Skip to main content

প্রবন্ধ ।। মসুয়ার রায় পরিবার এবং বঙ্গসংস্কৃতি ।। অনিন্দ্য পাল

 

মসুয়ার রায় পরিবার এবং বঙ্গসংস্কৃতি 

 অনিন্দ্য পাল


বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যখন বাংলা শিশুসাহিত্য প্রায় কোনঠাসা, যখন শিশুদের সমস্ত মনোযোগ বৈদ্যুতিন বিনোদনের গ্রাসে, যখন ইঁদুর দৌড়ের ট্র্যাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বার্থমগ্ন ছোটাছুটি, তখনই সবার অলক্ষ্যে আমরা এমন একজন মানুষের কথা ভুলে যেতে বসেছি যিনি সমস্ত জীবন শিশুদের জন্যই নির্মল হাস্যরস রচনা করে গেছেন। তবে শুধু সেই মানুষটাই নয়, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও একইভাবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছোটদের জন্য অসংখ্য মণিমুক্তো সৃষ্টি করে গেছেন। বংশ পরম্পরায় এভাবে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সৃষ্টিশীলতার প্রবাহ বাংলায় কেন সমস্ত পৃথিবীতেই বিরলতম। 
      অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার 'মসুয়া' গ্রামে লোকনাথ রায়ের পুত্র কালীনাথ রায়ের পাঁচ ছেলের দ্বিতীয় কামদারঞ্জন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৩ সালের ১২ইমে। তাঁর পিতা কালীনাথকে লোকে চিনত 'মুনশি শ্যামসুন্দর' নামে। কালীনাথ আবার সংস্কৃত, আরবি আর ফরাসি ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। কামদারঞ্জনকে দূরসম্পর্কের কাকা হরিকিশোর রায়চৌধুরী দত্তক নেন এবং নতুন নাম দেন উপেন্দ্রকিশোর। 'মসুয়া'-র জমিদার হরিকিশোর আর তাঁর স্ত্রী রাজলক্ষ্মীর এই দত্তক পুত্রই পরবর্তী কালে রায় বংশের স্বর্ণযুগ নিয়ে আসেন। 
   ময়মনসিংহ থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে ১৮৭৯ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে কলকাতায় পড়তে আসেন উপেন্দ্রকিশোর। প্রথমে প্রেসিডেন্সি কলেজে এফ. এ তে ভর্তি হলেও পরে মেট্রোপলিটন থেকে এফ. এ পাশ করেন এবং তারপর বি.এ পাশ করেন। কলকাতায় এসে উপেন্দ্রকিশোর প্রথমে ৮ নং রতু সরকার লেনে এবং তারপরে ৫০ নং সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের ব্রাহ্ম মেসে থাকেন। এই ব্রাহ্ম মেসে থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গে ব্রাহ্ম নেতা দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচয় হয়। সম্ভবত এই মেসে থাকাকালীন এবং দ্বারকানাথের প্রভাবেই তিনি ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। এই সূত্রে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিবনাথ শাস্ত্রী এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি হয়। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিল তাঁর প্রগাঢ় বন্ধুত্ব। আবার যার সান্নিধ্যে তিনি ব্রাহ্ম হন, সেই দ্বারকানাথের স্ত্রী ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তার, মহিলা গ্রাজুয়েট কাদম্বিনী গাঙ্গুলী। ১৮৮৫ সালের ১৫ই জুন দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের ( দ্বারকানাথের প্রথম স্ত্রী ভবসুন্দরী মারা গেলে কাদম্বিনী দেবীর সঙ্গে বিবাহ করেন) কন্যা বিধুমুখী দেবীর সঙ্গে বিবাহ হয় উপেন্দ্রকিশোরের। 
   ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণের জন্য উপেন্দ্রকিশোরকে পালকপিতা হরিকিশোর তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন, কিন্তু হরিকিশোরের স্ত্রী রাজলক্ষীদেবীর বিরোধিতায় উপেন্দ্রকিশোর আবার তাঁর অধিকার ফিরে পান। উপেন্দ্রকিশোরের মাত্র কুড়ি বছর বয়সে মারা যান হরিকিশোর। গ্রামের আত্মীয় স্বজন, হিন্দুপন্থী এবং ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের প্রচন্ড প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই উপেক্ষা করেই উপেন্দ্রকিশোর পিতার শ্রাদ্ধ করেন এবং অবশ্যই ব্রাহ্মমতে। 
