Skip to main content

কয়েকটি শিক্ষনীয় গল্প ।। বিচিত্র কুমার

নবপ্রভাত পত্রিকা


কয়েকটি  শিক্ষনীয় গল্প 

বিচিত্র কুমার 


(০১)

দান ও দয়া



রুদ্রপ্রতাপ গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। পেশায় কৃষক, কিন্তু মনুষ্যত্বে একজন সম্পদশালী। তার জীবনের মূলমন্ত্র ছিল দান ও দয়া। বাপ-দাদার সঞ্চয় অনেক না থাকলেও, যা ছিল তা তিনি দু'হাতে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। গ্রামের লোকজন তাকে সম্মানের চোখে দেখতো, যদিও সবাই বুঝতে পারতো না তার দানের গুণ। মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যেন তার কাছে একটা স্বাভাবিক কাজ ছিল।


একদিন রুদ্রপ্রতাপ মাঠ থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ গ্রামের পথে একজন ভিক্ষুক তার সামনে এসে দাঁড়ায়। ভিক্ষুকের বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি, গায়ের কাপড় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। রুদ্রপ্রতাপ তাকিয়ে থাকলেন তার মুখের দিকে। ভিক্ষুকটি বলল, "বাবু, কিছু সাহায্য করুন। খুব কষ্টে আছি।"


রুদ্রপ্রতাপ পকেট থেকে কিছু পয়সা বের করে ভিক্ষুকের হাতে দিলেন। কিন্তু ভিক্ষুকের চাহনি যেন আরও কিছু চায়, যেন কোনো দানের চেয়ে গভীর কিছু। রুদ্রপ্রতাপ বুঝতে পারলেন, শুধু পয়সা দিলেই তার কাজ শেষ হচ্ছে না। তিনি ভিক্ষুককে বললেন, "তোমার নাম কী?"


ভিক্ষুক বলল, "আমার নাম হরিপদ।"


"তুমি কেন এমন পথে পথে ঘুরছো?"


হরিপদ একটু থেমে উত্তর দিল, "আমার একসময় একটা ছোট্ট দোকান ছিল, পরিবার ছিল, সব ছিল। কিন্তু কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এখন আমি শুধু বাঁচার জন্য এখানে-ওখানে ঘুরি।"


রুদ্রপ্রতাপ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তিনি অনুভব করলেন, শুধু পয়সা দিলেই এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তার মনে হলো, এখানে দরকার একটু দয়া, একটু সহানুভূতি। তিনি হরিপদকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তাকে খাওয়ালেন, পরানোর জন্য ভালো কাপড় দিলেন। কিছুক্ষণ পর, রুদ্রপ্রতাপ তার সঙ্গে গল্প করতে বসলেন। হরিপদকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার দোকান কি আর ফিরে পেতে চাও?"


হরিপদ বিস্মিত হয়ে উত্তর দিল, "সে কি আর সম্ভব, বাবু? আমি তো সব হারিয়ে ফেলেছি।"


রুদ্রপ্রতাপ বললেন, "জীবনে কখনও হাল ছাড়তে নেই। দানের মতোই দয়া হলো এমন একটা বিষয়, যা শুধু ত্রাণ দেয় না, মানুষকে আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দেয়। তুমি চাইলে আবার শুরু করতে পারো।"


হরিপদ কিছুক্ষণ ভাবল। রুদ্রপ্রতাপের কথা তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছিল। সে বলল, "আপনার কথায় নতুন শক্তি পাচ্ছি। যদি সুযোগ পাই, আমি আবার চেষ্টা করবো।"


রুদ্রপ্রতাপ তখন তাকে কিছু টাকা দিলেন, যা দিয়ে সে তার পুরানো দোকানটা আবার চালু করতে পারে। কিন্তু রুদ্রপ্রতাপ শুধু টাকা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি হরিপদকে একধরনের বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাস, যা তার দান এবং দয়ার গভীরে লুকিয়ে ছিল।


দিন কেটে যায়। কয়েক মাস পর রুদ্রপ্রতাপ যখন আবার গ্রামের পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তিনি দেখেন একটি ছোট্ট দোকানে মানুষের ভিড়। দোকানের মালিক হরিপদ, আর তার মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি। রুদ্রপ্রতাপ অনুভব করলেন, তার দয়া শুধু একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনেনি, সেই পরিবর্তন একসময় পুরো সমাজকে ছুঁয়ে যাবে।


তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়। রুদ্রপ্রতাপ নিজেও জীবনের এক বড় সংকটে পড়ে। কয়েক বছর পর এক মহামারী আঘাত হানে গ্রামে। ফসল নষ্ট হয়ে যায়, রুদ্রপ্রতাপের জমিও প্রভাবিত হয়। তিনি নিজেও অর্থনৈতিক দুঃসময়ে পড়েন। একসময়, যিনি সমাজের জন্য এতকিছু করেছেন, আজ তিনিই অসহায় হয়ে পড়েন। কেউ সাহায্যের হাত বাড়াতে এগিয়ে আসে না। রুদ্রপ্রতাপ বুঝলেন, জীবনে দেওয়া এবং নেওয়ার সমীকরণ সবসময় সরল নয়।


এই সংকটের সময়েই হরিপদ এসে হাজির হয়। রুদ্রপ্রতাপকে সে তার দোকানের আয়ে সহায়তা করতে চায়। হরিপদ বলল, "বাবু, আপনি না থাকলে আমি আজ এখানে দাঁড়াতে পারতাম না। আজ আমি আপনার সাহায্য ছাড়া থাকতে পারি না।"


রুদ্রপ্রতাপ প্রথমে নিতে চাননি, কিন্তু হরিপদের দৃঢ়তার সামনে তিনি নত হলেন। তার চোখে জল এসে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, সত্যিকার দয়া শুধু তাৎক্ষণিক সহানুভূতি নয়, এটি চিরস্থায়ী বৃত্ত হয়ে ফিরে আসে। হরিপদের সাহায্য পেয়ে রুদ্রপ্রতাপ আবার মাথা তুলে দাঁড়ালেন।


সমাজে অনেকেই আছে যারা অর্থ, ক্ষমতা, এবং প্রতিপত্তি দিয়ে নিজেদের দাতা মনে করে। কিন্তু রুদ্রপ্রতাপের মতো মানুষ দেখায়, দানের প্রকৃত অর্থ শুধুমাত্র বস্তুগত সম্পদ নয়। দয়া এবং সহানুভূতি দিয়ে মানুষের জীবন বদলে দেওয়া যায়, আর সেই বদল মানুষকে আবার সাহায্যের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এটাই দানের প্রকৃত জয়।


দান এবং দয়া—এই দুটি বিষয় জীবনে কিভাবে পারস্পরিকভাবে কাজ করে তা রুদ্রপ্রতাপ ও হরিপদের জীবনের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। একজনের দেওয়া শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্য নয়, এটি মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের ফল একদিন আবার ফিরে আসে।

------



(০২)

গাছের উপকারিতা



জীবন এক অদ্ভুত প্রকৃতি। মানুষ তার প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক কিছুই অর্জন করে, তবে প্রকৃতির দেওয়া দানের মূল্য অনেক সময় অনুধাবন করে না। আজকের গল্পটি আমাদের পরিচিত এবং উপেক্ষিত সেই বন্ধুকে নিয়ে—গাছ। এমন এক সময় যখন কৃত্রিমতা আমাদের চারপাশে জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন প্রকৃতির সেই নিবিড় হাতছানি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে।


শহরের এক প্রান্তে এক বৃদ্ধ বসবাস করতেন। নাম তার রামনাথ। একসময় তিনি বন বিভাগের একজন বিখ্যাত কর্মকর্তা ছিলেন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বনাঞ্চলের সেবায়, গাছপালা লাগিয়ে। কিন্তু বয়সের ভারে অবসর নেওয়ার পর, শহরের কোলাহলে তার মন যেন নিস্তেজ হয়ে উঠছিল। ধীরে ধীরে একাকিত্ব গ্রাস করছিল তাকে।


রামনাথ প্রতিদিন সকালে নিজের বাড়ির ছোট বাগানে এসে বসতেন। তার হাতে ছিল ছোট এক লাঠি, যার সাহায্যে তিনি আস্তে আস্তে গাছের গুঁড়ি স্পর্শ করতেন। গাছগুলোর প্রতি তার ছিল এক অদ্ভুত ভালোবাসা। ছোট ছোট চারা গাছগুলোকে তিনি সন্তানের মতো যত্ন করতেন। প্রতিটি গাছের সঙ্গে তার একেকটি স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। তবে মানুষ এই ভালোবাসা বোঝে না।


