Skip to main content

কবিতায় সেতুবন্ধন (তৃতীয় অংশ) শিল্পবিপ্লবোত্তর কাল ।। রণেশ রায়

কবিতায় সেতুবন্ধন (তৃতীয় অংশ) 

 শিল্পবিপ্লবোত্তর কাল 

 রণেশ রায়


এবার আসা যাক রোমান্টিক কাল আর ভিক্টরিয়া কাল। এই সময়কালকে বেষ্টন করে আছে শিল্প বিপ্লব  ও রেনেসাঁ কালের উষা লগ্ন ও তার পরের মধ্যগগন। রোমান্টিক কালকে (1785-1830) অনুসরণ করেছে ভিক্টরিয়া কাল (1830-1901) । মধ্যযুগের রাজতন্ত্র, পোপতন্ত্র আর সামন্ততন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে প্রথমে বেনিয়ারাজ তারপর আধুনিক শিল্প যুগের আবির্ভাব ঘটেছে এই সময় কালে যা ধর্মের শাসনের জায়গায় আইনের শাসন বলবৎ করতে সাহায্য করে। এই দুটো  সময়কালকে পুঁজিবাদের বিকাশ ও তার ক্ষয়ের কাল বলা হয় যে সময়কাল ধরে প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদ বিকাশলাভ করে, তা সাম্রাজ্যবাদে রূপান্তরিত হয় আর পৃথিবী জুড়ে তার রাজত্ব বিস্তার করে। আর্থ সামাজিক রূপান্তরের সঙ্গে শিল্প সাহিত্যে এক বিপ্লবী পরিবর্তন আসে। কিন্তু শোষণ ব্যবস্থা ভিন্ন আঙ্গিকে টিকে থাকে। তার ক্ষয়ের দিকটা প্রকট হতে থাকে। সভ্যতার এক সংকট দেখা যায়।  


মানুষের চিন্তার জগতেও এই যুগের প্রথম পর্যায়ে  এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। নতুন এই সমাজের  উষালগ্নে মানুষ এক নতুন জীবনের কল্পনা করে। তার মননে জীবনের  উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু হয় প্রকৃতি,প্রেম ও মানবতা। মানুষের জীবনধারণ বদলাতে থাকে। প্রথম যুগে  অর্থাৎ শিল্প সমাজের আবির্ভাব লগ্নে মানুষ তার ব্যক্তিসত্তাকে বুঝতে শেখে। ব্যক্তিস্বাধীনতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখে। মানুষ হয়ে ওঠে আশাবাদী আবেগ প্রবন। সে নিজের আবেগ দিয়ে নিজের মননে এই মহাবিশ্বকে দেখতে চায়। নিজের সত্তা অক্ষুন্ন রেখে সমাজে জায়গা করে নিতে চায় প্রেম ভালোবাসা দিয়ে। মধ্যযুগের বর্বরতাকে সে অস্বীকার করে। কিন্তু সেটা চায় তার ভাববাদের ডানা মেলে। প্রকৃতি ও প্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শিল্প সাহিত্য। কবিতার আয়নায় সেটাই মুর্ত হয়ে ওঠে বায়রন সেলি ওয়ার্ডসওয়ার্থ এর কাব্য প্রতিভায় যা পরবর্তীকালে আমাদের দেশে মাইকেল রবীন্দ্রনাথের কবিতায় প্রতিভাত হয় তাদের রোমান্টিকতায়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য যে শিল্প বিপ্লবের পরের পর্যায়ে মানুষের রোমান্টিসিজম ভেঙে যায়, শিল্প সমাজের অবক্ষয় ধরা পড়ে। এই রোমান্টিকতার মননের সঙ্গে বাস্তবের সংঘাত বাধে। সমাজে একটা সম্প্ৰদায়ের আরেকটা সম্প্ৰদায়কে শোষণ করা অব্যাহত থাকে। মুষ্টিমেয়ের প্রাচুর্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য ভোগবাদকে মদত করে যা সবসম্প্ৰদায়ের মানুষকে কলুষিত করে। মানুষ ভোগবাদের শিকার হয়। শিল্প সাহিত্যে এই অবক্ষয় ধরা পড়ে। নগর সভ্যতাকে আর আদর্শ সভ্যতা বলে মনে করা হয় না।পুঁজিবাদের মধ্যগগনে  ভিক্টরিয়া যুগ থেকে  শিল্প সাহিত্যে এর প্রভাব দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য যে রোমান্টিক ও ভিক্টরিয়া যুগকে সময় ধরে ভাগ করা যায় না। এ হল একই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটা যুগ থেকে আরেকটা যুগে প্রবেশ। অনেক কবির মননে এই দুই যুগের প্রভাবই দেখা যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে  এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটা মনন গড়ে ওঠে। কবিতার আয়নায় তা ধরা পড়ে। মার্ক্সবাদ নতুন দর্শন নিয়ে মানবসমাজকে নতুন ভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ  করে। ভাববাদী দর্শনের জায়গায় বস্তুবাদী দর্শন দেখা যায়। বস্তুবাদী দর্শন দুটো খাতে প্রবাহিত হয়। চলতি ব্যবস্থার  এই সমর্থকরা আধুনিক সভ্যতার ত্রুটি দূর করে মানবতাবাদের ভিত্তিতে সমাজকে পুনর্গঠিত করার কথা বলেন। তাঁরা একধরনের বস্তুবাদের কথা বলেন যাকে মার্কসবাদীরা যান্ত্রিক বস্তুবাদ বলেন।কিন্তু মার্ক্সবাদ দ্বন্দমূলক বস্তুবাদের দর্শন প্রচার করে যা শিল্প সভ্যতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদের উচ্ছেদের কথা বলে। হেগেলের দ্বন্দ্ব তত্ত্ব মার্কসের ভাবনায় প্রস্ফুটিত হয়। সমাজ বিকাশের ধারায় দ্বন্দ্ব তত্ত্বের গুরুত্ব অনুভূত হয়। শোষক ও শোষিতের মধ্যে বৈরিতার প্রেক্ষাপটে সমাজে মানুষের অধিকারের প্রশ্নটা সামনের সারিতে উঠে আসে। শ্রেণী সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। সমাজতন্ত্র বিশেষ জনপ্রিয় হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শিল্প সমাজের গর্ভে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক দেশগুলোর স্বাধীনতার লড়াই। এই পরিবর্তন শিল্প সাহিত্যের উপর প্রভাব ফেলে। একদিকে ভোগবাদকে কেন্দ্র করে যেমন একধরনের আধুনিক সাহিত্য জন্ম নেয় তেমনি অধিকারের লড়াইকে কেন্দ্র করে আরেকধরণের বিদ্রোহের শিল্প সাহিত্য গড়ে ওঠে যা ভিক্টোরিয়া পরবর্তী আধুনিককালে আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তন  মূর্ত হয়ে ওঠে কবিতায়। আমরা নিচে কয়েকটা কবিতায় রোমান্টিক ও ভিক্টরিয়া আমলের অনুবাদ কবিতা তুলে ধরব যার আয়নায় এই যুগে দুটোর মধ্যেকার ঐক্য ও দ্বন্দ্বের দিকটা প্রতিফলিত হয়। তারপর বর্তমানকালের কথায় আসব। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আর মানুষের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কবি মানসে গড়ে উঠেছে এক কল্পনার জগৎ যা কবির ভাবপ্রবনতা বা রোমান্টিকতাকে মুর্ত করে তোলে। কবিতাগুলো ধ্রুপদী কবিতার মর্যাদা পেয়েছে।