    উপেন্দ্রকিশোর এক বহুমুখী প্রতিভার আকর ছিলেন। তাঁর সমস্ত জীবনের সৃষ্টিশীলতা বাংলা এবং বাংলাভাষাকে শুধু সমৃদ্ধশালী করেনি, নতুন পথের সন্ধানও দিয়েছে, যে পথে পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় এবং পৌত্র সত্যজিৎ রায় অনায়াসে হেঁটেছেন। উপেন্দ্রকিশোর সৃষ্ট ফল্গুধারাকেই পরবর্তী দু'ই প্রজন্ম প্রবাহমান করেছে। 
    কলকাতায় পড়তে এসে উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে আরও একজন মহান মানুষের পরিচয় হয়, তিনি প্রমদাচরণ সেন। প্রমদাচরণের পত্রিকা 'সখা'র দ্বিতীয় সংখ্যায় (১৮৮৩ সালে) প্রকাশিত হয়, উপেন্দ্রকিশোরের প্রথম প্রকাশিত রচনা, একটি নিবন্ধ 'মাছি', উপেন্দ্রকিশোরের বয়স তখন কুড়ি বছর। এই প্রমদাচরণের কাছ থেকে উপেন্দ্রকিশোর যেমন লেখার উৎসাহ পেয়েছেন তেমনি সম্পাদনার কাজও শিখেছেন। তাই প্রমদাচরণকে উপেন্দ্রকিশোরের 'শিক্ষাগুরু' বললে তেমন অত্যুক্তি হয় না। 
    'সখা', 'মুকুল', প্রভৃতি পত্রিকায় উপেন্দ্রকিশোরের বহু গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। ছোটদের জন্য লেখা এই সমস্ত গল্পে, প্রবন্ধে একদিকে যেমন হাস্যরস অন্যদিকে তেমনি থাকত নৈতিকতার শিক্ষা। কোন গুরুগম্ভীর জ্ঞানগর্ভ বিষয়ের কচকচানি ছাড়াই সুন্দর সরস প্রবাহে শিক্ষা দেবার প্রচেষ্টা ছিল। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান রচনাতেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না। কচিকাঁচাদের জন্য' সেকালের কথা' বইতে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীজগৎ সম্পর্কে যেভাবে লিখেছিলেন, বাংলাভাষায় তা খুব সম্ভবত প্রথম। 
     দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলা শিশু সাহিত্যের প্রথম মাইলফলক হলেও তার তিনবছর পর প্রকাশিত উপেন্দ্রকিশোরের 'টুনটুনির বই' কোন অংশে পিছিয়ে ছিল না। স্বাতন্ত্রে অনেক আলাদা এই বইতে লেখা শিশুতোষ গল্পে তিনি যে প্রতিবাদ, দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার রাজা আর টুনটুনির দ্বন্দ্বের ছলে দেখিয়েছেন তা এখনও দূর্লভ। এই গল্পগুলোর প্রতীকী মর্মার্থ শৈশবে বইটি পড়ার সময় না বুঝলেও পরিণত বয়সে সমস্ত জীবন ধরে ক্ষুদ্র আর বৃহতের, খাদ্য আর খাদকের সম্পর্ক বুঝিয়ে চলে। 
   উপেন্দ্রকিশোরের আর এক অমর সৃষ্টি তাঁর সম্পাদিত 'সন্দেশ' পত্রিকা। ২২ নং সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে থাকার সময় প্রথম 'সন্দেশ' প্রকাশিত হয়, ১৩২০ সালের ১লা বৈশাখ। তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ, এর থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, মানুষটি শুধু বাংলাভাষায় লেখেনইনি, তিনি মনেও আদ্যোপান্ত বাঙালি ছিলেন। কে লেখেননি এই 'সন্দেশ'-এ? রায়চৌধুরী পরিবার, যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রমথ চৌধুরী, কালিদাস রায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রসন্নময়ী দেবী, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ' সন্দেশ' কে সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রনাথও লিখেছেন তবে সুকুমার রায়ের সম্পাদনায়। বাংলা শিশু সাহিত্যের দৈন্য এক লহমায় ঘুচিয়ে দিয়েছিল 'সন্দেশ'। 
