পঞ্চজনা (পর্ব ২)
রণেশ রায়
কাজী নজরুল ইসলাম---দুখু মিঞা
ভূমিকা
বাংলা শিল্পসাহিত্যের একজন ব্যতিক্রমী বিস্ময়কবি ও গীতিকার কাজী নজরুল ইসলাম। আমাদের চেতনায় সদা জাগ্রত প্রহরী। একই সঙ্গে কুমারীর বেণী অষ্টাদশির চাহুনি। এক হাতে অসি এক হাতে মসি। ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্টিতে তিনি মনে করিয়ে দেন জীবনটা যেমন সুন্দর গীতিময় প্রেম ভালোবাসায় ভরপুর তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণ শাসনের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে বেসাতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ। কবি তাঁর কবিতায় নিজের পরিচয় নিজেই বহন করেছেন। তাঁর ভাষাতেই তিনি নিজেই তন্বি তনয়া বহ্নি, তিনিlekhen, ‘মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস‘। তিনি বলেন নিজেরে ছাড়া করি না কারে কুর্নিশ। মানি না নিয়ম কানুন শৃঙ্খল।আজ আশি নব্বই বছর বয়সে তাঁর কবিতা ফিরিয়ে দেয় আমাদের বাকক্ষমতা আমাদের স্মৃতি। আমাদের বিদ্রোহী মনন।তিনি সদা প্রহরী হিসেবে মনে করিয়ে দেন আমাদের কি ভাবা উচিত কি করা উচিত। ধ্বনিত হয় তাঁর গান কবিতা বাংলার আকাশে বাতাসে। তাঁর কলমে উচ্চারিত হয়:
"আমি বিদ্রোহী, রণক্লান্ত,
আমি সেইদিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না—"
জন্ম পরিচয় ও বেড়ে ওঠা :
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে এক বাঙালি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল, আমাদের দুখু মিঞা। পিতা কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান। বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম। নজরুল গ্রামের স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করতেন। মক্তবে (মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল) কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯০৮ সালে পিতৃবিয়োগে সংসারের অভাবের দরুণ কাজে নিযুক্ত হতে হয়। তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। একই সাথে হাজি পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদের মুয়াযযিন (আজান দাতা) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এইসব কাজের মাধ্যমে তিনি অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচার-অনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হবার দৌলতে সুযোগ পান বাস্তবটাকে জানার। ধর্মের লোকাচারের নষ্টামির বিরুদ্ধে তাঁর মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে যা পরবর্তীকালে তাঁ
সাহিত্যকর্মকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। তিনিই বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন বলা যায়।[১
মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল অল্পদিন ছিলেন । বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল)[ দলে যোগ দেন। তিনি তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা রচনা করতেন। নিজ জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন শুরু করেন। একইসাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পুরাণসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন। সেই সময়েই বাল্য বয়সে আর্থিক অভাবের মধ্যেই তিনি নাট্যদলের জন্য বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে চাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবর বাদশাহ, কবি কালিদাস, বিদ্যাভূতুম এবং রাজপুত্রের গান।] একদিকে মসজিদ, মাজার ও মক্তব জীবন, অপর দিকে লেটো দলের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নজরুলকে সাহিত্যিক জীবনের অপার সম্পদের যোগান দিয়েছে। ধর্মের লোকাচারের বিরোধিতা করায় তাঁকে যখন আক্রমণের সন্মুখীন হতেহয় তখন তিনি তার মোকাবিলা করার জন্য বলেন - “কেউ বলেন আমার বানী যবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।”
