Skip to main content

ছোটগল্প ।। প্রায়শ্চিত্ত ।। মিঠুন মুখার্জী

 

প্রায়শ্চিত্ত

মিঠুন মুখার্জী 


আজ থেকে দশবছর আগের কথা। শীতকাল গিয়ে সবে বসন্তকাল পড়েছে। সারা প্রকৃতিকে প্রাণময় করে তুলেছে একদল কোকিলের ডাক। চারিদিকের পরিবেশ নানান ফুলের গন্ধে আমোদিত হয়ে উঠেছে। হালকা শীতের আমেজ তখনও বিরাজমান। হোলি উৎসবের কয়েকটি দিন বাকি। প্রফেসর শুভদীপ সরকার তার একমাত্র মেয়ে শ্রাবন্তীকে বললেন--- "এবারের দোল উৎসবটা ভাবছি শান্তিনিকেতনে কাঠাব। বছর দশেক হয়ে গেল শান্তিনিকেতনে দোল উৎসবে যাই না। তোর যখন দশ বছর বয়স তখন আমরা শেষবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। খুব মজা হয় ওখানে। কবিগুরুর বিচরণের জায়গাগুলো আমার খুবই ভালো লাগে। কলেজে দুদিনের ছুটি চেয়ে একটি আবেদনপত্র দুদিনবাদেই দিয়ে দেব। যাওয়া-আসা নিয়ে এবারের ভ্রমণটা আমাদের তিন দিনের।" বাবার কথা শুনে খুব খুশি হয়ে কুড়ি বছরের শ্রাবন্তী সরকার তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে--- " খুব ভালো বাপি। আমি খুব খুশি। শান্তিনিকেতনে যাব ভেবে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। শাড়ি পড়ে রঙ খেলব, কী মজা হবে। ভাবতে পারছি না। দারুন অনুভুতি হচ্ছে আমার। আমার ভালো বাপি, আমার সোনা বাপি।" মেয়ের কথা শুনে অধ্যাপক শুভদীপ সরকার হেসে দেন। তারপর মেয়ে শ্রাবন্তীকে বলেন-- " তোর খুশির জন্য আমি সব করতে পারি। তুই যাতে এবারের হোলিতে খুব আনন্দ করতে পারিস তাই আমি এই আয়োজন করেছি। তুই খুশি হলেই আমি খুশি।"
শ্রাবন্তী বাবার কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার বিষয় সমাজবিজ্ঞান। বাবা শুভদীপ সরকার বাংলা বিভাগের প্রধান। শ্রাবন্তীর যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কারণ তার বাবার নাকি কলেজের এক কলিগের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে। কিন্তু পরে দেখা যায় তার মার অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। বিয়ের আগে তার মার একজন উকিলের সঙ্গে প্রেম ছিল। তার জন্যই তার মা বাবাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। শুধু বাবাকেই নয় তাকেও নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তারপর বিয়ে করেছিলেন সেই উকিলকে। দেখতে দেখতে আজ আঠারোটি বসন্ত পার হয়ে গেছে। ভালো মন্দ অনেক ঘটনাই ঘটেছে তাদের প্রত্যেকের জীবনে। শুভদীপ সরকার কোনো দিন তার মেয়েকে মায়ের অভাব বুঝতে দেন নি। তিনি একাধারে বাবা-মা উভয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়ে মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে বলেছেন--- " তোর মা আমাদের ছেড়ে বহুদূর চলে গেছেন, আর কোনদিন আমাদের কাছে ফিরে আসবেন না। দুজনের ভুল বোঝাবুঝির কারনে সম্পর্কের ভাঙন ধরেছিল। আমিই তোর মা, আমিই তোর বাবা।" তিনি বাড়িতে একজন বিশ্বস্ত ভদ্রমহিলা রেখেছিলেন  মেয়ের দেখাশোনা, রান্নাবান্না ও বাড়ির কাজ করার জন্য। তার জন্য তাকে মাসে সাত হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিতেন তিনি। এমন সৎ ও ভালো কাজের