     উপেন্দ্রকিশোর সত্যিই বহুমুখী প্রতিভাধর ছিলেন। শুধু সাহিত্যে নয়, চিত্রকলা, আলোকচিত্র, বিজ্ঞানে যেমন আগ্রহ আর ভালবাসা ছিল, তেমনিই তিনি ভাল বেহালা, অর্গান আর হারমোনিয়াম ও বাজাতেন। টুনটুনির বই, ছেলেদের রামায়ণ, মহাভারতের গল্পের জন্য ছবি এঁকেছেন। বিলিতি পদ্ধতির অনুকরণে তেলরঙ, জলরঙ ব্যবহার করেছেন। আবার মুদ্রণ শিল্পে হাফটোন-ব্লকের গবেষণায়, ব্যবহারে তাঁর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'তিনিই বাঙালির মধ্যে প্রথম নিজ চেষ্টায় হাফটোন শিক্ষা করেন এবং অল্পকালের মধ্যেই তাহার সংস্কার সাধনে কৃতকার্য হন।' উপেন্দ্রকিশোর দক্ষতার সঙ্গে হাফটোন শিল্পের ব্যবহার করেন তাঁর কোম্পানি 'ইউ রায় আর্টিস্ট ' (১৮৯৫ সালে, শিবনারায়ণ দাস লেনে) প্রতিষ্ঠা করে, ১৯১০ সালে এই কোম্পানির নাম দেন ইউ. রায় এন্ড সন্স। ছাপার ক্ষেত্রে তাঁর ' মাল্টিপল ডায়াফ্রাম' নামের হাফটোন পদ্ধতি তখন ছাপার গুনগত মান অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। উপেন্দ্রকিশোর এই হাফটোন বিষয়ে উইলিয়ম গ্যামবলের 'প্রসেস ইয়ার বুক: পেনরোজ পিক্টোরিয়াল অ্যানুয়াল'- এ ন'টি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। 'সখা'তেও 'মুদ্রাযন্ত্র' নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তিনি সঙ্গীত আর বাদ্যযন্ত্রের প্রতিও যে গভীর ভাবে অনুরক্ত ছিলেন তা বোঝা যায় তাঁর 'শিক্ষক ব্যতিরেকে হারমোনিয়াম শিক্ষা' বইটি থেকে। তিনি বেশ কিছু ব্রাহ্মসঙ্গীতও রচনা করেছিলেন যার মধ্যে ' জাগো পুরবাসি, ভগবত প্রেম 'পিয়াসি' একটি জনপ্রিয় গান। 
      ১৯১৪ সালে উপেন্দ্রকিশোর সপরিবারে সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়ি থেকে উঠে আসেন ১০০ নং গড়পার রোডের বাড়িতে। এখানেই মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে মধুমেহ রোগে মারা যান এই পরম প্রতিভাধর মানুষটি। ১৩ নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রিটের বাড়িতে (দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীর বাড়ি, তখন বাড়িটাকে সবাই চিনত 'লাহা বাবুদের বাড়ি' নামে) উপেন্দ্রকিশোরের পাঁচ সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। হাসি (সুখলতা), তাতা (সুকুমার), খুশি (পুণ্যলতা), মণি (সুবিনয়) আর টুনি (শান্তিলতা) কিন্তু সবার ছোট নানকু (সুবিমল) জন্মান ১৮/১ শিবনারায়ণ লেনে। বাবার রসবোধ, বহুমুখী প্রতিভার এক অদ্ভুত প্রবাহ দেখা যায় ছয় সন্তানেরই মধ্যে, কিন্তু ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর জন্মানো তাতা, আমাদের সুকুমার রায় হাজার তারার মধ্যেও পূর্ণিমা চাঁদ। ছোটবেলা থেকেই দুষ্টুমি, কল্পনাশক্তি, ছবি আঁকা সবকিছুতেই সবাইকে টেক্কা দিতেন। মাত্র ন'বছর বয়সেই তাঁর অনুদিত ইংরেজি ছড়ার বাংলা অনুবাদ 'টিকটিকটক' প্রকাশিত হয় শিবনাথ শাস্ত্রীর 'মুকুল' পত্রিকায় (১৮৯৬), ঐ ন'বছর বয়সেই প্রথম প্রকাশিত স্বরচিত কবিতা 'নদী' মুকুলে স্থান পায়। সিটি স্কুলে পড়ার সময় লিখে ফেলেছেন নাটক। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা 'রামধন বধ'ই প্রথম নাটক। ১৯০৬ সালে 'কানা খোঁড়া সংবাদ '( কবিতা), সূর্য্যের রাজ্য (গদ্য) এবং পরপর 'প্রবাসী'তে ভারতীয় চিত্রশিল্প সম্পর্কে প্রবন্ধ লেখেন। 