১৯১০ সালে নজরুল লেটো দল ছেড়ে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন। এই নতুন ছাত্রজীবনে তার প্রথম স্কুল ছিল রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল, এরপর ভর্তি হন মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে যা পরবর্তীতে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউশন নামে পরিচিতি লাভ করে। আর্থিক সমস্যা তাকে বেশ দিন এখানে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দেয়নি। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তাকে আবার অর্থ রোজগারের জন্য কাজে যোগ দিতে হয়। প্রথমে যোগ দেন বাসুদেবের কবিদলে। এর পর একজন খ্রিস্টান রেলওয়ে গার্ডের খানসামা এবং সবশেষে আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ নেন। এভাবে বেশ কষ্টের মাঝেই তার বাল্য জীবন অতিবাহিত হতে থাকে।
কবি নজরুল :
১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তার লেখা বিখ্যাত দুটো কবিতা ও গান তাকে বিদ্রোহী কবি বলে পরিচিত করে।এই দুটি হচ্ছে বিদ্রোহী কবিতা ও গান ভাঙ্গার গান সঙ্গীত। এগুলো বাংলা কবিতা ও গানের ধারায় এক বৈপ্লবিক সংস্করণ যা তাকে সাহিত্যের জগতে অমরত্ব দেয় সম্পূর্ণ এক স্বাতন্ত্রে। এই সময় কালে রচিত তাঁর বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে ‘কামাল পাশা’’ যেখানে তিনি ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের খিলাফত আন্দোলনের অসারতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যা থেকে নজরুলের অন্তদৃষ্টি এবং সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কবিতা-সংকলন অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা কবিতায় এক নতুনযুগের সূচনা করে। এর মাধ্যমেই বাংলা কাব্যের জগতে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ঘটে বিদ্রোহী কবি হিসেবে। প্রকাশের অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়। এই কাব্যগ্রন্থের মধ্যে কবিতাগুলোর মধ্যে "প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, শাত-ইল্-আরব, বিদ্রোহী, কামাল পাশা" ইত্যাদি বাংলা সাহিত্য জগতে আলোড়ন তোলে।। শিশুসাহিত্যে তার শিশুতোষ কবিতা বাংলা কবিতায় তাকে শিশু সাহিত্যিকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।এনেছে কবিতার জগতে নান্দনিকতা । খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু ইত্যাদি তারই সাক্ষ্য বহন করে। কবি তার
মানবিক মননের পরিচয় রাখেন যখন তিনি ‘মানুষ‘ কবিতায় লেখেন:
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল
মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ
গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।
নজরুলের সঙ্গীত সাহিত্য
নজরুল চার হাজারেরও বেশী গান রচনা করেছেন যা আজ বাংলা গানের জগতে নজরুল গীতি বলে প্রসিদ্ধ। এই হিসেবের বাইরে আরও অনেক গান তিনি রচনা করেন।তাঁর গানগুলো গান শিল্পে তাঁকে এক অনন্য শিল্পী বলে পরিচিত করে। বাঙালির ঘরে ঘরে এ গানের চর্চা। অনুবাদিত হয় বিভিন্ন ভাষায়।
১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলামের কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংযুক্তি ঘটে। সেখানে প্রধানত তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে 'হারামণি', 'নবরাগমালিকা' ও 'গীতিবিচিত্রা'য় তাঁর গান রচিত হয়। এই অনুষ্ঠানগুলোর জন্য প্রচুর গান লিখতে হতো তাঁকে। কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘হারমনি’ অনুষ্ঠানে প্রতি মাসে একবার করে প্রচারিত হওয়া অনুষ্ঠানে তিনি অপেক্ষাকৃত স্বল্প প্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় রাগরাগিণী নিয়ে গান পরিবেশন করতেন যেগুলো ছিল প্রায় বিলুপ্ত। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যোগ্য যে এই অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি কোনো একটি লুপ্তপ্রায় রাগের পরিচিতি দিয়ে সেই রাগের সুরে তাঁর নিজের লেখা নতুন গান পরিবেশন করতেন। এটা গানের জগতে তাঁকে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব বলে পরিচিত করে।এই কাজ করতে গিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম নবাব আলী চৌধুরীর রচনায় 'ম আরিফুন নাগমাত' ও ফার্সি ভাষায় রচিত আমীর খসরুর বিভিন্ন বই পড়তেন এবং সেগুলোর সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাগ আয়ত্ত করতেন। এইভাবে বাংলায় নজরুল সংগীতকে আন্তর্জাতিক সংগীত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে। এসব লুপ্ত প্রায় রাগের ওপর তিনি চল্লিশটিরও বেশি গান রচনা করেন।স্বভাবে অগোছালো হওয়ায় নজরুল টুকরো কাগজে এসব গান লিখতেন। মাসিক ভারতবর্ষের সঙ্গীত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জগৎ ঘটক সেগুলো যত্ন করে বাঁধানো খাতায় স্বরলিপিসহ তুলে রাখতেন। বাংলা গানের জগতের দুর্ভাগ্য যে, এই সংকলিত খাতাটি পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায় নি।