মানুষ এখনকার দিনে তেমন দেখাই যায় না। দেখতে দেখতে তারও কাজের বয়স ষোলোবছর হয়ে গেল। অধ্যাপক শুভদীপ সরকারের পত্নী চলে যাওয়ার পর অনেকেই মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকে পুনরায় বিয়ে করতে বলেছিলেন , কিন্তু তিনি সৎ মায়ের আচরনের কথা চিন্তা করে তা করেন নি। প্রথম দিকে মেয়েকে সামলাতে খুবই কষ্ট হয়েছে , অনেকেই তাকে দেখার জন্য এসেছিল কিন্তু বেশিদিন কেউ কাজ করেন নি। তারপর একদিন এই ষোলো বছর কাজ করা  মাসিটি কাজের খোঁজে তাদের বাড়িতে আসে। সেই কাজের মাসিটি শ্রাবন্তীকে   মায়ের ভালোবাসা কম দেয় নি। কেবল জন্ম দিলেই মা হয় না, মায়ের কর্মও করতে হয়। পালনকারী ব্যক্তিও মায়ের সমতুল্য।
এদিকে শ্রাবন্তীর মা যে উকিলকে বিয়ে করেছিলেন তিনি একটা পথদুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর ঔরষে শ্রাবন্তীর মায়ের গর্ভে  যমজ পুত্র সন্তান হয়। বতর্মানে তাদের বয়স দশবছর। উকিল স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে হিমসিম খাচ্ছিলেন তিনি। তাই বাধ্যহয়ে একটি বেসরকারি অফিসে কাজ নেন। শ্রাবন্তীর দিদা তার সৎ ভাইদের দেখাশোনা করেন। তিনিও খুবই অনুতপ্ত। আজ এতবছর পর শ্রাবন্তীর মা সুরভির মনে হয়---" এমন জীবনের কী দরকার ছিল! সুখে থেকেও সে নিজের সুখী সাংসারিক জীবনকে গলাটিপে হত্যা করেছিল। খালি চোখে যেটা সুন্দর মনে হয় সেটা প্রকৃত সুন্দর নাও হতে পারে। শুভদীপ ও শ্রাবন্তীকে ছাড়ার শাস্তি ভগবান তাকে দিয়েছেন। এরজন্য সে অনুতপ্ত।"
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ কেটে যায়। রঙ খেলার দুদিন আগে শ্রাবন্তী তার বাবার সঙ্গে শান্তিনিকেতনে যায়। শান্তিনিকেতনের কাছেই একটা ঘর তিন দিনের জন্য বুকিং করেন শ্রাবন্তীর বাবা। চারিদিকে প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য দুচোখ ভরে উপলব্ধি করেন তারা। রবিঠাকুর যেখানে বসে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতেন, তার প্রিয় ছাতিমগাছ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসার ঘর, মিউজিয়াম  রঙ খেলার আগের দুইদিন সমস্তই ঘুরে ঘুরে দেখেছিলেন তারা ‌। অধ্যাপক শুভদীপ সরকারের কলেজ জীবনের নস্টালজিক অনুভূতি মাঝে মাঝেই জেগে উঠছিল। তিনি কলেজ জীবনে অললিকা নামের একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন। কলেজ থেকে একবার তাদের শান্তিনিকেতনে নিয়ে এসেছিলেন কলেজের শিক্ষকেরা। তখন শুভদীপ ও অললিকা দুজনেই এসেছিলেন। সেই প্রথম তাদের দুজনের শান্তিনিকেতনে আসা। খুবই আনন্দ করেছিলেন সেই সময়। তখনও হোলি খেলার দিন ছিল। অললিকা হলুদ রঙের শাড়ি পড়েছিলেন ও অধ্যাপক শুভদীপ সাদা পাঞ্জাবি ও পাজামা। হোলির দিনের সেই আনন্দ আজও ভোলেন নি তিনি। অললিকার ফর্সা দুগালে শুভদীপ লাল আবির লাগিয়েছিলেন আর শুভদীপের গালে অললিকা হলুদ আবির। শুভদীপের দিকে তাকিয়ে অললিকার সেই হাসি ও চোখের চাওনি আজও তিনি ভোলেন নি। অললিকা ও তিনি যেখানে যেখানে গিয়েছিলেন সেখানে সেখানে মেয়ে শ্রাবন্তীকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেখেছিলেন অনেককিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। তার ও অললিকার সম্পর্কও একটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে কেটে যায়। তারপর কলেজে চাকরি পাওয়ার দশবছর পর শ্রাবন্তীর মাকে বিয়ে করেন তিনি। অললিকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