      বাবা উপেন্দ্রকিশোরের মত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সুকুমার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে ডাবল অনার্স নিয়ে পাশ করে ১৯১১ সালে গুরুপ্রসন্ন বৃত্তি নিয়ে ইংলন্ডে যান। সেখানে প্রথমে লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিল অব ফোটো অনগ্রেভিং অ্যান্ড লিথোগ্রাফি বা এল. সি. সি (বর্তমানে নাম লন্ডন কলেজ অব কমিউনিকেশন) তারপর ম্যানচেস্টার স্কুল অব টেকনোলজিতে দু'বছর মুদ্রণবিদ্যার পড়াশুনা আর হাতে কলমে বিলিতি ছাপার কৌশল শেখার প্রয়াস তাঁকে অনেক অভিজ্ঞ করে তুলেছিল। সেখানেই পেনরোজ অ্যানুয়ালে লেখেন 'হাফটোন ফ্যাক্টস সামারাইজড' (১৯১২) 'স্ট্যান্ডার্ডাইজিং দ্য ওরিজিনাল ' (১৯১৩) দু'টি গবেষণাপত্র। ১৯১৩তে দেশে ফিরে সুপ্রভাদেবীর সঙ্গে বিয়ে। উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমার যোগ্য সাহচর্যে, সহযোগিতায় ১০০ নং গড়পার রোডের ইউ. রায় এন্ড সন্স নুতনভাবে সেজে উঠেছিল, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে চলে গেলেন উপেন্দ্রকিশোর। সুকুমারের তখন কুড়ি হয়েছে কি হয়নি, তবু সব দায়-দায়িত্ব তুলে নিলেন নিজের কাঁধে। 'সন্দেশ'-এর সম্পাদনা থেকে শুরু করে মুদ্রণ ব্যবসা এবং তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিমায় সাহিত্যচর্চা সবই সু-সম্পাদন করে চললেন। 
  রায় পরিবারের উর্বর মাটিতে শুধু প্রতিভাধরদের জন্মই হয়েছে তা নয়, অনেক সম-সাময়িক প্রতিভাধরদের সঙ্গে মিলন-মিশ্রণও হয়েছিল। পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী, নবদ্বীপ চন্দ্র দাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র, প্রফুল্লচন্দ্র এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের প্রভাব এবং সংস্কার রায় পরিবারকে সবদিক থেকে সম্পন্ন করেছিল। অতুলপ্রসাদ সেন, অজিত কুমার চক্রবর্তী, অমলচন্দ্র হোম, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, কিরণ সংকর রায়, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের মত মানুষের সান্নিধ্যে এসেছিলেন সুকুমার, কিন্তু এঁদের প্রভাব তাঁর স্বকীয়তাকে নষ্ট করতে পারেনি। ১৯৭০ সালের "ননসেন্স ক্লাব" আর তার মুখপত্র 'সাড়ে বত্রিশ ভাজা'র সঙ্গে সুকুমার-এর সম্মিলন পরবর্তীকালে তাঁর 'ননসেন্স রাইমস'-এর অনবদ্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে পরিপূর্ণতা পেয়েছিল। উদ্ভটরস, নির্মল হাস্যরসের ভান্ড থেকে একে একে বেরিয়ে আসছে কাতুকুতু বুড়ো, কুমড়ো-পটাশ, হুঁকোমুখো হ্যাংলা, রামগরুড়ের ছানা, গেছোদাদা, কাকেশ্বর কুচকুচে, হিজবিজবিজ, পাগলা দাশু, গোমড়া থোরিয়াম-এর দল। একদিকে যেমন ছড়া, গল্প, নাটক-এ হাস্যরসের প্রবাহ, তেমনি অন্যদিকে জীবনের বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ঝড়-ঝাপটাকেও অদ্ভুত সব দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন সুকুমার। 
     বাংলা সাহিত্যের, বিশেষ করে, শিশু সাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের হাত ধরে যে রেনেসাঁ এসেছিল, সুকুমার রায় তাকে অমরত্ব দানের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন। তাঁর যোগ্যপুত্র সত্যজিতের লেখায় নিছক কলাকৌশলে সুকুমার উপেন্দ্রকিশোর সমকক্ষ ছিলেন না, কিন্তু এই কৌশলের অভাব তিনি পূরণ করেছিলেন দু'টি দুর্লভ গুনের সাহায্যে। এক হল তাঁর অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, আরেক হল তাঁর অফুরন্ত কল্পনাশক্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়ে তাঁর ছবির বিষয় বস্তু টেকনিককে অতিক্রম করে চোখের সামনে জলজ্যান্ত রূপ ধারণ করে।' তিনি তথাকথিত বিদ্বান, নাক উঁচু গম্ভীর মানুষের দলকে ব্যাঙ্গাত্মক হাস্যরসের অস্ত্রে আক্রমণ করেছেন। এই সমস্ত 'রামগরুড়ের ছানারা নিজেরাও হাসে না বা অন্যদেরকেও হাসতে বাধা দেন। বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই যারা 'ফুটোস্কোপ' দিয়ে বিজ্ঞানশিক্ষা দেন, যারা চরম তৃষ্ণায় বিহ্বল মানুষকে জলের পরিবর্তে জল সম্পর্কে জ্ঞান ঢেলে দিয়ে থাকেন, তারাই সুকুমারের সরস ব্যাঙ্গের লক্ষ্য। তাঁর কিম্ভুতের রূপকল্পে তো আমরা সবাই লুকিয়ে আছি। 