মাটির বাঁধ সুমিত মোদক ভাদ্র মাসের বৃষ্টিতে মণি নদী চঞ্চলা । বার বার আঘাত করে । ভেঙে দিতে চায় দুর্বল মাটির বাঁধ । সুচরিতার মতো । কখন কি অঘটন ঘটাবে জানে না । ভয়ে ভয়ে থাকে অনন্ত । এপারে ধান ক্ষেত , বাসভূমি । ওপারে নোনা জল । বাঁধ ভেঙে গেলে ভেসে যাবে সব । নোনা জল , নোনা বাতা মিলেমিশে একাকার হবে । আবাদি জমি হয়ে যাবে বছরের পর বছর অনাবাদি । রাত জাগে । বাঁধ পাহারা দেয় বাদাবনের মানুষ । অনন্তও । অনেক কষ্ট করে চার বিঘে দু ফসলি জমি কিনেছে । চাষ করেছে । সবুজে সবুজে ভরে গেছে ক্ষেত । আলপথে দাঁড়ালে মনে হয় ধান গাছ গুলি হাসছে । ঠিক যেন তিন মাসের মেয়েটার মতো । দেখে বুক জুড়িয়ে যায় । বাচ্চা নিয়ে বউ বাপের বাড়িতে । পাকা রাস্তার কাছাকাছি । ওখান থেকে হাসপাতাল , ডাক্তার , ওষুধ দোকানের যোগাযোগ সুবিধা । আর কয়েক মাস গেলে ফিরবে । দু চার দিন ছাড়া দেখে আসে । আজ দুপুরে দেখা হয়ে ছিল সুচরিতার সঙ্গে । পুকুর-ঘাটে । চোখ দুটি যেন জ্বলছে । বাঘিনীর মতো । চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নেয় । কিছু বলার সাহস হ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...