পরদিন ছিল হোলি। শ্রাবন্তী একটি সাদা শাড়ি ও অধ্যাপক শুভদীপ শ্রাবন্তীর মার দেওয়া একটি হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা পাজামা পড়েছিলেন। শ্রাবন্তী জানত বাবাকে মা এই পাঞ্জাবিটা দিয়েছিলেন। বাবাকে মায়ের দেওয়া পাঞ্জাবি পড়তে দেখে সে বুঝতে পারে বাবার মায়ের প্রতি ভালোবাসা এখনও আছে, শুধু মুখে প্রকাশ করতে পারেন না। বিভিন্ন নাচগানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকবছর শান্তিনিকেতনে হোলি উৎসব পালন করা হয়। ডান্ডিয়া নৃত্য এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। সকলেই শুধুমাত্র আবির নিয়ে হোলি উৎসবে সামিল হতে পারে। বড়দের পায়ে আবির দিয়ে নমস্কার করার একটি চল আছে এখানে। বিভিন্ন মিডিয়ায় এই উৎসবকে লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়। শ্রাবন্তী প্রথম বাবার পায়ে আবির দিয়ে হোলির রঙখেলা শুরু করে। বাবা শুভদীপ সরকার মেয়ের কপালে একটি চুমু খেয়ে বলেন---" দীর্ঘজীবী হ মা। একশো বছর আয়ু হোক তোর। মানুষের মঙ্গলে সবসময় নিয়োজিত থাকিস।" বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল শান্তিনিকেতনের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা  মোট একশো একটি বৃক্ষ রোপন করেন। সকলে এই শুভ উদ্যোগকে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান। শ্রাবন্তী ও অধ্যাপক শুভদীপ একটি দোকান থেকে দুটো নারকেলের চারা কিনে রোপন করেন। এরপর রঙ মাখানো শুরু হয়। চারিদিকের আকাশ ও মাঠ দেখতে দেখতে সাত রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য ভোলার নয়। দেখতে দেখতে সকলের সাদা হলুদ জামা-কাপড় আবিরের বিভিন্ন রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। ও দিকে মাইকে বসন্তের বিভিন্ন রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজতে থাকে। 'নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জ ছায়ায় সম্বিত অম্বর', 'বাদল বাউল বাজায় বাজায় বাজায় রে, 'ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল' ইত্যাদি। গানের তালে তালে শ্রাবন্তীও নৃত্য করে। মনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব এক মুহূর্তের মধ্যে সে ভুলে গিয়ে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে। মেয়েকে আনন্দ করতে দেখে অধ্যাপকও খুব খুশী হন। 
রঙ খেলার আনন্দ উপভোগ করতে করতে শ্রাবন্তী দেখে কিছুটা দূরে একটি সুন্দর দেখতে হ্যানসাম ছেলে বার বার তার দিকে তাকাচ্ছে আর হাসছে। তার চোখে মুখে লজ্জা ফুটে উঠছে। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গেলে যেমন অনুভূতি হয় ঠিক তেমনি। বাবাকে শ্রাবন্তী বিষয়টি জানায়। বাবা তাকে বলেন--- "মেয়ে আমার বড় হয়েছে বুঝতে পারছি। অনেক ছেলেই এখন তোর যৌবনে মজে অনেকরকম আচরন করবে কিন্তু তুই একেবারেই গুরুত্ব দিবি না। দেখবি যখন বুঝতে পারবে তুই কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিস না ওকে, তখন‌ তোর কাছ থেকে নিজেই সরে যাবে।" বাবার কথাশুনে শ্রাবন্তী বলে---- "ছেলেটাকে আমি কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে। ও আমায় চেনে নিশ্চয়। নতুবা এভাবে হাসবে কেন?" অনেক চিন্তা করে শ্রাবন্তী মনে করে এই ছেলেটি তার ফেসবুকের বন্ধু। এর নাম শুভদীপ দে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চেক করে শ্রাবন্তী দেখে শুভদীপের বাড়ি শান্তিনিকেতনে। সে প্রথমে ভাবে, আমি এখানে এসেছি ও জানলো কি করে। কিছুক্ষণ পরে ছেলেটিকে আবার দেখতে পায় শ্রাবন্তী। এবার বাবাকে পুরো ঘটনাটি বলে সে। বাবা শ্রাবন্তীকে বলেন--- " শুভদীপকে এখানে ডেকে আন। ওর সঙ্গে একটু আলাপ করি। আশেপাশের জায়গাগুলো ওর নিশ্চয় চেনা। ওর সঙ্গে বিকেলে একটু নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখব।" বাবার কথা মতো শ্রাবন্তী শুভদীপের কাছে গিয়ে আলাপ করে। এবং লাজুক দৃষ্টিতে বলে --- " বাবা আপনাকে একটু ডাকছেন। আপনি অনুগ্ৰহপূর্বক একটু শুনে যাবেন। " শ্রাবন্তীর বাবার কাছে গিয়ে শুভদীপ প্রথমেই দুই পায়ে আবির দিয়ে নমস্কার করে। তারপর বলেন, কাকু ভালো আছন। সৌজন্যতাবশত বলে হ্যা। তারপর শ্রাবন্তীর বাবা শুভদীপকে বলেন--- " মেয়ের মুখে শুনলাম তুমি ওর ফেসবুক ফ্রেন্ড এবং তোমার বাড়ি এখানে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল আমাদের দুজনের নাম এক। অর্থাৎ আমরা মিতে। তুমি আমাদের আশেপাশের জায়গাগুলো ঘুড়িয়ে দেখাবে? অনেকদিন আগে এখানে এসেছিলাম কিন্তু রাস্তাঘাট সব ভুলে গেছি।" এরপর শুভদীপ বলে--- " অবশ্যই, আমার কোন সমস্যা নেই। আপনারা আমাদের অতিথি। আপনাদের ইচ্ছাপূরণ করা আমার দায়িত্ব । তাছাড়া শ্রাবন্তী আমার বন্ধুসম, আমি আজ বিকেলে আপনাদের সঙ্গে ঘন্টা দুয়েক থেকে আপনাদের ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা করব।" এরপর শুভদীপ দে অধ্যাপক শুভদীপ সরকারের পায়ে আবীর দিয়ে প্রনাম করে এবং নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে চলে যায়। শ্রাবন্তীর বাবা তাকে মনে মনে আশীর্বাদ করেন। তিনি ভাবেন --- " আজকালকার দিনে এরকম ছেলে দেখা যায় না। নিশ্চয় এর পিতা - মাতার সু-সংস্কার পেয়েছে ছেলেটি। এ রকম ছেলেই আমার শ্রাবন্তীর জন্য প্রয়োজন। দেখি ওর বাবা-মার সঙ্গে কথা বলে।" এরপর অধ্যাপক শুভদীপ শ্রাবন্তীকে বলেন--- " কীরে মা এই ছেলেটি কী করে তুই জানিস? মানে চাকরি - বাকরি করে কিছু?" বাবার প্রশ্নের জবাবে মেয়ে বলে --- " আমি যতদূর জানি ও একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। পরিবারে বাবা - মা ও বোন আছে। বাবা বিশ্বভারতীর অধ্যাপক।" মেয়ের কথা শুনে অধ্যাপক শুভদীপ সরকার বুঝতে পারেন তার মেয়ে ছেলেটি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে। হয়তো ওদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে। নতুবা একই জায়গায় এমনভাবে দেখা হয়! নাকি এই দেখা হওয়াটি কোনো কাকতালীয় বিষয়।
রঙখেলার দিন বিকেল বেলা পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো ফোন করে অধ্যাপক শুভদীপ সরকার শুভদীপ দে-কে ডেকে নেন। তারপর তিনজন মিলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। যেহেতু রঙ খেলার দিন সেহেতু সেই সময়ও কোথাও কোথাও ছেলে-মেয়েরা রঙ খেলছিল। শুভদীপ দে তাদের দুজনকে প্রথমে মজে যাওয়া কোপাই নদী দেখাতে নিয়ে যায়। তারপর পাশের একটি আদিবাসী গ্ৰামে নিয়ে গিয়েছিল। গ্ৰামের মানুষ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে শ্রাবন্তী ও তার বাবা খুবই খুশি হন। এরপর তারা কংকালীতলা মন্দিরে যান। সেই সময় সন্ধ্যার পুজো চলছিল। তারা তিনজন মিলে পুজো দেন। এই মন্দিরটি একান্ন সতীপীঠের একটি। সেখানে ঘন্টা খানিক সময় কাটিয়ে শুভদীপ তাদের দুজনকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে ঢুকে অধ্যাপক শুভদীপ সরকার অবাক হয়ে যান। হঠাৎ সোফায় বসে পড়েন তিনি। শ্রাবন্তী তাকে জিজ্ঞাসা করে--- " তোমার কী হয়েছে বাবা? শরীরটা খারাপ লাগছে? জল খাবে?" শুভদীপ দে তাড়াতাড়ি একগ্লাস জল এনে তার মাথায় ও চোখে - মুখে দেয়। এরপর একটু খাইয়ে দেয় । অধ্যাপক শুভদীপ সরকার শুভদীপ দে-র মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর বলেন--- " তুমি অললিকার ছেলে? তোমার মা কবে মারা গেল? তোমার মামার বাড়ি কলকাতায়? এরপর অললিকার মালা দেওয়া ফটোটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন অধ্যাপক। শুভদীপ দে বেশ অবাক হন অধ্যাপকের এই আচরনে। সে বলে ---" আপনি আমার মাকে চেনেন? এর আগে আমি আপনাকে কখনো দেখিনি।" কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর অধ্যাপক বলেন --- " আমি আর তোমার মা একই সঙ্গে কলেজে পড়তাম। আমাদের দুজনের একই বিষয় ছিল। পড়াশোনার সূত্রে তোমার মার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল।" এই কথা বলার সময় গলা কেঁপে গিয়েছিল অধ্যাপক শুভদীপ সরকারের। অললিকার ছেলেকে তো বলা যায় না তার মার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল তার। তবে তার গলা কাঁপতে দেখে ও চোখ চিকচিক করতে দেখে মেয়ে পুরো বিষয়টি বুঝে গিয়েছিল। এরপর শুভদীপ সরকার শুভদীপ দে-র কাছে জানতে চান তার মা কিভাবে মারা যান। শুভদীপ দে বলে --- " আমার বাবা তখন চাকরিসূত্রে কাশ্মীরে থাকতেন। আমি ছিলাম স্কুলে। বাড়িতে কেউ ছিলেন না। হঠাৎ মার হার্ট অ্যাটাক হয়। পাড়ার লোকে কেউ বুঝতেই পারেন নি। আমি যখন স্কুল থেকে আসি তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। শুধু একটু সহযোগিতার অভাবে আমার মা অকালে চলে গেলেন। বাবা মনের কষ্টে চাকরি ছেড়ে দিলেন। " এই কথা বলতে বলতে শুভদীপ দে-র গলা কেঁপে উঠলো, চোখে জল দেখা দিল। আপন হারানোর যন্ত্রনা অনুভব করেন অধ্যাপক। তাঁর দুচোখেও জল দেখা যায়। নিজেকে কোনক্রমে সামলে নিয়ে তিনি বলেন --- " তবে আজ আমরা উঠি। এখানে কাল পর্যন্ত আছি। সুযোগ পেলে এসো ডলফিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে। অনেক কথা হবে।" তারা হোটেলে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ায় এমন সময় শুভদীপের বাবা ঘরে ঢোকেন। তিনি শুভদীপের কাছে সব শুনে বলেন--- " আপনি অললিকার বন্ধু, প্রথম আমাদের বাড়িতে এলেন, খালি মুখে চলে যাবেন। বসুন মশাই একটু চা করি। মামনি তুমিও বসো। " দুজনেই একটু ইতস্তত করছিলেন, কিন্তু শুভদীপের বাবার অনুরোধ ফেলতে পারলেন না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজে চা করে আনলেন। চা খেতে খেতে অনেকক্ষণ গল্প করলেন তারা। এদিকে শুভদীপের শ্রাবন্তীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি কর্নেল রামতনু ঘোষাল লক্ষ করলেন। শ্রাবন্তীকে প্রথম দেখে রামতনু বাবুর ভালোই লাগে। তিনি মনে মনে ঠিক করে নেন একে আমার শুভর বউ করতে হবে। তবে তিনি তখনই কিছু বলেন না। এরপর শুভদীপ শ্রাবন্তী ও তার বাবাকে একটি টোটোতে তুলে দিয়ে বলে দেয় ডলফিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে নামিয়ে দিতে ‌।
পরদিন বিকালে শুভদীপ ওর বাবাকে নিয়ে অধ্যাপকদের হোটেলে যান। শ্রাবন্তী পাশের দোকান থেকে চা ও বিস্কুটের অর্ডার দেয়। এবার শ্রাবন্তীর শুভদীপের প্রতি সলজ্জ তাকানো অধ্যাপকের চোখে পড়ে। তিনি এবার বুঝতে পারেন তার মেয়ে ও শুভদীপের সম্পর্কে তার সন্দেহ পুরোপুরি সত্যি। শুভদীপকে নিয়ে যখন শ্রাবন্তী হোটেলের পাশের দোকানে চা আনতে গিয়েছিল তখন অধ্যাপক কর্নেলের সঙ্গে তাদের মনের কথা বলে নেন। দুজনেই এই সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্মতি জানান। কর্নেল বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় অধ্যাপককে বললেন --- " তাহলে ওই কথাই রইলো। বাকি কথা ফোনে বলব। শুভ কাজে দেড়ি করতে নেই ।" 
শুভদীপরা চলে যাওয়ার পর শ্রাবন্তীর বাবা তার ও কর্নেলের মধ্যে হওয়া কথাগুলো শ্রাবন্তীকে জানান। লজ্জায় শ্রাবন্তীর মুখ লাল হয়ে যায়। কর্নেল বাড়ি গিয়ে শুভদীপকে সব জানালে তারও একই অবস্থা হয়। ক্ষণিকের মধ্যে তারা দুজন অনেক স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরদিন সকালে ট্রেনে করে শ্রাবন্তী ও তার বাবা কলকাতায় ফিরে আসে। স্টেশনে তাদেরকে ছাড়তে শুভদীপ দে ও তার বাবা এসেছিলেন। ট্রেন ছাড়ার সময় সাময়িক শুভদীপ ও শ্রাবন্তীর মুখে নেমে এসেছিল একরাশ অন্ধকার। প্রিয় বিদায়ের একটা যন্ত্রনা ছিল তাদের মনে।
কলকাতায় ফিরে আসার দুইদিন পর রাত্রে খাওয়ার সময় হঠাৎ অধ্যাপক শ্রাবন্তীকে বলেন--- " শোন্ মা তোকে আজ একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাব। আমার মনে হলো আজ তোকে জানান প্রয়োজন। তোর মা মারা যান নি। সুরভি আজও বেঁচে আছেন। তার একটি ভুল বোঝাবুঝিতে আমাদের সম্পর্ক কেটে যায়। তখন তুই খুব ছোট। তোর মা একজন উকিলকে বিয়ে করেছিল। তিনি আজ বেঁচে নেই। তোর মা তোর যমজ সৎভাইদের নিয়ে আজ এই কলকাতাতেই অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তুই চাইলে মায়ের সাথে দেখা করতে পারিস। আজ আর তোকে আমি বাঁধা দেব না।" বাবার কথা শুনে শ্রাবন্তীর চোখ দুটো আনন্দাশ্রুতে ভরে যায়। এরপর মনে সাহস নিয়ে শ্রাবন্তী বাবাকে বলে ---- "বাবা তোমায় একটা কথা বলছি। জানি আমার বলাটা ঠিক হবে না। তবুও আজ আমায় বলতে হবে। আমি শ্বশুর বাড়ি চলে গেলে তুমি একেবারে একা হয়ে যাবে।