Skip to main content

গল্প ।। গোপনে ।। আবরার নাঈম চৌধুরী




গোপনে

আবরার নাঈম চৌধুরী 


ঢাকায় নতুন এসেছে নওরিন। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এলিফেন্ট রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের একটি ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়েছে। যেহেতু ৩ মাস ব্যাপী ট্রেনিং, থাকার তো একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। তাই বাবার সাথে ঢাকায় আসা। 
জিগাতলা, ফার্মগেটে ভালো হোস্টেল না পাওয়ায় মিরপুরের একটি হোস্টেলের তৃতীয় তলার দক্ষিণের রুমটাতে উঠেছে সে। রুমে ঢুকতেই পরিচয় হয় স্নেহা আর সিন্থিয়ার সাথে। অল্প কয়েকদিনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল নওরিনের। 
সপ্তাহের শেষ দিন। ৮ই জানুয়ারি ২০২১। সিন্থিয়া নওরিনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের টিএসসিতে ঘুরতে নিয়ে যায়। টিএসসি এসে নওরিনের একঘেয়ে ভাবটা দূর হয়ে গেল। টিএসসির মাঠে বসে ওরা চা খাচ্ছিল। হঠাৎ সিন্থিয়ার ডাক , "এই! আবরার!" 
দূরে পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চির এক যুবক পিছে ঘুরে সিন্থিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।                      
"এদিকে আয়।"
সিন্থিয়ার ডাকে ধীর পায়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল আবরার। 
সিন্থিয়া মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল, "কীরে কেমন আছিস? "
হুডির পকেটে দুই হাত রেখে আবরার বলল, "আরে তুই এখানে?"
সিন্থিয়া হাসিমুখে বলল, "পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, আমার বান্ধবী নওরিন।" 
আবরার ও নওরিন একে অপরের দিকে তাকাল। 
"বস, এখানে।"
সিন্থিয়ার কথায় টিএসসির সবুজ ঘাসের উপর বসে পড়ল আবরার। 
সিন্থিয়া ওকে জিজ্ঞেস করল, "চা খাবি?" 
আবরার না সূচক মাথা নাড়ল।
সিন্থিয়া আবার বলতে শুরু করল, "জানিস নওরিন! ও আমার ছোট বেলার বন্ধু।"
নওরিন বলল, "ও, আচ্ছা।" 
"আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে একসাথে।"
নওরিন আবার আবরারের দিকে তাকাল। আবরারের চোখে চোখ পড়তেই সে চোখ নামিয়ে ফেলল ।
কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ। নীরাবতার দেওয়াল ভেঙ্গে আবরার নওরিনকে বলল, "আপনি কী সিন্থিয়ার ছোটবেলার বান্ধবী?"
নওরিন হেসে বলল, "না, না। আমাদের বন্ধুত্ব কিছু দিনের।" 
"কিছু দিনের?" 
"হ্যাঁ।"
"বুঝলাম না বিষয়টা।"
"আসলে, কিছু দিন হলো আমি হোস্টেলে উঠেছি। ওখানেই ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমরা একই রুমে থাকি।"
"ও, আচ্ছা।" 
"আপনি কী করছেন?" 
নওরিনের প্রশ্নের উত্তরে আবরার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল এর মধ্যেই সিন্থিয়া হাসিমুখে বলে উঠল, "ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এখন সে শিক্ষিত বেকার।"
সিন্থিয়ার কথা শুনে আবরার ও নওরিন দু'জনই মুচকি হাসল। 
আবরার নওরিনকে জিজ্ঞেস করল, "আপনি কী করছেন? পড়াশুনা?"
"না, না। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি এই বছর।"
"কোন সাবজেক্ট?"
"ট্রিপল ই।"
"বাহ, আমিও তো ট্রিপল ই থেকে পাশ করেছি।"
"এই বছর?"
"না, ২০১৯ এ।" 
অতঃপর নওরিন কিছু বলতে যাচ্ছিল এর মধ্যেই সিন্থিয়া আবরারকে উদ্দেশ্য করে নওরিনকে বলল, "জানিস ও অনেক ভালো গল্প লিখে।" 
নওরিন মুচকি হেসে আবরারের দিকে তাকাল। আবরার একটু লজ্জা পেয়ে বলল, "না, আসলে তেমন কিছু না, টুকটাক পত্রিকাতে লিখি।"
"আচ্ছা, নওরিন চল, নিউমার্কেট যেতে হবে, টুকটাক কেনাকাটা আছে।" বলেই সিন্থিয়া উঠে দাঁড়াল। 
নওরিনও উঠে দাঁড়াল, সাথে সাথে আবরারও। 
"আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।" বলেই আবরার মুচকি হাসল। 
"আমারও, ভালো থাকবেন।" বলেই নওরিনও  হাসল।

