর যেমন অতি ধীর লয়ে এগিয়ে চলে
খাদ্যের সন্ধানে। কীর্তনের দৃষ্টিও সেই সর্পিল আকারে ঘুড়ে ফিরে দেখতে চায়
কিছু একটা।
_ "পে-লো ক-ই , বা-ই-দ্যি-টা ল-ই-য়ে আ-য় ", শ্যাওলা ধরা বটের কোটরের কোন
এক অতল অন্ধকার থেকে বেরল কীর্তনের ভাঙা ভাঙা স্বর।
প্রথমে বুঝতে অসুবিধা হলেও , ক্ষানিক পরে গৌর বুঝে যায় কথাটা। ক্ষানিক
চুপ করে থেকে শান্ত গলায় বলে, "তু একটু সুইস্থ হইয়ে ওঠ, সব হবেক।"
অকাল বৃষ্টির ছাঁট ঘড়ের এক কোণকে ভিজিয়ে তুলেছে। সব দেখেও ধীর ভাবে
এগিয়ে যায় জানলার কপাটের কাছে। সুক্ষ গুঁড়োর মত জল কণা ভিজিয়ে তুলছে
গৌরের রঙ ওঠা জামাটাকে। আজ খারাপ লাগছে না, বরং বেশী করে আসুক জল ধারা,
ভরিয়ে তুলুক ফুটি ফাটা বক্ষ পিঞ্জরকে। সজীব করে তুলুক খয়েরী হৃদয়ের
প্রতিটি স্পন্দনকে। ভাবের ঘোরটা তা কাটলো একটু পরেই। আকস্মিক ভাবে রঙ ওঠা
আধ খাওয়া দরজার ঠন ঠন করে কড়া নাড়ার শব্দে। একবার নয় –দু'বার নয় বেশ
কয়েকবার, জোড়েই। এবার জানলাটা দ্রুত বন্ধ করে, দরজার দিকে পা চালায় গৌর।
পাল্লাটা খুলতেই আরও এক বিস্ময় তার চোখে মুখে আছড়ে পড়ল। একটাই শব্দ অতি
কষ্টে বেরোল, "তু...!!"
- "এইখানেই দাঁইড়ে রাইখবি নাকি!" প্রশ্নটা ছুঁড়েই ভিতরে ঢুকে জামার বোতাম
খুলতে থাকে পালু।
জটিল তত্ত্বে ভরা মানব জীবন। তার থেকেও নানা আবরণে ভরা ব্যবহারিক
বৈচিত্র্য। গৌর দরজার দোরেই নিঃস্পন্দের মত দাঁড়িয়ে থাকে। দুটো চোখ
লেপ্টে থাকে পালুর দিকে। বোঝা মুশকিল তার চোখের দৃষ্টি কী আদৌ কোন অর্থ
খুঁজছে! বেশ কিছু মাস ধরেই এই হাল। বয়েসের আগেই আর এক বয়েস যেন তাকে গিলে
ফেলছে ক্রমশ। সেদিনের ঘটনার পর পালুকে নিয়ে নানা চর্চা বেশ কিছুদিন এক
পল্লী জীবনে চায়ের আড্ডা, কামাড়শালা এমনকি রায় বাড়িতে জমে উঠেছিলো। একটু
দুরের গ্রামীন হাসপাতালে কটাদিন পরে থাকতে হয়েছিল পালুকে। অসময়ের যদি কোন
ফুল ফোটে তাহলে তাকে ঘিরে যেমন কথাও হয় ঠিক তেমনি নানা মানুষের অতি
সক্রিয়তাও দেখা যায়।
পালুর ঞ্জান ফিরতেই যে মানুষগুলো বৃদ্ধ কীর্তনকে, গৌরকে নানা ভাবে
সাত্বনা দিয়েছিল তারাই আবার উস্কানির আগুনটা জ্বালাতে কম সাহায্য করে নি।
স্রোতহীন পুকুরে একটা ঢিল যে তরঙ্গ ক্ষনিকের জন্য ওঠে, অনুরূপ ভাবে এক
নতুন উৎসাহে জেগে উঠেছিল কীর্তনের অসম্যের প্রতেবেশীকুল। তবে এটাই
আশ্চর্যের পালুকে পুলিশের কথা যতবারই বলা হয়েছে ততবারই ক্ষীণ স্বরে বাখান
দিয়ে উঠেছিলো।
- "তুরা লিজের ঘড়টাকে সামলা শালো রা..."
স্তম্ভিত হয়ে যায় পালুর এই ব্যবহারিক পরিবর্তনে। বাখান থেকে মা বাপ তুলে
কাঁচা খিস্তিটা নতুন নয়, বরং ডাগর ছেলের মুখে বড় মানানসই। কিন্তু
প্রতিশোধের আগুন এত তাড়াতাড়ি নিভে যাবে এটাই অবাক করার মত!
