Skip to main content

ছোটগল্প ।। অলোক দাস




প্রতিশোধ


আমার কাবেল দাদু এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব। আমার নিজের দাদু অবশ্য নয়, আমার বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। সেই খুব ছোটবেলা থেকে তার রঙ্গ-তামাশা দেখে আসছি। তার রঙ্গ-তামাশায় আমি সব সময় মুগ্ধ হয়; শুধু আমি কেন, যারা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। সবসময় তার ছেলে মানুষী লেগেই আছে। তার মেলামেশা করার মানুষের কোন বয়সসীমা নেই; বাচ্চা থেকে বুড়ো সব ধরনের মানুষের সাথেই তার খুব গভীর সম্পর্ক। তাই বুড়ো থেকে ছোকরা সবাই কাছে সে কেষ্ট খুড়ো হয়ে উঠছে। মানে তার নাম কৃষ্ণপদ দাস; তাকে সবাই কেষ্ট খুড়ো বলে ডাকে, আর আগেই বলেছি আমি ডাকি কাবেল দাদু বলে।

কাবেল দাদুর শরীর এখন ভাঙতে শুরু করেছে, বয়স হচ্ছে তো। তার বয়স প্রায় ষাট পেরিয়ে গেল। তার সেই বলিষ্ঠ  শরীরে এখন পাঁজর দেখা দিচ্ছে। কিন্তু তার মানসিক জোর একই রকম আছে; যৌবনে যেমন ছিল, এখনও তাই আছে। এতটুকুও পরিবর্তন ঘটেনি। সারাক্ষণ গল্প আড্ডায় মেতে থাকে, আর সবাইকে মাতিয়ে রাখে। কিন্তু তার যেন কোনো ক্লান্তি নেই, নিজের ঘরে তাকে খুব কম সময়ই দেখা যায়। কাজ না থাকলে সে কোথাও না কোথাও আনন্দে মত্ত হয়ে থাকবেই।

 ছোটো গ্রাম, লোক বসতি কম বললেই চলে। তবে আমাদের গ্রামের বেশ কয়েকজন ছেলের উদ্যোগে একটা ক্লাব এখনও টিকে আছে। ক্লাবের ছেলেরা সারাদিন যে যার মতো কাজ করে; ক্লাবের পাশেই খেলার মাঠ, বিকালে মাঠে খেলাধুলা করে, আর রাতে ক্লাবে আড্ডা মারে। তবে ওই ক্লাবটা আমাদের সময়ে গঠিত নয়। কাবেল দাদু যখন যুবক ছিল তখন দাদু ও তার বয়সী বেশ কয়েকজন গ্রামের ছেলে মিলে ক্লাবটি তৈরি করে। ক্লাবের ইতিহাসটা আমি কাবেল দাদুর মুখেই শুনেছি। খুব কষ্ট করে তারা এই ক্লাবটি গঠন করেছিল। তখন অবশ্য ক্লাবটি মাটির ছিল, এই বেশ কয়েক বছর হল সেটি পাকার হয়ে গেছে। 

 দাদু খেলা খুব ভালোবাসেন। আমরা যখন ক্লাবে ভারতের ক্রিকেট খেলা দেখি তখন তার উত্তেজনা ও চেঁচামেচি সবথেকে বেশি থাকে। আমাদের তাকে দেখে মনে হয় সে একাই যেন চেঁচিয়ে ভারতকে জিতিয়ে দেবে। তাছাড়া আমরাও বিকালে মাঠে যখন খেলি দাদুর কাজ না থাকলে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত থাকে। আর খেলার বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিতেই থাকে। তবে অনেকের মুখে শুনেছি দাদু যখন যুবক ছিল ক্রিকেট ও ফুটবল দুটো খেলাতেই খুব পারদর্শী ছিল। সেই জন্যই হয়তো খেলার প্রতি অনুরাগটা তার এখনও থেকে গেছে। 

 দাদুর সম্পর্কে একটা কথা শুনে আমি খুব অবাক হয়। সেটা হচ্ছে দাদু ভূত-প্রেত খুব দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে। দাদু নাকি নিজের চোখে অনেক ভূত-প্রেত দেখেছে। এমনকি ভূতের সাথে কথা পর্যন্ত বলেছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ভূতের সাথে কথা বলতে তার ভয় করেছিল কিনা। সে বলেছিল ভয় করবে কেন, ভূত তার কথা বলেছে, আমি আমার কথা বলেছি। তবে আমি যে খুব দৃঢ় ভাবে ভূত-প্রেত বিশ্বাস করি তা ঠিক নয়, আবার অবিশ্বাসও করতে পারি না। ভূতের কথা শুনলেই আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগে। কাবেল দাদু নিজের জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া গল্প বলতে খুব স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধু দাদুর গল্প শুনতেও খুব ভালোবাসি। দাদুকে যখনই গল্প বলতে বলি, কোনো না কোনো গল্প দাদু ঠিকই বলে। আর সেটা শুনে আমরা আনন্দও পাই। তবে যেসব গল্প দাদু বলে থাকে তার মধ্যে বেশির ভাগই ভূতের ঘটনা। সেই সব ঘটনাগুলো দাদু নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে।

 দাদুর গল্প বলার প্রধান জায়গা হচ্ছে আমাদের খেলার মাঠ। দাদুর যদি কোন কাজ না থাকে প্রতিদিন খেলার শেষে একটা করে গল্প আমরা শুনি। গল্পের শ্রোতা থাকে আমি ছাড়া আমার তিনজন বন্ধু ও দুজন দাদা। বন্ধুদের গ্রামেতেই বাড়ি এবং দাদা দুটো নিজের নয়, পাড়াতুতো। তাছাড়া এক একদিন আরও দু- একজন শ্রোতা জুটে যায়। শ্রোতাদের নামগুলো বলে রাখাটাই ভালো; তিনজন বন্ধু বিজয়, অপূর্ব ও আশিষ এবং বিকাশদা ও অমিয়দা।

প্রতিদিনের মতো আজকেও আমরা খেলা শেষে মাঠে বসে আছি। গ্রীষ্মকাল, বাড়িতে সারাদিন থেকে গরমে প্রাণ যেন হাঁপিয়ে উঠেছিল; বিকালে ঠান্ডা বাতাসে মন প্রাণ সব তৃপ্তি পেল। পাশের গ্রাম থেকে একটা বাজনার আওয়াজ ভেসে আসছিল। এই সময় প্রত্যেক গ্রামেই পূজা হয়ে থাকে, সেই পূজা ও বাজনা নিয়েই বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। হঠাৎ কাবেল দাদুর আগমন, আমাদের উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা, "কিরে কিসের আড্ডা চলছে?"

অপূর্ব বলল, "এই পাশের গ্রামে পূজো হচ্ছে, ওই নিয়েই আলোচনা করছিলাম।"

দাদু বলল, "হ্যাঁ, আজ হরিশ্চন্দ্রপুরে পূজো আছে, খুব ভালো বাজনা করেছে শুনলাম।"

অপূর্ব বলল, "এইতো শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।"

দাদু বলল, "বাজনাটা কি সুন্দর বাজছে না, শুনতে বেশ ভালো লাগছে।"

অপূর্ব বলল, "হ্যাঁ।"

দাদু বলল, "জানিস, পাশের গ্রামে পুজোর কথা শুনে আমার একটা গল্পের কথা মনে পরে গেল।"

অমিয়দা আজ খেলতে আসেনি, তার আজকে কি কাজ আছে। বিকাশদা আমার পাশেই বসেছিল, সে বলল, "কেষ্টখুড়ো তোমার গল্প শোনার অপেক্ষাতেই তো আছি। তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন বসো, তোমাকে কি নেমন্তন্ন করতে হবে।"

বিকাশদা আর অমিয়দা দাদুকে কেষ্টখুড়ো বলে ডাকে। দাদু বিকাশদার দিকে তাকিয়ে বলল, "তোরা তো আমাকে প্রতিদিন নেমন্তন্ন করিস, ওই জন্য তো আমি আসি।"

বিকাশদা বলল, "ভণিতা না করে গল্পটা বলো, এক্ষুনি সন্ধে হয়ে যাবে। বাড়ি যেতে হবে তো নাকি।"

দাদু আমাদের পাশে বসলো, আমরা তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসলাম। দাদু তার দেখা একটা ঘটনা বলতে লাগলো।

 বুঝলি এই রকমই একদিন বিকালে আমরা বেশ কয়েকজন ছেলে ক্রিকেট খেলা শেষ হলে, মাঠে বসে গল্প করছি। সেই সময় মন্টুদা এসে আমাদেরকে বলল, "তোরা আজকে কেও আমার সাথে পলাশপুরে মেলা দেখতে যাবি?"

পলাশপুর কিছুটা দূরেই, তোরা সবাই জানিস। আর মন্টুদাকে তোরা চিনতিস, বছর দুয়েক আগে মারা গেল।  আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কখন মেলা দেখতে যাবে মন্টুদা?"

 মন্টুদা বলল, "এখনই বেরিয়ে যাবো, বিকাল থেকে মেলা আরম্ভ হয়ে গেছে। কৃষ্ণ তুই যাবি?"

আমি বললাম, "গেলে তো ভালোই হতো, অনেকদিন মেলা দেখা হয়নি।"

সন্টুর বাবা গোপালকে জানিস, তখন গোপালও ওখানে ছিল। সে বলল, "মন্টুদা কৃষ্ণ যদি যায়, তাহলে আমিও যাব।"

আমি বললাম, "চল, ঘুরে আসা যাক তাহলে।"

আমরা তখন চলে যাচ্ছি তোদের অসিতদাদু বলল, "আমারও যেতে ইচ্ছা করছে, আমিও তোদের সঙ্গে যাব রে।"

আমি বললাম, "যেতে ইচ্ছা করছে তো বসে আছিস কেন, চলে আয়, এক্ষুনি সন্ধ্যা হয়ে যাবে তো।"

মন্টুদা আমার থেকে চার বছরের বড়ো ছিল। মন্টুদা প্রচন্ড সাহসী; অন্যায় দেখলে মন্টুদা চুপ করে থাকতে পারত না, প্রতিবাদ সে করবেই। তবে মন্টুদা খেলাধুলা করতে পারত না, আমরা যখন খেলা করতাম তখন সে আমাদের খেলা দেখতো। তবে মন্টুদা আড্ডা দিতে খুব ভালোবাসত, প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় ক্লাবটা সে একাই মাতিয়ে রাখতো। পলাশপুরে দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে  প্রতিবছর একদিন মেলা হতো, এখনও অবশ্য হয়। আমাদের গ্রাম থেকে প্রতিবছর অনেকেই পলাশপুরে মেলা দেখতে যেত।

আমরা সেদিন চারজন যখন পলাশপুরে মেলা দেখতে গেলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। চারজনে চারটি সাইকেলে করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম। পলাশপুর সাইকেলে করে কুড়ি মিনিটের রাস্তা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেলায় পৌঁছে গেলাম। একদিনের মেলা হওয়াই মেলায় ভীষণ ভিড় হয়েছিল, স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করা যাচ্ছিল না। সেজন্য বেশিরভাগ লোক নিজেদের পরিচিত মানুষের সাথে দল বেঁধে মত্ত ছিল। আমরাও একদল ছেলের সাথে গল্প করছিলাম, তবে তাদেরকে আমি চিনি না, মন্টুদা তাদের ভালো করে চিনতো। একটু রাতের দিকে মেলার ভিড় কিছুটা কমে এলে, আমরা চারিদিক ঘুরে ভালো করে সবকিছু দেখলাম। মেলাতে পেট পুরে খাওয়া দাওয়াটাও বেশ ভালোই হলো। অনেকদিন পর কোথাও মেলা দেখতে গিয়ে বেশ আনন্দ পেলাম। মেলাতে লোকের ভিড় বেশ কিছুটা কমে এলে আমরাও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মেলা থেকে আমরা যখন বেরোলাম তখন ঘড়িতে প্রায় বারোটা বেজে গেছে। ফাঁকা রাস্তায় চারজন গল্প করতে করতে আসতে বেশ ভালোই লাগছিল। প্রায় অর্ধেক রাস্তা আসার পর একটা ঘটনা ঘটল; সেটা আমরা ঠিক আশা করিনি। মন্টুদা আমাদের সাথে আসতে আসতে কিছুটা পিছিয়ে গেল; আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদেরকে ফেলে রেখে বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে এলো। আমরাও সাইকেল একটু জোরে চালালাম, কিন্তু মন্টুদাকে ধরতে পারলাম না। মন্টুদা হঠাৎ আমাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। 

সাইকেলের গতি আমরা কমিয়ে দিয়ে যেরকম আসছিলাম আবার সেরকম আসতে লাগলাম। অসিত আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, "মন্টুদার এটা উচিত হয়নি, আমাদেরকে এনে এভাবে ফেলে রেখে চলে গেল!"

আমি বললাম, "মন্টুদাতো এরকম করে না, হঠাৎ কিছু না বলে একা চলে গেল। কোন বিপদ হয়েছে কিনা কে জানে।"

গোপাল বলল, "কিন্তু কিছু না বলে একা যাওয়ার কি দরকার ছিল, আমাদেরকে বললে আমরাও জোরে সাইকেল চালিয়ে চলে যেতাম।"

গল্প করতে করতে আমরা বাড়ি পৌঁছালাম। গোপালের বাড়ির পাশেই মন্টুদার বাড়ি, সেটা তোরা সবাই জানিস। আমি বললাম, "মন্টুদা কি জন্য তাড়াতাড়ি চলে এলো দেখে আসি চল।"

তিনজনে মন্টুদার বাড়ি গেলাম; দেখলাম মন্টুদার দাদা সিন্টুদা এক ঘুম দিয়ে বাইরে উঠেছে। আমাদেরকে দেখে জিজ্ঞেস করল, "কিরে তোদের মেলা দেখা হয়ে গেল।"

অসিত বলল, "হ্যাঁ, কিন্তু মন্টুদা তাড়াতাড়ি চলে এলো কেন গো, কোন বিপদ হয়েছে নাকি।"

একথা শুনে সিন্টুদা অবাক হয়ে বলল, "কই, মন্টু তো এখনও বাড়ি ফেরেনি।"

মন্টুদা সিন্টুদার সাথেই রাতে ঘুমাতো। সুতরাং মন্টুদা বাড়ি ফিরলে সিন্টুদা জানবে। আমি বললাম, "কিন্তু মন্টুদাতো আমাদের আগে চলে এসেছে। "

সিন্টুদা বলল, "বাড়িতে সে এসে পৌঁছায়নি তো। কখন ও এসেছে?"

আমরা সমস্ত ঘটনাটা সিন্টুদাকে বললাম। সিন্টুদা অবাক হয়ে কি যেন ভাবলো, তারপর বলল, "তোরা আমার সাথে চল, দেখি সে কোথায় রইল।"

আমরা সাইকেলগুলো রেখে হেঁটে হেঁটে যেদিকে এসেছিলাম, ওই পলাশপুরের দিকে , রাস্তার দুপাশে খুঁজতে খুঁজতে চারজনে গেলাম। আমাদের কাছে দুটো টর্চ ছিল, তাই খুঁজতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল। চারজনের কাছে চারটি টর্চ থাকলে ভালো হতো। আমি সিন্টুদাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, "মন্টুদা যে কোথায় গেল। কিন্তু এভাবে খুঁজলে মন্টুদাকে কি আমরা পাব। মন্টুদা কি কোথাও পরে থাকবে?"

সিন্টুদা কোন কথা বললো না। সে শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চারিদিকে মন্টুদাকে খুঁজতে লাগল। কিছুক্ষণ খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে ওই নিমপুকুরের আগে রাস্তার ধারে জমিতে মন্টুদার সাইকেলটা পরে থাকতে দেখলাম। তোরা নিশ্চয় নিমপুকুর কোনটাকে বলে জানিস? 

আশিষ বলল, "হ্যাঁ জানি, তারপর তোমার মন্টুদাকে কোথায় পেলে?"

কাবেলদাদু বলল, "বলছি।"

সাইকেলটা আমরা রাস্তায় রেখে মন্টুদাকে আশেপাশে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু ওই জায়গায় কোথাও পেলাম না। তখন ওই নিমপুকুরের রাস্তার ধারের দক্ষিণ পাড়টা শ্মশান ছিল; এখন আর ওখানে মরা পোড়ানো হয় না, তোরা সেটা জানিস। আর ওই শ্মশানের পাশেই একটা বড়ো বটগাছ ছিল। আমরা মন্টুদাকে খুঁজতে খুঁজতে ওই শ্মশানে চলে গেলাম। পুকুরের পুরো পাড়টা, এমনকি জলের ধারে পর্যন্ত দেখলাম; কিন্তু মন্টুদাকে দেখতে পেলাম না। 

আশিষ বিরক্ত হয়ে বলল, "মন্টুদার যে কি হয়েছিল কে জানে, শুধু শুধু জোরে আসার কি দরকার ছিল।"

সিন্টুদা ধমক দিয়ে বলল, "বাজে না বকে ভালো করে খোঁজ, সাইকেলটা যখন পাওয়া গেছে আশেপাশেই কোথাও থাকবে।"

আমরা কোনো কথা না বলে চারিদিক ভালো করে খুঁজতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর সিন্টুদাই মন্টুদাকে দেখতে পেয়েছিল। সিন্টুদা আমাদেরকে ডাকলো, আমরা তাড়াতাড়ি তার কাছে গেলাম, দেখলাম সিন্টুদা ভয়ে কাঁপছে। কিন্তু মন্টুদাকে তার কাছে দেখতে পেলাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি হল সিন্টুদা।"

সিন্টুদা কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু টর্চের আলোটা শ্মশানের বটগাছের কিছুটা উপরে ফেললো। আমরা সেদিকে তাকিয়ে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। দেখলাম বটগাছের কান্ডটার যেখান থেকে শাখা-প্রশাখা ভেঙেছে, সেখানে একটা শাখায় ঠেস দিয়ে অচৈতন্য অবস্থায় মন্টুদা বসে আছে। আমরা ধরাধরি করে গাছ থেকে মন্টুদাকে নামালাম। তারপর সাইকেলের পিছনে বসিয়ে চারজনে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম। ততক্ষণে মন্টুদার বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে। সবাই ধরাধরি করে তাকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে শোয়ানো হলো। তারপর তার অচৈতন্য চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিতেই আস্তে আস্তে তার জ্ঞান ফিরে এলো। সে উঠে বসল, কিন্তু তার ভাবভঙ্গি দেখে স্বাভাবিক মনে হলো না। তার চোখ ঘরের চারিদিক ঘুরছে, দেখে মনে হলো সে যেন কিছু খুঁজছে। তারপর তার চোখের স্থির দৃষ্টি ঘরের মধ্যে থাকা লোকের উপর পড়ল। সেই দৃষ্টি দেখে আমি ভয়ে চমকে গেলাম। এই ভয়ঙ্কর দৃষ্টি মন্টুদার নয়, তার চোখের মধ্যে যেন বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। 

আমাদের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে মন্টুদা ভাঙা ভাঙা স্বরে তীব্র ভাবে বলল, "কি হয়েছে, এই ঘরে এতো লোকজন কেন?"

আমি এই ভয়ঙ্কর স্বর শুনে দু-পা পিছিয়ে এলাম। মনে মনে ভাবলাম এই স্বর তো মন্টুদার নয়, অচেনা মানুষের গলার স্বর। কোনদিন শুনেছি বলে মনে হলো না। সবাইকে দেখে মনে হলো আমার মতোই খুব ভয় পেয়ে গেছে। সিন্টুদা মনে হয় আগে থেকেই কিছু একটা আন্দাজ করেছিল। সেই জন্য আমাদেরকে চুপচাপ মন্টুদাকে খুঁজতে বলছিল, কোনো কথা তখন থেকে বলেনি। সিন্টুদার চোখে মুখে আমি কোনো ভয় দেখতে পেলাম না। সে বেশ স্বাভাবিক ভাবে মন্টুদাকে জিজ্ঞাসা করল, "কে আপনি?"

এই কথা শুনে আমি একটু অবাক হলেও পরক্ষণেই ভাবলাম, এই প্রশ্নের অর্থ মন্টুদার শরীরে কোনো প্রেতাত্মা প্রবেশ করেছে। মন্টুদা একপ্রকার ভয়ঙ্কর হেসে কর্কশ স্বরে বলল, "আমি নিতাই মন্ডল।"

এই কথা শুনে আমি আরও ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ মাসদুয়েক আগেই নিতাই মন্ডল মারা গেছে। শুনেছিলাম কোনো রাজনৈতিক দলের লোকেরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। ওই নিমপুকুরের শ্মশানেই তাকে পোড়ানো হয়েছিল। সিন্টুদা আবার স্বাভাবিক কন্ঠেই জিজ্ঞাসা করল, "তা আপনি ওর ওপর ভর করেছেন কেন?"

মন্টুদা আবার ভাঙা ভাঙা স্বরে বলল, "প্রতিশোধ নেবো বলে। ওরা আমাকে বিনা অপরাধে পিটিয়ে মেরে ফেললো, আমি তো ওদের কোনো দোষ করিনি। আমি শুধু ওদের বিরোধী দলে ছিলাম। ওদের কাজকর্ম আমার ভালো লাগেনি, সুতরাং আমি ওদের বিরোধী দলে থাকতেই পারি।"

সিন্টুদা জিজ্ঞাসা করল, "আপনি ওদের উপর প্রতিশোধ নিন; কিন্তু আপনি মন্টুকে ধরেছেন কেন?"

মন্টুদা আবার কর্কশ স্বরে বলল, "ওকে দিয়েই আমি প্রতিশোধ নেবো। ওর মতো সাহসী পুরুষ আর কে আছে।"

সিন্টুদা আর কোনো কথা বললো না। আমাদের সবাইকে ঘর থেকে বের করে, ঘরে তালা দিয়ে দিল। আর আমাদেরকে বলল, "কেউ যেন এই দরজা না খুলে। কাল সকালে কি করা যায় আমি দেখছি।"

মন্টুদা ঘরের ভেতর থেকে জোরে জোরে চিৎকার করে বলছে, "দরজা খুলে দাও, না হলে আমি দরজা ভেঙে দেব।"

কিন্তু ওই চিৎকার বেশিক্ষণ টিকলো না, কিছুক্ষণের মধ্যেই থেমে গেল। সেই রাতে আর ভালো করে ঘুম হয়নি, এমনিতেই রাত শেষ হয়ে গিয়েছিল; ওই ভোরের দিকে একটু ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে ঘুম ভাঙতেই মন্টুদাদের ঘর চলে গেলাম। দেখলাম প্রচুর লোক জড়ো হয়েছে, কিন্তু ঘরের তালা এখনও খোলা হয়নি। সিন্টুদা ভোরে কোন ওঝার বাড়ি গেছে, সে ফিরলে তারপর তালা খোলা হবে। কিছুক্ষণ পরেই সিন্টুদা দুটো লোককে সঙ্গে করে নিয়ে এলো। তারা এসে দরজাটা খুললো; দেখলো মন্টুদা খাটের উপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। আবার তার চোখে মুখে জল দিয়ে জ্ঞান ফেরানো হলো। কিন্তু সেই কর্কশ গলার স্বর আর শোনা গেল না। এই স্বরটা মন্টুদারই, আমার খুব চেনা। মন্টুদা বলল, "আমার কি হয়েছে, এখানে এতো ভিড় কেন?"

ওঝাটা বলল, "কিছু হয়নি, তুমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে।"

মন্টুদা উঠে বসার চেষ্টা করলো, কিন্তু উঠতে পারলো না। তার শরীর প্রচন্ড দুর্বল ছিল। ওঝাটা বলল, "তোমাকে উঠতে হবে না। তুমি অসুস্থ আছো, ঘুমিয়ে পড়ো।"

সবাইকে সিন্টুদা বাড়ি যেতে বললো। যাবার সময় ওঝা সিন্টুদাকে বলে গেল, "এখন সুস্থ আছে, তবে দুর্বল। ভালো করে খাওয়া দাওয়া করাবেন। আর এখন বাড়ির বাইরে বেড়োতে দেবেন না, বিশেষ করে রাতে।"

তারপর বেশ কয়েকদিন মন্টুদা বাড়ির বাইরে বেড়োয়নি। আমরাই দুবেলা দেখা করতে যেতাম। ক্রমে মন্টুদা সব জানতে পারলো তার সাথে কি হয়েছিল।

এরপর কাবেল দাদু একটু থামল, বুক পকেট থেকে একটা বিড়ি বের করে সেটা ধরালো। 

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার গল্প শেষ হয়ে গেল?"

দাদু বিড়িতে বেশ বড়ো একটা টান দিয়ে বলল, "আর একটু আছে।"

বিড়িটা তাড়াতাড়ি শেষ করে দাদু আবার বলতে লাগল। দিন কুড়ি মন্টুদা বাড়িতে ছিল, ওই রকম চনমনে ছেলে কতদিন আর বাড়িতে থাকবে। তারপর হঠাৎ একদিন একটা ভয়ঙ্কর দূর্ঘটনা ঘটল। মন্টুদাকে একদিন রাতে খুঁজে পাওয়া গেল না। সিন্টুদা আমাদেরকে খবর দেয়। সারারাত খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো টিকি দেখা গেল না। নিরাশা হয়ে আমরা ভোররাতে বাড়ি ফিরে এলাম। তাকে পাওয়া গেল পরের দিন সকালে পাশের গ্রামে অচৈতন্য অবস্থায়। তার সঙ্গে সকালে আর একটা খবরও পাওয়া গেল; দু-তিনটি গ্রাম পরে একটি গ্রামে তিনজন লোক খুন হয়েছে। কারা যেন ধাঁরালো কিছু দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। তিনজন লোকই কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা।

                     __________________



অলোক দাস
গ্রাম- খাটগ্রাম
ডাকঘর- সন্তোষপুর
থানা- গোঘাট
হুগলি, ৭১২৬০২
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মোঃ- ৮৩৪৮৯২৯৬৩০


সহযোগিতা কাম্য

এই সংখ্যার সমস্ত লেখা একত্রিত করে একটি সুসজ্জিত ইবুক তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি সংগ্রহ করতে আগ্রহী হন তাহলে ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ নম্বরে ন্যুনতম ১০ টাকা google pay, phonepe, paytm, freecharge বা amazon pay করতে পারেন। প্রদানের স্ক্রীনশট ওই নম্বরে whatsapp করলেই ইবুকটি পেয়ে যাবেন। সহযোগিতা কাম্য।

 

       




Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রবন্ধ: সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল ।। তৈমুর খান

সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল     মানুষ-নজরুলকে খুঁজতে হলে তাঁর কবিতায়, বিশেষ করে সাম্যবাদী চেতনার আলোকে তাঁর স্বরূপ খুঁজে পাওয়া যাবে।      জীবনে-কর্মে-ভাবনায় তাঁর সার্বিক সাধনার বিষয় মূলত মানুষই। প্রকৃতি-প্রেম-বিদ্রোহ সবকিছুর মূলেই মানুষের অবস্থিতি। এক গভীর একাত্মতায় সেখানে ব্যক্তি হারিয়ে গেছে। তার বদলে রূপ পেয়েছে মানুষ, আর এই মানুষই মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং নজরুলকে এবং মানুষ-নজরুলকে খুঁজে পাই তাঁরই সৃষ্টিতে, ভাবনায় এবং আত্মবিনির্মাণে। দেশের রাজনৈতিক কান্ডারিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন :   "হিন্দু না ওরা মুসলিম ? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন ?   কান্ডারি !বলো, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র !"   তখনই বুঝে নিই নজরুল ভারতবাসী। তাঁর অন্যকোনো পরিচয় নেই ।শুধু 'মানুষ' পরিচয়েই তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চান। তাঁর এই মনুষ্যচেতনা থেকেই সাম্যবাদের জয়গান। কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে আমরা   সহজেই নজরুলকে উপলব্ধি করতে পারি ।    সবার উপরে মানবতাবাদ   কবি নজরুল মানসে দেখতে পাই সবার উপরে এক   সর্বব্যাপী মানবিক বোধ কাজ করেছে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা : উত্তমকুমার পুরকাইত