৯ই জানুয়ারি ২০২১। কুমিল্লার রাণীর দীঘির পাড়। বিকেল ৪টা বেজে ১৫ মিনিট। কসবা হাউজ থেকে বের হলো আবরার। কুমিল্লা নিজ বাসায় এলেই বিকেল বেলা রাণীর দীঘির পাড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে সে। দীঘির পাড় ঘেঁষে হাঁটছে সে হঠাৎ এমন ভাবে চমকাল যেন ভূত দেখেছে। সামনেই দীঘির পাড়ে নওরিন বসা। কাছে গিয়ে  কথা বলব? ভাবে আবরার। অনেক কিছু ভাবতে ভাবতেই নওরিনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, "আরে আপনি?" 
নওরিন চমকে গেল আবরারকে দেখে, বলল, "আপনি?"
আবরার বলল, "হ্যাঁ, আপনি এখানে?"
"না, এমনি আসলাম। আপনি এখানে কী করছেন?"
"আমার বাসা তো এখানেই।"
"কোথায়?"
"কসবা হাউজ।"
"এই বিল্ডিংটা। "
"হ্যাঁ।" 
"দারুণ তো!"
"কিভাবে দারুণ?"
"এই যে বাসা থেকে বের হলেই এত সুন্দর একটি জায়গা, মন খারাপ হলেই দীঘির পাড়ে এসে বসা যায়।"
"আপনার মন খারাপ?"
নওরিন বিস্মিত কণ্ঠে বলল, "আপনি কিভাবে বুঝলেন?"
আবরার মৃদু হেসে বলল, "এই যে বললেন মন খারাপ হলে বসা যায়, তাই ভাবলাম আপনারও হয়তো মন খারাপ।"
"ও, আচ্ছা। "
"বসতে পারি?"
"সরকারি জায়গা বসে পড়ুন।" বলেই নওরিন মুচকি হাসল। 
"দারুণ বলেছেন তো, সরকারি জায়গা।" 
আবরার নওরিন থেকে একটু দুরেই বসল। অতঃপর বলল, "বলুন, আপনার মন খারাপ কেন?"
"কিছু না, এমনেই।" 
"এমনি এমনি কারো মন খারাপ হয় নাকি?"
"হয়।"
"না হয় না।"
"হয়।"
"আরে বললাম তো হয় না।" 
নওরিন আবরারের দিকে চোখ বাকা করে বলল, "আপনি আমার কে হন যে আপনাকে বলব?"
"হইনি, হতে কতক্ষণ?"
"মানে?"
"না মানে, আপনি চাইলে হতে পারি।"
"আমি চাইলে? যদি না চাই?"
"তাহলে বলব আমি পৃথিবীর সব থেকে দুর্ভাগা পুরুষ।"
"কেন? কেন? দুর্ভাগা কেন?"
"আবরার নওরিনের চোখে চোখ রেখে বলল, "এত্ত সুন্দর একটা মানুষের আপন কেউ হতে পারা, সৌভাগ্য নয় কী?" 
নওরিন লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মুচকি হেসে বলল, "আমি যে সুন্দর তা আপনাকে কে বলেছে?"
আবরারও মুচকি হেসে বলল,  "আবরার বলেছে।"
"তা আবরার বললেই কী বিশ্বাস করতে হবে?"
"আবরার নওরিনকে মিথ্যা বলবে না।" 
"তাই?"
"হুম, আমি মিথ্যা বলছিনা। আপনি অনেক সুন্দর।" 
কথাটি শুনে নওরিন আর কিছু বলল না। লজ্জায় চুপ করে থাকল।
নীরাবতা ভেঙ্গে আবরার জিজ্ঞেস করল, "হতে পারি আপনার আপন কেউ?"
নওরিন বলল, "ভেবে দেখব।" 
"ভেবে দেখার কী আছে?"
"আমি হুটহাট করে তো আর যাকে তাকে আপন করে নিতে পারি না।"
"আমি যাকে তাকে হয়ে গেলাম?"
"না, না, মানে আপনাকে আরো ভালোভাবে চিনি, জানি।এরপর না হয়..."
"ঠিক আছে।" 
কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করে গলার স্বর নিচু করে আবার আবরার বলল, "আপনার মোবাইল নাম্বারটা পেতে পারি?"
"কেন? নাম্বার কেন?"
"না, মানে এই যে বললেন আরো ভালো করে চিনতে চান, জানতে চান, তাই বলছিলাম, নাম্বার পেলে মাঝে মধ্যে আপনার সাথে কথা হলো।"
"০১৭১..."
সূর্য অস্ত যাচ্ছে পশ্চিম দিগন্তে। পাখিরা নীড়ে ফিরছে। আবরার নওরিনকে দেখছে। অপরূপ সুন্দর তাঁর চোখ, ফুলের পাপড়ির মতো ঠোঁটে মিষ্টি হাসি, দুধে আলতা রং।
"এভাবে তাকিয়ে থাকা কিন্তু ঠিক না।"
আবরার মৃদু হেসে দৃষ্টি সরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, "কই? কিছু না।"
নওরিন মুচকি হেসে বলল, "এভাবে তাকিয়ে থাকলে প্রেমে পড়ে যাবেন।" 
"তাই?"
"হুম, আর প্রেম কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।" 
আবরার নওরিনের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি তো তা ই চাই।"
"মানে?" বলেই নওরিন হেসে ফেলল। 
"না কিছু না। চলেন উঠি। সন্ধ্যা হয়ে এলো।"
নওরিন আর আবরার উঠে দাঁড়াল। 
"আসি।" বলেই আবরার নওরিনের দিকে তাকিয়ে রইল। 
নওরিন বলল, "ভালো থাকবেন।" 
আবরার মুখে হাসি নিয়ে বলল, "আপনিও।" 
নওরিন একটা রিক্সা ভাড়া করে উঠে পড়ল। আবরার তখনো দাঁড়িয়ে। নওরিনের রিক্সা যতক্ষণ তার দৃষ্টির সীমারেখায় ছিল ততক্ষণ সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। রিক্সা চোখের আড়াল হতেই সে বাড়ির পথ ধরল।