তাই বলছিলাম পুরনো দিনের কথা ভুলে গিয়ে মাকে নিয়ে আসলে হয় না। তাকে ক্ষমা করে দাও। সেও হয়তো আজও অনুতপ্ত। কিন্তু লজ্জায় আসতে পারে না আমাদের কাছে।" মেয়ের কথা শুনে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন অধ্যাপক শুভদীপ সরকার। তারপর বলেন --- "সে যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমাদের সংসারে আসতে চায় তবে আমার কিছু বলার নেই। প্রথমে ভাবতাম ওকে কোনো দিন আমি ক্ষমা করব না। কিন্তু আজ আমি বুঝতে পেরেছি একাকিত্বের জীবনের থেকে একসঙ্গে থাকা ভালো। মানুষই ভুল করে। আগের মতো না হলেও একসঙ্গে তো বাকি জীবনটা কাটাতে পারব।" বাবার কথা শুনে মেয়ে বুঝতে পারে বাবা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নরম হয়ে গেছেন। তার একাকিত্ব দূর করার ব্যবস্থা এখনি তাকে করতে হবে।
সপ্তাহ খানেক বাদে শান্তিনিকেতন থেকে শুভদীপ ও তার বাবা শ্রাবন্তীদের বাড়িতে আসেন। ঠিক হয় শ্রাবন্তী বি.এ পাশ করলে তারা তাদের চারহাত এক করে দেবেন। খাওয়া - দাওয়া, গল্প, হাসাহাসি চলে সেই দিন। শুভদীপ দে ও শ্রাবন্তী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ঘুরতে যায়। শ্রাবন্তী শুভদীপকে তার মায়ের কথা জানায়। তারপর বাড়ি ফেরার সময় শুভদীপকে নিয়ে শ্রাবন্তী মায়ের কাছে যায়। দুদিন আগে মায়ের ঠিকানা সে বাবার কাছ থেকে নিয়েছিল। শ্রাবন্তী যখন মার বাড়িতে পৌঁছায় তার কিছুক্ষণ আগেই সুরভি অফিস থেকে এসেছেন। কলিং বেল টেপার পর সুরভি এসে দরজা খোলেন। শ্রাবন্তীকে ও শুভদীপকে দেখে বলেন --- " কে তোমরা? কাকে চাই?" মাকে দেখে শ্রাবন্তী একমুহুর্ত বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। তারপর বলে --- " আপনিই সুরভি সরকার, মানে সুরভি ভক্ত?" সুরভি কথাটা শুনে একটু অবাক হয়ে বলেন হ্যা আমি সুরভি ভক্ত। তোমরা কারা? শ্রাবন্তী বলে --- " আমি শ্রাবন্তী সরকার, অধ্যাপক শুভদীপ সরকারের মেয়ে। " এই কথা বলতে গিয়ে দুচোখে জল দেখা যায় তার। শুভদীপ সরকারের নাম শুনতেই তিনি বুঝতে পারেন এটা তার মেয়ে শ্রাবন্তী। মুহূর্তের মধ্যে দুচোখে অশ্রুধারা নেমে আসে। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে সুরভি। মা ও মেয়ে দুজনকে কাঁদতে দেখে শুভদীপের  মনটাও ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। সুরভি তার মেয়ে ও শুভদীপকে ঘরে ঢুকিয়ে বসতে দেয়। মনের দুঃখের সঙ্গে সঙ্গে সুরভি নিজের কৃতকর্মের জন্য কিছুটা লজ্জা পান। কি বলবে কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না। শ্রাবন্তী বেশি ভনিতা না করে শুভদীপের পরিচয় দেয়। তারপর বলে---" মা, এক বছর পর আমার বিয়ে, তুমি ভাইদের নিয়ে বাড়ি চলো। আমি চলে গেলে বাবা একেবারে একা হয়ে যাবে। বাবাই তোমাকে নিতে পাঠালেন। অতীতের সব বাবা ভুলে গেছে, তোমাকেও সব ভুলে যেতে বলেছে। তুমি আর না করো না। তোমার ভালবাসা থেকে আমি আর বঞ্চিত হতে চাই না। অনেক কষ্ট পেয়েছি এতবছর।" মেয়ের কথা শুনে প্রথমে আপত্তি করলেও ছেলেদুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুরভি বলেন --- " কোন্ মুখ নিয়ে আমি তোর বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াব। আমার সেই সাহস নেই। তাছাড়া তোর বাবা আমাকে ঠকায় নি, আমি ওনাকে ঠকিয়েছি। তবে ভাইদের কথা চিন্তা করে আমাকে যেতে হবে। তোর বিয়ের আগে আমি যাব। বাবাকে বলিস তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন।"