'বাবুরাম সাপুড়ে'তে তিনি আমাদের গভীরে লুকানো সত্যটাকেই ছড়ায় বেঁধেছেন। আমরা তো চাই অন্যের উপর খবরদারি করতে, আর তার জন্য যদি ফোঁস-ফাঁসহীন ঢুঁশ-ঢাঁশহীন, দুধ-ভাতে নির্বিবাদী কাউকে পাওয়া যায়, তবে তো সোনায় সোহাগা, তাদেরকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করতে আমাদের কোনও কাঠখড় পোড়াতে হয় না। বাংলা সাহিত্যে সুকুমারের অন্যতম অবদান তাঁর বেশকিছু শব্দ, যা একান্তই তাঁর নিজের সৃষ্টি, যেমন বকচ্ছপ, হাঁসজারু, ট্যাঁশগরু, হাতিমি, ফুটোস্কোপ। তাঁর 'আবোল-তাবোল', হ-য-ব-র-ল' বাংলা শিশু সাহিত্যিক যে উদ্ভট, চমকপ্রদ আপাত অর্থহীন হাস্যরস দিয়ে গেছে, তার তুলনা এখনও পাওয়া গেলনা। 'শব্দকল্পদ্রুম'-- এ 'গুরুজি' চরিত্রের মুখের সংলাপে শোনা যায় 'শব্দকে যে অর্থ দিয়ে ভোলায় সে অর্থপিশাচ।' 
       সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, এই রত্ন-অলংকৃত লেখাগুলো বইয়ের আকারে দেখে যেতে পারেননি সুকুমার। মসুয়ার জমিদারি দেখতে গিয়ে ১৯২১ সালে ২রা মে পুত্র সত্যজিতের জন্মের কিছুদিন পরেই কালাজ্বরে আক্রান্ত হন, প্রায় আড়াই বছর রোগে ভোগার পর ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গড়পার রোডের পৈতৃক বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে 'ননসেন্স লিটারেচারের জনক চলে যান, হয়ত বা আবোল-তাবোল এর দেশে। তাঁর মৃত্যুর ন'দিন পর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বই 'আবোল-তাবোল'। 
     গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার উপর এক তীব্র বিতৃষ্ণা ছিল সুকুমারের। 'হ-জ-ব-র-ল' এর আটবছর তিনমাস বয়স্ক নামহীন বালকের মুখদিয়ে যেমন এই বিতৃষ্ণা প্রকাশ পেয়েছে তেমনি প্রকট হয়েছে পাগলা দাশুর চরিত্রচিত্রণে। ভাষার অত্যাচারে তিনি নিজেই বলেছেন 'ভাষা যে নিজের অর্থ গৌরবেই সত্য, একথা ভুলিয়া সে যখন কেবলমাত্র শব্দ গৌরবে বড় হইতে চায়, তাহার অত্যাচার অনিবার্য।' 
       সুকুমার রায়ের মৃত্যুর প্রায় ১৭ বছর পর তাঁর প্রথম গল্প সংকলন 'পাগলা দাশু ' প্রকাশ করেন প্রকাশক এম.সি.সরকার। সেই সংকলনের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লেখেন 'সুকুমারের লেখনী থেকে যে অবিমিশ্র হাস্যরসের উৎসধারা বাংলা সাহিত্যকে অভিষিক্ত করেছে তা অতুলনীয়। তাঁর সুনিপুণ ছন্দের বিচিত্র ও স্বচ্ছন্দ গতি, তাঁর ভাব-সমাবেশের অভাবনীয় অসংলগ্নতা পদে পদে চমৎকৃতি আনে।' সুকুমারের আগে বা পরে বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর পরিপূরক নেই, এ কথা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছিলেন। কোন ব্যকরণ না মানা এই সরস্বতীর বরপুত্র 'দস্যি ছেলে ' সুকুমার চিরকাল আমাদের মনে অক্ষয় অনবদ্য হয়ে থাকবেন। 
     তবুও সুকুমারের অকাল প্রয়াণ ১০০ নং গড়পার রোডের বিখ্যাত রায়বাড়ির কাঠামো ভেঙে দিল। তাঁর মৃত্যুর পর রায় পরিবার ঐ বাড়ি ছেড়ে দেন এবং 'হাফটোন ব্লক' ছবির জন্য ভারত বিখ্যাত 'ইউ রয় এন্ড সন্স ' কোম্পানিও বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র ছয় বছরের সত্যজিৎ মা সুপ্রভা রায়ের সঙ্গে চলে আসেন বকুলবাগানে মামার বাড়িতে। সত্যজিতের উপর রায়বাড়ির সংস্কৃতির প্রভাব খুব একটা না পড়লেও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মেধা এবং বহুমুখী প্রতিভার কোন কমতি ছিল না। আট বছরের সত্যজিৎ তার প্রমাণ দেন - 'জান তোমায় বলছি শোন/ হব যখন তোমার মতো বড়ো। / লিখবো লেখা ঝুড়ি ঝুড়ি,/ পাঠিয়ে দেব তোমার বাড়ি/ তুমি তোমার সন্দেশেতে/ লেখাগুলি সাজাবে বসে/ এই আনন্দে দিচ্ছি গড়াগড়ি।' তবে সত্যজিৎ, ঠাকুর্দা উপেন্দ্রকিশোর বা বাবা সুকুমারের মতো সাহিত্য বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যের নৌকায় প্রথমেই জাঁকিয়ে বসেননি। টালমাটাল একটা পরিস্থিতি প্রথমে সত্যজিৎকে বাঁধের জলের মত আটকে দিলেও তা স্থায়ী হয়নি। 