রাত বারোটা পনেরো মিনিট। আবরার তার প্রিয় লেখক ইমদাদুল হোক মিলনের একটা উপন্যাস পড়ছিল। হঠাৎ তার মুঠোফোনটা বেজে উঠল। উপন্যাসের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখতেই দেখল অপরিচিত নাম্বার। ফোন রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে কে যেন বলে উঠল, "হ্যালো!"
"হ্যালো, কে বলছেন?" 
"আবরার বলছেন?" 
"জি, বলছি। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না।" 
"চিনার কথাও না।"
"মানে?"
"মানে, আমি তো কোন সেলিব্রিটি না।"
"বুঝলাম, সেলিব্রিটি না। কিন্তু আপনি কে?"
"গলার কণ্ঠস্বর শুনেও বুঝতে পারছেন না আমি কে?"
"না তো।"
"তাই?"
"হুম।"
"ঠিক আছে। তো আপনার কী মনে হয়, এত রাতে আপনাকে কে ফোন দিতে পারে?" 
"কে দিতে পারে?"
"আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি।"
"জানি না। এত রাতে কে ফোন দিবে?"
"কেন আপনার গার্লফ্রেন্ড ফোন দেয় না।" 
"না তো।"
"কেন?" 
"আমার গার্লফ্রেন্ড থাকলেই তো দিবে।" 
"ঠিক আছে বুঝলাম। কাউকে আশা করছিলেন? কেউ আপনাকে আজ ফোন দিবে।" 
"না তো।"
"তাই?"
"হ্যাঁ। কে দিবে ফোন?"
"ঠিক আছে, রাখি।" বলেই নওরিন ফোন কেটে দিল। 
আজীব তো। কে মেয়েটা? আবরার মনে মনে ভাবে। 
মুঠোফোনটা রেখে বইটা হাতে নিতেই আবার মুঠোফোনটা বেজে উঠল। 
"হ্যালো।"
"হ্যালো, আপনি কি গাধা বলছেন?"
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এমন কথা শুনে আবরার নড়ে চড়ে বসল। 
"কে গাধা?"
"আপনি গাধা।"
"মানে?" 
"গাধাকে গাধা বলব না তো কী বলব?"
"আমি রাখি।" 
"এই গাধা! আমি নওরিন।"
"কে?"
"নওরিন।"
"আপনি?"
"হ্যাঁ, আমি।"
"আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়?" 
"মন থেকে চাইলে সবই পাওয়া যায়।" 
"হ্যাঁ?"
"জি।" 
এবার আবরার কণ্ঠস্বর একটু নিচু করে বলল, "তা মন থেকে চাওয়ার কারণটা জানতে পারি?" 
নওরিন লজ্জা পেল, বলল, "সব কারণ জানতে হয় না।" 
"কেন? কেন?" 
"হার্ট অ্যাটাক হয়।" 
আবরার নওরিনের কথা শুনে হেসে ফেলল। অতঃপর বলল, "আমার তো হার্ট নেই।"
"নেই মানে?"
"হার্ট চুরি হয়ে গিয়েছে।" 
"মানে?"
"কোন এক মায়াবী রাজকন্যা আমার হার্ট চুরি করেছে।" 
"তা সেই মায়াবী রাজকন্যার নামটা জানতে পারি?"
"নাম তো বলা যাবে না। কিন্তু সে কেমন তা বলতে পারি।"
"ঠিক আছে বলেন।"
আবরার সোফায় বসে পড়ল। অতঃপর চোখ বন্ধ করে মুঠোফোনের অপর পাশে থাকা নওরিনকে বলল, "সুন্দর তাঁর চোখ, ফুলের পাপড়ির মতো ঠোঁটে মিষ্টি হাসি,  দুধে আলতা রং।" 
"বুঝতে পেরেছি।" 
"সত্যি বুঝতে পেরেছেন?"
"হ্যাঁ।"
"কে বলেন তো?"
"বলতেই হবে?"
"হ্যাঁ।" 
"না বললে হয় না?" 
"না।" 
"আমি কাল ঢাকা ফিরছি। যাবে আমার সাথে?"
হঠাৎ নওরিন আবরারকে আপনি থেকে তুমি বলাতে থমকে গেল। 
"তুমি যাবে তো? কী হল? কথা বল?"
"নওরিন?" 
"কি?"
আবরার চুপ হয়ে রইল। কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারল না। 
"বল?"
"আসলে..."
"বল?"
"না। কিছু না।"
"বল বলছি। নাহলে কিন্তু আমি ফোন রেখে দিব।"
"না, না।"
"বল তাহলে?"
আবরার নিচু কণ্ঠে বলল, "তোমাকে খুব পছন্দ করি।"
নওরিন মুচকি হেসে ফোনের অপর পাশে থাকা আবরারকে বলল, "শুধু পছন্দ?"
"না মানে..."
"আচ্ছা আমি রাখছি।"
"না, না শুনো। এই নওরিন?"
"বল।"
"ভালোবাসি তো।"
এই কথা শুনে নওরিনের হৃদয় নড়ে উঠল। খুশিতে, লজ্জায় মুচকি হেসে বলল, "কাল ১১টায় জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ডে থেকো।"
"ঠিক আছে। দেখা হচ্ছে।"
"রাখি।" 
নওরিন ফোনটা রেখে দিল। অতঃপর বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো।   আবরারের প্রতি এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে ওর মনে। এক অদ্ভুত অনুভূতি। একটা মনের টান। দেখতে চাওয়ার আকুলতা। এটাই কি তাহলে ভালোবাসা? নওরিন ভাবে।
বিছানায় পিঠ এলিয়ে দেয় নওরিন। আবরারকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যায়। সেই কল্পনার রাজ্যে নেমে আসে ঘুম নামক নীরাবতা। অতঃপর নওরিন তার প্রিয় আবরারকে নিয়ে পাড়ি দেয় স্বপ্নের রাজ্যে। সেই স্বপ্ন দীর্ঘায়িত হয় ভোর পর্যন্ত।   ভোরের মিষ্টি বাতাস জানালা ভেদ করে নওরিনের চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়। জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে নওরিন। আচ্ছা, আবরার এখন কী করছে? ঘুমাচ্ছে তাই না? নওরিন ভাবে। এভাবেই এই স্নিগ্ধ মিষ্টি ভোরে নওরিনের চিন্তার রাজ্যে আবরারের পদচারণ হয়। 

১০ই জানুয়ারি ২০২১।  ঢাকাগামী বাসের সামনে বেশ চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। আর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই বাস ছাড়বে কিন্তু নওরিন এখনো এসে পৌঁছায়নি। তাই সে বেশ চিন্তিত। নওরিন কি আসবে? এখনো আসছে না কেন? ফোন দিলাম, ফোনটাও ধরছে না। কোন বিপদ হলো না তো? ভাবে আবরার। 
"স্যার বাসে উঠে বসুন। বাস একটু পরেই ছেড়ে দিবে।" 
বাসের সুপার ভাইসরের কথা শুনে সে আরো বেশি চিন্তায় পড়ে গেল। 
"এই টিকেট কেটেছ?"
পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে আবরার পিছে তাকিয়ে দেখল নওরিন দাঁড়িয়ে। 
নওরিনকে দেখে তার সকল দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল। মুচকি হেসে বলল, "দেরি হলো যে?" 
"সেসব কথা পরে হবে, আগে বল টিকেট কেটেছ কিনা?"
"হ্যাঁ। চল, বাসে উঠি।" 
"বাস ছাড়বে কয়টায়?"
"এই তো, পাঁচ মিনিট পরই।"
"ঠিক আছে চল।" 