একবছর দেখতে দেখতে কেটে যায়। অনেক কিছুই এই একবছরে ঘটে যায়। শ্রাবন্তী বি.এ পাশ করে প্রথম শ্রেণীতে। শ্রাবন্তীর মার কাজটি চলে যায়। অধ্যাপক শুভদীপ সরকার সুরভির সঙ্গে দেখা করেন। তিনিও ছেলেদের নিয়ে সুরভিকে বাড়ি ফিরে আসার কথা বলেন। সুরভিও তাকে কথা দেন মেয়ের বিয়ের আগে তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন। অবশেষে মেয়ের বিয়ের শুভ মুহূর্ত চলে আসে। বিয়ের তিন দিন আগে সুরভি শ্রাবন্তীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে দুই ছেলেকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। চিঠিতে তিনি লেখেন ---- "স্নেহের শ্রাবন্তী, তুমি আর তোমার বাবা অনেক মহৎ মনের মানুষ। তাই আমার জঘন্য কৃতকর্মের পরও তোমরা আমায় ক্ষমা করে দিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছ। কিন্তু আমি এখনো পর্যন্ত নিজেকে নিজে ক্ষমা করতে পারি নি। প্রতিটি মুহূর্তে আমি আমার কর্মের জন্য নিজের কাছে ছোট হয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া আমার কৃতকর্মের ফল তোমার দুই ভাইয়ের দায়িত্ব তোমরা কেন নেবে। তাদের মানুষ করার দায়িত্ব আমার। তাই ওদের নিয়ে আমি চললাম। তোমার বিয়ে খুব ভালোভাবে হোক। আমার আশীর্বাদ সবসময় তোমার সঙ্গে থাকবে। তোমার বাবাকে বুঝিয়ে বোলো। উনি যেন আমার জন্য কষ্ট না পান। পারলে তোমার এই হতভাগ্য মায়ের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করে দিও। ইতি-- তোমার মা সুরভি।" 
এদিকে মা আসছেন না দেখে বিয়ের আগের দিন শ্রাবন্তী মাকে ও ভাইদের আনতে যায়। বাড়িতে গিয়ে দেখে দরজায় তালা দেওয়া ও দরজার নীচে একটি ইট চাপা দিয়ে চিঠিটি রাখা। চিঠিটি পড়ে শ্রাবন্তীর দুচোখ দিয়ে জল ঝরে পড়ে। সে বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। মাকে খুঁজে পাওয়ার কোনো উপায়ও তার কাছে থাকে না। সে বাড়ি ফিরে যায়। মা চলে যাওয়ার কথাটি চেপে রাখার চেষ্টা করেও সে পারে না। কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে সব বলে ও চিঠিটি তাকে দেয়। অধ্যাপক শুভদীপ সরকার চিঠিটি পড়ে বুঝতে পারেন জীবন কত জটিল। আমরা চাইলেই অতীতের সবকিছু ভুলে এগিয়ে যেতে পারি না। নিজের ভুল বার বার বিবেককে দংশন করে। তাই আমরা চাইলেও সব মেনে নিতে পারি না। সুরভিও পারে নি। তাইতো নিজের কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার পথ সে বেছে নিয়েছে।

=======================
মিঠুন মুখার্জী
C/O-- গোবিন্দ মুখার্জী
গ্ৰাম : নবজীবন পল্লী
পোস্ট+থানা -- গোবরডাঙা
জেলা -- উত্তর ২৪ পরগণা
পিন-- 743252
মোবাইল+হোয়াটসঅ্যাপ: 9614555989



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,