নিচের কবিতাটা  পারসী কবি শেলীর বিখ্যাত কবিতা Ode to the  West Wind কবিতার বাংলা ভাবানুবাদ। প্রকৃতির ঋতু চক্রের মধ্যে কবিতাতে কবি তার ধ্বংস আর সৃষ্টর রূপ বর্ণনা করেন। বাতাস এক অশরীরী শক্তি যে একদিকে ধ্বংসের প্রতীক আবার সে সৃষ্টিকে আহবান জানায়। পশ্চিমের উন্মাদ  বাতাস  সৃষ্টির প্রতীক। সেই আবার  শীতের ঠান্ডায় এসে গাছের জীর্ন  পাতা ঝরায়  যা আবার শীত শেষে বসন্তের নতুন পাতার জন্ম দেয়।  বসন্তের আগমনের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন যদি শীত আসে তবে বসন্তের আগমনে  আর দেরি থাকে না।  মানুষের জীবনের জীবন চক্রটাও একই রকম। সুখ দুঃখ জন্ম মৃত্যু নিয়ে জীবন। জন্মের পর ক্ষয় লয় ।  কিন্তু তা আবার নতুন জন্মের বার্তা বাহক।


Ode to the West Wind
BY PERCY BYSSHE SHELLEY

1792-1822




পশ্চিমা বাতাস উৎসর্গ তোমায় 



হে উন্মাদ পশ্চিমা বাতাস !

তুমি শরতের নিঃশ্বাস,

দেখা দেও না, 

বয়ে চল অবিরাম,

তবু তোমার অশরীরি উপস্থিতি

শিহরণ জাগায় স্নায়ু জগতে আমার।

শীতের প্রাদুর্ভাব, তোমার প্রবাহে

তরু হতে ঝরে পড়ে 

বিবর্ণ নিষ্প্রাণ পত্ররাশি

মরণোন্মুখ পাতা বাহার,

পক্ষাঘাতে জীর্ণ 

পীত কালচে ফেকাসে লাল,

কোন জাদুকরের জাদুবলে

পলায়ন তার !