এয়ার কন্ডিশন বাসের ডি থ্রি এবং ডি ফোর সিটে বসে পড়ল আবরার আর নওরিন। নওরিন জানালার পাশেই বসলো। বাসে ওরা সহ মাত্র ৬ জন যাত্রী। 
"এই আবরার!"
"হ্যাঁ?"   
 "একটা পানির বোতল কিনে আনবে? খুবই পিপাসা পেয়েছে।"
"আচ্ছা তুমি বসো। আমি নিয়ে আসছি।" 
পানির বোতল কিনার উদ্দেশ্যে আবরার বাস থেকে নেমে দেখল বাস কাউন্টারের পাশের দোকানটা বন্ধ। অগত্যা দূরের দোকানের উদ্দেশ্যে সে পা বাড়াল। এদিকে আবরারের জন্য অপেক্ষা করছে নওরিন। অনেকক্ষণ তো হয়ে গেল। আসছে না কেন? কোথায় গেল? নওরিন ভাবে। হঠাৎ বাস ছেড়ে দিল। জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস বের হয়ে দ্রুত গতিতে পদুয়ার বাজার বিশ্ব রোডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  ডি ফোর সিটে বসে থাকা নওরিন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে অনেকবার মুঠোফোনে আবরারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করল। কিন্তু আবরার ফোন ধরল না। 
ওদিকে পানির বোতল নিয়ে দোকানিকে টাকা দিয়ে পিছনে ঘুরতেই আবরার  দেখল বাস দ্রুত গতিতে ওকে ফেলে চলে যাচ্ছে। 
"এই মামা!" বলেই বাসের পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করল সে। শেষে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটা সিএনজিতে উঠে ড্রাইভারকে বলল, "মামা! ঐ বাসের পিছু নাও জলদি।"
ড্রাইভার বুঝতে পেরে  সিএনজি স্টার্ট করে দ্রুত গতিতে বাসের পিছনে ছুটাল। 
ওদিকে ভয়ে দুশ্চিন্তায় নওরিনের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। কি করবে সে বুঝতে পারছে না।   
অবশেষে বাস পদুয়ার বাজার বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াল। আবরার দ্রুত সিএনজি থেকে নেমে ভাড়া চুকিয়ে বাসে উঠে দেখল নওরিন অশ্রুসিক্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। 
নিজ সিটে বসে নওরিনকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে আবরার বলল, "নাও, পানির বোতল।" 
নওরিন অশ্রুসিক্ত রাগান্বিত চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে রইল।
"কী হলো? নাও?" 
"মজা করছ?" 
 আবরার ভ্রু কুঁচকে বলল, "মজা? মজা কেন করব?"
নওরিন অশ্রুসিক্ত রাগান্বিত লাল লাল চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলল, "কোথায় ছিলে এতক্ষণ?" 
"আরে বাস তো ছেড়ে দিয়েছিল। ভাগ্যিস রাস্তার ধারে একটা সিএনজি পেয়েছিলাম।"
"আমি যে বার বার ফোন দিচ্ছিলাম। ধরলা না কেন?"
"কই?" বলেই আবরার পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে দেখে ৬টা মিসড কল।  
নওরিন আর কিচ্ছু বলল না। অশ্রুসিক্ত চোখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
আবরার নওরিনের ডান হাতটি ধরে বলল, "নওরিন! আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও।" 
উত্তরে নওরিন কিছু বলল না। বাইরে তাকিয়ে রইল। 
"ক্ষমা করে দাও। আর এমন হবে না। সব সময় তোমার ফোন ধরব। ফোন আর সাইলেন্ট রাখব না।"
নওরিন এবারো কিছুই বলল না। 
"ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি।" বলেই আবরার সিট থেকে উঠে যেতে উদ্যত হওয়ার সাথে সাথেই নওরিন তার হাত ধরে ফেলল। অতঃপর বলল, "এই বাঁদর! তুই কী কিছুই বুঝিস না?"
"কী বুঝব?"
"কিছুই বুঝিস না?"
"এখানে বুঝার কী আছে?"
"বুঝার কিছু নেই?"
"ফোন ধরিনি। আর তাছাড়া হয়তো ভয় পেয়েছ।" 
"এই বাঁদর! আমার চোখে পানি কেন বুঝিস না? কার জন্য বুঝিস না?"
"না।"
"না?" 
"না।" 
"কিভাবে বুঝবি? তুই তো বাঁদর।"
আবরার নিচু গলায় বলল, "বাঁদর তো গাছে থাকে।"
"শয়তান!" বলেই আবরারের শরীরে আলতো প্রহার করল নওরিন।
আবরার মুচকি হেসে নওরিনকে জড়িয়ে ধরল। নওরিন আবরারের বুকে ফেলল স্বস্তির নিশ্বাস। সে অনুভব করল যেন এক ভারি পাথর তার বুক থেকে সরে গিয়েছে। দূর হয়ে গিয়েছে সমস্ত দুশ্চিন্তার আঁধার। এটাই তাহলে ভালোবাসা? হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসা। নওরিন ভাবে।

ধীরে ধীরে নওরিন আর আবরারের সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করল। আবরার একটা দিন নওরিনকে না দেখলে যেমন স্থির থাকতে পারে না তেমনি নওরিনও। সপ্তাহে তিন দিন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে নওরিনের ট্রেনিং কোর্সের ক্লাস। ক্লাসের সময় সূচি দুপুর দুইটা ত্রিশ মিনিট থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। আবরার প্রতিদিন ঠিক চারটা পঞ্চাশ মিনিটে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নওরিনের জন্য অপেক্ষা করে। নওরিন ক্লাস থেকে বের হলেই দু' জন বেইলি রোডের কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। কোনো দিন ঘুরতে যায় রমনা পার্কে কোনো দিন টিএসসিতে। 
২৮ই জানুয়ারি ২০২১। বিকাল ৪টা। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে আছে আবরার আর তার সেই ছোটবেলার বান্ধবী সিন্থিয়া। 
"কীরে তোর ফোনে কথা বলা হল?" 
সিন্থিয়া মুঠোফোন ভ্যানেটি ব্যাগে দ্রুত ঢুকিয়ে আবরারকে বলল, "আরে দোস্ত, সাব্বির ফোন দিয়েছিল।" 
"সাব্বির?"
"হ্যাঁ।"
"আচ্ছা।"
"কেন ডেকেছিস বল।"
"কেন তোর কী তাড়া আছে?"
"হ্যাঁ, তাড়া আছে।"
"কেন? কোথায় যাবি?"
"একটু এলিফেন্ট রোড যাব।" 
"কেন? ওখানে কী?"
"তা জেনে তোর কী?"
"বুঝি বুঝি।" 
"কী বুঝেছিস?"
"ঐ ন্যাকা নওরিনের সাথে যে তোর কিছু একটা চলছে তা কী আমি বুঝি না?"
"সিন্থিয়া! আমি ওকে ভালোবাসি।"
"ভালোবাসিস!"
"হ্যাঁ।" 
"আর আমাকে?" 
"তোকে মানে? তুই আমার ফ্রেন্ড।"
"শুধুই ফ্রেন্ড?"
"মানে?"
"মানে কী তুই বুঝিস না?"
"কী বুঝব?"
সিন্থিয়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। 
"কি হলো? বল? মানে কী?"
"বুঝবি না তুই।" বলেই সিন্থিয়া হাঁটা দিল। সিন্থিয়ার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা অশ্রু। গোপনে পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে সে বসুন্ধরা  সিটি শপিং কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে পড়ল।

রাতে হোস্টেলে ফিরেনি সিন্থিয়া। চট্টগ্রামে নিজ বাসায় চলে যায় সে। রাতের খাবার খেয়ে চুপচাপ নিজ রুমে শুয়ে আছে। ডিম লাইটের মৃদু আলোয় তার অশ্রুসিক্ত চোখ ঠিক স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু মনের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলা প্রতিশোধ আর হিংসের আগুন স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। নওরিন কী আমার থেকেও সুন্দরী? ন্যাকা একটা। ন্যাকামি ছাড়া তো কিছুই পারে না। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আবরারের মাথাটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আবরারকে ছোট থেকে ভালোবাসি। আমার এই ভালোবাসার কী কোন মূল্য নেই ওর কাছে? বলা নেই কওয়া নেই,  কোথা থেকে মেয়েটা উড়ে এসে জুড়ে বসল আমাদের মাঝে। সে কে? এত সাহস তার। এসব ভাবতে ভাবতে সিন্থিয়া কম্পিউটারের সামনে এসে বসল। 

রাত ২টার দিকে নওরিনের মুঠোফোন ভাইব্রেট করে উঠল। মুঠোফোন হাতে নিয়ে  সে দেখল মেসেঞ্জারে মেসেজ এসেছে সিন্থিয়ার। মেসেঞ্জার অ্যাপে সিন্থিয়ার মেসেজ দেখে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল। মুঠোফোনের স্ক্রিনে সে স্পষ্ট দেখল সিন্থিয়া আর আবরারের মেসেজের কিছু স্ক্রিনশট। এসব সে কী দেখছে? নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না। আবরার মেসেজে সিন্থিয়াকে লিখেছে, "নওরিন একটা চরিত্রহীন মেয়ে। অনেক ছেলের সাথে তার সম্পর্ক। আমি তোমাকে চাই সিন্থিয়া। আমি তোমাকে ভালোবাসি।" 
এসব দেখার সাথে সাথে কাঁপা কাঁপা হাতে নওরিন আবরারকে ফোন দিল। 
ফোনের অপর পাশ থেকে আবরার বলে উঠল, "হ্যালো নওরিন?"
"তুমি কোথায়?"
"এই তো রুমে। কেন?"
"না এমনি।"
"তোমার কন্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন? কী হয়েছে?"
"না, কিছু না।"
"বল?"
"না।"
"বল বলছি?"
"আবরার?" বলেই নওরিন কেঁদে দিল। 
"এই তুমি কাঁদছ কেন? কি হয়েছে? নওরিন?"
নওরিন কাঁদতে থাকে। নীরবে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। 
"নওরিন? হ্যালো?"
নওরিন ফোন কেটে দেয়। আবরার প্রচন্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কি করবে বুঝতে পারছে না। 
হঠাৎ আবরারের মুঠোফোন ভাইব্রেট করে উঠে। মুঠোফোনের স্ক্রিনে দেখে নওরিনের মেসেজ। তাতে লিখা, "কাল বিকাল ৪টায় টিএসসিতে থেকো।" 

বিকেল ৪টা। টিএসসির এক পাশে নওরিন আর সিন্থিয়া দাঁড়িয়ে আছে। 
সিন্থিয়া নওরিনকে বলল, "দোস্ত! আবরার মোটেও ভালো ছেলে না। তুই এই সম্পর্কটা করার আগে আমাকে একটাবার জানানো প্রয়োজন মনে করলি না?" 
নওরিন সিন্থিয়াকে বলল,  "জানালে কী হত?"
"জানালে এই সম্পর্কটা হতে দিতাম না।" 
"আচ্ছা। কিভাবে?" 
"কিভাবে আবার কী? তোকে নিষেধ করতাম এরকম চরিত্রহীন ছেলের সাথে সম্পর্কে না জড়াতে।"
"চরিত্রহীন?"
"হ্যাঁ। তা নয় তো কী? চরিত্রহীন না হলে রাত ১টায় তোকে ফোন, মেসেজ না দিয়ে আমাকে কেন মেসজ দিল? আমাকে কেন ভালোবাসি বলল?" 
"হুম। ঠিক বলেছিস।"
"এই তো বুঝলি।"
"তো আমার এখন কী করা উচিত?"
"ব্রেকআপ করে ফেল।"
"ব্রেকআপ?"
"হ্যাঁ।"
"তারপর?"
"তারপর কী?"
"তারপর তুই এই সুযোগটা কাজে লাগাবি তাই তো?"
নওরিনের কথা শুনে চমকে গেল সিন্থিয়া, বলল, "সুযোগ মানে? কিসের সুযোগ?"
"নওরিন উত্তেজিত হয়ে বলল, "তুই খুব নিজেকে চালাক ভাবিস তাই না?"
"কী বলতে চাস?"
"তুই কী ভেবেছিস আমি কিছুই জানি না?"
"কী বলতে চাস? স্পষ্ট করে বল।"
"বলছি।" 
নওরিন মুঠোফোনটা বের করে আবরারকে ফোন দিয়ে বলল, "এই তুমি একটু এদিকে আসো।"
আবরার দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। সিন্থিয়া আবরারকে এদিকে আসতে দেখে দ্বিধায় পড়ে যায়। 
আবরার কাছে বলল, "হ্যাঁ বল।" 
"তোমার মোবাইলটা বের কর।" 
"কেন?"
"আমি বলছি বের কর।"
আবরার মোবাইল বের করল। নওরিন আবরারের মোবাইলটা নিজ হাতে নিয়ে সিন্থিয়াকে প্রশ্ন করল, "এটা কী মোবাইল?"
সিন্থিয়া আমতা আমতা করে বলল, "কী? কী মোবাইল?"
"এটা নোকিয়া ১১০০।"
"নোকিয়া ১১০০ দিয়ে কী মেসেঞ্জার অ্যাপ আর ফেসবুক চালানো সম্ভব?"
সিন্থিয়া চুপ করে রইল। 
নওরিন আবরারকে জিজ্ঞেস করল, "আবরার! সম্ভব?"
আবরার বলল, "না তো। সম্ভব না।"
"তোমার ফেইসবুক আইডি ডিএক্টিভ?"
"হ্যাঁ।"
"কবে থেকে?"
"এই, ২০২১ এর দুই অথবা তিন জানুয়ারি থেকে।"
"তোমার সাথে আমার কথা হয় কিভাবে? মোবাইলেই তো? এই নোকিয়া ১১০০ দিয়েই তো আমাকে ফোন দাও।"
"হ্যাঁ।" 
"তোমার ফেইসবুক আইডিটা একটু এক্টিভ করা যাবে এখন?"
"কিন্তু আমার সাথে তো এখন ল্যাপটপ নেই।" 
"এই নাও। আমার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে এক্টিভ কর। "
আবরার তার ফেইসবুক আইডি এক্টিভ করে নওরিনের হাতে মোবাইলটা হাতে দিয়ে বলল, "এই নাও।"
"এটাই তোমার প্রোফাইল পিকচার?"
"হ্যাঁ। দেখতেই তো পাচ্ছ।"
"সিন্থিয়া! তুই এটা কিভাবে করলি?"
সিন্থিয়া বলল, "কী করলাম?"
"কিছু করিসনি?"
"কী করেছি?"
"তুই আবরারের নামে ফেইক আইডি কেন খুললি? খুলে এসব ফেইক মেসেজ কেন আমাকে পাঠালি?"
"কই? কই? আমি তো করিনি!"
"নামটাও তো ঠিক মতো দিতে পারিসনি। নাঈম বানান ভুল। "ই" দিয়েছিস।"
"দেখ নওরিন..."
নওরিন সিন্থিয়াকে থামিয়ে দিল, বলল, "তুই যদি সত্যি সত্যি আবরারকে ভালোবাসতি তাহলে এই জঘন্য কাজটা করতে পারতি না। তুই আমাকে বলতে পারতি না সে একটা চরিত্রহীন ছেলে।" 
আবরার চমকে গেল এসব কথা শুনে, বলল, "আমি চরিত্রহীন?"
নওরিন আবরারকে বলল, "তোমাকে সব পরে বলছি।"
নওরিন সিন্থিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই যদি সত্যি আমার প্রকৃত বন্ধু হতি তাহলে এই ফেইক মেসেজে আমাকে চরিত্রহীন বলতি না। "
"ঠিক আছে। আমি দোষী তো?" বলেই সিন্থিয়া উঠে হাঁটা দিতেই নওরিন পিছন থেকে বলল, " দাঁড়া!"
সিন্থিয়া দাঁড়াল। নওরিন পিছন থেকে বলল, "বিয়ের দাওয়াত রইল।" 
সিন্থিয়া টিএসসি থেকে বেরিয়ে পড়ল। নওরিন আর আবরার বসে রইল টিএসসিতে।         
১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। নীল আকাশ। চারদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। আবরারের ডান হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখেছে নওরিন। নিস্তব্ধ নীরব চারদিক। ওদের কী বিয়ে হয়েছে? 

১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। মাঝারি আকারের রুমে সোফা সেট, টি-টেবিল। টি-টেবিলে মিষ্টি, ফল সহ নানা পদের নাস্তা। আজ আবরার আর নওরিনের এনগেজমেন্ট। তাই নওরিনের বাসায় আবরার এবং আবরারের পরিবার উপস্থিত হয়েছে।
 আবরারের বাবা বললেন, "ভাই সাহেব! মোহরানার বিষয়টা একটু পাকা করে ফেললে ভালো হতো।"  
নওরিনের বাবা বললেন, "জি, এই ব্যাপারে একটু কথা বলার আছে।"
"জি, বলুন।" 
"আমরা চাচ্ছিলাম যে মোহরানা এক কোটি হোক।" 
"জি?"
"জি, এক কোটি।" 
আবরারের বাবা মা একে অপরের দিকে তাকাল।
আবরারের বাবা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, "এক কোটি?"
"জি, ভাই।"
"ভাই, ছেলে তো মাত্র চাকরিতে ঢুকেছে। আসলে এত টাকা?..."
"দেখুন, আমরা তো আর যার তার হাতে আমাদের মেয়েকে তুলে দিতে পারি না।"
"আমার ছেলে এখন যার তার হয়ে গেল?" 
"দেখুন, ছেলে যদি আর্থিক ভাবে সচ্ছল না হয়, তাহলে তো আমরা আমাদের মেয়েকে আপনার ছেলের হাতে তুলে দিতে পারব না।"
"আমার ছেলে চাকরি করে, মাস শেষে বেতন পায়। সচ্ছল নয়?"
"সচ্ছল হলে ১ কোটি দিতে অসুবিধে কোথায়?"
আবরারের বাবা রেগে বললেন, "আপনি সচ্ছলের অর্থ বুঝেন?"
নওরিনের বাবাও রেগে চিৎকার করে বললেন, "আপনার থেকে এখন আমার শিখতে হবে?"
"আপনি মুখ সামলে কথা বলেন।"
"আপনি ভদ্রভাবে কথা বলেন। নিজেকে কী ভাবেন?"
এসব উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ভিতর থেকে শুনে দৌড়ে ছটে আসলো নওরিন। ওদিকে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে দেখে আবরার নওরিনের বাবাকে বলল,"আংকেল! আপনি শান্ত হন। বাবা! তুমিও একটু শান্ত হও।"
নওরিনের বাবা উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, "তোর বাবা কী শান্ত হবে? তোর বাবা ভদ্রতা জানে নাকি? থার্ড ক্লাস, মিডেল ক্লাস।" 
"বাবা! আসো। চলো। এখানে আর এক মুহূর্ত নয়।"
"হ্যাঁ। চল। এখানে থাকতে চায় কে?
"যান, যান। আর যেন চেহারাও না দেখি।" 
এসব কিছু নওরিন পর্দার আড়াল থেকে দেখে রীতিমত ধাক্কা খেল। বিয়েটা এভাবে ভেঙ্গে যাবে সে স্বপ্নেও ভাবেনি। 

১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। সকাল ১০টায় আবরারের বাসায় ডোরবেল বেজে উঠল। আবরার দরজা খুলল। দরজার বাইরে নওরিনের ছোট ভাই লিসানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে চমকে গেল, বলল, "আরে তুমি?"
লিসান আবরারের দিকে একটা চিঠি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "আপু দিয়েছে।" আবরার চিঠিটা হাতে নিল। লিসান আবারো বলল, "আপনাকে ফোনে পাচ্ছিল না আপু। চিঠিটা পড়বেন দয়া করে।"

দরজা আটকে চিঠি নিয়ে নিজের রুমে চলে যায় আবরার। নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে দিল। খাটের উপর বসে চিঠিটা খুলল। নওরিনের হাতের লেখা। 

প্রিয় আবরার, 
             কেমন আছো জিজ্ঞেস করব না। আমি জানি তোমার মনের অবস্থা এখন কেমন। আমার বাবার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। 
আবরার, সম্পর্কের শুরুতে আমাকে তুমি মুঠোফোনে ভালোবাসি বলেছিলে। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করিনি। কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে বুঝিয়েছি, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।
আবরার, ভালোবাসা প্রকাশ করাটা জরুরী নয়। ভালোবাসতে পারাটা জরুরী। সবাই ভালোবাসি বলে। ভালোবাসতে কয় জন পারে? প্রিয় মানুষটাকে কয়জন ধরে রাখতে পারে? ভালোবাসতে হয় গোপনে, নিভৃতে। 
আমি তোমাকে গোপনে, নিভৃতে ভালোবেসে যেতে চাই আজীবন। তোমাকে হারাতে চাই না। তাই একটা বড় সিধান্ত নিয়েছি। আমি তোমাকে পরিবারের অমতেই বিয়ে করতে চাই। পৃথিবীতে কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হয়। আমি না হয় আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার জন্য পরিবারকে হারালাম। করবে আমাকে বিয়ে? সমাজ, পরিবারের বাঁধা উপেক্ষা করে তোমার জীবন সঙ্গিনী করতে পারবে? 
ধর্মসাগর পাড়ে আজ সকাল ১১টায় আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।  বিয়ের সাক্ষী দেওয়ার জন্য লিসান ওর বন্ধুদের বলে দিয়েছে। ওরা সময় মতো চলে আসবে। এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তোমার। ভালোবাসার এই পরীক্ষায় তুমি জয়ী হবে নাকি হবে পরাজিত, এখন তোমার হাতে।

তোমার অপেক্ষায় রইলাম। 
                                                               ইতি
                                                           তোমার নওরিন         


তারপর? তারপর কী হলো? 
তারপর  কাবিননামায় সই হলো। দুই হৃদয় এক হলো।    
                  
১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। নীল আকাশ। চারদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। আবরারের ডান হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখেছে নওরিন। নিস্তব্ধ নীরব চারদিক। 
নওরিন মায়াবী কণ্ঠে বলল, "এই আবরার!" 
আবরার বলল, "জি, রাজকুমারি। বলুন আপনার জন্য কী করতে পারি?"
"আমার জন্য?"
"হুম তোমার জন্য।" 
"সত্যি করতে চাও?" 
"হুম বল। করব।" 
নওরিন কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমাকে এই ভাবে ভালবাসবে তো?"
আবরার নওরিনের হাতটা ধরে বলল, "বাসবো। আজীবন। তুমি ভালোবাসবে তো? 
নওরিন আবরারের কাঁধে মাথা রেখে বলল, "হ্যাঁ। বাসবো। এভাবেই, গোপনে......"       
বিশাল নীল আকাশ। তাতে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। 
"এই আবরার?"
"হুম?"
"ভালোবাসি। খুব বেশি। অনেক বেশি।" 

                        =====  (সমাপ্ত) =====
 

          
আবরার নাঈম চৌধুরী 
ফাইন্ড আলাউদ্দিন টাওয়ার, 
সরকারি মহিলা কলেজ রোড, 
কুমিল্লা, বাংলাদেশ।
        
   
                                  


                                                        
       
      



 
    
                      
                   
 
      
         
        
              
 


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

গুচ্ছকবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী

গুচ্ছকবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী বিস্মৃত ঐতিহ্যের অবগাহন পৌষের শেষ প্রহরে যখন কুয়াশার চাদর নামে ধরণীর গায়, মহাকালের এক দীর্ঘশ্বাস প্রতিধ্বনিত হয় আদিগন্ত নীলিমায়। পঞ্জিকার পাতা ওল্টানো মানে তো কেবলই তিথি বদল নয়, সংক্রান্তি মানে জরাজীর্ণের মৃত্যু, এক নতুনের শুভ্র উদয়। এ এক সন্ধিক্ষণ—যেখানে শীতের রিক্ততা আর বসন্তের হাতছানি, মৃতপ্রায় পত্রপল্লবে জাগে প্রাণের এক গোপন শিরশিরানি। উত্তরায়ণের সেই ধ্রুব আহ্বানে সূর্য ফেরেন মকর রাশিতে, পৃথিবী হাসে এক শাশ্বত সত্য আর ত্যাগের আদিম হাসিতে। গঙ্গাসাগরের পুণ্য তোরণে যখন আছড়ে পড়ে নোনা জল, তীরে তীরে জেগে ওঠে লক্ষ মানুষের এক অমোঘ মোক্ষফল। কপিল মুনির আশ্রম থেকে ধোঁয়া ওঠা আগুনের কুণ্ডলী— সাক্ষী দেয়, আমরা ভুলেছি আমাদের শিকড়, ভুলেছি সব পদাবলী। সেখানে রাজা সাগরের পুত্রের দীর্ঘশ্বাস আজও বাতাসে ভাসে, বিগত দিনের পাপ আর গ্লানি কি মোছে কেবল গঙ্গার গ্রাসে? আমাদের সংস্কৃতি—সে তো কেবল পিঠে-পুলির বিলাসিতা নয়, সে তো এক সংগ্রামের ইতিহাস, যেথা মেধা আর শ্রমের হয় জয়। মাটির হাঁড়িতে যখন ধোঁয়া ওঠে নতুন আমন ধানের সুঘ্রাণে, এক বিষণ্ণ কৃষকের তৃপ্তি জেগে ওঠে মাটির নিভৃত কোণে। যান্ত্র...

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা নষ্ট চাঁদ   নষ্ট চাঁদ তুমি চলে গেলে। শিরায় শিরায় লবণ জলের জোয়ার,  বদ্যি দেখাতে হবে—তুমি ভাবেছো কখনো? সাদাকালো শীর্ণ জলছবিরা  ভেসে বেড়ায় এদিক সেদিক বেঁচে আছে , আছে বেঁচে তবু! কোন একদিন কোজাগরী চাঁদ দেখবে বলে,  নিজেরাও জেগে ফেরে আমাকেও  দেয় না ঘুমাতে। নষ্ট চাঁদ—আমার শরীরে লবণ জলের জোয়ার। গাল দিয়ে নেমে যায় সাগরে  মেশাবে বলে। কদম ছায়াতল তপ্ত মনের বালুকামাঝে —   সবুজ বনানী  আঁকে। বন্যার জলে—নৌকা বাড়িয়ে দেয়, সাঁতার জানো না বলে। রাত-গভীরে স্বপ্নের মাঝে প্রজাপতি হয়ে উড়ে— তুমি দুঃস্বপ্ন দেখো পাছে। তেষ্টা কালে মরু তৃষ্ণার শ্রাবণধারা হয়ে হৃদয় শীতল করে। তুমি  তাকে চিনেছো কি? রাস্তার ধারে কদম ছায়া তলে — হাতভর্তি  কদমফুল, চোখভর্তি আলো তোমা পানে চেয়ে। দিও না ফিরায়ে সে ফুল,  দিও না শুখায়ে যেতে। চেয়ে নিও দু’হাত ভোরে। আকাশ ভর্তি ভালোবাসা কাজলা কালো মেঘ হয়ে তোমার শুষ্ক মুখ দেবে মুছে। ফিরাওনা তারে । -------------------------- Siddhartha Sankar Laha, Durgapur

রবীন্দ্রনাথের গান—"তাই তোমার আনন্দ আমার পর"—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল

রবীন্দ্রনাথের গান  "তাই তোমার আনন্দ আমার পর" — একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ভুবনেশ্বর মন্ডল  রবীন্দ্রনাথের গান শুনলে এবং পাঠ করলে একটা বিশেষ অনুভূতি জাগে মনের মধ্যে। রবীন্দ্র সংগীতের জন্ম যেন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ের অতল গভীর থেকে। আমার মনে হয় এ এই গান কৃত্রিমভাবে সাজানো কোন কথা নয়। এক বিশেষ মুহূর্তের বিশেষ উপলব্ধি জাত সত্য। কবি যেন ধ্যানতন্ময় হয়ে অনুভূতির গভীরে ডুবে হৃদয় সমুদ্র মন্থন করে থেকে রত্ন তুলে এনেছেন তাঁর গানে। রবীন্দ্রনাথের গান যেন কোন বিশেষ ব্যক্তির কথা নয়। এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতি ও সত্য। বিশ্বের যে কোন মানুষই নিজেকে মেলাতে পারেন কবির ওই অনুভূতির সঙ্গে। তাঁর মনে হবে এ যেন আমারই কথা, আমারই অনুভব, আমারই উপলব্ধি জাত সত্য। রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে এক মহাব্যাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে যেন সত্য দ্রষ্টা ঋষি তুল্য। মনের সূক্ষ কোমল অনুভূতি গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন তাঁর গানে। গানগুলি স্বতঃস্ফূর্ত ঝর্ণাধারার মতো। কবি যেন আত্মসমাহিত। তাঁর বিভিন্ন পর্যায়ের গান রয়েছে। প্রেম, প্রকৃতি, পূজা,আনুষ্ঠানিক, স্বদেশ প্রেম মূলক ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের উপর উপনিষদের গভীর প্রভাব...

কবিতা ।। নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল

নৈকট্য রহিত ঘোষাল  আমি এখন বেসিনে হাত ধুয়ে নিচ্ছি অত্যন্ত অশালীন ভাষায়,  বেরোনোর সময় আমরা এতটা কাছাকাছি এসে পড়লাম যে চোখ এড়ানো গেল না, সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, কতক্ষণ আমি কথা না বলে আছি  এবং যা আমাকে এতটা নোংরা করে ফেলেছে, সে আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করল, আমি মনে মনে ভাবলাম ঠিক যতদিন আমি প্রয়োজনীয়তা ও বিলাসিতার মধ্যে তফাত করতে পারিনি।  সে আমাকে আবার জিজ্ঞাসা করল,  এবার আমার হাত ধরে,  তারপর সে আমার সঙ্গে এই ভার ভাগ করে নিতে চাইল। ================== রহিত ঘোষাল বাঁশদ্রোণী সোনালী পার্ক কলকাতা ৭০

মানরক্ষে ।। অরবিন্দ পুরকাইত

  মানরক্ষে অরবিন্দ পুরকাইত ভক্তজনে মনে মনে দেয় যে কত গালি সামনে এনে সাজিয়ে কি নেয় কেড়ে কেউ থালি! দিলাম এমন জয়ধ্বনি জেতার আগে জিতে কেমন বিড়ম্বনায় ফেলে! কাটব কীসের ফিতে! কত কথাই বলে ফেলি খুব বড় মুখ করে  খাড়া করে যতেক শত্রু পরে এবং ঘরে। এমন করলে মান কি থাকে একটা কিছু করো রাঘববোয়াল নাই বা পার, চুনোপুঁটি ধরো। পরের শাস্তি ভীষণ কঠিন, আছে তার উপরে  ঘরের শাস্তি, নেহাত কি কম! কে শব্দ টুঁ করে? নজরকাড়া ছাড়ো যা হোক সেটাই বা কম কীসে ব্যর্থতাটা ঢাকুক কিছু মিলুক খানিক দিশে। ==========

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বটগাছ ।। জীবন সরখেল

বটগাছ  জীবন সরখেল  আশ্রয় নির্ভরতার প্রতীক  শান্তি সুখের ছায়া  পশু পাখি প্রাণীর জন্য  মায়ায় ভরা কায়া! স্বয়ং ভগবান প্রতিরূপ  জীবনের সাম্-গানে বটগাছ এক উঁচু পতাকা  ত্যাগ তিতিক্ষার মানে। ষষ্ঠী ঠাকুর বা ভৈরব স্থান  পথিকের ঠিকানায়  বটগাছ যেন শেষ সমাধান  জীবনের দোটানায়। কড়া রোদ হোক বৃষ্টি ঝড়ের  বিপদ নিবারণে  বটগাছ পরিত্রাতা হয়ে  দাঁড়ায় এসে সামনে। পঞ্চপল্লব মিষ্টি ফলের বিকল্প কিন্তু নাই  ধর্ম কর্মে জীবন চর্যায়  আজ বটগাছ খুঁজি তাই.... _________________

কবিতা ।। জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক

জেগে ওঠে সুমিত মোদক  বাউলের গলা টিপে ধরলে  লালন সাঁই সমাধি মধ্যে কাঁদে; কাঁদে বাংলা ভাষা, মাটির সুর… মানুষ পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ভবিষ্যতের; ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে  সর্বহারা চোখ; মাটির প্রতিমার মুণ্ড কেটে নিলে চুপ করে থাকে দখিনা বাতাস, প্রীতি ও বুদ্ধি; হারিয়ে যায় জন্ম ভিটে; দিন দুপুরে নাবালিকা তুলে নিয়ে যায় নেকড়ের দল; সনাতনী শরীর নিয়ে উল্লাসে মাতে; ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকে  গোটা এক জাতি, মানচিত্র; ঠাকুর শিল্পীর  রক্তাক্ত মৃত দেহের উপর উৎসব  শুরু হলে জেগে ওঠে  কর্ণসুবর্ণের শশাঙ্ক, গৌড়ের মাটি।

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বাঘাযতীন আলাপ-এর 'পদ্মা নদীর মাঝি' একটি বলিষ্ঠ নাটক ।। কাকলী দেব

বাঘাযতীন আলাপ-এর ' পদ্মা নদীর মাঝি '  একটি বলিষ্ঠ  নাটক কাকলী দেব  S I R এর সময়ে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের " পদ্মা নদীর মাঝি "   কে নাট্যরূপ দেওয়া ,   একটা সাহসী পদক্ষেপ ।  নাট্যকার একটি কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতায় সম্পন্ন করেছেন।  বংশ পরম্পরায় মানুষগুলোর যে মাটিতে বসবাস, তাদের শেকড় যেখানে, সেখানে তাদেরকেই আবার তার প্রমাণ দিতে বাধ্য করছে তখনকার জমিদার আর এখনকার সরকার। সময় টা শুধু বদলেছে, কালচক্রের রথে এগিয়েছে পৃথিবী । কিন্ত শোষণের ধারাটা একই রয়ে গেছে এখনও। নাট্যকার অত্যন্ত মুন্শী‌য়ানার পরিচয় দেন, এরকম একটি উপন্যাসকে মঞ্চস্থ করতে।  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এইসব প্রান্তিক মানুষদের সাথে থেকে, তাদের জীবনের সুখ দুঃখ, প্রতিকূলতা, অসহনীয় দারিদ্রকে কী নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। আজ তা ভেবে আমাদের অবাক লাগে।  পৃথিবীর যেসব অসাধারণ সাহিত্য কর্ম রয়েছে, তার মধ্যে এটি অনায়াসে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। প্রত্যেকটি কুশীলব যে নিজের নিজের চরিত্র এইভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন, সেটার কৃতিত্বের দাবীদার ও পরিচালক। প...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...