Skip to main content

ছোটোগল্প ।। মানবেতর জীবন আখ্যান ।। সৌমেন দেবনাথ

মানবেতর জীবন আখ্যান

সৌমেন দেবনাথ


এই না হলে বস্তী! ভোরের কিঞ্চিৎ আলো উঁকি মারার পূর্বেই বড়রা কাজ সেরে মোটামুটি নিশ্চিন্ত। ছোটরা এবার ব্যস্ত। সারি দিয়ে ট্রেন রাস্তার পাশে বসে পায়খানা করছে। পিছনে দুই চারটা কুকুর অপেক্ষায়। এই ট্রেন রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ছিন্নমূল কিছু মানুষের বসবাস। 
লুঙ্গি, জামা কোনো রকমে পরে বদরুল বললো, আইজ্জা ফিররা যদি হুনছি তুই কাইজ্জা করছত, তয় তোর মাথার চুলডি ছিররা শাক রাইন্দা খামু।
ওর বৌ নীরব থাকার মানুষ না। জবাব দেয় বলেই মার খায়৷ সারাদিন কান্না করে, যাকে পায় তাকেই স্বামীর নিষ্ঠুরতার কথা শোনায়। আজ অবশ্য কিছু বললো না। শুধু বললো, দেইখা শুইনা রিসকা চালায়েন।
বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। আরো দশ পনেরটা রিক্সা চলে এসেছে। সেই তুলনায় যাত্রী নেই। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিক্সা নিয়ে ওরা। রিক্সাগুলো দেখতে সুন্দর ও রঙিন হলেও রিক্সাওয়ালাদের জীবন সুন্দর ও রঙিন নয়। ভরদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। এই একটা পেশা যেখানে ফাঁকি চলে না। গন্তব্যে যাত্রী না পৌঁছে দেয়া অবধি কোনো বিশ্রাম চলে না। শহর আলীর পঞ্চাশটার বেশী রিক্সা আছে। তাঁরই কাছ থেকে বদরুল রিক্সা ভাড়া নিয়েছে। দৈনিক দুইশত টাকা ভাড়া দিতে হয়। এক যাত্রী বদরুলকে হাত ইশারা করে ডাকলেন, যাবি?
বদরুল বললো, যামু। তয় আপনি আমারে তুই কইয়া ডাক পাড়লেন? আপনার থেইক্কা কি আমি ছোডো?
যাত্রী রেগে বললেন, খাস তো রিক্সা টেনে। আবার সম্মান চাস? 
বদরুল কথা না বাড়িয়ে বললো, কই যাইবেন?
যাত্রী বললেন, নৈচাপুর।
বদরুল বললো, তিরিশ ট্যাকা লাগবো। তেল, চাইলের দাম বাড়ছে। 
যাত্রী বদরুলকে ঠাস করে এক চড় মেরে বললেন, আমার বেতন বেড়েছে?
বদরুলের মুখটা অন্ধকারে ভরে গেলো। রিক্সা চালায় বলে ও যেন মানুষই না। অন্যের হাতে মারও খায়। মুখ নিচু করে যাত্রীর দুটি ব্যাগ রিক্সায় তুললো আর বললো, কুলির কামও কইরা দেওয়ন লাগে, দুইডা ট্যাকা ধইরা দ্যান কি?
যাত্রী বললেন, অভাবে তোর স্বভাব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুখ বন্ধ করে রিক্সা চালা।
নৈচাপুর এসে গামছা দিয়ে মুখ মুছলো বদরুল। নাক ঝাঁড়লো। হাফ ধরে গিয়েছে। ঘৃণায় যাত্রী ওর মুখের দিকে তাকালেনই না। কুড়ি টাকার একটা নোট বের করে দিলেন। টাকাটা ছেঁড়া। বদরুল বললো, বাই, ট্যাকাটা বদলাইয়া দ্যান।
যাত্রী রেগে গেলেন। বললেন, ভাই বললি ক্যান? আমাকে কি তোর ভাইয়ের মত মনে হচ্ছে? প্যান্ট, টাই, কোট দেখছিস না?
বদরুল মুখ নিচু করে থাকলো। লোকটি চলে গেলেন। সেখানে পরিচিত দুই তিনজন রিক্সাওয়ালা ছিলো। তারা কথা বলছে। বদরুল শুনছে। টিপু বললো, কত হইলো নায়ক বাই?
রাজ্জাক বললো, পাইচিলাম এক বেক্কল পাচেনজার, বিশ ট্যাকার জায়গায় আশি ট্যাকা লইচি।
আব্বাস বললো, মারছত। গলা কাটছত তার। তোগো লইগা বেবাক রিকসাওয়ালাগোর বদনাম রটে। হারাম খাইসনারে। আক্কাস, তোর খবর কী?
আক্কাস বললো, শৈলডা ভালা না। বল নাই রিসকা টাননের। গাছতলাত গুমাইচি। 
চুপ করে বদরুল সব শুনলো। সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফিরে এলো। পাখিদের মত কিচিরমিচির করছে বস্তীর বাচ্চাগুলো। জরিমন বললো, আপনের বড় পোলারে আইজ্জা নইজা বুড়া মারছে। খেত থেইক্যা বলে কী কী চুরি করতাছিলো।
বদরুল রেগে বললো, মাইরা ফালাই না ক্যান? চিন্তা কমতো।
ছোট ছেলেটা গুড়গুড় করে মায়ের কোলে ঠেলে উঠে নিজের উদরপূর্তির সন্ধান করে। ছোটর বড়টাও কাছে এসে বায়না ধরে। মা বলে, বড় হইছত, খেলগা।
এমন সময় ওদের মাঝে নছিমন বিবি এলো। মনের জমিন বর্গা দিতে দিতে চেহারায় আর সেই আগের জৌলুস ভাব নেই। তাতে কি! সূর্য যতই আলো বিলাক তার কি আলোর ঘাটতি পড়ে! শারীরিক ছলাকলা দেখিয়ে দেখিয়ে প্রচুর কামাই রোজগার করছে৷ বদরুল একবার তাকিয়ে নজর ফিরিয়ে আবার তাকালো। অগ্নি দাহ্য বস্তুর অভাবে প্রজ্জ্বলিত হতে পারে না, নছিমন বিবি যেন বদরুলের সামনে সেই দাহ্য বস্তুই। তার বিকশিত সৌন্দর্য বদরুলের চোখ, নাক, কান, গালে দুলে দুলে যেন ছোবল মারলো। পান খাওয়া লাল ঠোঁট, জিহ্বা থেকে কথা বের হচ্ছে না, যেন অমৃত ঝরছে। বুকের বসন ঠিক নেই, ঠিক রাখেও না সে। এত কামগন্ধময় আর কামনাময় হয়ে নিজেকে প্রকাশ করছে, যে কারোরই রক্ত তার সংস্পর্শে টগবগ করবে।
নিজেকে সংবরণ করে বদরুল বললো, কিত্তে আইছত, বাইর হ্।
সে কথাতে কর্ণপাত না করে নছিমন বিবি বললো, শুকনা বৌয়ের দেহে কি সুখ পাস? যে গাছ দিনের পর দিন ফুল, ফল দিতাছে, তার মাঝে কি সৌন্দর্য আছে?
জরিমন ক্ষেপে গিয়ে বললো, তুই গেলি সামনে থেইক্কা?
নছিমন বিবি বললো, রাগোস ক্যান? কত পোলাপান পেটে ধরবি আর?
জরিমন বললো, যে আমার পেটের ভাত জোগায় তার সন্তান পেটে ধরি, তোর কী তাতে?
নছিমন বিবি হেসে বললো, মাইয়া দুইডা তো ডাগর হইয়া উঠছে, নজরে পড়ে। শাড়ি পরা শিখাবি না? দিয়া দে, লগে নিয়া যাই।
বদরুল দম করে দাঁড়িয়ে উঠে নছিমনকে বললো, বাইর হ্ বেশ্যা বেডি। বাইর হ্।
নছিমন বিবি উঠতে উঠতে বললো, শুকনা বৌয়ের হাড্ডির গুতায় মরবি, যাইস আমার কাছে, রসের কথা কমু।
জরিমন বললো, ঝাটা হাতে নিয়া বেহায়াডারে পিডায়ে দ্যান।
বদরুলকে উদ্দেশ্য করে বলতে বলতে নছিমন চলে গেলো, দর কষাকষি লাগবো না, উপযুক্ত কড়িও দেওন লাগবো না। যাইস, বুকের জমিন দিমু, জল খাবার দিমু। কাঁথার তলে গরম চা খাওয়ামু।
বলেই একগাল হাসি দিতে দিতে চলে গেলো। ওষ্ঠপ্রান্তের ও হাসিতে কোনো মায়াবী ভাব নেই, চাতুরীতে ভরা।
পরদিন বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। কত শৌখিন মানুষ তার রিক্সায় উঠে, অথচ তার জীবন কত অবহেলার। একজন যাত্রী এলো। তিনজন রিক্সাওয়ালা তাকে ডাকছে। যাত্রী পড়ে গেছে বিপদে। শেষে বদরুলের রিক্সায় এসে উঠলো। বদরুল কেতুনগরের উদ্দেশ্য রিক্সার প্যাডেল মারতে শুরু করলো। যাত্রী বললো, আপনার জামাটা তো ছিঁড়ে গিয়েছে।
বদরুল বললো, শরীলডা হুদা ঘামে। কোনো জামা টিকে না। ট্যাকা নাই গাইটে। ছয় ছয়ডা পোলাপান। বাইত চাইল লইয়া গেলে তারা খাইবো।
যাত্রী বললো, এত বাচ্চা নিয়েছেন কেনো?
বদরুল চুপ থাকে। যাত্রী নামলেন। পঞ্চাশ টাকার নোট বের করেছেন। বদরুল বোকার মত চেয়ে বললো, ভাংতি নাই, বাই।
যাত্রী ভাঙিয়ে দেবে বলে ভীড়ের মধ্যে এক দোকানে গেলো, কিন্তু আর ফিরে এলো না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বদরুল বললো, আমার পেটে লাত্থি মারলেন এমনে?
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো বদরুলের। গাছতলায় বেশ কিছুক্ষণ মনমরা হয়ে ও বসে থাকলো।
সন্ধ্যায় এক যাত্রী জুটলো। বস্তীতে আসবে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে গেছে, তাই এই যাত্রীকে পেয়ে খুব খুশী হলো বদরুল। বদরুল বললো, বস্তীতে আমার ঘর। আপনারে তো চিনলাম না!
যাত্রী ইতস্তত করলো কিছুক্ষণ। বুঝে গেছে বদরুল। বললো, নছিমনের কাছে যাইতাছেন? মাইনসে জানলে কলঙ্ক লাগবো না?
যাত্রী বললো, কাঁঠাল খাইলে আঠা লাগবো। আঠার ভয়ে কাঁঠাল খাওয়ন বন্ধ করে কেউ?
বদরুল আপন মনে রিক্সা টেনে চলে এলো। যাত্রী দুটো টাকা ধরে দিলো। বদরুল বললো, বেশী দ্যান ক্যান?
যাত্রী বললো, কাউরে কইয়ো না, বাইত গিয়া বৌয়ের লগেও কওনের দরকার নাই।
বদরুল মাথা নিচু করে ঘরে ফিরলো, পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারলো। ছেলে, মেয়ে নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠবে ভেবে চিন্তিত হলো।
জরিমন খেতে দিলো। আর বললো, বস্তীতে নতুন নতুন বেডা মানুষ কোত্থেকে আয়ে?
বদরুল উত্তর না করে খাওয়া শেষ করতে ব্যস্ত হলো।
ঐ মুহূর্তে মশিউরের বৌ মরিচ নিতে এলো। কিন্তু মরিচ থাকলেও জরিমন দিলো না। বললো, নাই।
মশিউরের বৌ বললো, তোর ঘরে থাহে কি? রিকসা চালাইলে কি সংসার চলে?
বদরুল হিংস্র প্রাণীর মত চেয়ে বললো, তোর ভাতার মশিউরে কী করে? চারকি?
মশিউরের বৌর উত্তর করার আগেই জরিমন বললো, আমার ভাতারে রিকসা চালায়। রোজগার করে। তোর ভাতার তো তাস খেলে, গানজা খায়।
মশিউরের বৌ বললো, আমার সোয়ামী রাজনীতি করে। তাই বন্ধুগো লগে তাস খেলে, গানজা খায়। আমার ঘরে চাইল আছে, ট্যাকা আছে। আছে তোর?
জরিমন বললো, গরীব মাইনসের হক তোর ভাতার মাইরা কাইট্টা আনে। গোণ্ডাগিরি করে, মেম্বর সাবের চামচা।
মশিউরের বৌ বললো, বরো মাইনসোগো লগে মিশশা থাকলে হেইডা চামচা হয়রে হিংসুইটা?
বদরুল জরিমনকে থামতে বললো, জরিমন থামলো না। জরিমন ক্ষিপ্ত হয়ে মশিউরের বৌকে বললো, এত সুকের সংসার, মরিচ নিতে আইচত ক্যান?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, দেখচেন আপনের বৌ কেমনে আমার লগে কাইজ্জা করে?
বদরুল জরিমনকে চুপ থাকতে বললো, জরিমন সে কথায় কান না পেতে বললো, আমার সোয়ামীর কাছো আবার নালিশ দ্যাস? এই মুখপোড়া বেডা, আপনের সামনে আপনার বৌরে যাচ্ছেতাই কইতাছে, হুনতাছেন না?
বদরুল ভাত খাওয়া বন্ধ করে বৌর চুলের গোছা ধরে বললো, কাইজ্জা করস ক্যান? খাইয়া কি তর হুদা কাইজ্জা করনের কাম?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, বেডির থোতাত মারেন। বেবাক মাইনসের লগে হেইতে লাগে। পোলাপানডির খোঁজ রাহে না।
যতক্ষণ পারলো মরণপ্রায় বৌটাকে মারলো বদরুল। তখন নছিমন বিবি এলো। এসেই বললো, বুঝিরে বদু, তোর মনের জ্বালা। তোর যৌবন থাকতে তোর বৌ হইয়া গেলো বুইরি। জানি তো কোন্ জ্বালাত মরস।
বদরুল বললো, আমার ঘরে ক্যান আইছত? চইলা যা।
নছিমন বিবি মশিউরের বৌ আর বদরুলের বৌর দিকে তাকিয়ে বদরুলকে বললো, নিজ ঘরে তো অনেক খাইছত, একদিন আমার ঘরে খা। বাত্তি হইয়া গেছি? ডেগা লাগবো? আছে। 
তারপর কৌণিক চোখে চেয়ে বললো, বাত্তি ফলে মাছি উড়ে বেশী কিন্তু! তুই দেকি বড্ড বোকা!
বলেই একগাল হাসলো নছিমন বিবি। মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, এই বেডি শেষ কইরা দিলো বস্তীটারে।
বদরুল কিছু বলতে যাচ্ছিলো। নছিমন বিবি থামিয়ে দিয়ে বললো, রোজগার তো কম করলি না। সঞ্চয় কিছু করছত? আমার ঘরে যাইস। পুষ্পশয্যায় শুয়াইয়া সুক ঢাইলা দিমু। এত লজ্জা করস ক্যান? কত বড় বড় ব্যবসায়ী আহে, তুই তো কিয়ের রিকসাচালক। তোরে যে ডাহি, এই তোর কপাল।
বদরুলের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলো। এমন আহ্বানে যেকোন পুরুষই কাবু হয়ে যাবে। জরিমন আর মশিউরের বৌ মিলে নছিমন বিবিকে তাড়িয়ে দিলো, ঠিক যেভাবে কুকুর তাড়ায়।
মশিউরের বৌ বললো, জরি, মিলমিশ করে না থাকলে আমাগো বেডাগো সামলাইতে পারমু না কিন্তু। বস্তী থেইকা এই বেশ্যারে তাড়াইতে হইবো।
বদরুল ঘরে যেয়ে ঘুমালো। যে আগুন নছিমন বিবি জ্বেলে দিয়ে গিয়েছে তাকে তা অস্থির করে রেখেছে। বৌ ঘরে ঢুকতেই বাজপাখি হলো সে।
এভাবে চলতে থাকলো জীবন। দুটো স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে বদরুল রিক্সা ছেড়েছে। সে নিজের থেকেই বললো, আমারও দুইডা মাইয়া আছে। ইশকুলে দেবার পারি নাই। পেটের বাত দিতে পারি না, ইশকুলে কেমনে দিমু?
এক ছাত্রী বললো, আপনাদের মত রিক্সাওয়ালাদের দুঃখে আর ব্যথিত হবো না। এমন কথা বলে বলে দুটো টাকা বেশী নিতে চান।
বদরুল বললো, মাগো, ইশকুলে যারা পরে তাগো কাছ থেইকা আমি দুই এক ট্যাকা কমই লই। কিন্তু যারা চারকি করেন তাঁরা তো আমাগো দুই এক ট্যাকা বেশী দ্যান না! মাগো, দুক্কের কপাল নিয়া জন্মাইছি। আমাগো ঘৃণায় করো।
ছাত্রী দুটি আর কোনো কথা বললো না। ওরা যা ভাড়া তা দিয়ে নেমে চলে গেলো। দুটি কবুতরের বাচ্চার দিকে বদরুল চেয়ে থাকলো। আর নিজের অভাগী দুই মেয়ের কথা ভাবতে লাগলো। 
রিক্সা টানলে শরীরে আর শক্তি থাকে না। খালি রিক্সা তাও টেনে নিয়ে যাওয়া ওর জন্য অনেক কষ্টের। তখন এক যাত্রী বললেন, এই যাবি?
বদরুল না-সূচক মাথা ঝাঁকালো। তখন গলা বাজিয়ে যাত্রী সাহেব বললেন, যাবি না কেন্? তেল জমে গিয়েছে? কাঁচা টাকা ইনকাম তো! যা বের হ্।
এমন কথা শুনে শুনে সব সয়ে গেছে। বদরুল কান্না করতে চায়, কান্না করতে পারে না। বড় হলে এই সমস্যা।
উঁকুন বাছা বিকেল বেলায় মশিউরের বৌ বদরুলের বৌর মাথার উঁকুন বেছে দিচ্ছে। ট্রেনের নিচে সেজ ছেলেটা পড়তে যেয়েও পড়েনি। দৌঁড়ে এসে মায়ের কোলে লুকায়। বুকটা তার ধড়ফড় ধড়ফড় করছে। বদরুল বাড়ি ফিরছে। হঠাৎ সেই যাত্রীর সাথে দেখা। আজও সে নছিমনের কাছে আসবে। বদরুলের রিক্সায় উঠলো। বদরুল বললো, বিয়া করেন না ক্যান?
যাত্রী বললো, অল্প ট্যাকাত অনেক মজা। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, পাপের বোঝা ভারী করতাছেন ক্যান?
যাত্রী বললো, নিষ্পাপ কেডা?
বদরুল চুপ করে রিক্সা টানতে লাগলো। আজও ভেবেছিলো বাড়তি টাকা সে পাবে। পেলো না। বরং হুমকি পেলো। যাত্রী বললো, কাউরে জানাইবেন না। কেউ যদি জাইন্না যায় তবে বস্তীতে রটাইয়া দিমু আপনে আমারে ঠিকানা দিছেন। আপনে দালাল।
বদরুল দাঁতে জিহ্বা কেটে চুপ হয়ে গেলো। ঘরে এলো। সেজ ছেলের বিপদের কথা শুনামাত্রই বৌকে বকলো, করছ কি বাইত? পোলাপানডি দেখস না কেন্? গতর দেখস? গতরে তোর মরিচ গুঁড়া দিমু। 
মুখ বুঝে থাকে জরিমন। মরার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ছেলেকে বুকে করে বসে থাকে বদরুল। বাচ্চাদের প্রতি এত দরদ জরিমন আজ তা প্রথম দেখলো। ভাত দিয়ে জরিমন বললো, লন, বাতডি খান।
একটি কুকুর এসে দাঁড়িয়ে আছে। জরিমনকে গরম দিয়ে বদরুল বললো, কুত্তাডারে খেদাস না ক্যান?
ছেলেমেয়েদের মুখেও তুলে তুলে খাওয়ায়ে দিলো। বড় মেয়েটা বললো, বাজান, রূপকথার গল্প হুনাইবা? নছিমন কাকী আমারে কোলে বসাইয়া রূপকথার গল্প শোনাইছে। নতুন জামা কিননা দিবো কইছে।
ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিলো বদরুল। বললো, তুই নছিমনের ঘরে গেছিলি?
আব্বার রাগ দেখে বড় মেয়ে চুপ হয়ে গেলো। জরিমনকে ডেকে বললো, তোর বড় মেয়ে নছিমনের ঘরে যায় কেমনে? দেইখা রাখস না ক্যান?
জরিমন বললো, কইডারে আমি দেইখা রাখমু? সারাদিন পাগল হইয়া যাই পোলাপানের জ্বালায়।
ছেলেমেয়েগুলোকে বোঝাতে লাগলো বদরুল। কারোর বাড়ি যেতে মানা করলো। মাকে সারাদিন কাজে সাহায্য করতে বললো। 
মেজ মেয়ে বললো, তয় আমাগো দুই বইনের দুইডা লাল জামা কিননা দিবা?
মেয়ে দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বদরুল বললো, দিমু। ঈদ আয়ুক।
ঈদ আসতে কত দেরী, তা শুনেই মেয়েদের মুখে হাসি ফুঁটলো। মনে মনে গুমড়ে কাদতে লাগলো বদরুল।
পরের দিন নছিমন বিবি পান খেতে খেতে মশিউরের বৌর কাছে এলো। মশিউরের বৌ নছিমন বিবিকে তিরস্কার করে বললো, দূর হইয়া যা বদমাশ বেডি। তোর লইগা মেম্বর সাব আমাগো উচ্ছেদ কইরা ছাড়বো।
নছিমন বিবি বললো, দূর দূর করতাছস ক্যান? তোর মর্দা তো আমার কুঁইড়াঘরে হান্দায় না। তরুণ তরুণ যুবকরা আহে। এইডা একটা সমাঝ সেবা বুঝলি বেডি। সমাঝে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ এডি হইবো না। মশিউরের বৌ বললো, দূরে কোথাও যাইয়া ব্যবসা খুল। আমাগো ভিটা ছাড়া করিস না।
নছিমন বিবি বললো, মেম্বর ঘর ছাড়া করবো ক্যান? মেম্বর বকবোই বা ক্যান? তাঁর পোলাপান তো দিনে তাঁর পিছে, রাইতে আমার সামনে।
তখন বদরুলের বৌ এলো, বললো, তোরে না কইছি এদিকে আইবি না?
নছিমন বিবি সব কথার উত্তর না করে বললো, ও বেডি, তুই তো দেহি আবার পোয়াতি হইছস! এত বাচ্চা ন্যাস ক্যান? ছয়ডা বাচ্চারে তাই খাইতে দিতে পারস না। তোর ভাতারে তো আচ্ছা পুরুষ! তোর দেহ থেইকা এত সুক লয়?
বদরুলের বৌ রেগে বললো, তুই দূর হবি সামনে থেইকা? ঝাঁটা দিয়া মুখ খুঁচায়া দিমু?
নছিমন বিবি বললো, বেডি, এত রাগস ক্যান? তেজ কমে না ক্যান? আমি তো প্রতি রাইতে পুরুষের সময় দিই, আমার তো বাচ্চা বাঁধে না পেটে! বাচ্চা নিতে নিতে বস্তীডারে যে ভরাইয়া ফালালি। শরীর গরম হইলে তোর মর্দাডারে আমার কুঁইড়াঘর দেহায়া দিতে পারস না? মনের রস মিটাইতে গিয়া দেহডারে তো শেষ করলি। পোলাপানডিরে পালবি কেমনে? 
মশিউরের বৌ বললো, যাবি, না ঝাঁটা নিমু?
নছিমন বিবি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে হাসতে চলে গেলো। পথে মশিউরের সাথে দেখা। বললো, তোর বন্ধুরা তো আমার কুঁইড়াঘরে আয়ে যায়। যাস না ক্যান? ঘরে বৌ দেইক্কা?
মশিউর বললো, নিজে দাওয়াত না দিয়া দুইডা দালাল লইয়া ল, বেশর্মা।
নছিমন বললো, এক ডাল দিয়া কত দিন ভাত ভালো লাগে ক? তোরা এলাকার বেডা। তোরা গেলে বিক্রি হমু নামমাত্র মূল্যে। আইস, ভোগ যতই করস দেখবি উপভোগ শেষ হইব না।
মশিউর রেগে প্রস্থান করলো, নছিমন থেমে থাকলো না। শুনিয়ে বললো, আইস কিন্তু যে কোনো দিন। কোনো নির্দিষ্ট বার নাইগা আমার কাছে। প্রতিদিনই বেডা ছেলের স্পর্শ লই আমি। মাছের দামে পুকুর পাবি।
নছিমন তারপর নিজ মনে বলতে বলতে চলে গেলো, যাওনের লইগা মন দৌঁড়ায়, বিবেকরে দোহায় দিয়া সাধু সাজে!
ওরা কয়েকজন রিক্সাওয়ালা গল্প করছে। বদরুল নিশ্চুপ। আক্কাস বললো, চুপ ক্যান? 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, বৌয়ের পেটে আবার বাচ্চা আইছে। 
আব্বাস হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললো, বৌ পোয়াতি হইছে? মিষ্টি খাওয়াবি না?
বদরুল নির্লিপ্ত নয়নে বললো, ছয় ছয়ডা পোলাপান। সংসার চলে না। থাকনের জায়গা নাই। আবার নতুন মুখ আসতাছে। গলায় দড়ি দিমু? মিষ্টি খাইতে কেমনে চাস? সুকের সন্তান? 
রাজ্জাক বললো, মাগার, সন্তান নিস ক্যান? সারাদিন রিক্সা চালাস। রাইতে না ঘুমায়া বৌর পিছে লাগছ ক্যান?
বদরুল দ্বিতীয় বার দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কি ঘইট্টা যায়, বুঝি না।
আব্বাস বললো, তোর বৌর জমিটা উর্বর। ফসল ফলতেই আছে। শুধু চাষ দেওয়ন দরকার।
বদরুল বললো, টিটকিরি কাটিস না। বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে।
টিপু বললো, তোগো বস্তীতে বলে কী কাহিনি হইতাছে রাইতে?
বদরুল অস্বীকার করার চেষ্টা করলো, কি কস! কই পাস এ সব কথা? 
টিপু বললো, দুইডা যাত্রী বেশী টানলেই তো রাইতের খরচা বারাইয়া যাইবো! 
বদরুল বললো, যার মনে যা চায় করগা। চাঁদ মুখো চুমা দিবি, না সাপের মুখের বিষ নিবি যার যার ব্যাপার।
টিপু হেসে বললো, দেখায়া পরিচয় করাইয়া দিবি? দিমুনে কিছু ট্যাকা।
বদরুল রেগে গেলো, বললো, আমারে কি দালাল পাইছত? কমিশন দিতে চাস? যা যা ঠিকানা লইতে লইতে যা, বেশর্মা কাম করবি, শরম করে ক্যান? 
বিড়ি বের করে বদরুল টানতে লাগলো। মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। ঐ সময় একটি ছেলে ও একটি মেয়ে এলো। ওরা পার্কে যাবে। ছেলেটি গরম দিয়ে বললো, মুক্ত খোলা বাতাসে বিড়ি টানছেন কেনো?
বদরুল বললো, বিড়ি টানলে একটু বল পাই বাজান। 
বদরুল বিড়ি ফেলে দিয়ে যাত্রীদ্বয়কে নিয়ে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, বললো, পার্কে যাইবেন ক্যান? শুনছি হেনো খারাপ কাম হয়।
যাত্রীদ্বয় পরস্পর পরস্পরের সাথে কথা বলছে। বদরুলের কথার উত্তর করার সময় নেই। বদরুল বুঝতে পারলো রিক্সাতে বসে তারা ভাল কাজ করছে না। রিক্সা থামিয়ে বললো, নামেন। যান। বেদ্দাব সব।
মেয়েটির চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। বদরুল বললো, মা, লেকাপড়া শিখখা মানুষ হও। ইজ্জত বিলায়া দিও না। মানুষ যেইডা ভালা বলবো হেইডা কইরো। 
ছেলেটি রেগে বললো, পেটে দুকানি বিদ্যে আছে? জ্ঞান দেন যে! 
বদরুল বললো, ব-কলম আমি। তয় ইজ্জত রাইখা কাম করি। আল্লা তোমাগো মাফ করুক।
ভাড়া না দিয়েই ওরা হাটতে হাটতে পার্কে চলে গেলো। বদরুল ভাবলো, লেকাপড়া শিখখা তো মানুষ বড় হয়। এ তো দেখি সব অমানুষ। আমার মাইয়া দুইডা লেকাপড়া শিখে নাই, তাই কি নষ্ট তো হয় নাই! যাও বাজান যাও পার্কে, কাঁধে সংসারের জোয়াল পড়লে সব মজা ছুটবো।
বাসি রুটি আর পঁচা কলা এই যোগে দুপুর পার। পেটে রোগ লেগেই থাকে।  যাত্রী নেই, সবাই বসে আছে যার যার রিক্সা ধরে। টিপু এক মহিলার দিকে দীর্ঘক্ষণ চেয়ে আছে। দেখে বদরুল বললো, মাইনসের বৌ-ঝির দিকে এমনে চাইয়া থাকোস ক্যান? 
টিপু বললো, তুই না হয় বুইড়া হইছত, আমাগো বুইড়া হইতে দেরী আছে। ভালা কিছু দেখলে নজর পইড়া যায়।
বদরুল বললো, ঘরে তোর মায়া-বৌ আছে। এত নিচে নামোস কেমনে?
টিপু বললো, বৌয়ের বিষ নাই। আমি বেসামাল হইলে থামায় না কেউ। যে গতর নজর পোড়ায়তে জানে না, হেই নজর অন্য দিকে যাইবোই।
বদরুল তীর্যক চোখে চেয়ে ওখান থেকে সরে পড়লো। 
মেম্বারের কানে নিয়মিত ট্রেন রাস্তার বস্তীর খবর যায়। আজ নিজেই চলে এসেছেন নছিমন বিবির কাছে। মেম্বার সাহেব বললেন, কি সব শুনছি? সত্য?
নছিমন বিবি বললো, সইত্য। আপনেও আমার ঘরে আইসেন। সুক দিমু। নিম ফুলের মধু দিমু বিন্দু বিন্দু।
প্রচণ্ড রেগে গেলেন মেম্বার। দাঁত কিটমিট করে বললেন, বেয়াদব মহিলা।
নছিমন বিবি বললো, রাইতে আইসেন। আপনের ঐ কোদাল দাঁতের কোপ বুকের মৃত্তিকায় নিঃসংকোচে নিমু।
মেম্বার আরো রেগে গেলেন। মশিউর, রবিউল মেম্বার সাহেবের পিছন থেকে নছিমন বিবিকে দুই হাত নেড়ে ইশারায় বোঝালো। যার অর্থ মেম্বারকে আমরা বোঝাবো। নছিমন বিবি নিজেকে অনেকটা নির্ভার মনে করে মেম্বারের চোখে মুখে চেয়ে বললো, কি মেম্বর সাব, আমারে দেইখা কি আপনের চোখ টাটায় না? আইয়েন, যৌবনের দাবি পূরণ করমু। নিদ্রালু, তন্দ্রালু আলুথালু অঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ খেইলেন। গ্রাস হইয়া থাকমু, চোখ বুইজা থাকমু, যা পারেন কইরেন।
মেম্বার সাহেব আর থাকতে পারলেন না। ফিরে চলে গেলেন। তজিমুদ্দিনের কুঁড়েঘরে গাঁজা খাওয়ার আসর বসে। তজিমুদ্দিনের চার সন্তান। একটিও বাবা মায়ের রং পায়নি। বস্তীর সবাই তাকেও ঘৃণা করে। 
রবিউলের বৌটা এসে জরিমনকে বললো, ছাগলডা সারাদিন ডাকছে, ছুটছে, আর পাইতাছি না। 
জরিমন বললো, দেহি নাই।
মশিউরের বৌ এসে বললো, রন্টুর মা, আমাগো মর্দা হাসটারে দেখছোত?
জরিমন বললো, না। দেখ্ তজিমুদ্দিনের গানজার আসরে, না হয় নছিমনের কুঁইড়াঘরে।
মশিউরের বৌ জরিমনের উপর রাগ দেখিয়ে চলে গেলো। রবিউলের বৌ বললো, পোলার বাপ ওহন আমারে দাম দেয় না। রাইত কইরা ঘরে আহে।  ছাগলডার মত হেইও কি আমার থেইক্কা ছুইট্টা গেলো?
জরিমন বললো, বেডা মানুষ পিঁপড়ার লাহান। মিষ্টি যেই দিকে পাইবো, হেই দিকেই ছুটবো।
খুঁজতে খুঁজতে মশিউরকে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে আবিষ্কার করলো তার বৌ। বৌ বললো, শেষ পর্যন্ত আপনেও এই বেইজ্জতি বেডির ঘরে ঢুকছেন? লন, সুক লন। আমার ধারে আইলে আণ্ডা ছাইটা দিমু।
মশিউর বললো, ক্ষেপছত ক্যান? খইয়ের লাহান ফুঁটতাছত ক্যান? তোরে তালাক দিমু।
বৌ বললো, দে তালাক দে। ভালা ভাতার ধরুম।
সন্ধ্যায় বদরুল ঘরে ফিরছে। টিপু নাছোড়বান্দা হয়ে দেখা দিলো। তাকে সাথে নিতেই হবে। বদরুল রাগ দেখিয়ে বললো, রিক্সা চালাস, কোনো এলাকা তোর চিনতে বাকি? আমি লইয়া যাই কেমনে? আমার বদনাম রটবো।
টিপু বললো, সব মাইনসের কাছে সব কথা জিগান যায়? ট্যাকা দিমু। মায়াগো লইগা জামা কিনতে পারবি।
বদরুল বললো, আমার মায়াডি ছেঁড়া জামা পইরা থাকবো, তবুও হারামের ট্যাকা দিয়ে তাগো কিছু কিননা দিমু না।
টিপু বদরুলের উপর ক্ষিপ্ত হলেও নিজেকে সামলে নিলো। বদরুলের সাথে না এলেও পিছু পিছু এসে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে গিয়ে উঠলো।
পরের দিন মশিউরের বৌ কান্না করতে করতে চলে যাচ্ছে। জরিমনকে সামনে পেয়ে বললো, নছিমন আমার ঘর ভাঙলো। তার উপর গজব পড়বো।
জরিমন বললো, দেখছোত পুরুষ মানুষ কিসে পাগল? 
নছিমনকে গাল দিতে দিতে বৌটা চলে গেলো। আয়তনের স্বামী মারা গেছে বছর পাঁচেক আগে। অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে মানুষ করছে। নছিমন বিবি তাকে একা পেয়ে বললো, বিয়া করবি না আর?
আয়তন বললো, না। পুলা মায়া দুইডারে মানুষ করতে পারলে জীবন সার্থক হয়।
নছিমন বিবি বললো, স্বামীর সোহাগ লইবি না?
আয়তন দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কপাল ভাঙছে আমার। সোহাগ পাওনের আশা আর করি না।
নছিমন বিবি বললো, ভবিষ্যতে যদি বিয়া করনের লইগা মন চায় কী করবি? জানস তো, দীর্ঘদিন ক্ষেত পইরা থাকলে জঙ্গল বাঁধে। হেয় ক্ষেতে ফসল হয় না। রাতে রাতে আমার ঘরে আইবি? মেলা পুরুষ আহে। জমিডারে একটু চাষ দিয়া রাখলি এই আর কি!
আয়তন ক্ষেপে গেলো, কি কইলি! তোর মত বেশ্যারে আমি ঝাঁটা মারি! সমাঝ লইয়া থাহি। তুই হইলি হেয় সমাঝের কীট, উচ্ছিষ্ট। 
নছিমন বিবি বললো, প্রতি রাতে নতুন নতুন পুরুষের ছোঁয়া লাগে শরীলে। এর যে কি মজা বুঝবি কেমনে! স্বাদের কথা ভুইলা গেছত?
আয়তন বললো, তোর লজ্জা করে না?
নছিমন বিবি বললো, পানিতে নামলে শাড়ি ভিজবোই, শাড়ি ভেজার ভয়ে কি রোজগারের লগে সুকও হারামু?
নছিমন বিবি আয়তনকে পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো। সামনে বদরুলকে পেয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত হলো। বদরুল বললো, হাসোস ক্যান? মন রাঙাইতে চাস?
নছিমন বিবি বললো, তুই আমার আদর খাইলি না, ভালা। কিন্তু প্রত্যেক দিন নতুন নতুন খদ্দের আইনা দেস, আমি কিন্তু দেহি। কত কইরা লস? 
বদরুল আকাশ থেকে পড়লো। চোখ মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। নছিমন বিবি থেমে থাকলো না, বললো, তুই আমার হইয়া কাজ করতে পারোস। ট্যাকা আমিও দিমু।
বদরুল হাত দিয়ে নিজের কান ঢেকে বললো, শেষ কইরা দিলি আমারে। আর কত ক্ষতি করবি, কত ইজ্জত লইয়া খেলবি? 
নছিমন বিবি বললো, ব্যবসা করি আমি, বদনাম রটাস আমার। তলে তলে লাভ খাস তুই! বস্তীর সবারে জানায়া দিমু।
বদরুল হাত জোড় করে বললো, মান-সম্মান শেষ করিস না, তোর পায়ে পড়ি।
নছিমন বললো, মাফ পাবি না। ক আমার হইয়া কাজ করবি? 
বদরুল নিরুপায় হয়ে বললো, করুম।
বদরুল বাড়ি এলো। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো। সিদ্ধান্ত নিলো যেকোন দিন এ বস্তী ছেড়ে দেবে। ওদিকে আয়তন মেম্বারকে সব কথা বলে দিয়েছে। মেম্বার পড়লেন চিন্তায়। নগ্নতার চর্চা? তিনি বড় সড় সিদ্ধান্ত নিলেন। বিকাল দুইটার দিকে এক ব্যক্তি এসে জানিয়ে দিয়ে গেলেন, কাল দশটার মধ্যে সকলকে চলে যেতে হবে। নতুবা উচ্ছেদ করা হবে। তা শুনে তজিমুদ্দিনের ঘরের গাঁজাখোরগুলো, রবিউল, মশিউর সবাই মেম্বারের কাছে গেলো। রবিউল বললো, মেম্বর সাব, থাকুম কই? যামু কই? 
মেম্বার সাহেব বললেন, তা আমি জানি? তোদের নোংরামি সীমা লঙ্ঘন করেছে, আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
মশিউর বললো, আপনের কাম-কাজ কইরা দেই, অহন থাকনের জায়গা কাইড়া লইবেন?
মেম্বার সাহেব বললেন, তোরা কাজ মাগনা করে দিস না। কাজের বিনিময়ে টাকা দেই। তোরা এখন যা।
মেম্বারের প্রতি সবার রাগ হয়ে গেলো। সবাই মন খারাপ করে ঘরে ফিরে এলো। একথা এখনো বদরুল জানতে পারেনি। বাড়িতে জরিমন চিন্তিত। রাত হয়ে গিয়েছে। বদরুল ঘরে ফিরছিলো। তখন দুই যুবক বললো, পরমপুর যাবেন?
বদরুল দেখলো অনেক ভাড়া। ও রাজি হয়ে গেলো। কিন্তু পরমপুর অনেক দূর। অন্ধকার রাত ফিরবে কেমন করে? মাঝে মাঝে নির্জন পথ। লোকজনের চলাচল কম। বেশ ভূতুড়ে স্থানে যেতেই দুই যুবক ছুরি, পিস্তল বের করলো, আর বললো, চিল্লাবি না। চিল্লাইলে মুণ্ডু নিমু। 
বদরুল চিৎকার করলো না। ওরা রিক্সাটা নিয়ে চলে গেলো। চেয়ে চেয়ে দেখলো বদরুল। এবার ও করবেটা কী? সোজা শহর আলীর কাছে গেলো, মামা, রিসকাটা খোয়া গেছে। 
শহর আলী বললো, ভালা করছত। কিননা দিবি। নইলে জেলে হান্দায়া দিমু। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কিনমু? কই পামু এত্ত ট্যাকা?
শহর আলী চোখ গরম দিয়ে বললো, কেমনে কিনবি হেইডাও কইয়া দিমু? ব্যাংকো থেইক্কা লোন নিগগা। অল্প অল্প কইরা শোধ দিবি। অহন রাইত হইছে, বাইত যা।
বাড়ি ফেরার পথে আব্বাসের  সাথে দেখা। বদরুল বললো, আব্বাইসা, রিসকা ডাকাত নিছেগা। 
আব্বাস হেসে বললো, ডাকাত তোরে পাইছিলো? তাও তো ভালা, ডাকাত দেখছোস। তাগো কি গোঁফ লম্বা লম্বা?
রসিকতা করে আব্বাস চলে গেলো। নানা কিছু ভাবতে ভাবতে বদরুল বাড়ি ফিরলো না। বাচ্চাগুলো না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। জরিমন পথ চেয়ে আছে।
সকাল বেলা কেউ কেউ মেম্বার সাহেবের বাড়ি যাচ্ছে কারণ মেম্বার সাহেবকে কারা নাকি গুলি করে মেরেছে। নছিমন বিবি বললো, বড়ো ভালা মানুষ আছিলো!
আর কেউ কেউ রইচদের বাড়ি যাচ্ছে চোর দেখতে। গত রাতে ঐ বাড়ি এক চোর ধরা পড়েছে।
 
======০০০======


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432