একদিন সকালবেলা রামনাথ যখন তার বাগানে হাঁটছিলেন, তার প্রতিবেশী রাজু এসে বলল, "চাচা, আপনার এই বাগানটা বিক্রি করবেন? শহরের মধ্যে এত বড় জায়গা, লাভ অনেক বেশি হবে। আপনার বয়সও তো হয়েছে, টাকা দিয়ে আরাম করবেন।"


রামনাথ হেসে বললেন, "বিক্রি করব? এ গাছগুলো কি তোমার টাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান না? তোমরা শুধু নগদ লাভ খোঁজো। গাছের প্রকৃত উপকার বুঝবে কবে?"


রাজু বলল, "চাচা, গাছের উপকার কি আর আমাদের মতো মানুষ বুঝতে পারে? আমরা তো টাকার পেছনে দৌড়াই। সময়ের অভাবে অনেক কিছুই হারাচ্ছি।"


এই কথাটি শুনে রামনাথ তার পুরোনো জীবনের দিকে ফিরে গেলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন, গাছের কত রকমের উপকারিতা আছে, কিন্তু মানুষ তা প্রায়ই ভুলে যায়।


তিনি রাজুকে ডেকে বললেন, "শোনো, আমি তোমাকে একটা গল্প শোনাবো, তারপর ভাববে গাছের উপকারিতা বিক্রি করা উচিত কিনা। অনেক বছর আগে, আমি বন বিভাগের অফিসার ছিলাম। তখনকার কথা। এক ছোট গ্রামে গিয়েছিলাম, যেখানে এক বৃদ্ধ মানুষ এবং তার পরিবার বসবাস করত। তাদের জীবন গাছের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। গাছ তাদের শুধু ছায়া আর অক্সিজেনই দেয়নি, দিয়েছিল খাবার, চিকিৎসা, এবং সব থেকে বড় কথা—জীবনের অর্থ।"


রামনাথ গল্পটা বলতে থাকলেন। "সে গ্রামে একটা বড় বটগাছ ছিল, যা গ্রামের সবাইকে ছায়া দিত। গরমের দিনে গ্রামের মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে বসত, গল্প করত। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলত। বটগাছের নীচে গ্রামের বয়স্করা বসে গল্প করত। গাছের নীচে বসে থাকলে মনে হতো, যেন প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি কথা বলছি। সে গাছ শুধু ছায়া নয়, প্রাকৃতিক ওষুধও সরবরাহ করত। গাছের পাতা, ফুল, ফল—সবকিছুই ছিল গ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"


রাজু ধীরে ধীরে মনোযোগ দিচ্ছিল। রামনাথ বলতে লাগলেন, "কিন্তু একদিন, শহরের এক ব্যবসায়ী সেই বটগাছ কেটে ফেলার প্রস্তাব দিল। বলল, সে জায়গায় বড় একটা কারখানা বানাবে। গ্রামের মানুষেরা প্রথমে খুব দ্বিধায় ছিল। তারা ভাবল, গাছের বদলে যদি কারখানা হয়, তবে গ্রামের যুবকরা কাজ পাবে। কিন্তু তারা জানত না যে সেই কারখানার ধোঁয়া তাদের জীবনকেই বিপদে ফেলবে।"


রাজুর চোখে কৌতূহল ফুটে উঠল। সে জিজ্ঞেস করল, "তারপর কী হলো, চাচা?"


রামনাথ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "গ্রামের মানুষ গাছ কেটে ফেলার অনুমতি দিয়ে দিল। সেই ব্যবসায়ী গাছ কেটে ফেলল এবং কারখানা গড়ে তুলল। কিন্তু কয়েক বছর পর, কারখানার দূষণে গ্রামের বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠল। পানীয় জল দূষিত হলো। গ্রামের শিশুদের অসুস্থতা বাড়তে লাগল। তখন গ্রামের মানুষ বুঝল, বটগাছ তাদের শুধু ছায়া আর সৌন্দর্যই দেয়নি, দিয়েছিল তাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। গাছ তো আর ফেরত আসে না।"