উল্লেখ যোগ্য যে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে নজরুল একমাত্র ব্যক্তি যিনি প্রায় সব বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। হিসাব ও হিসাব বহিঃদ্ভূত তাঁর লেখা গানের সংখ্যা আট হাজারের বেশী বলে অনুমেয়।কিন্তু এর বেশিরভাগই সংরক্ষণ করা যায়নি। তিনি প্রেম ও ভক্তিমূলক গানের জগতে এক দিগন্ত। কালী দেবিকে নিয়ে অনেক শ্যামা সঙ্গিত রচনা করেন। এছাড়া ইসলামী গজল রচনায় তাঁর দক্ষতা সুপরিচিত।
গদ্য রচনা, গল্প ও উপন্যাস
কবিতা ও গান ছাড়াও নজরুলের গদ্য সাহিত্যে অবদান আছে। তাঁর প্রথম গদ্য সাহিত্য রচিত হয় র "বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী" নামে গল্প। ১৯১৯ সালের মে মাসে এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য জীবনের সূচনা কালে এটা লেখা। এই সমীয়াকালে বেশ কয়েকটি গল্প লিখেছেন তিনি।। এর মধ্যে রয়েছে: "হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে"। ১৯২২ সালে ব্যথার দান নামে সংকলিত গল্পের একটি বই প্রকাশিত হয়। এছাড়া একই বছর প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী প্রকাশিত হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম: সাহিত্য প্রতিভা
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যে এক দিকপাল, বিস্ময়কর বহুমুখী প্রতিভা। তিনি একই সঙ্গে কবি, গীতিকার, সুরকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক ও বিপ্লবী মানবতাবাদী চিন্তক।
বাংলা সাহিত্যে তিনি যেন এক উজ্জ্বল অগ্নিশিখা—যার আলো স্বাধীনতা, সমতা ও মানবিকতার পথ দেখিয়েছে। তাঁর সাহিত্য চর্চা তাঁর প্রতিভার বিভিন্ন দিক উন্মোচিত করে।সংক্ষেপে সেগুলো উল্লেখ করা যায়:
১. বিদ্রোহী কবি: বিপ্লবী সৃজনশীলতা তাঁর সাহিত্য চর্চায় বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত।
পরিচয় বিদ্রোহী কবি হিসেবে তাঁর পরিচয়
ব্যাপকতম।। তাঁর কাব্যে প্রতিফলিত হয় —
অন্যায়ের বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদ,সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবমর্যাদার দাবি, শোষক ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ভয়হীন কণ্ঠ। বিদ্রোহী, কামাল পাশা, দোলনচাঁপা, সাম্যবাদী প্রভৃতি রচনার মধ্যে আমরা তাঁর এই পরিচয় পাই।আমরা তাঁর এই পরিচয় পাই তাঁর লেখা বিদ্রোহী কবিতায় যেখানে তিনি লেখেন:
আমি বজ্র, আমি ঈশান বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্ম্মরাজের দণ্ড,
আমি চক্র, মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচণ্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্ব্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব!
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস,—আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
নজরুলের সাহিত্য থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝি —সাহিত্য শুধু সৌন্দর্যের পূজা নয়, সংগ্রামেরও হাতিয়ার । একই সঙ্গে সৃষ্টি আর ধ্বংস, প্রেম আর ঘৃণা। তাঁর কাব্য চর্চায় তা বার বার ধ্বনিত হয়েছে।
২. মানবতাবাদ ও সাম্যের জয়গানে কবি
নজরুল মানবতাকে ধর্মের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।তাঁর সাহিত্যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে তিনি ঘৃণা করেন বলে ঘোষণা করেন, স্থান দেন নি কোন ধর্মীয় সংকীর্ণটাকে। সেখানে তিনি নাস্তিক তাই লিখতে সাহস করেন :
‘ভগবান বুকে আমি এঁকে যাই পদচিহ্ন’।
তাঁর সাহিত্য জগৎ জাত-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের মিলন মোহনা। নিপিড়িত সব মানুষের মিলন ও সমতার বার্তা তাঁর লেখায়। এক আন্তর্জাতিকতাবাদের সুরে বাঁধা।
তাই তাঁর সরব উচ্চারণ—
"গাহি সাম্যের গান—
যেখানে আধম-ত্রিপাদীও নাই,
গাহি সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান!"