বন প্রাঙ্গনে যেন মহামারী,

আকাল আজ জঙ্গল অঙ্গনে।

বায়ুরাজ পশ্চিমা বাতাস, 

তুমি তাদের তাড়িয়ে নিয়ে যাও

হিম প্রবাহে

কোন এক  অন্ধকার শৈত্য শয্যায়।

খোসা বীজ আশ্রয় নেয়

কুণ্ডুলি পাকিয়ে কোন এক

অন্ধকার কবরে হিমেল গহ্বরে।


তোমার সোহাগিনী বসন্ত ভগিনী, 

তার বাঁশির সুর বেজে ওঠে

 অদূরে স্বপ্নপুরী এ পৃথ্বীতে,

সে বেণুর সুরে প্রাণসঞ্চার,

রাখাল বালকের মত

তাড়িয়ে নিয়ে চলে ভ্রুনেরে,

বাতাসে  নিঃশ্বাস তাদের

জেগে ওঠে সবে কলকল রবে।


হে উন্মাদ পশ্চিমা বাতাস,

তুমি অশরীরি, শোন তুমি,

তুমি ধ্বংস তুমি সৃষ্টি

 রক্ষাকর্তা তুমি।


হে পশ্চিমা বাতাস, তোমার আঘাতে

টুকরো টুকরো মেঘ আকাশে ভাসে,

জীর্ণ পাতার মত ঝরতে থাকে,

বাতাস তুফান হয়ে ওঠে

সংঘর্ষ তুফানে মেঘে,

জোট বাঁধে মেঘেরা

কেঁপে ওঠে আকাশ বাতাস,

বাতাসে তুফান আকাশে বজ্রপাত,

বিদ্যুৎ চমকায়, 

বর্ষের বিদায় লগ্নে রাতের শেষ বেলায়

তুমি ভয়ঙ্করী, ভেঙে কর সব চুরমার,

তুমি আগমনী গান গাও

নতুনের বার্তা বও,

জানান দাও তুমি,

মেঘ স্বর্গদূত  হয়ে নামবে

বর্ষা হয়ে ঝরবে 

আকাশ নেমে আসবে দিগন্তে,

সে মিলবে এসে পৃথ্বীর আলিঙ্গনে,

সমুদ্র উত্তাল ঢেউয়ে ঢেউয়ে,

জল সিঞ্চন বৃষ্টি প্রপাতে,

পোহাতি মাটি উর্বর হয়ে উঠবে,

প্রাণ সঞ্চার সবুজে সবুজে

অঙ্কুর মাথা তুলবে আকাশে।



  

হে উন্মাদ পশ্চিমা বাতাস !

তুমি জাগাও তাকে,

নিটোল স্বচ্ছ ভূমধ্যসাগর 

গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে

নিদ্রামগ্ন সমুদ্র বক্ষে,

স্বপ্নে বিভোর সে এক স্বপ্নপুরি মাঝে,

শান্ত উদাসীন সে ঘুমায়

জাগিয়ে তোল তুমি তাকে;

তারই পাশে বাওয়াস উপসাগরে 

নির্বাসিত সেই প্রস্তর দ্বীপ,

নিদর্শন ফেলে আসা সে অতীত,

স্বপ্নে দেখে সে

ভগ্নদশা অট্টালিকা গম্বুজ যত

নির্বাসিত তারা সমুদ্র গভীরে

কেঁপে ওঠে ঢেউয়ের তীব্র কম্পনে।


সমুদ্র তলে নীলাভ শৈবাল 

মিষ্টি সুবাস ছড়ায় যত পুষ্পরাজ,

বয়সে ভারাক্রান্ত তারা,

তাদের বিদায় বেলা আজ।

হে শক্তিমান পশ্চিমা বাতাস

আটলান্টিকের পথ ধরে তুমি নেচে চল,

তোমায় পথ করে দিতে

আটলান্টিক দ্বিখণ্ডিত হয় 

সমুদ্র গহ্বরে ফাটল ধরে,

সে পথে তুমি বাধাহীন দুর্নিবার,

তোমার দুর্বার গতিতে নতজানু সবে।


শেওলায় আচ্ছাদিত

সমুদ্রগর্ভে যত বৃক্ষরাজি

বিবর্ণ জরাজীর্ণ পত্ররাশি তার,

তোমার পরিচিত কন্ঠস্বর

ভয়ঙ্কর বার্তা বয়ে বেড়ায়

ভয়ে কুঁকড়ে মরে তারা,

ধূসর বিবর্ণ তাদের মুখ

আশ্রয় খোঁজে তারা।

হে বন্ধনহীন পশ্চিমী বাতাস

তোমার তান্ডববার্তা শোনা যায়

ধ্বংসের মাঝে তোমার সৃষ্টি

তুমি শোন আগামীর পদধ্বনি।



যদি আমি বিবর্ণ পাতা---

ও: সর্বশক্তিমান পশ্চিমা বাতাস ! 

বয়ে নিয়ে চল আমায় আমার অন্তে।

হলে আমি ত্বরিতগতি মেঘ

ভেসে চলি তোমার ডানায় ডানায়,

যদি আমি সমুদ্রের ঢেউ 

দেখ আমার প্রলয় নাচন,

তোমার অঙ্গে অঙ্গে

তোমার হাত ধরে 

ভাসি আমি  তরঙ্গে তরঙ্গে।

হে বন্ধনহারা মুক্ত বাতাস

তোমার শক্তি শিহরণ জাগায়,

দাও আমায় ক্ষমতা তোমার।


আমি যদি শৈশব ফিরে পাই

তোমার বন্ধু আমি, 

তোমার ক্ষমতার ভাগিদার,

তোমার সাথে বিচরণ আকাশে বাতাসে,

পাল্লা দিয়ে চলি গতিকে তোমার।

কিন্তু হায় ! জীবনের এই দিনান্তে

অক্ষম আমি, তাই নিবেদন আমার,
হে উন্মাদ বাতাস ! তুমি বন্ধু আমার,

সাহস জোগাও, আমাকে জাগাও,

সাঁতার কাটি ঢেউয়ে ঢেউয়ে;

এ নব বসন্তে পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায়

নতুন পাতায় নব জন্ম আমার

ভেসে চলি মেঘের ডানায় ডানায়।


জীবনের কণ্টক শয্যায় শুয়ে রই,

আঘাতে আঘাতে আমি বিদীর্ণ

আমি রক্তাক্ত, রক্ত ঝরে আমার,

 তাও ডরি না আমি ভয়ে।

কিন্তু হায় !