রাজু চুপ করে শুনছিল। রামনাথ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, "তুমি বুঝতে পেরেছ, গাছ বিক্রি করা শুধু অর্থের ব্যাপার নয়। গাছ আমাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করে, পরিবেশকে সুস্থ রাখে। আমরা যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য উপভোগ করি, তা এই গাছের দান।"


রাজুর মুখে লজ্জা ফুটে উঠল। সে বলল, "চাচা, আমি আসলে গাছের এত উপকারিতার কথা জানতাম না। আমি শুধু জায়গা আর টাকা নিয়ে ভেবেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি, আমাদের দায়িত্ব আছে গাছের প্রতি।"


রামনাথ হেসে বললেন, "তুমি যদি সত্যিই বুঝে থাকো, তবে একটা প্রতিজ্ঞা করো—তুমি যতটুকু পারবে, গাছ লাগাবে। শুধু নিজের স্বার্থের জন্য নয়, পৃথিবীর সবার জন্য।"


রাজু প্রতিজ্ঞা করল। সেদিন থেকেই রাজু নিজে গাছ লাগাতে শুরু করল এবং তার বন্ধুদেরও উৎসাহিত করল। রামনাথ তার ছোট বাগানে প্রতিদিনের মতো বসে থাকলেন। তিনি জানতেন, একদিন এই গাছগুলো আরও অনেক বড় হবে এবং নতুন প্রজন্মকে নতুন করে জীবন দেবে।


গল্পের শেষ কিন্তু বাস্তবের শুরু। মানুষ যখন গাছের আসল উপকারিতা বুঝতে পারবে, তখন পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। গাছ শুধু জীবন দেয় না, জীবনের অর্থও দেয়—এমন একটি অর্থ, যা টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না।

------



(০৩)

ঐক্য ও একতা



দুই গ্রামের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের শত্রুতা। তারা একে অপরের দিকে তাকাতেও চায় না, কথা বলাতো দূরের কথা। গ্রামের বাচ্চারা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা করতে গেলে বড়রা ধমক দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনে, যেন দুই গ্রাম কখনো এক হতে না পারে। এই বিভেদের গল্পের শুরুর কথা কেউ জানে না, তবে বিভেদের ফল ছিল সুস্পষ্ট—উন্নয়ন থেমে ছিল, মানুষ নিজেরা নিজেদের সমস্যায় ডুবে ছিল, আর ভেতরের ক্ষোভ সমাজকে গ্রাস করছিল।


এমনই এক সময়, গ্রামের মানুষরা জানলো, দুই গ্রামকে ঘিরে একটি বড় সমস্যা আসন্ন। পাশের নদীর জল স্তর দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা দুটি গ্রামেরই জীবনধারার জন্য ভয়ংকর সংকেত। কৃষকদের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, গ্রামের পুকুরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর গবাদি পশুদের জন্যও খাবার কমে আসছে। কিন্তু এমনকি এ বিপদেও, কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় না। সবাই নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রকৃতির সামনে একা একা কতটুকু লড়াই করা যায়?


এ সময় গ্রামের একজন বৃদ্ধ, নাম রতন, পরামর্শ দিলেন দুই গ্রামের নেতাদের একবার একত্রিত হওয়ার। তিনি বললেন, "বিরোধে আমাদের কিছু আসবে যাবে না। প্রকৃতির রোষ সবাইকে ভুগতে দেবে। আমরা সবাই একই পৃথিবীর মানুষ, এক জল-হাওয়ায় বাঁচি। ঐক্যের মধ্যে যদি শক্তি না থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতও শূন্য।"


রতনের কথা শোনার পর, গ্রামের কিছু মানুষ বুঝতে পারল সত্যি কি হতে চলেছে। তাঁরা জানল, এখনো সময় আছে যদি দুই গ্রাম একত্রিত হয়, তবে নদীর জল সংরক্ষণ করে ফসল বাঁচানো সম্ভব হবে। তাঁদের প্রচেষ্টায় দুই গ্রামের নেতাদের একত্রিত করা গেল। কিন্তু এক হওয়ার প্রথম বাধা ছিল অহংকার। কেউ কারো আগে নতি স্বীকার করতে চায় না। এই সময় আবার রতন মুরুব্বি বলেন, "যদি আমরা এখনও একে অপরকে ছোট ভাবি, তাহলে প্রকৃতি আমাদের সবাইকে ছোট করবে।"


