Skip to main content

পিনাকী চক্রবর্তী

মহাকালেশ্বর রহস্য  
(একটি  স্মার্ট সিটি  বা  আদর্শ নগরীর  রূপকথা )

                       ১

-দিনকাল আর আগের মতন নেই রে...  নগরের গোষ্ঠী   সংঘর্ষ   থামবার  নাম নেই ! 
-এমনটা  আগে  ছিল না  । আমরা  শান্তিতেই  থাকতাম  !
- আগে আমরা সবাই  একসাথে থাকতাম   ।   এখন  কিছুতেই  মন  ভরছে  না  । মনে হচ্ছে  আরও  চাই ।   এই  বাড়তি  চাহিদার  জন্য  পরিশ্রম করতেও  মন   সায়  দেয় না  ।  
-এটা  ইদানীং আমার  মধ্যেও  হচ্ছে ।  কিছু  বুঝতে  পারছিস ? আমিতো  কিছুই  পারছিনা  বুঝতে।
-আমিও ছাই  কিছুই  বুঝিনি । আসলে    আশ্রমে  গিয়েছিলাম   ফল আর যজ্ঞের কাঠ  দিতে  । দেখলাম  সেখানকার  ঋষিরা  খুবই  চিন্তায় । তাদের  মুখ  শুকিয়ে  গিয়েছে ।  মনে হল  কোন  বিপদ  আসছে !
-বিপদ !খুলে বল  , তুশ ...
-হ্যাঁ ।  আমি  বটগাছের  তলায়  কাপড় পেতে  শুয়ে  আছি , দুপুরবেলা  । কিছুটা  দূরে এক বৃদ্ধ  ব্রাক্ষ্মণ  আর তাঁর  চার ছেলে  বসে  গল্প করছিলেন ।  তাঁদের কথা কান পেতে শুনলাম । কথা খুব আস্তে  হচ্ছিল না , তবে হ্যাঁ  মুখের   শব্দ  থেমে –থেমে আসছিল ।  তাঁরা বুঝতেও পারেননি , কেউ সেই কথা  শুনছে !
-কী  শুনলি ? তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে  খুব চিন্তায় আছিস ।
 বিকেল ভেঙে  সন্ধ্যা হচ্ছে   । জলাশয়ের ধারে   ওরা  দু’জনে  বসেছে । তখনই  সূর্য ডুবে  গেল । 

জঙ্গলের মাথায়   কেউ যেন   চাদর  চাপা দিয়ে গেল !  এই জঙ্গলে  অনেকের  মতন  ওরা  দু’জনেও  কাঠ , ফল – সংগ্রহ করতে  আসে ।  এইসব  কিছু   আশ্রমে পৌঁছিয়ে  দেয় নিজেদের হাতেই  ।  এটা  তাদের  জীবিকা । এই কাজের  বিনিময়ে  তারা  খাবার পায় ।  কাপড় পায় , ব্যবহার করবার জন্য  ।
জঙ্গলে  বসে , তাদের  ভিতর  কথা   হচ্ছিল । রোগা  দু’জনেই  । যে  খুব চিন্তায় রয়েছে , অপেক্ষাকৃত  দুর্বল  স্বাস্থ্যের অধিকারী ;  তুশ বলল 
-আমি কান পেতে শুনলাম ।  আমাদের  অবন্তীর   অবস্থা  বেশ  চিন্তার ।
উল্টো  দিকে  বসে  থাকা  , লম্বা রোগা  আর  ভারী  গলায় লোকটি  বৃকোদর । বলে উঠল – আরে  , অত  পুঁথিবাক্য  না ঝেড়ে  পরিষ্কার ভাবে  বল –

দু’জনেই মধ্যবয়স্ক ।  সমবয়সী । তুশ বলল  -  ওঁরা  একটা  গল্প   বলল ।
-গল্প !
-মন  দিয়ে   শুনলেই  সব  পরিষ্কার হয়ে যাবে ।
-থামবি না  ।  বল ...  
চারজন পুত্রের  মধ্যে  প্রথমে  বড়  ছেলে  বলল -  পিতা , আপনি  বলছিলেন , আমাদের এই  নগরটি আগের  মতন  সুরক্ষিত  নয় । এখানে  অনেক  পরিবর্তন  আসতে  চলেছে ।  এইসব  পরিবর্তন  গুলো  সম্বন্ধে  আমাদের  জানাবেন । 
আরেকজন  , সে   মেজো ছেলে , বলল -  আমরা  এত দিন  বেশ  শান্তিতেই  ছিলাম এখন আবার  নতুন  করে  কিছু  উপদ্রব  দেখা  দিচ্ছে ।  আমরা যে  পরিকল্পনা  করেছিলাম  তাতে  বেশ  সমস্যা ।
এত  কিছু শুনে  ছোট  ছেলে  বলল – পিতা  আপনি জানেন ,  বেশ কিছু  নিম্ম বর্গীয়  মানুষেরা  বিক্ষোভ  দেখাচ্ছিল । তাদের  বিরোধ  ছিল আমাদের  উপর । তাদের  কথায় , আমরা  তাদের  উন্নতির  পথে অন্তরায় । আমরাই  তাদের  হত দারিদ্রতার  জন্য  দায়ী ।এমনটা   হলে  আমরা  উন্নয়নের  কাজ  করতে পারব না ?
পিতা  বললেন – তারমানে  এই সমস্যার  আভাস  পেয়ে  গিয়েছো । আজ  এখানে  আমরা  মিলিত  হয়েছি , এই  বিষয়টির জন্যই ।  আমি  তোমাদের  একটা  ঘটনার  কথা  বলব । মন  দিয়ে  শুনবে ... 


                   ২ 
সদ্য সূর্য  উঠেছে । খুব  ভোরেই  নগরের মুখে  যাত্রা  শুরু  করলাম ।  শুনেছি শিপ্রা নদীতে  জল   নিয়ে  গণ্ডগোল  শুরু  হয়েছে  । এখনাকার সমস্যা  হচ্ছে  , আমরা  সবাই  জল পান করি , জমিতে চাষের  জন্য  জলের   ব্যবহার  করি , ফসলের  সবুজ  রঙে  যখন নদীর   পাশের  অঞ্চল ভরে  যায় – উৎসব করি ।  এই  নদীর  প্রতি যে  আমাদের  মানুষের  দায়িত্ব  রয়েছে , ভুলেই  গিয়েছি !  ভগবানের  প্রতি দায়িত্ব  পালন  করছি । শুধু   প্রকৃতির ক্ষেত্রেই    উদাসীন !
আমার অনুচরেরা  এসে খবর  দিয়েছিল ,  শিপ্রা  নদীর  চড়  ক্রমশই  দূষণে  ভরে  উঠেছে ।   কয়েকদিন  ধরেই , নতুন  ফসল  উৎপাদনের  জন্য  পুজো  করা  হয়েছিল ।   সেই সামগ্রী ,  ব্যবহৃত  জিনিস – সমস্ত  কিছু  নদীতে  বিসর্জন  করা  হয়েছে । সেখান থেকেই এই  সমস্যা ।
আমি  খুব তাড়াতাড়ি নদীর  দিকে  হেঁটে  চলেছি । কেননা এখানকার  অবস্থা  খুব একটা  ভালো  নয় । আমাদের  বিরোধী  শিবির  যে কোন  সুযোগে  ঝামেলা  করতে পারে  । শুধু ঝামেলা নয় , এই ঝগড়া  দেখতে  - দেখতে  গোষ্ঠী লড়াইয়ের  আকার    নেবে  ।  আমি তাই খুব  দ্রুতই  পা চালিয়ে  যাচ্ছিলাম ।

নগর  পেরিয়েছি ।  মাঝে  খুব ছোট্ট জঙ্গলের  সরু  রাস্তা  ধরেছি , খুব তাড়াতাড়ি  যাব  বলেই  এই  পথে   এলাম । আচমকাই  তিনজন  আগন্তুক  আমার  সামনে এসে দাঁড়ালো । আমি  বিরক্তই  হলাম ।
তাদের চোখ  দেখে  মনে হচ্ছিল , খুব সাধারণ ।
-আপনি মহাকালেশ্বর   দর্শন  নিয়ে  চর্চা  করছেন ?
আমি বেশ  কিছুটা  অবাক   হয়ে  গিয়েছিলাম  !  এই   চর্চা  আমাদের  একান্ত ।   দীর্ঘ পাঁচ  বছর  ধরে  গবেষণা  করে  আসছি । এর  রহস্য  সবটাই  এখনো  আমাদের কাছে অজানা। তবে  এটাও  ঠিক  আমাদের  অনুসন্ধান  বেশ এগিয়েছে ।  আর এর  সুফল  আমরা  পেতে পারি অদূর  ভবিষ্যতে ।  আমাদের এই গোপন বিদ্যার  কথা  , আমাদের  খুব কাছের  লোকজন ছাড়া কেউ জানেনা ।  এনারা  কোন  তরফের ? আমাদের এই  দর্শন  এখনো  প্রয়োগ করিনি , অথচ এই  গুপ্ত বিদ্যা  নিয়ে  ইতিমধ্যে  যে  বিকল্প  শিবির  তৈরী  হচ্ছে  , টের  পেলাম  ।
-হ্যাঁ । আপনারা !
আমি জানতাম  লুকিয়ে  লাভ নেই ।  বরঞ্চ  এই লোক  গুলোকে  চিনবার  চেষ্টা  করি । আমার  কথা  শুনে   তাদের  মধ্যে  থাকা  একজন  যুবক  বলল – ব্রাক্ষ্মণ , আমাদের সাথে  আসুন ।
-কোথায় ?
-আপনি  আমাদের  বিশ্বাস  করতে  পারেন । আমরা দস্যু  নই । আপনার  ক্ষতি করব  না ।  শুধু  চোখ  দুটো  কালো  কাপড়ে  বেঁধে  দেব । জঙ্গলের  দূরেই  আমাদের  রথ । কষ্ট  হবে না । এইবার  অনুমতি দিন ।
কিছুটা  ঘাবড়ে  গিয়েছিলাম । তাদের গলায়   এমন   দৃঢ়চেতা   ভাব , মনে  হল  আমার  অনুমতির অপেক্ষা  শুধু মাত্র  নিয়ম মাফিক ।  আমি বললাম –এখন আমাকে শিপ্রা  নদীতে  যেতে  হবে । সেখানে   সকাল  থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছে ।
-আপনি এত ভাববেন  না । সেই ঝামেলা এখন  আর নেই । আপনি আমাদের সাথে আসুন ।
-মানে ?
-ঝামেলা আমরাই  বাধাই । আবার আমরাই  মিটিয়ে  দিয়েছি । আপনাকে    অপহরণ করব  বলেই  এই সব  কিছু আয়োজন । আপনার  আশ্রম  থেকে  এখানে  আসতে   জঙ্গলের পথ  রয়েছে  , পাছে  আপনি এই  পথ দিয়ে  আসেন , আমরাও  অপেক্ষা  করছিলাম । শিপ্রা  নদীর তীরেও  আরেক দল রয়েছে ।
-আমি  কিছুই  বুঝতে পারছিনা ! তোমরা নিজেদের  পরিচয় দাও ।
-আমরা  অনুচর  দূষণের । এখন  আপনি  আমাদের  সাথেই  যাবেন ।
-দূষণ  কে ?
-মাপ  করবেন , এই  বিষয়ে  আর  প্রশ্ন  ক্রা যাবেনা ।
আমার  কিছু  বলবার আগেই , একজন  কালো  কাপড়  আমার  দুই  চোখের  পাতার উপর  রেখে  মাথার  পিছনে  বেঁধে  দিল । আরেকজন  হাত  দুটো   বেঁধে  দিয়েছে ।
আমি  বুঝলাম এখন  আমার  কাজ  ওদের  অনুসরণ  করা ।

চোখ  যখন খুলল , মনে  হয়েছে ,    দীর্ঘক্ষণ  সুড়ঙ্গের  ভিতর  যে  আলোর  খোঁজ  চলছিল , তারই  সন্ধান  ।   অনেকক্ষণ  আলো  ছিল না ।  তাই প্রথমে  চোখ  ঝাপসা লাগছিল ।  দু’হাতে  চোখ  মুছে  দেখলাম ,  চারপাশটা  অন্ধকার । আমি  নিজে  সেই  অন্ধকারের  ভিতর  ছোট্ট   বিন্দু !   বুঝতে পারছিনা , রথের  উপর  জখন যখন দাঁড়িয়ে  ছিলাম  , টের পাচ্ছিলাম  পথ সমতল  নয় ।     রথ  থামল ।  বেশ  কিছুটা  হেঁটে   এলাম  ।  চোখ  খুলতেই  অন্ধকার !

-আসুন  ব্রাক্ষ্মণ ...
 গলাটা  বেশ ভারী ।  কানে  ছুঁয়ে গেল ! ঘাড়  ঘুরিয়ে বক্তাকে  খুঁজবার  চেষ্টা  করছি । আবার  হাসি  শুনতে  পেলাম  ।
-আপনি আমাকে  দেখতে  পাবেন  না । আমি  অদৃশ্য , এমন ভাবেই   আমাদের  মধ্যে  কথাবার্তা হবে  ।  অসুবিধা  নেই  তো ?
-না নেই ।
‘না  নেই’ --  , কথাটা  বলেও ,  নিজেকে  বিশ্বাস করতে পাচ্ছিনা !  এমন পরিবেশ  এর আগে   আমি উপলব্ধি  করিনি ।  প্রাণের ভয়  নেই ।  একটা  অস্বস্থি   ,নাভি  থেকে  গলা অব্দি   দম  বন্ধ ভাব  উঠে  আসছিল ।  নিঃশ্বাস  নিতে  কষ্ট  হচ্ছে । 
আমি বললাম – আপনি কে  ?  এমন  ভাবে আড়ালে  থেকে  কথা  বলবেন !
লোকটির  তীব্র  হাসির  স্বর  শুনতে  পেলাম  ।  মনে  হচ্ছে ,  বুকে   ধাক্কা  মারল  । 
আমি  বললাম – আপনি সামনে  আসুন ।  আমি  নিরস্ত্র  আর  আপনাকে  আক্রমণ করবার সামর্থ্য  নেই ।
-থাকলেও  মারতে  পারতেন না । আমি   গুপ্ত বিদ্যার  চর্চা  করি । 
-তাই  নিজেকে  আত্মগোপনেই  রেখে  দেবেন  ?
-প্রয়োজনে ।
-আপনার  এমন  লুকিয়ে  থাকবার  দরকার কী ?
-আছে  । এর  উত্তর   পড়ে দেব  ।  তবে  আপনার  নিজের  জন্যও  আমার  বীভৎস মুখ দেখার  দরকার  নেই  ।  অহেতুক  আতঙ্কিত হবেন  ।
-একদম  নয় । ব্রাক্ষ্মণরা  সহনশীল  হয় । আপনি  দেখান  , আমার  ক্ষতি  হবে না ।
-আমি  দূষণ । একটা  বিশেষ  কারণে আপনাকে  এখানে   নিয়ে  এসেছি , এমন  ভাবে  নিয়ে  আসবার জন্য  , পারলে  ক্ষমা  করবেন । 
আমি  খানিক  অবাক  হয়ে  গেলাম  ।  বললাম – আপনি  কোথায় ?
-এই  গুহার  ভিতর  এমন  জায়গা  রয়েছে , আমি  আপনাকে  দেখতে  পাচ্ছি । আপনি  আমার গলার  স্বর  শুনলেও । দেখতে পাবেন না ।
-এই লুকোচুরির  দরকার  আছে  ?
-এটা  ভবিষ্যৎ  বলবে । এখন  এই  নিয়ে সময়  নষ্ট  করে  লাভ  নেই । সময়  আপনার কাছেও  দামী । আমার কাছেও ।  আসুন আমরা  আলোচনা  করি ।
-কোন  বিষয়ে ?
-আপনি  অবন্তী  নগরকে  আদর্শ  নগর  হিসেবে  গড়ে  তুলতে  চাইছেন ।  এখনাকার অধিবাসীদের   বিদ্রোহী  করে  তুলছেন ।  আপনার নগরে  শুধু ব্রাক্ষ্মণ  নয় ক্ষত্রিয় , শূদ্ররাও   রয়েছে । এদের  ভিতর  থেকে  আপনি   ভয় ,  নিয়ম তুলে  দেবেন  ?
-আমি  বুঝতে  পাচ্ছিনা  ।  আমার  নগরে  সব  শ্রেণীর  মানুষ  নিজের  মতন  থাকেন  । তাদের একত্রে  থাকবার  কোন সমস্যা  নেই  ।   থাকলেও  খুব  সামান্য ।  আমি তাদের  সকলকে  নিয়ে শুধুমাত্র  গবেষণা করছি । বলতে  পারেন  অবন্তী   নগরকে   মানব সম্পদের  উন্নয়নের  জন্য  পরীক্ষাগার  হিসেবে  ব্যবহার  করা  হচ্ছে ।
-এখানেই  আমার আপত্তি । আমি চাইছি  আপনি এই কাজ থেকে  দূরে থাকুন । এইধরনের  পরীক্ষা  বেশ  বিপদজনক ।
-কেন  ?
-দীর্ঘদিন  যে  ব্যবস্থায়   মানুষ  বসবাস করে , সেই  ব্যবস্থাই তার  নিজের  । সেখানে  সে  সবচেয়ে  বেশী  মানিয়ে   নেয় ।  স্রোতের  বিপক্ষে  সাঁতার  দিতে  গেলেও ,  স্রোতের খানিক  সহযোগিতা  দরকার ।
-  দক্ষ সাতারুর  আত্মবিশ্বাস  থাকলে  বিপক্ষ  স্রোতকেও ,  নিজের   জন্য              ব্যবহার  করা  যায় ।
- ব্যবহার  ! আমি এই কথাই বলছিলাম । মানুষকে  ব্যবহার  করছেন  ভালো , তবে  নিজের  উন্নতির  জন্য  করাটাই  বুদ্ধিমানের  কাজ  ।
-আমি  নিজের স্বার্থেই তাঁদের  ব্যবহার করছি ।  দেখুন   আদর্শ  নগরীর  স্বপ্ন  সফল  হলে ,  আমাদের  পরের  প্রজন্ম  সুস্থ থাকবে  । এটা  আমাদের কাছে  বড়  পাওনা ।  ভবিষ্যৎ  প্রজন্ম রক্ষা  করতে পারাটাই  আমার স্বার্থ । 
-আপনি আমাদের হয়ে  কাজ  করুন ।  নদীর  জলে  সকলের  উপর  অধিকার  ঠিকাছে । তাইবলে  নিঃশুল্ক   করে  দেওয়া  ঠিক  নয় ।
-একটা  আদর্শ  নগরীতে  জল  আর খাদ্য  সকলের  কাছে  পৌঁছাতে  হয় । শিশু মৃত্যুর  হার যেন  কমে  । অপুষ্ট   শিশু  যেন  না  জন্মায় । আমি সেই চেষ্টাই  করছি । এই সব  কিছুর আগে  দরকার  শ্রেণীমুক্ত  সমাজ । এখন  সমাজে  যারা পিছনে  রয়েছেন তাদের  ভর্তুকি  দিয়ে  একটা  নির্দিষ্ট  সময়ের  মধ্যে   তাদের  মধ্যে  আর্থিক  বৈষম্য  মিটিয়ে দেব ।  এরজন্য  অবশ্য  নগরের  প্রাকৃতিক  উপাদান  গুলোর  দায়িত্ব  নগর  প্রধানের  হাতেই । সেই   উপাদান  সকলের  জন্য  ব্যবহার  করা  হবে  ।  নির্দিষ্ট  সময়ের  জন্য  সকলকে  সুযোগ দেওয়া  হবে  ।  এর  বদলে  অবশ্য  নগরের জন্যও নাগরিকদের  সেবা  দিতে  হবে  । এমন ভাবেই  দেওয়া  -নেওয়ার  মাধ্যমে  চলবে  সমাজ ।
-এই  ব্যবস্থায়  যদি  কেউ  ভালো কাজ  করে ।
-নিঃসন্দেহে  সে  এগিয়ে থাকবে । 
-তাতে  শ্রেণী বিভাজন  কমবে ?
-যদি  আপনি  নিজের  দু’ হাতকে ব্যবহার   করতে না  পারেন  ,  পিছিয়ে  পড়বেন ।  প্রতিযোগিতা হবে  নিজের  সামর্থ্যের  সাথে  অন্য  সামর্থ্যের  ।  সমাজ  কোন  স্তর  আরোপিত  করবে না  । এটাই  আমার  শ্রেণীমুক্ত  সমাজের  পদ্ধতি  ।
-আমি প্রকৃত অর্থে এমন নগর তৈরী করতে চাই , যেখানে  নগরের  হাতে  কোন দায়িত্ব থাকবেনা    প্রাকৃতিক সম্পদ  ব্যবহারের ।  নাগরিকরা   অসীম  সুখ  ভোগ  করবে । তারা   স্বাধীন । যে  যেমন ভাবে   নিজেদের  দায়িত্ব  নেবে  ।   নগর  কোন  কিছুতেই  মাথা    গলাবেনা ।
-এমন  ভাবে  ক্ষতি  শুরু  হবে  । এক  পক্ষের  হাতে   প্রচুর   সম্পদ  আর  অন্য পক্ষ  সমাজের  প্রান্তিক  সীমায়  থাকবে  । 
-তাইতো  বলছি  , সভ্যতা  কখনই  শোষণ মুক্ত  হবে  না । কেননা  মানুষের  ভিতরে  অন্যের উপর   কর্তৃত্ব করবার   যে  প্রবণতা , তা  শাশ্বত  । শোষণ  থাকলেই  শ্রেণী সৃষ্টি  হবে । শ্রেণীহীন   সমাজের কল্পনা  অলীক ,  মিথ্যা   চিন্তা ।  
-আমি  শ্রেণী বিলুপ্ত  সমাজের  কথা  বলিনি । আমি   বলেছি  মানুষ যেন নিজের  সামর্থ্যেই  সমাজের  শ্রেণীগত  অবস্থানের  পরিবর্তনে  সক্ষম হয় ।
-দেখুন , নগরের  শাসক  নিজের স্বার্থেই  এমনটা  হতে  দেবেনা  ।   কারণ  যে  সমাজে শ্রেণী  থাকেনা  , সেখানে   শাসকের  বিরুদ্ধে লড়াই  সরাসরি করা  যায় ।  এটাই মহাকালের  বিধান ।  
-খুবই  বিপদজনক ।   এই  বিধানে  আদর্শ  সমাজ  তৈরী  হতে পারেনা ।
-মানে  ? আদর্শ  সমাজ বলে  কিছুই  নেই  ! যা অনেক  সময়  পর্যন্ত টিকে  থাকে  , তাই  আদর্শ হয়ে  ওঠে ।  আমরা  দু’জনে  মিলে  একটা  নতুন  নগরের  নির্মাণ করব । 
-সেই  নগর  পরিচালনার  দর্শন  কী  হবে  ?
-আমি   যেই দর্শন  এতক্ষণ  আপনাকে  বললাম ।  অবাধ   ভোগ –বিলাসে  দিন  কাটানো । 
-আপনি   আদর্শ  সমাজ বলতে   এমনটাই   বোঝেন ?
-যেখানে ,  মানুষের চাহিদা শাসকের উপর নির্ভরশীল  না  থেকেও  নির্ভর  করবে । এমন  স্বাধীনতা দেওয়া  হবে  , যাতে নিজেদের   চিন্তার আর   মুক্তির  পরিসীমা যাবে   !  সে  ভুলে  যাবে  কতটুকু  তার  চাহিদা  । এই  কৃত্রিম  আকাঙ্খাই  , চাহিদা আর   লোভের  জন্ম দেয় ।   আমরা কেউই  ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা । নাগরিকদের চাহিদার দিকে তাকিয়ে কখনোই  শাসক চলতে পারবে না।  কেননা চাহিদাকে কখনই একটি নির্দিষ্ট  সীমায় আটকে রাখা সম্ভব  নয় । তাই তাদের নিজেদের ভিতরেই  নিজেদের আটকে রাখতে হবে । ভেদাভেদ সেই      অমোঘ অস্ত্র – যা ব্যবহার করলে  নাগরিকরা নিজেদের সাথে নিজেরাই  বিবাদে মত্ত থাকে । শাসকের সুবিধা হয় । আমি এই  দর্শনেই  ভরসা  রাখছি ।

-এই চিন্তা অসুর চিন্তা । নাস্তিক চিন্তা । যা প্রকৃতির বিপরীত , তাকে  নিয়ে সমাজে                    মানব সম্পদের উন্নয়ন সম্ভব নয় ।
-কেন  সম্ভব নয় ? আমাদের পথ আলাদা । আমি কখনই বলিনি নাগরিকদের  বিকাশের থেকে সরে আসব । আমি বলছি , তাদের  উন্নয়নের পরিমাপ  হবে শাসকের  পারগতা  । সে অপারগ হলে  শাসন  চলবে  কেমন  করে ? অনেকে অনেক  কিছু চাইবে , সমস্যা  হচ্ছে সেই   চাওয়ার নিয়ন্ত্রণ নাগরিকদের হাতে থাকবার  দরকার  আছে  কি  ?
-আকাঙ্খার গোলক ধাঁধায় ঘুরবে !
-মানুষের ভূমিকাকে স্বীকার না করলে , মনের বিকাশ ঘটবে না । সৃষ্টি থেমে যাবে ।  মহাকালেশ্বর তথ্যে – পৃথিবীর সেই  বিপদের কথাই বলতে  চেয়েছি ।
-আমি সব জেনেছি , তাই আপনাকে আমার দলে আসবার জন্য অনুরোধ  করছি । 
-মানে  ?
-আপনি  খুব  বিদ্ব্যান  আর  পণ্ডিত  । এত গুপ্ত  বিষয়  নিয়ে   গবেষণা  করে  চলেছেন । সফল  হয়েছেন , এইটুকু অন্তত  বুঝে গিয়েছেন যে   আপনার  এই  গবেষণা  আমার  কাছে  স্বর্গরাজ্য  দখলের  চেয়েও  বেশী  গুরুত্বপূর্ণ । কেননা , মানুষের   মধ্যে  কর্তৃত্ব  করবার  মজাই  আলাদা ।  আসল  কথা  হচ্ছে , আমি চাইব  আপনি  এই  গবেষণার প্রয়োগ  না  করেন । কেননা  আপনার  শাসন  করবার  পদ্ধতি  মানুষ  গ্রহণ করবে  দ্রুত । আর  এমনটা  হলে , কেউ  আমাদের  গুরুত্ব দেবে  না । শুধু তাই  নয়  তাদের  দখল  করতে পারব না  । এমনটা  মানা  যায়না ।  তারা  বিদ্রোহ করতে  পারে ।
-জনগণকে  নিজের  সুবিধা  দেখতে  দেবেন না !
-সবাই  নিজেরটা  দেখে  , আমিও  দেখব ।
-আমিও দেখছি...
কিছুক্ষণ  দু’জনের  কণ্ঠস্বর  থেমে  গেল  । আমি  কিছু  বুঝতে পারছি না  । এতটুকু টের  পেলাম  ,  এতক্ষণ  যে  আমার  সাথে  কথা  বলছিলেন । তিনি কিছুটা  হলেও রেগে      রয়েছেন । আমাকে  বললেন – দেখুন  , আপনাকে   এইকথা  গুলো  বলবার  জন্যই  এখানে  আনা  হয়েছিল । চিন্তা  নেই  নিরাপদেই  যেখান থেকে  নিয়ে  এসেছিল  , সেখানেই  আপনাকে  ছেড়ে  দেওয়া  হবে  ।  তবে  আজকের  পর  থেকে  নিজের  নগরের  দায়িত্ব  আপনি  নিলেন । আমি  কিন্তু   আপনার    দর্শনের  বিকল্প  রাখব ।  তখন  আমাকে  দোষ  দিতে  পারবেন না।  

চোখ  দুটো  কেউ  পুনরায় বেঁধে  দিল ! আমাকে নিয়ে  যাবে । 

গল্প শেষ হতেই  ,  পিতা  পুত্রদের  উদ্দেশ্যে  বললেন -   আমাদের  সজাগ  হওয়ার সময় এসেছে   ।  কোন  ভাবেই  দূষণের  পরিকল্পনাকে  সফল হতে  দেওয়া  যাবে  না  । 
ছোট  ছেলে  বলল – পিতা  আপনি  বলুন  আমরা  কেমন  ভাবে  আদর্শ  নগরী  নির্মাণ করব ? জনগণের  জীবনে  স্বাচ্ছন্দ্য  দিতে  হলে  কোন  পথ  গ্রহণ করতে  হবে  ?
পিতা  হাসছেন ।  বললেন -  পুত্র ,  জনগণের  জীবনে    স্বাচ্ছন্দ্য   দিতে  গিয়ে  কোনদিনই  সফল  হবে  না  ।  কেননা  বিনাপরিশ্রমে   কিছু  পেলে  ,  মানুষ অকর্মণ্য  হয়ে  ওঠে । সে  সমাজকে কিছুই  দিতে  পারেনা ।  মনে  রেখো  আদর্শ  নগরী  , আদর্শ  নাগরিক  তৈরী  করে । যে  নিজে  স্বনির্ভর ।   তাদের  ব্যবহারের  জন্য  উপযুক্ত  বাসস্থান ,   পোশাক  , খাদ্য  দিচ্ছ , অথচ  তাদের  জীবিকার  দিকে  খেয়াল  নেই , এমন উন্নয়ন  শুধু  মাত্র  শাসকপন্থী  উন্নয়ন ।  দূষণের  পরিকল্পনা  এমনটাই  ,  জনগণকে  কর্মবিমুখ  উন্নয়নের  স্বপ্নে  বিভোর  করে ,  নিজেদের  ক্ষমতা কায়েম রাখা  । এটা  সুস্থ  সমাজের  জন্ম দিতে  পারেনা ।


                       ৩
গল্প  থেমে  গেলে ।  যিনি  এতক্ষণ  পিতা আর  পুত্রদের  গল্প  শোনাচ্ছিল ,  তুশ  থেমে  গিয়েছে ।  পাশে  বসে  থাকা  উল্টো  দিকের   লম্বা , রোগা   লোকটি  বৃকোদর  । ভারী  গলায় বলে উঠল  -  তোমার  গল্প  শুনলাম ।  বেশ  ভালো ।
-শুধু  ভালো ?
-না  এটা  ঠিক ,  কাজ  না  করলে  মানুষ  অলস হয়ে ওঠে । আমি তাই  সবসময়  কাজের  পক্ষে । 
-অবন্তী  নগরীতে  খুব ঝামেলা  চলছে ।  যারা  এতদিন   পরিশ্রমের পক্ষে  ছিল , আজ  তারাই  বিদ্রোহ করছে ! তাদের  কথা    নগরের  প্রধানরা  তাদের   পরিবারের  দায়িত্ব  নিক ।   এতদিন  দেওয়া  -নেওয়ার মাধ্যমে  পরস্পরের  উপর নির্ভর  করতাম । এখন  বিদ্রোহীরা  বলছে  সম্পূর্ণ  জীবন  ধারণের  দায়িত্ব  নিতে  হবে  । শুধু তাই  নয়  তারা  ক্রমশই  নগরী  ত্যাগ  করছে ।
বৃকোদর বিশেষ  কিছু  বলল  না  ।  হাই  তুলল । মাথা চুলকিয়ে  বলল 
-ভাই , আজ  উঠছি ।  জানিনা  আবার  কবে  দেখা  হবে  ?
তুশ  বেশ  কিছুটা   অবাক  হয়ে  বললেন -  কেন ?
ইতস্তত    মুখ  নিয়ে  বলল  -  আসলে  , কাল  খুব  ভোরেই  পরিবারকে  নিয়ে  অবন্তী ত্যাগ  করব ।
-কেন ?
- পাহাড়ের   ওইদিকে  এক  নতুন  নগর তৈরী   হচ্ছে । সেখানে   নাগরিকদের  সব  দায়িত্ব নগর  প্রধানের ।  নাগরিকদের  কোন  পরিশ্রম করতে  হবে  না  ।
-তাহলে  এমনি  -এমনিই ...
-না , মানে বদলে  নগর  প্রধানের  কথা  শুনে  চলতে  হবে  ।  নিজের স্বাধীনতা  থাকবে , সেই  স্বাধীনতার  পরিমাণটাও  অবশ্য শাসকই   নির্ধারণ  করবে । এই  অনেক  রাত  হল  আসছি...


তুশ  দেখছে  , হেলতে  -দুলতে  তার  বন্ধু    ক্রমশই  জঙ্গলের ছায়া  মাখা    পথ  ধরে    এগিয়ে  চলেছে ।
 ছোট্ট  নিঃশ্বাস  ছেড়ে  তুশ  বলল -  মানুষ  শত  চেষ্টা  করলেও  নিজের  প্রবৃত্তির  কাছে  হেরে  যায় ! 
 =========০০০==========














পিনাকী চক্রবর্তী
যাদবপুর, কলকাতা
 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,