অবাক হয়েছিল আরও ঠিক দু-একদিন পর, হয়ত আলোচনার রসদ আর মর্ম বানীর শোনানোর
দুই রাস্তা প্রস্তুত করে পালু ঘড়ে আর পা বাড়ায় নি। কীর্তনের চোখ দিয়ে
একটা শুষ্ক জলের রেখা কী যে বলতে চেয়েছিল নিজে কে তা বোঝাই দুঃসাধ্য ।
গৌর পুরপুরি পাথর না হলেও ছেলের দোষের গুণাগুণ হয়ত কিছুটা বিচার করার মত
ক্ষমতাটা অর্জন করেছিল। সাধারণত জীবনে অনেক বড় কিছু হওয়ার পর মানুষের
বোধেরও পরিবর্তন হয়! গৌর কেন তার ব্যতিক্রম হবে?
শাস্ত্র ঞ্জানহীন হতে পারে কীর্তন বা গৌর, তবে, এটা হয়তো বুঝেছিল, পালু
খুব একটা ভুল নয়। সত্যিই, টাকার জন্য তাদের ঢাক বাজাতে হয়। পেটের তাগিদ
বড় তাগিদ! রক্তে ভেসে যাওয়া মন্দির প্রাঙ্গনের সাথে তাদের শিল্পের কোন
যোগই নেই। পাশের পাড়ার জগু, মধো বলেছিল, "দ্যাক গৌর ছেইলটা তোর বইড্ড
পাকা। আরে বাবা ফেইল কড়ি মাকো তেল।"
হরেন খুড়ো মুখ ঝামটা দিয়ে মরা মাছের মত কীর্তনকে বলতেও ছাড়েনি, "সহাগের
লাতি! তা বইলে শিইল্প শিইল্প করে ... পেটে টান পড়লেই সব পাছা দিয়ে বেইড়ে
পইড়ত!"
পালুর আকস্মিক কোথায় চলে যাওয়ার পর খুব একটা খোঁজ নেয় নি কেউই। বেয়াড়া
ছেলের থাকা থেকে না থাকাই ভালো, এই ভাবতে টকটকে লাল লোহার পর বলিষ্ঠ
হাতুড়ির ঘা দিতে দিতে বহুবার ভেবেছে। আর যত ভেবেছে, ততই সেই অবয়বহীন লোহা
কোন ফাঁকে যে কাটারীতে পরিণত হয়েছে খেয়ালই সে করে নি!
খেয়াল যখন এলো তখন দেখে যতটা পাতলা হওয়ার দরকার তার থেকে বেশী পাতলা হয়ে
গেছে। আর কয়েক ঘা দিলে ওটা আর কাটারীই থাকত না। সাঁড়াশি দিয়ে ধরে জলে
ফেলতেই ছ্যান করে গরম ধাতু এক শান্তির নিঃশ্বাস যেন কোন অতল থেকে ছাড়ে।
যেন বলতে চায়, সৃষ্টির মধ্যেও থাকে শৃঙ্খলা, অনুশাসন, তার বাইরে বেরোলেই
সৃষ্টির অবমাননা।
পেটের জন্য সৃষ্টি,না, সৃষ্টির জন্য পেট! আপাত সংসারী মানুষ কীভাবে দেখেন
সেটা তাদের রুচির বিষয়, বাঁচার ও বাঁচানোর তাগিদের বিষয়। পালু হয়ত,
পরোক্ষ স্বার্থ যুক্ত শিল্পী, যার উন্মাদনা সৃষ্টির মধ্যেই সীমিত, আবেগ
বাধাহীন। হাজারো পরস্পর পক্ষ ও বিরোধী কথায় চঞ্চল হয়ে পড়েছিল সেই পুজো
এবং তার পরবর্তী ঘটনা ক্রম। যতই চঞ্চলতা বেড়েছে স্তিমিত হয়েছে তার পিতৃ
মন।

- "হাঁ কইরে কি দেইকছ, দরজাটা দাও কেনে!" পালুর কথায় সম্বিত ফিরে পায় গৌর।
দরজার পাল্লাটা বন্ধ করে গৌর বলে ওঠে, "কুথা থেইকে আসছিস?"