অবশেষে দুই গ্রামের নেতারা নতি স্বীকার করে আলোচনা শুরু করল। প্রথমবারের মতো, তাঁরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করল। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এলো, দু'টি গ্রামের সমস্যাগুলি আসলে খুবই মিল। প্রত্যেকেই ভাবছিল, শুধু তারাই ভুগছে। কিন্তু সত্যি হলো, এই দুঃখ এবং কষ্ট সকলেরই।


দুই গ্রামের মধ্যে মিলে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা তৈরি হলো। তাঁরা নদীর তীর বাঁধ দিয়ে শক্ত করল, মিলে একটি বড় পুকুর তৈরি করল যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। একই সাথে, তাঁরা সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করল, কারণ রতন বলেছিলেন, "গাছই আমাদের সুরক্ষার ঢাল। গাছের ছায়ায় ফসল যেমন বাঁচবে, তেমনই নদীর পানি ধরে রাখার শক্তি বাড়বে।"


পরবর্তী এক বছরে দুই গ্রামে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিলো। গ্রামের মানুষ একে অপরের দিকে দোষারোপ না করে, সমস্যাগুলো মিলে মিশে সমাধান করতে শিখল। কেউ কারও থেকে আলাদা নয়—এই উপলব্ধি হলো মূল বিষয়। ঐক্যের মধ্যে সত্যিকারের শক্তি ছিল। একতার জোরে তারা যে শুধু সমস্যার সমাধান করল তা নয়, বরং আগের থেকেও বেশি উন্নতি করল। গ্রামের রাস্তা ভালো হলো, চাষবাসে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলো, এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ আবার একে অপরকে বিশ্বাস করতে শিখল।


এই গল্পের আসল শিক্ষা হলো, প্রকৃতি বা সমাজের যে কোনো বিপদে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা বিভেদ মানুষকে বাঁচাতে পারে না। একমাত্র ঐক্যই পারে সব বাধাকে অতিক্রম করতে। জীবনের বড় সমস্যাগুলো তখনই সমাধান হয়, যখন সবাই মিলে তার সমাধানের পথে একসাথে হাঁটে। ঐক্য যেখানে থাকে, সেখানেই উন্নতি, শান্তি, এবং সত্যিকার সমৃদ্ধি থাকে।


-------


(০৪)

সেবা ও সহানুভূতি



শহরের প্রান্তে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রামে থাকতেন বিজন চৌধুরী। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ, যিনি দিনের পর দিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সেবা। বিজনবাবু তার চেনাজানা সব মানুষের প্রতি এক গভীর সহানুভূতি পোষণ করতেন। সাহায্য করতে পারলেই তিনি নিজের শান্তি খুঁজে পেতেন। গ্রামবাসীরা জানতেন, সমস্যায় পড়লে বিজনবাবুর কাছে গেলে তারা খালি হাতে ফিরে আসবে না।


বিজনবাবুর বয়স তখন প্রায় পঞ্চাশের কোঠায়। তার স্ত্রী রেণুকা দেবী এবং ছেলে-মেয়ে মিলে একটি ছোট সংসার। ছেলেমেয়ে দুজনেই শহরের স্কুলে পড়াশোনা করে, কিন্তু বিজনবাবুর মনের ভেতর এক গভীর তৃপ্তি ছিল যে গ্রামে থেকে অন্যদের উপকার করতে পারছেন। তার স্ত্রী প্রথম দিকে কিছুটা বিরক্ত হলেও পরে বুঝে গিয়েছিলেন যে সেবার মানসিকতা তার স্বামীর অন্তরের অংশ।


একদিন সকালে গ্রামে খবর এল যে পাশের গ্রামে এক প্রবীণ বৃদ্ধ একা আছেন, কেউ তার দেখাশোনা করছে না। সবাই বলছিল, "অন্য কেউ কিছু করতে পারবে না। মানুষটি তো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।" কিন্তু বিজনবাবু সবার কথা উপেক্ষা করে বৃদ্ধের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।


বৃদ্ধের নাম ছিল মনোরঞ্জন দত্ত। বয়সের ভারে তিনি বিছানায় পড়ে আছেন, কারো সঙ্গ ছাড়াই। তার কোনো আত্মীয়স্বজন বেঁচে নেই, এবং গ্রামের মানুষজনও দূরে সরে গেছে। বিজনবাবু সেই বৃদ্ধের ঘরে পৌঁছে দেখলেন, পুরো ঘর অন্ধকারে ঢাকা, ধুলোবালিতে ভরা। বৃদ্ধের শরীর এতটাই দুর্বল যে নিজের জন্য এক গ্লাস পানিও তুলতে পারছেন না।


বিজনবাবু বৃদ্ধের পাশে বসলেন। তিনি ধীরে ধীরে কথা বললেন, "কাকা, আমি এসেছি আপনাকে দেখতে। আপনি আমাকে কিছু বলবেন?"


মনোরঞ্জন দত্তের চোখে পানি ভরে এল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, "বাবা, আমি আর বাঁচতে চাই না। এমন করুণ অবস্থায় পড়ে আছি যে মৃত্যুই আমার জন্য মঙ্গল।"


বিজনবাবু গভীর সহানুভূতি নিয়ে বললেন, "এমন কথা বলবেন না, কাকা। আপনার পাশে থাকতে আমি এসেছি। আপনি একা নন, আমি আপনাকে সাহায্য করব।"


এরপর থেকে বিজনবাবু মনোরঞ্জন দত্তের যত্ন নিতে শুরু করলেন। তিনি প্রতিদিন বৃদ্ধের বাড়ি গিয়ে তাকে খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া, এবং তার যত্ন নেওয়া শুরু করলেন। গ্রামের মানুষজনও এই কাজে ধীরে ধীরে যুক্ত হতে লাগল। তারা বুঝতে পারল, বৃদ্ধের প্রতি বিজনবাবুর এই সেবার মনোভাব আসলে এক মহান মানবিকতার প্রতীক।


দিনের পর দিন, মনোরঞ্জন দত্ত আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। বিজনবাবুর সেবা ও ভালোবাসায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারলেন না যে এমন নির্লিপ্ত অবস্থায় থেকেও জীবনের প্রতি নতুন আশার আলো ফিরে আসতে পারে।


কিন্তু এর মধ্যে বিজনবাবুর নিজের শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছিল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বয়সের ভারে তিনি দুর্বল হতে লাগলেন। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার সময়ও তার ছিল না, কারণ তিনি সবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে ফেলেছিলেন।


একদিন, বিজনবাবু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এবার তার দেখাশোনা করার জন্য গ্রামবাসীরা এগিয়ে এল। মনোরঞ্জন দত্ত নিজে এসে তার পাশে বসে বললেন, "বাবা, আজ তুমি আমাকে সাহায্য করেছো, এবার তোমার সেবার পালা আমার। আমি তোমার পাশে আছি।"


বিজনবাবু হাসলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, জীবনের আসল অর্থ শুধু নেওয়া নয়, দেওয়া। আজকে তার সেই সেবা ও সহানুভূতি তাকে অন্যদের ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাঝেই ফিরিয়ে দিচ্ছে।


এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, সেবা এবং সহানুভূতি মানুষকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায় এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। সেবা ও ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা কেবল অন্যদের উপকার করি না, নিজের জীবনকেও সমৃদ্ধ করি।


------



(০৫)


ইতিহাসের পাঠ



বাংলাদেশের একটি ছোট গ্রাম ছিল নাম—মহেশপুর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশে ভরা এই গ্রামটি দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ। গ্রামের সবচেয়ে পুরনো স্কুলটির নাম ছিল "মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়"। এখানে ইতিহাসের শিক্ষক ছিলেন—মাস্টারজি রহিম।


মাস্টারজি রহিম ছিলেন ইতিহাসের গভীর পাণ্ডিত। তার পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল অসীম। তিনি জানতেন, ইতিহাসের পাঠ শুধু পুরনো ঘটনার বিবরণ নয়, বরং তা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দেয়।


একদিন, ক্লাসে একটি নতুন পাঠ শুরু করতে গিয়ে, মাস্টারজি রহিম বললেন, "আজ আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করব, যা আমাদের জীবনের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করবে।"


শিক্ষার্থীরা কৌতূহলী হয়ে উঠল। মাস্টারজি রহিম একটি পুরনো কাহিনী শুরু করলেন যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি ছোট গ্রামের, এবং সেখানে বসবাসকারী এক যুবকের কাহিনী নিয়ে ছিল।