      সত্যজিৎ প্রেসিডেন্সিতে প্রথমে বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হলেও পরে ইকোনমিক্স নিয়ে আঠারো বছর বয়সে (১৯৩৯ সালে) স্নাতক হন। এরপর ১৯৪০ সালে শান্তিনিকেতনে আঁকা শিখতে যান। ১৯৪১ সালে কুড়ি বছর বয়সে কলাভবনে নন্দলাল বসুর কাছে আঁকা শিখতে শিখতেই লেখেন জীবনের প্রথম গল্প 'অ্যাবস্ট্রাকশন'। গল্পটি কিন্তু বাংলায় নয়, ইংরাজিতে লিখেছিলেন। গল্পটির প্লট তাঁর মাথায় এসেছিল ল্যাটিন আমেরিকার এক চিত্র প্রদর্শনীর ঘটনা থেকে। সেই প্রদর্শনীতে উল্টো করে টাঙানো ছবিটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল। সত্যজিতের গল্পেও 'দ্য সমন্যাম বুলিস্ট ' নামের ছবিটি সেরা হয়, যেটা আসলে ছবিতে ব্যবহারের আগের রংয়ের মিশেল ঠিক করার জন্য ব্যবহৃত কাগজ। অর্থাৎ দু'টি বিষয় স্পষ্ট হয়, এক সত্যজিৎ প্রথম দিকে বাংলার চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন, আর দু'ই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সহজাত মেধা চাপা পড়ে থাকলেও বেরিয়ে এল। পরের বছর (১৯৪২ সালে) প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় গল্প 'শেডস অফ গ্রে'। দু'টি গল্পই প্রকাশিত হয় অমৃতবাজার পত্রিকায়। এর পরবর্তী কুড়ি বছর গল্প লেখক সত্যজিৎকে আর পাওয়া যায়না। 
    ১৯৪৩ সালে সত্যজিৎ কলকাতার বিখ্যাত বিদেশি বিজ্ঞাপন কোম্পানি ডি জে কিমারের চাকরিতে যোগ দেন, এবং ঐ বছরই ঐ কোম্পানির সহকারী ম্যানেজার দিলীপ কুমার গুপ্তর 'সিগনেট প্রেস'-এ সত্যজিৎ প্রচ্ছদ, ছবি আঁকার দায়িত্ব নেন। প্রসঙ্গত, এই 'সিগনেট প্রেস' বাংলা সাহিত্যে প্রকাশনা শিল্পের জগৎটাকেই পাল্টে দিয়েছিল। 
      ছোটবেলা থেকেই সত্যজিৎ সিনেমা সম্পর্কে বেশ আগ্রহী ছিলেন। তাঁর এই আগ্রহ নেশায় পরিণত হয়, শান্তিনিকেতনের লাইব্রেরীতে পল রোথার এর 'ফিল্ম টিল নাউ' এবং রেমন্ড স্পটিশ উডের 'গ্রামার অফ দ্য ফিল্ম ' বই দুটি হাতে আসার পর, সিগনেট থেকে 'পথের পাঁচালী ' প্রকাশের জন্য ডি. কে গুপ্ত সত্যজিৎকে বইটির মলাটের প্রচ্ছদ ও ডিজাইন আঁকতে দেন। তখনি 'পথের পাঁচালী ' পড়ে ফেলেন সত্যজিৎ, এবং তাঁর মনে এর গল্প এমন ভাবে দাগ কাটে যার ফলশ্রুতি ১৯৫২তে পথের পাঁচালীর চিত্রনাট্য। 
         সত্যজিৎ যে ষোল বছর ডি জে কিমারে চাকরি করেন, সেই সময়টা শুধু তিনি চাকরিই করেননি, উদ্ভাবনের কাজও করে গেছেন। বাংলা, ইংরাজিতে টাইপোগ্রাফি মানে বিভিন্ন ডিজাইনের বর্ণমালা তৈরী করেছেন। 'রে রোমান, রে বিজারে, ড্যাফিন্স এবং হলিডে স্ক্রিপ্ট ' তাঁর তৈরী অক্ষর ডিজাইন। এদের মধ্যে 'রে রোমান', 'রে বিজারে' আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। ক্যালিগ্রাফি, টাইপোগ্রাফিকে যে উচ্চতায় তিনি নিয়ে গেছিলেন, বাংলা প্রকাশনার জগৎ তার জন্য চিরকাল সত্যজিতের কাছে ঋণী থাকবে। 
   ১৯৪৭ সালে তিন বন্ধু সত্যজিৎ বংশী চন্দ্রগুপ্ত চিদানন্দ দাশগুপ্ত মিলে তৈরি করেন কলকাতার প্রথম ফিল্ম সোসাইটি। আবার ১৯৪৮ সাল থেকেই সত্যজিৎ বিভিন্ন ইংরেজি ও বাংলা পত্রপত্রিকায় সিনেমা সংক্রান্ত প্রবন্ধ লিখতে থাকেন। পরে ১৯৭৬ সালে 'আওয়ার ফিল্মস- দেয়ার ফিল্মস' নামে একটি বই প্রকাশ করেন যাতে তার ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত লেখা প্রায় সব আর্টিকেল গুলি ছিল। 