- "ও বড্ড জব্বর বিষয়, কাইল দেইখতে পাবেক, শালো এই 'ফাঁপি'র চোটে লস্ট না
হইয়ে যায়।" সত্যিই এই অকাল পউষে বাদলায় আর 'ফাঁপি'র তান্ডবে জীবন কিছুটা
বিপর্যস্ত। তবে বহুকাল পর এমন হওয়ায় একটু অন্য মেজাজে আছে প্রকৃতি।
প্রকৃতিও তো মানুষের মত। পালুর কথায় সন্দেহটা কেন জানি না আরও দীর্ঘতর
হতে থাকে বাপের মন।
পালু উদ্বেগহীন ভাবে দাদুর কাছে গিয়ে বুড়োর কঠিন কর্কশ গালের চামড়ায় টান
মেরে আদরের সুরে বলে ওঠে, "বুড়ার বইড্ড গোসা, অনেক শুইয়ে লিয়েছিস, কাল
সকালে তুকে লাচাব দেইকে লিছ।"
দাদু আর নাতির বহু পুরনো এক দৃষ্টি বিনিময় হয়। বহুদিনের বীজ যেমন তার
ছোট্ট মাথাটি দিয়ে শক্ত মাটির গালে স্নেহের চুম্বন দিয়ে বলে ওঠে, এবার
আমাকে আলো দেখাও, জেগে ওঠে নতুন অঙ্কুর। কীর্তনের চোখে দেখা দিল সেই নব
কিশলয়ের স্নিগ্ধতা।
ঘড় থেকে পালানোর উদ্দেশ্য ঠিক উদ্দেশ্যমূলক ছিল না। অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা
পালুর মনে দাগ কেটেছিল। হয়ত ওই ঘটনাটা হয়েই পালুর জীবনে কিছুটা হলেও
পরিবর্তন এনেছিল। সে তার রায় বাড়ীর ঘটনার উপর কোন কারনেই অনুতপ্ত নয়। মনে
মনে সে আজও তা স্বীকার করে। নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা ধর্মের নামে! ঠিকই করেছে।
কিন্তু অন্তরে দাগ কেটেছে তার দাদুকে কথাটা বলার পর। যদিও সে কতটা বুঝে
বলেছে তা সে নিজেও জানে না।
যতবার পালু নিজের সাথে নিজে কথা বলেছে ততবার অনুভব করতে পেরেছে সেই
কথাটার তাৎপর্য। এটা বুঝেছে, অশতিপর ওই বুড়ো তাকে, তার পরিবারকে নিরন্তর
ভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিলো ঢাকের জোরেই । আজ ওই বাদ্দ্যিটা যদি না জানত তার
অশিক্ষিত দাদু তাহলে কেমন জীবনযাত্রা হত! সেটা অন্য প্রসঙ্গ।
শিল্পের জন্য সাধনা, না বাঁচবার জন্য শেখা! এই জটিল তত্ত্ব বোধ করি কেউই
ভাবে না, কীর্তনও ভাবে নি। বাপের ধারাকে বজায় রেখে তার আগামী প্রজন্মকে
এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এই সরল অঙ্কে হয়ত ছিল তার জগত। তবে কীর্তন ভালবেসেছিল।
শহরে কিছুকাল কুলিগিরি করে বুঝেছে, জীবনে বাস্তবের দৈর্ঘ্যটা বড্ড রকম
বেশী। তাও কামারের কাঠিন্য পালু ভোলে কী করে, এ যে তার অস্তিত্ব! কিছু
টাকা কোনমতে রোজগার করে সে ফিরে এসেছে তার গ্রামে। কী ভাবে কোন পথে
রোজগার করল, সেটা না হয় নাই জানলাম।

পরের দিন সকালে বাদলা কমে গেছে। ফাটা ঠোঁটের মত জমি সমস্ত নির্যাস সংগ্রহ
করে কিছুটা প্রশান্ত। পালু ভোর থেকেই কোদাল হাতে গ্রামের পাঁচটা ছেলের
সাথে ভিজে আগাছা গুলো পরিস্কার করে যেন বলতে চাইছে, সকল মলিনতা ভুলে আবার
তৈরী হোক নতুন জমি।
- "কে পালু নাকি? কবে এলি বাপ", মুরুব্বি গোছের এক বুড়ো পালুকে জিজ্ঞাসা করে উঠল।
- " ও দাদু, এয়েচি কাল গো। আজ এস বাদ্দ্যি শোনাব," পালু হাঁসতে হাঁসতে জবাব দিল।
বেলা যত গড়ায়। ভগ্ন শীতের সকাল একটু তার পরিধিও বিস্তার করে। বেলা একটু
বেড়েছে। তবে, আজ গ্রামে যেন অকাল উৎসব লেগেছে। গ্রাম্য জীবনে খুশীর
