পুরীর রথযাত্রা : প্রায় ৮০০ বছর প্রাচীন অনিন্দ্য পাল আষাঢ় মাস আসলেই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। রথের মেলা অনুষ্ঠিত হয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক জায়গাতেই। কিন্তু রথযাত্রার প্রাচীন ইতিহাসের দিকে তাকালে পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার কথাই সবচেয়ে পুরনো বলে মনে হয় না। বেদে রথের উল্লেখ থাকলেও রথে দেবমূর্তি স্থাপন করে রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ছয় ধরনের রথের কথা জানা যায়। ১) দেবরথ বা উৎসবে দেব প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় এমন রথ ২) পুষ্পরথ, এই ধরনের রথ বিয়ে বা বিভিন্ন ধরনের মঙ্গলকার্যে ব্যবহৃত হত ৩) সাংগ্রামিক রথ অর্থাৎ যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী ৪) পারিযানিক রথ অর্থাৎ যাত্রী বহনের উপযোগী রথ ৫) পরপুরাভিযানিক যা কিনা শত্রুর দুর্গ ভাঙার জন্য ব্যবহৃত হত ৬) বৈগয়িক, অশ্ব বা ঘোড়ার চর্যাশিক্ষার উপযোগী রথ। এই বিবরণ থেকে এটুকু বলা যায় যে খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী বা সমসাময়িক সময়ে রথের প্রচলন ছিল, এবং আজকের রথযাত্রার মত না হলেও রথযাত্রার প্রচলন ছিল। ইতিহাসের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাচীন সময়ে জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর এবং পার্শ্ব...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...