মুক্তিহীন কারাগার মেশকাতুন নাহার রাতের আকাশে সেদিন চাঁদ ছিল না। জানালার কাচে জমে থাকা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে মেহেরের মনে হলো, পৃথিবীতে এমন কিছু রাত আছে, যাদের কোনো ভোর নেই। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলে, ঋতু বদলায়, মানুষের বয়স বাড়ে; অথচ কিছু মানুষের জীবনে মুক্তির সকাল আর আসে না। মেহের একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সমস্যা শোনে, ন্যায়-অন্যায়ের হিসাব মেলায়, দায়িত্বের টেবিলে বসে মানুষের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করে। অথচ নিজের জীবনের হিসাব মেলাতে গিয়ে সে বারবার পরাজিত হয়। যে নারী অন্যের অধিকারের পক্ষে কলম ধরতে জানে, সে নিজের বঞ্চনার কথা লিখতে গেলেই থমকে দাঁড়ায়। তার জীবনের কারাগারটি ইট-পাথরে তৈরি নয়। সেখানে কোনো প্রহরী নেই, কোনো লোহার শিকও নেই। আছে সামাজিক কুসংস্কার, লোকলজ্জার ভয়, সম্পর্কের নামে চাপিয়ে দেওয়া দায়িত্ব আর নারীর সহিষ্ণুতাকে মহৎ গুণ বলে প্রতিষ্ঠা করার দীর্ঘদিনের রীতি। এই কারাগারে বন্দি হওয়ার জন্য কোনো অপরাধ করতে হয় না। নারী হয়ে জন্মানো, সংসার টিকিয়ে রাখতে চাওয়া এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন...
নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত । ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর