খেপুত সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের কালীপুজো সুস্মিতা রায় চৌধুরী আমি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের কন্যা। আমি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেপুত গ্রামে আমাদের সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ির কালীপুজো সম্পর্কেই এখানে লিখব। কালের সঙ্গে যিনি রমন করেন তিনিই তো মা কালী । না, একেবারেই ভাবার কোন কারন নেই যে ,বংশপরিচয়ের গর্বে গর্বিতা হয়ে আমি এই লেখা লিখছি কারণ আমি মনে করি মানুষ পরিচিত হয় তার কর্মের জন্য ,মনুষ্যত্বের জন্য ,মানবিকতার জন্য তাই এখন আমি লিখছি যে এই প্রযুক্তি নির্ভরতার যুগেও আমাদের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এই কালীপুজো কে কেন্দ্র করে অক্ষুন্ন থাকা আমাদের বাড়ির সমস্ত সদস্যদের ঐক্যবদ্ধতাকে নিয়ে, ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার ইচ্ছে টাকে নিয়ে । আমাদের বাড়ির কালীপুজো হল ঐতিহ্যে এবং ইতিহাসের মেলবন্ধনের এক সুন্দর নিদর্শন। যখন বর্তমান যুগে একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে গিয়ে তৈরি হয়েছে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি ,সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, লিভটুগেদারের মতো এইসব ধারণা, যেখানে আমরা আই, মি এন্ড মাইসেল্ফ এর বাইরে গিয়ে কিছু ভাবতেই পারি না ,যেখ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...