এ জীবন সায়াহ্নে

সময় বয়ে নিয়ে যায় আমাকে

সময়ের ভারে আমি ভারাক্রান্ত,

শৃংখলিত  আমি,  আমি ন্যুব্জ আজ,

আমি বিবর্ণ ঝরা পাতা;

তবু জেনো আজও অদম্য আমি

আমি তোমায় ভালোবাসি,

হে উন্মাদ বাতাস,

অশরীরী শক্তি তুমি, 

তোমার গতি তোমার উদ্যম

অহং আমার, তুমি বন্ধু আমার।





 ৫


বিদায় ঘণ্টা বাজে শোন ওই,

বাজে ওই শরতের বিদায়ের গান,

শীতের আগমনে আমি ঝরা পাতা 

তাই বধ আমায় আজ,

আমি তোমার নিবেদিত প্রাণ

ঝরা পাতার মত আমিও  ঝরে যাই।

বিষণ্ণ মধুর বিদায়ের সুর শোনা যায়,

ও আমার অশরীরী নির্মম শক্তি ! 

আমাকে নিয়ে যাও

বিদায় দাও আমায় আজ।


তোমার অদম্য শক্তি বলে

এই মহাবিশ্বের ওপ্রান্তে 

আমার জীর্ণ মৃত ভাবনা,

ঝরা পাতা, উড়িয়ে নাও, 

ভাসিয়ে নিয়ে যাও তাকে

তোমার গতির শক্তিতে,

বিদায় দাও আমাকে

ত্বরান্বিত হোক নতুনের আগমন-----

নতুন তোমায় স্বাগতম।


অগ্নিকুন্ড থেকে ভেসে আসা

ছিন্নভিন্ন অনির্বাপিত ভষ্মরাশি 

আমার কথামালা হয়ে

ছড়িয়ে যায় মানুষের মাঝে

বিচ্ছুরিত হয় আমার ওষ্ঠ থেকে

নিদ্রা মগ্ন এ পৃথ্বীতে।



হে বন্ধু, উন্মাদ পশ্চিমা বাতাস!

আমার এ বিদীর্ণ বক্ষে

ভাবনা জাগাও নব জাগরণের

জেগে উঠুক ঘুমন্ত এ ধরা,

ভবিষৎ দ্রষ্টার বার্তা শোনা যায়,

'শীত আসলে বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,

তার আর আসতে বিলম্ব কোথায়'?










WILLIAM WORDSWORTH এর  Three years  She Grew in Sun and Shower কবিতার  ভাবানুবাদ (1770-1850)



কবির কন্যা রোগযন্ত্রনায় ভুগে তিন বছর বয়সে মারা যায়। তাকে হারিয়ে কবি শোকস্তব্ধ। তার  অনুপস্থিতি কবির কাছে অসহনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি ভাবেন প্রকৃতি তাকে মুক্তি দিয়েছে। নিয়ে গেছে নিজের তদারকিতে সাহচর্যে তাকে গড়ে তুলবে বলে। আর মানুষতো প্রকৃতির সন্তান। তার ইচ্ছেতেই তার আবির্ভাব তিরোভাব। সময় হলে যেমন সবাইকে যেতে হয় তাকেও যেতে হয়েছে। কিন্তু সে বেঁচে তাঁর হৃদয়ে। প্রকৃতির কোলে পরিণত হয়ে সুস্থ সবল শরীরে সে বেঁচে থাকবে তারই সাথে। দুজনে এক স্বর্গীয় সুখ ভোগ করবে। এখানে কবি রোমান্টিক, প্রকৃতি উপাসক।তাই অনুশোচনা নয় যদিও মেয়ের শারীরিক অনুপস্থিতি তাঁর কাছে পীড়াদায়ক। কবির মনের এই দ্বৈত মনন ভাষা পেয়েছে তাঁর এই কবিতায়।