       এরমধ্যে সত্যজিতের জীবনে ঘটে যায় দুটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৪৯ এ কলকাতায় আগত ফরাসি চিত্রপরিচালক 'জাঁ রেনোয়ার' সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ, কথোপকথন আর ১৯৪৮ এ পিসতুতো বোন বিজয়া দাসের সঙ্গে বিবাহ। 
         সত্যজিতের লেখা চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম প্রবন্ধ 'হোয়াট ইজ রং উইথ ইন্ডিয়ান ফিল্মস' (স্টেটসম্যান) থেকে বোঝা যায় প্রথম থেকেই সিনেমা সম্পর্কে তাঁর গভীর চিন্তা ও পরিকল্পনা ছিল, যার নিদর্শন তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা "পথের পাঁচালী"। ১৯৫০ সালে লন্ডন থেকে ফিরে সম্পূর্ণ অনামী কয়েকজন কুশীলবকে নিয়ে এই ছবি করার জন্য যে দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা শুরু করেন, তার ফল পেতে লেগে গেল বেশ কয়েকটা বছর। কলকাতায় "পথের পাঁচালী" রিলিজ করে ১৯৫৫ সালের ২৬ শে আগস্ট। নিজের জমানো টাকা, স্ত্রীর গহনা এবং সবশেষে বিধান রায়ের সরকারের অর্থানুকূল্যে বানানো পথের পাঁচালী এখনো দেশে বিদেশে বাংলা সিনেমা তথা ভারতীয় সিনেমাকে গর্বিত করে। ছবিটি ১৯৫৫ তে রাষ্ট্রপতির স্বর্ণ ও রুপো পদক থেকে শুরু করে "বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট" পুরস্কার এবং পরপর ১৯৬৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়। এরপর প্রায় টানা ৪০ বছর সত্যজিৎ চলচ্চিত্র জগতে নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল। "পথের পাঁচালী" থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালের শেষ ছবি "আগন্তুক" পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও তথ্যচিত্র মিলিয়ে প্রায় ৩৩ টি ছবি করেন। তার সেরা ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম "চারুলতা" (১৯৬৪), "জয় বাবা ফেলুনাথ" (১৯৭৮), "অরণ্যের দিনরাত্রি"( ১৯৬৯), এবং অবশ্যই "কাঞ্চনজঙ্ঘা" (১৯৬১)। "কাঞ্চনজঙ্ঘা' ছিল সত্যজিৎয়ের প্রথম মৌলিক চিত্রনাট্য এবং প্রথম রঙিন ছবি। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পরিচালিত সিনেমা সব সময়ই উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে, যার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯২ তে অস্কার পুরস্কার। তবে সত্যজিৎ শুধু চলচ্চিত্র পরিচালনায় নয়, বাইশটি ছবির সংগীত পরিচালনা এবং বেশ কিছু ছবির সংগীত রচনাও করেছেন। পশ্চিমের সুর এবং দেশজ সুর এর এক সুন্দর মিশ্রণ তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ। 
        বেশ কিছু ক্ষেত্রে সত্যজিতের দৃঢ়তা এবং নির্ভীক মানসিকতা তাকে এক অনন্য সম্মান এনে দিয়েছিল। যেমন সম্পূর্ণ নতুন মুখ নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরী, কবি হতে চাওয়া এবং "এক্ষণ" নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কে ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করানো। সৌমিত্র সত্যজিতের প্রায় চোদ্দটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন অথচ তিনি কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি অভিনয় করবেন। এখানেই সত্যজিতের কৃতিত্ব। সঠিক রত্ন খুঁজে নেবার চোখ ছিল তাঁর। 