প্রলেপ। সাঁঝ বেলায় শাঁখের ফুঁ দেওয়ার পর বারয়ারি তলায় আসর জমানোর জন্য
বাউল গানের আসর বসবে।
পালু গ্রামে ফেরার পথে কিছু টাকা দিয়ে এসব কান্ড করে আসে।
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালানোর পর, যে যার মত বেড়িয়ে এসে জমতে থাকে অনুষ্ঠানের
জায়গায়। শীতের প্রাবল্য না কমায় মা তার বাচ্চাকে বেশ খানিকটা পুরনো উলের
সোয়েটার চাপিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ এই অত্যাচারের আতিশয্যে শিশু প্রবল চীৎকারে
প্রতিবাদ জানিয়ে উঠলেও আসর ছাড়া যাবে না। এমন সুজোগ সীমিত কামার ও
গ্রাম্য কুলে কমই পাওয়া যায়।
- "চল বুড়া আইজ দেইখবি তোর পেলো কেমন লাচায়," পাজাকলা করে পালু কীর্তনকে
তুলে আনে। মঞ্চের পাশে খাটিয়ায় শুইয়ে দেয়।
ক্রমে রাতের সাথে সাথে বাড়ছে লোক, বাড়ছে হ্যজাকের আলোর তীব্রতা। বাউল
গানের পর পালু তার বন্ধু জছোনের বাড়ী থেকে নিয়ে এলো লাল শালুতে মোড়ানো
ঢাক।
চমকে ওঠে গৌর। ফ্যাকাশে দৃষ্টিতে তাকায় কীর্তন। মাথায় তার জমে থাকা
ধোঁয়ার মত কুন্ডলীকৃত চিন্তা যেন বেড়িয়ে আসতে চায়। ঢাকটা পালু কাছে নিয়ে
যেতেই প্রাচীন বদ্ধ দরজার মত ঠোঁট দুটি কেঁপে ওঠে তির তির করে।
- "দ্যাক, এিটা কে বইলে চাদর, কেমন শইব্দ হয় দ্যাক কেনে," বলেই
প্লাস্টিকের শক্ত কাঠি নিয়ে নতুন পাতলা ফাইবারে মোড়ানো ঢাকে কাঠি দিয়ে
বাজাতে থাকে পালু।
গম গম করে ওঠে চারি দিক। চামড়ার ঢাকের বদলে নতুন সাজে ঢাক। দিব্ব্যি সুরও
তোলে। বাজিয়ে চলেছে পালু। এক উন্মাদনা যেন তার আজ প্রতিটি রন্ধ্রে
আবর্তিত হতে থাকে। কার তাগিদ, কীসের জন্য তার এই প্রচেষ্ট!
বেশ খানিকক্ষণ বাজানোর পর থামে পালু। শীতের রাতেও দরদরিয়ে ঘাম ছুটে
চলেছে। ঝাঁকড়া চুল মুখের সামনে থেকে তুলে বুড়োর কাছে মুখটা নামিয়ে বলে, "
বইল্লি না তো কেমন হল!"
মানব জীবনে প্রত্যাবর্তন নানা ভাবে আসতে পারে। এটা নয় যে জীবন কাওকে
সুজোগ দেয় না। এটা নয় মৃত্যু দোরগোড়াতে দাঁড়িয়ে আছে বলে আরও একবার আশা
দেখবে না।
কীর্তনও পেয়েছিল। দীর্ঘ খরা কাটানোর পর সেই প্রথম বৃষ্টির মত। নিশ্চুপ সে
বহুকাল ধরেই। আজ যেন সে আরও নিশ্তব্ধ। তবুও বৃদ্ধের জীর্ণ হাত আস্তে
আস্তে উঠলো। মুখে একটা আবেদন। পালু এগিয়ে দিল নতুন ঢাকের নতুন কাঠি।
- "বাজা বুড়া, এইবার বাজা," একটু ঝুঁকে জড়ালো ভাবে দাবী জানিয়ে পালু বলে উঠলো।
কামার পাড়া অবাক। অবাক গৌরও। কামারের কঠোর চোখে আজ যেন জমাট জল। ছেলের
কাছে এগিয়ে গিয়ে দেখল, কীর্তনের হাতে কাঠিটি ধরা। পালু ঢাক এগিয়ে দিল।
ক্ষীণ শব্দ উঠলো অশতিপর বৃদ্ধের হাত দিয়ে , ধিন ধিন ধিন...।


মাঝ সমুদ্রে যে জাহাজটা চলছিল। নাবিক দূরবীনটা চোখে দেয়।
যাত্রীরা নামার জন্য ব্যস্ত। এখন শুধু স্থির হাতে হুইল ধরে রেখে ধীরে
লাগাতে হবে জাহাজ বন্দরে।।

………………xxxxxxxxxxxxxx…………………



লেখক – পবিত্র চক্রবর্তী
সেক্টার ২এ, বিধান নগর
দুর্গাপুর- -৭১৩২১২
জেলাঃ—পশ্চিম বর্ধমান

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432