রোদ বৃষ্টিতে সে বেড়ে ওঠে 


সময় বয়ে যায় 

তিন বছর হয়ে গেল, 

রোদে জলে বেড়ে ওঠে সে,

কিন্তু প্রকৃতি জানিয়ে যায়,

" এমন সুন্দর অঙ্কুর 

অঙ্কুরিত হয় নি আগে কোনদিনই

কখনও ফোটে নি এমন ফুল এ ধরায়

সে যে একান্ত আমারই,

তাকে গড়ে তুলব আমার মত করে

আমারই দুহিতা সে যে,

তার এ কি যন্ত্রনা এই বিশ্ব কারায়

এ ধরা উপযুক্ত নয় তার জন্যে।


তাকে আমি নিয়ে যাই আমার কাছে

সে বেড়ে উঠবে আমার কোলে,

আমার যত্নে আদরে সোহাগে।

আমারই দুহিতা সে যে,

পাহাড়ে সমভূমিতে ধরিত্রীর বুকে

স্বর্গে মর্তে  নিকুঞ্জ বনে 

সর্বত্র সে আছে, তার দেখা পাবে, 

এক অদৃশ্য ক্ষমতা বলে 

সে প্রজ্বলিত হবে 

 ধীর শান্ত পূর্ণ রমণী রূপে''।


মৃগশিশু সে খেলে বেড়ায়, 

নেচে বেড়ায় আনন্দ কোলাহলে 

প্রকৃতির নীরব নিশ্চিত কোলে 

পাহাড়ের ঝর্ণায় বা তৃণ প্রান্তরে 

শান্তির নিঃশ্বাস আকাশে বাতাসে।


নিশ্চুপ পিতা  যন্ত্রনায় কাতর, 

সে ভেবে চলে, 

কবিতার প্রচ্ছদে তার ছবি আঁকে;

কন্যা তার ভেসে বেড়ায় মেঘের  ডানা  বেয়ে, 

বৃক্ষরাজি স্বাগত জানায় তাকে, 

আকাশ থেকে সে নিচে উঁকি মারে, 

শোকস্তব্ধ পৃথ্বী নিঃশব্দ শোকে 

সে তার সহমর্মী আকাশ পারে। 


আকাশের নক্ষত্র সমাজ 

কত আপন তার  সাথে

মহাবিশ্বের সর্বত্র তার বাস অনন্ত সুখে 

উর্বশী নেচে চলে তার ভ্রমন পথে 

 মর্মরিত সে ধ্বনি বাতাসে 

আনন্দ মুখরিত কন্যা 

মেঘ হয়ে ভাসে আকাশে।


প্রকৃতির সাহচর্যে কন্যা বেড়ে ওঠে 

যেন সরোবরে কলি ফুল হয়ে ফোটে , 

শিশু পরিণত হয় কুমারী কিশোরি হয়ে 

প্রকৃতির সোহাগে আদরে

সে জীবনের স্পন্দন শোনে,

যেখানেই থাকুক না সে 

অন্তের  ওপ্রান্তে ওই সুদূর অনন্তে,

পিতা তাকে খুঁজে পায় তার অন্তরে। 


কন্যার বিচ্ছেদে মর্মাহত শোকস্তব্ধ সে 

তার বিচ্ছেদ  প্রতিমুহূর্ত ব্যথা দেয় তাকে, 

কিন্তু সে জানে প্রকৃতি সর্বশক্তিমান 

তার ইচ্ছেতে যেতে হয় সবাইকে

অনুশোচনা করে না সে আর 

সময় হওয়ায়  আদরের কন্যা চলে গেছে তার, 

সে এখন বেঁচে আছে প্রকৃতির সাহচর্যে

শোক কষ্টের উর্ধে সে প্রকৃতির কোলে, 

অনন্ত সুখের স্বর্গে তার বাস 

মরজগতের যন্ত্রনা বেঁধে না তাকে আর

যখনই তাকে খোঁজে তার দেখা পায়

সুখে দুখে আদরে সোহাগে

তারই অন্তরে যে কন্যার নিবাস।





নিচের কবিতাটা  উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের  (1770-1850) লেখা বিখ্যাত কবিতা Westminster Bridge এর অনুবাদ কবিতা যেখানে কবি লন্ডনকে শিল্প সমাজে গড়ে ওঠা নগর সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করেন।তিনি তাঁর এই কবিতায় লন্ডন শহরের সৌন্দর্য তুলে ধরেন যা ভিক্টরিয়া যুগের সাহিত্যকে প্রতিনিধিত্ব করে। 


সুন্দরী সে নগরী




সুন্দরী বসুন্ধরা, তোমার এই গর্ভগৃহে 

সুন্দরতম কি হতে পারে আর !

আর কে থাকতে পারে তোমার হৃদয় জুড়ে 

সুন্দরতর এই অনিন্দ সুন্দর নগরীর চেয়ে !

যে উপেক্ষা করে, পাশ দিয়ে চলে যায়,

 দেখে না যে এই অনুপম দৃশ্য,

তার চেয়ে অর্বাচীন কে এই দুনিয়ায়?

সুবেশা সে নগরী, পরনে মোহিনী বেশ 

একাকিনী নিশ্চুপ সকালের সৌন্দর্যরাশি,

মনোরমা সে মহীয়সী, হৃদয় স্পর্শ করে।

দিগন্ত শেষে আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে 

গড়ে ওঠে জাহাজ গম্বুজ নাট্যশালা মন্দির

কি বিপুল ঐশ্বর্য গরিমায় !

কখনও কি দেখেছ সূর্যের উলম্ব কিরণ চ্ছটায়

ঝল মল করে উপত্যকার শিলা, 

পাহাড়ের তুষার কি উজ্জ্বল জৌলুসে !