সে উঠানে দাঁড়ালে সে উঠানে দাঁড়ালে হলুদমাখা সন্ধ্যা নামে চ ন্দনের গন্ধ নিয়ে জ্যোৎস্না আসে চুপে, সে উঠানে দাঁড়ালে মাথার উপরে চাঁদ শুক্লাপক্ষের কুসুম শরীর প্রলয়প্রপাতে; মাথা নাড়লেই দোলনা হয় সে হাত বাড়ালেই জোয়ারের উচ্ছ্বাসে নীল দিগন্তে সে মিটিমিটি হাসে, ভোরের নৈবেদ্য নিয়ে দশহরা মাসে; সে উঠানে দাঁড়ালে মৃত্যুরা কেঁপে ওঠে জোরে কুয়াশার গর্ভে প্রাণ ধরে, সে উঠানে দাঁড়ালে রাত্রির ঠোঁটে হাসি ঝরে পূবের বারান্দায় দুটি চোখ মুখোমুখি দু'জনারে দ্যাখে।   *********************************   কবির নাম, ঠিকানা: উত্তমকুমার পুরকাইত শঙ্করপুর, পোস্ট-প্রাণবল্লভপুর, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-৭৪৩৩৯৫ মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ-৯৫৯৩১৩২৭৬৫ ই-মেইল: upurkait1978@gmail.com

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কবিতা ।। সবিতা রায় বিশ্বাস

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান—          সুখের ঘড়             সবিতা রায় বিশ্বাস বড় আশা আঁচিল তোয়ারে লয় বান্দুম সুখের ঘড় আশায় আনছিল হাট্টল পাকা খাওয়াইমু হায়! হায়! ঘরের গরু ঘাড়ার খের না হয় সুখের বদলে কেন দুক্কু দিলা ভালবাসার দাম ন দিলা হায়রে! মিড়ের লাভ পিড়েয় খায় ভালবাসার দাম ন দিলা   হারাপ মানুষ প্রেম নদী -তে টানত আরে কেন ফেলায় গেলা ? মোরে বিষ হাওয়াইলা, ভালবাসার দাম ন দিলা হায়রে! সুখের বদলে দুক্কু দিলা এ কাজ ভালো করলা না   এ কি কাজ করিলা? আরে কেন মোরে প্রেম নদীতে ফেলাই গিলা ? বুঝিলাম হাইল্লে ঠিল্লা বাজে বেশি সুখের বদলে দুক্কু দিলা ভালবাসার দাম ন দিলা কেন ভুল বুজিলা ভালবাসার দাম ন দিলা আঁই অন থাইক্কুম হারে লই ? হৃদয় আছে যার থুন , হিতিই তো ভালোবাসে পরাণবন্ধুর হৃদয় নাই , ভালবাসার দাম ন দিলা|                    ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা

  প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা  ১.   বসন্ত বিলাপ তোমার পলাশ লালে লাল রাঙা  তোমার পলাশে ফাগুন, আমার পলাশে শয়তান পোকা  আমার পলাশে আগুন। তোমার আকাশ আবির মাখানো  গাঁথে মিলনের মালা, আমার আকাশ মলিন মুখেতে  সহে দংশন জ্বালা। ওখানে ঋতুরা আসে আর যায়  আনে রকমারি ডালি, এখানে বিষাদে ঋতুর সময়  সব কেড়ে করে খালি। তোমার পলাশে খুশির জোয়ারে  রাশি রাশি ভালোবাসা, রক্ত মাখানো আমার পলাশে  জীবন সর্বনাশা। ২.    উনুন একটা একটা করে কাঠ গনগনে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জীবন্ত উনুনের ভেতর। আগুনে পোড়ে কাঠ , কাঠ পুড়িয়ে চাই করে উনুন। উনুনে পোড়ে কাঠ,উনুন পোড়ায় নিজেকে। শুদ্ধ করে গনগনে আগুনের বিশুদ্ধতায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সয়ে; শুদ্ধ হয় মানব জীবন। ৩.   নগ্নতা  সকালে হাঁটতে বেরিয়েই চোখে পড়লো  অদ্ভুত এক নগ্নতা সাগর নদী পাহাড় নগ্ন  মাঠ ঘাট জঙ্গল নগ্ন  এক বিচিত্র নগ্নতায় ঢাকা প্রকৃতি যেন লালসার ভোগ্য বস্তু। চারপাশ থেকে শত সহস্র লকলকে জিভ  লোলুপ দৃষ্টিতে দংশন করে লুটে নেয় সব সাতসকালে নগ্নতা লুটের হাট! ওরই মাঝে একটি শিশুকে দেখতে...