এই মানবিক আদর্শ তাঁর সাহিত্যকে বিশ্বমানের করে তুলেছে।
৩. প্রেম ও রূপের কবি
নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি অসাধারণ প্রেমের কবিও। তিনি সৃষ্টি ও ধ্বংসের মত প্রেম ও বিপ্লবকে এক সূত্রে বাঁধেন। প্রেম থাকলেই বিপ্লবের ভাবনা আসে আর বিপ্লব ঘটলেই প্রেম মহিমান্বিত হয় কারণ দুটোই মানুষের কল্যানার্থে।
তাঁর প্রেমরস—
কখনো নরম, বেদনাময়,
কখনো প্রগাঢ়, অবাধ, জীবনমুখী।
ফুলবেলা, চেয়ো না তরুণী, অগ্নিবীণা–র বিভিন্ন গান প্রেমের বার্তা বাহক।প্রেম তাঁর সাহিত্য চেতনায় একদিকে নিবিড় রোমান্সে, অন্যদিকে দার্শনিক গভীরতায় উপস্থাপিত হয়েছে ।
৪. সুরস্রষ্টা ও গানের কবি
নজরুল বাংলা সংগীতে স্বতন্ত্র এক ধারা সৃষ্টি করেছেন—নজরুলগীতি।
তিনি প্রায় ৪,০০০–এর বেশি গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।তাঁর গানগুলোতে—রাগ-ভিত্তিক গঠন,আরবি–ফার্সি–হিন্দুস্তানি সুরের মেলবন্ধন,ভক্তি, প্রেম, দেশপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা—সবই আছে।
এই বহুমুখিতা তাঁকে বাংলা সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টায় পরিণত করেছে।
৫. নবীন ভাষা ও চিত্রকল্প
নজরুলের ভাষা শক্তিশালী, গতি-ময় এবং জীবন্ত
তাঁর শব্দচয়ন নতুন, সজীব, কখনো অগ্নিময়, কখনো স্নিগ্ধ।
তিনি বাংলা কবিতায় প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন—
আরবি-ফারসি শব্দ,ইসলামিক চিত্রকল্প,সামরিক প্রতীক,বিপ্লবী রূপক।এর ফলে বাংলা কবিতার ভাষা হয় আরও সমৃদ্ধ, শক্তিশালী, প্রাণময়।
৬. নারীজাগরণের কবি
নজরুল নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়ে অত্যন্ত প্রগতিশীল ছিলেন।
নারী, চণ্ডী, লক্ষ্মী, হিন্দোল প্রভৃতি রচনায় নারী অধিকারের দাবি উচ্চারিত হয় ।
তিনি বলেন —
“বিশ্বে যা- কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
বাংলা কবিতায় নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে নজরুলের কণ্ঠস্বর শুনি।
৭. গদ্য, নাটক ও সাংবাদিকতা
নজরুলের গদ্য সাহিত্যও সমৃদ্ধ—
গল্প:বাঁধনহারা, রিক্তের বেদন, ঘুমের ঘোরে
উপন্যাস: কুহেলিকা, মৃত্যুক্ষুধা
নাটক: জলসাঘর, পাতালপুরী
তিনি ধূমকেতু পত্রিকার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠস্বর তোলেন—যা তাকে বন্দিত্বের মুখোমুখি করে।
মূল্যায়ন: কেন নজরুলের সাহিত্য প্রতিভা অনন্য?