গ্রামটির নাম ছিল মণিরামপুর। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক প্রান্তিক গ্রাম। গ্রামে বসবাসকারী যুবকটির নাম ছিল রুহুল। রুহুল ছিল একটি বড় স্বপ্নের মানুষ। তার স্বপ্ন ছিল, তার গ্রাম মুক্তিযুদ্ধের পর একটি নতুন ও উন্নত জীবনে প্রবাহিত হোক।


যুদ্ধের পরপরই, গ্রামটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। রুহুল দেখল, গ্রামবাসীদের দুরবস্থা এবং অবকাঠামোর ধ্বংসের চিত্র। তিনি অনুভব করলেন, মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের মূল্য দিতে হলে তাকে গ্রামকে পুনর্গঠিত করতে হবে।


রুহুল গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনা করলেন। কিন্তু অনেকেই তার পরিকল্পনাকে সন্দেহের চোখে দেখল। তারা মনে করল, পুনর্গঠন করতে গেলে অনেক টাকা, শক্তি, এবং সময় লাগবে। তবে রুহুল হাল ছেড়ে না দিয়ে, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও স্থানীয় সরকারী সাহায্য সংগ্রহ করতে লাগলেন।


সময় যতই গড়াল, রুহুলের প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে ফলপ্রসূ হতে শুরু করল। তিনি গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুরু করতে সাহায্য করলেন। স্কুল, ক্লিনিক, ও সড়ক পুনর্নির্মাণ হল। শিক্ষার মান উন্নত হলো, স্বাস্থ্যসেবা বাড়ল, এবং গ্রামবাসীদের জীবনযাত্রা উন্নত হল।


একদিন, গ্রামবাসীরা রুহুলকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করল। অনুষ্ঠানে মাস্টারজি রহিম বললেন, "রুহুল আমাদের দেখিয়েছে যে, ইতিহাস শুধু অতীতের কথা নয়; এটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আমাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির পথ তৈরি করা। রুহুলের মতো, আমাদের সবাইকে নিজেদের সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে, যদি আমাদের মধ্যে সেই সাহস এবং উদ্যম থাকে।"


মাস্টারজি রহিমের কথায় শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে প্রভাবিত হল। তারা বুঝতে পারল যে, ইতিহাসের পাঠ শুধু পুরনো ঘটনার বিবরণ নয়; এটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মের একটি পথনির্দেশিকা। রুহুলের গল্পের মাধ্যমে তারা শিখতে পারল যে, নিজেদের স্বপ্ন এবং প্রচেষ্টা দিয়ে তারা নিজেদের সমাজ ও দেশকে উন্নত করতে পারে।


এরপর থেকে, মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের প্রতি নতুন মনোভাব নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠল। তারা বুঝতে পারল যে, ইতিহাস শুধুমাত্র শোনার বিষয় নয়; এটি তাদের জীবনের অংশ, যা তাদেরকে শক্তিশালী ও সচেতন করে তোলে।



---------------


নামঃ বিচিত্র কুমার

গ্রামঃ খিহালী পশ্চিম পাড়া

পোস্টঃ আলতাফনগর

থানাঃ দুপচাঁচিয়া

জেলাঃ বগুড়া

দেশঃ বাংলাদেশ









Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ভারতের জাতীয় পতাকা নির্মাণে পিঙ্গালির অবদান ।। পিনাকী সরকার

আমাদের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস যা সারা দেশে জুড়ে আড়ম্বরের সহিত পালিত হল। চারিদিকে উড়ল ভারতীয় পতাকা। তবে দুঃখের বিষয় হল অনেকেই জানেন না কে এই পতাকার সৃষ্টি কর্তা, কার মাথা থেকে এসেছিল এই রূপ সুন্দর দৃশ্য মান পতাকার নক্সা। কতজন চেনেন ? যদি বা নাম শুনে থাকেন, কতটুকু জানা রয়েছে তাঁর সম্পর্কে?  অনেকেই জানেন না যে পতাকা তৈরির ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে।      আজ সেই ভারতীয় পতাকার রূপমানব পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া এবং ভারতীয় জাতীয় পতাকা তৈরি নিয়ে আলোচনা করব । পিঙ্গালি শুধু এই নামই নয়, একাধিক নামে পরিচিত ছিলেন তিনি।       ১৮৭৬ সালের দোসরা অগাষ্ট জন্ম পিঙ্গালির। অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার পেদাকালিপাটাল্লি গ্রামে জন্ম হয় তাঁর। তিনি সরকারি স্কুলে নিজের পড়াশোনা শেষ করেন। ছোট থেকেই স্বপ্ন পরাধীনতার বন্ধন থেকে দেশ-কে মুক্ত করার। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগদান করেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি ।      ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে অবধি বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যের শাসকেরা আলাদা আলাদা নকশার পতাকা ব্যবহার করতে...