           শুধু চলচ্চিত্র নয় সাহিত্যেও সত্যজিৎ ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল। ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোরের "সন্দেশ", সুকুমারের মৃত্যুর পর কিছুদিন কাকা সুবিনয় রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হলেও তারপর বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হবার প্রায় ৩০ বছর পর ১৯৬১ সালে বন্ধু কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কে নিয়ে সত্যজিৎ আবার সন্দেশ চালু করেন যা এখনো তার পুত্র সন্দীপ রায়ের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হচ্ছে। এই সন্দেশের নবজীবনের ষষ্ঠ সংখ্যায় সত্যজিৎ "প্রফেসর শঙ্কু" চরিত্রের জন্ম দিলেন। চরিত্রটি বাবা সুকুমারের 'হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি'-র নিধিরাম পাটকেল এবং প্রফেসর হেঁসোরামের চরিত্রের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। আবার এই সন্দেশের পাতায় "বঙ্কুবাবুর বন্ধু" (দশম সংখ্যায়) এবং "পেরোডাকটিলের ডিম" (একাদশ) লেখা দুটি তাকে সাহিত্যের জগতে প্রথম সারিতে নিয়ে আসে। ১৯৬২তে এই সন্দেশের পাতায় সত্যজিতের আর এক অমর সৃষ্টি ফেলুদার আত্মপ্রকাশ। ১৯৮৫ তে প্রকাশ পায় "তারিণী খুড়োর কীর্তিকলাপ"। সন্দেশের দ্বিতীয় সংখ্যায় সত্যজিৎকৃত লিয়রের তিনটি লিমেরিকের বাংলায় অনুবাদ সম্ভবত বাংলা ভাষায় এজাতীয় পাঁচ লাইনের ছড়ার ক্ষেত্রে প্রথম। বাবা সুকুমার রায়ের ননসেন্স লিটারেচারের পরম্পরা সত্যজিতের মধ্যেও ছিল। তাই লিয়রের "দ্য জাম্বোলিস" তাঁর হাতে হল "পাপাঞ্জুল", লুইস ক্যারলের "জ্যাবারওঅকি" হল "জবরখাকি" এবং "এ ম্যাড গার্ডেনারস সং" হলো "রাম পাগলের গান"। সত্যজিতের প্রথম বাংলা মৌলিক গদ্য রচনা "ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি", সন্দেশের ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পর পর পর তিন সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে চলে এই লেখা। এখানেই প্রথম পাওয়া গেল প্রফেসর শঙ্কুকে। 
        ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর, বাবা সুকুমার রায়ের মতো তিনিও দায়িত্বশীল শিশু সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর কল্পবিজ্ঞান চরিত্র 'প্রফেসর শঙ্কু' বা গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' বা চিত্রায়িত 'গুপি বাঘা' কোন ক্ষেত্রেই তিনি শিশুদের জগতে সস্তা লোভনীয়তা বা প্রেমের সুড়সুড়ি প্রশ্রয় দেননি। তাই এইসব ক্ষেত্রে তিনি নারী চরিত্র সর্বাংশে এড়িয়ে গেছেন যা বর্তমানের বাজার চলতি বেশিরভাগ শিশুর সাহিত্যের কাছে শিক্ষনীয় হয়ে উঠতে পারে। যদিও এই ব্যাপারটি কখনো কখনো বিতর্কের আবহ তৈরি করেনি তা নয়, তবু কল্পবিজ্ঞান, গোয়েন্দা কাহিনী, ঐতিহাসিক কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সর্বত্রই তাঁর মেধা, দক্ষতা, শালীনতাবোধ, চিন্তার সূক্ষ্মতা, বাংলা এবং বাঙালিকে গর্বিত করেছে। দেশে ও বিদেশে অসংখ্য পুরস্কারে পুরস্কৃত এই মানুষটি মৃত্যুশয্যায় অস্কার পুরস্কার নেন। তার কিছুদিন পর ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল এই অসম্ভব প্রতিভাধর মানুষটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে চলে যান অন্য কোন ছায়ালোকে। 
     মসুয়ার রায় পরিবারের উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী যে গঙ্গোত্রীর স্রষ্টা, সুকুমার হয়ে সেই মহান প্রবাহ সত্যজিৎ এর মধ্যে অনায়াসেই খরস্রোতা হয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রায় পরিবার বাংলা তথা ভারতবর্ষকে যেভাবে সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্রমুদ্রণে সমৃদ্ধ করেছে, এখনো করে চলেছে তার উদাহরণ সত্যিই পৃথিবীতে বিরল। তাঁদের তুলনা শুধুমাত্র তাঁরাই হতে পারেন, অন্য কেউ নয়। 

==================

অনিন্দ্য পাল 
চম্পাহাটি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। পশ্চিমবঙ্গ। 
মোবাইল : 6294814096 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,