১. বহুমুখী প্রতিভা:
গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সাংবাদিকতা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর পদচিহ্ন।
২. উদার মানবতাবাদ:
তিনি ধর্ম, জাতি, বর্ণভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের মর্যাদাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখেছেন।
৩. কবিতার নতুন ধারা:
তিনি বাংলা কবিতাকে আধুনিকতা, যৌবন, বিদ্রোহ ও শক্তিমত্তার ধ্বনি দিয়েছেন।
৪. দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা:
স্বাধীনতার চেতনার অন্যতম বড় উৎস নজরুলের কবিতা ও গান।
৫. ভাষার বিপ্লব:
তিনি বাংলা ভাষায় এমন শক্তি, তাল ও ছন্দ এনেছেন, যা তাকে "বিদ্রোহী" করে তুলেছে শুধু জীবনে নয়—সাহিত্যেও।
উপসংহার
রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক কবি গীতিকার ও সুরকার কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের আকাশে বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ। তিনি একই সঙ্গে বিদ্রোহের বজ্রধ্বনি, প্রেমের ফলগু ধারা এবং মানবতার আলোক রেশমী।বাংলা ভাষায় তিনি যুগিয়েছেন —
গতি, শক্তি, সংগীত, সাম্য ও বাঁচার সাহস। সাম্যবাদের গানে তিনি একজন আন্তর্জাতিকতাবাদী।
তাঁর সাহিত্য প্রতিভা, সাহিত্য সেবা বাংলা জাতিসত্তার আলোকবর্তিকা।
সুকান্ত ভট্টাচার্য: জীবনী ও সাহিত্য প্রতিভা
জীবনী
সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) বাংলা কবিতার আকাশে এক তরুণ বিস্ময়---- দীপ্তিমান, অগ্নিশিখার মতো উদীয়মান প্রতিভা। মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও তিনি বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন তাঁর প্রতিভার অমর ছাপ—যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তবে অকাল মৃত্যু তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রতিভার বিকাশ হতে দেয় নি। লেখার বিষয়বস্তু বিচারে বিচারে তাঁকে নজরুলের উত্তরসূরী বললে বোধ হয় বাড়িয়ে বলা হয় না। এর মধ্যেই কাব্য সৃষ্টিতে তাঁর অন্তদৃষ্টি ধরা পড়ে। তিনি নিজস্ব ধারায় কবিতা লেখা শুরু করেন।
তিনি কলকাতার কালীঘাটে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। খুব ছোট থেকেই সাহিত্য, গান, নাটক ও রাজনীতির প্রতি তাঁর প্রবল উৎসাহ দেখা যায়। ছাত্রজীবনে তাঁর সমাজসচেতনা প্রখর হয়ে ওঠে। তিনি সাম্যবাদী চিন্তাধারায় আপ্লুত হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ঔপনিবেশিক শোষণ—এসব তাঁর সাহিত্য চেতনাকে জাগিয়ে তোলে। শাসন শোষণের বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিদীপ্ত তারুণ্যের উন্মেষ ঘটে। তাঁর কাব্য প্রতিভা দুঃখবোধ থেকে উদ্ভুত মানবিক বোধ, প্রতিবাদ ও মানবতাবাদের আলোয় জ্বলে ওঠে।
দারিদ্র্য ও অসমতা তাঁর ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু; সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়। যক্ষ্মাজনিত অসুস্থতায় ১৯৪৭ সালে তাঁর অকালমৃত্যু ঘটে। এত অল্প বয়সেও তাঁর কাব্যসম্ভার বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক চিরন্তন শক্তি।
সাহিত্য প্রতিভা