রম্য রচনা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

পাত্র দেখা সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়  ছেলে কি করে? এই অল্পস্বল্প কিছু করে। অল্পস্বল্প মানে? ঠিক কি করে বলবেন তো। ঐ টুকটাক করে আর কি! বুঝেছি।তা টুকটাক করে কি হবে? ওতে আর কতটুকু হবে? ওর থেকে বরং তুকতাক যদি কিছু করতো তো লাভ হতো। তুকতাক মানে? এই মানে  লাগলে তুক না লাগলে  তাক। জ্যোতিষ বিদ্যা, বশীকরণ বিদ্যা, সম্মোহিনী বিদ্যা, তন্ত্র বিদ্যা সব এক একটা প্যাকেজ।যেটাতে লাগে। ওতে কি হবে? ওতেই তো হবে। টাকা হবে, পয়সা হবে,বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, ধনসম্পত্তি, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স সব হবে।নতুন নতুন বান্ধবীও হবে। কি করে? ভাগ্যকে ঘুরিয়ে দিয়ে।এইসব বিদ্যা দিয়ে ভাগ্যকে আশি থেকে একশো আশি ডিগ্ৰি পর্যন্ত ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। ফকির থেকে আমির হওয়া যায়, জিরো থেকে হিরো হওয়া যায়। ভ্যাগাবন্ড হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এখন বি এম ডব্লিউ গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাহলে তো বিরাট ব্যাপার। বিরাট ব্যাপারই তো। সেজন্যই তো 'তাক',বলে না 'তাক' লেগে গেলো, সেই তাক।তুক থেকে তাক।কি ছেলো আর কি হেলো। তা সেটার জন্য কি করতে হবে? ধারণ করতে হবে। শুধু ধারণা করলে এখন কিছু হয় না।এই ধরুন এমন তাবিজ আছে যেটা ধারণ করলে ধারণার বাইরে টা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা

  প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা  ১.   বসন্ত বিলাপ তোমার পলাশ লালে লাল রাঙা  তোমার পলাশে ফাগুন, আমার পলাশে শয়তান পোকা  আমার পলাশে আগুন। তোমার আকাশ আবির মাখানো  গাঁথে মিলনের মালা, আমার আকাশ মলিন মুখেতে  সহে দংশন জ্বালা। ওখানে ঋতুরা আসে আর যায়  আনে রকমারি ডালি, এখানে বিষাদে ঋতুর সময়  সব কেড়ে করে খালি। তোমার পলাশে খুশির জোয়ারে  রাশি রাশি ভালোবাসা, রক্ত মাখানো আমার পলাশে  জীবন সর্বনাশা। ২.    উনুন একটা একটা করে কাঠ গনগনে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জীবন্ত উনুনের ভেতর। আগুনে পোড়ে কাঠ , কাঠ পুড়িয়ে চাই করে উনুন। উনুনে পোড়ে কাঠ,উনুন পোড়ায় নিজেকে। শুদ্ধ করে গনগনে আগুনের বিশুদ্ধতায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সয়ে; শুদ্ধ হয় মানব জীবন। ৩.   নগ্নতা  সকালে হাঁটতে বেরিয়েই চোখে পড়লো  অদ্ভুত এক নগ্নতা সাগর নদী পাহাড় নগ্ন  মাঠ ঘাট জঙ্গল নগ্ন  এক বিচিত্র নগ্নতায় ঢাকা প্রকৃতি যেন লালসার ভোগ্য বস্তু। চারপাশ থেকে শত সহস্র লকলকে জিভ  লোলুপ দৃষ্টিতে দংশন করে লুটে নেয় সব সাতসকালে নগ্নতা লুটের হাট! ওরই মাঝে একটি শিশুকে দেখতে...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর