Skip to main content

প্রবন্ধ ।। ধ্রুপদী কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ।। শংকর ব্রহ্ম




ধ্রুপদী কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

শংকর ব্রহ্ম



[কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তর একশত-কুড়ি বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে -

ধ্রুপদী একজন স্বতন্ত্র কবির প্রতি শ্রদ্ধা-জ্ঞাপন]



এক).


                  বাংলা সাহিত্যের প্রাঙ্গণে যে ক'জন ধ্রুপদী লেখকের সন্ধান আমরা পেয়েছি, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। তাঁর লেখা কবিতা কলাকৈবল্যবাদে'র (Art for art sake) মন্ত্রণায় উজ্জীবিত। অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি 'পরিচয়'-এর মতো পত্রিকার (বাম মনস্কতার পত্রিকা) সম্পাদনায় নিযুক্ত ছিলেন বহুদিন। 

     তিনি খুব কবিতা বেশী লেখেন নি। অনুবাদ বাদে ত্রিশ বছরে মাত্র ১৩০টির মতাে কবিতা। ১৯২৪ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে প্রায় শতাধিক কবিতা, যা পরবর্তীকালে  তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।


১। তন্বী (এম. সি. সরকার এন্ড সন্স)

২। অর্কেষ্ট্রা (ভারতী ভবন)

৩। ক্রন্দসী (ভারতী ভবন)

৪। উত্তর ফাল্গনী।


               তাঁর ২৯ বছর বয়সে প্রথম কবিতার বই 'তন্বী' (এম. সি. সরকার এন্ড সন্স - থেকে ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্র প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে। তিনি তা নির্দ্বিধায় স্বীকারও করেছেন ।

তিনি জানিয়েছেন,

" কবিতাগুলাের উপরে স্বদেশী বিদেশী অনেক কবিই ছায়াপাত করেছেন - সব সময়ে গ্রন্থকারের সম্মতিক্রমে নয়। কেবল রবীন্দ্রনাথের ঋণ সর্বত্রই জ্ঞানকৃত । "

      এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর বিশেষ স্বকীয়তার পরিচয় তেমন পাওয়া যায় না। পঁচিশ বছর বয়স থেকে উনত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর নবিসী পর্ব' বা কাব্য সৃজনের প্রাথমিক স্তর বলা চলে। কবি জীবনানন্দ দাশ অবশ্য তাঁর উনত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে পাঠকদের উপহার দিয়েছেন 'বােধ', ক্যাম্পে'-র মতাে স্মরণীয় কবিতা। 

      এই বয়সের মধ্যে, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, সময় সেন, অজিত দত্ত প্রমুখেরাও তাঁদের রচনায় স্বাতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছেন, যার জন্য সমকালীন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু কবি  সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ক্ষেত্রে মোটেও তা ঘটেনি।

                   তবে তারপর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর দ্রুত উত্তরণ ঘটে। 'তন্থী' প্রকাশিত হওয়ার পর মাত্র পাঁচ বছর পরে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ  - অর্কেষ্ট্রা (ভারতী ভবন - থেকে) প্রকাশিত হয়। এখানে তিনি স্বকীতার পরিচয় রেখেছেন স্পষ্ট ভাবেই।

      এর পরবর্তী তাঁর তিনটি কাব্যগ্রন্থ 'অর্কেস্ট্রা', 'ক্রন্দসী', উত্তর ফাল্গনী' (১৯২৯ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল) এই পাঁচ বছরের মধ্যে রচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।

        সুধীন্দ্রনাথ দত্ত যৌবনেই বেশী লিখেছিলেন। প্রায় শতাধিক কবিতা লিখেছেন, মাত্র ১২ বছরের মধ্যে (১৯২৪ থেকে ১৯৩৩-র মধ্যে)। তারপর পরবর্তী দীর্ঘ ১৮ বছরে (১৯৩৮ থেকে ১৯৫৪) মাত্র ২৬টি কবিতা, যা উত্তর কালের দুটি কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 'সংবর্ত' ও 'দশমী'-তে।

       সুধীন্দ্রনাথের স্বার্থকতা যাতে সর্বপেক্ষা সার্থক রূপে ধরা পড়েছে 'সংবর্ত' কাব্যগ্রন্থে। এগুলি পরিণত বয়সের রসসৃষ্টি তাঁর। 

            বিশ - ত্রিশ বছর ধরে জ্ঞানত গদ্য-পদ্যের নির্বিরােধ পরিণতি চাওয়ার ফল স্বরূপ , তাঁর গদ্য-কবিতা রচনার প্রয়াস, এই কাব্যগ্রন্থে দেখা যায়।

১৯৩৪ থেকে ১৯৩৭ সাল এই চার বছর তিনি প্রায় কিছুই লেখেননি। সময় কেটেছে তার পুরনাে লেখার পরিমার্জনে। তিনি নিজের কবিতা কিংবা অনুবাদের সংস্কারে অনমনীয় ভাবে অটল ছিলেন। এ কারণে ধূর্জটি প্রসাদ মুখােপাধ্যায় একবার রসিকতা করে তাঁকে বলেছিলেন, 'সুধীন্দ্রনাথের দুর্বলতা, তিনি Incompetent কবি হতে লজ্জ্বা পান।' তারপরেই তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, 'লজ্জ্বাটা স্বাভাবিক,  কিন্তু এ'লজ্জ্বার পিছনে একটা চিত্তশুদ্ধি এবং কবিতার রূপ সম্বন্ধে একটা মোক্ষম ধারণা আছে, যার উৎপত্তি বােধহয় মালার্মে, ভ্যালেরী প্রভৃতির কবিতা ও কবিতা সংক্রান্ত মতামতে।' সুধীন্দ্রনাথ যেমন কবিতা পরিমার্জনে বিশ্বাসী ছিলেন, কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তেমন ঠিক এর বিরুদ্ধাচারী ছিলেন। তিনি কবিতার পরিমার্জনে বিশ্বাসী করতেন না।

          সুধীন্দ্রনাথের আরও বিশ্বাস ছিল, উচ্ছ্বাস কবিতার ভীষণরকম ক্ষতি করে। প্রচলিত শব্দ ব্যবহারও, তিনি তাঁর কবিতায় সতর্কভাবে পরিহার করে চলতেন।

         কবিতা রচনার ক্ষেত্রে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রেরণার প্রতি সম্পূর্ণরূপে আস্থাহীন ছিলেন না। তাঁর ধারণায় অভিজ্ঞতাই কাব্যের মৌলিক উপাদান। গতানুগতিক কাব্য রচনায় তাঁর অনীহা ছিল। তাঁর কথায় 'সাহিত্য সংক্রান্ত সামান্যীকরণে পর্যন্ত আমি সচরাচর এক চক্ষু হরিণ হলেও কচিৎ-কদাচিত হটকারীও বটে।' 

       এই জন্যই বােধহয় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত আধুনিক বাংলা কবিতার আসরে বিশিষ্ট এবং স্বতন্ত্র। মনীষা এবং সচেতন কারুকৃতির অন্যতম পথিকৃত।

            উল্লেখিত ছ'টি কাব্যগ্রন্থ ছাড়া (তন্বী, অর্কেস্ট্রা, ক্রন্দসী, উত্তর ফাল্গুনী, সংবর্ত, দশমী) তার মাত্র দুটি উল্লেখযােগ্য প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

১। স্বগত (ভাৱতী ভবন) ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত।

২। কুলায় ও কালপুরুষ (সিগনেট প্রেস) ১৩৬৪ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত।

        প্রবন্ধগুলি পড়লেই বােঝা যায়, মেধা ও মননশীলতা তাঁর কত গভীর ছিল। কবিতার মতাে তার প্রবন্ধের গদ্যরীতিও তিনি পাঠকের কাছ স্বাতন্ত্রের দাবী রাখেন । প্রসঙ্গত কমলকুমার মজুমদারের গদ্যরীতির কথা মনে পড়ে যায়।

       তিনি প্রাচ্য ও পশ্চাত্যের শিল্প-সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের অনুরাগী পাঠক ছিলেন। হয়তাে ব্যক্তি জীবনে ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যপনার সুবাদে তিনি এ ব্যাপারে অনুসন্ধিসু ছিলেন। 

     বুদ্ধদেব বসুর কাছে জানতে পারি, 'সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত মনস্বী, তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণী বুদ্ধির অধিকারী, তথ্যে ও তত্ত্বে আসক্ত, দর্শনে ও সংলগ্ন শাস্ত্র সমূহে বিদ্বান, তাঁর পঠনের পরিধি ছিল বিরাট ও বােধের ক্ষিপ্রতা ছিল অসামান্য' সেই সঙ্গে যাকে বলে কান্ডজ্ঞান সাংসারিক ও সামাজিক সুবুদ্ধি , তাও পূর্ণ মাত্রায় ছিল তাঁর, কোনাে কর্তব্যে অবহেলা করতেন না।

গার্হস্থ্য ধর্মপালনে অনিন্দ্যনীয় ছিলেন, ছিলেন আলাপদ, রসিক, প্রখর ব্যক্তিত্বশালী, আচরণের পুঙ্খানুপুখে সচেতন এবং সর্ব-বিষয়ে উৎসুক ও মনােযােগী।'

         নিন্দুকদের মতে তাঁর কবিতা 'সংস্কৃত আর ইংরেজী ভাষার বর্ণসংকর ঘটিয়ে অস্পৃশ্য রচনারীতির জন্ম দিয়েছে, বঙ্গ ভাষার নাট মন্দিরে সে হরিজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। 

    এ প্রসঙ্গে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত আক্ষেপ করে বলেছেন, কবি প্রতিভার অভাব এবং তার বিরূপ পরিমণ্ডল কবির পক্ষে অভিশাপ।

       তিনি কখনােই প্রেমেন্দ্র মিত্রের মতাে জনতার কবি হতে চান নি। তিনি স্বীকার করেছেন 'বস্তুত আমি নিরবধিকাল বা বিপুল পৃথ্বীর অনুগ্রহকাঙ্খী নই, সমানধর্মী সহানুভূতিই আমার একান্ত কাম্য।'

তাঁর লেখা কবিতা  দুরূহ বলে নিন্দিত হলেও, তাকে অগ্রাহ্য করার মতাে স্পর্ধা, কখনােই কারাের হয়নি।

   সকলেই করি নয়, কেউ কেউ কবি'- জীবনানন্দ দাশের এ'কথার সত্যতা তিনিও মানতেন । কিন্তু দু'জনের মধ্যে ভাবাদর্শে আসমান-জমিন ফারাক ছিল। জীবনানন্দ দাশ ছিলেন স্বভাবে আবেগ প্রবণ কবি, অর্থাৎ যাকে কি না বলে 'স্বভাব-জাত' কবি। আর সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন মেধা ও মনন সম্পন্ন কবি অর্থাৎ কি না বােধ-বুদ্ধি গ্রাহ্য, সচেতন কাব্য-কারু কর্মী।

    গল্পকার কমলকুমার মজুমদারের মতাে তারও আত্মশ্লাঘা ছিল যে তাঁর লেখা বুঝবার জন্য পাঠককেও পরিশ্রমী হতে হবে। নিজেকে যােগ্য করে তুলতে হবে পাঠক হিসাবে। পিটুলী গােলা-গেলা পাঠক, তিনি অপছন্দ করতেন। তিনি জানতেন, সকলে তার লেখা বুঝতে

পারবেন না। তার লেখার রস গ্রহণ করার জন্য পাঠককেও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। থাকতে হবে মননশীলতা এবং কাব্যানুরাগ। তা তিনি তাঁর কবিতা পাঠকের কাছে প্রত্যাশা করতেন। 

           তাঁর সমানধর্মী অনুভূতিশীল পাঠকেরই একান্ত কামনা করতেন। কবিতাকে তিনি দূরত্ব দান করেছিলেন ইচ্ছাকৃতভাবে, যাতে সে দূরত্ব কাব্য পাঠকের চেতনাকে নাড়া দিয়ে সতর্ক করে। তিনি আক্ষেপ করে বলতেন, 'আমাদের মধ্যে লেখা পড়ার অসামঞ্জস্য বিস্ময়কর ; এবং তার ফলে বাংলা প্রবন্ধই বিপদগ্রস্ত নয়, বাংলা কাব্যও অসংলগ্ন ভাবচ্ছবির অনিকাম সংঘট্ট।'

          তিনি যেমন কাব্য রচনার ক্ষেত্রে অক্লান্ত মনােযােগী ছিলেন, পাঠকের কাছেও তা প্রত্যাশা করতেন।


দুই).


              কবিতা লেখার প্রধাণতঃ দুটি ধারা লক্ষনীয় :

কবিদের অধিকাংশই আবেগ-প্রবণ ধারার বাহক। অন্য ধারাটি ক্ষীণতনু বুদ্ধিগ্রাহ্য ধারা, যাদের বাহক- মাইকেল মধুসূধন দত্ত, প্রমথ চৌধুরী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে প্রমুখ কবিরা।

            কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত যে হেতু বুদ্ধি কর্ষিত ধারার লেখক। ফলতঃ আবেগ বর্জন তার প্রথম কর্তব্য বলে মনে করেছেন, তিনি জানিয়েছেন, 'আমি মরমী প্রাগলভ্যের জাত-শত্রু।

     .... এমন কোনাে ভাব বা আবেগ নেই, যা কায়মনােবাক্যের সহযােগ ব্যতিরেকেও, কেবল কাব্য রচনার উপযােগী।'

      তিনি মনে করতেন, 'কবিতা শুধু আবেগ নির্ভর নয়, কাব্যাবেগকে মনস্কচর্চার মাধ্যমে, প্রকাশ যােগ্য করে তুলতে হবে। তিনি বলতেন, 'বর্তমানের সহিত সাধনা যে নৈরাত্ম সিদ্ধির রূপ অভাবেই ধ্রুপদী পদবীর অযােগ্য এবং ইদান্তীন্তন বিদগ্ধ সমাজ যে আনুপূর্বিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই সময়ােচিত রস গ্রহণে অক্ষম এমন একটা স্বতােবিরােধী বিশ্বাস আমার মনে বদ্ধমূল। তিনি বলতেন, 'কাব্য কবির পূর্বপুরুষ, কবি কাব্যের জন্মদাতা নয়। প্রথম কবিতার আবির্ভাব হয়েছিল কোনও ব্যক্তি বিশেষের মনে নয়, একটা মানব সমষ্টির মনে।

      প্রথম কবিতার প্রসার শুধু একটি মানুষের উপর নয়, সমগ্র জীবনের উপর ; প্রাথমিক কবিতার উদ্দেশ্য বিকলন নয়, সঙ্কলন।

       প্রেরণা নামক কোন অলৌকিক শক্তিতে তাঁর বিশ্বাস ছিল না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, 'রূপ আর প্রসঙ্গের পরিপূর্ণ সঙ্গমেই কাব্যের জন্ম।'

         তাঁর মতে, 'নির্ব্বিরোধ ন্যায়ের নিত্য আদর্শই

মহান কাব্যের প্রধান উপজীব্য।'


তিন).


          তিনি (কবি সুধীন্দ্রনাথ দ্ত্ত) ছিলেন, সুদর্শন। প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বনেদী ঘরের সুসন্তান। গভীর চিন্তাধারার অধিকারী। মননশীল শ্রোতা এবং পাঠক। তাঁর যােগ্য সহধর্মিনী ছিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীত সাম্রাজ্ঞী রাজেশ্বরী দত্ত। পিতা ছিলেন তাঁর হীরেন্দ্রনাথ দ্ত্ত।

          জন্ম তাঁর  ১৯০১ সালের ৩০শে অক্টোবর। ১৯৬০ সালের ২৫শে জুন তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

         সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বেশী বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রথম কবিতার বই 'তন্বী'  (১৩৩৭ বঙ্গাব্দে) তাঁর উনত্রিশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়েছিল। 

         বুদ্ধদেব বসুর কাছে জানতে পারি 'সুধীন্দ্রনাথের প্রথম যৌবনে, বাংলা ভাষা তাঁর অন্তরঙ্গ ছিল না। তাঁর বাল্যশিক্ষা ঘটেছিল কাশীতে, তিনি সংস্কৃতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি ভালভাবে শিখেছিলেন, কিন্ত্র বাংলা চর্চার তেমন সুযােগ পান নি।'

         তাঁর নিজের আগ্রহ ছিল ইংরেজি, মার্কিন, ফরাসী ও য়ুরােপীয় কবিদের প্রতি। তাঁরাই তাঁর কাব্যের আদর্শ ছিল। 'সংবর্ত' কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত জানিয়েছেন, মার্লার্মে প্রবর্তিত কাব্যাদর্শই আমার অন্বিষ্ট : আমিও মানি যে কবিতার মুখ্য উপাদান শব্দ।

     তাঁর সমসাময়িক বাংলা কবিতার প্রতি তিনি তেমন আগ্রহ বােধ করেন নি।

     তাঁর অগ্রজ কবি রবীন্দ্রনাথ ছাড়া তিনি বিষ্ণু দের 'চোরাবালি' পড়ে তাঁর লেখার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। 

      তা ছাড়া তার মতে বুদ্ধদেব বসুর মতাে সাবলীল লেখক এ-দেশে বেশি জন্মায়নি।'

   কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কবি জীবনানন্দ দাশ কিংবা অমিয় চক্রবর্তীর কবিতার প্রসঙ্গে তাঁর কোন রকম অভিমত আমরা পারিনি।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো,  তার মতাে বিষ্ণু দে এবং বুদ্ধদেব বসুও বিশ্ব-সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল ছিলেন।

      মধুসূদনের মতাে তিনিও প্রচলিত বাংলা কাব্য রীতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তাই তিনি বাংলা কবিতার প্রবাহমান ঐতিহ্যে, যুয়োরোপীয় আধুনিকতার সঞ্চার করতে, মধুসূদনের মতােই উদ্যোগী হয়েছিলেন। মধুসূদনকে, ভারতচন্দ্রের গ্রাম্যতা দোষযুক্ত রসঘন কবিতা, তৃপ্তি দিতে পারে নি। যেমন সমসাময়িক কবিরা সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে পরিতৃপ্ত করতে পারেন নি। কাব্য রচনায় মধুসূদনের মতাে তাকেও প্রচুর সময় দিতে হয়েছিল, কবিতার সমসাময়িক প্রচলিত রচনারীতিকে অগ্রাহ্য করে, বিকল্প শব্দ ব্যবহারে।

        বুদ্ধদেব বসুর কথায় জানতে পারি, 'তিনিই একমাত্র কবি, যিনি বাংলা ও বাংলায় ব্যবহার যােগ্য প্রতিটি সংস্কৃত শব্দের নির্ভুল বানান জানতেন, এবং শব্দতত্ব ও ছন্দশাস্ত্র বিষয়ে যাঁর ধারণায় ছিল জ্ঞানাশ্রিত স্পষ্টতা। এই শব্দের প্রেমিক শব্দকে প্রতিটি সম্ভবপর উপায়ে অর্জন করেছিলেন ; জীবনব্যাপী সেই সংসর্গ ও অনুচিন্তনের ফলেই সম্ভব হয়েছিল 'দ্বিধা-মলিদা' বা 'গুরু-অগুরু'- মতাে বিস্ময়কর অথচ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অন্ত্যানুপ্রাস।'


- " রহস্যের অনড় অভিধা

মুকুরিত সরোবরে, হতবাক দ্রুমে

প্রবিষ্ট নিবিড় ছায়া, বহিরঙ্গে বিশীর্ণ মলিদা;

অবলুপ্ত জনপদ ইন্দ্রনীল ধূমে,

ঘরে ঘরে প্রদোষের দ্বিধা।

 - "অগ্রহায়ণ" (কবিতা)।


                  এখানে 'মলিদা' মানে সূক্ষ্ম পশমী শীতবস্ত্র।

তখন তাঁর কবিতার যথার্থ দুরূহতার কারণ বােঝা যায়। অবান্তরকে বর্জনের উদ্যোগ মধুসূদনের মতাে তাঁরও ছিল স্বাভাবিক প্রবণতা।

            গতানুগতিক কবিতা রচনায় প্রথম থেকেই তাঁর আপত্তি ছিল। তিনি কবিতার পরিমার্জনে বিশ্বাসী ছিলেন। কাব্য প্রকাশে তিনি নতুনত্বের সাহায্যে পাঠকের চৈতন্যকে জাগিয়ে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন। প্রবাহমান ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করেই কবিতার রূপান্তর সম্ভব, এ কথা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন। তার কাব্য ভাবনা, 'উক্তি ও উপলব্ধির' সাযুজ্য সন্ধানে ব্যাপৃত ছিল। কাব্য রচনায় তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম অনুধাবনীয়।

            তিনি বলতেন, কবির উদেশ্য তার চারপাশের অবিচ্ছিন্ন জীবনের সঙ্গে প্রবহমান জীবনের সমীকরণ। কবির ব্রত তার স্বকীয় চৈতন্যের রসায়নে শুদ্ধ চৈতণ্যের উদ্ভাবন।' 

           তিনি বুঝতেন, 'অন্তপুরে বসে রূপকথার রাজপুত্রের স্বপ্ন দেখা কাব্যের কাব্য-কথা আর চলবে না। তাকে বেরিয়ে আসতে হবে, পােকায়া-খাওয়া শিরােপা, মরচে-পড়া সাঁজোয়া, রজ্জুসার জয়মাল্য ফেলে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে হাটের মাঝে, যেখানে পাপ-পুণ্য, ভালাে-মন্দ, দেব-দানব সমস্বরে জটলা পাকাতে ব্যস্ত।

তার মতে 'মহাকবি তিনিই, যিনি দৃশ্যমান বস্তুমাত্রের প্রচ্ছন্ন উদ্দীপনা শক্তিকে নিজের শরীরে ধরে, সেই দুর্বল উত্তেজনাকে অনুকূল ঘটনা চক্রের অনুগ্রহে, পাঠকের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে দেন... কাব্য রচনার উপলক্ষে কোনও অলৌকিক প্রেরণা কবিকে পেয়ে বসে না।' তিনি বলতেন নির্বিরােধ-ন্যায়ের সত্য আদর্শই মহৎ কাব্যের প্রধান উপজীব্য।'

        তিনি মনে করতেন 'যখন সাহিত্য আর সংবাদপত্রের মধ্যে কোনও ব্যবধান থাকে না, তখন মন প্রাণ, বা আত্মিক সম্পদের জন্য গৌরববােধ কবির কর্তব্য নয়, তার আরাধ্য মাত্রা - জ্ঞান আর তন্ময়তা।'


চার).


       কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রধানতঃ দুঃখবাদের প্রবক্তা। প্রসঙ্গতঃ তার ভাষায়- 'কৃত্রিম কল্পনা ত্যাগ, নিরাসক্ত অসাধ্য সাধন, অনন্ত প্রস্থান মিথ্যা, সত্য শুধু আত্ম পরিক্রমা।' 

    মােহিতলাল আবার বলেছেন, 'সত্য শুধু কামনাই মিথ্যা চিরমরণ পিপাসা।'  যতীন্দ্রমােহন সেনগুপ্ত, মােহিতলাল মজুমদার এরাও দুঃখবাদী কবি। তফাৎ শুধু এদের শিকড় ভারতীয় দুঃখবাদী দর্শনে প্রােথিত, আর সুধীন্দ্রনাথের দুঃখবাদের আশ্রয়-বােদলয়ের, মালার্মে, ভ্যালেরী প্রভৃতি কবিদের কাছে।

      'ক্রন্দসী'-তে যে সব কবিতা সংকলিত হয়েছে, তাতে দুঃখবাদ ও হতাশীর ক্ষরণ লক্ষ্যণীয়।

      নরক' কবিতায় তার শূন্যবাদী দর্শনের চিত্ররূপময়তা-


' জীবনের সার কথা পিশাচের উপভােগ্য হওয়া

নির্বিকারে, নির্বিবাদে সওয়া

শবের সংসর্গ আর শিবার সদভাবে।'


এরপরে কবি সিদ্ধান্তে আসেন -


'অমেয় জগতে

নিজস্ব নরক মোর বাঁধ ভেঙে ছড়ায়েছে আজ

মানুষের মর্মে মর্মে করিছে বিরাজ

সংক্রমিত মড়কের কীট,

শুকায়েছে কালস্রোত ; কর্দমে মেলে না পাদপীঠ 

অতএব পরিত্রাণ নাই

যন্ত্রণাই জীবনের একমাত্র সত্য, তারই নিরুদ্দেশে

আমাদের প্রাণ যাত্রাসাঙ্গ হয় প্রত্যেক নিমেষে।'


          'অর্কেস্ট্রা' ও 'উত্তর ফান্ধুনী' মূলতঃ প্রেমের কবিতার বই । অনাদি যুগের যত চাওয়া যত পাওয়া।

সুধীন্দ্রনাথের প্রেমের কবিতায় তেমন উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে না মোটেও। 


"খেলাচ্ছলে শুধিয়েছিলাম, "তােমার প্রেম

নই কি আমি প্রথম আগন্তক ?"

অবাক বিষাদ এল তােমার চক্ষে নেমে

রক্তে ভাটা, ফিরিয়ে নিলে মুখ।"


অন্যত্র আবার দেখি -


"তােমারে যে কেন বাসি ভালাে,

সে-সত্য জানার আগে মিলনের মুহূর্ত ফুরাল

শুরু হলাে দীর্ঘায়িত বিচ্ছেদের রাতি।"


কিংবা


"তােমারই কেশের প্রতিচ্ছায়

গােধূলীর মেঘ সােনা হয়ে যায়,

পাকা দ্রাক্ষার অরাল লতায়

তােমারই তনুর মদিরা ভরা। "


       ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থে সুধীন্দ্রনাথ আরাে বিস্তারে ও গভীরতায় ডুবেছেন। আত্মসন্তুষ্টির অভাব, পুরনাে পৃথিবীর নিঃশেষিত মূল্যবােধ সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধির প্রকাশ ঘটেছে এই কাব্যগ্রন্থের প্রায় সব কবিতায়। 'সৃষ্টি রহস্য', 'নরক', 'প্রার্থনা' প্রভৃতি কবিতাগুলাে- দুঃখবাদ ও হতাশায় আক্রান্ত।


"কিছুরই কি নেই অব্যাহতি ?

জীবনের মরুপ্রান্তে স্মরণ অখ্যতি বসতি,

তারেও করিবে ছারখার

রক্তলােভাতুর তব দিগ্বিজয়ী শকট দুর্বার

হে কাল হে মহাকাল।"


 'উটপাখী'-র মতাে হাল্কা মেজাজের তির্যক কবিতা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত আর একটিও লেখেননি।


"কোথায় পালাবে? ছুটবে বা আর কত ?

উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা।

প্রাক-পুরানিক বাল্য বন্ধু যত

বিগত সবাই, তুমি অসহায় একা।

....................................................

ফাটা ডিমে আর তা দিয়ে কী ফল পাবে?

মনস্তাপেও লাগবে না ওতে জোড়া।

অখিল ক্ষুধায় শেষে কি নিজেকে খাবে?

কেবল শূন্যে চলবে না আগা গোড়া।'

ছন্দে-মেজাজে-আচরণে-অনুভবে, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসৃষ্টির অন্যতম দৃষ্টান্ত -

"সেদিনও এমন ফসল বিলাসী হাওয়া

মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে

অনাদি যুগের যত চাওয়া যত পাওয়া

খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে।

একটি কথার দ্বিধা থর থর চুড়ে

ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী

একটি নিমেষ দাঁড়াল সরণী জুড়ে

থামিল কালের চির চঞ্চল গতি,'

[শাশ্বতী]

     

           স্পষ্ট কোনাে রাজনৈতিক বিশ্বাস তার কবিতায় ধরা পড়েনি। তিনি যেমন হিটলারের শাসনে শঙ্কিত, তেমনি স্ট্যালিনের উখানেও উদ্বিগ্ন। 


           যযাতি' কবিতায় তিনি বলেছেন -


"আমি বিংশ শতাব্দীর

সমান বয়সী ; মজ্জমান বঙ্গোপসাগরে, বীর

নই, তবু জন্মাবধি যুদ্ধে যুদ্ধে বিপ্লবে বিপ্লবে

বিনষ্টির চক্রবৃদ্ধি দেখে, মনুষ্যধর্মের স্তরে

নিরুত্তর, অভিব্যক্তিবাদে অবিশ্বাসী, প্রগতিতে

যত না পশ্চাৎপদ, ততােধিক বিমুখ অতীতে।"


কিংবা –


"তবু জানি যবে জয় হবে বলেছিলে

চাওনি তখন তুমিও এ-পরিনাম :

শূন্যে ঠেকেছে লাভে লােকসানে মিলে,

ক্লান্তির মতাে, শান্তিও অনিকাম,

এরই আয়ােজন অর্ধশতক ধ'রে,

দু-দুটো যুদ্ধে, একাধিক বিপ্লবে

কোটি কোটি শব পচে অগভীর গােরে,

মেদিনী মুখর একনায়কের স্তবে !"


      সমসাময়িক কবিকুল, যখন দেখি, জনপ্রিয়তায় উদগ্র লালচে প্রচারের আলােয় উদ্ভাসিত হবার জন্য যতটা উদ্গ্রীব, সৃজনের ব্যাপারে ততটা যত্নশীল নন। তখন আশ্চর্য লাগে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের জনপ্রিয়তার মােহ সযত্নে বিষবৎ পরিত্যাগের পরিকল্পনাকে।


      এইসব জেনে বুঝেই কী জনপ্রিয় কবি জয় গােস্বামী বলেন -


'তার যে কী হবে আমি জানি না।

সে তাে কবি বেশী কিছু জ্ঞানী না।'


এমন কথা কেউ ভাবতে পারেন, মনে করেই বােধহয় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বলেছিলেন,


"কবিদের কান্ডয় জনসাধারণ যতই হাসুক না কেন, তবু তার সম্বন্ধে কিংবদন্তীর অন্ত নাই। এই রূপকথাগুলাের মধ্যে যেটা সবচেয়ে দুর্মর ও রহস্যময়, সে হচ্ছে প্রেরণা নামক এক অলৌকিক শক্তি। যারা কবিতা লেখেন না, শুধু পড়েন, যারা লেখা, পড়া কিছুরই ধার ধারেন না, তারা যদি ভাবেন যে কাব্যরচনার জন্য বিদ্যা-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা, সাধনা-সংযম, এ সমস্তই অনাবশ্যক, প্রয়ােজন শুধু অখন্ড অবসর আর অপার দৈবানুগ্রহ, তবে প্রতিবাদ করে লাভ নেই।"


              কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা, পাঠকের কাছে, দুর্বোধ্য বা দুরূহ মনে হলেও, তাঁর কবিতায় একটিও উদ্ভট বা অসংলগ্ন শব্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

        যদি কেউ বারবার তার কবিতা পড়েন, শব্দের অর্থ বুঝবার জন্য অভিধানের সহায়তা গ্রহণ করেন, তবে তিনি তার (সুধীন্দ্রনাথ দত্তের) কবিতার রস গ্রহণে সক্ষম হবেন, তাঁর কবিতা পাঠে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা চলে। এ কথা আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

     সামগ্রিক ভাবে, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, আধুনিক বাংলা কবিতার আসরে- বিশিষ্ট, স্বতন্ত্র এবং অভিনব, এ কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। মেধা-মনীষা এবং সচেতন কারুকৃতির অন্যতম পথিকৃত কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। পরিশেষে স্বীকার করি, যদিও আমি তার অনুগামী (যারা তাঁর মতো লিখতে চান) নই, তবুও তাঁর কাব্য-প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বকে  অস্বীকার করতে পারি না।




Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

ছোটগল্প ।। গিরগিটি ।। উত্তম চক্রবর্তী

গিরগিটি উত্তম চক্রবর্তী লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল আমার । কোথায় দেখেছি কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই সে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যায় বড় রাস্তার দিকে । আমি গলির ভিতরে যেতে যেতে চিন্তা করছিলাম কে এই লোকটা , ওকে আগে আমি কোথায় যেন দেখেছি । সন্তু ওর বাড়ির দরজাতেই দাঁড়িয়েছিল । আমি এখন ওর বাড়িতেই যাচ্ছি নোট আনতে । সন্তুকে দেখে আমি ওকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,    'হ্যাঁরে সন্তু , এইমাত্র যে লোকটা এই গলি দিয়ে বের হল , ওই যে ওই যে পিছনটা দেখা যাচ্ছে রে , ওই লোকটা কে রে , চিনিস ? কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি মনে হচ্ছে , কিন্তু মনে পড়ছে না । ' সন্তু ঘাড় উঁচু করে দেখে বলল , 'আরে ও তো আমার ছোটো মামা জগাই মণ্ডল। কাল রাতে এসেছে । তোদের কৃষ্ণ নগরের লোক । ওখানেই থাকে । নীল দলের খুব বড় একজন লিডার মানুষ । তুই হয়ত মামাকে কোন মিটিং মিছিলে দেখে থাকবি । '  আমি চুপ করে ভাবতে থাকলাম, হবে হয়ত । আমার বাড়ি কৃষ্ণ নগরে দর্জি পাড়া অঞ্চলে। কিন্তু আমি কলকাতায় মেস বাড়িতে থেকে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস সি করছি। মাসে একবার কৃষ্ণ নগরে বাড়িতে যাই। হয়ত ওনাকে দেখেছি কোথাও। সন্তুর ব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