কবিতা লেখায় সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতিভা প্রতিফলিত হয় তাঁর কৈশোর বয়সে। তাঁর লেখায় মৌলিকত্ব দেখা যায় তাঁর কবিতা লেখার ধরণ, কবিতার বিষয়বস্তু, কবিতার ছন্দে।সুকান্তের কবিতা তাঁর নিজস্ব স্বতন্ত্র খাতে প্রবাহিত তাঁর জীবন আদর্শকে কেন্দ্র করে। তাঁর গভীর সামাজিক চেতনা, মানুষের প্রতি মমত্ব ও ন্যায়বোধ প্রতিভাত হয় খুব সহজ সরল ভাষায়, ছন্দের ও সুরের মাহাত্ত্বে। তিনি ছিলেন প্রতিবাদের কবি, মানুষের কবি, বিপ্লবচেতনার কবি।
তাঁর সাহিত্য প্রতিভার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে হলো—
১. সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা ও বিপ্লবী মনন
সুকান্তের কবিতা মাটি খুঁজে পায় সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা থেকে— শোষণ ও শাসন থেকে উদ্ভুত ক্ষুধা, মৃত্যুভয়, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, শ্রমজীবী মানুষের যন্ত্রণা ইত্যাদির বাস্তবতা থেকে উৎসারিত বিদ্রোহের মনন থেকে।
তিনি কবিতা লেখেন প্রধানত —
শোষণের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম ধরে
সমাজ পরিবর্তনের ডাককে কেন্দ্র করে
স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরতে
শ্রমিক-কৃষকের জীবনের লড়াইকে কেন্দ্র করে
“ছাড়পত্র”, “এপ্রিলের ঝড়”, “মৃত্যুর আগে”
এসব কবিতা তাঁর বিপ্লবী মননের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
২. বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তাঁর ভাবনার চিত্রণ
সুকান্ত কবিতাকে মনোজগতের অলীক স্বপ্ন নয়—বাস্তবতার সোজাসাপ্টা ছবির আঁকতেন তিনি তাঁর কবিতায়। একই সঙ্গে লড়ায়ের মধ্য দিয়ে যে সমাজ গড়ে ওঠার স্বপ্ন তিনি দেখেন তা তাঁর কবিতা লেখার ক্ষিধে সৃষ্টি করে। তিনিও স্বপ্ন দেখতেন কিন্তু তা অলীক স্বপ্ন নয়। পরিবর্তনের স্রোত বইতো তাঁর স্বপ্নে যার উৎস ছিল সমাজে শ্রেণী সংগ্রাম। তিনি মার্ক্সবাদে দিক্ষিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন তাঁর জীবনকালে।সমাজ পরিবর্তনের তীব্র আশা আঁকড়ে ধরে তাই তিনি বলেন:
“আমি সত্যের কবি, ক্ষুধার কথা বলি।”
বাংলা কবিতায় এত তিনি বাস্তবের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেন যা ছিল ব্যতিক্রমী। তাঁর কাব্য চিন্তায় তিনি ছিলেন নজরুলের উত্তরসূরী। কবিতা পরিবেশনে তিনি ছিলেন স্বকীয় স্বতন্ত্র।
৩. ভাষার সরলতা ও দৃঢ়তা
সুকান্ত তাঁর কবিতায় অত্যন্ত সহজ, অথচ তীক্ষ্ণ ও প্রখর ভাষা ব্যবহার করেন। অহেতুক অলংকার ব্যবহারের বিলাসিতা তাঁর কবিতায় পাওয়া যায় না। তাঁর মানে এই নয় অলংকার ব্যবহার তিনি করতেন না। সহজ বোধ্য অলংকারের ব্যবহার তাঁর কবিতাকে সেজে উঠতে সাহায্য করত। যেমন দেশলাই কাঠি কবিতায় দেশলাই তাঁর এক রূপক যা কবিতাকে অলংকৃত করেছে। রানার কবিতায় সূর্য নতুন দিনের রূপক। রানা বা চিঠি বলি কর্মী নিপিড়িত মানুষের প্রতীক। তিনি তাঁর কবিতায় জীবন, দুঃখ, শ্রম, সংগ্রাম—এসবকে খুব সাধারণ শব্দে তুলে ধরেছেন।
নীচে রানার কবিতার অংশ বিশেষ দেওয়া হলো যেখানে অলংকার রূপকের আকারে ব্যবহৃত হয়েছে :রানার। গ্রামের রানার!