কখনও আমি দেখিনি, ছিল না  অনুভবে,

নদীর কলকল বয়ে চলে আপন মনে ;

হে ঈশ্বর ! নিদ্রামগ্ন যেন সব গৃহ রাতের স্তব্ধতায়,

সে উদার শক্তিমান হৃদয় শুয়ে আছে এখনও।






নিচের কয়েকটি  কবিতায় বিভিন্ন  কবির প্রকৃতি পূজা ও মানব  প্রেম নিয়ে কবির আবেগ ধরা পড়ে যা রোমান্টিক যুগের সাহিত্যের একটা বৈশিষ্ট্য। জন কিটস To Autumn কবিতায় প্রকৃতির উপাসক। লর্ড বায়রণের কবিতাটা নারীর রূপ বর্ণনা যা কবির আবেগ প্রবণতা তাকে এক কল্পস্বর্গে নিয়ে গেছে। পরবর্তীকালে ভারতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের উর্বশী কবিতায় আমরা এর ছোঁয়া পাই।









To Autumn BY JOHN KEATS কবিতার ভাবানুসারে (1795-1821)


হে শরত তোমার গান তুমি গাও




হে শরত তোমার গান তুমি গাও,

ও বন্ধু শরত, তুমি মায়াবী সুন্দরী

প্রকৃতির  মরশুমী বৈচিত্রে

অঙ্গে অঙ্গে ভরা যুবতী রমণী,

ফুল ফলে শোভিত তুমি,

উদয় কালে তুমি সূর্যের সঙ্গিনী,

নিরালায় একান্ত গোপনে দুজনে আলাপে,

এ সাঁঝ বেলায় ভাবনা তোমাদের

কেমনে সাজাবে দুহিতাকে ফলে ফুলে,

লতানো বৃক্ষরাশি লতায় পাতায় 

তোমার বাতায়নের আলিঙ্গনে

সেজে উঠবে তোমার সাজঘরে, 

সহাস্য নত মুখ তার 

যেন বিনম্র কিশোরী নব বধূ সাজে

কানায় কানায় ভরা মধু রসে,

মধুকর এসে বসবে মধু সিঞ্চনে

মধুর ভান্ডার পূর্ণ হবে মধু সঞ্চয়ে।


তোমাদের আশীষে গর্ভবতী মৃত্তিকা,

শস্য ভান্ডার উপচে পরে ফসলে ফসলে,

 তুমি সুন্দরী মহিয়সী সেখানে,

কখনও তোমাকে দেখা যায় বাহির দ্বারে

বসে থাকো নির্বিকার,

সোনালী শাড়িতে সেজে শস্য শয্যা পরে,

এলোকেশী তুমি সুন্দরী

কেশ তোমার ঝোড়ো বাতাসে ওড়ে

অথবা তুমি গভীর ঘুমে আধ চষা ক্ষেতে,

হতেও পারে তুমি আচ্ছন্ন আফিমের ঘোরে।

                                                  

তোমারে দেখি না বসন্ত সঙ্গীতে

ভুলে থাক সে সংগীত আজ, 

বসন্ত সঙ্গীত আসে না  তোমার সুরে

চেনে না তোমায় এ দুখের অঙ্গনে।

তোমার নিজের সংগীত  তুমি গাও

তোমার আহবান ভেসে আসে সংগীতে, 

গোধূলি বেলায় অবসন্ন মেঘ জ্বলে ওঠে

রক্তিম আকাশ অস্তমিত সূর্যের সোহাগে

দিগন্তে ডানা মেলে এসে এ ধরণীতে,

এ বিদায় বেলায় বিষাদের গান গাও

বেজে উঠুক তোমার জীবন সঙ্গীতে।





নিচের কবিতায় কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য রাশির মধ্যে তাঁর কল্প মানসে এক সুন্দরী নারীকে দেখেন। তাঁর কল্পচিত্র রচনা করেন কবিতাতে। ফুটে ওঠে এক মহীয়সির অসাধারণ কল্প রূপ।একই সঙ্গে প্রকৃতি আর মানব প্রেমের এ এক অসাধারণ ছবি।কবির রোমান্টিক মানস প্রকাশ পে কবিতাটার প্রতিটি ছত্রে।






She Walks in Beauty

BY LORD BYRON (GEORGE GORDON)

 1788-1824)

 কবিতার ভাবানুসারে 



সুন্দরী রূপসী সে হাঁটে


সুন্দরী রূপসী, 

সে হেঁটে বেড়ায় নিজ সাজে,

সে হাঁটে

তার সুন্দরতম রূপে 

মেঘহীন আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র মাঝে, 

আলো আঁধারের সৌন্দর্যরাশি জড়ায় তাকে,

মুখে তার পূর্ণিমার জ্যোছনা

আঁখিতে জ্বলে রাতের তারা  

আলোর বিচ্ছুরণ তার তনুর আঁকে বাঁকে।


যদি সে আঁধারের ছায়া বিস্তৃততর

বা সে আলোর কিরণ ম্রিয়মান 

সৌন্দর্য তার হয়ে পড়ে ক্ষীণতর। 

 সৌন্দর্যের ঢেউ খেলে যায় তার তনু পরে,

অথবা  স্নিগ্ধতা আলোকিত মুখ বলয়ে,

বিশুদ্ধতার ছোঁয়া তার সৌন্দর্যলোকে,

প্রিয়তমা সে সবার হৃদয় আলয়ে। 


নম্র শান্ত প্রত্যয়ী সে তার চোখে মুখে,

সন্ধ্যার দীপ জ্বলে  ভুরুতে 

আলোর আভা ভেসে ওঠে বিশ্বজয়ী হাসিতে,

জানিয়ে যায় কেটেছে দিন কি আনন্দে

শান্তি বিরাজে তার জীবনে 

নিখাত সে প্রেম তার হৃদয়ে

ডানা মেলে সূর্যের কিরণে।




Walter De-Mare

The Listeners


 নিশি রাতে 




আঁধার ঘনায় আকাশে,

নিঝুম সন্ধ্যা, চাঁদের কিরণে

আলো আঁধারের খেলা,

সবুজ গালিচা প্রাঙ্গণে

সওয়ারি নামে এসে,

ঘোড়া ঘাস চিবিয়ে চলে

মৃদু গুঞ্জন বাতাসে,

এ নিশুতিতে দেখা যায় না কিছু।

পথিক দরজায়  কড়া নাড়ে, 

টক্ টক্ টক্,

'কেউ কি আছেন ভেতরে?'

নিস্তব্ধ, উত্তর নেই কোনো।

পেঁচা ডেকে ওঠে

তার কান ঘেষে উড়ে যায়,

শ্রবণ যন্ত্র জাগে;

আবার  দরজায় টোকা 

'কেউ কি আছেন ভেতরে'?

সাড়া নেই কোন

নিঃশব্দ নিশ্চুপ

কেউ নামে না,

সে ধূসর চোখে দাঁড়িয়ে বিমূঢ়,

ভেতরে অশরীরি কারা শ্রোতা !

ঘুরে ফেরে ঘরে

তাদের আস্তানা সেখানে,

মায়াবী চাঁদের আলোয়

মানব কন্ঠের শ্রোতা,

তাদের নীরব উপস্হিতি তার কানে;

ঘোড়া নড়া চড়া করে

ঘাস চিবোতে থাকে,

নিস্তব্ধতা ভেঙে শব্দ ভাসে

জেগে ওঠে বাতাস

চাঁদের কিরণে রাতের আঁধারে।


হঠাৎ দরজায় টোকা মারে

গলা তুলে বলে

 'ওদের বোলো এসেছি,

আমি আমার কথা রেখেছি'।

নিঃশব্দ মায়াবী আধাঁর ভেঙে

ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়।

ঘোড়ার খুরের  শব্দ,

টগ্ বগ্ টগ্ বগ্,

আস্তে আস্তে মেলায়।

সওয়ারী গেল কই?

উত্তর মেলে না।

 

ওপরের কবিতায় সাহিত্যে রহস্যবাদের এক অসাধারণ উপস্থাপনা কবির কবি মানসে। তাঁর মননে এক অতীন্দ্রিয় অশরীরী আত্মার উপস্থিতি যে ইহজগতের উপস্থিতিকে তেমন স্বীকৃতি দেয় না, তার ডাকে সাড়া দেয় না। কবিতায় তিনি এক অদ্ভুত metaphor সৃষ্টি করেছেন যা পাঠকের শরীরে কাঁটা হয়ে বেঁধে।


নিচের  কবিতাটায় কবি অচিন পথের যাত্রী। ব্যতিক্রমী একজন যে সকলে যে পথে চলে সে পথে চলে না। জানে না তার চলার পথ তাকে কোথায় নিয়ে যাবে। জীবনের দেওয়া নেওয়ার হিসেব করে সে চলে না। সেই অর্থে সে রোমান্টিক। আমি অবশ্য কবিতাটাতে আমার ভাবনা যোগ করেছি। দুটো পথ থাকলে একটা পথ ধরতেই হয়। সে পথ ভুল হলে সঠিক পথ খুঁজে নিতে হয়। সেই অর্থে আমি নিশান ধরে চলার কথা বলেছি। কিন্তু কবির চলা চলার আনন্দে চলা। এক রোমান্টিকতা।




The Road Not Taken BY ROBERT

FROST(1874-1963)

কবিতার ভাবানুবাদ এর সঙ্গে আমার ভাবনা যুক্ত হয়েছে।




যে পথে হয় নি চলা


শীত পড়েছে কুয়াশা ঘন আকাশ,

সামনে পাতাঝরা পীত বর্ণের জঙ্গল 

অনিশ্চয়তার গন্ধে ভরা বাতাস,

মাঝে দুটি রাস্তা চলে গেছে দুদিক ধরে

দুঃখিত আমি, পারি না দুটো ধরেই চলতে

বেছে  নিতে হয় দুটোর একটা,

যে পথ বৈঠা বায়

আমার প্রত্যয়ে আমার চেতনায়।

আমি চলি একটা রাস্তা অনুসরণ করে,

 দূরে কোথাও বাঁক নিয়েছে

হয়তো চলে গেছে অজানা কোন দিশায়।

পথিক আমি, পথ ধরে চলি

জানি না সে পথ পৌঁছবে কোথায় !

অন্য একটি পথ রয়ে গেল অধরা

হলো না অন্য পথ ধরা,

ভাবি ও পথে চললেই ভালো ছিল

 খুঁজে পেতাম নিশানা

দূর হতো অনিশ্চয়তা আমার;

কিন্তু পথ যে দুটোই অজানা

ধরতে হয় একটা কোন ।

যদি আমার পথের সঠিক নিশানা,

সমস্যা থাকে না তবে

হোক না শরীর ক্ষত

কণ্টকিত আমার সে পথ 

সে পথেই পৌঁছব নিশান হাতে;

বিভ্রান্ত আমি, ভাবি

ওপথে গেলেই হয়তো ছিল ভালো।


 জানা নেই আমার কোনদিকে

কোথায় আমাকে নিয়ে যাবে এ পথ,

যদি দুটো পথ দুদিকে 

মিলব না আমি কারো সাথে

সবাই যে চলছে অন্যপথে,

সেটাই হয়তো পার্থক্য গড়ে দেবে।

আমি চলি ভিন পথে

যে পথ বেঁচে আছে আমার চেতনায়

আশা রাখি পৌঁছব নিশান ধরে।

যদি ভুল পথে যাই তাও যেন নিরাশ না হই,

বিকল্প পথ যদি সঠিক দিশা দেখায়

আপত্তি করব না আমি,

ক্লান্তিহীন আবার শুরু, আমার যাত্রা,

আমি বয়ে চলি আমার বার্তা

চলব আমি যে পথে হয়নি চলা

পথিক আমি দিগন্ত ধরে

 আমার অন্তহীন যাত্রা ।




জন্ম মৃত্যু নিয়ে লেখা জিবরানের Grave-Digger   কবিতায় অলঙ্ঘনীয় প্রকৃতির নিয়মকে তুলে ধরা হয়েছে।মানুষ তখনি মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠতে পারে যখন হাসিমুখে সে মৃত্যু বরণ করতে পারে। সে তখন

সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর তথা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টার  আশীর্বাদ পায়। ধরা হয় সেখানে প্রকৃতি মানুষের সৃষ্টি কর্তা। মৃত্যুও তাঁর হাতেই।  কবিতাটি মাত্র চার লাইনের কিন্তু গভীর অর্থবাহক। বাংলা অনুবাদে আমি কবিতাটাকে সম্রসারণ করেছি। আমার ভাবনাটা যোগ করেছি। বাংলায় কবিতাটার নাম দিয়েছি 'মৃত্যুঞ্জয়ী'।



মৃত্যুঞ্জয়ী


কোন একদিন এক বিষণ্ণ রাতে

আমি এসেছিলাম এ অন্ধকারে-----

এসেছিলাম এ সমাধি পাশে,

নিজের কোন এক অহংকে

যাব আমি নিজেই সমাধিস্থ করে।


কবর খানায়  দেখি সমাধি দাঁড়িয়ে,

কার কন্ঠস্বর যেন কানে, 

বসে এসে আমার ভাবনায়

আর কেউ নয় সে যে কবর স্বয়ং,

সে আমাকে হাসিমুখে স্বাগত জানায়,

কোলে তুলে নেয় আদরে সোহাগে

নির্জন নিস্তব্ধ এ সমাধিস্থলে 

কেউ নেই কাছে অমাবস্যার এ রাতে।

আমরা মুখোমুখি দুজনে এ নির্জনে,

সে আমাকে বলে যায় 

চুপি চুপি  কানে কানে এ নিরালায়,

"আজ আমি নিজেকে পেয়েছি তোমার মাঝে

পেয়েছি তোমাকে আজ  আপন ভাবনায়।

যারা আসে এ সমাধিতে

আর কাউকে নয়,

আমি শুধু ভালোবাসি তোমাকে"   .       .


আমার প্রত্যয় গভীর হয়,

জানতে চাই, "আমার ওপরে কেন তুমি প্রসন্ন,

কি দিয়ে তোমাকে করেছি জয়

আমি তো পূজি নি তোমাকে

কেন তোমার আজের এ সৌজন্য

কিসে আমার এ গৌরব

আমি সামান্য এক, 

কিছুই যে নেই দেবার তোমায়"

সে বলে, "তুমি জানো না কি দিলে আমাকে

দিয়ে গেলে একমুঠো ভালোবাসা আমায়,

সবাইকে দেখি কাঁদতে কাঁদতে আসে এখানে

বিরোহিনী কাঁদে বিরহ ব্যথায়

সবার অসন্তোষ আমার উপরে

কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যায় ,

 আমার ওপরে কত যুগের সঞ্চিত অভিযোগ।

শুধু তোমাকেই দেখি প্রসন্ন মনে

তুমি  পেরেছ আমাকে চিনতে

কোন অভিযোগ নেই আমার উপরে

এলে হাসতে হাসতে 

ফিরে যাচ্ছ, হাসি দেখি তোমার মুখে

ধন্য আমি আমার মধ্যে পেয়েছি তোমাকে"

জীবন মৃত্যুর লুকোচুরি খেলাঘরে

বুঝি আমি আজ 

আমি মৃত্যুঞ্জয়ী তার সমাধি বুকে।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,