সময় হয়েছে নতুন খবর আনার;
শপথের চিঠি নিয়ে চলাে আজ
ভীরুতা পিছনে ফেলে—
পৌঁছে দাও এ নতুন খবর
অগ্রগতির ‘মেলে’,
‘নতুন খবর’ ‘শপথের চিঠি’ এসব রূপকের দ্বারা কবিতা অলংকৃত হয়েছে। কত সহজ ভাষায়।
এটাই তাঁর কবিতাকে মানুষের হৃদয়ের কাছে নিয়ে যায়।
৪. কবির মানবতা বোধ ও জনজীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা
সুকান্তের কবিতায় মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিহিত রয়েছে।
শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ, ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না, কৃষকের দুঃসহ জীবন—এসব তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিতো।
তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর কবিতায় কবির জনদরদী মনন প্রকাশ পায় যখন তিনি লেখেন:
“ঘরেতে অভাব; পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালাে ধোঁয়া,
পিঠেতে টাকার বােঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া,
রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে,
দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে
কত চিঠি লেখে লােকে—
কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কতাে দুঃখে ও শােকে
এর দুঃখের চিঠি প’ড়বে না জানি কেউ কোনাে দিনও,”
৫. অবদমিতদের কণ্ঠস্বর
তিনি হে মহাজীবন”, “খবর”, “গোমূর্ত” প্রভৃতি কবিতায় দুর্বল, নিপীড়িত, ভূমিহীন, শোষিত মানুষের হয়ে কথা বলেছেন।তাঁর কবিতায় যেন গরিব মানুষের আর্ত চিৎকার নিজের ভাষা খুঁজে পেয়েছে।
৬. নাটক ও ছড়া সাহিত্যেও অবদান
সুকান্ত শুধু কবিতায় নয় ছড়া, গান ও নাট্য রচনায় একজন দক্ষ শিল্পী ছিলেন।“ছড়ার দেশ” বইটি বাংলা শিশুসাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। তবে অকাল মৃত্যুর কারণে তার পূর্ণ প্রস্ফুটন ঘটে নি। এ যেন ঝরা পাতা অসময়ে ঝরে গেছে। বাংলা ভাষা তার সম্ভাব্য অবদানে পুষ্টি পায় নি ততটা যতটা পেতে পারতো।
৭. কৈশোরে যৌবনের বিস্ময়কর পরিপক্বতা
তার চিন্তার জগতে পরিণতি আসে অল্প বয়সে। তৎকালীন সমাজের বিধ্বস্ত অবস্থা---যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ মহামারী—এসব তাঁকে চেতনার জগতে পরণত হতে সাহায্য করে, তিনি হয়ে ওঠেন এক চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব।
মাত্র ১৮–২০ বছর বয়সেই তাঁর কবিতা যে গভীর ভাবনা ও শক্তি ধারণ করেছিল, তা বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে বিরল।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
১. প্রতিবাদের কণ্ঠ
সুকান্ত ছিলেন সাম্যবাদে বিশ্বাসি সমাজবিপ্লবের কবি—মানুষের দুঃখ-ক্ষুধা-প্রতিবাদের জ্বালাকে তিনি কবিতায় রূপ দিয়েছেন।
২. বাস্তবমুখী কবিতা
তিনি কল্পনার রহস্যে বিচরণ করেন নি যদিও তাঁরও একটা কল্পজগৎ ছিল। কিন্তু নিজেকে সেখানে নির্বাসন দেন নি। সরাসরি বাস্তবতাকে কবিতার ছত্রে ছত্রে রূপ দিয়েছেন ।
৩. সমবেদনা ও দায়িত্ববোধ
সুকান্তের কবিতায় মানুষ শুধু ভাবিত হয় না—উদ্বুদ্ধও হয়।এ কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন “মানুষের কবি”।
৪. অকালপ্রয়াণে অমরত্ব
যদি দীর্ঘজীবন পেতেন, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আকাশ প্রমান হতো কিন্তু তা হয় নি—তবু যা তিনি রেখে গেছেন, তা তাকে চিরতরুণ কবি হিসেবে অমর করে রেখেছে ।
উপসংহার
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক অগ্নি শিখা যে নিজে পরের দুঃখে জ্বলত আর সমাজের শোষণ পীড়নকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতো।
তাঁর অল্প জীবনের সৃষ্টিকর্মে রয়েছে—
মানুষের প্রতি অচল মমতা,
সমাজ বদলের দুর্দমনীয় শক্তি,
সত্য উচ্চারণের সাহস,
আগামী দিনের স্বপ্ন।
তিনি আমাদের দেখিয়েছেন—
কবিতা মানুষের জীবনযুদ্ধের সঙ্গী হতে পারে, সমাজবিপ্লবের অস্ত্র হতে পারে।
Comments
Post a Comment